অধ্যায় - ০১ বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ভূমিকা বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ছোট্ট ও জনবহ্বল দেশ। বর্তমান জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৭৯ লাখ (বিবিএস-২০১১)। অথচ ১৬৫০ সালে এই ভূখতে মাত্র ১ কোটি লোকের বসবাস ছিল। ২০০ বছর পর ১৮৫০ সালে এ সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে হয় ২ কোটি। তারপর ৯১ বছর পর ১৯৪১ সালে জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৪ কোটি ১৯ লাখ। কিন্তু এরপর মাত্র ৪০ বছরেই জনসংখ্যা দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৮ কোটি ৯৯ লাখ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে মাত্র ৪০ বছর পরে জনসংখ্যা আবারো দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান হারে (১.৩৪) জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আগামী ৫০ বছরের মধ্যেই দেশের জনসংখ্যা বর্তমানের দ্বিগুণাগুবে। জনসংখ্যার এ অপরিমিত বৃদ্ধি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত বিপর্যয় বৃদ্ধি করবে। এজন্য সকলের চাহিদা মাফিক পরিবার পরিকল্পনার তথ্য ও সেবা নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকান্ডের সূচনা হয় ১৯৫৩ সালের প্রথম দিকে বেসরকারি পর্যায়ে। এর একযুগ পর থেকে সরকারিভাবে এদেশে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়। কার্যক্রমের শুরুতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা থাকলেও সময়ের প্রবাহে অধিকাংশই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। সকল পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাসমূহের কার্যক্রম গ্রহণের ফলে বিভিন্ন জনমিতিক সূচকে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ জাতিসংঘ জনসংখ্যা পুরষ্কার অর্জন করেছে। শিশুমৃত্যু হ্রাসের জন্য বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এমডিজি অ্যাওয়ার্ড ২০১০ পেয়েছে এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষে এ পুরষ্কার গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচিতে এসব সাফল্য সত্ত্বেও কিছু জনমিতিক সূচকে আমাদের বর্তমান অগ্রগতি আরো ত্বরান্বিত করতে হবে। কারণ পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে তথ্য ও সেবাপ্রাপ্তি মানুষের মৌলিক অধিকারেরই অংশ। পঞ্চাশ দশকের প্রথমার্ধে শুরু হওয়া বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি বেশ কয়েকটি পর্যায় অতিক্রম করেছে। ১৯৫৩ সালে কয়েকজন সমাজকর্মী ও চিকিৎসক দ্বারা সূচিত এই কার্যক্রম এখন বিরাট ব্যাতি লাভ করেছে। ১৯৬৫ সাল থেকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্য নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের আবির্ভাব হয়। জনসংখ্যা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসাবে স্বীকৃত হবার পর এ সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে অদ্যাবধি অর্জিত সাফল্য সারা বিশ্বে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল এই কর্মসূচিতে এখন বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি অন্যতম অনুষঙ্গ হিসাবে গণ্য করা হয়। বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির বর্তমান লক্ষ্য • ২০২২ সালের মধ্যে মোট প্রজনন হার (TFR) ২.০ তে নামিয়ে আনা • ২০২২ সালের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহীতার হার (CPR) ৭৫% এ উন্নীত করা • ২০২২ সালের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার প্রতি লাখে ১২১ এর নীচে নামিয়ে আনা • ২০২২ সালের মধ্যে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণকারীর হার ২০% এ উন্নীত করা • ২০২২ সালের মধ্যে পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার হার (Drop out) ২০% এ কমিয়ে আনা এঙে • ২০২২ সালের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনার অপূরণীয় চাহিদা (Unmet need) ১০% এ নামিয়ে আনা পরিবার পরিকল্পনা ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোন দম্পতি স্বেচ্ছায় কখন এবং কতদিন পর সন্তান নেবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া হলো পরিবার পরিকল্পনা। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহ বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি চালু আছে। সরকারি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ৭টি আধুনিক পদ্ধতি চালু আছে। বেসরকারি অথবা ব্যক্তিগত পর্যায়ে এর বাইরেও কিছুসংখ্যক গ্রহীতা অন্যান্য গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকেন। স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকার জন্য এ সকল পদ্ধতি বারবার ব্যবহার করতে হয়। যেমন- • কনডম-প্রতিবার সহবাসের সময় সঠিকভাবে নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়। • খাবার বড়ি-প্রতিদিন একটি করে খেতে হয়। • ইনজেকশন (ডিপো-প্রভেরা)-তিন মাস অন্তর গ্রহণ করতে হয়। দীর্ঘ মেয়াদি পদ্ধতি যে সকল পদ্ধতি একবার গ্রহণ করে এক বা একাধিক বছর গর্ভধারণ থেকে বিরত থাকা যায় সে সকল পদ্ধতিই দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি। • আইইউডি- কপার টি ৩৮০এ (Copper T 380A), ১০ বছর মেয়াদি • ইমপ্ল্যান্ট ৩ অথবা ৫ বছর মেয়াদি স্থায়ী পদ্ধতি গুলা কি কি ? সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী সক্ষম দম্পতির অপারেশন এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সন্ধান জন্মদানের ক্ষমতা বোধ করা হয়। • মহিলাদের স্থায়ী পদ্ধতি (টিউবেকটমি) • পুরুষদের স্থায়ী পদ্ধতি (এনএসভি) বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির কয়েকটি পর্যায় পর্যায়-১: ১৯৫৩-৫৯ স্বেচ্ছাসেবী পর্যায় ১৯৫৩ সালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতি (এফপিএবি) কর্তৃক সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে সীমিত আকারে শুধুমাত্র নগর এলাকায় হাসপাতাল এবং ক্লিনিকের মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরু করা হয়। পর্যায়-২: ১৯৬০-৬৪ সরকারি উদ্যোগে ক্লিনিকভিত্তিক কার্যক্রম ১৯৬০ সালে স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে ক্লিনিকভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরু করা হয়। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে এবং গ্রাম্য ডিসপেনসারিতে পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র খোলা হয়। পর্যায়-৩: ১৯৬৫-৭০ মাঠ পর্যায়ে সরকারি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এ পর্যায়ে কর্মসূচিকে পরিবার পরিকল্পনা বোর্ডের আর্থতায় এনে মাঠ পর্যায়ে সক্ষম দম্পতিদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে মাঠ কর্মীসহ খণ্ডকালীন মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হয়। ক্লিনিক্যাল এবং নন-ক্লিনিক্যাল বিরতিকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম গ্রহীতার দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। পর্যায়-৪: ১৯৭২-৭৪ সমন্বিত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি এ পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয় এবং মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে একীভূত করা হয়। এই সময় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে খাবার বড়ি বিতরণ শুরু হয়। পর্যায়-৫: ১৯৭৫-৮০ মা ও শিশু স্বাস্থ্যভিত্তিক বহুমুখী পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ১৯৭৫ সালে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কাজ শুরু করে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ নামে নতুন বিভাগের সৃষ্টি করা হয়। এই সময়ে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে সভাপতি করে জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ গঠন করা হয় এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীকে সভাপতি করে সংশ্লিষ্ট সচিবদের নিয়ে কর্মসূচি পরিকল্পনা ও পর্যালোচনার উদ্দেশ্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কো-অর্ডিনেশন কমিটিও গঠন করা হয়। ১৯৭৬ সালের জুন মাসে জাতীয় জনসংখ্যা নীতির রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। এই সময় মাঠ পর্যায়ে পূর্ণকালীন মহিলা ও পুরুষ মাঠকর্মী নিয়োগ করা হয় এবং মা, শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের উপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করা হয়। মিনিল্যাপ টিউবেকটমি ও ভ্যাসেকটমির প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয় এবং বিশেষ ক্যাম্পের মাধ্যমে সেবা প্রদান শুরু করা হয়। পর্যায়-৬: ১৯৮০-৮৫ মাঠ পর্যায়ে একীভূত কার্যক্রম ও নিম্ন পর্যায়ে মা। শিশু স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমের সাথে একীভূত করা হয়। জাতীয় জনসংখ্যা পরিষদ (National Population Council)-কে পুনর্গঠন করে জাতীয় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ পরিষদ (National Council for Population Control) - এ রূপান্তরিত করা হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি নির্বাহী কমিটিও গঠন করা হয়। এই সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে "উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কমিটি” গঠন করা হয়। ১৯৮০ সালে মিনিল্যাপ টিউবেকটমি অপারেশন অধিকতর নিরাপদ উপায়ে করার জন্য 'নতুন এবং নিরাপদ অ্যানেস্থেসিয়া রেজিমেন' শুরু করা হয়। এ সময়েই সারাদেশে সর্বোচ্চ সংখ্যক স্থায়ী পদ্ধতি প্রদান করা হয় এবং আইইউডি গ্রহীতার হারও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে। পর্যায়-৭: ১৯৮৫-৯০ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম মা, শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির বাস্তবায়নের জন্য ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় এবং পরিবার পরিকল্পনা রেজিস্টার এর প্রবর্তন করা হয়। একই সময়ে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রাম ও দূরবর্তী এলাকায় মা, শিশু স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান শুরু করা হয়। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও জেলা সমন্বয়কারীর নেতৃত্বে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম একটি “সামাজিক আন্দোলনে” রূপান্তরিত হয়। এই সময় জনন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করা হয় এবং বাংলাদেশে ইমপ্ল্যান্ট (নরপ্ল‍্যান্ট) এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়। এই সময়েই তুরিবিহীন ভ্যাসেকটমি (এনএসভি) এর উপর চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পর্যায়-৮: ১৯৯০-৯৫ নিবিড় সেবাদান পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এ পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে সেবা প্রদান কার্যক্রমকে সম্প্রসারণ করা হয় এবং এক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়ন বৃদ্ধি করা হয়। বেসরকারি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন সংস্থাসমূহ সরকারি কার্যক্রমের সম্পূরক শক্তি হিসাবে তাদের কার্যক্রমকে জোরদার করে। এই সময় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে নিজস্ব চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়। পর্যায়-৯ : ১৯৯৫-১৯৯৮ পঞ্চম স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা কার্যক্রমের প্রস্তুতিকাল এই সময় সেক্টর ভিত্তিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি নেয়া হয়। এ সময়ে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। পর্যায়-১০: ১৯৯৮-২০০৩ স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি (HPSP) মাঠ পর্যায়ের সেবা প্রদান কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতি ৬,০০০ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি করে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয় এবং সর্বমোট ১৮,০০০ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। ১৯৯৩-৯৪ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত মোট প্রজনন হার স্থির থাকে। এ পর্যায়েই পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাস থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে পুনরায় বিভক্ত করে ১৯৯৮ সালের জুলাই মাসের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পর্যায়-১১: ২০০৩-২০১১ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কার্যক্রম (HNPSP) বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ (MDG) সামনে রেখে ২০০৩ ইং সালে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কর্মসূচি যাত্রা শুরু করে। এ কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা কার্যক্রম আলাদা আলাদাভাবে বাস্তবায়নের কাজ পুনরায় শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে পাঁচ বছর পর পুনরায় পরিবার কল্যাণ সহকারীদের রেজিস্টার এবং বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন কাজ শুরু করা হয়। পাঁচ বছর পর পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যের অগ্রগতির তথ্য প্রদান শুরু হয়। এ সময়ে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণকারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়, ছুরিবিহীন ভ্যাসেকটমির জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে সারা দেশেই বৃদ্ধি পায় এবং মোট প্রজনন হার ২০১১ সালে ২.৩ এ নেমে আসে। পর্যায়-১২: ২০১১-২০১৬ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কার্যক্রম (HPNSDP) ২০১৫ সালের মধ্যে MDG১, ৪, ৫ ও ৬ অর্জনের লক্ষ্যে সেবার বিস্তৃতির জন্য এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেবাপ্রাপ্তি এবং ব্যবহার উন্নয়নের লক্ষ্যে এ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে বিবেচনায় নিয়ে মাল্টিসেকারাল কার্যক্রম এর মাধ্যমে সমন্বিত পরিবার পরিকল্পনা সেবাকে পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। অপূরণীয় চাহিদা, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার এবং গ্রামীণ ও শহর এলাকাকে এ কার্যক্রমে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। পর্যায়-১৩: জানুয়ারি ২০১৭-জুন ২০২২ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কার্যক্রম (HPNSP) ২০৩০ সালের মধ্যে SDG বিশেষ করে SDG-3 অর্জন করার জন্য পরিবার পরিকল্পনা সেবার বিস্তৃতির লক্ষ্যে সরকারি, এনজিও এবং বে-সরকারি সেক্টরের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়েছে। একই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরাধীন কার্যক্রমের সাথে সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে যাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর কার্যক্রম-এ নেতৃত্ব (Leadership) ও পরিচালন প্রক্রিয়া (Governance) এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থা (Health Systems) জোরদারকরণ ও সেবার গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, অপূরণীয় চাহিদা, দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার এবং দুর্গম, অনগ্রসর, গ্রামীণ ও শহর এলাকাকে এ কার্যক্রমে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কতিপয় সংজ্ঞা জন্মবিরতিকরণ সামগ্রী (Contraceptives) • যে সকল সামগ্রীর মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা যায়। পরিবার পরিকল্পনা (Family Planning) • ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কোনো দম্পত্তি স্বেচ্ছায় কখন, এবং কতদিন পর পর সন্তান নেবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াই হলো পরিবার পরিকল্পনা। মোট প্রজনন হার (Total Fertility Rate-TFR) • একজন মহিলা সারা জীবনে গড়ে যত সংখ্যক জীবিত সন্তান জন্মদান করবেন তা-ই মোট প্রজনন হার বা মহিলা প্রতি গড় সন্তান সংখ্যা। পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার (Contraceptive Prevalence Rate-CPR) • কোন একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোন এলাকার মোট সক্ষম দম্পতির মধ্যে শতকরা যত সংখ্যক দম্পতি কোন না কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে তা ঐ সময়ে ঐ এলাকার সিপিআর বা পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার। পদ্ধতি গ্রহণকারী হার (Contraceptive Acceptance Rate-CAR) • কোন এলাকার মোট সক্ষম দম্পতির মধ্যে শতকরা যত সংখ্যক সক্ষম দম্পতি কোন না কোন পদ্ধতি গ্রহণ করেছে তা ঐ এলাকার সিএআর বা পদ্ধতি গ্রহণকারীর হার। অপূর্ণ চাহিদা (Unmet Need) • যে সকল দম্পতি দেরিতে সন্তান নিতে চায় অথবা আর সন্তান নিতে চায় না কিন্তু কোন আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করে না তাকে অপূর্ণ চাহিদা বলে। পদ্ধতি ছেড়ে দেয়া বা ড্রপ-আউট (Discontinuation/Drop out) • কোন সক্ষম দম্পতি একটি পদ্ধতি গ্রহণ করে যদি এক বছর পূর্ণ হবার আগেই ঐ পদ্ধতিটি ব্যবহার বন্ধ করে দেয়, সেক্ষেত্রে ঐ দম্পতি পদ্ধতিটি ছেড়ে দিয়েছেন বলে গণ্য করা হয়। এক নাগাড়ে একটি পদ্ধতি ১২ মাস ব্যবহার না করলে ঐ পদ্ধতির Drop out / Discontinuation ধরা হয়। নিট প্রজনন হার ১ (Net Reproduction Rate 1- NRR 1) • গড়ে প্রত্যেক মহিলা যদি সারা জীবনে সন্তান জন্মদানে সক্ষম একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন তাহলে সে অবস্থাকে নিট প্রজনন হার ১ (NRR 1) বলা হয়। এ অবস্থাকে Replacement Level of Fertility ও বলা হয়। মাতৃমৃত্যুর হার (Maternal Mortality Rate-MMR) • কোন দেশে বা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় প্রতি বছরে প্রতি লাখ জীবিত শিশু জন্মদান করতে গিয়ে গর্ভাবস্থায় অথবা প্রসবকালীন সময়ে অথবা প্রসবের পর ৪২ দিনের মধ্যে যে কজন মা গর্ভজনিত জটিলতায় মারা যান সেই সংখ্যাকে মাতৃমুত্যুর হার বলা হয়। শিশুমৃত্যুর হার (Infant Mortality Rate-IMR) • কোন দেশে বা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় প্রতি বছর প্রতি হাজার জীবিত জন্মগ্রহণকারী শিশুর মধ্যে অনুর্দ্ধ এক বছর বয়সের যে কজন শিশু মৃত্যুবরণ করে সেই সংখ্যাকে শিশুমৃত্যুর হার বলা হয়। ড্রপ-আউট (Drop out / Discontinuation)-এর কারণসমূহ • পদ্ধতি দেয়ার পূর্বে পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা সঠিকভাবে গ্রহীতাকে অবহিত না করা • সঠিকভাবে গ্রহীতা বাছাই না করা • গ্রহীতাকে সঠিক পদ্ধতি না দেয়া • পদ্ধতি দেয়ার পর সঠিক নিয়মে গ্রহীতাকে ফলোআপ না করা • পদ্ধতি দেয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না করা ড্রপ আউট কমানোর উপায় • সঠিকভাবে চেকলিস্ট অনুসরণ করে গ্রহীতা বাছাইকরণ ও সঠিক পদ্ধতি দেয়ার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা • পদ্ধতি দেয়ার পূর্বে পদ্ধতির সুবিধা অসুবিধা অর্থাৎ সঠিকভাবে গ্রহীতাকে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করা • পদ্ধতি দেয়ার পর সঠিক নিয়মে গ্রহীতাকে ফলোআপ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা • সক্ষম দম্পতিকে নিরবছিন্নভাবে প্রয়োজনীয় জন্মবিরতিকরণ সামগ্রীর সরবরাহ করা • পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। প্রতিমাসে মাসিক সভায় পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অনুযায়ী সকল পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে তা বাস্তবায়ন করা। • অপূর্ণ চাহিদার কারণসমূহ • পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় (Concerns about side effects) পদ্ধতি ব্যবহার করতে ভয় পায় • অজ্ঞতার কারণে নবদম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারে অনীহা • প্রসব পরবর্তী মাসিক বন্ধ থাকার জন্য বা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য (Postpartum amenorrhea or breast feeding) গ্রহীতা মনে করে যে গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা নাই • জন্মবিরতিকরণ সামগ্রীর অপ্রতুলতা (Stock out) বা দূরবর্তী যোগাযোগ ব্যবস্থা (Lack of access/too far) • ধর্মীয় কুসংস্কার, Cultural value এর জন্য দম্পতি পদ্ধতি ব্যবহার করে না। • অন্যান্য অবস্থা যেমন সেবাপ্রদানকারীর অপ্রতুলতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্গম এলাকা, ভাসমান জনগোষ্ঠী ইত্যাদি অপূর্ণ চাহিদার হার কমানোর উপায় • পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। প্রতি মাসে মাসিক সভায় পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অনুযায়ী সকল পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করে তা বাস্তবায়ন করা • নব দম্পতিদের আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত এবং স্বেচ্ছায় পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করা • সকল সক্ষম দম্পতিকে (১৫-৪৯ বছর) আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা • প্রসবের পরপরই আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করা দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদ্ধতির গুরুত্ব • আমাদের দেশে স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি ব্যবহারকারীগণ ইচ্ছামতো পদ্ধতি ব্যবহার বন্ধ করে দেন এবং পরিবর্তন করেন। ফলে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে গর্ভধারণ করেন। দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদ্ধতি একবার গ্রহণ করলে গ্রহীতা অনেকদিন পর্যন্ত বা সারা জীবন অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঝুঁকিমুক্ত থাকে। তাকে প্রতিনিয়ত সেবা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রে যাওয়ার প্রয়োজন নাই। এসব পদ্ধতির কার্যকারিতা ও সাফল্যের হার অনেক বেশি এবং ব্যয় সাশ্রয়ী। এ সকল পদ্ধতি ব্যবহার শারীরিক ও যৌন শক্তির কোন তারতম্য হয় না। • তাই দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহারকারীর হার বাড়ানো সম্ভব হলে সার্থকভাবে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম পরিচালনা করা সহজ হবে। ফলে গড় সন্তান সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং আমাদের দেশ একটি স্থিতিশীল জনগোষ্ঠী অর্জনে সক্ষম হবে। অধ্যায় - ০২ (ক) পরিবার পরিকল্পনা সেবায় কাউন্সেলিং কাউন্সেলিং: গ্রহীতা ও সেবাপ্রদানকারীর মধ্যে দ্বিমুখী যোগাযোগ প্রক্রিয়া, যা গ্রহীতাকে কোন বিষয়ে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। পরিবার পরিকল্পনা' কাউন্সেলিং সামগ্রিক অর্থে একটি পরিবার পরিকল্পনা সেবাদান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একজন ইচ্ছুক সেবাগ্রহীতা, সেবাদানকারীর সাথে খোলাখুলি আলাপ আলোচনা করে, ভাল মন্দ জেনে পরিবার পরিকল্পনার, যে কোন একটি পদ্ধতি পছন্দ এবং স্বেচ্ছায় গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কাউন্সেলিং এর মূলনীতি • সেবাগ্রহীতার সাথে ভালো ব্যবহার ও সম্মান প্রদর্শন করা • সেবাগ্রহীতা ও সেবাদানকারীর মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপন করা • যথোপযুক্ত তথ্য প্রদান করা • সেবাগ্রহীতাকে স্বেচ্ছায় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি পছন্দে সহায়তা করা • সেবাগ্রহীতার সমস্যার সমাধান ও প্রয়োজন মেটাতে সাহায্য করা • গ্রহীতাকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহায়তা করা, পরবর্তী সেবার সময় বা ফলো-আপ ও তার নিয়মাবলী জানিয়ে দেয়া কাউন্সেলিং কেন প্রয়োজন? পরিবার পরিকল্পনার সেবাদান পদ্ধতি সম্পর্কে কাউন্সেলিং ও অবহিতকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ বস্তুত একটি ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি যারা গ্রহণ করেন তারা সবাই সুস্থ মানুষ। গ্রহণকারীর জন্য কোন পদ্ধতি বা পদ্ধতিগুলি উপযুক্ত, তার ভিত্তি হল কাউন্সেলিং এবং অবহিতকরণ। সুতরাং কিভাবে তাদেরকে বোঝাতে হবে বা কীভাবে তাদের পরামর্শ দিতে হবে, তা সেবা প্রদানকারীদের জানা প্রয়োজন। প্রত্যেক ব্যক্তিরই কোন কিছু গ্রহণ, বর্জন, পছন্দ বা অপছন্দের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি- সমূহের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াসহ সকল তথ্য সঠিকভাবে বুঝিয়ে, গ্রহীতার সকল বৈশিষ্ট্য যুক্তিসঙ্গতভাবে বিশ্লেষণ করে, সঠিক ও উপযুক্ত পদ্ধতি, স্বেচ্ছায় পছন্দ ও গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে গ্রহীতাকে সহায়তা করাই এর মূখ্য উদ্দেশ্য। পরামর্শদানের সময় ইচ্ছুক গ্রহীতার সকল কথা ধৈর্য্য সহকারে শুনতে হবে এবং প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে হবে। আলোচনার সময় ইচ্ছুক গ্রহীতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য তাকে কথা বলতে উৎসাহিত করতে হবে এবং তিনি সমস্ত বিষয় কতটুকু বুঝতে পেরেছেন ও কিভাবে বুঝেছেন, তা তার মুখ থেকেই শুনতে হবে। ভুল ধারণা থাকলে উদাহরণসহ ভুল ভাঙ্গানো দরকার। এক্ষেত্রে যোগাযোগ উপকরণ ব্যবহার করা যায়। প্রয়োজন হলে স্বামী ও স্ত্রীকে একসঙ্গে কাউন্সেলিং করা যেতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে কাউন্সেলিং-এর গুরুত্ব পরিবার পরিকল্পনা বা প্রজনন স্বাস্থ্য সেবায় কাউন্সেলিং অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সেবাদানকারী গ্রহীতার নিজের পছন্দমত পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণে সহায়তা করেন। সুষ্ঠ কাউন্সেলিং-এর মাধ্যমে একজন সন্তুষ্ট ব্যবহারকারী তৈরি করা সম্ভব। গ্রহীতা সন্তুষ্ট হলে পদ্ধতি গ্রহণের মেয়াদ দীর্ঘায়িত হবে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়বে এবং কর্মসূচিও সফল হবে। কাউন্সেলিং-এর বিভিন্ন অ্যাপ্রোচ REDI অ্যাপ্রোচ এই অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে ইচ্ছুক গ্রহীতার পরিবার পরিকল্পনার সেবাসহ প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার অন্যান্য চাহিদাও একই সাথে পূরণ করা যায়। এর চারটি ধাপ রয়েছে। • Rapport building (সুসম্পর্ক স্থাপন) • Exploration (চাহিদা নিরূপণ) • Decision making (সিদ্ধান্ত গ্রহণ) • Implementing the decision (সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন) GATHER অ্যাপ্রোচ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সিদ্ধান্ত নেয়া ও এর ব্যবহার শুরু করার প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ধাপে সম্পূর্ণ হয়। পদ্ধতি সম্পর্কে জানা, পছন্দ করা, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া ও তা কার্যকর করা এ প্রক্রিয়ার অন্তর্গত। প্রক্রিয়াটি ৬টি ধাপে সম্পূর্ণ হয়। GATHER দ্বারা আমরা কাউন্সেলিং -এর এই ৬টি ধাপকে মনে রাখতে পারি। G = Greet clients (শুভেচ্ছা বিনিময় করা/সুসম্পর্ক স্থাপন)- গ্রহীতাকে শুভেচ্ছা জানানো A = Ask and assess need (চাহিদা নির্ণয় করা)- আগত গ্রহীতা কি ধরনের সেবা চান তা জানতে চাওয়া এবং তার চাহিদা নির্ণয় করা। T = Tell about services (সেবা সম্পর্কে গ্রহীতাকে বলা)- গ্রহীতাকে পদ্ধতিসমূহ সম্বন্ধে বলা H = Help (সেবা বেছে নিতে গ্রহীতাকে সাহায্য করা)- পদ্ধতি বেছে নিতে গ্রহীতাকে সাহায্য করা E = Explain (বাছাইকৃত সেবা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণী)- পছন্দকৃত পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা R = Return for follow-up পরবর্তী সেবার সময় বা ফলোআপ ও তার নিয়মাবলি জানিয়ে দেওয়া ও নিশ্চিত করা REDI অ্যাপ্রোচের ধাপসমূহ ১. সুসম্পর্ক স্থাপন • সেবাকেন্দ্রে প্রবেশের সাথে সাথেই সেবাগ্রহীতাকে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্ভাষণ করতে হবে। গ্রহীতার অপেক্ষার জন্য বসার স্থানটি আরামদায়ক ও মনোরম হওয়া বাঞ্ছনীয় এবং পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক বিভিন্ন পোস্টার, ফেস্টুন, দেয়ালে টানানো যেতে পারে। এছাড়াও ভিডিও প্রদর্শন এবং সেবা গ্রহীতার বাচ্চাদের জন্য Care centre এর ব্যবস্থা করা যেতে পারে • নতুন গ্রহীতাকে তার আগমন বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিতে হবে • কাউন্সেলিং করার সময় সেবা গ্রহীতাকে যেন অন্য কেউ দেখতে বা সেবাদানকারীর কথা অন্য কেউ শুনতে না পায় এ ব্যাপারে একান্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে এবং গোপনীয়তা রক্ষা করার আশ্বাস দিতে হবে • মনোযোগ সহকারে শোনা - গ্রহীতার দিকে হাসি মুখে তাকাতে হবে - যে গ্রহীতা যেমন তাকে সেভাবে গ্রহণ করতে হবে - প্রতিজনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে - তিনি কী বলছেন ও কিভাবে বলছেন, তাঁর গলার স্বর, শব্দচয়ন, মুখভঙ্গি লক্ষ্য করতে হবে - গ্রহীতার কথা শুনার সময় গ্রহীতার দিকে তাকাতে হবে - গ্রহীতার কথার সাড়া দিয়ে হ্যাঁ, হুঁ বলা, মাথা নাড়িয়ে সায় দিতে হবে - প্রয়োজনে গ্রহীতার কথার পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে। এতে করে সেবাদানকারী ও গ্রহীতা উভয়েই সঠিক জিনিস বুঝবেন এবং গ্রহীতা উপলব্ধি করতে পারবেন যে সেবাপ্রদানকারী তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন। অন্য কাজ বন্ধ রাখতে হবে - গ্রহীতার দিকে সামান্য ঝুঁকে বসতে হবে - গ্রহীতার সাথে কথোপকথনের সময় অন্য কারো সাথে কথা বলা উচিত না - গ্রহীতার কথার মাঝখানে থামিয়ে দেয়া যাবে না • কার্যকরভাবে প্রশ্ন করা - এমনভাবে এবং এমন স্বরে কথা বলতে হবে যাতে গ্রহীতার প্রতি সেবাদানকারীর আগ্রহ, গুরুত্ব ও বন্ধুত্ব প্রকাশ পায় - গ্রহীতা বুঝতে পারেন এমন শব্দ ব্যবহার করতে হবে - একবারে শুধুমাত্র একটি প্রশ্নই করে উত্তর শোনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করতে হবে দুই ধরনের প্রশ্ন করা যেতে পারে, যথা- খোলা প্রশ্ন ও বন্ধ প্রশ্ন নীচের প্রশ্নসমূহ খোলা প্রশ্নের নমুনা। এই প্রশ্ন গ্রহীতাকে পূর্ণ ও সত্য উত্তর দিতে উৎসাহিত করবে। এগুলি তাকে নিজের পছন্দ তৈরি করতে সাহায্য করে। একটি খোলা প্রশ্নের উত্তর অন্য একটি প্রশ্ন করতে সাহায্য করে। • আপনি কী আমাকে আপনার সেবা কেন্দ্রে আসার কারণগুলো বলবেন? • আপনি পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্পর্কে কী জানতে চান? • এ সম্পর্কে আপনার মত কী? নীচের প্রশ্নসমূহ বন্ধ প্রশ্নের নমুনা। এগুলি হতে একটি নিদিষ্ট উত্তর পাওয়া যায় যা প্রায়শই 'হ্যাঁ' বা 'না'-র মধ্যে সীমাবদ্ধ। তা আলোচনার ইতি ঘটাতে সাহায্য করে। • আপনি কি কোন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নিতে চান? • আপনি কি আইইউডি নিতে চান? ২. চাহিদা নিরুপণ করা • আন্তরিকতার সাথে প্রশ্ন করে আসার কারণ মনোযোগ সহকারে শুনতে হবে • সেবাগ্রহীতা কেন এসেছেন তা জানতে হবে • পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতিসমূহ ও প্রজনন সেবা সম্পর্কে সেবা গ্রহীতা কী জানেন তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে • গ্রহীতার পারিপার্শ্বিকতা ও চাহিদা যাচাই করতে হবে • গ্রহীতার চাহিদা ও ইচ্ছা প্রকাশে সাহায্য করতে হবে • গ্রহীতার সাথে স্বামীর মেলামেশা সম্পর্কে জানতে হবে • গ্রহীতা কোন রকম পারিবারিক কলহের শিকার কিনা জানতে হবে • গ্রহীতার আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে • ভুল ধারণা ভাঙ্গানো - গ্রহীতার কাছে জানতে চাওয়া যেতে পারে তিনি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে কী জানেন? - প্রতিজন গ্রহীতাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে তাঁরা কী শুনেছে ও এ সম্পর্কে তাদের মতামত কী? - যদি ধারণা সঠিক না হয়, তবে কেন এ ধারণা সঠিক নয় তা তাকে বলতে হবে। সাথে সাথে তাকে সঠিক তথ্যটিও দিতে হবে • গ্রহীতাকে পদ্ধতি পছন্দ করতে সহায়তা করতে হবে ৩. সিদ্ধান্ত গ্রহণ • সেবাদানকারী- গ্রহীতার অবস্থান, চাহিদা ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে গুরুত্ব দিবেন। তিনি গ্রহীতাকে সে সকল তথ্যই দিবেন যা তাকে অবহিত (সব কিছু জেনে ও বুঝে) সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সেবাদানকারীর দেয়া তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্য হতে গ্রহীতা যে কোন পদ্ধতি বেছে নেয়ার এবং তার ফলাফল সম্পর্কে সম্ভাব্য ধারণা পেতে পারেন • যথোপযুক্ত তথ্য গ্রহীতাকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে • গ্রহীতাকে সাহায্য করার নিমিত্তে সেবাদানকারী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, তাঁদের যথার্থতা এবং গ্রহীতার নিজের এ ব্যাপারে কী মতামত তা আলোচনা করবেন। এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি গ্রহীতাকে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণে তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারেন • সেবা গ্রহীতা নিজের পছন্দের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন তা নিশ্চিত করা জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি পছন্দ করতে সাহায্য করা প্রথমে গ্রহীতার কাছ হতে জেনে নিতে হবে যে তার পছন্দ কী? তারপর তাকে নিম্নের তিনটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে গ্রহীতার নিকট হতে এমন কিছু তথ্য পেতে পারেন যা তাঁকে পরামর্শ দেয়ার জন্য জরুরি। • বর্তমানে গ্রহীতার সন্তান আছে কি? থাকলে বয়স কত? • গ্রহীতার বাচ্চা কি বুকের দুধ খায়? • গ্রহীতা ও তার স্বামী/স্ত্রী কি আরো সন্তান নিতে আগ্রহী? কতদিনের মধ্যে সন্তান নিতে চান? • গ্রহীতা নিজের ও তার স্বামী/স্ত্রীর কি একাধিক যৌনসঙ্গী আছে? ইতিমধ্যে আপনি বা আপনার স্বামী HIV/AIDS জন্য পরীক্ষা করিয়েছেন কিনা? যদি উপরোক্ত প্রশ্নসমূহের উত্তর 'না' হয় তবে গ্রহীতা যে কোন পদ্ধতি নিতে পারে। আর যদি প্রশ্নসমূহের উত্তর 'হ্যাঁ' হয়, তবে নিম্নোক্ত উত্তরসমূহ আলোচনা করা জরুরি- গ্রহীতা কি বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান? উত্তর হ্যাঁ হলে • সন্তানের বয়স ৬ সপ্তাহের কম হলে এবং বুকের দুধ খাওয়ালে সকল পদ্ধতি গ্রহীতাকে দেয়া যাবে না - শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো পদ্ধতি নির্ভর পদ্ধতি (ল্যাম) ব্যবহার করা যাবে - শুধুমাত্র প্রজেস্টিনযুক্ত পিল খাওয়া যাবে - ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণ করা যাবে - প্রসবের পর হতে ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত ও ৪ সপ্তাহ পূর্ণ হয়ে থাকলে আইউউডি (কপার-টি) গ্রহণ করা যাবে - যে কোন অবস্থায় কনডম ও পুরুষের স্থায়ী পদ্ধতি (যদি দু'টি জীবিত সন্তান থাকে) দেয়া যাবে • সন্তানের বয়স ৬ মাসের মধ্যে হলে এবং বুকের দুধ খাওয়ালে - মিশ্র খাবার বড়ি দেয়া যাবে না • ইনজেকশন ডিপো-প্রভেরা ৬ সপ্তাহ পরে দেয়া যাবে। মাসিক শুরু না হলে ল্যাম অনুসরণ করা যেতে পারে • সন্তানের বয়স ৬ মাসের বেশি হলে - ল্যাম অনুসরণ করা যাবে না - সকল পদ্ধতিই দেয়া যাবে (উপযুক্ততা অনুযায়ী) গ্রহীতা এবং তাঁর স্বামী/স্ত্রী কি আরও সন্তান নিতে আগ্রহী? যদি তারা আগ্রহী হন, তাহলে • মহিলাদের বা পুরুষের স্থায়ী পদ্ধতিসমূহ দেয়া যাবে না। • যদি কয়েক বছর বাচ্চা না চান সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি সুবিধাজনক যেমন: ইমপ্ল্যান্ট ও আইইউডি গ্রহীতার নিজের বা তার স্বামী/স্ত্রী'র যৌনরোগ বা ঝুঁকি আছে কি? যদি তার উত্তর 'হ্যাঁ' হয় তবে- • দম্পতির যৌনরোগ প্রতিরোধের জন্য কনডম ব্যবহার করা আবশ্যক • কনডমের পাশাপাশি কার্যকরভাবে পরিবার পরিকল্পনার জন্য অন্য যে কোন পদ্ধতি পছন্দ করতে পারেন গ্রহীতার সাথে সব কিছু আলোচনার পর তাকে তার মতামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে। "আপনি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?" গ্রহীতা স্পষ্ট ভাষায় তাঁর মতামত ব্যক্ত করবেন। এক্ষেত্রে অনুমানের উপর নির্ভর করা যাবে না। তারপর তাঁর সিদ্ধান্তটি যাচাই করার জন্য তাঁর কথার পুনরাবৃত্তি করতে হবে। যেমন: "তাহলে আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে" "আপনি কি এই পদ্ধতি গ্রহণ করবেন?" গ্রহীতার সিদ্ধান্ত যদি তাঁর শারীরিক এবং সামাজিক অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় তবে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে এবং অন্যান্য সম্ভাব্য পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে জানাতে হবে। যেমন: একটি সন্তান না থাকলে ইনজেকশন ও আইউডি দেয়া যাবে না। ২টি জীবিত সন্তান না থাকলে স্থায়ী পদ্ধতি দেয়া যাবে না। গ্রহীতা কি গর্ভবতী? গর্ভাবস্থায় কোন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি দেয়া যাবে না। পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতি প্রদানে এবং অন্যান্য সকল অস্থায়ী পদ্ধতি নতুনভাবে ব্যবহারের শুরুতে গ্রহণেচ্ছু মহিলা গর্ভবর্তী কি না এ বিষয়টি সেবাপ্রদানকারীকে নিশ্চিত করতে হবে। যদিও বিভিন্ন বায়োকেমিক্যাল পরীক্ষা এবং আলট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে গর্ভাবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে সবক্ষেত্রে এবং বাংলাদেশের সর্বত্র এসব করানো সম্ভব নয় বা সহজলভ্যও নয়। এই পরীক্ষা ব্যয়বহুল যা অনেকের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয় না। আবার শেষ মাসিকের প্রথম দিন হতে ৬ সপ্তাহ অতিক্রান্ত না হলে সাধারণত এসব পরীক্ষা করে গর্ভধারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায় না।তলপেট ও পিভি পরীক্ষা করে গর্ভাবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে, তবে তার জন্য শেষ মাসিকের প্রথম দিন হতে ৮-১০ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ইতিহাস গ্রহণ, পেলভিক ও পিভি পরীক্ষা এবং সম্ভব হলে ল্যাবরেটরী পরীক্ষা করে গর্ভবর্তী কি না বুঝতে হবে। এমতাবস্থায়, যদি মহিলার গর্ভাবস্থার কোন লক্ষণ না থাকে তবে নিম্নের যে কোন একটি বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারলে বুঝতে হবে যে মহিলা গর্ভবতী নন- • সর্বশেষ মাসিকের পর স্বামীর সাথে সহবাস হয়নি • গত ৭ দিনের মধ্যে তার স্বাভাবিক মাসিক হয়েছে। • বর্তমানে কোন নির্ভরযোগ্য আধুনিক পদ্ধতি সঠিক নিয়মে ও নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছেন • গত ৪ সপ্তাহের মধ্যে সন্তান প্রসব করেছেন • গত ৬ মাসের মধ্যে সন্তান প্রসব করেছেন (যদি শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ পান করান), ঐ সময়ে মধ্যে যদি মাসিক না হয়ে থাকে • গত ৭ দিনের মধ্যে গর্ভপাত হয়েছে • গত ৭ দিনের মধ্যে এমআর করা হয়েছে। এরপরেও যদি কোন সন্দেহ থাকে তবে শারীরিক বা ল্যাবরেটরি পদ্ধতি গ্রহণের জন্য গ্রহীতাকে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে যে, তিনি গর্ভবতী নন। নতুবা পরবর্তী মাসিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ৪. সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সেবাদানকারীর দায়িত্ব হল গ্রহীতাকে তার পছন্দের পদ্ধতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার জন্য সহায়তা করা। তিনি গ্রহীতাকে পছন্দের পদ্ধতিটি তার জন্য যথোপযুক্ত কি না তা ব্যাখ্যা করতে পারেন।।। • গ্রহীতা কখন ও কোথায় পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন সে সম্পর্কে ধারণা দিতে হবে • গ্রহীতাকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্মন্ধে অবশ্যই বলতে হবে। পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার কথা বলার সময় নিম্নলিখিততথ্য গ্রহীতাকে জানানো উচিত- - বেশির ভাগ গ্রহীতার পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের পর কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় না - অধিকাংশ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ারই কোন দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নেই বললেই চলে। এখানে নির্দিষ্ট পদ্ধতি সম্পর্কে উদাহরণ দেয়া যেতে পারে - বেশির ভাগ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই চিকিৎসা ব্যতীত ভাল হয়ে যায়। বাকিগুলোর অধিকাংশের চিকিৎসা করা সম্ভব এবং সেগুলো খুবই সাধারণ - যে কোন পদ্ধতির জন্যই জটিলতার সম্ভাবনা খুবই কম - গ্রহীতাকে বলে দিতে হবে কোন সমস্যা হলে বা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাইলে তিনি যেন অবশ্যই সেবাদানকারীর সাথে যোগাযোগ করেন • সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে জানাতে হবে ও তা থেকে উত্তরণের জন্য সহযোগিতা করতে হবে • পদ্ধতি প্রয়োগের পরে ফলো-আপ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দিতে হবে। অবহিত পছন্দ ও অবহিত সম্মতি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবহিত পছন্দ ও অবহিত সম্মতি হলো পরিবার পরিকল্পনার সকল পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা, ঝুঁকি, কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে, বুঝে নিজ পছন্দ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কোন পদ্ধতি বেছে নেয়া। যে কোন একজন ইচ্ছুক গ্রহীতা ক্লিনিকে আসার পূর্বে কোন পদ্ধতির বিষয়ে সব কিছু নাও জানতে পারেন বা তাকে যে ব্যক্তি (রেফারকারী) নিয়ে আসেন সে সব তথ্য তাকে নাও বলতে পারেন। কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করার আগে অবশ্যই গ্রহণেচ্ছুককে সেই পদ্ধতির ভাল-মন্দ, ঝুঁকি সব দিক সম্পর্কে জানাতে হবে। এটা কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, কাজেই চাপিয়ে দেয়া যাবে না বরং পদ্ধতির বিষয়ে সকল তথ্য দিয়ে গ্রহীতাকে স্বাধীনভাবে তার ইচ্ছানু- যায়ী পদ্ধতি বাছাইকরণে সাহায্য করতে হবে। এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, ব্যক্তিই তার প্রতিটি অঙ্গের মালিক। কাজেই কোন পদ্ধতি দেওয়ার পূর্বে গ্রহীতার অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর অপরিহার্য। স্বাক্ষর (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিপসই) গ্রহণ করার পূর্বে সম্মতিপত্রের বক্তব্যগুলো গ্রহীতাকে সাবলীল ভাষায় ভাল করে বুঝিয়ে দেয়া অত্যাবশ্যক। মুক এবং বধির গ্রহীতাদের কাউন্সেলিং করা ও অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর গ্রহণ মূক ও বধির নারী-পুরুষ উভয়কেই আকারে-ইঙ্গিতে বুঝাতে হয় বিধায় সেবা প্রদানকারী বা কাউন্সেলরদের অনেকের পক্ষেই সঠিকভাবে কাউন্সেলিং করা সম্ভব হয় না। এসব ক্ষেত্রে স্বামী অথবা স্ত্রীর (স্ত্রী ক্ষেত্রে স্বামীর এবং স্বামীর ক্ষেত্রে স্ত্রীর) বা পরিবারের আইনগত অভিভাবকের সাহায্য নিতে হবে। স্থায়ী পদ্ধতি'র "অপরিবর্তনীয়তা ও স্থায়িত্ব" এবং অপারেশনের ঝুঁকি সম্পর্কে গুরুত্ব আরোপ করে ইচ্ছুক মূক ও বধির গ্রহীতা- সহ তার স্বামী অথবা স্ত্রীকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে ও পরামর্শ দিতে হবে। তাদেরকে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘমেয়াদি ও অত্যন্ত কার্যকর অন্যান্য পদ্ধতি সম্পর্কেও অবগত করতে হবে। এতে করে প্রতিবন্ধীদেরকে তাদের ভাষায় বুঝাতে সক্ষম হবেন এবং প্রতিবন্ধী তার স্বামী বা স্ত্রীর সাথে একত্রে পরামর্শ করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। অবহিত সম্মতিপত্রে প্রতিবন্ধী গ্রহীতাসহ স্বামী অথবা স্ত্রীর স্বাক্ষর অবশ্যই নিতে হবে। ফলো-আপ নিয়মিত ফলো-আপ: কিছু কিছু পদ্ধতির কিছু নিয়মিত ফলো-আপ আছে। গ্রহীতা কোন সমস্যা হোক বা না হোক, পদ্ধতি নেয়ার পরে নির্দিষ্ট সময়ে সেবাদানকারীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য বলা হয়। এটিই নিয়মিত ফলো-আপ। অনিয়মিত বা জরুরি ফলো-আপ: গ্রহীতা কোন সমস্যা বোধ করলে বা জরুরি অবস্থা দেখা দিলে সাক্ষাতের জন্য আসবেন। ফলো-আপে গ্রহীতার কাউন্সেলিং-এর ২টি নীতি ১. গ্রহীতার চাহিদা নির্ণয় গ্রহীতার চাহিদা জানার জন্য নীচের প্রশ্ন করা যেতে পারে- • আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি? আপনি কী আলোচনা করতে চান? • আপনার শরীর ভাল আছে তো? • আপনার এই পদ্ধতিটি নেয়ার পরে কেমন মনে হচ্ছে? আপনি কি সন্তুষ্ট? কোন সমস্যা আছে কি? • আপনি কি পদ্ধতি পরিবর্তন করার কথা ভাবছেন? • আপনার স্বামীর সাথে সহবাসে কোন সমস্যা হচ্ছে কি? ২. গ্রহীতার চাহিদা অনুযায়ী সাহায্য করা • কোন সমস্যা হলে তা মিটানোর চেষ্টা করুন • কোন প্রশ্ন থাকলে উত্তর দিন • প্রয়োজনীয় শারীরিক ও অন্যান্য পরীক্ষা করুন • প্রয়োজন অনুসারে উপকরণ সরবরাহ করুন। • গ্রহীতা সঠিক নিয়মে পদ্ধতিটি ব্যবহার করছেন কি-না দেখুন, প্রয়োজনে পরামর্শ দিন গ্রহীতাকে ফলো-আপ এর জন্য বলতে হবে। • সমস্যা হলে, যে কোন সময়ে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন গ্রহীতার পুনরায় আসার সম্ভাব্য কারণ • গ্রহীতার প্রশ্ন থাকতে পারে অথবা কোন সমস্যা হতে পারে অথবা তিনি পরামর্শ চাইতে পারেন • পুনরায় সরবরাহ দরকার হতে পারে • নিয়মিত ফলো-আপ-এ আসতে পারেন, যথা-আইইউডি, ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের পর • পদ্ধতি পরিবর্তন করে অন্য একটি পদ্ধতি গ্রহণ করতে চান • আইইউডি/ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে চান • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য পরামর্শ চান • শারীরিক সমস্যার জন্য • স্বামী/স্ত্রী বা কোন আত্মীয়কে নিয়ে তথ্য জানার জন্য • কোন কথা শুনে যাচাই করতে • যৌনরোগ প্রতিরোধে কনডম প্রয়োজনে • গর্ভবতী সন্দেহ হলে • অন্য কোন জরুরি অবস্থার জন্য অধ্যায় - ০২ (খ) গর্ভপূর্ব সেবা/কাউন্সেলিং গর্ভপূর্ব সেবা/কাউন্সেলিং কি বোঝায় কোন দম্পতির গর্ভধারণের পূর্বে সন্তান ধারনের জন্য সঠিক বয়স, শারীরিক উপযুক্ততা, মা এর শারীরিক সমস্যা যা গর্ভকালীন সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে, তা নির্ণয় ও চিকিৎসা ইত্যাদি বিষয়ে প্রতিরোধ বা প্রতিকারের পরামর্শ প্রদান করাকে গর্ভপূর্ব সেবা বলে। যার উপাদান গর্ভপূর্ব পরামর্শ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা। এর ফলে একজন সন্তান গ্রহণেচ্ছুক মা গর্ভধারণ করে নিরাপদে সুস্থ সন্তান প্রসব করতে পারবেন। গর্ভধারণ করা একটি প্রাকৃতিক বিষয় এই ধারণা থেকে এর জন্য বিশেষ কোন সেবার প্রয়োজন আছে বলে, অনেকেই মনে করেন না। অথচ গর্ভপূর্ব সেবা/পরামর্শ-এর মাধ্যমে একজন মহিলা অনাকাঙ্ক্ষখিত গর্ভধারণ রোধসহ গর্ভকালীন অনেক জটিলতা এড়িয়ে গর্ভবর্তী হতে পারেন। বাংলাদেশে গর্ভপূর্ব সেবাদান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এখনও শুরু হয়নি। আমাদের দেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাধ্যমে গর্ভকালীন পরিচর্যা (এএনসি), নিরাপদ প্রসব এবং প্রসবোত্তর পরিচর্যা (পিএনসি) সেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রমে গর্ভপূর্ব সেবা/পরামর্শ (Pre Conceptional Care/ Counselling) অন্তর্ভূক্ত করলে অতি সহজে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য বিভাগের মাঠ কর্মী ও সেবা প্রদানকারীদের মাধ্যমে সেবাটি চালু করা সম্ভব। কার্যক্রমটি সফলভাবে শুরু হলে অধিকাংশ মহিলা গর্ভজনিত অনেক জটিলতা ছাড়াই গর্ভবতী হবেন এবং গর্ভকালীন সেবা/ প্রসব সেবা/ প্রসব পরবর্তী সেবা/ প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সেবাপ্রদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, পরিশেষে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার অধিকতর হ্রাস পাবে। গর্ভপূর্ব সেবা/কাউন্সেলিং এর বিষয়সমূহ ১. সন্তান গ্রহণ ইচ্ছুক মা/মহিলার বয়স • বয়স ১৮ বৎসর হলে, সন্তান গ্রহণের উপযুক্ত বয়স না হওয়া পর্যন্ত গর্ভবিরতিকরণ এর পরামর্শসহ পদ্ধতির আওতায় আনতে হবে (ইমপ্ল্যান্ট/খাবার বড়ি/কনডম ইত্যাদি, বিশেষ করে বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে)। • যদি বয়স > ৪০ বৎসর, গর্ভধারণের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে হবে। ২. মহিলার ওজন ক. অধিক ওজন (BMI 25-29, বা> 30)। গর্ভধারণের পূর্বে ওজন কমিয়ে স্বাভাবিক ওজনে নিয়ে আসার পরামর্শ (BMI 22-25) খ. অতিরিক্ত কম ওজনের ক্ষেত্রে গর্ভধারণে সম্ভাবনা হ্রাস পায় এবং গর্ভধারণ জনিত জটিলতা বেশি হয়। একজন মা সঠিক ওজনে গর্ভবতী হলে নিম্নলিখিত অসুস্থতা হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়- • সময়ের পূর্বে প্রসব (Preterm Delivery) • গর্ভজনিত ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) • সিজারিয়ান ডেলিভারি • গর্ভজনিত উচ্চ রক্তচাপ • Thromboembolic disease I৩. সময় (Timing): গর্ভধারণের উপযুক্ত সময় একজন দম্পতি যদি নিয়মিত ভাবে সহবাস করে এবং কোন গর্ভনিরোধক ব্যবহার না করে, তবে ১ বছরের মধ্যে ৮৪% এবং ২ বছরের মধ্যে ৯২% গর্ভধারণ করে। ৪. ফলিক এসিড গ্রহণের পরামর্শ গর্ভধারণের এক মাস পূর্ব থেকে গর্ভকালীন তিন মাস পর্যন্ত ফলিক এসিড গ্রহণ করার পরামর্শ। যার ফলে শিশুর জন্মগত ত্রুটির আশঙ্কা হাস পায়। যেমন: Anencephaly. শুধুমাত্র খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে ফলিক এসিডের চাহিদা পূরণ হয় না ৫. কিছু রোগের প্রতিকার ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যে সব রোগের কারনে মহিলারা অপুষ্টিতে ভোগেন, সেগুলোর চিকিৎসা ও পরামর্শ যেমন, ক. কৃমি রোগের চিকিৎসাসহ প্রতিরোধের পরামর্শ। খ. রক্তস্বল্পতা- আয়রন ও আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পরামর্শ দিতে হবে। গ. অন্যান্য ভিটামিন-এর স্বল্পতার চিকিৎসা (ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ইত্যাদি)। ভিটামিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার এর পরামর্শ দিতে হবে। ঘ. STI/RTI এর চিকিৎসা ও প্রতিরোধের পরামর্শ দিতে হবে। ঙ. মেডিকেল ডিজিজসমূহ, যা গর্ভের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, এর প্রভাব ও প্রতিকারসমূহে আলোচনা করা যায়। চ. পূর্বনির্ধারিত ঔষুধসমূহ যেগুলো বাচ্চার উপর বিরুপ প্রভাব আছে তা পরিবর্তন করা যায়। মোটকথা বংশানুক্রমিক রোগসমূহ সনাক্ত করা যায়। যে সকল দম্পতির ঘন ঘন এ্যাবরশন অথবা বিকলাঙ্গ বাচ্চা ডেলিভাবি হয় তাদের ঠিকমত রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থাপনা দেওয়া যায়। ৬. টিকা দান (ভ্যাকসিনেশন) ক. টিটি ৫ ডোজ পূর্বে নিয়ে না থাকলে নেওয়ার পরামর্শ। খ. Measles, Hepatitis, Rubella এর Vaccine পূর্বে নেয়া আছে কিনা, তার পরামর্শ। ৭. ধুমপায়ী হলে, কুপ্রভাবের কথা জানাতে হবে। ৮. খাদ্যাভাস খাদ্যের মধ্যে পাঁচ ভাগের এক ভাগ ফলমূল ও শাকসবজি থাকা বাঞ্চনীয়। দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া উচিত যা শরীরে ভিটামিন, আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের মজুদ বৃদ্ধি করে। ৯. শারীরিক পরীক্ষা শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ডিজিস, থ্যালাসিমিয়া, HIV/AIDS ইত্যাদি রোগ আছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে, প্রয়োজনে চিকিৎসা প্রদানসহ উপযুক্ত কেন্দ্রে রেফার করতে হবে। ১০. ক্রনিক ডিজিজ ডায়াবেটিস, থাইরয়েড জনিত সমস্যা, থ্যালাসিমিয়া, হাঁপানি, হৃদরোগ, ক্যানসার ইত্যাদির ক্ষেত্রে বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। গর্ভপূর্ব সেবা/কাউন্সেলিং এর সুফল • অল্প বয়সে গর্ভধারণের হার কমবে • গর্ভধারণজনিত জটিলতা যেমন মায়ের অপুষ্টি, গর্ভজনিত ডায়াবেটিস, গর্ভজনিত উচ্চরক্ত চাপ, কম ওজনের বাচ্চা প্রসব (LBW), অপরিপক্ক বাচ্চা প্রসব, IUGR, জন্মগত ত্রুটি ইত্যাদির হার হ্রাস পাবে • গর্ভধারণের পর পরই গর্ভকালীন সেবা (ANC) নেওয়ার জন্য আগ্রহী হবে • প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার বৃদ্ধি পাবে • প্রসবোত্তর সেবার (PNC) হার বৃদ্ধি পাবে • প্রসবের পর পরই পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি (PPFP) গ্রহণে সচেষ্ট হবে • ডিম্বস্ফূরণ (Ovulation) এর সময়, সেই সাথে গর্ভধারণের সময় জানতে পারে। • পূর্ববর্তী গর্ভের ইতিহাস জানা যাবে। যেমন: Still Birth, NND.IUGR Cong anomaly etc. গর্ভপূর্ব সেবা/কাউন্সেলিং সীমাবদ্ধতাঃ বর্তমান বাস্তবতা এই যে, অধিকাংশ দম্পতি গর্ভপূর্ব সেবার জন্য আসেন না। এর কারণ সাধারণ মানুষ গর্ভপূর্ব সেবা সম্পর্ক জানেনা না এবং অধিকাংশ গর্ভই অপরিকল্পিত। পরিবার পরিকল্পনা সেবাদানে দম্পতি কাউন্সেলিং আমাদের দেশের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মহিলার অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করার জন্য নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করে এবং এটা করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়, যেমন- • সে স্বামীর নিকট থেকে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের সম্মতি পায় না • সে শারীরিকভাবে পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য উপযোগী নাও থাকতে পারে। • সে পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতার ব্যবস্থাপনার জন্য স্বামীর কাছ থেকে কোন আর্থিক সাহায্য বা মানসিক সহানুভূতি পায় না দম্পতি যৌথভাবে তাদের সিদ্ধান্ত নিলে অথবা স্বামী তার স্ত্রীকে তার জন্য যেটা ভাল হয় সেটা নেয়ার জন্য পরামর্শ দিলে, স্ত্রীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জটিলতার ব্যবস্থাপনায় স্বামীর সহযোগিতা পেতে সুবিধা হয়। সহযোগিতা হতে পারে মানসিকভাবে তাকে আগন্ত করা, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা, আর্থিকভাবে সাহায্য করা। দ্বিতীয়তঃ স্বামী নিজে পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে। পুরুষের (স্বামীর) কাউন্সেলিং এর প্রয়োজনীয়তা • স্ত্রী পদ্ধতি গ্রহণের সময় স্ত্রীকে সহায়তা করার ব্যাপারে পুরুষকে উৎসাহিত করা • পুরুষকে পদ্ধতি গ্রহণের ব্যাপারে (কনডম বা ভ্যাসেকটমি) উৎসাহিত করা • জনন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি, মহিলা এবং পুরুষদের গঠন এবং প্রজননতন্ত্রের কাজ সম্পর্কে পুরুষকে তথ্য প্রদান করা কারণ এ সকল ব্যাপারে পুরুষরা প্রায়ই কম তথ্য পায় এবং অনেক সময় ভুল তথ্য পায় • জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে পুরুষদের ভুল ধারণা এবং উৎকণ্ঠা দূর করা। অনেক সময় তাদের ধারণা থাকে যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি যৌন আনন্দ বা যৌন ক্রিয়ার উপর নেতিকরাচক প্রভাব ফেলবে • পুরুষদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসার জন্য উৎসাহিত করা। যে কেন্দ্রে প্রধানত মহিলাদের সেবা দেয়া হয় সেখানে পুরুষরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। দম্পতি কাউন্সেলিং এ সেবাদানকারীর ভূমিকা সেবাদানকারী নিম্নলিখিত উপায়ে দম্পতি ভিত্তিক কাউন্সেলিং করতে পারেন- ১. দম্পতির নিজেদের মধ্যে যোগাযোগকে (কথা বলাকে) উৎসাহিত করা • জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ এবং ব্যবহার বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পরিবার পরিকল্পনায় পদ্ধতি ব্যবহার সঠিকভাবে হয় যখন স্বামী এবং স্ত্রী ঐ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে তাদের মতামত একজন আরেকজনকে বলে • সেবাদানকারীকে আলোচনায় উৎসাহদানের ক্ষেত্রে মহিলার ও তার স্বামীর প্রতি নিরপেক্ষ থাকতে হবে। স্বামীর সমালোচনা গ্রহীতার মনে হুমকিস্বরূপ মনে হতে পারে এবং এর ফলে কাউন্সেলিং বাধ্যগ্রন্থ হবে। গ্রহীতার স্বামীর সাথে কথা বলার ইচ্ছা এবং স্বামীকে বোঝানোর ক্ষমতাকে সম্মান দেখানো উচিত। যদি গ্রহীতা তার স্বামীর সাথে কথা বলতে না পারে তবে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে। যদি সত্যি কোন ব্যবস্থা না থাকে তবে ফলো-আপ ভিজিটের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা গ্রহীতাকে মাঠকর্মীর সহযোগিতা নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে ২. সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করা • স্বামী বা স্ত্রী যখন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করে তার সঙ্গীর অর্থাৎ স্বামী হলে স্ত্রীর এবং স্ত্রী হলে স্বামীর মতামত আছে কিনা তা সেবাদানকারীর জানা উচিত • যদি দেখা যায় পদ্ধতি গ্রহণে স্বামী/স্ত্রীর বাধা আছে তবে তার কারণ দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাউন্সেলিং করতে হবে ৩. দম্পতিকে তথ্য দেয়া এটা খুব ভাল হয় যদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি দেয়ার প্রথম আলোচনায় দম্পতিকে একসাথে পাওয়া যায়। সেবাদানকারী দম্পতিকে যে কোন পদ্ধতি দেয়ার সময় পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়া উচিত। দম্পতি অবহিত করার বিভিন্ন উপায় এবং কৌশল • বাড়ি প্রদর্শনের সময় দম্পতিকে কাউন্সেলিং করার ব্যাপারে মাঠকর্মীকে উৎসাহিত করা • স্বামীদের কর্ম ক্ষেত্রে গিয়ে দেখা করার ব্যাপারে পুরুষ কর্মীদের উৎসাহিত করা বিশেষভাবে যাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন • মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দম্পতির সাথে কথা বলা • অন্য কোন নিকট আত্মীয়ের মাধ্যমে যোগাযোগ করা • নির্দিষ্ট বিসিসি (আচরণ পরিবর্তনে যোগাযোগ) উপকরণের মাধ্যমে যোগাযোগ করা জন্মবিরতিকরণ কাউন্সেলিং চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী জন্মবিরতিকরণ কাউন্সেলিং এর ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অবশ্যই নিশ্চিত করুন • গ্রহীতাকে আন্তরিকতা এবং সম্মান এর সাথে স্বাগত জানান। • গ্রহীতা কে সালাম দিন এবং বসতে বলুন। • গ্রহীতার কাছে তার নাম জানতে চান, তার নাম ধরে ডাকুন এবং আপনার পরিচয় দিন। • গ্রহীতার ব্যক্তিগত তথ্য নিশ্চিত করুন (নাম, ঠিকানা ইত্যাদি) • প্রয়োজনে তার বাসায়/বাড়িতে যেতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত করুন। • ভিজিটের সময় গ্রহীতার ব্যক্তিগত সকল তথ্য গোপন রাখা হবে বলে নিশ্চিত করুন। • গ্রহীতার বর্তমানে ভবিষ্যতের প্রজনন লক্ষ্য সম্পর্কে জানুন এবং তিনি কি ধরনের জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি নিতে চান সেটা জানুন। • গ্রহীতার পূর্বের জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানুন এবং পূর্বের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করুন। গ্রহীতার সাথে সেবাদানকারীর যোগাযোগ করার দক্ষতা • গ্রহীতাকে কথা বলতে উৎসাহিত করুন এবং তার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তার সম্মতি গ্রহণ করুন। • শোনা এবং প্রশ্ন করার বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করুন। (খোলা প্রশ্নাবলি) • কথা বলার সময় এবং শোনার সময় গ্রহীতার দিকে তাকান। • সাধারণ ভাষায় কথা বলুন যাতে গ্রহীতা বুঝতে পারে। • আপনি গ্রহীতার সকল কথায় মনোযোগ দিচ্ছেন, শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গের মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করুন। জনন্মবিরতিকরণ তথ্য প্রদান এবং গ্রহীতার পছন্দ নিশ্চিতকরণ। • গ্রহীতা যদি কোন নির্দিষ্ট জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে চান তাহলে সে বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করুন। • গ্রহীতার পছন্দ অনুযায়ী আর কোন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি থাকলে সে বিষয়ে তাকে তথ্য দিন। • গ্রহীতাকে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করুন এবং প্রয়োজন হলে অন্য কোথাও রেফার করুন। • MEC স্ক্রিনিং চেকলিষ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রহীতা চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট পদ্ধতি গ্রহণে উপযুক্ত কিনা তা নিশ্চিত করুন। • সম্ভাব্য পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করুন এবং গ্রহীতা যদি অন্য কোন পদ্ধতি নিতে চান তাহলে তাকে উৎসাহিত করুন। • নির্বাচিত পদ্ধতিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সকল বিষয়/অবস্থা বিবেচনা করে, তিনি যে পদ্ধতি গ্রহণে রাজি হয়েছেন সে বিষয় নিশ্চিত করুন। • প্রয়োজনে গ্রহীতার জন্য সুবিধাজনক অন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নির্বাচনে তাকে সাহায্য করুন। • গ্রহীতার নির্বাচিত পদ্ধতিটি রেকর্ড করুন এবং জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির নির্দিষ্ট চেকলিস্ট অনুসরণ করে পদ্ধতিটি প্রদান করুন। অধ্যায় - ০৩ প্রজননতন্ত্রের গঠন ও কাজ পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় ০৩ প্রজননতন্ত্রের গঠন ও কাজ প্রজনন প্রজনন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে দম্পতি তাদের সন্তান জন্মদান ঘটায়। প্রজননতন্ত্রের মাধ্যমে প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। স্ত্রী এবং পুরুষ প্রজননতন্ত্রের গঠন ও কার্যপ্রণালী সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে তা বোঝার জন্য স্ত্রী ও পুরুষ প্রজননতন্ত্রের গঠন ও কাজ সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। প্রজনন পদ্ধতি দুই ধরনের জননকোষ (Sex cell/ Gamete) প্রজনন পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করে। পুরুষ জননকোষকে শুক্রাণু (Sperm) ও স্ত্রী জননকোষকে ডিম্বাণু (Ovum) বলা হয়। যখন শুক্রাণু ও ডিম্বাণু একসঙ্গে মিলিত হয় তখন তাকে নিষিক্তকরণ (Fertilization) বলে। নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়াটি ডিম্বনালিতে (Fallopian tube) সম্পন্ন হয়। নিষিক্তকরণ এর পর ভ্রূণকোষ (Zygote) তৈরি হয়। এই ভ্রূণকোষ ডিম্বনালির মধ্য দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করে জরায়ুর দেয়ালে (Endometrium) প্রাথিত (Implantation) হয়। সেখান থেকে ধাপে ধাপে ২৭ (Embryo), তারপর ফিটাস (Fetus) তৈরি হয়। পুরুষ প্রজননতন্ত্র পুরুষদেহের যে সকল অঙ্গ প্রজনন প্রক্রিয়ার অংশগ্রহণ করে তাদেরকে একত্রে পুরুষ প্রজননতন্ত্র বলে। পুরুষ প্রজননতন্ত্রের গঠন ক. পুরুষ প্রজননতন্ত্রের বাহিরের অংশ (Male external genital organs) অন্তর্থলি (Scrotum) দুই উরুর মাঝখানে ঝুলে থাকা পাতলা ঢিলে চামড়ার থলি। এটি শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য অন্ডকোষে, অনুকূল তাপমাত্রা বজায় রাখে এবং অন্তকোষকে আমার থেকে রক্ষা করে। পুরুষাঙ্গ (Penis): এটি প্রধানত স্পঞ্জ জাতীয় টিস্যু দ্বারা গঠিত। এতে কোন হাড় নেই, অনেক শিরা এবং ধমনী থাকে। উত্তেজিত হলে এর টিস্যুতে আনেক রক্ত জমে; এটি শক্ত এবং দৃঢ় হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা হয়। পুরুষাঙ্গের তিনটি অংশঃ ক. পেছনের অংশ বা বালব (Bulb) খ. মাঝের অংশ বা বডি (Body) গ. সামনের অংশ বা গ্লান্সপেনিস (Glans penis) খ. পুরুষ প্রজননতন্ত্রের ভেতরের অংশ (Male internal genital organs) অণ্ডকোষ (Testes) অণ্ডথলির ভেতর দু'টি অণ্ডকোষ পাশাপাশি অবস্থান করে। এরা শুক্রাণু উৎপন্ন করে এবং টেস্টোস্টেরন নামক হরমোন তৈরি ও নিঃসরণ করে শুক্রবাহী নালি (Vas deferens) এই নালিগুলো অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু পরিবহন করে। পুরুষ স্থায়ী অপারেশন বা ভ্যাসেকটমি অপারেশনের সময়ে এই নালি দুটির অংশবিশেষ বেঁধে কেটে দেওয়া হয়। বীর্যথলি (Seminal vesicle): এখানে বীর্য জমা থাকে। এই বীর্য তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে গন পিচ্ছিল পদার্থ নিঃসরণ করে এবং এর মধ্যে ফ্রুকটোজ থাকে যা সচল শুক্রাণুর শক্তি প্রদান করে। বীর্যনালি (Ejaculatory duct); এই নালি মূত্রনালির সহিত যুক্ত থাকে এবং বীর্যরস বহন করে। প্রোস্টেট গ্রন্থি (Prostate gland): এটি মূত্রথলির নীচে থাকে এবং এর ভিতর দিয়ে বীর্যনালি চলে যায়। এ গ্রন্থি থেকেও বীর্যরস বের হয়। বীর্য (Semen) যৌনমিলনের সময় পুরুষাঙ্গ হতে যে তরল পদার্থ নিসৃত হয়, তাকে বীর্য বলে। এটি বীর্যঘলি, প্রোস্টেট গ্রন্থি, বাল্বো-ইউরেথ্রাল গ্রন্থি ও অন্ডকোষ নিঃসৃত পদার্থের মিশ্রণে তৈরি হয়। বীর্যের ৯০-৯৫% তরল পদার্থ ও বাকি ৫-৭% শুক্রাণু। প্রতিবার যৌনমিলনে প্রায় ৩-৫ মি. লি, বীর্য স্থালিত হয়। এতে ২০-৩০ কোটি শুক্রাণু থাকে। প্রজননক্ষম পুরুষের বীর্যের কমপক্ষে ৫০% শুক্রাণু স্বাভাবিক গঠনের হতে হয় এবং ৫০% শুক্রাণু সক্রিয়ভাবে নড়াচড়া করতে পারে। শুক্রাণু (Sperm) একটি পূর্ণাঙ্গ সুস্থ স্বাভাবিক শুক্রাণুর তিনটি অংশ থাকে, যেমন: মাথা, মাঝের অংশ এবং লেজ। অণ্ডকোষের নালি থেকে শুক্রাণু এপিডিডাইমিস (Epididymis) নামক জায়গায় আসে। স্ত্রী প্রজননতন্ত্র স্ত্রী দেহের যে সকল অঙ্গ প্রজনন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে তাদেরকে একত্রে স্ত্রী প্রজননতন্ত্র বলে। স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের গঠন ক. স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের বাহিরের অংশ (Female external genital organs) ভালভা মন্স পিউবিস (Mons pubis), ল্যাবিয়া মেজরা (Labia majora), ল্যাবিয়া মাইনরা (Labia minora), ক্লাইটোরিস (Clitoris) ও ভেসটিবিউলের (Vestibule) সমন্বয়ে ভালভা গঠিত। মনস পিউবিস পিউবিস হাভিয়র সামনে, পশম বা লোম দ্বারা আবৃত যে পুরু ত্রিকোণ অংশটি আছে তাকে মনস পিউবিস বলে। ল্যাবিয়া মেজরা (Labia majora) সামনে মনুস পিউবিস থেকে পিছনে পেরিনিয়াম (Perineum) পর্যন্ত ভালভার দুই পাশে যে দু'টি চামড়ার ভাঁজ (Fold) আছে তাকে ল্যাবিয়া মেজরা বলে। ল্যাবিয়া মাইনরা (Labia minora) ল্যাবিয়া মেজরার ভিতর দিকে চর্বিশূন্য পাতলা ঠোঁটের মতো চামড়ার আরও দু'টি ভাঁজ আছে। এই ভাঁজ দু'টিকে ল্যাবিয়া মাইনরা বলে। ল্যাবিয়া মাইনরার ভাঁজগুলো দুইভাগে ভাগ হয়ে ক্লাইটোরিসের সামনে ও পিছনে মিলিত হয়েছে। ল্যাবিয়া মাইনরাতে কোন লোম থাকে না। ক্লাইটোরিস (Clitoris) ভালভার সম্মুখভাগে এটি একটি ছোট লম্বাটে সংবেদার্শীল অংশ। ক্লাইটোরিসের একটি গ্লান্স (Glans), মূল অংশ (Body) ও দুইটি ক্রুরা (Crura) থাকে। ভেসটিবিউল এবং বাথোলিন গ্ল্যান্ড (Vestibule and Bartholin gland) সামনে ক্লাইটোরিস, পিছনে ফোরচেট (Fourchette) ও দুইপাশে ল্যাবিয়া মাইনরা দ্বারা পরিবেষ্টিত ত্রিকোণ অংশটিকে ভেসটিবিউল বলে। ভেসটিবিউলে প্রধান ৪টি ছিদ্র আছে- ১. মূত্রনালির দ্বিদ্র ২. যোনিপথের ছিদ ৩. যোনিপথে পিছনের দিকে দুই পার্শ্বে দুইটি বার্থোলিন ডাক্টের (Bartholin duct) ছিদ্র খ. স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ভিতরের অংশ (Female Internal) genital organs যোনিপথ (Vagina) এই পথটি জরায়ুর অভ্যন্তর ভাগ থেকে শুরু হয়ে ভাল্ভায় শেষ হয়েছে। এই নালিটি মাংসপেশি, তন্ত্র ও পর্দা দিয়ে গঠিত এবং লম্বায় ৭-১০ সে.মি.। যোনিপথের পিছনের দেয়ালটি সামনের দেয়ালের চেয়ে ১.৫-২ সে.মি. বেশি লম্বা। যোনিপথের সামনেই আছে মূত্রথলি ও মূত্রনালি। যোনিপথের পিছনের দেয়াল বৃহদান্ত্রের নিম্নভাগ ও মলাশয়ের সাথে সন্নিহিত থাকে। জরায়ু (Uterus) জরায়ু হচ্ছে পেলভিসের অভ্যন্তরে ফাঁপা ত্রিকোণাকৃতির একটি মাংসল অঙ্গ। এর সামনে থাকে মূত্রথলি ও পিছনে মলাশয়। জরায়ু লম্বায় ৭.৫ সে.মি., চওড়ায় ৫ সে.মি. এবং দেয়াল ১.২৫ সে.মি. পুরু। জরায়ুর প্রধান কাজ মাসিক স্রাব এবং গর্ভধারণ। জরায়ুকে প্রধান ২টি ভাগে ভাগ করা হয় ক. মূল অংশ বা বডি (Body) খ. জরায়ুমুখ (Cervix) ক. মূল অংশ জরায়ুর মূল অংশটি সামনে পিছনে চ্যাপ্টা এবং একটি সরু অংশ (Isthmus) দিয়ে জরায়ুর মুখের সাথে যুক্ত। মূল অংশের উপরের দুইকোণা থেকে দু'টি ডিম্বনালি শুরু হয়েছে। জরায়ু পেরিটোনিয়াম দ্বারা আবৃত, জরায়ুর দেয়াল তিনটি স্তরে বিভক্ত- ১. পেরিমেট্রিয়াম (Perimetrium) জরায়ুর বাইরের স্তরটি পেরিটোনিয়াম দ্বারা আবৃত, একে পেরিমেট্রিয়াম বলে। ২. মায়োমেট্রিয়াম (Myometrium) মধ্যবর্তী স্তরটি শক্তিশালী মাংসপেশী দ্বারা গঠিত। গর্ভাবস্থায় এই জ্বরটি ধীরে ধীরে প্রসারিত হয়। ৩. এন্ডোমেট্রিয়াম (Endometrium) জরায়ুর অভ্যন্তরভাগের স্বরটিকে এন্ডোমেট্রিয়াম বলা হয়। গর্ভাবস্থায় এই ছরটির নাম হয় ভেসিভুয়া (Decidua)। এখানে ভ্রূণ গ্রোথিত (Implantation) হয়। খ. জরায়ুমুখ বা সারভিক্স নলাকার এই অংশটি ২.৫ সে.মি. লম্বা এবং ভিতরের দিকে জরায়ুর সাথে ভিতরের ছিদ্র দ্বারা সংযুক্ত। এটি বাইরে যোনিপথে উন্মুক্ত হয়। সারভিক্স-এর নিচের দিকের মুখ মাসিক স্রাব বের হওয়ার এবং শুক্রাণুর প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। জরায়ুর ভার্সন (Version) এবং ফ্লেক্সন (Flexion) জরায়ু তার অক্ষরেখার সঙ্গে একটু বাঁকাভাবে অবস্থান করে। অক্ষরেখার সাথে জরায়ুর শরীরের সামগ্রিক অবস্থানকে ভার্সন বলা হয়। ভার্সন ২ প্রকার অ্যান্টিভার্সন এবং রেট্রোভার্সন। যদি জরায়ু মুত্রাশয়ের দিকে ঝুঁকে থাকে তাহলে এ অবস্থানকে অ্যান্টিভার্সন বলে। যদি জরায়ু মলাশয়ের দিকে ঝুঁকে থাকে তাহলে একে রেট্রোভার্সন বলে। স্বাভাবিক অবস্থায় বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জরায়ু অ্যান্টিভার্টেড অবস্থায় থাকে। জরায়ুর আর একটি অবস্থানের নাম ফ্রেক্সন। এটি হচ্ছে সারভিক্স-এর সাথে তুলনামূলক অবস্থান। ফ্রেন্দ্রন ২ প্রকার- অ্যান্টিফ্লেক্সন এবং রেট্রোফ্লেক্সন। জরায়ুর বডি যদি সারভিক্সের সাথে মূত্রাশয়ের দিকে বাঁক সৃষ্টি করে বা ঝুঁকে থাকে তাহলে তাকে অ্যান্টিফ্লেক্সন বলা হয়। অন্যদিকে জরায়ুর বডি বা শরীর যদি সারভিক্সের সাথে পিছনে রেট্রোফ্লেক্সন বলা হয়। মলাশয়ের দিকে বাঁক সৃষ্টি করে বা বৃঝুঁকে থাকে তখন একে ডিম্বনালি (Fallopian tube) জরায়ু থেকে লম্বা দুটি ডিম্বনালি দুইদিকে ডিম্বাশয় পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিটি ডিম্বনালি চারটি অংশে বিভক্ত। জরায়ুর দিক থেকে অংশগুলো যথাক্রমে- ইন্টারস্টিশিয়াল, ইসথ্যাস, অ্যাম্পুলা ও ইনফান্ডিবুলাম। ইনফান্ডিবুলাম অংশ হাতের আঙুলের মতো বিভক্ত, একে ফিস্ক্রিয়া বলে। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু আর জরায়ুর গহবর থেকে শুক্রাণু এসে ডিম্বনালিতে মিলিত হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি (Fertilized ovum) ডিম্বনালি থেকে আবার জরায়ু গহ্বরে ফিরে এসে গ্রোথিত হয়। ডিম্বাশয় (Ovary) ডিম্বাশয় তলপেটের জরায়ুর দুই পাশে ডিম্বাকৃতির দু'টি গ্রন্থি। প্রতিটি ডিম্বাশয় লম্বায় ৩ সে.মি., চওড়ায় ২ সে.মি. ও ১ সে. মি. পুরু হয়। ডিম্বাণু (Ovum) ডিম্বাণু হল স্ত্রী জননকোষ যা প্রজনন প্রক্রিয়ার শুক্রাণু দ্বারা নিষিক্ত হয়। ডিম্বাণু ডিম্বাশয়ে তৈরি হয়। স্তন (Breast) সরাসরি প্রজননতন্ত্রের অংশ না হলেও স্তন আনুষঙ্গিক প্রজনন অঙ্গ হিসাবে বিবেচিত হয়। কারণ সন্তান প্রসবের পর এই দু'টি গ্রন্থি থেকেই বুকের দুধ উৎপন্ন হয়। স্তনের গঠন জ্বনের মাঝখানে প্রায় ২.৫ সে.মি ব্যাসার্ধের কালো অংশটির নাম অ্যারিওলা (Areola)। এর মাঝে কালো চামড়া দ্বারা আবৃত ছোট মাংসপিন্ডটিকে নিপল (Nipple) বা স্তনের বোঁটা বলে। দু'টি গুন বুকের দুইপার্শ্বে চর্বি জ্বরের উপর বসানো থাকে। প্রতিটি শুন ১৫/২০ টি প্রকোষ্ঠে বিভক্ত এবং প্রকোষ্ঠের অভ্যন্তরে দুগ্ধনালি গুলো অ্যালভিওলাইতে শেষ হয়। প্রত্যেক প্রকোষ্ঠ থেকে একটি করে দুগ্ধনালি দুধ বহন করে নিয়ে এসে নিপলে উন্মুক্ত হয়। অ্যালভিওলাই ক্ষুদ্রতম প্রকোষ্ঠে দুধ তৈরি হয় এবং অ্যারিওলার পিছানে সাইনাসে জমা থাকে। স্তনের বোঁটা দিয়ে দুধ স্তন থেকে বের হয়ে আসে। স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের কাজ বয়ঃসন্ধিকাল (Puberty) এর আগে মেয়েদের ২টি ডিম্বাশয় নিস্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। বয়ঃসন্ধিকালে ডিম্বাশয় সক্রিয় হয়ে ইস্ট্রোজেন নিগ্রসরণ করে; ফলে নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায় ও মাসিক শুরু হয়। প্রতি মাসে সাধারণত ১টি ডিম্ব পরিপক্কতা লাভ করে। মাসিক ও মাসিক চক্র (Menstruation) একটি নির্দিষ্ট নিয়মে জরায়ুর অভ্যন্তরের স্তরটি প্রতি মাসে ঝরে পড়াকে মাসিক বলা হয়। সাধারণত মাসিক ১১ থেকে ১৪ বৎসর বয়সে শুরু হয় এবং ৪৫ থেকে ৫২ বৎসর বয়সে বন্ধ হয়ে যায়। মাসিক প্রক্রিয়া (Menstrual Process) প্রতিমাসে জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়াম বাড়তে থাকে, ধীরে ধীরে পুরু হয় এবং নিষিক্ত ডিম্বাণু প্রোথিতকরণের জন্য প্রস্তুত হয়। যদি গ্রোথিত হয়, সেক্ষেত্রে নিষিক্ত ডিম্বাণু এই স্তর থেকেই প্রথম কয়েকদিন প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায়। যদি ডিম্বাণু নিষিক্ত বা গ্রোথিত না হয় তবে এই পুরু স্তরটি ভেঙ্গে যেতে শুরু করে। জরায়ুর অভ্যন্তরের স্তরে যে রক্তনালি থাকে সেখান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এই রক্ত ও ভেঙ্গে যাওয়া স্তরের অংশগুলি একত্রে যোনিপথে বের হয়ে আসে। একেই মাসিক বলা হয়। মাসিকের সময়কাল (Menstrual period) যে কয়েকদিন রক্তস্রাব হতে থাকে তাকে মাসিকের সময়কাল বলে। স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিমাসে ৩-৭ দিন রক্তস্রাব হয়। বেশিরভাগ মহিলার সাধারণত ৫ দিন রক্তস্রাব হয়ে থাকে। মাসিক চক্র (Menstrual Cycle) এক মাসিকের শুরুর দিন থেকে পরের মাদের মাসিকের শুরু পর্যন্ত সময়কে একটি মাসিকচক্র বলে। স্বাভাবিক মাসিকচক্রে ২১-৩৫ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। বেশির ভাগ নারীর মাসিক ২৮ দিন বা এক মাস পর পর হয়ে থাকে। অর্থাৎ ২৮ দিনে একটি মাসিকচক্র হয়। প্রতি মাসে যখন মাসিক হয় (মাসিক চক্রের প্রথম ৫ দিন) জরায়ুর অভ্যন্তরের জ্বর ভাঙ্গতে থাকে। ঠিক একই সময়ে FSH হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয়ে কয়েকটি ছোট ডিম্বাণু বড় হতে শুরু করে। এর মধ্যে একটি খুব দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং পরিপক্ক ডিম্বাণুতে পরিণত হয়। এই ডিম্বাণু সাধারণগত মাসিক চক্রের ১৪তম দিনে ডিম্বাশয় থেকে বেরিয়ে আসে: একে ডিম্বস্ফুটন (Ovulation) বলে। ভিৎস্ফুটনে LIH হরমোনের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে গ্রোথিত হলে গর্ভধারণ হয় এবং মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যদি ডিম্বাণু নিষিক্ত না হয় অথবা গ্রোথিত না হয় তবে জরায়ুর অভ্যন্তরের স্বরটি ভাঙ্গতে শুরু করে। ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণু বের হয়ে আসলে সেখানে সাময়িক একটি গ্রন্থির মতো তৈরি হয়, তাকে কর্পাস লুটিয়াম বলে। এই গ্রন্থি থেকে প্রজেস্টেরন হরমোন নিঃসৃত হয়। গর্ভধারণ না হলে নির্দিষ্ট নিয়মে আবারো নতুন ডিম্বাণু পরিপক্ক হতে শুরু কার এবং নতুন চক্রের শুরু হয়। মাসিক চক্র (Menstrual Cycle) দিন-১ মাসিক শুরু হয় দিন-৫ সাধারণত মাসিক শেষ হয় দিন-১৪ ডিম্বাণু পরিপক্ক হয় এবং ডিম্বাশয় থেকে ফেটে বের হয়ে আসে। ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ডিম্বাণু জীবিত থাকে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত হলে গর্ভধারণ হয়। দিন-২২ শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলিত না হলে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন কমে যায় এবং জরায়ু পরবর্তী মাসিকচক্রের জন্য প্রস্তুতি শুরু করে। দিন-২৮ সাধারণত মাসিক চক্রের শেষ দিন মাসিক স্রাবের পরিমাণ ও রং স্বাভাবিক মাসিকের সময়ে স্বাভাবিক রক্তপাতের পরিমাণ প্রায় ৭০-৮০ মি.লি.। স্বাভাবিক মাসিকের সময়ে দিনে প্রায় ৫/৬ বার স্যানিটারি প্যাড/কাপড় পাল্টাতে হয়। একেক মহিলার ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব একেক রকম হতে পারে। কারো স্রাব অল্প সময় যেমন। ২ দিন হতে পারে; আবার কারো ৭ দিন পর্যন্ত চলতে পারে। ঋতুস্রাব বেশি বা কম হতে পারে। স্বাভাবিক ঋতুস্রাবের রঙ নানা রকম হতে পারে। যেমন: টাটকা লাল, কালচে, বাদামী, পানির মত, দানাদানা বা ছোট ছোট জমাটবাঁধা রক্তের আকারে। স্বাভাবিক মাসিকের ব্যবস্থাপনা মাসিকের রক্ত ধারণ করার জন্য যে কাপড়/প্যাড ব্যবহার করা হয় তা অবশ্যই পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে ব্যাকটেরিয়া সহজেই যোনিপথ, জরায়ু এমনকি তলপেটে সংক্রমণ করতে পারে। যদি কাপড় ব্যবহার করে তবে কাপড় সাবান এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। ফেলে দেওয়া যায় এমন প্যাড/তুলা ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে তা নিরাপদ ভাবে ফেলতে হবে বা পুঁতে ফেলতে হবে। ডিম্বস্ফুটন (Ovulation) ডিম্বাশয়ে অবস্থিত ডিম্বাণু পরিপঞ্জ হলে ডিম্বাশয় ভেদ করে বেরিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়াটিকে ডিম্বফুটন বলে। মেয়েরা সাধারণত বয়ঃপ্রাপ্তি (Menarche) হলে প্রতি মাসিকচক্রে একটি করে ডিম্বস্ফুটন হয় এবং এই প্রক্রিয়া রজঃনিবৃত্তির (Menopause) পূর্ব পর্যন্ত চলতে থাকে। নিষিক্তকরণ (Fertilization) ও গর্ভধারণ (Conception) এই পদ্ধতিতে পুরুষের শুক্রাণু ও মেয়েদের ডিম্বাণু মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে। নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়াটি ডিম্বনালির ভিতরে ঘটে। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে এবং ডিম্বনালি থেকে জরায়ুর গহবরে আসে। সাধারণত নিষিক্তকরণের ষষ্ঠ দিনে জরায়ুতে গ্রোথিতকরণ শুরু হয় এবং ১০ থেকে ১১ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণুটি জরায়ুতে গ্রোথিত হলে তাকে গর্ভধারণ বলে। সন্তান ছেলে বা মেয়ে হওয়ার প্রক্রিয়া একজন সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে তা পিতার ক্রোমোজোমের (কোষের অভ্যন্তরের অতি ক্ষুদ্র অংশ যা প্রতিটি কোষ তথা পুরো মানব দেহের আকার আকৃতি ও কার্যবিধি নিয়ন্ত্রণ করে) উপর নির্ভর করে। একজন সুস্থ মানুষের ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে। ৪৪টি অটোজম এবং ২টি সেক্স ক্রোমোজোম xy। একজন সুস্থ পুরুষের ক্রোমোজোম ৪৪, xy এবং একজন সুস্থ নারীর ক্রোমোজোম ৪৪, XX। যখন ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু পরিপক্ক হয়ে নিষিক্তকরণের জন্য প্রস্তুত হয় তখন প্রতিটি ডিম্বাণু ও শুক্রাণুতে এই ক্রোমোজোমের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায় এবং নিষিক্তকরণের পর আবার পূর্ণসংখ্যা প্রাপ্ত হয় অর্থাৎ একজন মানব শিশুর শরীরে অর্ধেক ক্রোমোজোম আসে মায়ের কাছ থেকে আর অর্ধেক আসে বাবার কাছ থেকে। যাতে উভয় বংশের ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়। এখন যদি ২২% শুক্রাণুর সাথে ২২৪ ডিম্বাণুর মিলন হয় (২২x + 22x = ৪৪ xx) তবে সন্তানটি হবে মেয়ে। আর যদি ২২৮ শুক্রাণুর সাথে ২২x ডিম্বাণুর মিলন হয় (২২৮ + ২২x = ৪৪ xy) তবে সন্তানটি হবে ছেলে। যেহেতু বাবার শুক্রাণুতে x অথবা y ক্রোমোজম থাকে কাজেই সন্তান ছেলে বা মেয়ে হবে তা নির্ভর করে বাবার ক্রোমোজোমের উপর। অধ্যায় - ০৪ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ০৪ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি বাংলাদেশে মিত্র খাবার বড়ি সর্বাধিক ব্যবহৃত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি। পঞ্চাশের দশকে প্রজেস্টিন (এক ধরনের সিনথেটিক প্রজেস্টজেন) ব্যবহার করে ডিম্বভূটন রোধ করার ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। রজ, পিনকাস, গারসিয়াম প্রমুখ বিজ্ঞানীরা গবেষণার ফলাফল দিয়ে প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে প্রজেস্টিন দিয়ে নিয়মিত ভাবে যতদিন খুশি ডিম্বস্ফুটন বন্ধ রাখা যায়। প্রজেস্টিন নরইথিনড্রেল এবং ইস্ট্রোজেন মেট্রানল-এর মিশ্রণ দ্বারা তৈরি জনন্মবিরতিকরণ বড়ির উপর সানজুয়ান পোর্টোরিকোতে পরবর্তীকালে (১৯৫৫) আরও ব্যাপক সমীক্ষা শুরু হয়। এ সকল গবেষণার সাফল্য নানা স্থানে আরও গবেষককে এ বিষয়ে গবেষণা করতে উৎসাহিত করে। বিভিন্ন গবেষণার অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে জনন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি। প্রকারভেদ ক. বর্তমানে মিশ্র প্রচলিত খাবার বড়ির উপাদান হলো ইস্ট্রোজেন হরমোন ও প্রজেস্টিন। মূলত ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে খাবার বড়ির প্রকার নির্ণয় করু হয়। খ. এছাড়া শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ আপন ও কার্যকর জন্মবিরতিকরণ বড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের খাবার বড়ির তালিকা সরকারি কমসূচিতে ব্যবহৃত নাম ধরণ সক্রিয় উপাদান বড়ির সংখ্যা সুখী স্বল্পমাত্রার ইস্ট্রোজেন লেভোনরজেস্ট্রিল ০.১৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩ মিলিগ্রাম ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ আপন শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ নরজেস্ট্রিল ০.০৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ বেসরকারিভাবে অন্যান্য ঔষধ কোম্পানি কর্তৃক বাজারজাতকৃত নাম ধরন সক্রিয় উপাদান বড়ির সংখ্যা মারভেলন স্বল্পমাত্রা ডেসোজেস্ট্রেল ০.১৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩ মিলিগ্রাম ২১ ডেসোলন স্বল্পমাত্রা ডেসোজেস্ট্রেল ০.১৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩ মিলিগ্রাম ২১ মাইপিল স্বল্পমাত্রা ডেসোজেস্ট্রেল ০.১৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩ মিলিগ্রাম ২১ রোজেন ২৮ স্বল্পমাত্রা ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩মিলিগ্রাম ড্রসপিরেনোন ৩ মিলিগ্রাম ২৮ নোভেলন স্বল্পমাত্রা ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল গায়ান ৩৫০.০৩ মিলিগ্রাম ২১ গায়ান ৩৫ স্বল্পমাত্রা সিপ্রোটেরন অ্যাসিটেট ২ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩৫ মিলিগ্রাম ২১ মিনিকন শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ নরজেস্ট্রিল ০.০৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ ব্রেডিকন শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ ডেসোজেস্ট্রেল ০.০৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ পপ-ডি শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ ডেসোজেস্ট্রেল ০.০৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ ফেমিকন স্বল্পমাত্রার ইস্ট্রোজেন নরজেস্ট্রিল ০.১৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩ মিলিগ্রাম ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ নরেট-২৮ স্বল্পমাত্রা লেভোনরজেস্ট্রিল ০.১৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩ মিলিগ্রাম ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ ফেমিপিল স্বল্পমাত্রা লেভোনরজেস্ট্রিল ০.১৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩ মিলিগ্রাম ফেরাস ফিউমারেট ৭৫ মিলিগ্রাম ২৮ ওভাকন গোল্ড স্বল্পমাত্রা লাইনেসট্রেনল ০.৭৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩৭৫ মিলিগ্রাম ২২ ওভস্ট্যাট গোল্ড স্বল্পমাত্রা লাইনেসট্রেনল ০.৭৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩৭৫ মিলিগ্রাম ২২ রেগুমেন স্বল্পমাত্রা লাইনেসট্রেনল ০.৭৫ মিলিগ্রাম ইথিনাইল ইস্ট্রাডিয়ল ০.০৩৭৫ মিলিগ্রাম ২১ ক. মিশ্র যাবার বড়ির কার্যকারিতা • মিশ্র বড়ি সঠিকভাবে গ্রহণ করলে শতকরা প্রায় ৯৯.৯ ভাগ কার্যকর • খাবার বড়ির কার্যকারিতা মূলত নির্ভর করে নিয়মিত এবং সঠিকভাবে গ্রহণ করার উপর। হঠাৎ করে বড়ি খাওয়া বন্ধ করে দিলে বা পরিবর্তে অন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহার না করে কিংবা কোন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিয়েই সহবাস করলে গর্ভসঞ্চার হতে পারে মিশ্র খাবার বড়ি কীভাবে কাজ করে • জরায়ুর মুখের/সারভিক্সের শ্লেথাকে ঘন করে শুক্রাণুকে জরায়ুতে প্রবেশে বাধা দেয়। • ডিম্বস্ফুটনে বাধা দেয়। স্বাভাবিক মাসিক চক্রের মাঝামাঝি সময়ে লিউটিনাইজিং হরমোন (LH) হঠাৎ করে বেড়ে যাবার ফলে ডিম্বস্ফুটন হয়। খাবার বড়ি লিউটিনাইজিং হরমোনের (LH) এই হঠাৎ বেড়ে যাওয়াকে প্রতিহত করে ডিম্বস্ফুটন হতে দেয় না • ডিম্বনালির স্বাভাবিক নড়াচড়ার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে শুক্রাণুর গতিও কমে যায় বলে ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লেগে যায় এবং শুক্রাণুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে বা মারা যায় • জরায়ুর ভিতরের ঝিল্লির বৃদ্ধি রোধ করে। ফলে নিষিক্ত ডিম্বাণুর (যদি নিষিক্ত হয়) জরায়ুতে গ্রোথিত হবার মত কোন পরিবেশ পায় না এবং গ্রোথিত হতে পারে না মিশ্র খাবার বড়ি যাদের জন্য উপযুক্ত বাছাইকরণ চেকলিস্টে উত্তীর্ণ প্রজননক্ষম সকল বয়সী বিবাহিত নারী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে মিশ্র খাবার বড়ি ব্যবহার করতে পারেন। মিশ্রখাবার বড়ির সুবিধা • সঠিকভাবে বড়ি খেলে এটি অত্যন্ত কার্যকর • এটি একটি অস্থায়ী পদ্ধতি। যে কোনো সময় বড়ি ছেড়ে দিয়ে অন্য কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করা যায় অথবা গর্ভধারণ করা যায় • জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। অন্যান্য স্বাস্থ্য সুবিধা • জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের (Ectopic pregnancy) ঝুঁকি কমায় • মাসিকের সময় জরায়ুর মোচড়ানো ব্যথা কমায় • মাসিক স্রাবের সময়কাল ও পরিমাণ কমায় এবং রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে • মাসিক চক্রকে নিয়মিত করে • এন্ডোমেট্রিওসিস নামক ব্যাধির প্রকোপ কমায় এবং এর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় • মাসিক পূর্ববর্তী উপসর্গ (PMS Premenstrual Symptoms), যেমন শরীর ব্যথা, ম্যাজম্যাজ ভাব, মাথা ব্যথা, মন খারাপ হওয়া, শরীরে পানির আধিক্য ইত্যাদি কমায় • ডিম্বাশয়ের সিস্ট ও ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমায় • স্তনের ব্যাধির আশঙ্কা কমায় • অবাঞ্ছিত লোম ওঠা কমায় • গনোরিয়াজনিত পিআইডির মাত্রা হ্রাস করে • Dysfunctional Uterine Bleeding (DUB)-এর অবস্থার উন্নতি করে মিশ্র খাবার বড়ির অসুবিধা • প্রতিদিন খেতে হয় • বুকের দুধ কমে যেতে পারে • মাসিক স্রাব বন্ধ থাকতে পারে (Post pill amenorrhoea) • যোনিপথের পিচ্ছিলতা কমে যেতে পারে • বিমর্ষতা দেখা দিতে পারে • মিশ্র খাবার বড়ি ব্যবহারের প্রথম দিকে (বিশেষত ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে) ছোটখাট পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন- - স্তন স্পর্শের সময় ব্যথার অনুভূতি (Tenderness) - দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব - বমি বমি ভাব - মাথা ধরা - মুখে ব্রণ - ওজন পরিবর্তন (বৃদ্ধি/হাস) • যৌনরোগ (HIV/AIDS, RTI/STI) প্রতিরোধ করে না স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক উপযুক্ততা/অনুপযুক্ততা নিম্নে বর্ণিত কারণ গুলো ছাড়া সকল সক্ষম মহিলাকে স্বল্প মাত্রার মিশ্র খাবার বড়ি দেওয়া যাবে। যে সকল অবস্থায় স্বল্প মাত্রার মিশ্র খাবার বড়ি দেওয়া যাবে না। • বর্তমানে অবিবাহিত/বিধবা/তালাকপ্রাপ্ত/স্বামী থেকে পৃথক • মহিলা যদি গর্ভবতী হন • প্রসব পরবর্তী সময়ে যে সব মহিলা শিশুকে বুকের দুধ পান করান- প্রসব পরবর্তী সময় হতে < ৬ মাস • প্রসব পরবর্তী সময়ে যে সব মহিলা শিশুকে বুকের দুধ পান করান না- প্রসবের ৩ সপ্তাহের মধ্যে (< ৩ সপ্তাহ) • বয়স ৩৫ বছর ও তদূর্ধ্বে (২ ৩৫)-ধূমপান: সিগারেট, বিড়ি, তামাক, সেবন বা তামাক জাতীয় দ্রব্যাদি সেবন (যেমন- তামাক পাতা, গুল, জর্দা ইত্যাদি) • হৃৎপিণ্ড ও রক্ত সংবহননালির রোগ-ব্যাধির একাধিক ঝুঁকি বিদ্যমান (যেমন: বেশি বয়স, ধূমপান, তামাকপাতা/জর্দা সেবন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রায় চর্বি ইত্যাদি) • উচ্চ রক্তচাপ- - সিস্টলিক ৯১৬০ মি. মি. পারদ, ডায়াস্টলিক ≥ ১০০ মি. মি. পারদ - সিস্টলিক ১৪০-১৫৯ মি. মি. পারদ, ডায়াস্টলিক ≥ ৯০-৯৯ মি. মি. পারদ (চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে) - উচ্চ রক্তচাপ যথাযথ ভাবে নিয়ন্ত্রিত (চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে) - উচ্চ রক্তচাপ এর ইতিহাস আছে (গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ সহ) কিন্তু রক্তচাপ মাপা সম্ভব নয় এমন পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনায়। • রক্তবহন নালির ব্যাধি বিদ্যমান • পূর্বে পায়ের শিরা ফোলা বা ব্যথা/পালমোনারি এ্যাম্বোলিজম (DVT/PE) এ আক্রান্ত হয়েছিল • বর্তমানে পায়ের শিরা ফোলা বা ব্যথা/পালমোনারি এ্যাম্বোলিজম আছে • দীর্ঘদিনের জন্য হাঁটা-চলা বন্ধ থাকবে এমন কোন পরিস্থিতিতে (কোন দূর্ঘটনা বা রোগ বা বড় ধরনের অপারেশনের পর যদি দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে থাকতে হয়।) • বর্তমানে ইসকেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত বা পূর্বে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। • পূর্বে কোন সময়ে স্ট্রোক হয়ে থাকলে • রক্তে উচ্চ মাত্রার চর্বি (লিপিড/ কোলেস্টেরল) বিদ্যমান • হৃৎপিণ্ডের ভালভের রোগ (জটিলতাসহ) • মাইগ্রেন: পূর্বাভাস (Aura) সহ • স্তনের ক্যান্সার: বর্তমানে আছে বা পূর্বে ছিল • পিত্তরসের নির্গমনে প্রতিবন্ধকতা বা জমাট বাঁধার (Cholestasis) ইতিহাস • ভাইরাস জনিত লিভারের প্রদাহ- বর্তমানে সক্রিয় আছে (Acute or flare) • লিভারের অন্যান্য রোগ- মারাত্মক সিরোসিস, লিভারের টিউমার, ক্যান্সার • ঔষধের সাথে মিথস্ক্রিয়া- ক. রিফামপিসিন, রিপাবোটিন। খ. খিঁচুনির ঔষধ- যেমন ফেনাইটয়েন, কার্বামাজেপাইন, বারবিচুরেটস, প্রাইমিডোন, টপিরামেট, অক্সিকার্বাজেপাইন বি.দ্র: সকল সেবা প্রদানকারী গ্রহীতার উপযুক্ততা যাচাই এর ক্ষেত্রে ডিসেম্বর ২০১৬ তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর হতে মুদ্রিত MEC এর হুইল ব্যবহার করবেন। মিশ্র খাবার বড়ি (সুখী) প্রথম শুরু করার নিয়ম ১. মাসিকের প্রথম দিন থেকে ডিম্বস্ফুটন সঠিকভাবে প্রতিরোধ করার জন্য মাসিকের প্রথম দিন থেকেই খাবার বড়ি গ্রহণ করা উচিত। যদি মাসিক শুরু হতে কোনো কারণে দেরি হয় অথবা অন্যান্য অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকে তবে খাবার বড়ি গ্রহণ শুরু করার আগে গ্রহীতা গর্ভবতী কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। ২. যে কোনো দিন থেকে নারী যদি নিশ্চিত হন যে তিনি গর্ভবর্তী নন, তবে প্রয়োজনে যে কোনো দিন থেকে মিশ্র খাবার বড়ি খাওয়া শুরু করতে পারেন। তবে ঐ দিন থেকেই পরবর্তী ৭ দিন তাকে কনডম ব্যবহার করতে হবে। এভাবে বড়ি খেতে শুরু করলে পরবর্তী মাসিকের সময় পিছিয়ে যাবে (যতদিন না বড়ি শেষ হয়)। ৩. প্রসব পরবর্তী সময়ে মিশ্র খাবার বড়ি প্রসব পরবর্তী মা যদি শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ান সেক্ষেত্রে ছয় মাসের আগে মিশ্র খাওয়ার বড়ি খাওয়া যাবে না। কিন্তু প্রসব পরবর্তী সময়ে মা যদি শুধুমাত্র বুকের দুধ পান না করান, সেক্ষেত্রে ২১ দিনের উপরে হলে মিশ্র খাবার বড়ি ব্যবহার করা যাবে। মিশ্র খাবার বড়ি (সুখী) ব্যবহারবিধি বাংলাদেশে প্রায় সকল মিশ্র খাবার বড়ির প্যাকেটে ২১টি সাদা বড়ি (যার প্রধান উপাদান হরমোন) এবং ৭টি খয়েরি বড়ি (আয়রন বড়ি) থাকে। কোন কোন প্যাকেটে বা পাতায় শুধুমাত্র ২১টি বা ২২টি বড়ি থাকে। • গ্রহীতাকে সেবাদানকারীর কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী মিশ্র বড়ি সরবরাহ করতে হবে। গ্রহীতাকে বড়ির একটি প্যাকেট নমুনা হিসাবে দেখিয়ে নির্দেশগুলো বুঝিয়ে দিতে হবে • প্রথমবার খাওয়ার বড়ি শুরু করার সময় মাসিকের প্রথম দিন। অর্থাৎ মাসিকের প্রথম দিন হতে সাদা বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। তবে মাসিক শুরুর প্রথম দিন হতে ৫ম দিন পর্যন্ত যে কোন দিন থেকেও শুরু করা যাবে • যিনি গর্ভপাত বা এমআর করেছেন বা যার গর্ভপাত হয়েছে, তিনি যদি খাবার বড়ি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসাবে পছন্দ করেন, তবে গর্ভপাত/এমআর করার দিন থেকেই বা পরবর্তী ৫ম দিনের মধ্যে বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে • গ্রহীতা অন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহার করতে থাকলে গর্ভবর্তী নন নিশ্চিত হয়ে মাসিক চক্রের যে কোন সময় বড়ি খাওয়া শুরু করতে পারেন • সবসময় প্রথম বড়ি দিয়ে শুরু করতে হবে। বড়ির পাতার দিক নির্দেশনা (তীর চিহ্ন বা আঙ্গুল) অনুসরণ করে প্রথম বড়ি হতে ২১ দিনে ২১টি সাদা বড়ি খেতে হবে • সাদা বড়ি শেষ হয়ে যাবার পর একইভাবে প্রতিদিন একটি করে ৭ দিনে ৭টি খয়েরি বড়ি খেতে হবে। খয়েরি বড়ি খাওয়াকালীন সাধারণত মাসিক শুরু হয়। মাসিক আরম্ভ হলেও খয়েরি বড়ি খাওয়া বন্ধ করা যাবে না • মাসিক হোক বা না হোক ৭টি খয়েরি বড়ি শেষ হওয়ার পরদিন থেকেই উপরের নিয়ম অনুযায়ী নতুন একটি পাতা থেকে আবার সাদা বড়ি খাওয়াশুরু করতে হবে • খাবার বড়ি পানি দিয়ে গিলে খেতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে বড়ি খাওয়া অভ্যাস করা ভাল। বড়ি খাওয়ার সবচেয়ে ভাল সময় হলো রাতে খাবার পরে বা শোবার আগে • যে সব প্যাকেটে ২১টি বা ২২টি বড়ি থাকে সেক্ষেত্রে ২১টি বড়ি শেষ হয়ে গেলে মাসিকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। মাসিক শুরু হলে মাসিকের ১ম দিন থেকে আবার নতুন প্যাকেটের বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। যদি মাসিক না হয় এবং গ্রহীতা নিশ্চিত থাকেন যে কোন বড়ি খেতে ভুল হয়নি তবে শেষ বড়ি খাবার ৭ দিন পরে আবার বড়ি খেতে শুরু করবেন। মিশ্র খাবার বড়ি খেতে ভুলে গেলে করণীয় ১. যদি একদিন বা দুই দিন বড়ি খেতে ভুলে যান তাহলে যখনই মনে পড়বে তখনই একটি বড়ি খাবেন এবং ঐ দিনের বড়িটিসহ পাতার অন্য বড়িগুলি যথাসময়ে খাবেন ২. যদি মাসিকের প্রথম এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে পর পর ৩ দিন বড়ি খেতে ভুলে যান তবে মনে পড়ার সাথে সাথে একটা বড়ি খাবেন এবং ঐদিনের বড়ি নির্দিষ্ট সময় খাবেন। বড়ির পাতার বাকি বড়িগুলো নিয়মিত শেষ করবেন। পরবর্তী সাতদিন তার স্বামী কনডম ব্যবহার করবেন অথবা স্বামীর সাথে সহবাস থেকে বিরত থাকবেন। প্রয়োজনে ইসিপি ব্যবহার করবেন, যদি ৫ দিনের মধ্যে সহবাস করেন। ৩. যদি মাসিকের তৃতীয় সপ্তাহে পর পর ৩ দিন বড়ি খেতে ভুলে যান তবে মনে পড়ার সাথে সাথে একটা বড়ি খাবেন এবং ঐদিনের বড়ি নির্দিষ্ট সময় খাবেন। বড়ির পাতার সাদা বড়িগুলো নিয়মিত শেষ করবেন। পরের দিন থেকে নতুন পাতার বড়ি শুরু করবেন। পরবর্তী সাতদিন তার স্বামী কনডম ব্যবহার করবেন অথবা স্বামীর সাথে সহবাস থেকে বিরত থাকবেন। প্রয়োজনে ইসিপি ব্যবহার করবেন যদি ৫ দিনের মধ্যে সহবাস করেন। মনে রাখতে হবে স্বামী সাময়িকভাবে বাড়িতে না থাকলেও বড়ি খাওয়া বাদ দেয়া যাবে না। খ. শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি (Progestin Only Pill - POP) পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ মিশ্র খাবার বড়ি (সুখী) প্রচলিত আছে। কার্যকারিতা অক্ষুন্ন রেখে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমিয়ে প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি হিসেবে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি "আপন" নামে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে এসেছে। শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি/ 'আপন' বড়ি কী? শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি মহিলাদের জন্য একটি কার্যকর অস্থায়ী ও স্বল্পমেয়াদি খাবার বড়ি। এই বড়িতে ০.০৭৫ মিলিগ্রাম নরজেস্ট্রিল থাকে। এক পাতায় ২৮টি বড়ি থাকে। একটি করে বড়ি প্রতিদিন একই সময়ে খেতে হয়। যেসকল মা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন তাদের জন্য বড়িটি উপযুক্ত। সন্তান প্রসবের পরপরই (৪৮ ঘণ্টার মধ্যে) বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে এবং সন্তানের বয়স ৬ মাস পর্যন্ত বড়ি খেতে পারবেন। তাছাড়া যে সকল মহিলার ইস্ট্রোজেন খেলে সমস্যা হয় তারাও এই বড়ি খেতে পারেন। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে বড়িটি 'আপন' নামে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি কীভাবে কাজ করে • জরায়ুর মুখের শ্রেষ্মাকে ঘন করে শুক্রাণুকে জরায়ুতে প্রবেশে বাধা দেয়। • ডিম্বস্ফুটনে বাধা দেয় • জরায়ুর ভেতরের ঝিল্লির বৃদ্ধি রোধ করে, ফলে নিষিক্ত ডিম্ব জরায়ুতে গ্রোথিত হতে পারে না কার্যকারিতা শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি সঠিক নিয়মে খেলে ৯৭%-৯৮% পর্যন্ত কার্যকর। শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি যাদের জন্য উপযুক্ত নিম্নে বর্ণিত কারণ গুলো ছাড়া সকল সক্ষম মহিলাকে প্রজেস্টিন সমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ ঔষধ দেওয়া যাবে। যে সকল অবস্থায় প্রজেস্টিন সমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ ঔষধ দেওয়া যাবে না। • বর্তমানে অবিবাহিত/বিধবা/তালাকপ্রাপ্ত/স্বামী থেকে পৃথক • মহিলা যদি গর্ভবতী হন • স্তনের ক্যান্সার: বর্তমানে আছে বা পূর্বে ছিল • বর্তমানে পায়ের শিরা ফোলা বা ব্যথা/পালমোনারি এ্যাম্বোলিজম আছে • লিভারের রোগ- মারাত্মক সিরোসিস, লিভারের টিউমার, ক্যান্সার • ঔষধের সাথে মিথস্ক্রিয়া: ক. রিফামপিসিন, রিপাবোটিন খ. খিচুনির ঔষধ-যেমন ফেনাইটয়েন, কার্বামাজেপাইন, বারবিচুরেটস, প্রাইমিডোন, টপিরামেট, অক্সিকার্বাজেপাইন বি.দ্র: সকল সেবা প্রদানকারী গ্রহীতার উপযুক্ততা যাচাই এর ক্ষেত্রে ডিসেম্বর ২০১৬ তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর হতে মুদ্রিত MEC এর হুইল ব্যবহার করবেন। গ্রহীতাকে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি প্রদানের পূর্বে সেবাপ্রদানকারীর করণীয় শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি প্রদানের পূর্বে গ্রহীতার সাথে আলোচনা করা অত্যাবশ্যক। আলোচনার সময় অন্যান্য সকল পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে গ্রহীতাকে অবহিত করতে হবে যাতে গ্রহীতা তার পছন্দমত জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। গ্রহীতাকে খাবার বড়ি সম্বন্ধে প্রচলিত গুজব ও প্রকৃত তথ্য সম্পর্কে জানাতে হবে। এছাড়াও গ্রহীতাকে এ পদ্ধতি গ্রহণের সময়, সুবিধা, অসুবিধা, কারা এই পদ্ধতি ব্যবহারের উপযোগী এবং পুনর্গর্ভধারণের ক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা বিষয়েও তাকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে। গ্রহীতা শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে সেবাপ্রদানকারীকে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি সম্পর্কে নিম্নলিখিত ধারণাগুলো সঠিকভাবে প্রদান করবেন- • এই পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে। • সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও তার সমাধান • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বড়ি খাওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব • কোন অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সেবাদানকারীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে • বড়ি খাওয়া ভুলে গেলে করণীয় • ছয় মাস পরে পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় বার্তা দেয়া শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি শুরু করার উপযুক্ত সময় সন্তান প্রসবের পরপরই (৪৮ ঘণ্টার মধ্যে) বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি খাওয়ার নিয়ম • সন্তান প্রসবের পরপরই (৪৮ ঘণ্টার মধ্যে) বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে এবং ৬ মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে। • প্রতিদিন একই সময়ে ভরা পেটে একটি করে বড়ি খেতে হবে • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বড়িটি সেবন করতে হবে এবং বড়ি খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি বিলম্ব করা যাবে না। কারণ এতে বড়ির কার্যকারিতা কমে যায় • একটি পাতায় ২৮টি হরমোনযুক্ত বড়ি থাকে, সবগুলো বড়ি খাওয়া শেষ হয়ে গেলে পরদিনই নতুন একটি পাতা থেকে বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে। দুই পাতার মাঝে কোন বিরতি দেয়া যাবে না। মনে রাখতে হবে বড়ি খাওয়াকালীন সময়ে কোন মাসিক হবে না। • মাসিক শুরু হোক বা না হোক গর্ভবতী নন নিশ্চিত হলে মাসিক চক্রের যে কোন দিন বড়ি শুরু করা যাবে, এ ক্ষেত্রে প্রথম ৭ দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে অথবা সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে • অন্যান্য জনন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি বন্ধ করার সাথে সাথে গ্রহীতাকে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি দেয়া যেতে পারে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি খেতে ভুলে গেলে করণীয় • বড়ি খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় থেকে তিন ঘন্টার মধ্যে মনে পড়ার সাথে সাথে ভুলে যাওয়া বড়িটি খেতে হবে এবং পরবর্তী বড়িগুলো নির্দিষ্ট সময়ে পেতে হবে • বড়ি খাওয়ার নির্দিষ্ট সময় থেকে তিন ঘণ্টা বিলম্বের ক্ষেত্রে মনে পড়ার সাথে সাথে ভুলে যাওয়া বড়িটি খেতে হবে এবং ঐ দিনের বড়িটি যথাসময়ে খেতে হবে। সহবাসের ক্ষেত্রে পরবর্তী দুইদিন কনডম ব্যবহার করতে হবে অথবা সহবাস থেকে বিরত থাকৃতে হবে। শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়ের মাসিক শুরু না হলে দুইদিন কনডম ব্যবহার করা লাগবে না মনে রাখতে হবে • প্রতিদিন একই সময়ে একটি করে বড়ি খেতে হবে। নির্দিষ্ট সময় থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে খেতে হবে, তা না হলে বড়ির কার্যকারিতা কমে যাবে • কোনো কারণে স্বামী সাময়িকভাবে বাড়িতে না থাকলেও বড়ি খাওয়া বাদ দেয়া যাবে না পদ্ধতি পরিবর্তন • শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি ব্যবহারকারীগণকে প্রসবের ৬ মাস পূর্ণ হলে পদ্ধতি পরিবর্তন করতে হবে • শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি পাতার শেষ বড়ি খাওয়া হলে পরদিন থেকে মিশ্র খাবার বড়ি, ইনজেকশন, ইমপ্ল্যান্ট অথবা কপার-টি পদ্ধতি শুরু করতে পারেন, তবে পরবর্তী ৭দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে অথবা সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে • শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি গ্রহণকালীন সময়ে অথবা আপন শেষ হওয়ার সাথে সাথে কনডম বা পুরুষ স্থায়ী পদ্ধতি বা মহিলা স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি গ্রহণের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ সুবিধা • সহজলভ্য, নিরাপদ ও কার্যকর • স্বল্পমাত্রা, অস্থায়ী ও স্বল্পমেয়াদি • মায়ের বুকের দুধের পরিমাণগত ও গুণগত মান পরিবর্তন হয় না • সহবাসে বাধা সৃষ্টি করে না • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম • ইস্ট্রোজেনসমৃদ্ধ বড়ি খেলে যাদের সমস্যা হয় তারা এই বড়ি খেতে পারেন • যে কোন বয়সী মহিলা এমনকি ৩৫ বছরের উর্দ্ধে এবং ধূমপায়ী/তামাক জাতীয় দ্রব্য সেবনকারী এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন • মাসিক পূর্ববর্তী উপসর্গ যেমন- শরীর ব্যথা, ম্যাজম্যাজে ভাব, মাথাব্যথা, মন খারাপ হওয়া, শরীরে পানির আধিকা ইত্যাদি কমায় অসুবিধা • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হয় • ফোঁটা ফোঁটা বা অনিয়মিত রক্তস্রাব অথবা মাসিক বন্ধ থাকতে পারে • যৌনরোগ প্রতিরোধ করে না • যক্ষ্মারোগের ঔষধ, যেমন রিফামপিসিন, মৃগীরোগের ঔষধ যেমন ফেনোবারবিটন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপাইন ইত্যাদি বড়ির কার্যকারিতা কমায় অন্যান্য পদ্ধতি থেকে খাবার বড়িতে পরিবর্তন (Switching) করার পদ্ধতি • সঠিক নিয়মে অন্য যে কোন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে থাকলে তিনি যে কোন সময়ে খাবার বড়ি শুরু করতে পারেন। যেমন- ইমপ্ল্যান্ট বা আইইউডি খুলে ফেললে সেই দিন থেকেই খাবার বড়ি শুরু করবেন। তবে পরবর্তী ৭ দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে বা সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে • ইনজেকশন ব্যবহারকারীগণ ডিউ ডোজ-এর সময়সীমার মধ্যে খাবার বড়ি শুরু করেতে পারবেন। যদি একজন মহিলার ইনজেকশনের কারণে মাসিক বন্ধ থাকে এবং পরবর্তী ডোজ নিতে দেরি হয়ে থাকে, তবে গ্রহীতা খাবার বড়ি শুরু করতে পারেন; তবে পরবর্তী ৭ দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে বা সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। মিশ্র খাবার বড়ির পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ও জটিলতা এবং তার ব্যবস্থাপনা সমস্যা যা অনুসন্ধান করতে হবে। সমাধান/ব্যবস্থাপনা ১. মাসিক স্রাব বন্ধ ক. গ্রহীতা গর্ভবতী গর্ভবর্তী নয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশ্ন এবং শারীরিক পরীক্ষার সাহায্যে নির্ধারণ করতে হবে। খ. এমন কোন ঔষধ খান কিনা যা খাবার বড়ির ইস্ট্রোজেনকে লিভারের মাধ্যমে সহজে বিপাককৃত করে। যেমন- ফেনোবারবিটন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপাইন, বারবিচুরেট, প্রিমিডন। ক. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিতভাবে বড়ি খাওয়ার পরামর্শ দিন এবং বড়ি খেতে ভুলে গেলে কি নিয়মে বড়ি খেতে হবে তা ভালভাবে বুঝিয়ে দিন। খ. গর্ভবতী হলে বড়ি খেতে নিষেধ করতে হবে এবং প্রসবপূর্ব যত্নের জন্য ক্লিনিকে পাঠাতে হবে। গর্ভবতী না হলে বুঝিয়ে বলতে হবে যে, জরায়ুর দেয়ালের ভেতরের আবরণ তৈরি না হওয়ার জন্য মাসিক হচ্ছে না। গ. সঠিক নিয়মে বড়ি খেয়ে থাকলে গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে এতে উদ্বেগের কিছু নেই। এরপরও গ্রহীতা আশ্বস্ত না হলে তাকে স্বল্পমাত্রার বদলে তিন চক্র সাধারণ মাত্রার বড়ি ব্যবহারের পরামর্শ দিতে হবে। ঘ. গ্রহীতার মাসিক স্রাব বন্ধ থাকার কারণে চিন্তাগ্রন্থ থাকলে তাকে মাসিক হবার জন্য ঔষধ দেওয়া যেতে পারে: ট্যাবলেট Normens, Norcolut, Primolut (5mg) ১টা করে দিনে ৩ বার ৭দিন। ঔষধ সেবন শেষ হবার ৭ থেকে ১০ দিন পর মাসিক স্রাব শুরু হবার সম্ভাবনা আছে। ২. ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব (Spotting) বা দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তস্রাব ক. গ্রহীতা মিশ্র বড়ি অল্পদিন আগে শুরু করেছেন কিনা। খ. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে, তিনি একটি বা তার বেশি বড়ি খেতে ভুলে গেছেন কিনা, অথবা তিনি একেক দিন একেক সময় বড়ি খান কিনা। গ. গ্রহীতার প্রচণ্ড বমি অথবা ডায়রিয়া হয়েছিল কিনা তা জিজ্ঞেস করতে হবে। ঘ. পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে গ্রহীতা গর্ভধারণ করেননি বা গর্ভপাত হয়নি এবং টিউমার, যৌনাঙ্গে প্রদাহ বা অন্য কোন স্ত্রীরোগ নেই। ঙ. উপরের কোনটি নয় ক. গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, বড়ি শুরু করার প্রথম তিন চার মাস পর্যন্ত ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব হওয়া অস্বাভাবিক নয়। খ. হ্যাঁ হলে, মাসিক চক্রের মাঝখানে রক্তস্রাবের আশঙ্কা কমানোর জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে বড়ি খাবার পরামর্শ দিন। বড়ি খেতে ভুলে গেলে কয়টি বড়ি খেতে ভুলে গেছে তা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দিন এবং কী নিয়মে বড়ি খেতে হবে তা ভালভাবে বুঝিয়ে দিন। গ. বমি বা ডায়রিয়া হয়ে থাকলে আশ্বস্ত করতে হবে যে, সে জন্য রক্তে বড়ির কার্যকর মাত্রা অর্জিত হয়নি। গ্রহীতাকে বমি এবং ডায়রিয়া না সারা পর্যন্ত বড়ির পাশাপাশি কনডম ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে হবে। তবে পরবর্তী মাসিক না হওয়া পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করা ভালো। ঘ. স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা থাকলে পরামর্শের জন্য চিকিৎসকের নিকট পাঠাতে হবে। ঙ. যদি কোন স্ত্রীরোগ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা অন্যান্য কোন কারণ শনাক্ত দেয়ালের আবরণ অপর্যাপ্ত হবার কারণে এমনটি হচ্ছে। এক্ষেত্রে। গ্রহীতাকে অধিক প্রজেস্টেরন সমৃদ্ধ (নরজেসট্রিল লেভোনরজেসট্রিল) বড়ি খাবার পরামর্শ দিতে হবে। করা না যায় তাহলে ধরে নিতে হবে যে, জরায়ুর ভেতরের বা গ্রহীতা যদি তা খেতে থাকেন তাহলে তাকে কয়েক চক্রের জন্য স্বল্পমাত্রার বদলে সাধারণ মাত্রার (৫০ মাইক্রোগ্রাম ইস্ট্রোজেন) বড়ি ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে হবে। তারপর ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব স্বাভাবিক হয়ে গেলে আবার স্বল্পমাত্রার বড়িতে ফিরে আসা যাবে। যদি আবারো এরকম লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে গ্রহীতাকে সাধারণ মাত্রার বড়িই খাবার পরামর্শ দিতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ মাত্রার বড়িতে এরকম হলে প্রতিদিনের নিয়মিত বড়ি সঙ্গে আরো একটি করে বড়ি রজস্রাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত খেয়ে যেতে বলতে হবে। সেক্ষেত্রে গ্রহীতা যাতে অবশ্যই ধূমপান বা তামাক পাতা/ জর্দা গ্রহণ না করেন সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ৩. বমি বমি ভাব ক. মহিলা গর্ভবর্তী কিনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। খ. গ্রহীতা সকালে অথবা খালি পেটে বড়ি খায় কিনা দেখতে হবে। গ. বমি বমি ভাবের অন্য কোন কারণ আছে কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। ঘ. উপরের কোন কারণই বমি বমি ভাবের জন্য দায়ী নয়। ক. গর্ভবতী হলে বড়ি খাওয়া বন্ধ করে গর্ভকালীন যত্নের জন্য সেবা কেন্দ্রে প্রেরণ করতে হবে। খ. বমি বমি ভাব কমাতে হলে রাতের খাবারের সাথে বড়ি খেতে হবে। সাধারণত বড়ি ব্যবহারের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যেই বমি বমি ভাব কমে যায়। গ. রোগ সংক্রমণ (পিত্তথলির সংক্রমণ, হেপাটাইটিস, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস) হয়েছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে। ঘ. বমি বমি ভাব তিন মাসের মধ্যে বন্ধ না হলে এ পদ্ধতি পরিবর্তন করে গ্রহীতার জন্য উপযোগী অন্য কোন পদ্ধতি গ্রহণ করতে সাহায্য করতে হবে। ৪. মাথা ধরা বা ব্যথা (Headache) ক. গ্রহীতার নাক দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে কিনা বা সাইনুসাইটিসের সমস্যা আছে কিনা নির্ধারণ করতে হবে। খ. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে তার কখনো উচ্চ রক্তচাপ ছিল কিনা। গ. পেশি সংকোচন এবং মাইগ্রেনজনিত মাথাব্যথা শনাক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। পেশি সংকোচনজনিত মাথা ব্যথা সাধারণত মাথার সামনে বা ভিতরের দিকে হয়, দুইপাশে সমানভাবে চাপে তা অনুভূত হয়। অন্যদিকে মাইগ্রেন মৃদু থেকে মারাত্মক হতে পারে। কপালের পাশে তীব্র ব্যথা হতে পারে এবং বমি বা বমি বমি ভাব হতে পারে। রোগী মাথাব্যথা যে হবে তা টের পান। কোন কোন রোগী স্নায়বিক উপসর্গে ভোগেন, যেমন- - দৃষ্টি সমস্যা, ঝলকানো আলো, সব জিনিস দুটো করে দেখা বা দেখতে না পাওয়া - হাত-পা অবশ বোধ করা - কথা বলা বা স্মৃতি শক্তির সমস্যা। ঘ. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে, তাঁর বড়ি পাওয়া শুরু করার পর থেকে মাথা ধরা বেড়েছে কিনা। ক. সাইনুসাইটিস থাকলে চিকিৎসা দিতে হবে। খ. উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাক বা না থাক রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে। রক্তচাপ বেশী হলে 'উচ্চ রক্তচাপ' অনুচ্ছেদে উল্লিখিত নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে হবে। গ. স্নায়বিক উপসর্গ উপস্থিত থাকলে নিশ্চিত হবে যে এটি মাইগ্রেনজনিত ব্যথা। গ্রহীতার স্ট্রোক হবার ঝুঁকি বিদ্যমান। অবশ্যই ধূমপান বা তামাক পাতা সেবন না করার পরামর্শ দিতে হবে। মাইগ্রেন থাকলে (উপসর্গসহ বা ছাড়া) খাবার বড়িসহ যে কোন হরমোনাল পদ্ধতি বন্ধ করতে হবে। যদি মাইগ্রেন না হয় তবে খাবার বড়ি চালিয়ে যেতে হবে এবং মাথাব্যথার চিকিৎসা করতে হবে। ৫. উচ্চ রক্তচাপ ক. যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ মি. মি. পারদের নীচে হয়। খ. যদি রক্তচাপ ১৪০/৯০ মি. মি. পারদ বা তার বেশি হয়। ক. খাবার বড়ি চালিয়ে যেতে পারে। খ. খাবার বড়ি বাদ দিতে হবে। সমস্যা ৬. স্তন ভারী বোধ হওয়া এবং স্পর্শকালে স্তনে বেদনার অনুভূতি ক. গর্ভধারণের ইতিহাস গ্রহণের মাধ্যমে এবং প্রাপ্ত সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে নির্ধারণ করতে হবে গ্রহীতা গর্ভবর্তী কিনা। খ. গ্রহীতার স্তনে চাকা অথবা বোঁটা থেকে পুঁজ বের হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এ রকম হলে ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গ. যদি গ্রহীতা বুকের দুধ খাওয়ান এবং স্তনে স্পর্শকালে বেদনার অনুভূতি থাকে, তাহলে পরীক্ষা করে দেখতে হবে স্তনে সংক্রমণ হয়েছে কিনা। ক. মহিলা গর্ভবতী হলে বড়ি ব্যবহার বন্ধ করে গর্ভকালীন যত্নের জন্য ক্লিনিকে পাঠাতে হবে। যদি গর্ভধারণের কারণে না হয়ে থাকে, তাহলে সাধারণত বড়ি শুরু করার তিন-চার মাসের মধ্যে তা কমে যায়। খ. শারীরিক পরীক্ষায় যদি স্তনে চাকা বা পুঁজ নিঃসরণ থেকে ক্যান্সারের সন্দেহ হয়, তাহলে বড়ি বন্ধ করে তাকে অন্যকোন মন হরমোনাল পদ্ধতি পছন্দ করতে সাহায্য করতে হবে। তাকে চিকিৎসকের নিকট পাঠাতে হবে। গ. শুনে জীবাণু সংক্রমণ না থাকলে স্তন স্বাভাবিক রাখার জন্য উপযুক্ত পোশাকের পরামর্শ দিতে হবে। স্তনে প্রদাহ থাকলে হালকা গরম সেঁক দিতে হবে এবং স্তন্যদান চালিয়ে যেতে বলতে হবে। সংক্রমণ হয়ে থাকলে চিকিৎসকের নিকট পাঠাতে হবে। ৭. বিমর্ষতা ক. গ্রহীতাকে বিমর্ষতার কারণ জিজ্ঞেস। করতে হবে। পারিবারিক, আর্থিক বা সামাজিক কারণে বিমর্ষতা হতে পারে। খ. অন্যকোন কারণ না পাওয়া গেলে জিজ্ঞেস করতে হবে মিশ্র বড়ি খাওয়ার পর থেকে বিমর্ষতা বেড়েছে কিনা। ক. উপযুক্ত পরামর্শ দিতে হবে এবং পরবর্তী সাক্ষাতে বিমর্ষতার পরিবর্তন যাচাই করতে হবে। খ. মিশ্র বড়ি খাওয়ার পর থেকে যদি বিমর্ষতা বেড়ে থাকে, তাহলে হবে। যদি মিশ্র বড়ি খাওয়ার কারণে বিমর্ষতা না বেড়ে থাকে, তাহলে বড়ি চালিয়ে যাওয়া যায়। তাকে হরমোন ছাড়া অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করতে সাহায্য করতে ৮. অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস ক. গ্রহীতার খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে। অপরিমিত খাদ্য গ্রহণের ফলে ওজনের হ্রাস/বৃদ্ধি ঘটতে পারে। খ. খাদ্যাভাস ঠিক থাকা সত্ত্বেও যদি রুচি ও ওজন বৃদ্ধির অভিযোগ হয়, তাহলে এই বর্ধিত ওজন তার কাছে অনাকাঙ্ক্ষিত কিনা তা জিজ্ঞেস করতে হবে। ক. গ্রহীতাকে উপযুক্ত খাদ্য, পুষ্টি এবং ব্যায়াম সম্পর্কে পরামর্শ দিতে হবে। খ. গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, সকল হরমোন নির্ভর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতিরই ওজনের উপর কিছুটা প্রভাব রয়েছে। তবে মিশ্র খাবার বড়িতে যে মাত্রায় হরমোন থাকে তা খুবই সামান্য এবং ওজন বৃদ্ধিতে এর প্রভাব নগণ্য। এরপরও যদি দেখা যায় যে, মিশ্র বড়ি খাওয়ার পর অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ওজন বৃদ্ধি হয়েছে তাহলে মহিলাকে হরমোন ছাড়া অন্য কোন পদ্ধতি গ্রহণে সাহায্য করতে হবে। ৯. ক্লোয়াজমা বা গর্ভাবস্থার মধ্যেমুখের ত্বকের রঙের পরিবর্তন। ক. অন্যান্য কারণ অনুসন্ধান করতে হবে যেমন গর্ভাবস্থা, কড়া রোদে থাকা, পারদমিশ্রিত ক্রিম ব্যবহার করা ইত্যাদি। খ. রিং ওয়ার্ম বা অন্য কোন চর্ম রোগ থাকলে। গ. কোন কারণ পাওয়া না গেলে এবং অবস্থার উন্নতি না হলে। ক. ক্রিম না মাখতে বা কড়া রোদে না যেতে পরামর্শ দিতে হবে। সাম্প্রতিক গর্ভাবস্থার ইতিহাস থাকলে তিন মাস অপেক্ষা করার পরামর্শ দিতে হবে। খ. উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য রেফার করতে হবে। গ. কোন কারণ পাওয়া না গেলে এবং মুখের ত্বকের রং-এর পরিবর্তন গ্রহীতার কাছে অসহনীয় হলে এবং তা খাবার বড়ির সাথে সম্পৃক্ত হলে গ্রহীতাকে অন্য একটি পদ্ধতি বেছে নিতে সাহায্য করতে হবে। ১০. ব্রণ ক. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে তিনি কত বার মুখ ধুয়ে থাকেন। খ. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেসা করতে হবে, বর্তমানে তিনি শারীরিক বা মানসিক চাপের মধ্যে আছেন কি না। ক. তাকে দিনে দুইবার লেবুর রস মিশ্রিত পানি দিয়ে মুখ ধুতে বলতে হবে এবং মুখে তেল বা ক্রিম মাখতে নিষেধ করতে হবে এবং বেশি করে পানি খেতে বলতে হবে এবং নিয়মিতভাবে হাতের নখ কাটতে পরামর্শ দিতে হবে। খ. যদি থাকেন, প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। নিয়মিতভাবে হাতের নখ কাটতে পরামর্শ দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জনন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ও জটিলতা এবং ব্যবস্থাপনা অবস্থা/সমস্যা যা অনুসন্ধান করতে হবে সমাধান ১. বমি বমি ভাব ক. মহিলা গর্ভবর্তী কি না পরীক্ষা করতে হবে। খ. গ্রহীতা সকালে অথবা খালি পেটে বড়ি খায় কি না? গ. অন্য কোন কারণ আছে কি না পরীক্ষা করতে হবে। ঘ. কোন কারণ পাওয়া না গেলে। ক. (১) গর্ভবতী না হলে তাকে করতে হবে যে, ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। (২) গর্ভবতী হলে বড়ি খাওয়া বন্ধ করে সেবা কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। খ. বমি ভাব কমাতে হলে রাতের খাবারের সাথে সাথে বড়ি খেতে পরামর্শ দিতে হবে। গ. রোগ সংক্রমণ (পিত্তথলি সংক্রমণ, হেপাটাই- টিস, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস) হয়েছে কিনা পর্যালোচনা করতে হবে। ঘ. আশ্বস্ত করতে হবে অথবা প্রয়োজনে এ পদ্ধতি পরিবর্তন করার পরামর্শ দিতে হবে। ২. মাথাব্যথা ক. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে নাক দিয়ে ফোঁটা ফোঁটা পানি পড়ে কিনা। খ. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে কি না। গ. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে মাইগ্রেন আছে কিনা। ক. সাইনুসাইটিস থাকলে চিকিৎসার পরামর্শ দিতে হবে। খ. রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে ১৫৯/৯৯ মি.মি. হবে। পারদ এর বেশি হলে বড়ি খাওয়া বন্ধ করতে গ. মাইগ্রেন থাকলে বড়িসহ সকল হরমোনাল পদ্ধতি বন্ধ রাখতে হবে। ৩. মানসিক দুশ্চিন্তা/ অবসাদগ্রস্ততা, ব্রণ ক. গ্রহীতা কোন শারীরিক বা মানসিক চাপে আছেন কিনা। খ. গ্রহীতা দিনে কতবার মুখ ধুয়ে থাকেন। ক. আশ্বস্ত করতে হবে। খ. (১) বার বার মুখ ধৌত করার পরামর্শ দিতে হবে। তেল বা ক্রিম মাখতে নিষেধ করতে হবে। বেশি করে পানি পান করার এবং নিয়মিত নখ কাটার পরামর্শ দিতে হবে। (২) বড়ি খাওয়ার পর যদি বেড়ে থাকে তাহলে হরমোনবিহীন পদ্ধতির পরামর্শ দিতে‌ হবে। ৪. অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস, তলপেট ভারী লাগা ক. গ্রহীতাকে খাদ্য, পুষ্টি ও ব্যায়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে হবে। ক. (১) গ্রহীতাকে উপযুক্ত খাদ্য, পুষ্টি ও ব্যয়াম সম্পর্কে পরামর্শ দিতে হবে। (২) আশ্বস্ত করতে হবে যে, সকল হরমোনাল জন্মবির- তিকরণ পদ্ধতিরই ওজনের উপর কিছুটা প্রভাব খুবই সামান্য এবং ওজন বৃদ্ধিতে এর প্রভাব নগণ্য। রয়েছে। এই বড়িতে যে মাত্রায় হরমোন থাকে তা (৩) অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পেলে হরমোনবিহীন পদ্ধতির পরামর্শ দিতে হবে। ৫. স্তনে ব্যথা/ভারী লাগা ক. মহিলা গর্ভবতী কি না পরীক্ষা করতে হবে। খ. স্তনে চাকা বা বোটা থেকে পুঁজ বের হচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। গ. যদি গ্রহীতা বুকের দুধ খাওয়ান এবং স্তনে স্পর্শকালে বেদনা অনুভূত হয় তাহলে পরীক্ষা করে দেখতে হবে যে স্তনে সংক্রমণ হয়েছে কি না? ক. গর্ভবতী না হলে আশ্বস্ত করতে হবে। খ. স্তনে চাকা বা পুঁজ নিঃসরণ থেকে ক্যান্সার সন্দেহ হলে বড়ি বন্ধ করে হরমোনবিহীন পদ্ধতির পরামর্শ দিতে হবে এবং চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। গ. জীবাণু সংক্রমণ না থাকলে স্তন স্বাভাবিক রাখার। জন্য উপযুক্ত পোশাকের পরামর্শ দিতে হবে।। স্তনে প্রদাহ থাকলে হালকা গরম সেঁক দিতে হবে এবং স্তন্যদান চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। ৬. ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব বা দুই মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রজস্রাব ক. গ্রহীতা অল্পদিন আগে বড়ি খাওয়া শুরু করেছেন কি না? খ. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে যে তিনি একটি বা তার বেশি বড়ি খেতে ভুলে গিয়েছেন কি না? গ. গ্রহীতার মারাতত্মক বমি বা ডায়রিয়া হয়েছিল কি না ঘ. গ্রহীতা গর্ভবতী কি না অথবা গর্ভজনিত কোন জটিলতা আছে কিনা? ঙ. জরায়ুতে টিউমার বা যৌনাঙ্গে প্রদাহ বা স্ত্রীরোগ আছে কি না? চ. কোন কারণ না পাওয়া গেলে। ক. গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে স্বল্প মাত্রার খাবার বড়ি শুরুর প্রথম দিকে এমন হতে পারে। খ. উত্তর হ্যাঁ হলে, বড়ি খাবার সঠিক নিয়মাবলী বলে দিতে হবে। গ. বমি বা ডায়রিয়া হলে বড়ির কার্যকারিতা কমে যায় তাই ঐ সময়ে বড়ি খাওয়ার পাশাপাশি কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে হবে। ঘ. গর্ভজনিত জটিলতার ক্ষেত্রে সেবা কেন্দ্রে পাঠাতে হবে। ঙ. চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য রেফার করতে হবে। চ. গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে, আয়রন বড়ি সরবরাহ করতে হবে অথবা পদ্ধতি পরিবর্তন করার পরামর্শ দিতে হবে অথবা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ৭. মাসিক বন্ধ থাকা ক. গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে যে বড়ি খাওয়া বন্ধ করেছেন কি না, বড়ি খাওয়া ভুলে গিয়েছেন কি না। বড়ি খেতে ভুলে গেলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। খ. গ্রহীতা গর্ভবতী কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। গ. এমন কোন ঔষধ খান কি না যা খাবার বড়ির কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। যেমন রিফামপিসিন, ফেনোবারবিটন, ফেনিটয়েন, কার্বামাজেপাইন বা বার্বিচুরেট ইত্যাদি। ক. গর্ভবর্তী না হলে নিয়মিত বড়ি খাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে এবং বুঝিয়ে বলতে হবে যে, জরায়ুর দেয়ালের ভেতরের আবরণ তৈরি না হওয়ার জন্য মাসিক হচ্ছে না। খ. গর্ভবতী হলে বড়ি খাওয়া নিষেধ করতে হবে এবং সেবা কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। গ. সেবা কেন্দ্রে চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। ফলো-আপ ফলো-আপ কার্যক্রমের সাফল্য নির্ভর করে সেবাদানকারীর কর্মপরিকল্পনা বা কর্ম পদ্ধতির উপর। সেবাদানকারী চিকিৎসক/এফডব্লিউভি/প্যারামেডিক হলে সিদ্ধান্ত নিবেন-কিভাবে অন্যান্য সেবাদানকারী যেমন- পরিবার কল্যাণ সহকারী, স্বাস্থ্য সহকারী, সার্ভিস প্রমোটার, কমিউনিটি মোবিলাইজার ইত্যাদিসহ নিজস্ব কর্ম পরিকল্পনা অনুযায়ী ফলো-আপ কার্যক্রম স্থির করা যায়। খেয়াল রাখতে হবে গ্রহীতার বড়ির মজুদ ফুরিয়ে যাবার আগেই পুনঃসরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। গ্রহীতা সেবাকেন্দ্র হতে সরবরাহ নিলে তার ঘরে বড়ির মজুদ থাকা অবস্থাতেই অর্থাৎ মাস শেষ হবার আগেই বড়ি সংগ্রহের জন্য আসতে বলতে হবে। ফলো-আপের বিষয়সমূহ • গ্রহীতা বড়ি ঠিকমতো খাচ্ছেন কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে কীভাবে বড়ি খাচ্ছেন • গ্রহীতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে • চেকলিস্ট অনুযায়ী গ্রহীতার শারীরিক বৃত্তান্ত পুনরায় জিজ্ঞেস করা দরকার। যদি দেখা যায় গ্রহীতার বড়ি খাওয়ার বিরুদ্ধ নির্দেশনার (Contra-indication) লক্ষণ রয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে • গ্রহীতা যদি বড়ি খেতে ভুলে যান তবে 'খাবার বড়ির ব্যবহার বিধি' অনুসারে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে • গ্রহীতা যদি মিশ্র বড়িতে সন্তুষ্ট থাকেন গ্রহীতাকে কমপক্ষে ২-৩ চক্র বা তার চাহিদা অনুযায়ী বড়ি দিতে হবে • সেবাদানকারীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ফিরতি পরিদর্শনের পরিকল্পনা করতে হবে • যৌনবাহিত সংক্রমণ যাচাই করতে হবে এবং প্রয়োজনে এর চিকিৎসা এবং দ্বৈত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে মিশ্র খাবার বড়ির বিপদ সংকেত খাবার বড়ি নিয়ে বিগত দিনে প্রচুর গবেষণা হয়েছে এবং প্রমাণিত হয়েছে এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি। তথাপিও কদাচিৎ খাবার বড়ির ব্যবহার কিছু মারাত্মক সমস্যা তৈরি করে। এখানে বড়ি ব্যবহারের বিপদ সংকেতগুলো দেওয়া হলো (যদিও উপসর্গগুলো একান্তই বড়ি ব্যবহারের কারণে তা বলা যায় না)। তবে এ সমস্ত উপসর্গ তৈরি হলে অতি সত্ত্বর সেবাদানকারীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে। উপসর্গগুলোকে আমরা ইংরেজি অক্ষর সমতি 'ACHES' -এর মাধ্যমে প্রকাশ করতে পারি। A Abdominal pain পেলভিস বা লিভারে রক্ত জমাট বাঁধা, লিভার টিউমার (Benign) অথবা পিত্তথলির অসুখ, ডিম্বনালিতে গর্ভধারণ C Chest pain ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা, হার্ট অ্যাটাক (হৃদরোগ), হৎপিন্ডে ব্যথা (Angina), স্তনে চাকা H Headaches স্ট্রোক, মাইগ্রেনের মাথাব্যথা, সাথে স্নায়বিক উপসর্গ: ঝাপসা দেখা বা আঁকা-বাঁকা রেখা দেখা, কথা বলতে কষ্ট হওয়া, দুর্বলতা E Eve problem চোখে দেখতে না পাওয়া/ঝাপসা দেখা সব জিনিস দুইটি দেখা/কথা বলতে অসুবিধা হওয়া, অথবা দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়া, মাইগ্রেনের। মাথা ব্যথা, বিন্দু দেখা, আঁকা-বাঁকা রেখা দেখা, চোখে রক্ত জমাট বাঁধা, কর্নিয়ার আকার পরিবর্তন হওয়া S Severe leg pain পায়ের শিরায় প্রদাহ বা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য মারাত্মক পরিবর্তন বা বিষণ্ণতা। এছাড়া জন্ডিস, পরপর ২ বার মাসিক বন্ধ থাকা বা গর্ভাবস্থার লক্ষণ দেখা গেলে কেন্দ্রে আসতে হবে খাবার বড়ি সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর প্রশ্ন-১. মিশ্র খাবার বড়ি থেকে কি ক্যান্সার হতে পারে? মিত্র খাবার বড়ি থেকে এখন পর্যন্ত কোন ক্যান্সার হবার কথা প্রমাণিত হয়নি। উপরন্তু এটা ২ ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে ক. ডিম্বাশয়ের (Ovary) ক্যান্সার খ. এন্ডোমেট্রিয়াল (জরায়ুর ভিতরের আবরণের) ক্যান্সার প্রশ্ন-২. একজন মহিলার কি খাবার বড়ি গ্রহণে কিছুদিনের জন্য বিরতি দেয়া উচিত? খাবার বড়ি গ্রহণকালে কোন বিরতির প্রয়োজন নেই বরং এই হঠাৎ বিরতি অনিচ্ছুক গর্ভের কারণ হতে পারে।। প্রশ্ন-৩. খাবার বড়ি কারণে কি বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হতে পারে? একজন মহিলা গর্ভবতী হওয়া অবস্থায় খাবার বড়ি খেলে কি বিকৃত শিশুর জন্ম হতে পারে? গবেষণায় দেখা গেছে যে, খাবার বড়ি খাওয়া অবস্থায় কোন মহিলা গর্ভবর্তী হলে বিকলাঙ্গ শিশু জন্মানোর কোনো আশঙ্কা নেই। এমনকি কোন মহিলা যদি গর্ভবতী হবার পরও খাবার বড়ি খেয়ে থাকেন, তবুও তাদের শিশু বিকলাঙ্গ শিশু হবার অথবা গর্ভপাতের (Abortion) আশঙ্কা থাকে না। প্রশ্ন-৪. খাবার বড়ি কি মহিলাদের অনুর্বর বা বন্ধ্যা করে? খাবার বড়ি কোন মহিলাকে অনুর্বর বা বন্ধ্যা করে না। প্রজননক্ষম মহিলা বড়ি খাওয়া বন্ধ করলেই গর্ভধারণে সক্ষম হবেন। তবে খাবার বড়ি খাওয়া বন্ধ করার পর গর্ভধারণের জন্য কিছু মহিলাকে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। প্রশ্ন-৫, একজন মহিলা কি তার প্রজননকালীন সময়ে খাবার বড়ি খেতে পারেন। অবশ্যই খেতে পারেন। এক্ষেত্রে কোন বয়সসীমা নেই। বিধিনিষেধ না থাকলে সকল বয়সী মহিলার জন্য মাসিক বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত খাবার বড়ি একটি উপযুক্ত পদ্ধতি। তবে ৩৫ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি বয়সী মহিলা যারা ধূমপান করেন বা তামাক পাতা সেবন করেন তাদের জন্য অবশ্যই মিশ্র খাবার বড়ি নিষিদ্ধ (যদি তিনি ধুমপান বা তামাক পাতা সেবন বন্ধ না করেন)। প্রশ্ন-৬. যদি কোন মহিলার একটি সন্তানও না থাকে তবে কি তার বড়ি খাওয়া ঠিক? যাদের সন্তান আছে এবং যাদের সন্তান নেই সবার জন্যই খাবার বড়ি খাওয়া নিরাপদ। প্রশ্ন-৭. খাবার বড়ি খাওয়ার উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য কি তলপেটে পরীক্ষার প্রয়োজন আছে? না। মহিলা গর্ভবর্তী নয় তা নিশ্চিত হবার জন্য মিশ্রস্ত্র বড়ি গ্রহীতা বাছাইকরণের চেকলিস্ট এর সঠিক ব্যবহারই এরজন্য যথেষ্ট। প্রশ্ন-৮. খাবার বড়ি কি মহিলাদের দুর্বল করে থাকে? খাবার বড়ি মহিলাদের দুর্বল করে না। উপরন্তু, খাবার বড়ি খাওয়ার পর মহিলারা আরো শক্ত সমর্থ হন। কেননা এটা তাদের রক্তস্বল্পতা দূর করে। তার অন্যান্য কোনো অসুবিধা থাকতে পারে। তার দুর্বলতার কারণে তিনি কোন ডাক্তার অথবা সেবা প্রদানকারী কর্মীর পরামর্শ গ্রহণরতে পারেন। প্রশ্ন-৯. ধূমপায়ী মহিলারা কি খাবার বড়ি খেতে পারেন? ৩৫ বছরের নীচে ধূমপায়ী বা তামাকপাতা/জর্দা সেবনকারী মহিলারা কেবলমাত্র স্বল্পমাত্রার মিশ্র খাবার বড়ি খেতে পারেন। ৩৫ বছরের বেশি বয়স্কা ধুমপায়ী বা তামাক পাতা/জর্দা সেবনকারী মহিলাদের অন্য কোন নন হরমোনাল পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে। তবে সব ধূমপায়ী মহিলাদের। র ধূমপান, তামাক পাতা, জর্দা, গুল ইত্যাদি সেবন থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানাতে হবে। প্রশ্ন-১০. যে সব মহিলা খাবার বড়ি গ্রহণ করে, তাদের যৌনস্পৃহা বেড়ে যায় বা কমে যায় কি? যৌনস্পৃহা একেক জনের বেলায় একেক রকম। যৌনস্পৃহা নির্ভর করে মানসিক অবস্থার উপর। তবে কিছু কিছু মহিলার ক্ষেত্রে যৌনস্পৃহা কমে যাওয়ার তথ্যও আছে। প্রশ্ন-১১. খাবার বড়ি খেয়ে কখনো কি মাসিক স্রাব বন্ধ হতে পারে? এতে কি তলপেটে দূষিত বা বদ রক্ত জমা হয়? অধিকাংশ ক্ষেত্রে খাবার বড়ি অনিয়মিত মাসিক স্রাবকে নিয়মিত করে। খুব সামান্য ক্ষেত্রেই খাবার বড়ি খেয়ে মাসিক স্রাব বন্ধ হতে পারে। কিন্তু এর ফলে তলপেটে রক্ত জমা হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় কয়েক মাস জুড়ে যখন মাসিক বন্ধ থাকে তখন যেমন তলপেটে কোন দূষিত রক্ত জমা হয় না বা অসুবিধা হয় না, তেমনি খাবার বড়ির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট মাসিক বন্ধের সময়ও কোন প্রকার দূষিত রক্ত জমা হয় না বা অসুবিধা হয় না। প্রশ্ন-১২. খাবার বড়ি খেলে কি পেপটিক আলসার হয়? পেপটিক আলসার তৈরি করতে পারে এমন কোন উপাদান খাবার বড়িতে থাকে না। কাজেই খাবার বড়িতে পেপটিক আলসার হয় না। মিশ্র খাবার বড়ি গ্রহীতা বাছাইকরণের চেকলিস্ট সেবাপ্রদানকারী কর্তৃক যে সকল প্রশ্ন গ্রহীতাকে জিজ্ঞেস করতে হবে ১. আপনার সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স কি ছয় মাসের কম, আপনার কি বাচ্চা হওয়ার পর মাসিক বন্ধ আছে এবং আপনি কি তাকে এখনও কেবলমাত্র বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন? ২. আপনার শেষ মাসিক কি চার সপ্তাহের বেশি আগে হয়েছিল? অথবা আপনি কি মনে করেন যে আপনি গর্ভবতী? ৩. আপনার কি নিম্নলিখিত সমস্যাগুলোর কোন একটি আছে? ক) সামান্য কাজ করার পর কি আপনার বুকে ব্যথা হয় অথবা আপনি কি হাঁপিয়ে উঠেন? খ) আপনার কি প্রায়ই খুব বেশি মাথা ধরে অথবা আপনি কি চোখে ঝাপসা দেখেন? গ) আপনার পায়ের শিরা কি ফুলে আছে এবং এগুলো থেকে কি ব্যথা হয়? ৪. আপনি কি ধূমপায়ী বা তামাকপাতা সেবন করেন এবং আপনার বয়স কি ৩৫ বছরের বেশি? ৫. আপনার যে কোন স্থানে কি শক্ত চাকা/দলা আছে? ৬. আপনার চামড়া বা চোখ হলুদ হয়েছিল কি? ৭. দুই মাসিকের মাঝামাঝি সময়ে অথবা সহবাসের পর আপনার কি রক্তস্রাব হয়? গ্রহীতা উপরের সবগুলো প্রশ্নের উত্তরে "না" বললে তিনি জনন্মবিরতিকরণের জন্য মিম্ন খাবার বড়ি ব্যবহার করতে পারেন। গ্রহীতা উপরের যে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর "হ্যাঁ" বললে জন্মবিরতিকরণের মিশ্র বড়ি তার জন্য আদর্শ পদ্ধতি নয়। গ্রহীতাকে পরীক্ষা করার জন্য চিকিৎসক/এফডব্লিউত্তি/প্যারামেডিকস-এর কাছে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনীয় ইতিহাস গ্রহণ, শারীরিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করে যদি এমন কোন সমস্যা ধরা পড়ে যে এই মহিলা মিশ্র খাবার বড়ির জন্য উপযুক্ত নন, তবে তাকে অন্য একটি সুবিধাজনক পদ্ধতি বেছে নিতে সাহায্য করতে হবে। শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি গ্রহীতা বাছাইকরণ চেকলিস্ট শুধুমাত্র প্রজেস্টিন সমৃদ্ধ জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি পদ্ধতি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নমালা ১. আপনি কি মনে করেন আপনি গর্ভবতী? ২. আপনার পায়ের শিরা কি ফুলে আছে এবং এগুলো থেকে কি ব্যথা হয়? ৩. আপনার জ্বনে কি শক্ত চাকা আছে (স্তানে ক্যানসার?)? ৪. আপনি কি যক্ষ্মা রোগের ঔষধ (রিফামপিসিন) বা মৃগী রোগের ঔষধ (ফেনিটয়েন) সেবন করেন? গ্রহীতা উপরের সবগুলো প্রশ্নের উত্তরে "না" বললে তিনি জন্মবিরতিকরণের জন্য শুধুমাত্র প্রজেসিটনসমৃদ্ধ জন্ম- বিরতিকরণ যাবার বড়ি ব্যবহার করতে পারেন। গ্রহীতা উপরের যে কোন একটি প্রশ্নের উত্তর "হ্যাঁ" বললে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ জনন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি তার জন্য আদর্শ পদ্ধতি নয়। গ্রহীতাকে পরীক্ষা করার জন্য চিকিৎসক/এফডব্লিউডি/প্যারামেডিকস-এর কাছে পাঠাতে হবে। প্রয়োজনীয় ইতিহাস গ্রহণ, শারীরিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করে যদি এমন কোন সমস্যা ধরা পড়ে যে এই মহিলা শুধুমাত্র প্রজেস্টিনযুক্ত খাবার বড়ির জন্য উপযুক্ত নন, তবে তাকে অন্য একটি সুবিধাজনক পদ্ধতি বেছে নিতে সাহায্য করতে হবে। জন্মনিয়ন্ত্রণ খাবার বড়ি প্রদান দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী খাবার বড়ি ক্লায়েন্টদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়াদি নিশ্চিত করবেন • গ্রহীতা যে মিশ্র খাবার বড়ি/POP পদ্ধতি নির্বাচন করেছেন সে বিষয়ে তার সাথে তথ্য শেয়ার করুন • গ্রহীতা খাবার বড়ি নেবার জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা নিশ্চিত করুন • গ্রহীতা জন্মনিয়ন্ত্রণ খাবার বড়ি সম্পর্কে কতটুকু জানেন সেটা জিজ্ঞেস করুন এবং তিনি যদি কোন ভুল তথ্য জেনে থাকেন তাহলে তাকে সঠিক তথ্য দিন। প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো গ্রহীতাকে বিস্তারিত বর্ণনা করুন • এটা কিভাবে কাজ করে। • কার্যকারিতা। • সুবিধা • অসুবিধা • সতর্কতা • সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিপদ লক্ষণসমূহ • এটা এইডস বা যৌনরোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে না, প্রয়োজনে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিন। • গ্রহীতার রক্তচাপ মেপে ও ওজন দেখে কার্ডে লিপিবদ্ধ করুন গ্রহীতাকে মিশ্র খাবার বড়ি/POP ব্যবহার সম্পর্কে তথ্য দেওয়া • জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসাবে মিশ্র খাবার বড়ি/POP কিভাবে খেতে হবে তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলুন। • গ্রহীতা যদি কোন কারণে খাবার বড়ির ডোজটা মিস করেন তাহলে কি করবেন সে তথ্য দিতে হবে। • যদি কোন সমস্যা বা জটিলতা দেখা যায় তাহলে তাকে কোন স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ করতে বলুন। যৌন সংক্রমণ এবং এইডস প্রতিরোধে কি করা উচিত তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলুন। • অধিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দ্বৈত পদ্ধতি নির্বাচন এবং কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করা। • গ্রহীতা নির্দেশনা সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছে কি না নিশ্চিত হতে পুনরায় নির্দেশনাগুলো বলুন। • বড়ির মেয়াদের তারিখ দেখুন। • গ্রহীতাকে ৩টি সাইকেলের (৩ মাস) ঔষধ (মিশ্র খাবার বড়ি) প্রদান করুন। • শিডিউল অনুযায়ী এই তিন মাসের মধ্যে গ্রহীতাকে ফলো-আপের জন্য সুবিধাজনক জায়গায় যোগাযোগ করতে বলুন। • জন্মনিয়ন্ত্রণ খাবার বড়ি সম্পর্কিত যে কোন তথ্য বেজিস্ট্রার এবং গ্রহীতার কার্ডে রেকর্ড করুন। • নম্রভাবে গ্রহীতাকে ধন্যবাদ জানান। অধ্যায় - ০৫ জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ০৫ জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন জনন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন মহিলাদের জন্য তিন মাস মেয়াদি অস্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি। বাংলাদেশ জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ ডিএমপিএ (ডিপো-মেড্রোক্সি প্রজেস্টেরন অ্যাসিটেট) জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন প্রচলিত আছে যা ডিপো-প্রোভেরা নামে পরিচিত। জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন মহিলাদের জন্য কার্যকর অস্থায়ী ও স্বল্পমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি। খাবার বড়ির অনুরূপ দুই ধরনের জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন রয়েছে- ১. শুধু মাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ। ২. মিশ্র (ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টিন এর মিশ্রণ) দুই ধরনের জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন থাকলেও বিশ্বব্যাপী শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ ইনজেকশন বেশি (চবহৃত হচ্ছে। বিশ্ববাজারে দুই রকমের প্রজেন্টিনসমৃদ্ধ ইনজেকশন পাওয়া যায়, যথা- ১. ডিপো-মেড্রোক্সি প্রজেস্টেরন অ্যাসিটেট (Depot Medroxy Progesterone Acetate) যা ডিএমপিএ (DMPA) নামে পরিচিত। বর্তমানে শুধুমাত্র বেসরকারি খাতে সাবকিউটেনিয়াস ডিএমপিএ-র ব্যবহার প্রচলিত আছে। এছাড়া সরকারিভাবে সাবকিউটিনিয়াস (DMPA) এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে এবং পরবর্তী সেক্টর কর্মসূচি হতে সীমিত পর্যায়ে চালু হবে। ২. নরএথিস্টেরোন ইনানথেট (Norethisterone enanthate) বা নেট-এন (NET-EN)। এর বাণিজ্যিক নাম "নরিস্টারেট"। বর্তমানে বাংলাদেশে এটি সরকারি কর্মসূচিতে চালু নেই। ডিএমপিএ বাংলাদেশ জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ ডিএমপিএ (DMPA) জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন প্রচলিত আছে যার বাণিজ্যিক নাম "ডিপো-প্রোভেরা"। এটি একটি বহুল ব্যবহৃত এবং অত্যন্ত কার্যকর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। ডিএমপিএ পানিতে দ্রবীভূত সাদা রং-এর কৃত্রিম প্রজেস্টজেন। এই ইনজেকশনটি ১ মি. লি. ভায়ালে সরবরাহ করা হয় যার মধ্যে ১৫০ মিলিগ্রাম ডিএমপিএ থাকে। এটি গভীর মাংস পেশিতে প্রয়োগ করা হয়। ইনজেকশন কীভাবে কাজ করে? • জরায়ুর মুখে নিঃসৃত রসকে ঘন ও আঠালো করে যার ফলে জরায়ুতে শুক্রাণু প্রবেশে বাধার সৃষ্টি হয় • ডিম্বস্ফুটনে বাধা দেয় • জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামকে গর্ভসঞ্চারের জন্য উপযোগী হতে দেয় না। এন্ডোমেট্রিয়ামের প্ল্যান্ড-এর সংখ্যা এবং আকার কমার ফলে এটি পাতলা হয়ে যায় ইনজেকশনের কার্যকারিতা প্রথম বছরে এই পদ্ধতির সঠিক নিয়মে সঠিক মাত্রায় ব্যবহারের কারণে কার্যকারিতার হার ৯৯.৭% অর্থাৎ প্রতি ১০০০ জনে মাত্র ৩ জন মহিলা গর্ভধারণ করতে পারে। ইনজেকশনের সুবিধা। • অত্যন্ত কার্যকর এবং নিরাপদ • গোপনীয়তা রক্ষা করে নেয়া যায় • প্রতিদিন খাওয়া বা ব্যবহার করার ঝামেলা থাকে না। একটি ইনজেকশন কমপক্ষে ৩ মাস পর্যন্ত গর্ভসঞ্চারে বাধাদান করে • অস্থায়ী তাই পদ্ধতি ছেড়ে দিলে পুনরায় সন্তান ধারণ করা সম্ভব • যেসব ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন ব্যবহার নিষিদ্ধ সে সব ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় (ঝুঁকি বাড়ায় এজন্য বাদ দেয়া দরকার) অনেক সময় মাসিক বন্ধ করে দেয় বলে রক্তস্বল্পতা কমায় • • জরায়ুর ভিতরের দেয়ালে (এন্ডোমেট্রিয়াম) ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা দান করে • জরায়ুতে টিউমার প্রতিরোধে সহায়তা দান করে • সিকল সেল অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা ইনজেকশন ব্যবহার করলে রক্তস্বল্পতা কম হয়ে থাকে • কোন কোন ক্ষেত্রে এর ব্যবহারের ফলে কিছু স্ত্রীরোগ যেমন- এন্ডোমেট্রিওসিস, ডিম্বাশয়ের সিস্ট ইত্যাদির প্রকোপ কমায় ইনজেকশনের অসুবিধা • মাসিক চক্রে অনিয়ম, যেমন-ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব বা অনিয়মিত রক্তস্রাব, দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব, মাসিক বন্ধ থাকা। সাধারণত একটানা ১ বছর ব্যবহার করার পর কারো কারো মাসিক দীর্ঘদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোন কোন মহিলা এটিকে সুবিধা হিসেবে গণ্য করে। • ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে • ইনজেকশন নেয়া বন্ধ করার পর পুনরায় সন্তান ধারণ করতে সাধারণত ৬-১২ মাস সময় লাগতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে এর বেশি সময়ও লাগতে পারে • দীর্ঘদিন ব্যবহারে অস্থির ঘনত্ব কমে যেতে পারে • ইনজেকশন নেয়ার জন্য ৩ মাস পর পর সেবাকেন্দ্রে অথবা পরিবার কল্যাণ সহকারী/মাঠকর্মীর নিকট যেতে হয়। • কোন কোন গ্রহীতার মাথা ধরে, মাথা ঝিম ঝিম করে, ন্তন ভারী এবং ব্যথা অনুভূত হয়, মানসিক অবসাদ মেজাজ খিটখিটে হয়, স্বামী সহবাসের ইচ্ছা কমে যায় • কিছু কিছু ক্ষেত্রে অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে। • যৌনরোগ বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে না সাবকিউটেনিয়াস ডিএমপিএ • সাবকিউটিনিয়াস ডিএমপিএ একটি নতুন ফর্মুলা এবং এটা ভিন্ন রূপে এসেছে • ডিপো প্রোভেরার মতই প্রথম ডোজের পর পরবর্তী ডোজগুলো ৩ মাস পর পর নিতে হয় • উইন্ডো পিরিয়ড ডিউ ডোজের পূর্ববর্তী ১৪ দিন এবং পরবর্তী ২৮ দিন পর্যন্ত (ডিপো-গ্রোভেরার মতো) • ন্যূনতম একটি জীবিত সন্তান রয়েছে এমন মহিলাকে প্রয়োগ করা যাবে এটি ১০৪ মি.গ্রা./ ০.৬৫ মি.লি. মেড্রোক্সি প্রজেস্টেরন অ্যাসিটেট এর জীবাণুমুক্ত জলীয় সাসপেনশন • • এটি চামড়ার নীচে প্রয়োগ করতে হয় • ইনজেকশনটি জীবাণুমুক্ত সিরিঞ্জে প্রিলোডেড অবস্থায় ইউনিজেক্ট হিসেবে পাওয়া যায় অথবা ভায়াল ও সিরিঞ্জ আলাদাভাবে পাওয়া যায় • এটি উরুর সামনের দিকে বা নাভির চারপাশে অথবা বাহুর পেছনে চামড়ার নীচে দেয়া যায় এস.এম.সি কর্তৃক বাজারজাতকৃত সাবকিউটেনিয়াস ডিএসপিএ সায়ানা প্রেস এটি একটি ইউনিজেন্ট ইনজেকশন পদ্ধতি যাহা • একক মাত্রা • প্রিলোডেড (পূর্ব থেকেই পরিপূর্ণ করা) • সহজেই ব্যবহার করা যায়। • পুনরায় ব্যবহার করা যায় না • আকারে ছোট প্রয়োগের স্থান • উরুর সামনের দিকে • নাভির চারপাশে • বাহুর পেছনে কাউন্সেলিং ইনজেকশন দেয়ার পূর্বে গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা অত্যাবশ্যক। কাউন্সেলিং-এর সময় অন্যান্য সকল পদ্ধতি সম্বন্ধেও গ্রহীতাকে অবহিত করতে হবে যাতে গ্রহীতা তার পছন্দমত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। গ্রহীতাকে ইনজেকশন সম্বন্ধে প্রচলিত গুজব ও প্রকৃত তথ্য সম্বন্ধে জানাতে হবে। এছাড়াও গ্রহীতাকে এ পদ্ধতি গ্রহণের সময়, স্থান, সুবিধা, অসুবিধা, যারা এই পদ্ধতি ব্যবহারের উপযুক্ত নন এবং স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল ভালভাবে বুঝিয়ে বলতে হবে। তাছাড়া পুনরায় গর্ভধারণ ক্ষমতায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ও তাকে বলতে হবে। একবার গ্রহীতা ইনজেকশন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে কাউন্সেলর এর উচিত তাকে ইনজেকশনের ব্যাপারে নিম্নলিখিত ধারণাগুলি সঠিকভাবে প্রদান করা • এ পদ্ধতি কিভাবে কাজ করে • সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (ইনজেকশন নেয়ার পর মাসিক রক্তস্রাবের পরিবর্তন, মাসিক বন্ধ থাকা এবং ইনজেকশন বন্ধ করার পর বিলম্বে গর্ভধারণের আশঙ্কা)। মাসিকের এই পরিবর্তন সম্বন্ধে আগেই গ্রহীতাকে অবহিত করে আশ্বস্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ • সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে এবং তার সমাধান নিজের জানা না থাকলে পদ্ধতি-প্রদানকারীর নিকট পরামর্শের জন্য অবশ্যই আসতে হবে • কোন কোন অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে সেবাদানকারীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে • নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ইনজেকশন নেয়ার প্রয়োজনীয়তা • পরবর্তী সাক্ষাৎকারের সময় কি করা হবে এবং কেন তা বিস্তারিত জানানো ইনজেকশন দেয়ার আগেই এর সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো গ্রহীতাকে এমনভাবে অবহিত করতে হবে যাতে গ্রহীতা ভীত সন্ত্রস্ত না হয়ে পড়েন এবং পদ্ধতি ব্যবহার বন্ধ না করে দেন। কাউন্সেলিং-এর সময় গ্রহীতাদের ইনজেকশনের সম্ভাব্য পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াগুলো সম্বন্ধে সম্যক ধারণা দিলে প্রথমে গ্রহীতার সংখ্যা কম হলেও একবার গ্রহণ করার পর পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার আশঙ্কা কম থাকে। কাউন্সেলিং-এর সময় গ্রহীতার কথাগুলো খুব গুরুত্ব সহকারে শুনতে হবে এবং তার সমস্ত প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে হবে। আলোচনায় গ্রহীতার সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। গ্রহীতা বাছাইকরণ DMPA প্রথম শুরু করার পূর্বে ইচ্ছুক গ্রহীতার ব্যক্তিগত, প্রজনন ও মেডিক্যাল ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে। উক্ত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার প্রাপ্ত বিষয়গুলো "ইনজেকশন গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণবিবরণী ও বাছাইকরণ ফরম"-এ লিপিবদ্ধ করতে হবে। ইনজেকশনের উপযুক্ততা ও অনুপযুক্ততা কোন প্রয়োগ নিষেধ না থাকলে মেনোপজ না হওয়া পর্যন্ত গ্রহীতা ইনজেকশন ব্যবহার করতে পারবেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসক/ এফডব্লিউভি/প্যারামেডিক গ্রহীতা বাছাইকরণের পর ইনজেকশনের ১ম ডোজ ও পরবর্তী ডোজ দেবেন। তবে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অনুমোদনপ্রাপ্ত এলাকার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ সহকারী বা এনজিও মাঠকর্মীরা ২য় ডোজ থেকে ইনজেকশন দিতে পারবেন। ইনজেকশন যাদের জন্য উপযুক্ত নিম্নে বর্ণিত কারণ গুলো ছাড়া সকল সক্ষম মহিলাকে জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন দেওয়া যাবে। (যে সকল অবস্থায় জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন দেওয়া যাবে না • বর্তমানে অবিবাহিত/বিধবা/ তালাকপ্রাপ্ত/স্বামী থেকে পৃথক * মহিলা যদি গর্ভবতী হন • যাদের কোন সন্তান নেই • প্রসব পরবর্তী সময়ে যে সব মহিলা শিশুকে বুকের দুধ পান করান- প্রসব পরবর্তী সময় হতে < ৬ সপ্তাহ • হৃৎপিণ্ড ও রক্ত সংবহননালির রোগ-ব্যাধির একাধিক ঝুঁকি বিদ্যমান (যেমন: বেশি বয়স, ধূমপান, তামাকপাতা/জর্দা সেবন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রায় চর্বি ইত্যাদি) * স্তনের ক্যান্সার: বর্তমানে আছে বা পূর্বে ছিল • উচ্চ রক্তচাপ: সিস্টলিক ৯১৬০ মি. মি. পারদ, ডায়াস্টলিক ≥ ১০০ মি. মি. পারদ • বর্তমানে পায়ের শিরা ফোলা বা ব্যথা/পালমোনারি এ্যাম্বোলিজম (DVT/PE) আছে * বর্তমানে ইসকেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত বা পূর্বে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিল • পূর্বে কোন সময়ে স্ট্রোক হয়ে থাকলে • যোনিপথে রক্তস্রাব-যার কারণ জানা নাই • লিভারের রোগ-মারাত্মক সিরোসিস, লিভারের টিউমার, ক্যান্সার • ডায়াবেটিস- জটিলতা বিদ্যমান নেফরোপ্যাথি/ রেটিনোপ্যাথি/নিউরোপ্যাথি, রক্ত সংবহননালির অন্যান্য ব্যাধি, অথবা ২০ বছর ও তার বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বি.দ্রঃ সকল সেবা প্রদানকারী গ্রহীতার উপযুক্ততা যাচাই এর ক্ষেত্রে ডিসেম্বর ২০১৬ তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর হতে মুদ্রিত MEC এর হইল ব্যবহার করবেন। ইনজেকশন দেয়ার উপযুক্ত সময় • মাসিক শুরুর প্রথম ৫ দিনের মধ্যে • গর্ভবর্তী নয় এটা নিশ্চিত হলে মাসিকের যে কোন সময়, যেমন- গত মাসিকের পর সহবাস না করে থাকলে বা স্বামী বিদেশে ছিল, অন্য কোন কার্যকরী পদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যবহার করা অবস্থায় ইত্যাদি। • ক. শিশুকে বুকের দুধ পান করালে প্রসবের ৬ সপ্তাহ পর থেকে খ. শিশুকে বুকের দুধ পান না করালে প্রসবের পর পরই • সম্পূর্ণ গর্ভপাতের সাথে সাথেই • এমআর (MR) করার সাথে সাথেই • আধুনিক অন্যান্য পদ্ধতি নিয়মিতভাবে ব্যবহার বন্ধ করার পর পরই ডিএমপিএ ইনজেকশনের ডোজ এবং প্রয়োগবিধি প্রথম ডোজ গ্রহীতা নির্বাচনের পর ১৫০ মিলিগ্রাম ইনজেকশন গভীর মাংসপেশিতে দেয়া হয়। পরবর্তী ডোজ ডিএমপিএ ইনজেকশন প্রথমবার দেয়ার পরে পরবর্তী ডোজসমূহ তিন মাস পর পর দিতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন: রমজান, বন্যা, বিদেশ ভ্রমণ, স্থান পরিবর্তন) ডিউ ডোজের পূর্ববর্তী ১৪ দিনের মধ্যে অথবা পরবর্তী ২৮ দিন পর্যন্ত দেয়া যেতে পারে। ডিউ ডোজের পূর্ববর্তী ১৪ দিন এবং পরবর্তী ২৮ দিন পর্যন্ত সময়কে 'উইন্ডো পিরিয়ড' (Window Period) বলে। ইনজেকশন প্রয়োগের নিয়ম ১. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিন • জীবাণুমুক্ত এডি সিরিঞ্জ (১ সিসি) • তুলা • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ ২. ঔষধের ভায়ালের মেয়াদকাল দেখে নিন। ৩. গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলুন আপনি কি করতে যাচ্ছেন। ৪. ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিন। ইনজেকশন দেয়ার জায়গা অ্যান্টিসেপটিকযুক্ত তুলা দিয়ে পরিষ্কার করে নিন (চিত্র-১)। প্রয়োজনবোধে প্রথমে ইনজেকশনের স্থান সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। ডিএমপিএ ইনজেকশন বাহুর উপরের এবং বাহিরের অংশে (ডেল্টয়েড) দেয়া ভাল। তবে নিতম্বের গুটিয়াল মাংসপেশিতেও দেয়া যায়। ৫. ডিএমপিএ'র ভায়াল সব সময় খাড়াভাবে রাখুন। ৬. ডিএমপিএ'র ভায়াল দুই আঙ্গুলের মধ্যে লম্বালম্বি রেখে হালকাভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। ৭. সিরিঞ্জে ঔষধ তুলে লক্ষ্য করুন যাতে ঔষধের পরিমাণ ১ মিলিলিটারের কম না হয় (চিত্র-২)। ৮. সাধারণত ইনজেকশন দেবার সময় খাড়াভাবে (৯০ ডিগ্রি কোণে) সূঁচ ঢুকানো হয় (চিত্র-৩)। অতঃপর সিরিঞ্জের প্লাজার বাহিরের দিকে টেনে দি দেখে নিন কোন শিরা বা ধমনীর মধ্যে সূঁচ প্রবেশ করেছে কিনা। যদি না করে থাকে তবে সিরিঞ্জের ভিতরের তরলটুকু মাংসপেশিতে পুশ করুন (চিত্র-৪)। দেয়া শেষ হলে এক টানে সূঁচটি বের করুন (চিত্র-৫)। ৯. ম্যাসেজ করলে ইনজেকশনের কার্যকারিতা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যায়। গ্রহীতাকে এ বিষয়ে সর্তক করতে হবে। শুধুমাত্র একটুকরো জীবাণুমুক্ত তুলা দিয়ে সুঁচ ফোটানোর জায়গায় অল্প কিছুক্ষণের জন্য হালকাভাবে চেপে ধরে রাখুন। ১০. সিরিঞ্জ ব্যবহারের পর পরই সেফটি বক্সে ফেলুন (চিত্র-৬)। ১১. সেফটি বক্স তিন-চতুর্থাংশ সিরিঞ্জে পূর্ণ হলে তা নিয়মানুযায়ী গর্ত করে পুড়িয়ে পুঁতে ফেলুন। ১২. ইনজেকশনের খালি ভায়ালসমূহ সংরক্ষণ করতে হবে এবং নিয়মানুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিন। ইনজেকশন প্রয়োগ পরবর্তী কাউন্সেলিং গ্রহীতাকে ৩ মাস পর নির্ধারিত তারিখে ইনজেকশন নেয়ার জন্য সেবাকেন্দ্রে আসতে হবে অথবা মাঠকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। নিম্নলিখিত অসুবিধাগুলোর কোন একটি দেখা দিলে নিকটস্থ সেবাকেন্দ্রে বা মাঠকর্মীর সাথে জরুরি যোগাযোগ করতে হবে- • গর্ভবর্তী সন্দেহ হলে • প্রচণ্ড মাথা ব্যথা • অতিরিক্ত রক্তস্রাব * মানসিক অবসাদ • তলপেটে তীব্র ব্যথা • ইনজেকশনের জায়গায় ফোঁড়া বা ঘা হওয়া • অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি অবস্থা/সমস্যা সমাধান ছোট খাট সমস্যা যেমন- তলপেট ভারী ভারী লাগা, ব্যথা অনুভব করা, মাথা ধরা, মানসিক দুশ্চিন্তা মনোযোগ সহকারে গ্রহীতার সব সমস্যার কথা শুনতে হবে। গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে। যে, সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যে এসব উপসর্গ দূর হয়ে যাবে। মাসিক বন্ধ থাকা • গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, সাধারণত ইনজেকশন গ্রহীতাদের মধ্যে এটা হওয়া স্বাভাবিক। এতে দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। গ্রহীতা গর্ভবতী কি-না নিশ্চিত হতে হবে। যদি আরো কিছু দিন পরও মাসিক বন্ধ থাকে এবং আশ্বস্ত করার পরও গ্রহীতা উদ্বিগ্ন থাকে তবে চিকিৎসক এর নিকট প্রেরণ করতে হবে। • যদি গ্রহীতা গর্ভবতী হয়ে থাকেন তবে গ্রহীতার ইচ্ছা অনুযায়ী পরবর্তী সেবা দিবেন। দুই মাসিকের অন্তর্বর্তীকালে রক্তস্রাব হওয়া বা ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব • গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, সাধারণত কয়েক মাসের মধ্যেই এ সমস্ত সমস্যা দূর হয়ে যাবে। কেননা সাময়িকভাবে ইনজেকশনে এ ধরনের সমস্যার উদ্ভব হয়ে থাকে। • এ অবস্থা চলতে থাকলে গ্রহীতাকে আয়রন ট্যাবলেট এবং প্রতিদিন একটি করে স্বল্পমাত্রার খাবার বড়ি ২১ দিন পর্যন্ত খাবার জন্য সরবরাহ করতে হবে। • নিশ্চিত হতে হবে যে তার অনিয়মিত রক্তস্রাবের অন্য কোন কারণ নেই, যেমন - যোনিপথে সংক্রমণ, জরায়ুর ক্যান্সার, গর্ভপাত, যৌনরোেগ, তলপেটের প্রদাহ ইত্যাদি। এদের মধ্যে যে কোন একটি থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে। কিন্তু কোন প্রদাহ বা যৌনরোগ থাকলে ইনজেকশন ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারেন। অতিরিক্ত রক্তস্রাব হওয়া • ভালোভাবে প্রশ্ন করে জানতে হবে গ্রহীতার অন্য কোন অসুবিধা যেমন- চাকা চাকা রক্তস্রাব, তলপেটে ব্যথা, দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব ইত্যাদি আছে কি না। যদি থাকে তাহলে গ্রহীতাকে চিকিৎসকের নিকট রেফার করতে হবে। • এটা নিশ্চিত হতে হবে যে, অনিয়মিত রক্তস্রাবের অন্য কোন কারণ নেই। যেমন যোনিপথে সংক্রমণ, জরায়ুর ক্যান্সার। • রক্তস্বল্পতা আছে কিনা তা দেখতে হবে এবং রক্তস্বল্পতার মাত্রা নির্ণয় করে আয়রন ট্যাবলেটের ব্যবস্থা করতে হবে এবং আয়রনসমৃদ্ধ খাবার যেমন- শাকসব্জি, দুধ, ডিম, কলিজা খাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। • অতিরিক্ত রক্তস্রাবের চিকিৎসা হিসাবে স্বল্পমাত্রার ১টি করে খাবার বড়ি ২১ দিন খেতে বলতে হবে । ৩ চক্র চালিয়ে যেতে হবে। তারপরও অতিরিক্ত রক্তস্রাব নিয়ন্ত্রিত না হলে-ট্যাবলেট আইবুপ্রফেন (৪০০ মি.গ্রা.)- ১টি করে বড়ি দিনে দুইবার ভরা পেটে ৭ দিন খেতে বলতে হবে। পেপটিক আলসারের ইতিহাস থাকলে সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ওজন বৃদ্ধি • গ্রহীতার সাথে আলোচনা করে তার খাবার অভ্যাস বদলানোর পরামর্শ দিতে হবে। • ইনজেকশন শুরু করার পর যদি খাবার স্পৃহা বেড়ে যায় এবং তার ফলে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি পায় তাহলে নন-হরমোনাল পদ্ধতি গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। • ওজন কমানোর জন্য গ্রহীতার সাথে পরামর্শ করে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় • কম খাওয়া, অল্প করে খাবার দেরি করে খাওয়া • যোগআসন বা অন্য ব্যয়াম করা • দিনে প্রায় ১ ঘণ্টা হাঁটার অভ্যাস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো • দিনে ১০-১২ গ্লাস পানি খাওয়া • বেশি করে শসা, তরকারি ও ফলমূল খাওয়া • তৈলাক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়া। ঝিমুনি (Dizziness) • গ্রহীতার আশ্বস্ত করতে হবে। • রক্তস্বল্পতা, উচ্চ বা নিম্নরক্তচাপ, রক্তে শর্করার পরিমাণ কম কিনা নির্ণয় করে তাদের চিকিৎসা দিতে হবে। • যদি অন্য কোন কারণ না থাকে এবং ঝিমুনিভাব কম থাকে তাহলে আশ্বস্ত করতে হবে। এতে কাজ না হলে নন-হরমোনাল অন্য কোন পদ্ধতি গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিতে হবে। মানসিক অবসাদ • পারিবারিক, অর্থনৈতিক, বৈবাহিক, সামাজিক কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে হবে। • ইনজেকশন নেয়ার পর মানসিক অবসাদ বৃদ্ধি পেলে অন্য কোন নন-হরমোনাল পদ্ধতি গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিতে হবে। কিন্তু যদি অবসাদ বৃদ্ধি না পেয়ে থাকে তাহলে ইনজেকশন চালিয়ে যেতে পারে। • গ্রহীতার সাথে কথা বলে জানতে হবে যে তার অবশভাব, দুর্বলতা, চোখের অসুবিধা ইত্যাদি উপসর্গও সঙ্গে আছে কিনা। এরকম থাকলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রজনিত সমস্যা আছে কিনা তা দেখতে হবে, থাকলে ইনজেকশন বন্ধ করতে হবে এবং বিকল্প হিসেবে নন-হরমোনাল কোন পদ্ধতি নিতে পরামর্শ দিতে হবে। মাথা ধরা • মাথা ধরার অন্য কোন কারণ থাকলে তার জন্য পরামর্শ দিতে হবে। এজন্য সাধারণ বেদনানাশক ঔষধ যেমন-প্যারাসিটামল দেয়া যেতে পারে। মাথা ধরা একেবারে না সারলে ডাক্তারের সাথে পরামর্শের জন্য রেফার করতে হবে বা অন্য কোন নন-হরমোনাল পদ্ধতি ব্যবহারের পরামর্শ দিতে হবে। ইনজেকশনের স্থানে সংক্রমণ • চিকিৎসকের নিকট যাওয়ার জন্য পরামর্শ দিতে হবে এবং তাকে সাময়িক ভাবে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে হবে। • সংক্রমণের ক্ষেত্রে চিকিৎসা হচ্ছে কেটে পুঁজ বের করে সঙ্গে সঙ্গে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। একই সময়ে ইনজেকশনের কার্যকারিতা বহাল রাখার জন্য তাকে আরও ১টি ইনজেকশন দিয়ে দিতে হবে। ইনজেকশনের জায়গা পেকে গেলে ইনজেকশনের কার্যকারিতা থাকে না। পায়ের পেছনে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়া এবং তা কয়েকদিন স্থায়ী হওয়া • গ্রহীতাকে ইনজেকশন নেয়া বন্ধ করতে উপদেশ দিতে হবে এবং তাকে চিকিৎসক/ এফডব্লিউভি/ প্যারামেডিকের সঙ্গে পরামর্শ করার জন্য পাঠাতে হবে। পরবর্তী ইনজেকশন নেয়ার তারিখ পার হয়ে গেলে কনডম বা আইইউডি ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিতে হবে এবং তা সরবরাহ করতে হবে। গিটে ব্যথা • গ্রহীতাকে ট্যাবলেট ক্যালসিয়াম ৫০০ মি.গ্রা. দিনে দুই বার খাওয়ার পরামর্শ দিতে হবে। ইনজেকশন নেয়া বন্ধ করার পরও গর্ভবতী না হওয়া • গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে এবং কাউন্সেলিং করতে হবে যে, ইনজেকশন নেয়া বন্ধ করার পরও সাধারণত পুনরায় গর্ভবতী হতে ৬-১২ মাস সময় লাগতে পারে। অন্য কোন অসুবিধা দেখা দেয়া যেমন-বহুমূত্র। • এ রোগ থাকলেও যদি তা নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় থাকে তবে ইনজেকশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে গ্রহীতাকে ভালভাবে ফলো-আপ করতে হবে। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলতে হবে। ইনজেকশন সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর প্রশ্ন-১. বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন মায়েরা কি ডিএমপিএ ব্যবহার করতে পারেন? হ্যাঁ। বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন মায়েদের জন্য ডিএমপিএ গ্রহণযোগ্য। প্রসবের ৬ সপ্তাহ পরই এটা শুরু করা যায়। প্রশ্ন-২. ইনজেকশন নেয়া অবস্থায় যদি কোন মহিলার অনেকদিন যাবত মাসিক বন্ধ থাকে তখন কি তার ডিএমপিএ ব্যবহার বন্ধ করা উচিত? না। কেননা এটা স্বাভাবিক। মাসিক বন্ধ থাকায় ইনজেকশন নেয়া বন্ধ করার কোন কারণ চিকিৎসা বিজ্ঞানে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার এবং মোটেও ক্ষতিকর নয়। যদি মাসিক বন্ধ থাকায় তিনি বিব্রত বোধ করেন তবে তিনি অন্য কোন পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন। প্রশ্ন-৩. কোন অল্পবয়সী যুবতী, বয়সী মহিলা এবং যে মহিলার কোন বাচ্চা নেই তারা কি ডিএমপিএ ব্যবহার করতে পারেন? বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের নীতিমালা অনুযায়ী কেবলমাত্র বিবাহিত মহিলারা যাদের কমপক্ষে ১টি জীবিত সন্তান আছে তারাই ডিএমপিএ ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া অন্য কোন স্বাস্থ্যগত নিষেধ না থাকলে যে কোন বয়সী মহিলা বা যুবতী ইনজেকশন ব্যবহার করতে পারবেন। প্রশ্ন-৪. একজন গর্ভবর্তী মহিলা যদি ডিএমপিএ ব্যবহার করেন তবে কি এটা তার জন্য ক্ষতিকারক? না। তবে এটা ব্যবহার না করাই ভালো। প্রশ্ন-৫. জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন নিলে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে কি? না। ইনজেকশন বন্ধ্যাত্ব করে না। তবে ইনজেকশন নেয়া বন্ধ করার পর পুনরায় গর্ভধারণে কিছুটা দেরি হতে পারে। প্রশ্ন-৬. জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন নিলে মাসিকের রক্ত জমা হয়ে তলপেটে চাকা হয় কি? না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইনজেকশন নেয়ার ফলে মাসিক হয় না, কোথাও রক্ত জমা হয়ে চাকা হওয়ারও সম্ভাবনা থাকে না জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন গ্রহীতা বাছাইকরণ চেকলিস্ট গ্রহীতাকে নীচের প্রশ্নগুলো করুন। সবকয়টি প্রশ্নের উত্তর "না" হলে পদ্ধতি দেয়া যাবে, কোন একটি প্রশ্নের উত্তর "হ্যাঁ" হলে পদ্ধতি দেয়া যাবে না। এক্ষেত্রে গ্রহীতাকে বিস্তারিত পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বা চিকিৎসকের নিকট প্রেরণ করতে হবে। জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন গ্রহীতা বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্নমালা উত্তর হ্যাঁ উত্তর না • আপনার ছোট সন্তানের বয়স কি ছয় সপ্তাহের কম? • আপনি কি মনে করেন আপনার পেটে সন্তান এসেছে অথবা আপনার কি ৪ সপ্তাহের বেশি মাসিক বন্ধ আছে? • আপনি কি উচ্চ রক্তচাপে (রক্তচাপ ১৫৯/৯৯ মি.মি. পারদ এর বেশি) ভুগছেন? • আপনার পায়ের শিরা কি ফুলে আছে এবং এগুলো থেকে কি ব্যথা হয়? • আপনার স্তনে কি শক্ত চাকা/দলা আছে (স্তনে ক্যানসার)? • সামান্য কাজ করার পর কি আপনার বুকে ব্যথা হয় বা আপনি কি হাঁপিয়ে উঠেন (ইসকেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত বা পূর্বে স্ট্রোক হয়ে থাকলে)? • দুই মাসিকের মাঝামাঝি সময়ে বা সহবাসের পর আপনার কি রক্ত যায় (সার্ভিক্সে ক্যানসার?)? • আপনার মাসিকে কি অত্যধিক রক্ত যায় (কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলে)? জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন প্রদান দক্ষতা চেকলিস্ট (ডিএমপিএ) সেবা প্রদানকারী ডিপো ইনজেকশন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে • গ্রহীতা ডিপো ইনজেকশন নেবার জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা নিশ্চিত করুন গ্রহীতার সাথে ডিএমপিএ পদ্ধতি বিষয়ে তথ্য শেয়ার করুন। গ্রহীতা জন্মনিয়ন্ত্রণ ইনজেকশন ডিএমপি সম্পর্কে কতটুকু জানেন সেটা জিজ্ঞেস করুন এবং তিনি যদি কোন ভুল তথ্য জেনে থাকেন তাহলে তাকে সঠিক তথ্য দিন। প্রয়োজনীয় তথ্য গুলো গ্রহীতাকে বিস্তারিত বর্ণনা করুন। • এটা কিভাবে কাজ করে। • কার্যকারিতা। • সুবিধা • অসুবিধা • সতর্কতা • সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং বিপদ লক্ষণসমূহ • এটা এইডস বা যৌনরোগ সংক্রমণে প্রতিরোধ করে না। • প্রয়োজনে দ্বৈত পদ্ধতি ব্যবহার বা কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করুন। জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইনজেকশন নেবার ফলে গ্রহীতার কি কি হতে পারে যেমন মাসিকের পরিবর্তন, এবং গ্রহীতা এই পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক বুঝেছেন কিনা সেটা নিশ্চিত করতে পুনরায় তাকে নির্দেশনা সম্পর্কে বলুন। শারীরিক পরীক্ষা • ওজন মাপা, রক্তচাপ মাপা, • সম্পূর্ণ জন পরীক্ষা করুন এবং গ্রহীতা নিজে কিভাবে পরীক্ষা করবেন তা শিখিয়ে দিন। ডিএমপিএ প্রয়োগের নিয়মাবলী • মেয়াদের তারিখ নিশ্চিত করুন। • ভালভাবে হাত ধুয়ে নিন। • ডিএমপিএর ভায়াল দুই আঙ্গুলের মধ্যে লম্বালম্বি রেখে হালকাভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। • ইনজেকশনের স্থানটি এন্টিসেপটিক তুলার সাহায্যে মুছে নিন এবং শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। • সিরিঞ্জে ঔষধ তুলে লক্ষ্য করুন যাতে ঔষধের পরিমান ১ মি.লি. এর কম না হয়। • ডেল্টয়েড/গুটিয়াল মাংশপেশীতে DMPA প্রয়োগ করুন। • ইনজেকশন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সূচ ঢুকানোর পর সিরিঞ্জের পিস্টন টেনে রক্তনালীতে যেন সূচ না ঢুকে তা নিশ্চিত করুন। • ইনজেকশনের স্থানটিতে শুধু মাত্র তুলার বল দিয়ে কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে রাখুন, কোনভাবে ম্যাসাজ করা যাবে না। • ইনজেকশন পুশ করা শেষ হলে নিডলটি বের করে আনুন এবং সেন্টি বক্সে এ ফেলুন। • ময়লা বর্জ্য ফেলার বালতিতে ফেলে দিন। (তুলা, প্যাকেট ইত্যাদি) • গ্রহীতাকে ইনজেকশন নেবার ১২ সপ্তাহ পর পুনরায় আসতে বলুন। তাকে একটা নির্দিষ্ট তারিখ এবং সময় দিয়ে দিন। • প্রয়োজনে নির্ধারিত সময়ের ১৪ দিন আগে বা ২৮ দিন এর মধ্যে তিনি আসতে পারেন তা সেবা গ্রহীতাকে জানিয়ে দিবেন। • ইনজেকশন প্রয়োগের স্থান যদি পেকে যায় বা নির্ধারিত সময়ের ২৮ দিন এর মধ্যে আসতে না পারলে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিন। • যে কোন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলে গ্রহীতাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসতে বলুন। • ডিএমপিএ সম্পর্কিত যে কোন তথ্য রেজিষ্ট্রার এবং গ্রহীতার কার্ডে রেকর্ড করুন। • নম্রভাবে গ্রহীতাকে ধন্যবাদ জানান। [Space for form] ( ) অধ্যায় - ০৬ ইমপ্ল্যান্ট পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ০৬ ইমপ্ল্যান্ট ইমপ্ল্যান্ট শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ অস্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি, যা মহিলাদের বাহুতে চামড়ার নীচে স্থাপন করা হয়। ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদি এই পদ্ধতির কার্যকারিতার সময় নির্ভর করে রডের সংখ্যা এবং হরমোনের ধরনের উপর। ইমপ্ল্যান্ট প্লাস্টিক বা সিলিকন রাবারের তৈরি এক বা একাধিক ক্যাপসুল বিশিষ্ট ডিভাইস, যার ভিতরে কৃত্রিম প্রোজেস্টিন থাকে। চামড়ার নিচে স্থাপনের পর পর ক্যাপসুলের গায়ের অসংখ্য আণুবীক্ষণিক ছিদ্র দিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রজেস্টিন নিঃসৃত হতে থাকে। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে ৩ বছর মেয়াদি এক রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যানন ব্যবহার শুরু হয়। ২০১৬ সাল থেকে ইমপ্ল্যানন এর মতই ৩ বছর মেয়াদি এক রড বিশিষ্ট অত্যাধুনিক ইমপ্ল্যানন এনএক্সটি ব্যবহার শুরু হয়েছে। ৫ বছর মেয়াদি দুই রডবিশিষ্ট জ্যাডেল বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে ২০১১ সালে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারিভাবে এর ব্যবহার চলছে। এছাড়াও বাংলাদেশে ৪ বছর মেয়াদি দুই রডবিশিষ্ট সাইনো-ইমপ্ল্যান্ট (II)-এর ট্রায়াল সফলতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার ইমপ্ল্যান্ট ইমপ্ল্যানন এনএক্সটি (Implanon NXT) ইমপ্ল্যানন এনএক্সটি ইমপ্ল্যান্ট-এর একটি নতুন ব্র্যান্ড। এটি ৩ বছর মেয়াদি এবং এতে ৬৮ মিলিগ্রাম ইটোনোজেস্ট্রিল থাকে এবং একটি জীবাণুমুক্ত অ্যাপ্লিকেটরে প্রি-লোডেড অবস্থায় থাকে। ইমপ্ল্যানন ক্লাসিক (Implanon Classic) ইমপ্ল্যানন ক্লাসিক এক রড বিশিষ্ট ৩ বছর মেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট। ইমপ্ল্যাননে ৬৮ মিলিগ্রাম ইটোনোজেস্ট্রিল ইথিনিল-ভিনাইল অ্যাসিটেট এর একটি পলিমার ক্যাপসুলের ভিতর থাকে। এটি একবার ব্যবহার উপযোগী একটি জীবাণুমুক্ত অ্যাপ্লিকেটরে প্রি-লোডেড অবস্থায় থাকে। জ্যাডেল (Jadelle) জ্যাডেল দুই রড বিশিষ্ট ৫ বছর মেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট। জ্যাডেল-এর দু'টি রডের প্রতিটিতে ৭৫ মিলিগ্রাম করে মোট ১৫০ মিলিগ্রাম লেভোনরজেস্ট্রিল থাকে। এর অন্য নাম হচ্ছে নরপ্ল্যান্ট (II)। জ্যাডেল এর দু'টি সিলিকন ক্যাপসুল (সাইলাস্টিক টিউব) ট্রকার ও ক্যাপসুলসহ জীবাণুমুক্ত প্যাকেটে থাকে। সাইনো- ইমপ্ল্যান্ট II (Sino-Implant II) এটি দুই রড বিশিষ্ট ৪ বছর মেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট। এর দু'টি রডে ৭৫ মি.গ্রা. করে মোট ১৫০ মি.গ্রা. লেভোনরজেস্ট্রিল থাকে, যা সিলিকন এলাসটোমেরিক আবরণের ভিতর থাকে। বাংলাদেশে সাইনো-ইমপ্ল্যান্ট এর ট্রায়াল সফলতার সাথে সম্পন্ন হলেও পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে এখনও পর্যন্ত তা যুক্ত হয়নি। ইমপ্ল্যান্ট কীভাবে কাজ করে • সার্ভিক্সের নিঃসরণের বা শ্লেষ্মার ঘনত্ব বাড়ায় • ডিম্বস্ফুটন রোধ করে • এন্ডোমেট্রিয়াম এর পুরুত্ব কমিয়ে দেয় কার্যকারিতা ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারে প্রথম বছরে প্রতি ১০০০০ জন মহিলার মধ্যে ১ জনেরও কম গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে। ইমপ্ল্যান্ট যাদের জন্য উপযুক্ত জীবিত সন্তান থাক বা না থাক, বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী সকল প্রজননক্ষম বিবাহিত মহিলারা ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। নববিবাহিত মহিলাও ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। সুবিধা • খুবই কার্যকর • দীর্ঘমেয়াদি • খুলে ফেলার প্রায় সাথে সাথেই গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে • নবদম্পতি অর্থাৎ যাদের এখনও সন্তান হয়নি তারাও ব্যবহার করতে পারেন • যৌন ইচ্ছা বা যৌনমিলনে বাধার সৃষ্টি করে না • প্রসব পরবর্তী মা যারা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাচ্ছেন তারা প্রসবের পর পরই এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করতে পারেন • যারা ইস্ট্রোজেনসমৃদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন না তাদের জন্য এটা একটি উপযোগী পদ্ধতি অসুবিধা • মাসিকের স্রাবের ধরণ পরিবর্তন করে • পরতে ও খুলতে হলে সেবা কেন্দ্রে যেতে হয় • প্রজেস্টেরন হরমোনে সংবেদনশীল (Hypersensitivity) এমন মহিলা এটি ব্যবহার করতে পারে না ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের সময়কাল • মাসিকের ১-৫ দিনের মধ্যে • মিশ্র খাবার বড়ি গ্রহীতার ক্ষেত্রে- - সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হল শেষ খাবার বড়ি (সাদা বড়ি) খাওয়ার পরদিন - এছাড়া সবগুলো বড়ি (আয়রনসহ) খাওয়া শেষ হলে তার পরদিন • অন্য কোন প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ পদ্ধতি ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে- - মিনিপিল বাদ দেয়ার দিন - ইমপ্ল্যান্ট খোলার দিন - ইনজেকশন এর মেয়াদ কার্যকর থাকা অবস্থায় • আইইউডি খোলার দিন • প্রসব পরবর্তী সময়ে- প্রসবের পর থেকে যে কোন সময় (যদি গর্ভবতী নয় তা নিশ্চিত হওয়া যায়) • গর্ভপাত বা এমআর (MR)-এর পর পরই কাউন্সেলিং আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে গ্রহীতাকে বিভিন্ন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য প্রদান এবং পছন্দসই ও সঠিক পদ্ধতি বাছাইয়ে সহায়তা করাই হচ্ছে কাউন্সেলিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। যেহেতু ইমপ্ল্যান্ট একটি দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি এবং এতে ছোট ধরনের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়, তাই ইমপ্ল্যান্ট গ্রহীতাদের জন্য সঠিক এবং বিস্তারিত তথ্য প্রদান অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কাউন্সেলিংয়ের উদ্দেশ্য • সহজ ভাষায় গ্রহীতাকে ইমপ্ল্যান্ট সম্পর্কে সঠিক এবং বিস্তারিত তথ্য প্রদান • ইমপ্ল্যান্ট সম্পর্কে গ্রহীতার কোন ভয়-ভীতি বা ভুল ধারণা থাকলে তার ওপর বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সেই ভয়-ভীতি দূর করা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা • অন্যান্য পদ্ধতিসহ ইমপ্ল্যান্টের কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, সুবিধা-অসুবিধা বুঝিয়ে বলা এবং লিখিত সম্মতি নেয়া • ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলার পর গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসার সময় সম্পর্কে বলা • গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে গ্রহীতার করণীয় সম্পর্কে বুঝিয়ে বলা • ফলো-আপের প্রয়োজনীয়তা এবং সময় সম্পর্কে গ্রহীতাকে অবহিত করা • পদ্ধতিজনিত যে কোন অসুবিধায় ক্লিনিকে সেবা গ্রহণের সুযোগ সম্পর্কে গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করা গ্রহীতা বাছাইকরণ ইমপ্ল্যান্ট প্রদানের পূর্বে ইচ্ছুক গ্রহীতার ব্যক্তিগত, প্রজনন ও মেডিক্যাল ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে। উক্ত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষার প্রাপ্ত বিষয়গুলো "ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণবিবরণী ও বাছাইকরণ ফরম"-এ লিপিবদ্ধ করতে হবে। ইস্প্ল্যান্ট এর উপযুক্ততা ও অনুপযুপক্ততা নিম্নে বর্ণিত কারণ গুলো ছাড়া সকল সক্ষম মহিলাকে ইমপ্ল্যান্ট দেওয়া যাবে। যে সকল অবস্থায় ইমপ্ল্যান্ট দেওয়া যাবে না।) • বর্তমানে অবিবাহিত/বিধবা/তালাক প্রাপ্ত/স্বামী থেকে পৃথক • মহিলা যদি গর্ভবতী হন • স্তনের ক্যান্সার: বর্তমানে আছে বা পূর্বে ছিল • বর্তমানে পায়ের শিরা ফোলা বা ব্যথা/পালমোনারি এ্যাম্বোলিজম। (DVT/PE) আছে • যোনি পথে রক্তস্রাব যার কারণ জানা নাই • লিভারের রোগ- মারাত্মক সিরোসিস, লিভারের টিউমার, ক্যান্সার বিদ্রঃ সকল সেবা প্রদানকারী গ্রহীতার উপযুক্ততা যাচাই এর ক্ষেত্রে ডিসেম্বর ২০১৬ তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর হতে মুদ্রিত MEC এর হুইল ব্যবহার করবেন। চিত্র: বাহুর ভিতরের দিকে কনুইয়ের ভাজ থেকে ৮-১০ সে.মি. উপরে ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করা হয় ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ ও খোলা ইমপ্ল্যান্ট সাধারণত বাম হাতের কনুই এর ভাঁজ (হিউমেরাসের মেডিয়াল এপিকন্ডাইল) থেকে ৮-১০ সেন্টিমিটার উপরে বাহুর ভিতরের দিকে প্রয়োগ করা হয়। বাহুর চারিদিকে বাইরের দিকে রয়েছে চামড়া বা ত্বক, তার ঠিক নীচে রয়েছে সাবকিউটেনিয়াস টিস্যু অর্থাৎ নরম চর্বি জাতীয় কোষ দিয়ে তৈরি স্তর। এই স্তরে ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ করতে হয়। প্রয়োগের সময় বাইসেপস্ ও ট্রাইসেপস্ পেশির মধ্যবর্তী নীচু অংশটি (Groove) সতর্কতার সাথে পরিহার করতে হবে কারন এর গভীরে রয়েছে রক্তবাহী নালি (ধমনী ও শিরা) এবং স্নায়ু (নার্ভ)। ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম • হাত ধোয়ার সাবান ও পানি • জীবাণুমুক্ত মার্কার • জীবাণুমুক্ত গ্লাভস্ • জীবাণুমুক্ত কাপড়/সার্জিক্যাল ডট্র্যাপ (Surgical drape), ছিদ্রযুক্ত সার্জিক্যাল ট্র্যাপ (জ্যাডেল এর ক্ষেত্রে) • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ রাখার জন্য পাত্র বা গালিপট • সোয়াব/ স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ • সার্জিক্যাল রেড সহ স্কালপেল • জীবাণুমুক্ত তুলার বল ৩-৫টি • জীবাণুমুক্ত গজ • এডি/ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ • স্থানীয়ভাবে অবশকরণ ঔষধ (১% লিডোকেইন, অ্যাড্রিনালিন ছাড়া) • হাইড্রোকলয়েড ড্রেসিং/ব্যান্ড এইড, সাধারণ ব্যান্ডেজ • সেফটি বক্স • ইমপ্ল্যান্ট ইস্প্ল্যান্ট প্রয়োগের/স্থাপনের সাধারণ প্রস্তুতি • ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের পূর্বেই সকল আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে • গ্রহীতা অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে • গ্রহীতার সাথে কুশল বিনিময় করতে হবে। নিশ্চিত হতে হবে যে গ্রহীতা গর্ভবতী নন এবং সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে তার ধারণা আছে। আরও নিশ্চিত হতে হবে যে, তার এমন কোনো শারীরিক অসুস্থতা নেই যার কারণে গ্রহীতা বাছাইকরণে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন • গ্রহীতার স্থানীয়ভাবে অবশকরণ ঔষধে (লোকাল অ্যানেসথেটিক) অ্যালার্জি আছে কি না জেনে নিতে হবে • কীভাবে ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করা হয় তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে এবং গ্রহীতার সব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে • গ্রহীতাকে টেবিলে চিত হয়ে শুতে সাহায্য করতে হবে। গ্রহীতাকে টেবিলে এমনভাবে শোয়াতে হবে যাতে তার হাতটি মাথার পাশে একটি ড্রেপিং শিটের উপর অল্প বাঁকানো অবস্থায় বা আর্ম রেস্ট এ প্রসারিত অবস্থায় থাকে • বাহুর ভিতরের দিকে কনুইয়ের ভাঁজ থেকে ৮-১০ সেন্টিমিটার উপরে ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের স্থান মার্কারের সাহায্যে চিহ্নিত করতে হবে • সার্জিক্যাল হ্যান্ড্যাব করে ভালভাবে হাত শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস্ পরে নিতে হবে • ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের জায়গায় দুইবার অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করতে হবে ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন এক রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট (এনএক্সটি) স্থাপনের ধাপসমূহ বেগুনী স্লাইডার প্রয়োগের স্থান চিহ্নিত ও চামড়া জীবাণুমুক্ত করার পর চামড়ার নিচে ২ মি.লি. ১% লিডোকেইন প্রয়োগ করে ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ধাপ ১ জীবাণুমুক্ত উপায়ে প্যাকেট থেকে ইমপ্ল্যানন এনএক্সটি বের করতে হবে এবং অ্যাপ্লিকেটর এর খাঁজকাটা অংশে বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনী দিয়ে ধরতে হবে। স্বচ্ছ সুরক্ষা ক্যাপটি আনুভূমিকভাবে বাইরের দিকে স্লাইড করে বের করতে হবে। সুচের অগ্রভাগে ইমপ্ল্যান্টটি দেখা যাবে। দাঁড়িয়ে নীচের দিকে না তাকিয়ে বরং বসে সেবাদানকারীকে পাশ থেকে দেখতে হবে। ধাপ ২ সেবাদানকারীকে তার মুক্ত হাত দিয়ে চামড়ার বিপরীত দিকে আকর্ষণ প্রয়োগ করে/চামড়া টান টান করে ধরে সুচটিকে ৩০ ডিগ্রি কোণ করে ঢোকাতে হবে। ধাপ ৩ সুচ দিয়ে চামড়া ছিদ্র হওয়ার পর, অ্যাপ্লিকেটরটি চামড়ার সাথে আনুভূমিকভাবে (শূন্য ডিগ্রি কোণে) ধরতে হবে এবং সুচ দিয়ে চামড়া একটু উঁচু করে সম্পূর্ণ সুচটি চামড়ার নিচে স্লাইড করে ঢুকিয়ে দিতে হবে। সুচটি চামড়ার নিচে সম্পূর্ণ প্রবেশ করার আগে কোনভাবেই বেগুনী স্লাইডারটি হাত দিয়ে স্পশ করা যাবে না। ধাপ ৪ সুচটি চামড়ার নিচে পুরোপুরি প্রবেশ করলে, অ্যাপ্লিকেটরটি প্রয়োগের স্থানে স্থির রেখে, চিকিৎসক তার তর্জনী দিয়ে বেগুনী স্লাইডারটিকে নিচের দিকে এবং পিছনের দিকে ঠেলতে থাকবেন যতক্ষণ পর্যন্ত এটি লক না হয়। বেগুনী স্লাইডারটি লক না হলে ইমপ্ল্যান্ট সঠিকভাবে স্থাপিত হবে না। ধাপ ৫ এই পর্যায়ে সুচটি অ্যাপ্লিকেটরের ভেতরে প্রবেশ করবে এবং অ্যাপ্লিকেটরটি প্রয়োগের স্থান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ইমপ্ল্যাননটি তৎক্ষণাৎ হাত দিয়ে অনুভব করে নিশ্চিত হতে হবে তা যথাযথ ভাবে স্থাপন করা হয়েছে কিনা এবং অ্যাপ্লিকেটর সুচটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে ইমপ্ল্যান্ট ভেতরে রয়ে যায়নি। ধাপ ৬ এক রড বিশিষ্ট ইস্প্ল্যান্ট (ক্লাসিক) স্থাপনের ধাপসমূহ প্রয়োগের স্থান চিহ্নিত ও চামড়া জীবাণুমুক্ত করার পর চামড়ার নিচে ২ মি.লি. ১% লিডোকেইন প্রয়োগ করে ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। এরপর প্যাকেট হতে জীবাণুমুক্ত উপায়ে অ্যাপ্লিকেটর যের করে আনতে হবে। ইমপ্ল্যান্টের রডটি অ্যাপ্লিকেটরের নিডলের মধ্যে আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখে নিডলের কভার খুলে ফেলতে হবে। ধাপ ১ ইনসারশন স্থানের চামড়া টান টান করে ধরতে হবে। ধাপ ২ চামড়া একটু উচু করে ধরে নিডল ২০° কোণে চামড়ার নিচে (Sub-cutaneous) ঢুকাতে হবে। ধাপ ৩ চামড়ার নিচে সমান্তরালভাবে নিডল অগ্রসর করাতে হবে। ধাপ ৪ নিডলটি সম্পূর্ণ প্রবেশ করাতে হবে। ধাপ ৫ অবটুরেটরের সাপোর্টে চাপ দিয়ে অ্যাপ্লিকেটরের সিল ভাঙ্গতে হবে। ধাপ ৬ অবটুরেটর ৯০° পর্যন্ত ঘুরিয়ে একহাতে ধরে স্থির অবস্থায় রাখতে হবে। ধাপ ৭ অন্য হাত দিয়ে নিডলটিকে টেনে বের করে আনতে হবে। ধাপ ৮ দুই রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের ধাপসমূহ প্রয়োগের স্থান চিহ্নিত ও চামড়া জীবাণুমুক্ত করে ছিদ্রযুক্ত ট্র্যাপিং দিয়ে ঢেকে চিহ্নিত স্থানে ৫ মি.লি. ১% লিডোকেইন চামড়ার নিচে V আকৃতিতে প্রয়োগ করে ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। ধাপ- ১ স্কালপেল দিয়ে অবশকৃত স্থানের চামড়ায় ২ মি.মি. পরিমাণ ইনসিশন দিতে হবে। ধাপ - ২ ট্রকারের সুঁচালো মাথা চামড়ার ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করাতে হবে। এরপর চামড়া একটু উপরে টেনে তুলে ট্রকার একটু কোনাকুনি রেখে প্রথম দাগ পর্যন্ত প্রবেশ করাতে হবে। ধাপ - ৩ এরপর প্লান্জারটি বের করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ট্রকারটি চেপে ধরে ১ টি ইমপ্ল্যান্ট ট্রকারে লোড করতে হবে। ধাপ - ৪ ইমপ্ল্যান্টটি প্লান্জার দিয়ে সামনের দিকে ঠেলতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত বাধা না পায়। তবে প্লান্জার কখনও জোর দিয়ে ঠেলা যাবে না। ধাপ - ৫ এবার প্লান্জারটি স্থির করে ধরে রেখে ট্রকারটি ২য় দাগ পর্যন্ত বের করতে হবে। এর ফলে চামড়ার নিচে ইমপ্ল্যান্টটি স্থাপিত হয়ে যাবে। এ পর্যায়ে চামড়ার নিচে স্থাপিত ইমপ্ল্যান্টটি হাত দিয়ে অনুভব করে দেখা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে, ২য় ইমপ্ল্যান্টটি প্রয়োগ না করা পর্যন্ত ট্রকার পুরোপুরি বের করা যাবে না ধাপ - ৬ এরপর প্রথম ইমপ্ল্যান্টটি এক হাতের তর্জনী ও মধ্যমা দিয়ে চেপে ধরে প্রথম ইমপ্ল্যান্টের সাথে ৩০ ডিগ্রি কোণ করে ঠিক একই কায়দায় দ্বিতীয় ইমপ্ল্যান্টটি স্থাপন করতে হবে। ইমপ্ল্যান্ট দুটি সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে কিনা তা হাত দিয়ে অনুভব করতে হবে। ইমপ্ল্যান্ট দুটি এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যেন এগুলির নিকটবর্তী প্রান্ত ইনসিশন থেকে অন্ততঃ ৫ মিলিমিটার দূরে থাকে। ধাপ - ৭ ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের পর করণীয় • যদি রক্তক্ষরণ হয় তাহলে জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে চেপে ধরতে হবে • প্রয়োগ স্থানটিতে ব্যান্ডএইড/টেপ লাগিয়ে জীবাণুমুক্ত গজের সাহায্যে ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে • সিরিঞ্জ, অ্যাপ্লিকেটর/ট্রকার ক্যানুলা সেফটি বক্সে রাখতে হবে • গজ, তুলা এবং অন্যান্য বর্জ্যসমূহ ঢাকনাযুক্ত বর্জ্য ফেলার বালতিতে রাখতে হবে • ব্যবহৃত গ্লাভস্ বর্জ্য অপসারণের নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলতে হবে • গ্লাভস্ খোলার পর হাত সাবান ও পানিতে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে • গ্রহীতার ফাইলে/কার্ডে ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের তথ্য নোট করতে হবে • ঔষধ সরবরাহ ট্যাবলেট প্যারাসিটামল ১০টি- ১টি করে দিনে ২/৩ বার ভরা পেটে খেতে হবে ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ পরবর্তী কাউন্সেলিং • ইমপ্ল্যান্ট গ্রহীতার কার্ড পূরণ করে নির্দেশনাসমূহ বুঝিয়ে দিতে হবে এবং কার্ডটি সংরক্ষণ করতে বলতে হবে • প্রত্যেকবার সেবাকেন্দ্রে আসার সময় তথ্য সম্বলিত ফলো-আপ কার্ড সঙ্গে আনতে বলতে হবে • উপদেশসমূহ- - প্রয়োগের পরপরই স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করা যেতে পারে। তবে প্রয়োগস্থানে চুলকানো, ভারী জিনিস বহন বা অতিরিক্ত চাপ এড়িয়ে চলতে হবে - গ্রহীতা নিজেই বাইরের বাঁধা ব্যান্ডেজটি ২৪ ঘণ্টা পর খুলে ফেলতে পারবেন এবং ভিতরের ছোট ব্যান্ডেজ/ব্যান্ডএইড/টেপ ৩-৫ দিন। পর খুলতে হবে। এ সময়ে ক্ষতস্থানে পানি লাগানো যাবে না - অ্যানেসথেসিয়ার কার্যকারিতা শেষ হওয়ার পর ব্যথা হতে পারে; এজন্য প্যারাসিটামল ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট ভরা পেটে খেতে হবে - কয়েকদিন প্রয়োগের স্থান একটু লাল হয়ে থাকতে পারে; এজন্য কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হবে না • রুটিন ফলো-আপ এবং যে সব বিশেষ অবস্থায় মাঠকর্মী বা নিকটস্থ সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে তা বুঝিয়ে দিতে হবে • গ্রহীতার ইমপ্ল্যান্ট সংক্রান্ত কোন প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর দিতে হবে ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ পরবর্তী ফলো-আপ ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের পর ফলো-আপ • নিয়মিত ফলো-আপের জন্য মোট তিন (৩) বার ক্লিনিকে আসতে বলা হয় - ১ম ফলো-আপ স্থাপনের ১ মাস পর ৭ দিন ২য় ফলো-আপ স্থাপনের ৬ মাস পর । ১ মাস ৩য় ফলো-আপ স্থাপনের ১২ মাস পর + ১ মাস • এছাড়াও জরুরি অবস্থা দেখা দিলে যে কোন সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্র/ক্লিনিকে আসার পরামর্শ দিতে হবে যে সমস্ত কারণে সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে • ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের স্থানে সংক্রমণ হলে • ইমপ্ল্যান্ট বের হয়ে আসলে • প্রচন্ড মাথাব্যথা হলে • চোখে ঝাপসা দেখলে • তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হলে • অতিরিক্ত/অনিয়মিত রক্তস্রাব হলে নিয়মিত ফলো-আপে করণীয় • গ্রহীতার ইমপ্ল্যান্ট সংক্রান্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা বা কোন সমস্যা আছে কিনা তা শুনতে হবে • গ্রহীতার কোন প্রশ্ন বা কোন কিছু জানার থাকলে তার উত্তর দিতে হবে • যদি গ্রহীতা সামগ্রিকভাবে ইমপ্ল্যান্ট নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে যে বিষয়গুলো পুনরায় মনে করিয়ে দিতে হবে তা হল - কী কী কারণে সেবাকেন্দ্রে আসতে হবে বা বিপদজনক লক্ষণসমূহ - ইমপ্ল্যান্টের মেয়াদকাল অর্থাৎ কতদিন পর ইমপ্ল্যান্ট খুলতে হবে প্রসব পরবর্তী ইম্প্ল্যান্ট ফলো-আপে করণীয় • গ্রহীতা সন্তুষ্ট কিনা জানতে হবে • গ্রহীতার স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে কিনা জানতে হবে • গ্রহীতার কোন প্রশ্ন আছে কিনা তা জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী তাকে উত্তর দিতে হবে • ইমপ্ল্যান্টজনিত কোন সমস্যা হলে বা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাইলে গ্রহীতাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে বলতে হবে • ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের জায়গা পরীক্ষা করে দেখতে হবে (হাতে অনুভব হয় কিনা, অ্যালার্জি বা সংক্রমণ আছে কিনা) • তথ্য রেকর্ড করতে হবে ইস্প্ল্যান্ট খোলা ইমপ্ল্যান্ট খোলা একটি সহজ পদ্ধতি। ছোট হলেও এটি একটি অপারেশন; তাই অবহিত সম্মতির প্রয়োজন আছে। ইমপ্ল্যান্ট খোলার সময় নিম্নলিখিত বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে- • জীবাণুমুক্ত অবস্থা • টিস্যুর আঘাত কম হওয়ার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে খোলা ইস্প্ল্যান্ট খোলার কারণসমূহ • মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে • গ্রহীতা সন্তান নিতে চাইলে • গ্রহীতার খোলার ইচ্ছা প্রকাশ করলে • সামাজিক কারণ (আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে) - স্বামীর মৃত্যু, স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ • ইমপ্ল্যান্ট সংক্রান্ত জটিলতা (এ ক্ষেত্রে অতিসত্ত্বর খুলে ফেলতে হবে) • বারবার মাথা ব্যথা বা প্রথমবারের মতো মাইগ্রেন জাতীয় ব্যথা • চোখের যে কোন তীব্র অসুবিধা বা ঝাপসা দেখা • থ্রম্বোফ্লেবাইটিস (Thrombophlebitis) বা থ্রম্বোএম্বোলিজম (Thromboembolism) • রক্তচাপের লক্ষণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি • গর্ভধারণ • যকৃতের গুরুতর অসুখ। ইমপ্ল্যান্ট খোলার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম • হাত ধোয়ার সাবান ও পানি • মার্কার • জীবাণুমুক্ত গ্লাভস্ • জীবাণুমুক্ত কাপড় সার্জিক্যাল ড্যাপ (Surgical drape) • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ রাখার জন্য পাত্র বা গালিপট • সোয়াব/ স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ • সার্জিক্যাল ব্লেডসহ স্কালপেল • জীবাণুমুক্ত তুলার বল ৩-৫টি • জীবাণুমুক্ত গজ • এডি/ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ • স্থানীয়ভাবে অবশকরণ ঔষধ (১% লিডোকেইন, অ্যাড্রিনালিন ছাড়া) • হাইড্রোকলয়েড ড্রেসিং/ব্যান্ড এইড, সাধারণ ব্যান্ডেজ • সেফটি বক্স • মসকিউটো ফরসেপস ২টি • ইউ (U) ফরসেপ ইস্প্ল্যান্ট খোলার ধাপসমূহ হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরতে হবে। খোলার স্থান দুইবার অ্যান্টিসেপটিক ওয়াশ দিয়ে ট্র্যাপিং শিট দিয়ে ঢাকতে হবে। ধাপ - ১ গ্রহীতার হাত সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে হবে। ইমপ্ল্যান্ট এর অবস্থান নির্ণয় ও চিহ্নিত করতে হবে। ধাপ – ২ চামড়া জীবাণুমুক্ত করে রডের দূরবর্তী প্রান্তে (কনুইয়ের দিকে) ২ মি.লি. ১% লিডোকেইন প্রয়োগ করতে হবে। ধাপ – ৩ রডের দূরবর্তী প্রান্তে চামড়ায় স্কালপেল দিয়ে ২-৩ মি.মি. ইনসিশন দিতে হবে। ধাপ - ৪ রডের নিকটবর্তী প্রান্তে চাপ দিয়ে ঠেলে দিতে হবে এবং মসকিউটো ফরসেপ দিয়ে ক্যাপসুলটি ধরতে হবে। ধাপ - ৫ রডটি ফাশাল শিথ দ্বারা আবৃত থাকলে ইনসিশন দিয়ে মসকিউটো ফরসেপের সাহায্যে ইমপ্ল্যান্ট বের করে আনতে হবে প্রয়োজনে U ফরসেপ ব্যবহার করতে হবে। ধাপ - ৬ ক্ষতস্থানে জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং দিতে হবে। ধাপ - ৭ ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে বা ধুয়ে ফেলতে হবে ও অন্যান্য বর্জ্য বালতিতে রাখতে হবে। গ্লাভস খুলে ক্লোরিন দ্রবণে রাখতে হবে ও হাত সাবান পানি দিয়ে ধুতে হবে। তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। ধাপ – ৮ খোলার পর কাউন্সেলিং • গ্রহীতাকে বলতে হবে প্রথম কয়েকদিন সামান্য ব্যথা করতে পারে এবং লালভাব থাকতে পারে • বাইরের বাঁধা ব্যান্ডেজটি ২৪ ঘন্টা পর খুলে ফেলা যাবে এবং ভিতরের ছোট ব্যান্ডেজটি ৩-৫ দিন পর খুলতে হবে। এ সময়ে ক্ষতস্থানে পানি লাগানো যাবে না • যদি ক্ষতস্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন জ্বর, ফুলে যাওয়া অথবা একটানা ব্যথা, তাহলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসতে হবে • ইমপ্ল্যান্ট খোলার পর গর্ভধারণ ক্ষমতা তাড়াতাড়ি ফিরে আসে এবং গ্রহীতা গর্ভবতী হয়ে যেতে পারেন। সুতরাং তিনি যদি বর্তমানে আর কোন সন্তান না চান তাহলে তাকে অন্য কোন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য বলতে হবে • পরবর্তীতে কখন আসতে হবে তা বলতে হবে • গ্রহীতার কোন প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর দিতে হবে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, জটিলতা এবং এর ব্যবস্থাপনা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া • দুই মাসিকের মাঝে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত যাওয়া • বমি বমি ভাব • অনিয়মিত মাসিক • দীর্ঘ সময় ধরে মাসিক • মাসিক বন্ধ থাকা • মাথাব্যথা • পেটে ব্যথা • ওজনের পরিবর্তন • স্তনে টনটনে ব্যথা • মাথা ঝিমঝিম করা প্রয়োগ স্থানের উপসর্গসমূহ • ব্যথা • লাল হয়ে যাওয়া • ফুলে যাওয়া • হেমাটোমা • সংক্রমণ • ইমপ্ল্যান্টের রড বেরিয়ে যাওয়া ইম্প্যান্টের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ও জটিলতার ব্যবস্থাপনা ক. মাসিকজনিত পরিবর্তন ১. মাসিক বন্ধ কোন কোন গ্রহীতার পরপর তিন মাস মাসিক বন্ধ থাকে বা কিছু কিছু ক্ষেত্রে এক বছর বা তার চেয়ে বেশী সময় মাসিক বন্ধ থাকে। ব্যবস্থাপনা • প্রথমেই বুঝতে হবে গ্রহীতা গর্ভবতী কিনা বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ করেছেন কি-না। এটা বুঝার জন্য যা করা যেতে পারে, তা হল- - গ্রহীতার শেষ মাসিকের ইতিহাস নেয়া - গ্রহীতার পিভি পরীক্ষা করা - প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা নির্ণয় করা - প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা নির্ণয়ের সুযোগ না থাকলে এবং পিভি পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা না গেলে, ২ সপ্তাহ পর পুনরায় পিভি কন (গর্ভবতী হলে এক্ষেত্রে অবশ্যই পিভি পরীক্ষায় বোঝা যাবে) গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা - গ্রহীতা যদি গর্ভবতী না হন তবে মাসিক বন্ধের ব্যাপারে তার অনুভূতি এবং প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে হবে। বোঝাতে হবে যে মাসিক বন্ধ থাকা অসুস্থতার লক্ষণ না বা তার জন্য ক্ষতিকর না; বরং এর ফলে তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়বে। - যদি গ্রহীতা গর্ভবতী হন, তবে এটা পদ্ধতির ব্যর্থতা। এ ক্ষেত্রে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে হবে। ২. কদাচিৎ রক্তস্রাব ইমপ্ল্যান্ট গ্রহীতার যদি প্রতি মাসে তিন বারের কম সময়ে রক্তস্রাব দেখা যায় এবং পর পর তিন মাসিক চক্রে এ অবস্থা হয়, তবে তাকে কদাচিৎ রক্তস্রাব বলে। ব্যবস্থাপনা • নিশ্চিত হতে হবে যে গ্রহীতার গর্ভাবস্থা বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ, সারভিক্সে পলিপ বা সারভিক্সে ইরোসোন আছে কিনা, এর জন্য যা করতে হবে তা হলো- -পিভি পরীক্ষা করা - রক্তস্বল্পতা পরীক্ষা করা, সম্ভব হলে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা - প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা - ভায়া পরীক্ষা (VIA) করা, সম্ভব হলে প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করা • উপরোক্ত পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা করা চিকিৎসা • আয়রন ও ফলিক এসিড ট্যাবলেট-১টা ট্যাবলেট দিনে দুইবার ৩ মাস • ট্যাবলেট আইবুপ্রোফেন -৪০০ মি.গ্রা. থেকে ৮০০ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার (ভরা পেটে) ৩-৫ দিন/সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী ৩. মাঝে মাঝে রক্তস্রাব (Frequent bleeding) ইমপ্ল্যান্ট গ্রহীতার যদি প্রতি মাসে তিনবার বা তার বেশি সময়ে রক্তস্রাব দেখা যায় এবং পরপর তিন মাসিক চক্রে এ অবস্থা হয়, তবে তাকে মাঝে মাঝে রক্তস্রাব বলে। ব্যবস্থাপনা • প্রথমে নিশ্চিত হতে হবে যে গ্রহীতার গর্ভাবস্থা বা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ বা সার্ভিক্সে পলিপ বা সার্ভিক্সে ইরোসোন আছে কিনা, এর জন্য যা করতে হবে তা হলো- • স্পেকুলাম দিয়ে সার্ভিক্স দেখা, পিভি পরীক্ষা করা, জরায়ুর মুখ পরীক্ষা করা • রক্ত স্বল্পতা পরীক্ষা করা, সম্ভব হলে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা • প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা • VIA পরীক্ষা করা, সম্ভব হলে প্যাপ স্মিয়ার পরীক্ষা করা চিকিৎসা • আয়রন ও ফলিক এসিড ট্যাবলেট- ১ টা করে ট্যাবলেট দিনে দুইবার ৩ মাস • ট্যাবলেট আইবুপ্রোফেন- ৪০০ মিলিগ্রাম থেকে ৮০০ মিলিগ্রাম দিনে ৩ বার (ভরা পেটে) ৩-৫ দিন/সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী • স্বল্প মাত্রার মিশ্র খাবার বড়ি (সুখী) ১ টা ট্যাবলেট প্রতিদিন ১-৩ চক্র (রক্তস্রাব বন্ধ না হলে) • যদি রক্তস্রাব তারপরও বন্ধ না হয় এবং গ্রহীতার কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তবে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে হবে ৪. দীর্ঘায়িত রক্তস্রাব যদি ইমপ্ল্যান্ট গ্রহীতার পর পর তিন মাসিক চক্রে ১৪ দিনের বেশি মাসিক বা রক্তস্রাব থাকে তবে তাকে দীর্ঘায়িত রক্তস্রাব বলে। ব্যবস্থাপনা • নিশ্চিত হতে হবে যে গ্রহীতার জরায়ুতে টিউমার, ক্যান্সার, জরায়ু বা সার্ভিক্স বা ডিম্বাশয়ে কোন অস্বাভাবিকতা বা মারাত্মক রক্তস্বল্পতা বা গর্ভপাত আছে কিনা। এ জন্য যা করতে হবে- - রক্তস্বল্পতা পরীক্ষা করা, সম্ভব হলে হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা করা - রক্তচাপ পরীক্ষা করা - স্পেকুলাম দিয়ে পরীক্ষা এবং পিভি পরীক্ষা করা - পেলভিক পরীক্ষায় সুনির্দিষ্ট কিছু বোঝা না গেলে রেফার করা • উপরোক্ত ফলাফলের উপর ভিত্তি করে কাউন্সেলিং করা ও চিকিৎসা করা চিকিৎসা • আয়রন ও ফলিক এসিড ট্যাবলেট-১ টা করে দিনে দুইবার কয়েক মাস • ট্যাবলেট আইবুপ্রোফেন- ৪০০ মি.গ্রা. থেকে ৮০০ মি.গ্রা. দিনে ৩ বার (ভরা পেটে) সমস্যার তীব্রতা অনুযায়ী • সাধারণ মাত্রার খাবার বড়ি- ১ বড়ি করে রোজ ২ বার ৩-৭ দিন এবং তারপর ১টা প্রতিদিন এক চক্র • গ্রহীতাকে ফলো-আপ করা • যদি রক্তস্রাব তারপরও বন্ধ না হয় এবং গ্রহীতার কাছে গ্রহণযোগ্য না হয় তবে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে হবে খ. গর্ভাবস্থার আশঙ্কা ১. ইমপ্ল্যান্টসহ গর্ভাবস্থা প্রথমেই জরায়ুর বাইরে গর্ভাধারণ হয়েছে কিনা বুঝতে হবে, এর জন্য যা করতে হবে তা হল • গ্রহীতার শেষ মাসিকের তারিখ জানা • গ্রহীতাকে পিভি পরীক্ষা করা • সম্ভব হলে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা/প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থা সম্পর্কে জানা • যদি সম্ভব না হয়, তবে গ্রহীতাকে ১৫ দিন থেকে ১ মাস পর পুনরায় আসতে বলতে হবে গর্ভাবস্থা নির্ণয় করার জন্য। এটা নির্ভর করবে মাসিক বন্ধ থাকা ছাড়াও অন্যান্য লক্ষণ আছে কিনা তার উপর সম্ভাব্য ব্যবস্থাপনা • যদি গ্রহীতা গর্ভবতী হন এবং সন্তান রাখতে চান তাহলে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে হবে। এটা গ্রহীতার সিদ্ধান্ত যে তিনি গর্ভাবস্থা বজায় রাখবেন কিনা। ২. স্বাভাবিক মাসিক চক্রের পর বিলম্বিত মাসিক গ্রহীতা গর্ভবতী কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে এবং সে জন্য যা করতে হবে - • গ্রহীতার জরায়ু পরীক্ষা করা • সম্ভব হলে প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা • গর্ভবতী হলে, ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলা • প্রেগনেন্সি পরীক্ষা নেগেটিভ হলে এবং গর্ভাবস্থার অন্যান্য লক্ষণ না থাকলে বা পরীক্ষায় না বোঝা গেলে গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করা এবং গ্রহীতাকে পরীক্ষার জন্য ১৫ দিন থেকে ১ মাস পর পুনরায় আসতে বলা। গ্রহীতা যদি নিজেকে গর্ভবর্তী সন্দেহ করেন তাহলেও তাকে আসতে বলা • মাসিক বন্ধ থাকা ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারের একটি সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং এর কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যা নেই, এটা গ্রহীতাকে বার বার বুঝাতে হবে। ৩. তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা যে সকল বিষয়ের আশঙ্কা দূর করতে হবে- • সম্ভাব্য জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ (Ectopic pregnancy) • হঠাৎ তলপেটে প্রদাহ • ডিম্বাশয়ে টিউমার • জরায়ুর টিউমার • অ্যাপেনডিসাইটিস • ডিম্বাশয়ে সিস্ট • ডিম্বাশয়ের সিস্ট ফেটে যাওয়া বা পেঁচিয়ে যাওয়া (Ruptured or Twisted ovarian cyst) • লিভারের টিউমার উপরোক্ত যে কোন অবস্থাতেই দ্রুত এবং জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। গ. ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের স্থানে জটিলতা এবং তার ব্যবস্থাপনা ১. প্রয়োগের স্থানে ব্যথা, রক্তপাত বা পুঁজ হওয়া এক্ষেত্রে যা দেখতে হবে তা হলো- • প্রয়োগের স্থানে কোন সংক্রমণ হয়েছে কিনা • প্রয়োগের স্থান ফুলে গেছে কিনা • ইমপ্ল্যান্ট খুলে গেছে কিনা। যদি সংক্রমণ হয় কিন্তু পুঁজ না থাকে তাহলে • ক্ষতের যত্নের দিকটা পুনরায় দেখতে হবে • অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে • গ্রহীতার হাতের অবস্থা দেখার জন্য ৭-১০ দিন পর আসতে বলতে হবে যদি পুঁজ থাকে তাহলে ইনসিশনের মাধ্যমে পুঁজ বের করতে হবে, অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে এবং নিচের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে- • যদি সংক্রমণ ভালো না হয় তাহলে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে হবে • যদি ইমপ্ল্যান্ট আপনা আপনি বের হয়ে যায় তাহলে নতুন ইমপ্ল্যান্ট পরিয়ে দিতে হবে • গ্রহীতাকে ক্ষতস্থান পরিষ্কার ও শুকনা রাখা, দুর্ঘটনাজনিত আঘাত থেকে রক্ষা করার ব্যাপারে কাউন্সেলিং করা • যদি সংক্রমণ ভালো না হয় এবং গ্রহীতা ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে চায়, তবে অন্য কোন পদ্ধতির জন্য গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা • প্রয়োজনে সংক্রমিত জীবাণুর সংবেদনশীলতা পরীক্ষার মাধ্যমে (Culture and sensitivity test) অ্যান্টিবায়োটিক পরিবর্তন করা ২. ইমপ্ল্যান্ট বের হয়ে যাওয়া • গ্রহীতা যদি চান তবে নতুন ইমপ্ল্যান্ট দেয়া • যদি গ্রহীতা ইমপ্ল্যান্ট নিতে না চান তবে অন্য পদ্ধতির জন্য কাউন্সেলিং করা ঘ. অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ১. মাথাব্যথা বা মাইগ্রেন প্রথমে বুঝতে হবে যে এটা স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যা সংক্রান্ত মাইগ্রেন বা উচ্চ রক্তচাপ কিনা এবং এর জন্য যা করতে হবে- • গ্রহীতার রক্তচাপ পরীক্ষা করা • মানসিক সমস্যার ব্যাপারে জানা ও কাউন্সেলিং করা • কখন মাথা ব্যথা হচ্ছে এবং কতক্ষণ পরপর হচ্ছে, পরবর্তী ২ সপ্তাহ গ্রহীতাকে তা লক্ষ্য রাখার জন্য বলা এবং পুনরায় আসতে বলতে হবে • যদি স্নায়বিক সমস্যা সংক্রান্ত তীব্র মাইগ্রেন হয় তবে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে হবে ২. তীব্র মাথাব্যথা/ঝাপসা দৃষ্টি যে সমস্ত সমস্যার আশংকা দূর করতে হবে তা হলো দুঃশ্চিন্তা করার জন্য মাথাব্যাথা, অল্প মাইগ্রেন, উচ্চ রক্তচাপ, চোখে দেখার সমস্যা, মস্তিষ্কে রক্তনালির সমস্যা (Cerebrovascular illness), এর জন্য যা করতে হবে- • গ্রহীতাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা • উপরোক্ত কোন সমস্যা পাওয়া গেলে তার চিকিৎসা করা • রক্তচাপ পরীক্ষা করা • যদি উচ্চ রক্তচাপ অথবা তীব্র মাইগ্রেন নিশ্চিত হওয়া যায়, ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলা ৩. ব্রণ/ত্বকে প্রদাহ • ত্বকে সংক্রমণ বা অ্যালার্জিজনিত সংক্রমণ হয়েছে কিনা বুঝতে হবে • গ্রহীতাকে দুঃশ্চিন্তা না করার জন্য এবং ত্বক শুকনা রাখার জন্য কাউন্সেলিং করতে হবে • প্রয়োজনে ত্বকের ক্রিম ব্যবহার করার জন্য বলা • যদি অ্যালার্জি থাকে তবে সাবান, ক্রিম, পারফিউম এবং অন্যান্য অ্যালার্জিজনিত জিনিসের ব্যবহার না করা ৪. ওজন বৃদ্ধি বা ওজন কমে যাওয়া ওজন বৃদ্ধি যে সমস্ত সমস্যার আশংকা দূর করতে হবে তা হলো গর্ভাবস্থা, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি (১৫% এর বেশি), শরীরে পানি আসা (কিডনির সমস ব্যতীত), এ জন্য যা করতে হবে- • গ্রহীতার উদ্বেগের কারণ জানা • সম্ভব হলে প্রেগনেন্সি টেস্ট করা • সম্ভব হলে কিডনির সমস্যা আছে কিনা তার পরীক্ষা করা • গ্রহীতার খাবারের অভ্যাস জানা • গ্রহীতার জীবন যাত্রার কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা তা জানা • প্রয়োজনে গ্রহীতাকে পরীক্ষা করা • গ্রহীতাকে এ মর্মে কাউন্সেলিং করা যে, ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণ করলে কিছুটা ওজন বাড়তে পারে এবং এতে কোন দুঃশ্চিন্তার কারণ নেই • প্রতি ভিজিটে গ্রহীতার ওজন দেখা ওজন কমে যাওয়া যে সমস্ত সমস্যার আশংকা দূর করতে হবে তা হলো- • ক্ষুধামন্দা • ইনটেস্টাইনের অসুস্থতা • অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ • মানসিকভাবে বিপর্যন্ত • গ্রহীতার নিজস্ব কোন কারণ ব্যবস্থাপনা • গ্রহীতাকে পরীক্ষা করা এবং কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেয়া • গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা এবং প্রয়োজনে ইমপ্ল্যান্ট খুলে দেয়া ৫. রুচির পরিবর্তন যে সমস্ত সমস্যার আশংকা দূর করতে হবে, তা হলো- • খাদ্যনালির অসুস্থতার ইতিহাস • অতিরিক্ত রক্তস্রাব • সমস্যার ধরণ বোঝা (অনেকদিন যাবৎ নাকি অল্প দিন) ব্যবস্থাপনা • স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করা • সাম্প্রতিক কালে স্বাস্থ্যগত কোন পরিবর্তন হয়েছে কি-না তা জানা • এ মর্মে গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা যে ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারে দীর্ঘসময় ধরে রুচির উপর কোন প্রভাব পড়ে না ৬. শুনে ব্যথা গর্ভাবস্থা, স্তনে কোন চাকা বা টিউমার নেই এটা নিশ্চিত হতে হবে,, এর জন্য যা করতে হবে তা হলো- • স্তন পরীক্ষা করা। • পিভি পরীক্ষা অথবা সম্ভব হলে প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা • যদি সম্ভব হয়, মেমোগ্রাম করা ব্যবস্থাপনা • পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়লে রেফার করা • যদি স্তনে ক্যান্সার বা গর্ভাবস্থা হয় তবে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলা • গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা • গ্রহীতার সাথে আলোচনা করা যে কখন ব্যথা শুরু হয়েছিল • পরীক্ষায় কোন কিছু ধরা না পড়লে গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করা। • নিজে নিজে কীভাবে স্তন পরীক্ষা করতে হয়, গ্রহীতাকে তা শিখিয়ে দেয়া • যদি টিউমার থাকে তবে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলা এবং গ্রহীতার পছন্দের ভিত্তিতে হরমোনবিহীন পদ্ধতি দেয়া ৭. স্নায়বিক দুর্বলতা প্রথমে বুঝতে হবে গ্রহীতার বড় রকমের কোন মানসিক সমস্যা আছে কিনা। ব্যবস্থাপনা • গ্রহীতার জীবনে অনুভূতির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা • গ্রহীতার শরীর ও মন নিরুদ্বেগ করার সম্ভাব্য উপায়সমূহ বলা • গ্রহীতাকে বলতে হবে, সে একটি অত্যন্ত কার্যকরী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের কোন সম্ভাবনা নেই ৮. বমি বমি ভাব যে সমস্ত সমস্যার আশংকা দূর করতে হবে, তা হলো গর্ভাবস্থা, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা এবং ভাইরাসজনিত অসুখ। এর জন্য যা করতে হবে- • গ্রহীতাকে পরীক্ষা করা রক্তচাপসহ • প্রেগনেন্সি পরীক্ষা করা • বমি বমি ভাব হওয়ার অন্য কোন কারণ আছে কিনা তা জানতে চাওয়া ব্যবস্থাপনা • গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা • গ্রহীতার প্রতি সহমর্মিতা দেখানো এবং বলা যে সমস্যা কয়েকমাস পর থাকবে না • যদি সমস্যা চলতেই থাকে এবং গ্রহীতা খুলে ফেলতে চায় তাহলে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলা ৯. জন্ডিস জন্ডিস ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের জন্য কোন বাধা নয়। তবে সিরোসিস লিভারের টিউমার ও ক্যান্সার থাকলে ইমপ্ল্যান্ট দেয়া যাবে না। • লিভার বা পিত্তথলির অসুখ নির্ণয় করা এবং প্রয়োজনে রেফার করা • গ্রহীতাকে হরমোনবিহীন পদ্ধতির জন্য কাউন্সেলিং করা ১০. অবাঞ্ছিত লোম উঠা ব্যবস্থাপনা • গ্রহীতার কি পরিমাণ লোম উঠেছে তা জানা • গ্রহীতার আগে থেকেই লোম আছে কি-না তা জানা • গ্রহীতাকে চিকিৎসা দেয়া বা চিকিৎসার জন্য রেফার করা • গ্রহীতা যদি চান তবে অতিরিক্ত লোমের জন্য কাউন্সেলিং করা • ইমপ্ল্যান্টের কারণে অতিরিক্ত লোম উঠলে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জটিলতা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে করণীয় • গ্রহীতার সমস্যা বা উদ্বেগকে উপেক্ষা করা যাবে না • গ্রহীতা যদি দুঃশ্চিন্তা করেন, তবে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে • গ্রহীতা যদি কাউন্সেলিং বা চিকিৎসা পেয়ে সন্তুষ্ট না হন, তবে তার কাছ থেকে জানতে হবে যে, তিনি কি ইমপ্ল্যান্ট রাখতে চান, না খুলে ফেলতে চান। যদি গ্রহীতার সমস্যা ইমপ্ল্যান্ট এর সাথে সম্পৃক্ত নাও হয় বা তার স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি নাও হয়, তবুও যদি খুলে ফেলতে চান তবে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে হবে বা খোলার জন্য রেফার করতে হবে। • গ্রহীতা যদি নতুন পদ্ধতি নিতে চান সে ক্ষেত্রে তাকে ঐ পদ্ধতি গ্রহণে সাহায্য করতে হবে। ইমপ্ল্যান্ট সংক্রান্ত সাধারণ প্রশ্ন - উত্তর প্রশ্ন-১. যে সব মহিলাদের সন্তান নেই তারা কি ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন? জীবিত সন্তান থাক বা না থাক, বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী কেবলমাত্র বিবাহিত মহিলারা ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। বয়সের সাথে ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারের কোন সম্পর্ক নেই। এমনকি নববিবাহিত মহিলাও ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। প্রশ্ন-২. বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েরাও কি ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন? হ্যাঁ। কোন রকম বিধিনিষেধ না থাকলে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন মায়েরাও প্রসবের পর পরই ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন। প্রশ্ন-৩. মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ইমপ্ল্যান্ট শরীরে থাকলে তা কি কোন ক্ষতির কারণ? না। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ইমপ্ল্যান্ট শরীরের কোন ক্ষতি করে না। তবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে। তাই ইমপ্ল্যান্ট খুলে নতুন ইমপ্ল্যান্ট বা অন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা ভাল। প্রশ্ন-৪. ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের পর কোন মহিলা যদি গর্ভবতী হন তবে কি তিনি তা খুলে ফেলার জন্য সেবাকেন্দ্রে যাবেন? হ্যাঁ। ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারকারী মহিলা গর্ভবতী হলে তিনি তা খুলে ফেলার জন্য সেবাকেন্দ্রে যাবেন। প্রশ্ন-৫. ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের পূর্বে প্রত্যেক মহিলার তলপেটে পরীক্ষা আবশ্যক কি না? না। ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের পূর্বে তলপেটে পরীক্ষা অত্যাবশ্যক নয়। তবে মহিলার প্রজননতন্ত্রে কোন অসুবিধা আছে কি-না তা জানার জন্য তলপেটে পরীক্ষা করাই ভাল। প্রশ্ন-৬ . ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ করার পর কোন মহিলার কি পরীক্ষার জন্য আবার সেবাকেন্দ্রে আসা আবশ্যক? হ্যাঁ। আমাদের দেশে ইমপ্ল্যান্ট খোলা নিশ্চিত করা এবং গ্রহীতার কোন শারীরিক অসুবিধা হচ্ছে কিনা দেখার জন্য তাকে ৩ বার ফলো-আপে আসতে হবে। প্রশ্ন-৭. মেয়াদ শেষ হবার পূর্বে যদি কোন মহিলা তার হাতে প্রয়োগকৃত ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে চান, তবে কী করতে হবে? • বিনয়ের সাথে তাকে প্রশ্ন করতে হবে কেন তিনি ইমপ্ল্যান্ট খুলতে চান। • তাকে আশ্বস্ত করতে হবে। • কাউন্সেলিং-এর পরে অবশ্যই পরিষ্কারভাবে তাকে প্রশ্ন করতে হবে যে তিনি ইমপ্ল্যান্ট রাখতে চান না কি খুলে ফেলতে চান এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশ্ন-৮. মোটা মহিলারা ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ থেকে কি বিরত থাকবেন? গবেষণায় দেখা গেছে যে, ৮০ কেজির চেয়ে বেশি ওজনের মহিলাদের কম ওজনের মহিলাদের চেয়ে গর্ভবতী হবার সম্ভাবনা বেশি। তারপরও ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার এসব মহিলাদের জন্য খুবই কার্যকরী। প্রশ্ন-৯. একজন মহিলার শরীরে কি ইমপ্ল্যান্ট ভেঙ্গে যায় অথবা ঘুরে বেড়ায়? না। ইমপ্ল্যান্ট নমনীয় হওয়ায় চামড়ার নিচে ভাঙ্গার সম্ভাবনা থাকে না। সাধারণত অপসারণের আগ পর্যন্ত ইমপ্ল্যান্ট যে জায়গায় স্থাপন করা হয় সে জায়গাতেই থাকে। প্রশ্ন-১০ ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের পর পরই কি একজন মহিলা কাজ করতে পারেন? হ্যাঁ। সেবাকেন্দ্রে থেকে ফিরে আসার পর পরই একজন মহিলা তার দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন, তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তিনি ঐ জায়গায় হঠাৎ কোন আঘাত না পান বা না ভেজান। ইমপ্ল্যান্ট ইনসারশন দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী ইমপ্ল্যান্ট ক্লায়েন্টদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়াদি নিশ্চিত করবেন প্রটোকল অনুযায়ী ইনসারশন পূর্ব কাউন্সেলিং এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম • গ্রহীতা ইমপ্ল্যান্ট নেবার উপযুক্ত কিনা নিশ্চিত করুন • ইমপ্ল্যান্ট লাগানোর আগে এবং পরে পদ্ধতিটির কার্যকারিতা, পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া, সুবিধা-অসুবিধা বুঝিয়ে বলুন। • ইমপ্ল্যান্টের মেয়াদ সর্ম্পকে তথ্য দিন। গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করুন, তিনি চাইলে যে কোন সময়ে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলতে পারবেন। • ইমপ্ল্যান্ট এইডস বা যৌনরোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে না, প্রয়োজনে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিন। • গ্রহীতা গর্ভবতী কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। (সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে) • ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের ধাপ-গুলো বর্ণনা করুন। • জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গ্রহীতার পছন্দ কে গুরুত্ব দিন, পদ্ধতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গ্রহীতাকে অন্য পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করুন। ইমপ্ল্যান্ট নেবার জন্য গ্রহীতার সম্মতি পত্রে স্বাক্ষর/ বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ নিন। গ্রহীতাকে সম্মতি পত্র পড়তে দিতে হবে। গ্রহীতা পড়তে না পারলে তাকে পড়ে শোনাতে হবে। • শারীরিক পরীক্ষা (ব্লাড প্রেসার, এনিমিয়া) পেলভিক পরীক্ষা (যদি প্রয়োজন হয়) করতে হবে ইমপ্ল্যান্ট ইনসারশন (প্রয়োগ) ইমপ্ল্যান্ট ইনসারশন পূর্ব প্রস্তুতির জন্য প্রোটোকল অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। • গ্রহীতা তার বাহু ভাল করে ধুয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে হবে। • বাহুর ভেতরের দিকে কনুয়ের ভাঁজ থেকে ৮-১০ সে.মি. উপরে ইমপ্ল্যান্ট ইনস্যরশনের জন্য স্থান চিহ্নিত করতে হবে। • ভালভাবে হাত ধোয়ার পরে শুকিয়ে নিতে হবে। • ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের পূর্বেই সকল আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি ও জিনিসপত্র জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে। • গ্রহীতা অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন কিনা তা নিশ্চিত হতে হবে। • সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্রাব করে ভালভাবে হাত শুকিয়ে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরে নিতে হবে। • ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের জায়গায় দুইবার অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ এক রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের ধাপসমূহ • প্রয়োগের স্থান চিহ্নিত ও জীবাণুমুক্ত করার পর ছিদ্রযুক্ত ট্র্যাপিং দিয়ে ঢেকে চামড়ার নিচে ২ মি. লি. ১% লিডোকেইন প্রয়োগ করে ৩/৪ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। • জীবাণুমুক্ত উপায়ে প্যাকেট থেকে ইমপ্ল্যানন এনএক্সটি বের করতে হবে এবং অ্যাপ্লিকেটের এর খাঁজকাটা অংশে বৃদ্ধাঙ্গুল ও তর্জনী দিয়ে ধরতে হবে। স্বচ্ছ সুরক্ষা ক্যাপটি আনুভূমিকভাবে বাইরের দিকে স্নাইড করে বের করতে হবে। সূচের অগ্রভাগে ইমপ্ল্যান্টটি দেখা যাবে। দাঁড়িয়ে নিচের দিকে না তাকিয়ে বরং বসে সেবাদানকারীকে পাশ থেকে দেখতে হবে। • সেবাদানকারীকে তার মুক্ত হাত দিয়ে চামড়ার বিপরীত দিকে আর্কষণ প্রয়োগ করে/চামড়া টান টান করে ধরে সূঁচটিকে ৩০ ডিগ্রি কোণ করে ঢোকাতে হবে। • সূচ দিয়ে চামড়া ছিদ্র হওয়ার পর, অ্যাপ্লিকেটরটি চামড়ার সাথে আনুভূমিক ভাবে (শূন্য ডিগ্রি কোণে) ধরতে হবে এবং সূঁচ দিয়ে চামড়া একটু উঁচু করে সম্পূর্ণ সূঁচটি চামড়ার নিচে স্লাইড করে ঢুকিয়ে দিতে হবে। সূঁচটি চামড়ার নিচে সম্পূর্ণ প্রবেশ করার আগে কোনভাবেই বেগুনী স্নাইডার টি হাত দিয়ে স্পর্শ করা যাবে না। • সূঁচটি চামড়ার নিচে পুরোপুরি প্রবেশ করলে অ্যাপ্লিকেটরটি প্রয়োগের স্থান স্থির রেখে, চিকিৎসক তার তর্জনী দিয়ে বেগুনী স্নাইডারটি নিচের দিকে এবং পেছনের দিকে ঠেলতে থাকবেন যতক্ষণ পর্যন্ত এটি লক না হয়। বেগুনী স্নাইডারটি লক না হলে ইমপ্ল্যান্ট সঠিক ভাবে স্থাপিত হবে না। • এই পর্যায়ে সূঁচটি অ্যাপ্লিকেটরের ভেতর প্রবেশ করবে এবং অ্যাপ্লিকেটরটি প্রয়োগের স্থান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ইমপ্ল্যাননটি তৎক্ষণাৎ হাত দিয়ে অনুভব করে নিশ্চিত হতে হবে তা যথাযথভাবে স্থাপন করা হয়েছে কিনা এবং অ্যাপ্লিকেটর সূঁচটি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যে ইমপ্ল্যান্ট ভেতরে রয়ে যায়নি। দুই রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের ধাপসমূহ • প্রয়োগের স্থান চিহ্নিত ও চামড়া জীবাণুমুক্ত করে ছিদ্রযুক্ত ট্র্যাপিং দিয়ে ঢেকে চিহ্নিত স্থানে ৫ মি. লি. ১% লিডোকেইন চামড়ার নিচে V আকৃতিতে প্রয়োগ করে ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে। • স্কালপেল দিয়ে অবশকৃত স্থানের চামড়ায় ২ মি. মি. পরিমাণ ইনসিশন দিতে হবে। • ট্রকারের সূঁচালো মাথা চামড়ার ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করাতে হবে। এরপর চামড়া একটু উপরে টেনে তুলে ট্রকার একটু কোনাকুনি রেখে প্রথম দাগ পর্যন্ত প্রবেশ করাতে হবে। • এরপর প্লানজারটি বের করে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে ট্রকারটি চেপে ধরে ১ টি ইমপ্ল্যান্ট ট্রকারে লোড করতে হবে। • ইমপ্ল্যান্টটি প্লানজার দিয়ে সামনের দিকে ঠেলতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত বাধা না পায়। তবে প্লানজার কখনও জোর দিয়ে ঠেলা যাবে না। • এবার প্লানজারটি স্থির করে ধরে রেখে ট্রাকারটি ২য় দাগ পর্যন্ত বের করতে হবে। এর ফলে চামড়ার নিচে ইমপ্ল্যান্টটি স্থাপিত হয়ে যাবে। এ পর্যায়ে চামড়ার নিচে স্থাপিত ইমপ্ল্যান্টটি হাত দিয়ে অনুভব করে দেখা যেতে পারে। মনে রাখতে হবে ২য় ইমপ্ল্যান্টটি প্রয়োগ না করা পর্যন্ত ট্রাকার পুরোপুরি বের করা যাবে না • এরপর প্রথম ইমপ্ল্যান্টটি এক হাতের তর্জনী ও মধ্যমা দিয়ে চেপে ধরে প্রথম ইমপ্ল্যান্টের সাথে ৩০ ডিগ্রি কোণ করে ঠিক একই কায়দায় দ্বিতীয় ইমপ্ল্যান্টটি স্থাপন করতে হবে। ইমপ্ল্যান্ট দুটি সঠিকভাবে স্থাপন করা হয়েছে কি না তা হাত দিয়ে অনুভব করতে হবে। ইমপ্ল্যান্ট দুটি এমন ভাবে স্থাপন করতে হবে যেন এগুলির নিকটবর্তী প্রান্ত ইনসিশনের থেকে অন্তত ৫ মি. মি দূরে থাকে • সতর্কতার সাথে ট্রকার টি বের করে আনতে হবে এবং ইনসিশনের উপর তুলা/গজ রেখে আঙ্গুল দিয়ে ১ মিনিট চেপে ধরতে হবে, যাতে কোন প্রকার রক্ত বের না হয়। ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের পর করণীয় • যদি রক্তক্ষরণ হয় তাহলে জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে চেপে ধরতে হবে। • প্রয়োগস্থানটিতে ব্যান্ডএইড/টেপ লাগিয়ে জীবাণুমুক্ত গজের সাহায্যে ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে। • সিরিজ, অ্যাপ্লিকেটর/ট্রকার ক্যানুলা সেফটি বক্সে রাখতে হবে। • গজ, তুলা এবং অন্যান্য বর্জ্যসমূহ ঢাকনাযুক্ত বর্জ্য ফেলার বালতিতে ফেলতে হবে। • ব্যবহৃত গ্লাভস খোলার পর হাত সাবান ও পানিতে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে। • গ্রহীতার ফাইলে/কার্ডে ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের তথ্য নোট করতে হবে। • ঔষধ সরবরাহ: ট্যাবলেট প্যারাসিটামল ১০ টি-১ টি করে দিনে ২/৩ বার ভরা পেটে খেতে হবে। • গ্রহীতাকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। এক রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ ক্লায়েন্টদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়াদি নিশ্চিত করবেন অপসারণ-পূর্ব পরামর্শ ব্যবস্থা/ কাউন্সেলিং • গ্রহীতার ভবিষ্যৎ প্রজনন লক্ষ্য এবং তিনি কি ইমপ্ল্যান্ট অথবা অন্য কোন জনন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিতে চান কিনা জিজ্ঞাসা করুন। • ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ পদ্ধতি বর্ণনা করুন এবং রোগী কি অনুভব করতে পারে তা বুঝিয়ে বলুন। ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ প্রস্তুতি • সকল প্রকার অপসারণ সরঞ্জাম ঠিক আছে কিনা, সঠিক অবস্থানে আছে কিনা এবং ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত অথবা এইচএলডি করা কিনা নিশ্চিত করুন। • গ্রহীতা ভালভাবে তার হাত ধুয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। • একটি পরিষ্কার শুকনো কাপড়ের উপর গ্রহীতার হাতটি রাখুন এবং ইমপ্ল্যান্ট এর অবস্থান নির্ণয় ও চিহ্নিত করুন। • রডের প্রান্তবিন্দুর অবস্থান এবং চিহ্নিত সংযোগস্থল সঠিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন • প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ট্রে প্রস্তুত করুন। • ভালভাবে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিন। • দুই হাতে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরুন। • চিহ্নিত স্থানে দুইবার অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করুন। • জীবাণুমুক্ত সার্জিক্যাল কাপড় বা ড্রাপের উপর হাত রাখুন। • চামড়া জীবাণুমুক্ত করে রডের প্রান্তে (ক্যাপসুলের শেষ প্রান্তে, কনুইয়ের দিকে) ২ মি.লি ১% লিডোকেইন প্রয়োগ করুন। • চিহ্নিত স্থানটি অবশ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন। • রডের দূরবর্তী প্রান্তে চামড়ায় স্কালপেল দিয়ে ২-৩ সে. মি. ইনসিশন দিন। ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ • রডের নিকটবর্তী প্রান্তে চাপ দিয়ে ঠেলে দিতে হবে এবং মসকিউটো ফরসেপ দিয়ে ক্যাপসুলটি ধরতে হবে। • রডটি ফ্যাশাল শিথ দ্বারা আবৃত থাকলে ইনসিশন দিয়ে মসকিউটো ফরসেপের সাহায্যে ইমপ্ল্যান্ট বের করে আনতে হবে। প্রয়োজনে U ফরসেপ ব্যবহার করতে হবে। • ক্ষতস্থানে জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং দিতে হবে। • গ্লাভস খুলে সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। অপসারণের পর কাউন্সেলিং • গ্রহীতাকে বলতে হবে প্রথম কয়েকদিন সামান্য ব্যথা করতে পারে এবং লাল ভাব থাকতে পারে। • বাইরের বাঁধা ব্যান্ডেজটি ২৪ ঘন্টা পর খুলে ফেলা যাবে এবং ভিতরের ছোট ব্যান্ডেজটি ৩-৫ দিন পর খুলতে হবে। এ সময় ক্ষত স্থানে পানি লাগানো যাবে না। • যদি ক্ষতস্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন জ্বর, ফুলে যাওয়া অথবা একটানা ব্যথা, তাহলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসতে হবে। • ইমপ্ল্যান্ট খোলার পর গর্ভধারণ ক্ষমতা তাড়াতাড়ি ফিরে আসে এবং গ্রহীতা গর্ভবতী হয়ে যেতে পারেন। সুতরাং তিনি যদি বর্তমানে আর কোন সন্তান না চান তাহলে অন্য কোন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য বলতে হবে। • পরবর্তীতে কখন আসতে হবে তা বলতে হবে।। • গ্রহীতার কোন প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর দিতে হবে। • গ্রহীতাকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান দুই রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী জ্যাডেল অপসারণ ক্লায়েন্টদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়াদি নিশ্চিত হবেন অপসারণ-পূর্ব পরামর্শ ব্যবস্থা/ কাউন্সেলিং • গ্রহীতার ভবিষ্যৎ প্রজনন লক্ষ্য এবং তিনি কি জ্যাডেল অথবা অন্য কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিতে চান কিনা জিজ্ঞাসা করুন। • জ্যাডেল অপসারণ পদ্ধতি বর্ণনা করুন এবং রোগী কী অনুভব করতে পারে তা বুঝিয়ে বলুন দুই রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ পূর্ব প্রস্তুতি • সকল প্রকার অপসারণ সরঞ্জাম ঠিক আছে কিনা, সঠিক অবস্থানে আছে কিনা এবং ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত অথবা এইচএলডি কিনা নিশ্চিত করুন। • গ্রহীতা ভালোভাবে তার হাত ধুয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। • একটি পরিষ্কার শুকনো কাপড়ের উপর গ্রহীতার হাতটি রাখুন এবং জ্যাডেল ইনসারশনের স্থানটি চিহ্নিত করুন। • রড দুটির অবস্থান এবং প্রান্তবিন্দুর সংযোগস্থল সঠিকভাবে চিহ্নিত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করুন। • প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির ট্রে প্রস্তুত করুন। দুই রড বিশিষ্ট ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ • ভালোভাবে হাত ধুয়ে শুকিয়ে নিন। • দুই হাতে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরুন। • চিহ্নিত স্থানে দুইবার অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পরিষ্কার করুন। • জীবাণুমক্ত সার্জিক্যাল কাপড় বা ড্রপারের উপর হাত রাখুন। • চামড়া জীবাণুমুক্ত করে রডের প্রান্তে (ক্যাপসুলের শেষ প্রান্তে, কনুইয়ের দিকে) ২ মি.লি ১% লিডোকেইন প্রয়োগ করুন। • ইনসিশনের পূর্বে চিহ্নিত স্থানটি অবশ হয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন। • রড দুটির মাঝে একটি পয়েন্ট নির্ধারণ করুন, যেটা রড দুটির শেষ প্রান্ত হতে ৫ মি. মি. দূরে অবস্থিত। • চামড়ায় স্কালপেল দিয়ে দুই রডের মাঝে ৪ মি. মি. ভারটিক্যাল করে ইনসিশন দিতে হবে। • ফরসেপ ধরে আস্তে আস্তে ইনসিশন স্থানে রডের কাছাকাছি অবস্থান অনুযায়ী কোণ আকৃতি বা স্থান চিহ্নিত করতে হবে। • ইনসিশন দেবার পর রডের প্রান্তে চাপ দিয়ে ঠেলে দিতে হবে। • ফরসেপ দিয়ে ক্যাপসুলটি স্পর্শ করতে হবে এবং রডের শেষ প্রান্তে ৫ মি.মি. এ্যাঙ্গেল থেকে রড/ ক্যাপসুল টি মসকিউটো ফরসেপ দিয়ে ধরতে হবে। • রডটি ফ্যাশাল শিথ দ্বারা আবৃত থাকলে ইনসিশন এর স্থানে জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে পরিষ্কার করে নিন যাতে ক্যাপসুলটি দেখা যায় এবং সহজে বের করে আনা যায়। • প্রয়োজনে U ফরসেপ দিয়ে বা মসকিউটো ফরসেপ দিয়ে রডটি ধরুন এবং আন্তে আন্তে বের করে আনুন। • ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে ও অন্যান্য বর্জ্য বালতিতে রাখতে হবে। • একই পদ্ধতি অবলম্বন করে দ্বিতীয় রডটি অপসারণ করতে হবে। অপসারণের পর কাউন্সেলিং • গ্রহীতাকে বলতে হবে প্রথম কয়েকদিন সামান্য ব্যথা করতে পারে এবং লাল ভাব থাকতে পারে। • বাইরের বাঁধা ব্যান্ডেজটি ২৪ ঘন্টা পর খুলে ফেলা যাবে এবং ভিতরের ছোট ব্যান্ডেজটি ৩-৫ দিন পর খুলতে হবে। এ সময় ক্ষতস্থানে পানি লাগানো যাবে না। • যদি ক্ষতস্থানে সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দেয়, যেমন জ্বর, ফুলে যাওয়া অথবা একটানা ব্যথা, তাহলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসতে হবে। • ইমপ্ল্যান্ট ঘোলার পর গর্ভধারণ ক্ষমতা তাড়াতাড়ি ফিরে আসে এবং গ্রহীতা গর্ভবর্তী হয়ে যেতে পারেন। সুতারাং তিনি যদি বর্তমানে আর কোন সন্তান না চান তাহলে অন্য কোন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য বলতে হবে। • পরবর্তীতে কখন আসতে হবে তা বলতে হবে। • গ্রহীতার কোন প্রশ্ন থাকলে তার উত্তর দিতে হবে। • গ্রহীতাকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। [Space for form] ( ) ১০০ (একশত) ইমপ্ল্যান্ট ইন্সারশন এর প্রয়োজনীয় এমএসআর ক্রমিক নং দ্রব্যাদির নাম একক ১০০ কেসের জন্য ১ ইমপ্ল্যান্ট সেট ১০০ ২ ইনজেকশন লিডোকেইন (১%)/ লিগনোকেইন হাইড্রোক্লোরাইড ইউএসপি ১%, ৫০ মিলি ভায়াল ০৭ ৩ সার্জিক্যাল ব্রেড পিস ১১০ ৪ ডিসপোজিবল সিরিঞ্জ (স্টেরাইল), ৫ সি.সি. পিস ১১০ ৫ গজ থান (২০ গজ) থান ০২ ৬ শোষণ তুলা (১০০ গ্রাম) রোল ১০ ৭ ইলাস্টোমেরিক ম্যাট্রিক্স ড্রেসিং (স্টেরাইল, একট্রাথিন সিজিএফ ডেসিং ৫"X৫” পিস ১১০ ৮ রাবার গ্লাভস স্টেরাইল ৬.৫ ইঞ্চিঃ জোড়া ১১০ ৯ রাবার গ্লাভস ৭.৫ ইঞ্চি পিস ১১০ ১০ ইউরোস্টিক জিপি-২ (গ্লকোজ: প্রোটিন সমান) পিস ১১০ ১১ পভিডন-আয়োডিন দ্রবণ, ১০০ মি.লি. বোতল ১৬ ১২ ট্যাবলেট প্যারাসিটামল ৫০০ মি.গ্রা. স্ট্রিপ/ ব্লিস্টার ট্যাবলেট ১০০০ ১৩ জটিলতা ব্যবস্থাপনার জন্য (১৫%) ট্যাবলেট/ক্যাপসুল ২১০/৩১৫ ১০০ (একশত) ইমপ্ল্যান্ট রিমুভ্যাল এর প্রয়োজনীয় এমএসআর ক্রমিক নং দ্রব্যাদির নাম একক ১০০ কেসের জন্য ১ ইনজেকশন লিভোকেইন (১%)/ লিগনোকেইন হাইড্রোক্লোরাইড ইউএসপি ১%, ৫০ মিলি ভায়াল ০৮ ২ সার্জিক্যাল রেড পিস ১১০ ৩ ডিসপোজিবল সিরিঞ্জ (স্টেরাইল), ৫ সি.সি. পিস ১১০ ৪ গজ থান (২০ গজ) থান ০২ ৫ শোষণ তুলা (১০০ গ্রাম) রোল ১০ ৬ ইলাস্ট্রোমেরিক ম্যাট্রিক্স ড্রেসিং (স্টেরাইল, একট্রাথিন সিজিএফ ড্রেসিং ৫" X ৫” পিস ১১০ ৭ রাবার গ্লাভস্ স্টেরাইল ৬.৫ ইঞ্চি জোড়া ১১০ ৮ রাবার গ্লাভস্ ৭.৫ ইঞ্চি জোড়া ১১০ ৯ পভিডন-আয়োডিন দ্রবণ, ১০০ মি.লি. বোতল ১৬ ১০ ট্যাবলেট প্যারাসিটামল ৫০০ মি. গ্রা. স্ট্রিপ/ ব্লিস্টার ট্যাবলেট ১০০০ ১১ অ্যান্টিবায়োটিক (সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট/ অ্যামোক্সিসিলিন ক্যাপসুল) জটিলতা ব্যবস্থাপনার জন্য (১৫%) ট্যাবলেট/ ক্যাপসুল ২১০/৩১৫ অধ্যায় -০৭ আইইউডি পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ০৭ আইইউডি আইইউডি (Intra-Uterine Device) জরায়ুতে স্থাপন উপযোগী দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি। ১৯০৯ সালে বৈজ্ঞানিক রিকটার সিল্ক ওয়ার্মগাট নিজের তৈরি আইইউডি সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন। তারপর থেকে কয়েল, স্পাইরাল, শিল্ড, স্প্রিং, রিং, ইংরেজি ও 7 ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের ও আকার আকৃতির আইইউডি'র প্রচলন শুরু হয়। বিভিন্ন আইইউডি তৈরির উপকরণও বিভিন্ন যেমন- রূপা (Silver), তামা (Copper) ও প্লাস্টিক উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ আইইউডি জন্মবিরতিকরণের পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৬০ সাল থেকে আধুনিক আইইউডি'র প্রচলন শুরু হয়, যা অধিকতর কার্যকর এবং নিরাপদ। কপারযুক্ত আইইউডি বর্তমানে সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রসব পরবর্তী সময়েও আইইউডি ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে ১০ বছর মেয়াদে কপার-টি ৩৮০এ ব্যবহৃত হচ্ছে। কপার-টি ৩৮০এ (Copper T 380A) ইংরেজী 'T' অক্ষরের মতো দেখতে এ উপকরণটি পলিইথিলিন প্লাস্টিকের তৈরি এবং এর দণ্ডে তামার সূক্ষ্ম তার ও বাহুতে তামার সূক্ষ্ম পাত জড়ানো থাকে। এতে তামার মোট আয়তন ৩৮০ বর্গ মিলিমিটার। এখান থেকে কপার অণু ধীরে ধীরে জরায়ুতে নিঃসৃত হয়। কপার-টি'র লম্বা দণ্ডের সাথে ২টি নাইলনের সুতা লাগানো থাকে। কপার টি ৩৮০এ খুবই কার্যকরী। কপার-টি ৩৮০এ'র প্রথম। বছরে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা শতকরা ০.৬ ০.৮ ভাগ মাত্র। ১০ বছরের মধ্যে প্রতি ১০০ জনে মাত্র ২ জন গর্ভধারণ করতে পারে। আমাদের দেশে প্রতিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা সদর হাসপাতাল, সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, এমএফএসটিসি মোহাম্মদপুর ঢাকা, এমসিএইচটিআই আজিমপুর ঢাকা, বিএসএমএমইউ শাহবাগ ঢাকা এবং স্বীকৃত এনজিও ক্লিনিক/হাসপাতালে, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিকে আইইউডি সেবা পাওয়া যায়। তাছাড়া পর্যাপ্ত সুবিধাদি থাকলে কমিউনিটি ক্লিনিকেও এই সেবা দেয়া সম্ভব। অন্যান্য আইইউডির সংক্ষিপ্ত বর্ণনা মিরেনা (Mirena) মিরেনা একটি নরম, নমনীয় "T" আকৃতির প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ আইইউডি যা জরায়ুর ভিতর সামান্য পরিমাণ লিভোনরজেস্ট্রিল নিঃসরণ করে। এটি একটানা ৫ বছর কার্যকরভাবে জন্মনিরোধ করে থাকে। মিরেনা অতিরিক্ত রক্তস্রাবের চিকিৎসা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। মিরেনা ব্যবহারের প্রথম বছরে প্রতি ১০০০ জনে মাত্র ২ জন গর্ভধারণ করতে পারে এবং খুলে ফেলার পর খুব দ্রুত গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে। তলপেটে সংক্রমণ বা সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকলে মিরেনা ব্যবহার করা যাবে। না। বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে এর ব্যবহার নেই। মাল্টিলোেড আইইউডি প্লাস্টিকের তৈরি মাল্টিলোড আইইউডি মহিলাদের জন্য জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। এর প্লাস্টিকের দণ্ডে তামা জড়ানো থাকে। তামার পরিমাণ ভেদে মাল্টিলোড ২৫০ (Multiload (250) বা মাল্টিলোড ৩৭৫ (Multiload CU375) হয়ে থাকে। Multiload 250 তিন বছর মেয়াদি এবং Multiload 375 পাঁচ বছর মেয়াদি। বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে এর ব্যবহার নেই। কপার-টি ৩৮০এ কীভাবে কাজ করে আইইউডি শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। আইইউডি জরায়ুতে এবং ডিম্বনালিতে কপার অণু, এনজাইম, প্রোস্টাগ্লান্ডিন এবং শ্বেত কনিকা (ম্যাক্রোফেজ) বাড়িয়ে দেয়, যা শুক্রাণুর কার্যকারিতা নষ্ট করে এবং নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। আইইউডি'র সুবিধা • খুবই কার্যকরী • দীর্ঘমেয়াদি • প্রয়োগ করার সাথে সাথেই কার্যকর হয় • ব্যবহারে বুকের দুধের কোন তারতম্য হয় না • প্রসব এবং গর্ভপাতের সাথে সাথে ব্যবহার করা যায় • পদ্ধতি ছেড়ে দেয়ার সাথে সাথেই গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে • জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণে বাধা দেয় আইইউডি'র অসুবিধা • কোন কোন গ্রহীতার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মাস তলপেটে ব্যথা হতে পারে • কোন কোন গ্রহীতার ক্ষেত্রে প্রথম কয়েক মাস মাসিকের সময় রক্তস্রাব বেশি হতে পারে • কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইইউডি জরায়ু থেকে বের হয়ে আসতে পারে • কদাচিৎ জরায়ু ছিদ্র হয়ে যেতে পারে • সুতাজনিত সমস্যা হতে পারে • যৌনরোগ এবং এইডস প্রতিরোধ করে না আইইউডি কার জন্য উপযোগী বাংলাদেশে প্রজননক্ষম যেকোন বিবাহিত মহিলা যাদের কমপক্ষে একটি জীবিত সন্তান আছে তারা আইইউডি ব্যবহার করতে পারেন। আইইউডি প্রয়োগের সময় আইইউডি প্রয়োগের সময় নির্ভর করে গ্রহীতার অবস্থার উপর। নিচে গ্রহীতার বিভিন্ন অবস্থার প্রেক্ষিতে আইইউডি প্রয়োগের সময় সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো গ্রহীতার অবস্থা আইইউডি প্রয়োগের সময় মাসিক চক্রের সময় • গর্ভবর্তী নয় নিশ্চিত হলে মাসিক চক্রের যে কোন সময় আইইউডি প্রয়োগ করা যায় • মাসিকের ১ থেকে ৭ দিনের মধ্যে প্রসব পরবর্তী সময় • স্বাভাবিক প্রসবের পর জরায়ুর ফুল বের হওয়ার পর হতে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত; যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োগ করা না যায় তবে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রয়োগ করা যাবে না • সিজারিয়ান অপারেশনের সময় এমআর/এমআরএম/গর্ভপাত পরবর্তী সেবার সময় • গর্ভধারণের প্রথম ৩ মাসের মধ্যে বা ৬ মাসের মধ্যে গর্ভপাত ঘটলে যদি নিশ্চিত হওয়া যায় যে কোন সংক্রমণ নাই, তবে সাথে সাথে বা ৭ দিনের মধ্যে আইইউডি পরানো যাবে এমআর/এমআরএম/গর্ভপাত পরবর্তী সেবার সময় • যদি গর্ভপাত হওয়ার ৭ দিনের বেশি সময় পার হয়ে যায় তবে যে কোন সময়ে আইইউডি প্রয়োগ করা যাবে যদি গর্ভবর্তী নয় নিশ্চিত হন • যদি সংক্রমণ বা অতিরিক্ত রক্তস্বল্পতা থাকে তবে গ্রহীতাকে চিকিৎসা দিতে হবে বা চিকিৎসার জন্য রেফার করতে হবে। অন্তবর্তী সময়ের জন্য গ্রহীতাকে অন্য কোনো পদ্ধতি পছন্দ করতে বলতে হবে। গ্রহীতা চাইলে সংক্রমণ ভাল হওয়ার পর আইইউডি প্রয়োগ করা যাবে • বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাপ্রদানকারী গর্ভধারণের ৬ মাসের পর গর্ভপাত হলে আইইউডি প্রয়োগ করতে পারেন। যদি প্রশিক্ষণ না থাকে তবে কমপক্ষে ৪ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হবে এবং তারপর প্রয়োগ করতে হবে। পদ্ধতি পরিবর্তন করার সময় • যদি গ্রহীতা সঠিক নিয়মে বড়ি, কনডম এবং ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারকালীন সময়ে পদ্ধতি পরিবর্তন করে আইইউডি গ্রহণ করতে চায় তবে তা সাথে সাথে দেয়া যায় • ইনজেকশন গ্রহীতার ক্ষেত্রে ইনজেকশনের পরবর্তী ডোজ নেয়ার আগে আইইউডি প্রয়োগ করা যায় বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ার সময়: প্রসব পরবর্তী ৬ মাসের মধ্যে • প্রসবের ৪ সপ্তাহ থেকে ৬ মাস পর্যন্ত যদি সন্তান শুধুমাত্র বুকের দুধ খায় এবং আর মাসিক না হয় তবে আইইউডি প্রয়োগ করা যায় • সন্তান শুধুমাত্র বুকের দুধ খায় এবং মাসিক শুরু হলে মাসিকচক্রের সময় অনুযায়ী আইইউডি প্রয়োগ করা যায় বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ার সময়: প্রসবের ৬ মাস পর • মাসিক ফিরে না আসলেও যে কোন সময়ে আইইউডি পরানো যাবে যদি গর্ভবতী নয় নিশ্চিত হওয়া যায় • মাসিক শুরু হয়ে গেলে মাসিকচক্রের সময় অনুযায়ী আইইউডি প্রয়োগ করা যায় বাচ্চা বুকের দুধ না খেলে: প্রসবের ৪ সপ্তাহ পর • মাসিক ফিরে না আসলেও যে কোন সময়ে আইইউডি প্রয়োগ করা যাবে, যদি গর্ভবর্তী নয় নিশ্চিত হওয়া যায় • যদি মাসিক শুরু হলে মাসিকচক্রের সময় অনুযায়ী আইইউডি প্রয়োগ করা যায় মাসিক স্রাব নাই (প্রসবের সাথে বা বাচ্চার বুকের দুধ খাওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়) • গর্ভবতী নয় নিশ্চিত হলে যে কোন সময়ে আইইউডি প্রয়োগ করা যায় জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে • অরক্ষিত সহবাসের ৫ দিনের মধ্যে আইইউডি কাউন্সেলিং আইইউডি সেবাদানের সাথে কাউন্সেলিং এবং বাছাইকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইইউডি'র ব্যবহার বৃদ্ধি এবং প্রয়োগের পরপরই খুলে ফেলার হার কমানোর লক্ষ্যে কাউন্সেলিং-এর ভূমিকা অপরিসীম। আইইউডিসহ অন্যান্য অনেক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি প্রসবের পরপর উপযোগী। প্রসব পরবর্তী সময় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নেয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। প্রসব পরবর্তী আইইউডি'র জন্য গ্রহীতাকে কিছু বিশেষ চাহিদা নির্ণয় করে তথ্য দিতে হবে যাতে কাউন্সেলিং-এর উদ্দেশ্য সফল হয় এবং গ্রহীতার অবহিত পছন্দ নিশ্চিত হয়। প্রকৃতপক্ষে এই কাউন্সেলিং গর্ভকালীন সেবা দেয়ার সময়ই করতে হয়। তবে প্রসব ব্যথা শুরু হওয়ার পূর্বে ও প্রসবের পর মা ও শিশু সুস্থ থাকলে গ্রহীতাকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহের তথ্য দেয়া যাবে। সিজারিয়ান অপারেশনের ক্ষেত্রে অবশ্যই গর্ভকালীন সেবার সময় কাউন্সেলিং করতে হবে এবং অপারেশনের পূর্বেই সম্মতি নিতে হবে। প্রসবের পর পরই সেবাদানকারী বা অন্য স্বাস্থ্যকর্মী গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করতে পারে এবং ছুটির পূর্বেই আইইউডি প্রয়োগ সম্ভব, যদি গ্রহীতা চিন্তা করার জন্য যথেষ্ট সময় ও সুযোগ পান। ক. আইইউডি প্রয়োগ করার পূর্বে কাউন্সেলিং-এ করণীয় • গ্রহীতাকে অন্যান্য সকল পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা • গ্রহীতাকে আইইউডি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা • আইইউডি সম্পর্কে বিস্তারিত বলা (ছবি, ফ্লিপচার্টের সাহায্যে) আইইউডি কী (আইইউডি দেখিয়ে বলতে হবে) - মেয়াদ কত/ কতদিন ব্যবহার করা যায় - কীভাবে কাজ করে - কীভাবে প্রয়োগ করে - সুবিধা/ অসুবিধা - পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া/ জটিলতা এবং এর ব্যবস্থাপনা • আইইউডি সম্পর্কে ভুল, কাল্পনিক ধারণা ও কুসংস্কার নিরসন করা • যৌনবাহিত রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি নিরূপণ করা • গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ গ্রহীতা বুঝতে পেরেছে কিনা তা যাচাই করা • আইইউডি'র সুবিধা ও ঝুঁকি পরিমাপে গ্রহীতাকে সহায়তা করা • আইইউডি যৌনবাহিত এবং এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিহত করতে পারে না তা বুঝিয়ে বলা • কাউন্সেলিং এবং আইইউডি বিষয়ক সকল শিক্ষা উপকরণ গ্রহীতাদের ভাষা, সংস্কৃতি এবং শিক্ষার উপযোগী হওয়া • আইইউডি প্রয়োগের চেকলিস্ট ব্যবহার করা খ. আইইউডি গ্রহণ করার পর কাউন্সেলিং -এ করণীয় • ফলো-আপ সম্পর্কে বলা • সুতা পরীক্ষার নিয়ম বলা • কখন এবং কী কারণে গ্রহীতাকে সেবাকেন্দ্রে আসতে হবে তা বলা • গ্রহীতাকে একটি কার্ড দেয়া যাতে উল্লেখ থাকবে - আইইউডি'র নাম ও ধরণ - প্রয়োগের তারিখ - খোলার তারিখ - ফলো-আপের তারিখ - আইইউডি প্রয়োগকারীর নাম ও স্বাক্ষর - যে সকল কারণে সেবা কেন্দ্রে আসতে হবে • গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ গ্রহীতা বুঝতে পেরেছে কিনা তা উত্তরের মাধ্যমে জানা গ. প্রসব পরবর্তী আইইউডি'র ক্ষেত্রে বিশেষ কাউন্সেলিং • গর্ভফুল বের হবার সাথে সাথে আইইউডি প্রয়োগ হলে তা বের হবার আশঙ্কা সবচেয়ে কম থাকে • প্রসব পরবর্তী সময়ে আইইউডি বের হবার আশঙ্কা থাকে। ফলে গ্রহীতাকে এ ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। • প্রসব পরবর্তী আইইউডির ক্ষেত্রে যোনিপথে সুতা অনুভব করতে দেরি হতে পারে। এ ব্যাপারে গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে গ্রহীতা বাছাইকরণ গ্রহীতা বাছাইকরণ পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের একটি অত্যাবশ্যকীয় অংশ। গুণগত মান বজায় রেখে আইইউডি সেবাদানের ক্ষেত্রে গ্রহীতা বাছাইকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। "আইইউডি প্রয়োগে/ব্যবহারে বিবেচ্য স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক উপযুক্ততার নির্দেশিকা" এবং "আইইউডি গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণ বিবরণী" অনুযায়ী গ্রহীতা বাছাইকরণ করতে হবে। বাছাইকরণের বিষয়সমূহ আইইউডি গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণ বিবরণী ফর্মে লিপিবদ্ধ করতে হবে। প্রসব পরবর্তী সময়ে আইইউডি গ্রহণেচ্ছুক মহিলাকে গর্ভকালীন সময়ে কাউন্সেলিং করার সময় দেখতে হবে গ্রহীতা আইইউডি গ্রহণে উপযুক্ত কি না। আইইউডি প্রদানে স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক উপযুক্ততা নিম্নে বর্ণিত কারণ গুলো ছাড়া সকল সক্ষম মহিলাকে আইইউডি দেওয়া যাবে। যে সকল অবস্থায় আইইউডি দেওয়া যাবে না। • বর্তমানে অবিবাহিত/বিধবা/তালাকপ্রাপ্ত/স্বামী থেকে পৃথক • মহিলা যদি গর্ভবতী হন • যাদের কোন সন্তান নেই • প্রসবোত্তর সংক্রমণ • সংক্রমিত গর্ভপাত হলে • প্রসব পরবর্তী সময়ে যে সব মহিলা শিশুকে বুকের দুধ পান করান- প্রসবের ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৪ সপ্তাহ মধ্যে • যোনিপথে রক্তস্রাব যার কারণ জানা নাই • জরায়ুর ট্রফোরাস্টিক রোগ • ডিআইএ (VIA) পরীক্ষা পজিটিভ (+VE) হলে বা গুরুতর কোন সমস্যা সন্দেহ করা হলে • সার্ভিক্স এর ক্যান্সার • এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার • ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার • জরায়ুর গহ্বরের গঠনগত পরিবর্তন (জরায়ুর গভীরতা ৬ সে. মি. এর কম) • জরায়ুর গঠনতন্ত্র ত্রুটি বা অস্বাভাবিকতা (জন্মগত বা অন্য কোন কারণে) • জরায়ু নিচে নেমে যাওয়া- দ্বিতীয় ডিগ্রি ও তৃতীয় ডিগ্রি • তলপেটে প্রদাহজনিত রোগ- বর্তমানে আই পিআইডিতে আক্রান্ত • যৌনবাহিত রোগ- বর্তমানে পুঁজযুক্ত গনোরিয়া বা ক্ল্যামাইডিয়া দ্বারা সংক্রমিত • তলপেটে যক্ষ্মা আছে • বর্তমানে এইডস বিদ্যমান, অ্যান্টিরেট্রোভাল (এআরভি) থেরাপি নিচ্ছেন। বি.দ্র: সকল সেবা প্রদানকারী গ্রহীতার উপযুক্ততা যাচাই এর ক্ষেত্রে ডিসেম্বর ২০১৬ তে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর হতে মুদ্রিত MEC এর হুইল ব্যবহার করবেন। আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়া, থ্যালাসেমিয়া ও সিকেল সেল ডিজিজ থাকলে আইইউডি প্রয়োগে রক্তক্ষরণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের ক্ষেত্রে • গর্ভঝিল্লি ছিঁড়ে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার বেশি পরে প্রসব হলে • দীর্ঘায়িত প্রসবকাল (২৪ ঘণ্টার বেশি) • জ্বর (১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইট এর বেশি) • প্রসবোত্তর সংক্রমণ বা সেপসিস • যৌনাঙ্গে ব্যাপক ক্ষত • প্রসব পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ আইইউডি প্রয়োগ ক. স্বাভাবিক সময়ে আইইউডি প্রয়োগ (Interval insertion ) স্বাভাবিক সময়ে আইইউডি প্রয়োগ (Interval insertion) হলো প্রসবের ১ বছর পর থেকে যে কোন সময় ইনসার্টার টিউব ব্যবহার করে (যা আইইউডি-এর সাথেই থাকে) আইইউডি প্রয়োগ। খ. প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োেগ (Post Partum IUD Insertion) সাধারণভাবে গর্ভফুল বের হবার পর থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে আইইউডি প্রয়োগ করা হলে তাকে গর্ভফুল বের হওয়া পরবর্তী আইইউডি (Post Partum IUD Insertion) প্রয়োগ বলে। ১০ মিনিট ধেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যদি আইইউডি প্রয়োগ করা হয় তবে তাকে তাৎক্ষণিক প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগ বলে। এই সময় কেলি বা রিং ফরসেপ দিয়ে আইইউডি প্রয়োগ করতে হবে। প্রসবের ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত আইইউডি প্রয়োগ করা যাবে না। প্রসবের ৪ সপ্তাহ থেকে ১ বছর পর্যন্ত আইইউডি প্রয়োগ করলেও তাকে প্রসব পরবর্তী আইইউডি সেবার অন্তর্ভুক্ত বলে ধরে নেয়া হয়। এ সময়েও ইনসার্টার টিউব ব্যবহার করা হয়। এছাড়া সিজারিয়ান অপারেশনের সময় আইইউডি প্রয়োগ করা যায়। ইন্টারভ্যাল আইইউডি প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি চিত্র: আইইউডি (ইন্টারভ্যাল) প্রয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি • জীবাণুমুক্ত প্যাকেটে আইইউডি • কাসকোস বাই-ভাল্ব সেক্ষ রিটেইনিং ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম (মাঝারি আকারের) / গ্রেভস স্পেকুলাম • টেনাকুলাম • ইউটেরাইন সাউন্ড • গালিপট • স্ট্রেইট আর্টারি ফরসেপ • স্ট্রেইট কাটিং সিজার (কাঁচি) • জীবাণুমুক্ত তুলার বল ৩টি (২টি পভিডন আয়োডিনে ভিজানো ও ১টি শুকনা) • গ্লাভস ২ জোড়া • পভিডন আয়োডিন দ্রবণ • পর্যাপ্ত আলোর উৎস: ইলেকট্রিক ফোকাস লাইট বা টর্চ লাইট • ট্র্যাপিং শিট: গ্রহীতার তলপেটের উপর দেয়ার জন্য আইইউডি প্রয়োগের নিয়মাবলী আইইউডি প্রয়োগকালীন ব্যথা-ব্যবস্থাপনা • আইইউডি প্রয়োগ করার সময় কী করা হবে তা আগেই গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে এবং আশ্বস্ত করতে হবে • গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে যে সামান্য অস্বস্তিবোধ বা ব্যথা অনুভব হতে পারে • অস্বস্তিবোধ বা ব্যথা অনুভব হলে সেবাদানকারীকে জানাতে বলতে হবে • ব্যথা না হওয়ার জন্য আইইউডি প্রয়োগের ৩০ মিনিট পূর্বে ১ টি ৪০০মি.গ্রা. আইবুপ্রোফেন (না থাকলে ১ টি ৫০০ মি.গ্রা. প্যারাসিটামল) ট্যাবলেট খাইয়ে দিতে বলতে হবে। কিন্তু কোনোভাবেই অ্যাসপিরিন দেয়া যাবে না আইইউডি (ইন্টারভ্যাল) প্রয়োগের ধাপসমূহ ১. স্পেকুলাম পরীক্ষা ২. দুই হাতে তলপেট, যোনিপথ ও জরায়ু পরীক্ষা ৩. টেনাকুলাম দিয়ে সারভিক্স ধরা এবং সাউন্ডিং করা ৪. কপার-টি ৩৮০এ ইনসার্টারে লোড করা ৫. জরায়ুতে আইইউডি প্রয়োগ করা ১. স্পেকুলাম পরীক্ষা • কী করা হবে তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে এবং তাকে আশ্বস্ত করতে হবে • আইইউডি সবসময়ই জীবাণুমুক্ত কৌশলে ও জীবাণুমুক্ত যন্ত্র ব্যবহার করে প্রয়োগ করতে হবে • গ্রহীতাকে প্রস্রাব করে আসতে বলতে হবে • গ্রহীতাকে টেবিলে লিথোটমি অবস্থায় (চিৎ হয়ে শুয়ে দু'পা এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যাতে পায়ের গোড়ালি উভয় দিকের জানুর পশ্চাৎদেশে সেঁটে লেগে থাকে) শোয়াতে হবে • সেবাদানকারীর দুই হাত হতে চুড়ি, ঘড়ি, আংটি, বালা, শাঁখা ইত্যাদি খুলে নিতে হবে। নখ বড় থাকলে পূর্বে কেটে নিতে হবে • সাবান দিয়ে ভালোভাবে দুই হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে এবং দুই হাতে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরে নিতে হবে • প্রথমে ডান হাতের তর্জনী ও মধ্যমার সাহায্যে যোনিপথ খুলতে হবে এবং বাম হাতে বন্ধ স্পেকুলামকে সোজাসুজি যোনিপথে প্রবেশ করাতে হবে • স্পেকুলামের ভালভ দু'টিকে এমনভাবে খুলতে হবে যাতে স্পেকুলামের ঠোঁটের একটি জরায়ুর মুখের উপরে এবং অপরটি নীচে থাকে • এখন ভালভাবে আলোর সাহায্যে দেখতে হবে জরায়ুর মুখে কোন ঘা, নিঃসরণ, ইরোসোন, নেবোথিয়ান সিস্ট, পলিপ ইত্যাদি আছে কিনা • এবার স্পেকুলাম বন্ধ করে আন্তে আন্তে সোজাসুজি বের করে আনতে হবে। ২. দুই হাতে তলপেট, যোনিপথ ও জরায়ু পরীক্ষা • কী করা হবে তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে এবং তাকে আশ্বস্ত করতে হবে • ডান হাতের দুই আঙ্গুল (তর্জনী ও মধ্যমা) যৌনাঙ্গের ভেতর সারভিক্স পর্যন্ত প্রবেশ করাতে হবে • বাম হাত দিয়ে তলপেটের উপর হালকাভাবে চাপ দিতে হবে এবং জরায়ুকে দুই হাতের মধ্যে এনে এর আকার, আকৃতি ও অবস্থান পরীক্ষা করতে হবে। সারভিক্স শক্ত বা নরম কিনা অনুভব করতে হবে • জরায়ু অ্যান্টিভারটেড না রেট্রোভারটেড তা নির্ণয় করার জন্য হাত দিয়ে জরায়ুর ফান্ডাসকে একটু জোরে চাপ দিয়ে নিচে পিউবিক বোনের দিকে ঠেলে দিতে হবে। জরায়ু অ্যান্টিভারটেড হলে দুই হাতের মধ্যে অনুভব করা যায়। যদি জরায়ু রেট্রোভারটেড থাকে তাহলে পেটের উপর দিয়ে এটাকে অনুভব করা যাবে না, তবে যে আঙ্গুলটি যোনিপথের মধ্যে থাকে সেই আঙ্গুল দিয়ে সারভিক্সের পিছনের দিকটা একটু চাপ দিলেই জরায়ুকে অনুভব করা যায় • ফরনিক্সের চারপার্শ্বে আঙ্গুল ঘুরিয়ে ফরনিক্সগুলি মুক্ত আছে কিনা এবং সেখানে কোন ব্যথা আছে কিনা তা দেখতে হবে • তলপেটে প্রদাহ পরীক্ষা: দুই আঙ্গুলের মাঝে সারভিক্স ধরে ডানে বামে নাড়াতে হবে। নাড়ানোর সময় গ্রহীতার মুখের দিকে তাকিয়ে ব্যথা আছে কিনা লক্ষ্য করতে হবে। যদি ব্যথা থাকে তাহলে বোঝা যাবে, তলপেটে পুরাতন অথবা নতুন প্রদাহ আছে • স্পেকুলাম ও দুই হাতে তলপেট পরীক্ষায় কোন সমস্যা না থাকলে এবং আপাতঃ দৃষ্টিতে গ্রহীতা আইইউডি পরানোর জন্য উপযুক্ত বিবেচিত হলে কাসকোস-বাই-ভালভ স্পেকুলাম পুনরায় যোনিপথে প্রবেশ করাতে হবে এবং ভালভাবে স্পেকুলামের স্কু টাইট করে স্থির করতে হবে ৩. টেনাকুলাম দিয়ে সারভিক্স ধরা এবং সাউন্ডিং করা কপার-টি ৩৮০এ লোড করার নিয়ম • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপের সাহায্যে দুইটি তুলার বল পভিডন-আয়োডিন দ্রবণে ভিজিয়ে সারভিক্স বা জরায়ুর মুখ ভিতর থেকে বাহিরের দিকে কমপক্ষে দুইবার ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ব্যবহৃত তুলার বলগুলি ময়লা ফেলার বালতিতে ফেলতে হবে • সারভিক্স ধরার জন্য বন্ধ টেনাকুলাম স্পেকুলামের ভিতর দিয়ে ঢুকিয়ে তারপর খুলে ঘড়িতে ১০টা এবং ২টা বাজার সময় বরাবর অবস্থানে টেনাকুলামের সাহায্যে সার্ভিক্স ধরতে হবে • টেনাকুলাম দিয়ে সার্ভিক্সে মৃদু টান প্রয়োগ করে জরায়ুকে সোজাসুজি একটু নীচের দিকে টান টান রেখে ইউটেরাইন সাউন্ড অতি ধীরে ধীরে জরায়ুর মধ্যে প্রবেশ করিয়ে জরায়ুর অবস্থান ও গভীরতা নির্ণয় করতে হবে • জরায়ুর গভীরতা দেখে সাউন্ডটি সঙ্গে সঙ্গে সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে বা ধুয়ে ফেলতে হবে • দুই হাতের গ্লাভস খুলে বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলে দিতে হবে ৪. কপার-টি ৩৮০এ ইনসার্টারে লোড করা কপার-টি আগে থেকেই জীবাণুমুক্ত একটি শুকনো সিল করা প্যাকেটে সরবরাহ করা হয়। প্যাকেট খোলার আগে নিশ্চিত হতে হবে যে, টি-এর খাড়া বাহু সম্পূর্ণভাবে ইনসার্টার টিউবের মধ্যে আছে এবং না খুলেই প্যাকেটের ভিতরের কপার-টি নাড়াচাড়া করা যায়। কোন অবস্থাতেই প্যাকেট সম্পূর্ণ খুলে হাত দিয়ে কপার-টি ইনসার্টারে লোড করানো যাবে না এবং ইনসার্টারে আইইউডি লোড করার ৫ মিনিটের মধ্যেই তা জরায়ুতে প্রয়োগ করতে হবে। কেননা, লোড করানো অবস্থায় বেশিক্ষণ রাখা হলে এর বাহুদ্বয় পূর্বাবস্থায় ফিরে নাও আসতে পারে। • প্যাকেটের যে প্রান্তে কপার-টি আছে তার বিপরীত দিকের প্রান্তটি দুই হাতে ধরে এক তৃতীয়াংশ খুলতে হবে। খোলা প্রান্তটিকে উপরের দিকে এমনভাবে ধরতে হবে যেন প্যাকেটের ভিতরের জিনিস পড়ে না যায় • সাদা রডটি ইনসার্টার টিউবের ভিতর প্রবেশ করাতে হবে (চিত্র-১)। সাদা রডের গোলাকার অংশটির নিকটে একটি ছোট গার্ড আছে। খেয়াল রাখতে হবে যেন ঐ গার্ডটি ইনসার্টার টিউবের ভিতরে থাকে • স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ঢাকনাওয়ালা দিকটি উপরের দিকে রেখে প্যাকেটটি একটি সমতল স্থানে রাখতে হবে • আইইউডি প্যাকেটের ভিতর রেখে প্যাকেটের মাথায় বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনী দিয়ে একটি টানেল তৈরি করতে হবে। অপর হাতে আইইউডিসহ ইনসার্টার টিউবটি টানেলের দিকে ঠেলে দিতে হবে (২-৮৭) • বাহু দুটি ক্রমান্বয়ে ও সমভাবে বেঁকে (Bending) গিয়ে ইনসার্টার টিউবটিকে স্পর্শ করবে • ইনসার্টার টিউবটি পেছনে টেনে এবং পুনরায় ঠেলে দিয়ে টি'এর বাহু দুটিকে ইনসার্টার টিউবের ভেতরে প্রবেশ করাতে হবে। টি-এর বাহু দুইটির উপরে যে তামার বেষ্টনী রয়েছে সেগুলোকে ইনসার্টার টিউবের মধ্যে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা যাবে না (চিত্র-৩) • স্বচ্ছ প্লাস্টিকের মোড়কের বাইরে নীল গার্ড তর্জনী দিয়ে চেপে রেখে অন্য হাত দিয়ে ইনসার্টার টিউব ধীরে ধীরে সামনে বা পিছনে ঠেলে টি-এর ভাঁজ করা মাথা হতে গার্ডের দূরত্ব ইউটেরাইন সাউন্ড দিয়ে মাপা জরায়ুর গভীরতার দূরত্বের সমান করতে হবে। এজন্য প্যাকেটের স্কেলটি ব্যবহার করতে হবে। এবার স্বচ্ছ প্লাস্টিকের মধ্য দিয়ে ইনসার্টার টিউবকে ঘুরিয়ে টি-এর বাহুদ্বয়কে নীল গার্ডের সমান্তরাল করতে হবে (চিত্র-৪) • প্লাস্টিকের মোড়কটি প্রায় সম্পূর্ণ খুলে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ঢাকনাওয়ালা অংশ দিয়ে কপার-টি প্রয়োগের আগ পর্যন্ত ঢেকে রাখতে হবে ৫. জরায়ুতে আইইউডি প্রয়োগ • আইইউডি লোড করার পর আবার দু'হাতে জীবাণুমুক্ত প্লাস পরে নিতে হবে • ইনসার্টার টিউবের শেষ প্রান্তে ধরে স্পর্শবিহীন পদ্ধতিতে কপার-টি প্রয়োগের জন্য প্যাকেটের বাইরে বের করে আনতে হবে • টেনাকুলাম (যা এখনোও সারভিক্সে লাগানো অবস্থায় রয়েছে) হাত দিয়ে ধরে মোটামুটি দৃঢ়ভাবে নিচের দিকে ও বাইরের দিকে টেনে জরায়ু-গহ্বর ও সারভিক্সের মধ্যস্থিত পথ (Cervical canal) যোনিপথের সঙ্গে একই লাইনে আনতে হবে • কপার-টি সহ ইনসার্টারটিকে সোজা অবস্থায় রেখে উপরে তুলতে হবে যাতে কপার-টি'র মাথা ও সাদা রড আলাদা হয়ে না যায় অথবা কোন কিছুর সঙ্গে ছোঁয়া না লাগে • নীল রঙের গার্ড কপার-টি'র দুই বাহুর সমান্তরাল অবস্থানে রেখে লোড করা ইনসার্টারটি সারভিক্সের ভিতর দিয়ে ধীরে ধীরে প্রবেশ করাতে হবে। জরায়ু-গহ্বরের অবস্থান ও দিক অনুসারে লোড করা ইনসার্টার ঠেলতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না নীল রঙের গার্ড জরায়ু মুখের (সারভিক্সের) সংস্পর্শে আসে (চিত্র-৬.১) • এরপর এক হাতে টেনাকুলাম এবং সাদা রড একত্রে স্থিরভাবে ধরে অন্য হাতে ইনসার্টার টিউব প্রয়োগকারীর নিজের দিকে টানতে হবে (Withdrawal/প্রত্যাহার) যতক্ষণ পর্যন্ত না এটা সাদা রডের ধরার জায়গা (Thumb grip) স্পর্শ করে। ফলে জরায়ুর ভিতরে কপার-টির বাহু দু'টি খুলে যাবে এবং যা সেবাদানকারী সহজে অনুভব করতে পারবেন (চিত্র-৬.২) • টি-এর বাহুদ্বয়কে জরায়ুর মধ্যে যতদূর সম্ভব উঁচুতে অর্থাৎ ফান্ডাসে স্থাপন করার জন্য ইনসার্টার টিউবটিকে আন্তে আন্তে জরায়ুর ফান্ডাসের দিকে ঠেলতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আগের মতো সামান্য বাধা টের পাওয়া যায় অর্থাৎ নীল রঙের গার্ড পুনরায় জরায়ুর মুখ স্পর্শ করে (চিত্র-৬.৩) • এবার ইনসার্টার টিউবটিকে একই অবস্থায় ধরে রেখে খুব আস্তে আস্তে সাদা রডটিকে জরায়ু থেকে বের করে নিতে হবে। তারপর ইনসার্টার টিউবটি কিছুটা বের করতে হবে যাতে ৩-৪ সে. মি. সুতা দেখা যায় এবং বাকিটা ইনসার্টার এর ভিতর থাকে (চিত্র-৬.৪) • কপার-টি এর সুতা জরায়ুর মুখ থেকে ৩-৪ সে. মি. বাইরে রেখে সুতাটি ইনসার্টার টিউবের ভিতরে থাকা অবস্থায় কাঁচি দিয়ে কাটতে হবে এবং ইনসার্টার টিউব বের করে ময়লা ফেলার বালতিতে ফেলতে হবে (চিত্র-৬.৫) প্রয়োগ পরবর্তী করণীয় • টেনাকুলামটি নরমভাবে সারভিক্স থেকে খুলে পুনরায় বন্ধ করে বের করে আনতে হবে • টেনাকুলাম দিয়ে ধরে থাকা স্থান লক্ষ্য করতে হবে। যদি রক্তপাত হয় তাহলে একটি শুকনা তুলার বল ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড চেপে ধরে রাখতে হবে • তুলার বলটি ময়লা ফেলার বালতিতে ফেলতে হবে • আস্তে আস্তে স্পেকুলাম বন্ধ করে সোজাসুজি বের করে আনতে হবে • ব্যবহৃত সমন্ত যন্ত্রপাতি এক এক করে সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে বা ধুয়ে ফেলতে হবে • গ্রহীতা কেমন বোধ করছেন তা জিজ্ঞেস করতে হবে এবং তাকে বলতে হবে আইইউডি পরানো হয়ে গেছে • দুই হাতের গ্লাভস খুলে বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলে দিতে হবে আইইউডি প্রয়োগের পরবর্তী সেবাসমূহ ও ব্যবস্থাপনা কোন কোন মহিলা আইইউডি প্রয়োগের পরপরই সাময়িকভাবে মূর্ছা যেতে পারেন অথবা পেটে ব্যথা বা পেশিতে টান অনুভব করতে পারেন। এরকম সম্ভাবনা এড়াতে চাইলে- • আইইউডি প্রয়োগের ৩০ মিনিট পূর্বে গ্রহীতাকে একটি ৪০০ মিলিগ্রাম আইবুপ্রোফেন ট্যাবলেট এবং রেনিটিডিন-১৫০ মিলিগ্রাম/প্যানটোপ্রাজল-২০ মিলিগ্রাম খাওয়ানো যায় • আইইউডি প্রয়োগের পর পর্যবেক্ষণের জন্য ১০-১৫ মিনিট গ্রহীতাকে শুয়ে থাকার উপদেশ দিতে হবে • ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে যদি তা খুব বেশি মারাতাক হয়, তাহলে তাকে অ্যাট্রোপিন সালফেট ০.৪ মিলিগ্রাম ইনজেকশন মাংসপেশি বা শিরায় দিতে হবে • যদি গ্রহীতা পেটের পেশিতে টানের জন্য অস্বস্তিবোধ করেন তাহলে ব্যথা নিবারণের জন্য তাকে আইবুপ্রোফেন বড়ি খেতে দিতে হবে। তবে এসব পরিস্থিতি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য খুব সতর্কতার সাথে আন্তে আন্তে আইইউডি পরাতে হবে • গ্রহীতা যদি তীব্র ব্যথা এবং পেশির টান খুব বেশি অস্বস্তিকর হয় এবং এর সাথে যদি জরায়ু থেকে রক্তপাত শুরু হয় ও সুতাও হারিয়ে যায়, তাহলে মনে করতে হবে জরায়ু ছিদ্র হয়েছে। এক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে বা কোন হাসপাতালে রেফার করতে হবে। প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের সময় ক. গর্ভফুল পড়ার পর পর আইইউডি প্রয়োগ স্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল ডেলিভারির পর গর্ভফুল বের হবার পর পরই ১০ মিনিটের মধ্যে আইইউডি প্রয়োগের জন্য কেলি প্লাসেন্টাল/রিং ফরসেপ ব্যবহার করা যেতে পারে বা বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত গ্লাভস পরে হাত দিয়ে প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ সময় সারভিক্স প্রায় সম্পূর্ণ প্রসারিত থাকে তাই খুব সহজেই আইইউডি প্রয়োগ করা যায়। স্বাভাবিক সময়ে আইইউডি প্রয়োগের সময় যে প্রয়োগ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়, প্রসব পরবর্তী সময়ে সে প্রয়োগ যন্ত্র ব্যবহার হয় না। কারণ প্রয়োগযন্ত্র এত ছোট যে জরায়ুর ফান্ডাসে পৌঁছাতে পারে না। গর্ভফুল বের হবার ১০ মিনিটের মধ্যে আইইউডি প্রয়োগ করলে প্রসব পরবর্তী অন্য সময়ের তুলনায় আপনা-আপনি এটা বের হয়ে যাবার সম্ভাবনা কম। খ. তাৎক্ষণিক প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগ স্বাভাবিক ভ্যাজাইনাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে গর্ভফুল পড়ার পর ১০ মিনিট থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেলি প্লাসেন্টাল/রিং ফরসেপ ব্যবহার করে আইইউডি প্রয়োগ করা হয়। প্রসবের পর যে সময় আইইউডি প্রয়োগ করা যাবে না প্রসবের পর ৪৮ ঘণ্টা থেকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত আইইউডি প্রয়োগ করা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদন করে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেডিক্যাল বিবেচনার উপযুক্ততা যাচাইয়ে দেখা গেছে যে তুলনামূলকভাবে উক্ত সময়ে আইইউডি জরায়ু থেকে বের হয়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। গ. সিজারিয়ান অপারেশনের সময় আইইউডি প্রয়োগ সিজারিয়ান অপারেশনের সময় বাচ্চা এবং গর্ভফুল বের করার পর জরায়ুর কাটা অংশ সেলাই করে বন্ধ করার পূর্বে আইইউডি প্রয়োগ করা যায়। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় যেহেতু জরায়ু-গহ্বর উন্মুক্ত থাকে তাই হাত দিয়ে বা ধরা যায় এমন কোন যন্ত্র দিয়ে আইইউডি জরায়ুর ফান্ডাসে স্থাপন করা যায়। প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেলি প্লাসেন্টাল ফরসেপ দিয়ে। প্রয়োগের ক্ষেত্রে হাত দিয়ে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রয়োগের ক্ষেত্রে • আইইউডি • জীবাণুমুক্ত গ্লাভস/ সিমস ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ • কেলি প্লাসেন্টাল ফরসেপ • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ • গালিপট • জীবাণুমুক্ত তুলার বল • গ্রহীতাকে ঢাকার জন্য জীবাণুমুক্ত ট্র্যাপিং শিট • আইইউডি • জীবাণুমুক্ত গ্লাভস/ সিমস ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম • জীবাণুমুক্ত লম্বা হাতওয়ালা গ্লাভস অথবা স্বাভাবিক গ্লাভসের সাথে ভিজে যায় না এমন গাউন • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ • গালিপট • জীবাণুমুক্ত তুলার বল • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ • গ্রহীতাকে ঢাকার জন্য জীবাণুমুক্ত ট্র্যাপিং শিট • আইইউডি • জীবাণুমুক্ত গ্লাভস • রিং ফরসেফ প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োেগ পূর্ব করণীয় কাজসমূহ সেবাদানকারীকে নিশ্চিত হতে হবে যে - গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করা হয়েছে - যথাযথ গ্রহীতা বাছাই করা হয়েছে - গ্রহীতা প্রসব পরবর্তী আইইউডি-এর জন্য উপযুক্ত মনে রাখতে হবে • প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের পূর্বে নিয়মিতভাবে হাত দিয়ে জরায়ু পরীক্ষা করা যাবে না • প্রসবের সময় যদি অবশকরণের কোনো ঔষধ দেওয়া হয়ে থাকে তবে প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের জন্য আলাদাভাবে কোন ঔষধ দেয়ার প্রয়োজন নেই • প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের জন্য আগে থেকেই কোন অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার দরকার নাই কেলি প্লাসেন্টাল ফরসেপ দিয়ে আইইউডি প্রয়োগের সুবিধা • গ্রহীতার জন্য অপেক্ষাকৃত আরামদায়ক • ভালোভাবে সংকুচিত জরায়ুর ক্ষেত্রে ফরসেপ প্রয়োগ সহজ • সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সহজ হয়। লম্বা জীবাণুমুক্ত গ্রাভস দরকার হয় না • ফরসেপ দিয়ে প্রয়োগের সময় আইইউডি জরায়ুর নীচের দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। • ফরসেপ দিয়ে প্রয়োগের সময় যৌনাঙ্গে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা হাত দিয়ে প্রয়োগের তুলনায় কম কেলি প্লাসেন্টাল ফরসেপ ব্যবহার করে আইইউডি প্রয়োগের ধাপসমূহ ১. আইইউডি গ্রহণে গ্রহীতার অবহিত সম্মতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে হবে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণ ট্রে/ট্রলিতে সাজিয়ে নিতে হবে (চিত্র: ১) ২. প্রসবের তৃতীয় ধাপের সক্রিয় ব্যবস্থাপনা করতে হবে (চিত্র: ২) • প্রত্যেক ক্ষেত্রে বাচ্চা প্রসবের ১ মিনিটের মধ্যে মাংসপেশীতে ১০ ইউনিট অক্সিটোসিন দিতে হবে • প্রয়োজনে নাভিরজ্জুতে নিয়ন্ত্রিত টান ও জরায়ুতে বিপরীতমুখী চাপ দিয়ে গর্ভফুল বের করতে হবে • প্রত্যেক ক্ষেত্রে গর্ভফুল প্রসবের পরপরই প্রসূতির পেটের উপর হাত দিয়ে ম্যাসাজ করতে হবে ৩. পেটের উপর হাত দিয়ে জরায়ুর ফান্ডাসের উচ্চতা অনুভব করতে হবে। জরায়ুর উচ্চতা ও আকার নির্ণয় করা খুবই জরুরি। এটা থেকে ধারণা পাওয়া যাবে যে, প্রয়োগের পর আইইউডি-র সুতা সারভিক্সের বাইরে বের হয়ে থাকবে কিনা ৪. পেরিনিয়ামে কোনো ক্ষত বা ছেঁড়া আছে কিনা দেখতে হবে (চিত্র: ৩) ৫. পরিষ্কার জীবাণুমুক্ত ট্র্যাপিং শিট গ্রহীতার কোমরের/ নিতম্বের নিচে এবং তলপেটের উপরে দিতে হবে। নতুন একজোড়া জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরতে হবে। যোনিপথে স্পেকুলাম দিয়ে সারভিক্স দৃশ্যমান করতে হবে (চিত্র: ৪) ৬. সারভিক্স এবং যোনিপথে অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ দিয়ে মুছতে হবে এবং অ্যান্টিসেপটিক কাজ করার জন্য সময় দিতে হবে (চিত্র: ৫) ৭. সারভিক্স এর সামনের ঠোঁট (Anterior lip) স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ দিয়ে নমনীয়ভাবে ধরতে হবে। এ সময় টেনাকুলাম দিয়ে সারভিক্স ধরা যাবে না। কারণ তাহলে সারভিক্স ছিড়ে যেতে পারে। একঘর দাগ পর্যন্ত ফরসেপ এর ক্যাচ আটকাতে হবে (চিত্র: ৬) ৮. জীবাণুমুক্ত প্যাকেট থেকে কেলি প্লাসেন্টাল/রিং ফরসেপের সাহায্যে আইইউডি ধরতে হবে। আইইউডি-র খাড়া দণ্ড ও ডানদিকের আনুভূমিক বাহু এমনভাবে ধরতে হবে যেন দণ্ড এবং বাহু উভয়েরই কিছু অংশ রিঙের বাইরে থাকে। আইইউডির খাড়া দণ্ড ও ফরসেপের হাতল সমান্তরাল অবস্থানে থাকতে হবে। এর ফলে ফান্ডাসে আইইউডি স্থাপন সহজ হবে এবং স্থাপনের পর ফরসেপ বের করে আনার সময় সাথে আইইউডি বের হয়ে আসার ঝুঁকি কম হবে (চিত্র: ৭) ৯. সারভিক্স ধরা ফরসেপটি সেবাদানকারী বরাবর উপরের দিকে হালকা টান রাখতে হবে (চিত্র: ৮) ১০. আইইউডি ধরা ফরসেপসটি সারভিক্সের ভিতর দিয়ে জরায়ু ও যোনিপথের বাঁক পর্যন্ত প্রবেশ করাতে হবে। আইইউডি যাতে যোনিপথের দেয়ালে না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে (চিত্র: ৮) ১১. এবার সারভিক্স ধরার ফরসেপটি খুলে বাম হাত তলপেটে ফান্ডাসের উপর রেখে নমনীয়ভাবে জরায়ুতে নীচের দিকে চাপ দিতে হবে যেন জরায়ু সোজা এবং স্থিতিশীল হয়। আইইউডি যখন প্রয়োগ করা হবে তখন জরায়ু পেটের উপরের দিকে যাতে না উঠে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে (চিত্র: ৯,১০) গ্রহীতার যদি বর্তমানে ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি হয় এবং আগে সিজারিয়ান অপারেশন হয় তবে স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ দিয়ে জরায়ুর পিছনের দেয়ালে চাপ দেয়ার সময় বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আইইউডি আগের ইনসিশনের কোন ক্ষত আছে এমন জায়গায় স্থাপন না করা হয়। শিথিল তলপেটের মধ্যে দিয়ে জরায়ুকে অনুভব করার সময় নিশ্চিত হতে হবে যে ফরসেপ-এর মাথা ফান্ডাসে আছে ১৩. জরায়ুর ডান দিকে সামান্য কাত করে কেলি/রিং ফরসেপ-এর আইইউডি ধরা অংশকে খুলে আইইউডি ফান্ডাসে স্থাপন করতে হবে (চিত্র: ১১) ১৪, ফরসেপ সামান্য খোলা অবস্থায় জরায়ুর বাম দিকের দেয়াল ঘেঁষে ফরসেপ আস্তে আস্তে বের করে আনতে হবে (চিত্র: ১২, ১৩) ১৫. সারভিক্স পরীক্ষা করতে হবে। আইইউডি প্রয়োগের শুরুতে যদি জরায়ু বড় থাকে এবং সারভিক্সের বাইরে সুতা দেখা যায় তবে ধরে নেয়া যেতে পারে যে আইইউডি ফান্ডাসে স্থাপিত হয়নি। এক্ষেত্রে আইইউডি খুলে ফেলতে হবে এবং জীবাণুমুক্ত অন্য একটি ফরসেপ দিয়ে নতুন আইইউডি সঠিক স্থানে স্থাপন করতে হবে। (চিত্র: ১৪) ১৬. এপিসিওটমি সেলাই করার প্রয়োজন থাকলে করতে হবে হাত দিয়ে আইইউডি প্রয়োগের ধাপসমূহ গর্ভফুল পরবর্তী প্রয়োগ পদ্ধতি (হাত দিয়ে) ১. লম্বা হাতওয়ালা জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরে নিতে হবে অথবা সাধারণ গ্লাভসের সাথে ভিজে না যায় এমন গাউন পরে নিতে হবে। গর্ভফুল প্রসবের ১০ মিনিটের মধ্যে হাতের তর্জনী এবং মধ্যমা দিয়ে আইইউডি-র খাড়া দণ্ডটি ধরতে হবে (চিত্র: ১৫) ২. আস্তে আস্তে আইইউডি ধরা হাতটি যোনিপথ এবং সারভিক্সের ভিতর দিয়ে জরায়ুর ভিতর প্রবেশ করাতে হবে। অন্য হাত দিয়ে তলপেটের উপর দিয়ে জরায়ুকে স্থিতিশীল রাখতে হবে ৩. জরায়ুকে নিচের দিকে চাপ দিয়ে রাখতে হবে যেন পেটের উপরের দিকে না উঠে যায়। আইইউডি প্রয়োগের সময় প্রয়োগকারী নিজে বুঝতে পারবেন যে ফান্ডাসে আইইউডি স্থাপন করতে হলে কোন দিকে হাত নিতে হবে। হাত ফান্ডাসে পৌঁছাতে পেরেছে কিনা তা বাইরের হাত দিয়ে অনুভব করে নিশ্চিত হতে হবে ৪. হাত একটু কাত করে আঙুল খুলে আইইউডি জরায়ুর ফান্ডাসে স্থাপন করতে হবে (চিত্র: ১৬) ৫. আঙুল খোলা অবস্থায় হাত জরায়ুর দেয়াল ঘেঁষে আন্তে বের করে আনতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আইইউডি স্থানচ্যুত না হয় ৪. হাত একটু কাত করে আঙুল খুলে আইইউডি জরায়ুর ফান্ডাসে স্থাপন করতে হবে ৫. আঙুল খোলা অবস্থায় হাত জরায়ুর দেয়াল ঘেঁষে আন্তে বের করে আনতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আইইউডি স্থানচ্যুত না হয় মনে রাখতে হবে • যে সকল ক্ষেত্রে ফরসেপ দিয়ে আইইউডি প্রয়োগের সুযোগ নেই কেবলমাত্র সে সকল ক্ষেত্রেই প্রসবের ১০ মিনিটের মধ্যে হাত দিয়ে আইইউডি প্রয়োগ করতে হবে। সিজারিয়ান অপারেশনের সময় প্রয়োগ ১. নিশ্চিত হতে হবে যে জরায়ুতে গর্ভফুলের কোনো অংশ ও কোনো অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ নেই। ২. হাত দিয়ে বা রিং ফরসেপের সাহায্যে আইইউডি ফান্ডাসে স্থাপন করতে হবে। ৩. জরায়ুর কাটা অংশ সেলাই করার আগে আইইউডির সুতা জরায়ুর নিচের অংশে রাখতে হবে। সারভিক্সের ভিতর দিয়ে সুতা বাইরে বের করে দেয়া যাবে না। (সিজারিয়ান অপারেশন এর সাথে সাথে IUD প্রয়োগ না করা হলে ৪ সপ্তাহ পর হতেই IUD প্রয়োগ করা যায়। উল্লেখ্য যে, একাধিকবার সিজারিয়ান অপারেশন হলেও IUD প্রয়োগে কোন বাধা নেই।) আইইউডি প্রয়োগের পরবর্তী ধাপসমূহ ১. ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে বা ধুয়ে ফেলতে হবে। ২. যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণ করতে হবে। ৩. গ্লাভস খুলে বর্জ্য ফেলার পাত্র ফেলতে হবে। মনে রাখতে হবে • কেলি প্লাসেন্টাল ফরসেপ-এর সাহায্যে তাৎক্ষণিক প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের জন্য গ্লাস (Glaves) স্পেকুলামকে ব্যবহার করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। গ্রেভস্ স্পেকুলামের দুই ব্লেডের সংযোগস্থলকে খাড়াভাবে বাড়ানো যায় এবং ব্লেড দু'টি অনেকটা জায়গা জুড়ে খুলতে পারে। এর ফলে সারভিক্স ভালভাবে দেখা যাবে এবং সারভিক্স না ধরেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ঢুকানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাবে। কাসকোস স্পেকুলামের সাহায্যে শুধুমাত্র উপরের ব্লেড খোলা যায়। সিমস স্পেকুলামের ক্ষেত্রে অন্য একজনকে স্পেকুলাম ধরতে হয় • আইইউডি এবং ফরসেপস একবারই শুধুমাত্র সারভিক্স দিয়ে ঢুকাতে হবে। সারভিক্স দিয়ে আইইউডি বের হয়ে গেছে এরকম ক্ষেত্রে আইইউডি জরায়ুতে প্রয়োগ করা যাবে না এবং পুনরায় সার্ভিক্সের ভিতর দিয়ে নতুনভাবে আইইউডি প্রয়োগ করতে হবে • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, আইইউডি যেভাবেই প্রয়োগ করা হোক না কেন, ফান্ডাসের সবচেয়ে উঁচু জায়গায় আইইউডি স্থাপন করতে হবে এমআর/এমআরএম/গর্ভপাত পরবর্তী সেবার সময় আইইউডি প্রয়োগ • প্রথম তিন মাসের মধ্যে এমআর/এমআরএম/গর্ভপাত হলে, স্বাভাবিক সময়ে ইনসার্টার টিউব প্রয়োগ করা হয়। এ সময় সারভিক্স সামান্য প্রসারিত থাকে; ইনসার্টার টিউব সহজেই ঢোকানো যায়; জরায়ু ছোট এবং দৃঢ় থাকে; ইনসার্টার টিউব দিয়ে জরায়ু ছিদ্র হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। এমআরএম করার পরে যখন নিশ্চিত হওয়া যাবে যে জরায়ু সম্পূর্ণ খালি হয়েছে তখন আইইউডি প্রয়োগ করা যাবে • গর্ভধারণের তিন থেকে ছয় মাস পর গর্ভপাত হলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারী দ্বারা আইইউডি প্রয়োগ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে কেলি প্লাসেন্টাল/রিং ফরসেপ এর সাহায্যে আইইউডি প্রয়োগ করা যেতে পারে। কেলি প্লাসেন্টাল/রিং ফরসেপ তখনই ব্যবহার করা যাবে, যখন সারভিক্স যথেষ্ট উন্মুক্ত থাকে। অন্যথায় স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে আইইউডি প্রয়োগ করা হয় সেভাবে করতে হবে আইইউডি সেবা পরবর্তী পরিচর্যা ও ফলো-আপ আইইউডি সেবাদানকারীর পেশাগত জ্ঞান, দক্ষতা ও মনোভাবের উপর আইইউডি সেবার সার্থকতা নির্ভর করে। আইইউডি সেবাদানকারীর লক্ষ্য হওয়া উচিত গুণগত সেবার মাধ্যমে গ্রহীতার সন্তুষ্টি বৃদ্ধিসহ গ্রহীতার সংখ্যা বৃদ্ধি। আইইউডি প্রয়োগের পরপরই সেবাদানকারীর দায়িত্ব শেষ হয় না। সেবা পরবর্তী কিছু বার্তা এবং পরবর্তীতে গ্রহীতাকে ফলো-আপ করাও অত্যন্ত প্রয়োজন। সেবা পরবর্তী বার্তা ও ফলো-আপের গুরুত্ব ১. গ্রহীতার সন্তুষ্টি বৃদ্ধি পায় আইইউডি সেবাদানকারী যদি গ্রহীতাদের প্রতি ইতিবাচক আচরণ প্রদর্শন করেন বা গ্রহীতার সাথে ভাল ব্যবহার করেন এবং ফলো-আপের জন্য যত্নবান হন তবে গ্রহীতা সন্তুষ্ট হন। . আইইউডি ছেড়ে দেওয়ার হার কম হয় ২ একজন গ্রহীতা সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলে পদ্ধতিটি সে সহজে ছেড়ে দিতে চায় না। আইইউডি ব্যবহার দীর্ঘ সময় চালিয়ে যাওয়া অনেকাংশে নির্ভর করে সেবাদানকারীর উপর। ৩. গ্রহীতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতা নিয়ে ভয়-ভীতি দূর হয় আইইউডি সেবা প্রদানের পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা দেখা দিতে পারে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতার দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থাপনার উপরই নির্ভর করে গ্রহীতার সন্তুষ্টি। আইইউডি ব্যবহারে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতা আছে। এ সকল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জটিলতার কারণে অনেক গ্রহীতা আইইউডি খুলে ফেলেন। এ সকল সমস্যাসমূহ সম্পর্কে গ্রহীতা আগে থেকেই অবহিত হলে এবং এর ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানলে গ্রহীতার ভয়-ভীতি দূর হবে এবং সহজেই আইইউডি খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে না। ৪. কোন সমস্যা হলে কখন, কোথায় যেতে হবে তা জানানো যায় আইইউডি সেবা গ্রহণের ফলে কিছু সাধারণ এবং কিছু জটিল সমস্যা হতে পারে। গ্রহীতাকে আগে থেকে এ ব্যাপারে জানালে সে সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারবে বা চেষ্টা করবে। আইইউডি গ্রহীতাকে জটিলতা সম্পর্কে না জানানো হলে গ্রহীতার জন্য তা হবে বিপদজনক। ফলে জনমনে আইইউডি সম্পর্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হবে। আইইউডি সেবা পরবর্তী করণীয় ১. ঔষধ সরবরাহ আইইউডি পরানোর পর গ্রহীতাকে নিম্নলিখিত ঔষধ দিতে হবে- • আইবুপ্রোফেন ৪০০ মি. গ্রা. ট্যাবলেট (১০টি), ১টি করে দিনে দুই বার ব্যথা হলে ভরা পেটে খেতে হবে। যদি পেপটিক আলসারের ইতিহাস থাকে তবে আইবুপ্রোফেন-এর পরিবর্তে প্যারাসিটামল দেওয়া যেতে পারে • ৬০টি আয়রন ট্যাবলেট ১টি করে দিনে দুই বার ভরা পেটে খেতে হবে • ট্যাবলেট রেনিটিডিন- ১৫০ মিলিগ্রাম (১০টি), ১টি করে দিনে ২ বার খালি পেটে খেতে হবে কার্ড বিতরণ ২. গ্রহীতার প্রতি নির্দেশাবলী অনুসরণের সুবিধার জন্য একটি আইইউডি কার্ড প্রদান করা হয়। ৩. আইইউডি প্রয়োগের পর যৌনমিলন আইইউডি জরায়ুতে স্থাপনের দিন হতেই কার্যকর হয়। টেনাকুলাম ধরার স্থানে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয় কনডম ছাড়া যৌনমিলনে তা হতে সংক্রমণ হবার সম্ভাবনা থাকে। এ কারণে ৭ দিন পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়। আইইউডি ফলো-আপ ক. নিয়মিত ফলো-আপঃ আইইউডি ব্যবহারে কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা এবং তা সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা জানার জন্য ৩ বার ফলো-আপ করা হয়। ১ম বার প্রয়োগের ১ মাস পর বা প্রথম মাসিকের পর অথবা ১ মাস ৭ দিন (প্রসব পরবর্তী ৬ সপ্তাহ পর ১ম আইইউডি ফলো-আপ ২য় বার প্রয়োগের ৬ মাস পর। ১ মাস ৩য় বার প্রয়োগের ১২ মাস পর ১ মাস খ. অনিয়মিত/জরুরি ফলো-আপ: যে কোন সমস্যা বা জটিলতার জন্য গ্রহীতাকে সেবাদানকারীর কাছে বা নিকটস্থ সেবাকেন্দ্রে আসতে বলতে হবে। এগুলো জরুরি ফলো-আপের অন্তর্ভুক্ত নিয়মিত ফলোআপে করণীয় • গ্রহীতার আইইউডি সংক্রান্ত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতা বা কোন সমস্যা আছে কিনা তা শুনতে হবে • গ্রহীতার কোন প্রশ্ন বা কোন কিছু জানার থাকলে তার উত্তর দিতে হবে • স্পেকুলাম পরীক্ষা এবং দুই হাতে যোনিপথ, জরায়ু ও তলপেট পরীক্ষা করতে হবে। সুতা ঠিকমত আছে কিনা তা দেখার জন্য কোন সংক্রমণ আছে কিনা তা দেখার জন্য যদি গ্রহীতা সামগ্রিকভাবে আইইউডি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকেন তাহলে যে বিষয়গুলো পুনরায় মনে করিয়ে দিতে হবে তা হল। - কী কী কারণে সেবাকেন্দ্রে আসতে হবে বা বিপদজনক লক্ষণসমূহ - সুতা পরীক্ষার নিয়ম - আইইউডি'র মেয়াদকাল অর্থাৎ কতদিন পর আইইউডি খুলতে হবে প্রসব পরবর্তী আইইউডি ফলোআপে করণীয় • গ্রহীতার কোন প্রশ্ন আছে কিনা বা কোন সমস্য আছে কিনা তা জিজ্ঞাসা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী তাকে উত্তর দিতে হবে • সারভিক্স দেখার জন্য স্পেকুলাম পরীক্ষা করতে হবে • সুতা দেখা যায় কিনা তা দেখতে হবে • প্রসব পরবর্তী আইইউডি'র ক্ষেত্রে সুতা দেখা যেতে ৪০ দিন থেকে ১ বছর পর্যন্ত সময় লাগে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সুতা নাও দেখা যেতে পারে। যদি সুতা অনেক লম্বা থাকে তবে সারভিক্সের মুখ থেকে ৩-৪ সে.মি. রেখে কেটে দিতে হবে। যদি সুতা দেখা না যায় এবং গ্রহীতা বলেন যে আইইউডি বের হয়ে যায় নাই তবে এ ব্যাপারে কাউন্সেলিং করতে হবে এবং আশ্বস্ত করতে হবে • আইইউডিজনিত কোন সমস্যা হলে বা পদ্ধতি পরিবর্তন করতে চাইলে গ্রহীতাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে বলতে হবে। • যদি গ্রহীতার আইইউডি বের হয়ে যায়, গ্রহীতাকে অথবা অন্য কোনো জনন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি নেয়ার জন্য বলতে হবে। অথবা অন্য একটি আইইউডি প্রয়োগ করতে হবে। বিপদজনক লক্ষণসমূহ যে যে কারণে একজন গ্রহীতাকে সেবাকেন্দ্রে আসতে হবে তা সহজে মনে রাখার জন্য ইরেজি PAINS শব্দটি ব্যবহার করা হয়। নিম্নে PAINS দিয়ে কি বোঝানো হয়েছে তা দেওয়া হলো। P-Period মাসিক বন্ধ থাকা বা অস্বাভাবিক রক্তস্রাব হওয়া A- Abdomen তলপেটে অস্বাভাবিক ব্যথা বা সহবাসের সময় ব্যথা I- Infection সংক্রমণ বা যোনিপথে অস্বাভাবিক স্রাব N- Not feeling well ভালো না লাগা/অস্বস্তি লাগা/জ্বর বা শীত শীত লাগা S - String সুতা হারিয়ে যাওয়া অথবা ছোট বা বড় হয়ে যাওয়া সুতা পরীক্ষা প্রয়োজনে শুধুমাত্র সেবাদানকারীর নির্দেশ অনুযায়ী আইইউডি গ্রহীতা মাসিকের পর সুতা ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে পারে। এরকম অবস্থায় গ্রহীতাকে- • দুই হাত সাবান দিয়ে পরিষ্কার পানিতে ধুতে বলতে হবে • বসে তর্জনী যোনিপথে প্রবেশ করিয়ে আইইউডি'র সুতা অনুভব করার জন্য বলতে হবে • হাত দিয়ে সুতা পরীক্ষার সময় যাতে সুতায় টান না লাগে সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে বলতে হবে আইইউডি খোলা আইইউডি খোলার সময় • গ্রহীতা চাইলে যে কোনো সময় • গ্রহীতা সন্তান নিতে চাইলে • আইইউডির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে • গ্রহীতার মেনোপজ বা মাসিক একেবারে বন্ধ হয়ে গেলে (১ বছর পর খুলতে হবে)। কারণ, এ সময় মহিলাদের অনিয়মিত রক্তস্রাব হতে পারে • আইইউডি সংক্রান্ত কোন জটিলতা বা সমস্যা হলে সকল ক্ষেত্রে আইইউডি সেবাকেন্দ্রে গিয়ে সেবাদানকারীরর সহায়তায় খুলতে হবে। আইইউডি খোলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি • স্পঞ্জ হোন্ডিং ফরসেপ • কাসকোস-বাই-ভাল্ব সেফ রিটেইনিং ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম (মাঝারি আকারের) / গ্রেভস স্পেকুলাম • গালিপট • স্ট্রেইট আর্টারি ফরসেপ/এলিগেটর ফরসেপ • জীবাণুমুক্ত তুলার বল ২টি • গ্লাভস এক জোড়া • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ: পভিডন আয়োডিন। • পর্যাপ্ত আলোর উৎস: ইলেকট্রিক ফোকাস লাইট বা টর্চ লাইট • ড্র্যাপিং শিট: গ্রহীতার তলপেটের উপর দেওয়ার জন্য আইইউডি খোলার ধাপসমূহ • গ্রহীতাকে প্রস্রাব করে আসতে বলতে হবে। • গ্রহীতাকে টেবিলে লিথোটমি অবস্থায় (চিৎ হয়ে শুয়ে দু'পা এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যাতে পায়ের গোড়ালি উভয় দিকের জানুর পশ্চাৎদেশে সেঁটে লেগে থাকে) শোয়াতে হবে • সেবাদানকারীর দুই হাত হতে চুড়ি, ঘড়ি, আংটি, বালা, শাঁখা ইত্যাদি খুলে নিতে হবে। নখ বড় থাকলে পূর্বে কেটে নিতে হবে • সাবান দিয়ে ভালভাবে দুই হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে এবং দুই হাতে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরে নিতে হবে • প্রথমে ডান হাতের তর্জনী ও মধ্যমার সাহায্যে যোনিপথ খুলতে হবে এবং বাম হাতে বন্ধ স্পেকুলামকে সোজাসুজি যোনিপথে প্রবেশ করাতে হবে • স্পেকুলামের ভালভ দু'টিকে এমনভাবে খুলতে হবে যাতে স্পেকুলামের ঠোঁটের একটি জরায়ুর মুখের উপরে এবং অপরটি নিচে থাকে। • সারভিক্স দেখতে হবে (লক্ষ্য রাখতে হবে সারভিক্সে কোন অস্বাভাবিকতা আছে) • আইইউডির সুতা দেখতে হবে • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপের সাহায্যে দুইটি তুলার বল অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণে ভিজিয়ে সার্ভিক্স/জরায়ুর মুখ ভিতর থেকে বাহিরের দিকে ২ বার মুছে পরিষ্কার করতে হবে • আইইউডি খোলার জন্য সুতা দুটি একসাথে জরায়ুর মুখের নিকট হতে আর্টারি/এলিগেটর ফরসেপ দিয়ে ধরে টান রেখে আস্তে আস্তে টেনে বের করতে হবে • বের করা আইইউডি'টি গ্রহীতাকে দেখাতে হবে এবং বর্জ্য ফেলার বালতিতে ফেলতে হবে • কাসকোস-বাই-ভাল্ব সেক্ষ রিটেইনিং ভ্যাজাইনাল স্পেকুলামটি আস্তে আস্তে বের করতে হবে • ব্যবহৃত সকল যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে বা ধুয়ে ফেলতে হবে এবং গ্লাভসসহ অন্যান্য বর্জ্য নিয়ম অনুযায়ী বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলতে হবে • সাবান দিয়ে সাধারণভাবে হাত ধুয়ে শুকনো নিজস্ব তোয়ালে দিয়ে হাত মুছে শুকিয়ে নিতে হবে • আইইউডি ব্রেজিস্টারে তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হবে আইইউডি সহজে বের না হলে করণীয় • আইইউডি সহজে বের না হলে ইউটেরাইন ডাইলেটরের (Uterine dilator) সাহায্যে জরায়ু মুখ ডাইলেট (Dilate) করে নিয়ে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারীগণ এলিগেটর ফরসেপস দিয়েও আইইউডি খুলতে পারে • এলিগেটর ফরসেপ দিয়ে আইইউডি খুলতে না পারলে মেডিক্যাল অফিসারের কাছে রেফার করতে হবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, জটিলতা এবং ব্যবস্থাপনা • আইইউডি প্রয়োগের পর কারো কারো ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা হতে পারে। সমস্যাগুলোর কিছু আইইউডি'র পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং কিছু জটিলতা। নিম্নে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং জটিলতার তুলনামূলক চিত্র দেয়া হলো- পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া জটিলতা আইইউডি গ্রহণের কারণে এমন কিছু স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া যা • আপনা-আপনি ভাল হয়ে যায় • গ্রহীতার স্বাস্থ্যগত কোন ক্ষতি করে না • গ্রহীতাকে অনেক ক্ষেত্রে আশ্বস্ত করাই যথেষ্ট • সামান্য ঔষধের দরকার হতে পারে যা পদ্ধতির সাথেই দেয়া হয় • সমস্যা সমাধানের জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা (Intervention) গ্রহণ করতে হয় না। আইইউডি গ্রহণের পর এমন কিছু সমস্যা হয় যার জন্য সাধারণত অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়- গ্রহীতার শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হয় অতি দ্রুত নির্ণয় করতে হয় এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয়, যেমন- ১. বিশেষ ঔষধ প্রয়োগ ২. পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা ৩. রেফার করা ৪. পদ্ধতি খুলে ফেলা ৫. অপারেশন করা আইইউডি'র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ১. আইইউডি প্রয়োগের সময় - সামান্য মোচড়ানো ব্যথা ২. প্রয়োগের পর প্রথম কয়েক দিন - সামান্য রক্তস্রাব - সামান্য মোচড়ানো ব্যথা ৩. প্রয়োগের পর প্রথম কয়েক মাস - দীর্ঘস্থায়ী মাসিক/স্রাবের পরিমাণ বেশি - মোচড়ানো ব্যথা - মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তস্রাব আইইউডি'র জটিলতা • অস্বাভাবিক রক্তস্রাব • তলপেটে প্রচণ্ড মোচড়ানো ব্যথা • ব্যথার ফলে অজ্ঞান হওয়া • আইইউডি বের হয়ে যাওয়া • জরায়ু ছিদ্র হয়ে যাওয়া • সুতাজনিত সমস্যা • গর্ভধারণ • তলপেটে প্রদাহ • যোনিপথের স্রাব আইইউডি'র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ব্যবস্থাপনা মোচড়ানো ব্যথা কখন হতে পারে • জরায়ু সাউন্ডিং করার সময় • আইইউডি পরানোর পর পরই • আইইউডি পরানোর প্রথম কয়েক দিন বা মাসের মধ্যে ব্যবস্থাপনা • আইইউডি পরানোর আগে এবং পরে গ্রহীতাকে এ বিষয়ে কাউন্সেলিং করতে হবে • প্রয়োগের সময় ধীরে ধীরে এবং নরম হাতে সাউন্ডিং করতে হবে • টেনাকুলাম দৃঢ়ভাবে নীচের দিকে ও বাইরের দিকে টেনে জরায়ু গহ্বর, সারভিক্সের মধ্যস্থিত পথ (Cervical Canal) এবং যোনিপথকে একই লাইনে আনতে হবে। • হালকা ব্যথা নিবারণকারী ঔষধ ব্যথা না কমা পর্যন্ত খেতে দিতে হবে, যেমন • আইবুপোফেন ৪০০ মিলিগ্রাম, ১২ ঘণ্টা পর পর ভরা পেটে ৫ দিন অথবা, প্যারাসিটামল ৫০০ মিলিগ্রাম ১টি বা ২টি বড়ি ৮ ঘণ্টা পর পর ভরা পেটে (যদি গ্যাস্ট্রিক আলসার থাকে) সঙ্গে রেনিটিডিন ট্যাবলেট, ১৫০ মিলিগ্রাম (১০ টি), ১টি করে ট্যাবলেট দিনে ২ বার খালি পেটে খেতে দিতে হবে • আশ্বস্ত করতে হবে • যদি ব্যথা বেড়ে যায় বা না কমে তবে জটিলতা (আইইউডি জরায়ুর দেয়ালে গ্রোথিত হয়ে যাওয়া, জরায়ু আংশিক বা পুরোপুরি ছিদ্র হয়ে যাওয়া) সন্দেহ করলে রেফার করতে হবে সামান্য রক্তস্রাব, মাসিকের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তস্রাব কখন হতে পারে • আইইউডি প্রয়োগের পর পরই • আইইউডি প্রয়োগের পর প্রথম কয়েক দিন বা কয়েক মাস ব্যবস্থাপনা • আইইউডি পরানোর আগে এবং পরে গ্রহীতাকে এ বিষয়ে কাউন্সেলিং করতে হবে (সম্ভব হলে স্বামীসহ কাউন্সেলিং করতে হবে) • আশ্বস্ত করতে হবে • গ্রহীতাকে আয়রনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খেতে পরামর্শ দিতে হবে • গ্রহীতাকে প্রতিদিন ৩০০ মিলিগ্রাম করে ফেরাস সালফেট ১-২ মাসের জন্য খেতে দিতে হবে সারভিক্সে ক্ষত কখন হতে পারে • প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের সময় সম্ভাব্য লক্ষণসমূহ • যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তপাত ব্যবস্থাপনা • ক্ষত দেখা গেলে ক্ষতের আকার ও রক্তপাতের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে রিপেয়ার করুন আইইউডি'র জটিলতার ব্যবস্থাপনা অস্বাভাবিক রক্তস্রাব ও রক্তস্বল্পতাজনিত সমস্যা কখন হতে পারে- • আইইউডি পরানোর সময় গ্রহীতার রক্তস্বল্পতা থাকলে • আইইউডি পরানোর ৩ মাসের মধ্যে ব্যবহারকারীর অত্যধিক রক্তস্রাব হলে। ব্যবস্থাপনা • প্রয়োগের পূর্বে সঠিকভাবে গ্রহীতা বাছাই করতে হবে • আইবুপ্রোফেন ৪০০ মিলিগ্রাম, ১২ ঘণ্টা পর পর ভরা পেটে ৫ দিন সঙ্গে রেনিটিডিন ট্যাবলেট, ১৫০ মিলিগ্রাম (১০ টি), ১টি করে ট্যাবলেট দিনে ২ বার খালি পেটে খেতে দিতে হবে। • গ্রহীতাকে প্রতিদিন ৩০০ মি.গ্রা.করে ফেরাস সালফেট ১-২ মাস খেতে দিতে হবে • হিমোগ্লোবিনের মাত্রা নির্ণয় করতে দিতে হবে। • গ্রহীতাকে আয়রনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর খাবার খেতে পরামর্শ দিতে হবে। নিম্নের কোন সমস্যা বা উপসর্গ আছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা করতে হবে- - সারভিক্সের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ - সহবাস পরবর্তী রক্তস্রাব। - অনিয়মিত রক্তস্রাব - সারভিক্স বা জরায়ুতে পলিপ - সারভিক্স বা জরায়ুর ক্যান্সার - জরায়ুর টিউমার (ফাইব্রয়েড) • সাথে ব্যথা থাকলে - তলপেটে প্রদাহ আছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে। - গর্ভ (জরায়ুর ভিতরে বা বাইরে গর্ভধারণ) আছে কিনা দেখতে হবে • গ্রহীতাকে ফলো-আপে রুখতে হবে। • রক্তস্রাব অসহ্য মনে হলে আইইউডি খুলে ফেলতে হবে তলপেটে খিঁচুনি ও মোচড়ানো ব্যথা কখন হতে পারে • আইইউডি প্রয়োগের সময় • আইইউডি প্রয়োগের পর প্রতি মাসিকের সময় • সারভিক্স বা জরায়ুতে কোন প্রদাহ হলে • তলপেটে প্রদাহ হলে • আপনা-আপনি গর্ভপাত হলে • জরায়ুর বাহিরে গর্ভধারণ হলে ব্যবস্থাপনা ক. সাধারণ ব্যবহা • রক্তচাপ, নাড়ির গতি ও তাপমাত্রা দেখতে হবে • তলপেটে হাত দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে • স্পেকুলাম পরীক্ষার সাহায্যে সারভিক্স এবং স্রাবের অবস্থা দেখতে হবে • পিভি পরীক্ষা করতে হবে এবং জরায়ুর অবস্থা দেখতে হবে • সুতা পরীক্ষা করতে হবে খ. বিশেষ ব্যবস্থা • বাথা নিবারণকারী ঔষধ যেমন, আইবুপ্রোফেন (৪০০ মি. গ্রা. ভরা পেটে ১২ ঘণ্টা পর পর) অথবা মেফেনামিক এসিড (৫০০ মিঃ গ্রাঃ দিনে ৩ বার) ৫দিন অথবা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিতে হবে • সারভিক্স ও তলপেটে প্রদাহের জন্য চিকিৎসা দিতে হবে • প্রয়োজনে আইইউডি খুলে ফেলতে হবে • জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে রেফার করতে হবে। • গর্ভপাতের পর আইইউডি খুলে ফেলতে হবে। অসম্পূর্ণ গর্ভপাতের জন্য ডি এন্ড সি-র জন্য রেফার করতে হবে আইইউডি সম্পূর্ণ বা আংশিক বের হয়ে যাওয়া কখন হতে পারে ১. মাসিকের সময় ২. যথাস্থানে আইইউডি প্রয়োগ করা না হলে আইইউডি বের হয়ে আসার লক্ষণসমূহ হচ্ছে- • যোনিপথ অস্বাভাবিক স্রাব • তলপেটে খিচুনী বা ব্যথা • দুই মাসিকের মাঝে ফোঁটা ফোঁটা রক্তস্রাব • সহবাসের পর রক্তস্রাব • সহবাসের সময় ব্যথা (পুরুষ বা মহিলার) • সুতা না পাওয়া বা সুতা লম্বা হয়ে যাওয়া • জরায়ুর মুখে বা যোনিতে শক্ত প্লাস্টিকের উপস্থিতি • কোন কারণে আইইউডি বের হয়ে যাওয়ার কারণে গর্ভবতী হয়ে যাওয়া ব্যবস্থাপনা • আইইউডি আংশিক বের হয়ে এলে তা খুলে দিতে হবে • গর্ভবর্তী কিনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে • কোন সমস্যা না থাকলে এবং গ্রহীতা চাইলে নতুন একটি আইইউডি পরিয়ে দিতে হবে এবং ৭ দিনের জন্য ডক্সিসাইক্লিন ১০০ মিলিগ্রাম ১২ ঘণ্টা পর পর খেতে দিতে হবে • গ্রহীতা আইইউডি গ্রহণ করতে না চাইলে বিকল্প পদ্ধতির পরামর্শ ও সেবা দিতে হবে জরায়ু বা সারভিক্স ছিদ্র হয়ে যাওয়া বা আইইউডি গ্রোথিত হয়ে যাওয়া সাধারণত ১০,০০০ আইইউডি প্রয়োগে ১টির ক্ষেত্রে জরায়ু ছিদ্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে। জরায়ু ছিদ্র হবার স্থানগুলো হচ্ছে- • জরায়ুর ফান্ডাস • জরায়ুর বডি • সার্ভিক্সের দেয়াল কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরায়ু ছিদ্র হওয়ার পরও সারভিক্সের বাইরে সুতা দেখা যায়। এসব ক্ষেত্রে জরায়ু ছিদ্র হয়েছে কিনা নির্ণয় করা বেশ দুরূহ এবং এ কারণে বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন হয়ে থাকে। জরায়ু বা সারভিক্স ছিদ্র হয়ে যাওয়া বা গ্রোথিত হয়ে যাবার ঘটনাটি ঘটে সাধারণত আইইউডি প্রয়োগের সময়। প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগের সময় এ দুর্ঘটনার কথা এখনও শোনা যায়নি। সম্ভাব্য উপসর্গ ও লক্ষণ • আইইউডি প্রয়োগের জন্য সাউন্ডিং ও ইনসার্টার ঢুকানোর সময় হঠাৎ বাধা মুক্ত হবার অনুভূতি • প্রয়োগের সময় প্রচন্ড ব্যথা, রক্তপাত, নাড়ির গতি কমে যাওয়া এবং মূর্ছা যাওয়ার • সুতা উপরের দিকে উঠে যাওয়া • জরায়ুর গভীরতা অস্বাভাবিক মনে হওয়া • কারণ বোঝা যায় না এমন ব্যথা। কারণ • জরায়ুর গভীরতা মাপার (সাউন্ডিং করার) সময় ভুল করা • জরায়ুর গভীরতা ঠিকমত মাপা না হলে (জরায়ুর গভীরতা ৬ সে.মি.-এর কম হলে কপার-টি ৩৮০-এ প্রয়োগ করা যাবে না) • জরায়ুর গভীরতা অনুযায়ী আইইউডি ইনসার্টারে লোড না করা • প্রয়োগকারীর অদক্ষতা বা অসতর্কতা ব্যবস্থাপনা • সাউন্ডিং বা প্রয়োগের সময় জরায়ু বা সারভিক্স ছিদ্র হয়ে থাকলে গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে। মনে রাখতে হবে যেন সমস্যা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় • প্রচন্ড ব্যথা হলে ব্যথানাশক ইনজেকশন দিতে হবে - তাৎক্ষণিক অবশিষ্ট প্রক্রিয়া স্থগিত করে নমনীয়ভাবে যন্ত্রপাতি ও আইইউডি বের করে ফেলতে হবে - গ্রহীতাকে বিশ্রামে রাখতে হবে এবং একই সাথে শিরায় ড্রিপ শুরু করতে হবে। গ্রহীতার ভাইটাল সাইন, পেটের টনটনে ব্যথা, গার্ডিং ও শক্ত হয়ে যাওয়া পর্যবেক্ষণ করতে হবে - নাড়ির গতি বা রক্তচাপ কমে গেলে ইনজেকশন অ্যাট্রোপিন শিরায় বা মাংশপেশীতে দিতে হবে এবং এর সাথে নরমাল স্যালাইন দিতে হবে পেটে ব্যথা তীব্রতর হলে, ভাইটাল সাইনের কোনো পরিবর্তন বা পেরিটোনাইটিসের কোনো লক্ষণ দেখা গেলে জরুরি শল্য ব্যবস্থাপনার লক্ষো যথাযথ কেন্দ্র রেফার করতে হবে • আইইউডি গ্রোথিত হয়ে থাকলে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। প্রয়োজনে এলিগেটর ফরসেপ দিয়ে বের করে আনতে হবে অথবা রেফার করতেহবে • পরীক্ষায় (আলট্রাসাউন্ড/এক্স-রে) আইইউডি জরায়ুর বাইরে দেখা গেলে রেফার করতে হবে। এক্ষেত্রে অপারেশন করে আইইউডি বাহির করে আনার জন্য গ্রহীতাকে সহযোগিতা করতে হবে। বিকল্প জন্মবিরতি পদ্ধতি দিতে হবে বা পরামর্শ দিতে হবে আইইউডি'র সুতাজনিত সমস্যা আইইউডি'র সুতাজনিত বিভিন্ন সমস্যা মাঝে মধ্যেই দেখা যায় সম্ভাব্য উপসর্গ ও লক্ষণ • স্বামীর বা সঙ্গীর সুতা অনুভব করা • সুতা খুব লম্বা হওয়া • সুতা ছোট হওয়া • সুতা হারিয়ে যাওয়া সুতা না পাওয়ার কারণ • আইইউডি বের হয়ে যাওয়া • সুতা পেঁচিয়ে জরায়ুর মধ্যে উঠে যাওয়া • জরায়ু সম্পূর্ণ ছিদ্র হয়ে যাওয়া • সুতা আইইউডি থেকে খুলে বা ছিঁড়ে বের হয়ে আসা • গর্ভধারণের ফলে সুতা উপরে উঠে যাওয়া • তাৎক্ষণিক প্রসব পরবর্তী আইইউডি প্রয়োগ করা হলে (প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে) ব্যবস্থাপনা • প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োগ করা হলে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হবে • সুতার জন্য স্বামীর সমস্যা হলে আশ্বস্ত করতে হবে যে তিনি সুতার উপস্থিতি বুঝতে পারলেও তিনি ব্যথা পাবেন না • সুতা খুব লম্বা মনে হলে - সুতা সঠিক মাপমত রেখে কেটে দিতে হবে - যদি সুতা বেশি লম্বা মনে হয়, তবে আইইউডি ফান্ডাস থেকে নেমে আসার আশঙ্কা থাকে। সে ক্ষেত্রে আইইউডি খুলে দিতে হবে • সুতা ছোট হওয়া আইইউডির সুতা ছোট হলে তা জরায়ুর ভিতর ঢুকে যেতে পারে বা স্বামী সুতার অস্তিত্ব অনুভব করতে পারে - প্রয়োজনে খুলে দিন এবং নতুন করে আইইউডি প্রয়োগ করুন • সুতা না পাওয়া - আইইউডি বের হয়ে গেছে কিনা জেনে নিতে হবে - স্পেকুলাম পরীক্ষা করে সুতা দেখা যায় কিনা দেখতে হবে - গর্ভবতী কি-না পরীক্ষা করতে হবে (পেলভিক পরীক্ষা, প্রেগনেন্সি টেস্ট) - জরায়ুর ভিতর আইইউডি আছে কিনা পরীক্ষা করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে আলট্রাসনোগ্রাম বা এক্সরে করতে হবে। আলট্রাসনোগ্রাম অনেক বেশি তথ্য দেয় (আইইউডি জরায়ুর ভিতর বা বাইরে কোথায় কিভাবে আছে, গ্রহীতা গর্ভবতী কিনা)। যদি এক্সরে করতে হয় তবে জেনে বুঝে নিন যে, গ্রহীতা গর্ভবতী কিনা। কারণ গর্ভের চার মাসের মধ্যে এক্সরে করলে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে - আইইউডির অবস্থান এবং গ্রহীতা গর্ভবতী কিনা এর উপর নির্ভর করে ব্যবস্থা নিতে হবে - জরায়ুর ভিতর থাকলে সাউন্ডিং করে এলিগের ফরসেপ বা স্ট্রেইট আর্টারি ফরসেপ বা কিউরেট দিয়ে বের করে আনুন বা ডিএন্ডসি করুন - জরায়ু ছিদ্র হয়ে পেটের মধ্যে ঢুকে গেলে ল্যাপারোটমি করে আইইউডি বের করে দিতে হবে আইইউডিসহ গর্ভধারণ আইইউডি গর্ভধারণ রোধে অত্যন্ত কার্যকর হলেও ব্যবহারকালীন সময়ে পদ্ধতির ব্যর্থতার কারণে নগণ্য সংখ্যক গ্রহীতা গর্ভবর্তী হতে পারে। আইইউডি ফান্ডাসের কাছাকাছি স্থাপন না করা হলে অথবা আইইউডি আংশিক বা সম্পূর্ণ বের হয়ে গেলেও ব্যবহারকারী গর্ভবতী হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষণ ও উপসর্গ • মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া • গর্ভাবস্থায় অন্যান্য লক্ষণ • সুতা হারিয়ে যাওয়া • সুতা অস্বাভাবিকের চেয়ে ছোট হয়ে যাওয়া ব্যবস্থাপনা • গর্ভাবস্থা ও কত দিনের গর্ভবর্তী তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথম বা দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার এর গর্ভবতী হলে নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যবস্থাপনা দিতে হবে অথবা বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করতে হবে • গ্রহীতার তলপেটের একপাশে তীব্র ব্যথা, যোনিপথে আস্বাভাবিক রক্তপাত, মাথা ঝিম ঝিম করা/ মাথায় অস্বাভাবিক হালকাভাব এবং মূর্ছা গেলে জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হয়েছে কিনা পরীক্ষা করে দেখতে হবে • গর্ভধারণ জরায়ুর বাইরে না হলে এবং প্রথম ট্রাইমেস্টার হলে (প্রথম তিন মাসের মধ্যে হলে) - - গ্রহীতাকে কাউন্সেলিং করতে হবে - তাৎক্ষণিক আইইউডি খোলা হলে সুবিধা ও ঝুঁকি উভয়ই আছে - ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে গর্ভপাত হবার আশঙ্কা থাকে। - ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে জীবন্ত শিশু ভূমিষ্ঠ হয় - পদ্ধতিটি বের করার পরও ২৫-৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে আপনা-আপনি গর্ভপাত হতে পারে - আইইউডি খুলে ফেললে গর্ভপাত হবার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়। - আইইউডিসহ গর্ভ থাকলে সময়ের আগেই সন্তান (Premature baby) হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক গর্ভের চেয়ে বেশি থাকে - আইইউডির কারণে শিশুর বিকলাঙ্গ বা অস্বাভাবিক হওয়ার কোনো আশঙ্কা নাই • গ্রহীতা আইইউডি খুলে ফেলতে বললে যদি সুতা দেখা যায় এবং প্রথম তিনমাসের মধ্যে তাহলে সতর্কতার সাথে সুতা ধরে আইইউডি বের করে দিন। সুতা দেখা না গেলে আলট্রাসনোগ্রাম করে দেখতে হবে যে আইইউডি জরায়ুর ভেতরে আছে নাকি বের হয়ে গেছে। আইইউডি যদি যথাস্থানে থাকে তবে তা খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা যাবে না • গ্রহীতা আইইউডি না খুলে গর্ভাবস্থা চালিয়ে যেতে চাইলে গর্ভকালীন সেবা দিতে হবে এবং গর্ভকালে চিকিৎসকের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থাকার ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বতঃস্ফূর্ত গর্ভপাত হয়ে গেলে, সংক্রমণের লক্ষণ (জ্বর, তলপেটে ব্যথা এবং/বা রক্তপাত) অথবা অন্য কোনো বিপদ চিহ্ন দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে গ্রহীতাকে সেবাকেন্দ্রে আসার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করতে হবে। প্রসবের সময় আইইউডি খুলে দিতে হবে • প্রয়োগের ১২ সপ্তাহের বেশি হলে সুতা আপনাআপনি উপরে উঠে যাবে এবং দেখা গেলেও বের করার প্রয়োজন নেই তলপেটে প্রদাহ সম্ভাব্য উপসর্গ ও লক্ষণ • তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড/১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি। • তলপেটে পিউবিক বোনের সামান্য উপর চাপ দিলে ব্যথা এবং জোরে চাপ দিয়ে ছেড়ে দিলে ব্যথা (Rebound tenderness) • জরায়ুর মুখ নাড়াচাড়া করলে ব্যথ্যা (Cervical motion tenderness) • জরায়ুমুখ দিয়ে পুঁজযুক্ত নিঃসরণ বা দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব • চাপ দিলে জরায়ুতে ব্যথা • এডেনেক্সাতে চাপ দিলে ব্যথা বা হাত দিয়ে বোঝা যায় এমন চাকা ব্যবস্থাপনা • প্রয়োজনীয় ইতিহাস নিতে হবে ও শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে। • দ্রুত চিকিৎসা প্রদান করতে হবে এবং ২/৩ দিনের মধ্যে অবস্থা যাচাই করতে হবে। • গ্রহীতা আইইউডি রাখতে চাইলে এ ক্ষেত্রে আইইউডি খুলে ফেলার প্রয়োজন নাই • গ্রহীতার স্বামীকে চিকিৎসা নেয়ার এবং কনডম ব্যবহারের জন্য বলতে হবে। • ২/৩ দিন পর গ্রহীতার অবস্থার উন্নতি হলে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে এবং গ্রহীতাকে ফলো-আপ করতে হবে • অবস্থার উন্নতি না হলে বা আরো মারাতাক হলে গ্রহীতাকে হাসপাতালে ভর্তির জন্য রেফার করতে হবে যোনিপথে স্রাব বা নিঃসরণ যোনিপথে স্রাব একটি পরিচিত সমস্যা। সুস্থ্য অবস্থায় একজন নারীর কিছু পরিষ্কার সাদাটে/স্বচ্ছে আঠাল দুর্গন্ধহীন স্রাব হওয়া স্বাভাবিক। সাধারণ মাসিকের মাঝামাঝি সময়ে স্রাব পানির মত (Watery) হয় এবং পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। যোনিপথে সংক্রমণ হলে স্রাবের পরিমাণ, ঘনত্ব, রং এবং গন্ধের পরিবর্তন ঘটে। যোনিপথে স্রাবের পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণ ও চিহ্ন যেমন- অশ্বন্তি, যৌনাঙ্গে চুলকানি, প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, মাসিকের সময়রক্তস্রাব এবং সহবাসে ব্যথা থাকতে পারে। যোনিপথে স্রাবের প্রধান কারণসমূহ • যোনিপথে সংক্রমণ, যেমন- ক্যানডিডিয়াসিস, ট্রাইকোমোনিয়াসিস এবং ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস। কখনো কখনো একটিনোমাইকোসিস হতে পারে • জরায়ুমুখে সংক্রমণ, যেমন গনোরিয়া এবং ক্ল্যামাইডিয়া • যোনিপথ ও জরায়ুমুখের মিশ্র সংক্রমণ যোনিপথে স্রাব বা নিঃসরণের চিকিৎসা ও বিস্তারিত ব্যবস্থাপনার জন্য অধ্যায় ১৭ দেখুন আইইউডি সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর প্রশ্ন-১. আইইউডি কি মহিলার জরায়ু থেকে শরীরের বিভিন্ন অংশে যেমন: লিভার, হৃৎপিণ্ড বা মস্তিষ্কে ঘুরে বেড়াতে পারে? আইইউডি কখনোই শরীরের বিভিন্ন অংশে ঘুরে বেড়াতে পারে না। এটি জরায়ুর মধ্যেই থাকে। প্রশ্ন-২. আইইউভি কি খুলে ফেলার পরও একজন মহিলাকে গর্ভবর্তী হতে বাধা প্রদান করে? না। আইইউডি খুলে ফেলার পর একজন মহিলা সহজেই গর্ভবতী হতে পারেন। প্রশ্ন-৩ . যে মহিলার একটি সন্তানও নাই, সে কি আইইউডি ব্যবহার করতে পারে? না। বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী আইইউডি গ্রহণকারীর অবশ্যই কমপক্ষে ১টি জীবিত সন্তান থাকতে হবে। প্রশ্ন-৪. সন্তান প্রসবের পর পরই একজন মহিলা কি আইইউডি পরতে পারেন? হ্যাঁ। যদি হাসপাতালে প্রসব হয় তবে স্বাভাবিক প্রসবের পরপরই এবং/বা সিজারিয়ান অপারেশনের সময় আইইউডি প্রয়োগ করা যায়। প্রশ্ন-৫. সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য কি আইইউডি পরানোর পূর্বে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া প্রয়োজন? যদি উপযুক্ত ও সুস্থ গ্রহীতাকে সঠিকভাবে সংক্রমণ প্রতিরোধের ধাপসমূহ মেনে আইইউডি পরানো হয় তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন পড়ে না। প্রশ্ন-৬, অল্প বা অধিক বয়সী মহিলা কি আইইউডি ব্যবহার করতে পারেন? হ্যাঁ। বাংলাদেশে যে কোনো বিবাহিত মহিলা কমপক্ষে ১টি জীবিত সন্তান থাকলে শারীরিক উপযুক্ততার ভিত্তিতে আইইউডি ব্যবহার করতে পারবে। আইইউডি ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ন কোন বয়স নাই। প্রশ্ন-৭, প্রাথমিক পরামর্শ প্রদানের দিনই কি একজন মহিলা আইইউডি গ্রহণ করতে পারেন? হ্যাঁ। যদি মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে মহিলা গর্ভবর্তী নন ও তার কোন সংক্রমণ না থাকে তবে সেবাদানকেন্দ্রে আরেকবার আসার কোন কারণ নাই। পুনরায় আসা তার জন্য অসুবিধাজনক হতে পারে। আবার পুনরায় আইইউডি পরতে আসার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে যেতে পারে। প্রশ্ন-৮. ডায়াবেটিস থাকলে কি আইইউডি ব্যবহার করা যায়? হ্যাঁ। ডায়াবেটিস রোগ থাকালেও আইইউডি ব্যবহার করতে যায়। এসব গ্রহীতাদের যৌনবাহিত রোগ বা অন্য কোন সংক্রমণের কোন সম্ভাব্য লক্ষণ থাকলে সেবাদানকারীর সাথে পরামর্শ করা উচিত, বিশেষত আইইউডি ব্যবহারের পর পরই যদি সংক্রমণ দেখা দেয়। প্রশ্ন-৯, পূর্ণমেয়াদে বা কয়েক বছর আইইউডি ব্যবহার করে খুলে ফেলার পর নতুন একটি আইইউডি গ্রহণের মাঝে কি বিরতির প্রয়োজন আছে? না। বিরতির কোন প্রয়োজন নাই। পূর্ণমেয়াদে বা কয়েক বছর আইইউডি ব্যবহার করে খুলে ফেলার সাথে সাথেই নতুন একটি আইইউডি ব্যবহার করা যাবে। প্রশ্ন-১০. আইইউডি কি মহিলার যৌনসঙ্গীর জন্য অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করে ? সাধারণত করে না। তবে কখনও কখনও পুরুষ সঙ্গী সুতা অনুভব করতে পারে। এটা যদি সমস্যার সৃষ্টি করে তাতে সুতা ছোট করে কেটে দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে মহিলাকে আগেই বলতে হবে যে তিনি আর সুতা অনুভব নাও করতে পারেন যদি আইইউডি জরায়ুর মুখ দিয়ে নিচে নেমে আসে তবে তা যৌনমিলনের সময় পুরুষ সঙ্গীর জন্য অশ্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করে বলে একজন মহিলা যদি সন্দেহ করেন তবে সঙ্গে সঙ্গে এফডাব্লিউভি বা ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত। প্রশ্ন-১১. আইইউডি কি গর্ভপাত করে? আইইউডি গর্ভপাত ঘটায় না। আইইউডি নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়াকে বাধা দেয়। সুতরাং এটি পুরোপুরিভাবে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। প্রশ্ন-১২. আইইউডি কি তলপেটে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়? প্রজননতন্ত্রের উপরের অংশে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইইউডি কোন প্রভাব ফেলেনা। সঠিকভাবে গ্রহীতা বাছাই না করা হলে এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সঠিকভাবে মানা না হলে তলপেটে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়তে পারে। আইইউডি প্রয়োগের দক্ষতা চেকলিষ্ট সেবা প্রদানকারী আইইউডি ক্লায়েন্টদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়াদি নিশ্চিত করবেন আইইউডি প্রয়োগের পূর্ব-প্রস্তুতি (কাউন্সেলিং এবং স্ক্রিনিং) প্রটোকল অনুযায়ী ইনসারশন পূর্ব কাউন্সেলিং এবং ক্রিনিং কার্যক্রম • গ্রহীতা আইইউডি নেবার জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা নিশ্চিত করুন • গ্রহীতা আইইউডি গ্রহণের পার্শপ্রতিক্রিয়া, উপকারিতা এবং বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জানেন কিনা সেটা নিশ্চিত করুন। • আইইউডি এইডস বা যৌনরোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে না, প্রয়োজনে কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিন। • আইইউডি নেবার জন্য গ্রহীতার সম্মতি পত্রে স্বাক্ষর/ বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ নিন। গ্রহীতাকে সম্মতি পত্র পড়তে দিতে হবে। গ্রহীতা পড়তে না পারলে তাকে পড়ে শোনাতে হবে। • নাড়ির গতি, রক্তচাপ এবং রক্তশূন্যতা চেক করুন। • আইইউডি ইনসারশনের পূর্বে বাইম্যানুয়াল পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহীতার জরায়ুর অবস্থান/পজিশন, জরায়ুর গভীরতা এবং যৌনবাহিত কোন সংক্রমণে আক্রান্ত কি না নিশ্চিত করুন • আইইউডি ইনসারশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত পরিমাণে আছে কি না এবং প্রয়োজনে ব্যবহার উপযোগী কি না নিশ্চিত করুন। আইইউডি প্রয়োগের পূর্ব প্রস্তুতি • ক্লায়েন্টের প্রস্রাবের থলি খালি কিনা তা নিশ্চিত করুন। • ক্লায়েন্টকে পদ্ধতির বিবরণ দিন এবং সম্মতি পত্র চেক করুন। • সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিন। • জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরুন। • যোনিপথে সঠিক পদ্ধতিতে কাসকোস স্পেকুলাম / গ্রেভস স্পেকুলাম স্থাপন করুন। • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ এবং তুলার বলের সাহায্যে পভিডিন দিয়ে সারভিক্স পরিষ্কার করুম • টেনাকুলামের সাহায্যে সার্ভিক্স ঘড়ির কাটার ১০ বা ২ অবস্থানে ধরুন। • সার্ভিক্স খুব মৃদুভাবে সামনে এবং নীচের দিকে টেনে ধরে ৪ মি:মি: ক্যানুলা/ইউটেরাইন সাউন্ড জরায়ুর ভিতর ধীরে ধীরে সারভিক্স এবং কান্ডাসে স্পর্শ না করে। এবার যোনিপথের বাইরে থেকে জরায়ুর গভীরতা পরিমাপ করুন। জরায়ুতে প্রবেশ করাতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত আইইউডি প্রয়োগের পদ্ধতি • স্পর্শ না করার (non-touch) কৌশল অনুসরণ করুন। • আইইউডিটি প্যাকেট থেকে সম্পূর্ণ বের করুন। সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখুন যাতে জীবাণুযুক্ত কোন কিছুর সাথে আইইউডি স্পর্শ না করে। • জরায়ুর গভীরতা অনুযায়ী হরিজনটালভাবে আইইউডি সেট করতে হবে যাতে একই লাইনে থাকে। টেমাকুলাম ব্যবহার করে আছে আছে লোড করা আইইউডি যোনিপথ দিয়ে জরায়ুতে প্রবেশ করতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে যাতে যোনিপথে কোথাও স্পর্শ না করে। • টেনাকুলাম (যা এখনো সারভিক্স এ লাগানো অবস্থায় রয়েছে) হাত দিয়ে ধরে মোটামুটি স্থিরভাবে নিচের দিকে এবং বাইরের দিকে টেনে একই লাইনে আনতে হবে। • টেনাকুলাম এবং সাদা রড একত্রে এক সাথে স্থির ভাবে ধরতে হবে এবং ইনসার্টার টিউব প্রয়োগকারীর দিকে টানতে হবে কিন্তু ১ সে.মি. এর বেশি না। • কপার-টি সহ ইনসার্টারটি সোজা অবস্থায় উপরের দিকে তুলতে হবে এবং টিউবটি ফান্ডাসে স্পর্শ না করা পর্যন্ত জরায়ু মুখে ঠেলতে হবে। • এবার ইনসারশন টিউবটি একই অবস্থায় রেখে আস্তে আস্তে সাদা রডটি খুলে ফেলুন। • ইনসার্টার টিউবটি কিছুটা বের করতে হবে যাতে ৩-৪ সে. মি. সুতা দেখা যায় এবং বাকিটা ইনসার্টার এর ভিতর থাকে। • কাঁচি দিয়ে সুতা দুটি কেটে ফেলুন। • টিউবটি সম্পূর্ণ বের করে ময়লা ফেলার বালতিতে ফেলুন। • টেনাকুলামটি আন্তে আন্তে বের করে আনতে হবে এবং টেনাকুলামের সাইডে রক্ত লেগে আছে কি না পরীক্ষা করে দেখতে হবে। যদি রক্ত দেখা যায় তাহলে জীবাণুমুক্ত রিং ফরসেপ দিয়ে গজ চেপে ধরে রাখুন। • আন্তে আন্তে স্পেকুলামটি বের করে আনুন। • যন্ত্রপাতি ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন বা ধুয়ে ফেলুন। • সাবান এবং পানি দিয়ে হাত ভালভাবে ধুয়ে নিন। ক্লায়েন্ট ডিসচার্জ • ইনসারশন সম্পূর্ণ হবার পর গ্রহীতা সুস্থ্য অনুভব না করা পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে কলুন • ৭ দিনের মধ্যে সহবাস না করার জন্য বলুন। • ফলো-আপ তারিখ লিখে রাখুন এবং ক্লায়েন্টকে পরবর্তী ফলো আপ তারিখ মনে করিয়ে দিন এবং কার্ড প্রদান করুন। • গ্রহীতার রেকর্ড সম্পূর্ণ করুন। • গ্রহীতাকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান আইইউডি অপসারণের দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী আইইউডি অপসারণ ক্লায়েন্টদের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়াদি নিশ্চিত করবেন অপসারণ-পূর্ব পরামর্শ ব্যবস্থা (কাউন্সেলিং) • গ্রহীতার ভবিষ্যত প্রজনন লক্ষ্য এবং তিনি কি আইইউডি অথবা অন্য কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিতে চান কিনা জিজ্ঞাসা করুন। • আইইউডি অপসারণ পদ্ধতি বর্ণনা করুন এবং রোগী কী অনুভব করতে পারে তা বুঝিয়ে বলুন। আইইউডি অপসারণ • সকল প্রকার অপসারণ সরঞ্জাম ঠিক আছে কিনা, সঠিক অবস্থানে আছে কিনা এবং ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত অথবা এইচএলডি করা কিনা নিশ্চিত করুন। • গ্রহীতাকে প্রস্রাব করে আসতে বলুন এবং লিথোটোমি অবস্থানে (চিৎ হয়ে শুয়ে দু'পা এমন ভাবে ভাঁজ করতে হবে যাতে পায়ের গোড়ালি উভয় দিকের জানুর পশ্চাৎদেশে সেঁটে লেগে থাকে) শুতে সাহায্য করুন। • ভাল করে হাত ধুয়ে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস পরুন • আইইউডি স্ট্রিং দেখার জন্য আলতো করে এইচএলডি অথবা জীবাণুমুক্ত স্পেরুলাম (Speculum) যোনিপথে প্রবেশ করান। • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপের সাহায্যে দুইটি তুলার বল অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণে ভিজিয়ে সার্ভিক্স / জরায়ুর মুখ ভিতর থেকে বাহিরের দিকে ২ বার মুছে পরিষ্কার করুন। • আইইউডি খোলার জন্য সুতা দুটি একসাথে জরায়ুর মুখের নিকট হতে আর্টারি/এলিগেটের ফরসেপ দিয়ে ধরে টান রেখে আন্তে আন্তে টেনে বের করুন • গ্রহীতাকে বের করা আইইউডিটি দেখান • বের করা আইইউডিটি গ্রহীতাকে দেখানোর পর বর্জ্য ফেলার বালতিতে ফেলুন • গ্রহীতা যদি নতুন করে আইইউডি নিতে চান, তাহলে তাকে নতুন করে আর একটি আইইউডি, আইইউডি স্থাপনের চেকলিস্ট অনুসরণ করে পড়িয়ে দিতে হবে। • স্পেকুলাম (Speculum) টি আছে আন্তে বের করুন • আইইউডি রেজিস্টারে তথ্য লিপিবদ্ধ করুন • গ্রহীতাকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান [Space for form] ( ) ১০০ (একশত) আইইউডি প্রয়োগের প্রয়োজনীয় এমএসআর ক্রমিক নং দ্রব্যাদির নাম একক ১০০ কেসের জন্য ১ আইইউডি পিস ১০০ ২ শোষণ তুলা (১০০ গ্রাম) রোল ১৫ ৩ ট্যাবলেট আইবুপ্রোফেন, ৪০০ মি. গ্রা. ট্যাবলেট ৮০০ ৪ ট্যাবলেট প্যারাসিটামল ৫০০ মি. গ্রা. ট্যাবলেট ২০০ ৫ ক্যাপসুল ডক্সিসাইক্লিন (১০০ (মি. গ্রা.) জটিলতা ব্যবস্থাপনার জন্য (১৫%) ক্যাপসুল ২১০ ৬ আয়রন ট্যাবলেট ফলিক এসিডসহ (ফেরাস ফিউমারেট ২০০ মি.গ্রা ফলিক এসডি বিপি ০.২০ মি. গ্রা.) ট্যাবলেট ৬০০০ ৭ ইউরোস্টিক জিথিং (গ্লকোজ: প্রোটিন সমান) পিস ১১০ ৮ সার্জিক্যাল গ্লাভস (সাইজ- ৬.৫ ইঞ্চি) জোড়া ২৩০ ৯ পভিডন আয়োডিন দ্রবণ, ১০০ মি. লি. বোতল ১৬ ১০০ (একশত) আইইউডি খোলার প্রয়োজনীয় এমএসআর ক্রমিক নং দ্রব্যাদির নাম একক ১০০ কেসের জন্য ১ শোষণ তোলা (১০০ গ্রাম) রোল ১৫ ২ সার্জিক্যাল গ্লাভস (সাইজ- ৬.৫ ইঞ্চি) জোড়া ১৫০ ৩ পভিডন-আয়োডিন দ্রবণ, ১০০ মি. লি. বোতল ১৬ অধ্যায়-০৮ কনডম পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় ০৮ কনডম কনডম জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত একটি রাবার বা ল্যাটেক্সের পাতলা আচ্ছাদন যা যৌনসঙ্গমের সময় পুরুষ ও নারীর যৌনাঙ্গের মধ্যে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। কনডম বিভিন্ন নাম, ভিন্ন ভিন্ন রং, আকার ও আকৃতিতে পাওয়া যায়। পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন কনডম পাওয়া যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে শুধুমাত্র পুরুষের জন্য কনডম পাওয়া যায়। জন্মবিরতিকরণ ছাড়াও কনডম যৌনবাহিত সংক্রমণের বিস্তার রোধ করে। জন্মবিরতিকরণের জন্য অন্য যেকোন পদ্ধতি ব্যবহার করলেও যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য দম্পতিকে কনডম ব্যবহার করতে হবে। পুরুষের জন্য কনডম কনডম একটি নিরাপদ এবং কার্যকর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। এর ব্যবহার অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে এবং যৌনবাহিত রোগের বিস্তার রোধ করে। সারা বিশ্বে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও যৌনবাহিত রোগের বিস্তার রোধের জন্য আজ কোটি কোটি দম্পতি কনডম ব্যবহার করছেন। আধুনিক রাবার প্রযুক্তির উন্নতির ফলে কনডম এখন "ল্যাটেক্স" হতে তৈরি হয়। গ্রহণযোগ্যতার জন্য কনডম এখন খুবই পাতলাভাবে তৈরি হয়। এতে শুক্রনাশক ও পিচ্ছিলকারক পদার্থও এখন যোগ করা হচ্ছে। বর্তমানে কিছু কনডম ফোঁটাযুক্ত (Dotted) হওয়াতে এর গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কনডম এখন আরও বেশি স্বাচ্ছন্দ্যকর পদ্ধতি হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কনডমের মান পুনঃপরীক্ষা করে সংশোধন করেছে। ১৯৯১ সালের অক্টোবর মাস থেকে কনডমের উন্নতি সাধনের জন্য যে সংশোধন করা হয়েছে তা নিচে বর্ণিত হল: • দৈর্ঘ্য (Length) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক কনডমের নির্ধারিত মান হচ্ছে লম্বায় ১৮ সেন্টিমিটার • প্রন্থ (Width) চওড়া ৪৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। গড়ে সাধারণত ১ মিলিমিটারের কম বা বেশি হতে পারে • পুরুত্ব (Thickness) গড়ে কনডমের পুরুত্ব ০.০৬ মিলিমিটার থেকে ০.১৫ মিলিমিটার পর্যন্ত • পিচ্ছিলকারক (Lubricant) এর ব্যবহার প্রতিটি কনডমে পিচ্ছিলকারকের পরিমাণ হবে ২০০-৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত এবং ন্যূনতম পিচ্ছিলতার পরিমাণ হবে ২০০ সেন্টিস্টোক্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি কনডমে ৪০ মিলিগ্রাম অসংবেদনশীল (Non-allergic) কর্নস্টার্চ বা শস্য গুঁড়া দেবার সুপারিশ করেছে। এ গুঁড়া রেশমী কোমল অনুভূতি এনে দেয় এবং সেই সাথে কনডম খুলতে সাহায্য করে। • প্যাকেট করা (Individual Packages) যদি স্ট্রিপ কাগজে কনডম প্যাকেট করা হয় তবে বিচ্ছিন্ন বা আলাদা করার জন্য দুই প্যাকেটের মাঝখানে ছিদ্র বা আংশিক কাটা থাকতে হবে। সর্বস্তরে ফয়েল ল্যামিনেশন অক্ষত থাকতে হবে • ঘ্রাণ ও স্বাদ (Odour and Taste) যতটা সম্ভব ঘ্রাণ ও স্বাদমুক্ত থাকা ভাল • স্ফীতি (Inflation) ১৮.৫ লিটার আয়তন। যে সমস্ত কনডমের আয়তন ১৮ লিটারের নিচে, ব্যবহারের সময় সেগুলোই সাধারণত ফেটে যায় কীভাবে বুঝবেন যে কনডমটি ভালো আছে? মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়নি। প্রতিটি কনডম আলাদা আলাদা প্যাকেটে থাকবে। দুইটা পাশাপাশি প্যাকেটের মাঝখানে ছিদ্র বা আংশিক ফাঁকা থাকতে হবে, যাতে সহজেই বিছিন্ন করা যায়। উত্তাপ নিয়ন্ত্রণসহ ল্যাবরেটরির সমস্ত প্রক্রিয়া ও সর্বস্তরে ফয়েল ল্যামিনেশন অক্ষত থাকতে হবে। কনডম কীভাবে কাজ করে? কনডম একটি প্রতিবন্ধক বস্তু (Physical barrier) হিসাবে কাজ করে। বীর্যপাতের পর শুক্রাণু কনডমের ভেতরেই থেকে যায়। ফলে কনডম শুক্রাণুকে যোনিপথে ঢুকতে বাধা দেয়। যার কারণে শুক্রাণু ডিম্বাণুর সাথে মিলতে পারে না এবং গর্ভসঞ্চার হয় না। কনডমের সঠিক ব্যবহার গর্ভধারণ ও যৌনবাহিত রোগের বিস্তার রোধ করে। তবে কনডমের ব্যবহার সঠিক নিয়মে না হলে কিংবা ফেটে গেলে গর্ভধারণের ঝুঁকি থাকে। যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে কনডম যেভাবে কাজ করে- • বীর্যের সাথে নির্গত রোগ জীবাণুকে যোনিপথের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয় • পুরুষাঙ্গ হতে কোন রোগ জীবাণুর সংক্রমণ হতে যোনিপথকে রক্ষা করে • একইভাবে যোনিপথের কোন রোগ-জীবাণুকে পুরুষাঙ্গের সংস্পর্শে আসতে বাধা দেয় কনডমের কার্যকারিতা সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে কনডম খুবই কার্যকর একটি পদ্ধতি যার ব্যর্থতার হার শতকরা মাত্র দুই ভাগ। যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয় তবে গর্ভধারণ ও যৌনরোগ প্রতিরোধে কনডমের কার্যকারিতা অনেক হ্রাস পায়। কনডম সঠিক নিয়মে ব্যবহারের মাধ্যমে এইচ ইভি/এইডস, হেপাটাইটিস বি ও সি, গনোরিয়া, সিফিলিস, ক্ল্যামাইডিয়া এবং ট্রাইকোমোনিয়াসিস রোগ হতে নিশ্চিত রক্ষা পাওয়া যায়। এছাড়াও হারপিস, জেনিটাল ওয়ার্টস এবং অন্যান্য যৌন রোগ হতেও কনডম সুরক্ষা দেয়। কনডম ব্যবহারে সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ সুবিধা • সব পুরুষের জন্য উপযোগী কনডম শরীরের বাইরে প্রতিবন্ধক হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এটি কোন ঔষধ নয়, সুতরাং অন্যান্য ঔষধ/হরমোন নির্ভর পদ্ধতির মতো এর • কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা ক্ষতিকর প্রভাব নেই • দ্বৈত সুরক্ষা- সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে জন্মনিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এইচআইভি/এইডস ও অন্যান্য যৌনরোগ হতে রক্ষা করে • যৌনবাহিত রোগের কারণে মহিলাদের তলপেটে প্রদাহ, তলপেটে ব্যথা এবং মহিলা ও পুরুষ উভয়কে বন্ধ্যাত্ব হতে রক্ষা করে • গর্ভধারণ ও যৌনরোগ প্রতিরোধে পুরুষের অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করে • শুধুমাত্র যৌনমিলনের সময় ব্যবহার করতে হয়। • অনির্ধারিত যৌনমিলনের জন্য পূর্ব হতে সংরক্ষণ করা যায় • সেবাদানকারীর সাহায্য ছাড়াই ব্যবহার করা যায় • সহজপ্রাপ্য, দাম কম, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই বললেই চলে • গর্ভধারণের ভয় থাকে না বলে যৌনমিলনের আনন্দ বাড়ায় • যে সব দম্পতি গর্ভধারণ সচেতনতা পদ্ধতি মেনে চলেন, তারা উর্বর দিনগুলিতে (মাসিক চক্রের ৯ম থেকে ২০তম দিন পর্যন্ত) সহবাস করলে কনডম ব্যবহার করতে পারেন • নববিবাহিত দম্পতিদের জন্য একটি উপযুক্ত পদ্ধতি অসুবিধা • কোন কোন দম্পতির যৌনমিলনে অনুভূতি কম মনে হতে পারে • কারো কারো 'ল্যাটেক্স'এ বা কনডমে ব্যবহৃত পিচ্ছিলকারী পদার্থ হতে অ্যালার্জি হতে পারে • কনডম কেনা, পরা ও খোলা কারো কারো জন্য লজ্জাজনক মনে হতে পারে • সঠিক নিয়মে না পরলে কনডম ফেটে যেতে পারে এবং তাতে গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায় • ব্যবহারের পর ব্যবহৃত কনডম ফেলে দেয়ার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও সাবধানতা প্রয়োজন হয় কনডমের অতিরিক্ত কিছু উপকারিতা • যাদের তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হয়ে যায়, চিকিৎসকগণ তাদের অনেক সময় কনডম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে পুরুষ যদি সহবাসের সময় যৌন উত্তেজনা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন তাদের কনডম ব্যবহারে এই সমস্যার কিছুটা সমাধান হতে পারে। কারণ কনডমের মুখের রাবার আঁটসাঁট বলে উত্তেজনা বজায় রাখতে কিছুটা সাহায্য করে। • পিচ্ছিল কনডম কোন কোন দম্পতির জন্য ঘর্ষণজনিত অস্বস্তি কমায় • কনডম ব্যবহারে জরায়ুর মুখের ক্যান্সার হওয়ার প্রবণতা কমে যায় বলে ধারণা করা হয় • বীর্য বা শুক্রাণুতে কোন নারীর অ্যালার্জি থাকলে সে ক্ষেত্রে কনডম ব্যবহার করা যায়। বিরল ক্ষেত্রে পুরুষের বীর্যের বিপরীতে নারীদেহে যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, তা বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করতে পারে কনডম গ্রহীতা বাছাইকরণ শুধুমাত্র যাদের কনডম ব্যবহারে অ্যালার্জি আছে, তারা ব্যতীত সকলেই কনডম ব্যবহার করতে পারেন। ল্যাটেক্স অ্যালার্জির কিছু লক্ষণ: পুরুষাঙ্গ লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া বা চুলকানি হওয়া। কনডম কারা ব্যবহার করবেন • যেকোন প্রজনন সক্ষম পুরুষ গর্ভধারণ ও যৌনবাহিত রোগের সংক্রমণ রোধের জন্য কনডম ব্যবহার করতে পারেন • কনডম ব্যবহারের জন্য কোন ডাক্তারি পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। তাই যেসব দম্পতি কোন শারীরিক কারণে অন্যান্য পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারেন না, তারা অনায়াসে কনডম ব্যবহার করতে পারেন • জন্মবিরতিকরণের জন্য যে সকল দম্পতি স্থায়ী অথবা এক নাগাড়ে কোন পদ্ধতি গ্রহণ করতে চান না, তারা কনডম ব্যবহার করতে পারেন • স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে যদি কারো বা উভয়ের যৌনবাহিত রোগ থাকে, তবে তাদের একজনের থেকে অন্য জনের মধ্যে রোগ বিস্তার রোধে কনডম অত্যন্ত উপযোগী • জন্মবিরতিকরণের জন্য অন্য যেকোন পদ্ধতি ব্যবহার করলেও যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য দম্পতিকে কনডম ব্যবহার করতে হবে • সন্তান প্রসবের পর প্রথম ৬ মাস স্তন্যদানকালে কার্যকর গর্ভনিরোধের জন্য কনডম ব্যবহার করতে পারেন • যে সকল দম্পতি স্থায়ী/দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতি গ্রহণের জন্য অপেক্ষা করছেন তারা কনডম ব্যবহার করতে পারেন • এনএসভি গ্রহণ করার পর স্ত্রী যদি কোন পদ্ধতি গ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে স্বামীকে ৩ মাস পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করতে হবে কনডম সেবাদান (কাউন্সেলিং এবং প্রদর্শন/ডেমনসট্রেশন) মনে রাখা প্রয়োজন, যথাযথ কাউন্সেলিং একজন গ্রহীতাকে কনডমের সঠিক ব্যবহারে সহায়তা করবে। একজন সেবাদানকারী যদি গ্রহীতার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, কনডমের ব্যবহার প্রক্রিয়া মডেলে প্রদর্শণ করেন, তার প্রশ্নের উত্তর দিয়ে পরিষ্কার ও সম্পূর্ণ তথ্য প্রদান করেন, তাহলে গ্রহীতা সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করতে পারে। কনডমের ব্যবহারবিধি • কনডম কেনার সময়ে/ব্যবহারের পূর্বে মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও ল্যামিনেশন/প্যাকেট অক্ষত আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে • সহবাসের আগে কনডম প্যাকেট থেকে খুলে উত্থিত পুরুষাঙ্গে পরে নিতে হবে। • কনডম পরার সময় অগ্রভাগ টিপে ধরে নিতে হবে যেন উত্থিত অঙ্গে পরার পর সামনে ১.৫ সেন্টিমিটার অতিরিক্ত জায়গা বীর্য ধারণের জন্য থাকে এবং সেখানে কোন বাতাস না থাকে। বাতাস থাকলে কনডম ফেটে যেতে পারে। নজর রাখতে হবে যেন কনডমের পিচ্ছিল পার্শ্ব বাইরের দিকে থাকে • বীর্যপাত হওয়ার পরপরই উত্থিত থাকা অবস্থায় কনডমের গোড়া চেপে ধরে যোনিপথ থেকে পুরুষাঙ্গ বের করতে হয়। এই সতর্কতার উদ্দেশ্য হলো যাতে করে কোনো বীর্য যোনিপথে ঢুকে যেতে না পারে • কনডম কাগজে মুড়িয়ে বা প্যাকেটে জড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে অথবা সম্ভব হলে মাটিতে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহারের পর এমন স্থানে ফেলতে হবে বা বিনষ্ট করতে হবে যাতে অস্বস্তি বা লজ্জাকর অবস্থার সৃষ্টি না হয় • কনডম কখনও টয়লেটের কমোড বা প্যানে ফেলা যাবে না। কারণ তা পয়ঃনিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বা স্যুয়ারেজ পাইপ/লাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে পুরুষের কনডম ব্যবহারের নিয়মাবলী ০১ সাবধানে প্যাকেটটি খুলতে হবে যেন কনডম ছিঁড়ে না যায় (দাঁত বা ধারালো কোন বস্তু ব্যবহার করা যাবে না)। পরার আগে কনডমের ভাঁজ খোলা যাবে না। ০২ পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগে কনডমটি স্থাপন করতে হবে। মুসলমানি করা না থাকলে পুরুষাঙ্গের অগ্রভাগের চামড়াটি পিছনে টেনে ধরতে হবে। ০৩ কনডমের অগ্রভাগের সরু অংশটি টিপে ধরে বাতাস বের করে দিতে হবে। ০৪ শক্ত পুরুষাঙ্গটি সম্পূর্ণ ঢেকে যাওয়া পর্যন্ত কনডমটি পরতে হবে। পরার পর কনডমের অগ্রভাগে কিছু অংশ খালি রাখতে হবে। সহবাসের জন্য কনডমসহ পুরুষাঙ্গটি যোনিপথে প্রবেশ করাতে হবে। ০৫ বীর্যপাতের পর পরই উত্থিত পুরুষাঙ্গের গোড়ায় চেপে ধরে কনডম সহ পুরুষাঙ্গ যোনিপথ থেকে বের করে নিতে হবে এবং সাবধানে কনডমটি পুরুষাঙ্গ থেকে খুলে ফেলতে হবে। ০৬ খোলার পর কনডমটি কাগজে মুড়িয়ে বা প্যাকেটে জড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে অথবা মাটিতে পুঁতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। কনডম সংরক্ষণ কনডম অতিরিক্ত গরম বা ঠাণ্ডা স্থানে রাখা যাবে না, তাতে গলে বা ফেটে যেতে পারে। অনেকেই টিনের বেড়ায় বা চালে কনডম গুঁজে রাখেন। এতে কনডম নষ্ট হয়ে যেতে পারে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে যাতে অপব্যবহার না হয়। কনডম ব্যবহারের সমস্যা ও তার সমাধান ১. কনডম অনুভূতি কমায় বলে কেউ কেউ মন্তব্য করেন। পিচ্ছিল কনডম ব্যবহার করলে সমস্যার সমাধান হতে পারে। প্রয়োজনে পানিতে দ্রবণীয় পিচ্ছিল পদার্থ যেমন- গ্লিসারিন ব্যবহার করে অনেকে বেশি আনন্দ পান। তাছাড়া ত্বকের রঙের বা স্বচ্ছ কনডম ব্যবহার করাই শ্রেয়। কিন্তু পেট্রোলিয়াম জাতীয় পিচ্ছিলকারক (যেমন- ভেস্স্সিন) ব্যবহার না করাই ভাল। কারণ তাতে কনডমের ক্ষতি হতে পারে। ২. যৌনক্রিয়ার সময় পুরুষদের এটা ব্যবহার করতে হয় বলে অনেকে ঝামেলা মনে করেন এক্ষেত্রে কনডম পরানোর দায়িত্বটা যদি সঙ্গিনী পালন করেন, তবে ব্যাপারটা সহবাস পূর্বক্রিয়ায় পুরুষের মানসিকতার ব্যাঘাত না ঘটিয়ে সেটিকে বরং আরও আনন্দময় করে তুলতে পারে। ৩. কনডমে অ্যালার্জির অভিযোগ ল্যাটেক্স কনডমে অ্যালার্জির সম্ভাবনা খুবই কম। প্রজননতন্ত্রের জীবাণু সংক্রমণের জন্য কখনও কখনও অ্যালার্জির মত অস্বস্তি হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে অন্য ব্র্যান্ডের বা নন-ল্যাটেক্স কনডম ব্যবহার করে দেখা যেতে পারে। ৪. কনডম ফেটে যাওয়া সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে কনডম ফেটে যায়। সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োজনবোধে পিচ্ছিলকারক পদার্থ ব্যবহার করলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। মেয়াদ উত্তীর্ণ, রোদ এবং স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় রাখা বা খোলা অবস্থায় রাখা কনডম ব্যবহার করা উচিত নয়। ৫. কনডম কোথায় রাখতে ও ফেলতে হবে কনডমগুলো শুকনো জায়গায় যেখানে সরাসরি রোদ বা ফ্লোরেসেন্ট বাল্বের আলো পড়ে না সেখানে রাখতে হবে। ব্যবহারের পর এমন স্থানে ফেলতে হবে যাতে অস্বস্তি বা লজ্জাকর অবস্থার সৃষ্টি না হয়। কাগজে মুড়িয়ে ডাস্টবিনে অথবা সম্ভব হলে মাটিতে পুঁতে বা আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ৬. যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে পায়ুপথ/মুখ-গহ্বরে মিলনের সময় কনডম ব্যবহার যে কোন যৌনক্রিয়ায়, যেখানে লিঙ্গ আরেক জনের শরীরের যে কোন অংশে প্রবেশ করে সেইসব ক্ষেত্রে যৌনবাহিত রোগ একজনের শরীর থেকে আরেকজনের শরীরে ছড়াতে পারে। যে সব গ্রহীতার যৌনবাহিত রোগ আছে এমন কারো সাথে যে কোন ধরনের যৌনমিলনের সময় অবশ্যই কনডম ব্যবহার করা উচিত। কখন কনডম ব্যবহারকারী সেবাদানকারীর নিকট/সেবাকেন্দ্রে আসবেন • কনডম ফেটে গেলে বা ফেটে গেছে সন্দেহ হলে। • যদি স্বামী বা স্ত্রীর যৌনরোগের কোন লক্ষণ দেখা যায়, যেমন- যৌনাঙ্গে ঘা, প্রস্রাবের সময় ব্যথা, যোনিপথে স্রাব, পুঁজ যাওয়া ইত্যাদি • কনডম ব্যবহারে যদি কোন অ্যালার্জি দেখা যায় (চুলকানি ইত্যাদি) • যে কোন কারণে কনডম ব্যবহারে সন্তুষ্ট না হলে • কনডম সম্পর্কে অন্য কোন প্রশ্ন থাকলে। কনডম সম্পর্কে ভুল ধারণা • কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, কনডম বীর্যপাতের আগে পরলেই চলে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। পুরুষাঙ্গ থেকে বীর্যপাতের আগে যে রস নিঃসৃত হয় তাতেও শুক্রাণু থাকে, ফলে গর্ভধারণ হতে পারে। তাই অবশ্যই সহবাস শুরু করার আগেই কনডম পরে নিতে হবে চিওয়া যদি সন্দেহ হয় যে কনডম ফেটে গেছে তবে জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি (ইসিপি) গ্রহণ করতে হবে। এ জন্য যারা কার্যকরভাবে কনডম ব্যবহার করতে চান তাদের উচিত সবসময় ঘরে জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি (ইসিপি) রাখা। মহিলাদের জন্য কনডম মহিলাদের জন্য কনডম একটি উন্নত জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটি বাংলাদেশ জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি। মহিলাদের কনডম পলিইউরেথেন দিয়ে তৈরি, যা পুরুষ কনডমের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী। এখন পর্যন্ত এর কোন অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই কনডমের কোন গন্ধ নেই। মেয়েদের কনডম বাজারে একটি সাইজেরই পাওয়া যায়। এর দুই প্রান্তে দুটি রিং থাকে। ভিতরের রিংটি আঙ্গুল দিয়ে ধরে এমনভাবে যোনিপথে স্থাপন করতে হয় যাতে সেটি জরায়ু মুখ আবৃত করে রাখে। বাইরের রিং'টি যোনিমুখের সাথে মিশে থাকে। যে কোন সময় একজন মহিলা এটি ব্যবহার করতে পারেন। পুরুষাঙ্গ উত্থিত হওয়ার আগে এবং বীর্যপাতের পরে কিছু সময় যোনিপথে থাকলেও এর কার্যকারিতা হারায় না। পুরুষদের জন্য ব্যবহৃত কনডমের ক্ষেত্রে এই সুবিধা নেই। মহিলা কনডম ব্যবহারের সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ সুবিধা • এটি জন্মবিরতিকরণের জন্য একটি কার্যকরী পদ্ধতি • তেমন কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই • যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধক • সহবাসের পূর্ব থেকেই পরে থাকা যায় অসুবিধা • গ্রহীতা ও তার সঙ্গী উভয়ের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে • পুরুষদের কনডমের তুলনায় পরতে অসুবিধাজনক • দাম অপেক্ষাকৃত বেশি • আমাদের দেশে এখনও সহজলভ্য নয় মেয়েদের কনডম ব্যবহারের নিয়মাবলী কনডম সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর প্রশ্ন-১. কনডম কি একটি কার্যকরী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি? হ্যাঁ। যদি ব্যবহারকারী প্রত্যেকবার যৌনমিলনের সময় সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করেন। তবে কনডম সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হলে অথবা প্রতিবারই নতুন কনডম ব্যবহার না করলে কনডমের কার্যকারিতা অনেক কমে যায়। প্রশ্ন-২. যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধে কনডম কতটা কার্যকরী? কনডম এইচআইভি/এইডসসহ যৌনবাহিত সকল রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে যদি প্রতিবার যৌনমিলনের সময় সঠিকভাবে কনডম ব্যবহার করা যায়। প্রশ্ন-৩. এইডস ভাইরাস (এইচআইভি) কি কনডমের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে? না। কনডম এইডসসহ সকল যৌনবাহিত রোগের বিস্তার প্রতিরোধ করে। এইচআইভি ভাইরাস ল্যাটেক্স কনডমের ভিতর দিয়ে যেতে পারে না। প্রশ্ন-৪. কনডম কি একজন পুরুষকে দুর্বল ও পুরুষত্বহীন করবে? না। কখনোই নয়। সত্যিকার অর্থে কনডম লিঙ্গকে অধিকক্ষণ দৃঢ় রাখতে সাহায্য করে। পুরুষত্বহীনতার অনেক কারণ আছে। কিছু কারণ শারীরিক ও কিছু মানসিক। খুব কম সংখ্যক পুরুষ কনডম ব্যবহার করার ফলে লিঙ্গকে দৃঢ় রাখতে পারেন না এবং কনডম ব্যবহার করার কারণে বিব্রত অবস্থায় পড়েন। যদিও কনডম পুরুষত্বহীনতার কারণ নয়। প্রশ্ন-৫. কনডম কি যৌনমিলনকে কম আনন্দদায়ক করে? না। কেউ কেউ কনডম ব্যবহার করে কম আনন্দ পান, আবার কেউ কেউ আগের মতই বা আগের থেকে বেশি আনন্দ লাভ করেন। কারণ কনডম ব্যবহারে গর্ভবতী হওয়া বা যৌনবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার চিন্তা থাকে না। এছাড়াও যৌনমিলন ও বীর্যপাতের আগে আনন্দদায়ক সময়কে অধিকক্ষণ স্থায়ী করে। প্রশ্ন-৬. কীভাবে একজন মহিলা তার যৌনসঙ্গীকে কনডম ব্যবহারে সাহায্য করতে পারেন? • কনডম গর্ভরোধ এবং অনেক যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধ করে, এ তথ্য প্রদান করে • নিজে সঙ্গীকে কনডম পরিয়ে দিয়ে প্রশ্ন-৭. কনডম কি যৌনমিলনের সময় ছিঁড়ে/ফেটে যেতে পারে? অল্প কিছু ক্ষেত্রে যৌনমিলনের সময় কনডম ফেটে যেতে পারে। তবে সঠিক নিয়মে কনডম ব্যবহার করলে কনডমের ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। যৌনমিলনের পূর্বে রতিক্রিয়া যোনিপথকে সিক্ত করে, যা কনডম ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। কনডমের বাহিরের আবরণের পানিভিত্তিক পিচ্ছিলকারক ব্যবহার এ ব্যাপারে সাহায্য করে। সতর্কতা: কখনোই তৈলভিত্তিক পিচ্ছিলকারক যেমন- পেট্রোলিয়াম জেলি, ত্বকের ক্রিম ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রশ্ন-৮. যৌনবাহিত রোগ প্রতিরোধের জন্য কি পায়ুপথে মিলন ও মুখ গহ্বরে মিলনের সময়ও কি কনডম ব্যবহার করা উচিত? হ্যাঁ। যৌনবাহিত সংক্রমণ আছে এমন কারো সাথে পায়ুপথে মিলন ও মুখ গহ্বরে মিলনের সময় অবশ্যই কন্ডম ব্যবহার করা উচিত। পুরুষের কনডম ব্যবহারের দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী পুরুষ কনডম ডেমনসস্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত বিষয় গুলির সম্পাদন নিশ্চিত করবেন • কনডম এবং পেনাইল মডেল প্রস্তুত রাখুন • গোপনীয়তা বজায় রাখুন • কনডম প্রর্দশনের পূর্বে সেবা গ্রহীতার পূর্বানুমতি নিন • মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ও লেমিনেশন/প্যাকেট অক্ষত আছে কিনা দেখে নিন। • গ্রহীতাকে কনডমের Dual Protection সম্পর্কে বলুন কনডম ব্যবহারের ধাপসমুহ • পেনাইল মডেল বের করুন • কনডমের মেয়াদের উত্তীর্ণের তারিখ এবং তার গুণগত গঠনশৈলী সম্পর্কে ব্যাখ্যা করুন • সাবধানে প্যাকেট খুলুন যেন কনডম ছিড়ে না যায়। পরানোর পূর্বে কনডমের ভাঁজ খোলা যাবে না/প্যাকেট খোলার জন্য দাঁত বা ধারালো কিছু ব্যবহার করা যাবে না • খৎনা করা না থাকলে পুরুষাঙ্গের সামনের চামড়া পিছনে টানুন • কনডমের আগার বাড়তি অংশ আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরুন যেন বাতাস না থাকে এবং বীর্য জমা হতে পারে। বাতাস থাকলে কনডম ফেটে যেতে পারে • বীর্যপাত হবার পরপরই উত্থিত থাকা অবস্থায় কনডমের গোড়া চেপে ধরে যোনিপথ থেকে পুরুষাঙ্গ বের করুন • সতর্কতার সাথে কনডম পুরুষাঙ্গ থেকে খুলতে হবে যেন কোন বীর্য যোনিপথে ঢুকতে না পারে • কনডম কাগজে মুড়িয়ে বা প্যাকেটে জড়িয়ে ডাস্টবিনে ফেলতে হবে অথবা সম্ভব হলে মাটিতে পুতে বা পুড়িয়ে ফেলতে হবে • ব্যবহারের পর কনডম কখনও টয়লেটের কমোড বা প্যানে ফেলা যাবেনা। কারন তা পয়ঃনিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বা স্যুয়ারেজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে • ক্লায়েন্টের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিবেন অধ্যায় - ০৯ স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ০৯ স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি একটি বহুল প্রচলিত, নিরাপদ, অধিকতর কার্যকর, প্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন পদ্ধতি হিসাবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। স্থায়ী পদ্ধতিতে যে সকল দম্পতির কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তান নিতে চান না তাদের অপারেশনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা রোধ করা হয়। ১৯৬০ দশকের প্রথমদিকে বাংলাদেশে মহিলাদের জন্য স্থায়ী পদ্ধতি টিউবেকটমি শুধুমাত্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে সীমিতভাবে চালু ছিল। ১৯৬৬ সাল হতে সরকার কর্তৃক সমর্থিত ও পরিচালিত মাঠভিত্তিক স্থায়ী পদ্ধতি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করা হয় এবং তারপর থেকে ক্রমান্বয়ে এর ব্যাপক বিস্তার ঘটে। এঐ সময় হতে পুরুষদের জন্য স্থায়ী পদ্ধতি ভ্যাসেকটমি বহুল পরিচিত পদ্ধতি হিসাবে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়। বিগত ১৯৭০ দশকের শেষের দিক হতে ৮০'র দশকে বাংলাদেশে স্থায়ী পদ্ধতি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পায় এবং প্রতিবছরে গড়ে প্রায় ২.৫ হতে ৩.০ লক্ষ করে স্থায়ী পদ্ধতি সম্পাদিত হতো। সাল পুরুষ স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহীতার সংখ্যা মহিলা স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহীতার সংখ্যা ১৯৮২-৮৪ ২.১৬ লক্ষ ৩.৩৭ লক্ষ ২০০৫-০৬ ৫৬,৭২০ ৮৬৪৩২ ২০১৫-১৬ ৬৫,৯৫০ ৯৩.০১৩ (সূত্র: ডিজিএফপি, এমআইএস) স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি এক ধরনের অপারেশন। অন্য অপারেশনের সাথে এর অনেক ব্যতিক্রম রয়েছে। স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন করার জন্য ডাক্তার বা সার্জনকে এ পদ্ধতির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। গ্রহীতার স্বেচ্ছায় সম্মতিক্রমে অপারেশনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে সন্তান না হওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বিধায় স্থায়ী পদ্ধতি-'ভিএসসি' (VSC- Voluntary Surgical Contraception) হিসাবেও বিশ্বব্যাপী পরিচিত। স্থায়ী পদ্ধতি ২(দুই) ধরনের মহিলা স্থায়ী পদ্ধতি বা টিউবেকটমি (Tubectomy) মহিলাদের স্থায়ী পদ্ধতিকে বলা হয় টিউবেকটমি। এই পদ্ধতিতে অপারেশনের সাহায্যে ডিম্বনালির কিছু অংশ বেঁধে কেটে ফেলে দিয়ে বা নালিপথ ক্লিপ/রিং দিয়ে আটকিয়ে অথবা কটারি করে স্থায়ীভাবে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতাকে প্রতিরোধ করা হয়। বিশ্ব জুড়ে মহিলাদের স্থায়ী পদ্ধতি 'টিউবাল-লাইগেশন', 'টিউবেকটমি' বা 'মিনিল্যাপ' ইত্যাদি নামে পরিচিত। তবে বাংলাদেশে 'লাইগেশন' এবং 'মহিলাদের অপারেশন' নামে বহুল প্রচলিত। পুরুষ স্থায়ী পদ্ধতি বা ভ্যাসেকটমি (Vasectomy) পুরুষদের স্থায়ী পদ্ধতিকে বলা হয় ভ্যাসেকটমি। ভ্যাসেকটমিতে ছোট অপারেশনের মাধ্যমে শুক্রবাহী নালির কিছু অংশ বেঁধে কেটে ফেলে দিয়ে বা কটারি করে স্থায়ীভাবে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতাকে বন্ধ করে দেয়া হয়। পুরুষদের স্থায়ী পদ্ধতি বাংলাদেশে 'ভ্যাসেকটমি' বা 'পুরুষ-স্থায়ী পদ্ধতি' নামে পরিচিত। ইদানিং ছুরি ব্যবহার না করে একটি ছোট ছিদ্র করে এই অপারেশনটি করার ফলে এটি ছুরিবিহীন ভ্যাসেকটমি বা এনএসভি (No Scalpel Vasectomy) নামে পরিচিতি লাভ করছে। স্থায়ী পদ্ধতি যাদের জন্য উপযুক্ত • যে সকল দম্পতির ০২ (দুই) জন জীবিত সন্তান আছে এবং ছোট সন্তানের বয়স কমপক্ষে ০১ (এক) বছর তাদের স্বামী বা স্ত্রী এর যে কোন একজনকে যথাক্রমে ভ্যাসেকটমি বা টিউবেকটমি সেবা প্রদান করা যাবে • দ্বিতীয় সিজারিয়ান অপারেশনের সময় দম্পতির সম্মতিতে স্ত্রীকে টিউবেকটমি সেবা প্রদান করা যাবে • যে সকল দম্পতির ০২ (দুই) জন জীবিত সন্তান আছে এবং স্বামী ও স্ত্রী উভয়েই স্থায়ী পদ্ধতি পরবর্তী সকল সুবিধা ও অসুবিধা বুঝে-শুনে যৌথভাবে স্বেচ্ছায় পদ্ধতি গ্রহণে সম্মতি প্রদান করলে যে কোন একজনকে ভ্যাসেকটমি বা টিউবেকটমি সেবা প্রদান করা যাবে স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন কোথায় করা হয় স্থায়ী পদ্ধতি বিনা খরচে সকল সরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে, সরকার অনুমোদিত এনজিও এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসক দ্বারা সম্পাদন করা হয়। দেশব্যাপী যে সকল ক্লিনিক/হাসপাতালে টিউবেকটমি ও ভ্যাসেকটমির (এনএসভি) অপারেশন করা হয়ে থাকে- • মান-উন্নীত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র • সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স • সকল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র • জেলা সদর হাসপাতাল • মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং মডেল পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক বা এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক • অন্যান্য সরকারি ও আর্মি হাসপাতালের এমসিএইচ-এফপি ক্লিনিক • সরকার অনুমোদিত এনজিও হাসপাতাল ও ক্লিনিক • বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক • সকল জরুরি প্রসূতি সেবাকেন্দ্র (ইওসি) এবং • বিশেষ সেবা কার্যক্রম ক্যাম্প সংগঠনের মাধ্যমে দুর্গম, দূরবর্তী, চর, কম সুবিধাসম্পন্ন এলাকায় এবং শহরাঞ্চলের বস্তিতে স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন করার জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত সুবিধাসমূহ পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতির একটি আদর্শ সেবাদান কেন্দ্রে/ক্লিনিকে অপারেশনের জন্য নিম্নে বর্ণিত কক্ষ/স্থানের প্রয়োজন। যেমন- ১. ওয়েটিং রুম/ অভ্যর্থনা কক্ষ ২. কাউন্সেলিং কক্ষ ৩. শারীরিক পরীক্ষা ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার কক্ষ ৪. অটোক্লেভিং বা জীবাণুমুক্তকরণ স্থান ৫. অপারেশন পূর্বপ্রস্তুতি কক্ষ ও হাত ধোয়ার জায়গা ৬. অপারেশন কক্ষ ওয়েটিং রুম/অভ্যর্থনা কক্ষ • গ্রহীতা ও তার সঙ্গে আগতদের বসার জন্য প্রয়োজনীয় চেয়ার বা বেঞ্চ • রিসিপশনিস্টের জন্য চেয়ার ও টেবিল • খাওয়ার পানির ব্যবস্থা • টয়লেটের সুবিধা কাউন্সেলিং কক্ষ • কাউন্সেলরের জন্য চেয়ার টেবিল • গ্রহীতার বসার জন্য চেয়ার • স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতি পত্র' ফরম • কাউন্সেলিং-এর জন্য প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিং এইড (ফ্লিপচার্ট, সকল জন্মবিরতিকরণ সামগ্রী, পুরুষ ও মহিলা যৌনাঙ্গের মডেল, MEC হুইল • বয়স্কদের ওজন মাপার যন্ত্রা • মহিলা ও পুরুষ স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের ছাড়পত্র শারীরিক পরীক্ষা ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার কক্ষ • সেবা প্রদানকারীর জন্য চেয়ার ও টেবিল • গ্রহীতার বসার জন্য চেয়ার • গ্রহীতাকে পরীক্ষা করার জন্য টেবিল • হাত ধোয়ার জন্য এলবোট্যাপ সম্বলিত বেসিন ও প্রবাহমান পানি, সাবান, অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন ও ব্যক্তিগত পরিষ্কার তোয়ালে • স্পট লাইট এবং ব্যাটারিসহ চালু অবস্থায় টর্চলাইট • রক্তচাপ মাপার যন্ত্র এবং স্টেথোস্কোপ • থার্মোমিটার • পিভি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় গ্লাভস, স্পেকুলাম, স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ, তুলা, সলিউশন কাপসহ অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন ইত্যাদিসহ ট্রে অটোক্লেডিং বা জীবাণুমুক্তকরণ স্থান • অটোক্লেভ এবং অটোক্লেভ-নির্দেশক টেপ ও রেজিস্টার • সার্জিক্যাল ড্রাম, যন্ত্রপাতি ও গ্লাভস এর জন্য ড্রাম বা ঢাকনাসহ ট্রে • দু'পাল্লা কাপড়ের ট্রে-কভার বা ট্রলি-কভার • অটোক্লেভ কক্ষের দেয়ালে অটোক্লেভিং মনিটরিং চার্ট • যন্ত্রপাতি ধোয়া এবং মোছার জন্য বেসিন, ডিটারজেন্ট পাউডার, ব্রাশ, ইউটিলিটি গ্লাভস্ ও তোয়ালে • যন্ত্রপাতি শুকাবার গোছাবার ও রাখার জন্য টেবিল • গ্লাভস শুকাবার জন্য হ্যাংগার/ক্লিপ • কেরোসিনের চার-বার্নার প্রেসার স্টোভ বা গ্যাস বার্নার বা বৈদ্যুতিক স্টোভ বা বৈদ্যুতিক সংযোগসহ সকেট ল্যাবরেটরি পরীক্ষার উপকরণসমূহ • প্রস্রাব পরীক্ষার উপকরণসমূহ • প্রস্রাব ধারণের জন্য বোতল বা টেস্ট টিউব ও টেস্ট টিউব হোল্ডার • সুগার, অ্যালবুমিন এবং প্রেগ্রনেন্সি পরীক্ষা করার কিট • বোতলসহ ইউরিস্টিক্স • রক্ত পরীক্ষার উপকরণসমূহ - ট্যালকুইস্ট বুক ও ডিসপোজেবল ল্যানসেট - তুলা, সলিউশন কাপে অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন (রেকটিফায়েড স্পিরিট বা পভিডন আয়োডিন অপারেশন পূর্বপ্রস্তুতি কক্ষ ও হাত ধোয়ার জায়গা • এলবো ট্যাপ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বেসিনসহ প্রবাহমান পানির ব্যবস্থা (অবশ্যই টয়লেটের বাহিরে) অথবা বিকল্প হিসাবে বা প্রয়োজনে পানির ট্যাপ লাগানোসহ একটি পানির ট্যাংক বা ড্রাম উপরে বসিয়ে বা দেয়ালে লাগিয়ে নেয়া যেতে পারে অথবা পানি ভর্তি বালতি ও মগ ব্যবহার করা যেতে পারে (এক্ষেত্রে একজন সহকারী মগ দিয়ে পানি ঢেলে দিবে) • হাত ধোয়ার সাবান, অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন • পরিধানের কাপড়-চোপড় খুলে রাখা এবং সার্জিক্যাল গাউন পরার ব্যবস্থা • সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত ক্যাপ ও মাস্ক • অপারেশন কক্ষের ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য শক্ত অথবা বুট জুতা, স্যান্ডেল • টয়লেটের সুবিধা অপারেশন কক্ষ অপারেশন কক্ষে পর্যাপ্ত আলোর প্রয়োজন হয়। এ জন্য এ কক্ষে কাঁচের জানালা থাকতে হবে। কীট-পতঙ্গ যাতে ঢুকতে না পারে সে জন্য কক্ষের সকল দরজা-জানালায় স্থায়ীভাবে নেট লাগানো থাকবে। তবে ওটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হলে নেটিং এর প্রয়োজন নেই। অপারেশন কক্ষ অবশ্যই নিয়মিতভাবে মুছে পরিষ্কার রাখতে হবে। অপারেশন কক্ষের মেঝে ও দেয়াল ৭ ফিট মোজাইক/টাইলস্ হওয়া বাঞ্ছনীয়। অপারেশন কক্ষ যে সকল সরবরাহ থাকবে • রাবার বা প্লাস্টিক শিটসহ অপারেশন টেবিল • ওটি লাইট এবং আলোর স্বল্পতা বা বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলার জন্য তিন ব্যাটারির সক্রিয় টর্চ বা চার্জার লাইট • ইনস্ট্রুমেন্ট ট্রলি • প্রতিটি অপারেশনের যন্ত্রপাতি রাখার জন্য মায়া ট্রলি বা ছোট ইনস্ট্রমেন্ট ট্রলি • রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ও স্টেথোস্কোপ • নিয়মিতভাবে টিউবেকটমি ও ভ্যাসেকটমি অস্ত্রোপচার করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক যন্ত্রপাতির সেট, এমএসআর ও ঔষধ • জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সক্রিয়/সচল সরঞ্জাম (পরিশিষ্ট-৪) • জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য জরুরি ঔষধ (পরিশিষ্ট-৫) • ওটি রেজিস্টার অপারেশন পরবর্তী পরিচর্যা কক্ষ • খাট, তোশক, চাদর, কভারসহ বালিশ, কম্বল ও মশারি, হারিকেন, বদনা বা লোটা, বালতি, মগ, গ্লাস ইত্যাদি • টুল, টেবিল, চেয়ার ও হাতপাখা • রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, স্টেথোস্কোপ, থার্মোমিটার ও তিন ব্যাটারির চালু টর্চ • ঔষধ যেমন- প্যারাসিটামল এবং ভিটামিন ট্যাবলেট • জরুরি বা আপদকালীন ঔষধসমূহ অবশ্যই সহজলভ্য হতে হবে • হাত-মুখ ধোয়ার জন্য বেসিন • টয়লেটের সুবিধা স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশনের সাথে সম্পৃক্ত প্রয়োজনীয় লোকবল ও তাদের কর্মপরিধি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সার্জন সার্জন টিউবেকটমি ও ভ্যাসেকটমি অপারেশন সম্পাদন করা ছাড়াও গ্রহীতার চূড়ান্ত অবহিত সম্মতি অপারেশনকালীন বা তার পরবর্তী যেকোনো উদ্ভূত জরুরি অবস্থা মোকাবেলার সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবেন। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা ও তদারকির দায়িত্বও সার্জনের। তিনি নিজে গ্রহীতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যথা- নাড়ির গতি, রক্তচাপ, হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুস পরীক্ষা করে এবং গ্রহীতার শারীরিক/মানসিক বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কিনা তা মূল্যায়ন করে চূড়ান্তভাবে গ্রহীতাকে অপারেশনের জন্য নির্বাচন করবেন অপারেশন কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স বা এফডব্লিউভি বা প্যারামেডিক • অপারেশন কক্ষের নার্স বা এফডব্লিউভি বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্যারামেডিক অপারেশনের সময় প্রয়োজন অনুসারে অপারেশন কক্ষ পরিচালনা করবেন • অপারেশনের একদিন পূর্বে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সার্জিক্যাল লিনেন, মপ ও তুলার বল, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এফডব্লিউভি বা চিকিৎসা সহকারী বা প্যারামেডিক বা নার্স তৈরি করার দায়িত্বে থাকবেন সার্জিক্যাল সহকারী সার্জিক্যাল সহকারী হিসাবে চিকিৎসক/চিকিৎসা সহকারী/এফডব্লিউভি/প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্যারামেডিক/নার্স দায়িত্ব পালন করবেন। মনিটরিং সহকারী • অপারেশনের সময় ইচ্ছুক গ্রহীতার রেজিস্ট্রেশন, ফরমে গ্রহীতার সাধারণ ও প্রজনন স্বাস্থ্যের বিবরণ গ্রহণ, সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা, পেলভিক ও পিভি পরীক্ষা, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য একজন নার্স বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এফডাব্লিউভি বা চিকিৎসা সহকারী বা প্যারামেডিক দায়িত্ব পালন করবেন • অপারেশনের সময় গ্রহীতার নাড়ির গতি, রক্তচাপ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা, ফরমে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ লিপিবদ্ধ করা এবং প্রয়োজন অনুসারে সার্জনকে অবগত করা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য একজন নার্স/প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এফডব্লিউভি বা চিকিৎসা সহকারী- /প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্যারামেডিক দায়িত্ব পালন করবেন পিয়ন/এমএলএসএস • অপারেশন কক্ষের টেকনিশিয়ান, অপারেশন কক্ষের নার্স বা এফডব্লিউভিকে অটোক্লেভিং-এর ব্যাপারে সাহায্য করবেন • ভ্যাসেকটমি গ্রহীতার অপারেশনের স্থানের লোম কাঁচি দিয়ে ছোট করে ছেঁটে দিয়ে, নতুন লুঙ্গি পরাবেন • অপারেশন-পরবর্তী গ্রহীতাদের দেখা-শোনার কাজে সাহায্য করবেন আয়া • আয়া প্রতিদিন সকালে এবং প্রয়োজনানুযায়ী অপারেশন কক্ষ পরিষ্কার এবং মোছার দায়িত্বে থাকবেন, • অপারেশন কক্ষে কখনোই ঝাড় ব্যবহার করা যাবে না • টিউবেকটমি গ্রহীতার অপারেশনের স্থানের লোম কাঁচি দিয়ে ছোট করে ছেটে দেয়া, গাউন বা নতুন শাড়ি পরানো, অপারেশন থিয়েটারে যাবার পূর্বে প্রস্রাব বা পায়খানা করার ক্ষেত্রে সাহায্য করবেন • গ্রহীতার অপারেশন পরবর্তী দেখা-শোনার কাজে সাহায্য করবেন মহিলা মাঠকর্মী পরিবার পরিকল্পনা বা এনজিও'র উপস্থিত মহিলা মাঠকর্মী এফডব্লিউভি বা প্যারামেডিকের তত্ত্বাবধানে ইচ্ছুক গ্রহীতার রেজিস্ট্রেশন, ইতিহাস গ্রহণ, শারীরিক পরীক্ষা ইত্যাদি কাজে সাহায্য করতে পারেন। তারা দায়িত্ব-প্রাপ্ত এফডব্লিউভি বা প্যারামেডিকের তত্ত্বাবধানে অপারেশন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে গ্রহীতার দেখাশোনা করবেন। পুরুষ মাঠকর্মী পরিবার পরিকল্পনা বা এনজিও'র উপস্থিত পুরুষ মাঠকর্মী এফডব্লিউভি বা প্যারামেডিকের তত্ত্বাবধানে ভ্যাসেকটমি গ্রহীতার রেজিস্ট্রেশন, ইতিহাস গ্রহণ, গ্রহীতাকে পরীক্ষা ইত্যাদি কাজে সাহায্য করতে পারেন। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত এফডব্লিউভি বা প্যারামেডিক/এফপিআই এর তত্ত্বাবধানে অপারেশন পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে গ্রহীতার দেখাশোনা করবেন অপারেশনের দিনের পূর্ব প্রস্তুতি একজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারী অপারেশনের একদিন পূর্বে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সার্জিক্যাল লিনেন, মপ ও তুলার বল, ব্যান্ডেজ ইত্যাদি তৈরি করার দায়িত্বে থাকবেন। স্থায়ী পদ্ধতি কার্যক্রমের ন্যূনতম সেবার মান স্বেচ্ছায় স্থায়ী পদ্ধতি কার্যক্রমে যে উপাদানগুলো অবশ্যই পালন করতে হবে তা হলো- • তথ্য প্রদান ও কাউন্সেলিং • তথ্য জানার পর গ্রহীতার স্বেচ্ছায় অবহিত সম্মতি গ্রহণ • স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক অবস্থা অনুযায়ী গ্রহীতা বাছাইকরণ • প্রাক অপারেশন মূল্যায়ন • যথাযথ অবশকরণ ও ব্যথানাশকরণ পদ্ধতি অনুসরণ • সঠিক অপারেশন পদ্ধতি অনুসরণ • সার্বজনীন প্রাক-সাবধানতা ও মানসম্মত সংক্রমণ-প্রতিরোধক ব্যবস্থাদি অপারেশনের সকল স্তরে অনুসরণ • অপারেশন পরবর্তী কাউন্সেলিং, যত্ন ও উপদেশ • অপারেশন পরবর্তী ফলো-আপ • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতার যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসা • জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জরুরি ঔষধ ও সরঞ্জামাদি প্রস্তুত রাখা অবহিত পছন্দ ও অবহিত সম্মতি অবহিত পছন্দ সঠিক তথ্যের মাধ্যমে জেনে, বুঝে সুচিন্তিত মতামতের ভিত্তিতে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি এবং অন্যান্য যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণ করাকে অবহিত পছন্দ বলা হয়। অবহিত সম্মতি অবহিত সম্মতি হল পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ব্যাপারে মেডিক্যাল, আইনগত ও গ্রহীতার অধিকারের সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং অবহিত পছন্দের ভিত্তিতে পদ্ধতি ব্যবহার বা সেবা গ্রহণের জন্য সম্মতি দেয়া। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবহিত পছন্দ ও হলো পরিবার পরিকল্পনার সকল পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা, ঝুঁকি, কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে, বুঝে নিজ পছন্দ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কোন পদ্ধতি বেছে নেয়া। টিউবেকটমি ও এনএসভি ছোট ধরনের অপারেশনের মাধ্যমে করা হয়। যে কোন অপারেশনে কিছু না কিছু ঝুঁকি থাকবেই। একজন ইচ্ছুক গ্রহীতা ক্লিনিকে আসার পূর্বে এসব বিষয়ে সব কিছু নাও জানতে পারেন বা তাকে যে ব্যক্তি (রেফারকারী) নিয়ে আসেন সে সব তথ্য তাকে নাও বলতে পারেন। কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করার আগে অবশ্যই গ্রহণেচ্ছুককে সেই পদ্ধতির ভাল-মন্দ, ঝুঁকি সব দিক সম্পর্কে জানাতে হবে। এটা কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, কাজেই চাপিয়ে দেয়া যাবে না বরং পদ্ধতির বিষয়ে সকল তথ্য দিয়ে গ্রহীতাকে স্বাধীনভাবে তার ইচ্ছানুযায়ী পদ্ধতি বাছাইকরণে সাহায্য করতে হবে। এটা সর্বজনস্বীকৃত যে, ব্যক্তিই তার প্রতিটি অঙ্গের মালিক। কাজেই টিউবেকটমি ও এনএসভি অপারেশনের পূর্বে গ্রহীতার অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর অপরিহার্য। স্বাক্ষর (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিপসই) গ্রহণ করার পূর্বে সম্মতিপত্রের বক্তব্যগুলো গ্রহীতাকে সাবলীল ভাষায় ভালো করে বুঝিয়ে দেয়া অত্যাবশ্যক। সাধারণত অবহিত সম্মতিপত্রে মুদ্রিত সকল বিষয় কাউন্সেলিং সেশনেই আলোচিত হবার কথা এবং গ্রহীতা স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন করাতে রাজি আছেন কিনা সেটাও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং সেশনেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। সে কারণে অপারেশন থিয়েটারে যাবার আগেই অবহিত সম্মতিপত্রে গ্রহীতার স্বাক্ষর বা টিপসই নেওয়া হয়ে থাকে। অপারেশনের পূর্বে গ্রহীতার কাছ থেকে সম্মতি গ্রহণ একাধারে ক্লিনিক ও সার্জনের জন্য এক ধরনের আইনগত রক্ষা ব্যবস্থা। সে কারণে স্থায়ী পদ্ধতি-টিউবেকটমি ও এনএসভি অপারেশনের পূর্বে গ্রহীতার নিকট থেকে অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিপসই) গ্রহণ সারা দুনিয়াব্যাপী স্বীকৃত নীতিমালা এবং বাংলাদেশেও এই নীতিমালা অপরিহার্য করা হয়েছে। অবহিত সম্মতিপত্রের শর্তসমূহ এবং এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা 'পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতিপত্র' (পৃষ্ঠা নং ১৯৫) ফরমে অবহিত সম্মতির ৬ (ছয়)টি অপরিহার্য শর্ত ও স্বাক্ষরের স্থান নির্দিষ্ট করা আছে। একজন কাউন্সেলর বা এফডব্লিউভি বা প্যারামেডিক কিংবা একজন সার্জনও বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করার পর গ্রহীতার স্বাক্ষর বা টিপসই গ্রহণ করতে পারেন। অবহিত সম্মতি পত্রের শর্ত ও তার ব্যাখ্যা নিম্নে প্রদান করা হলো: ক. আমি অন্যান্য অস্থায়ী পদ্ধতি (খাবার বড়ি, কনডম, আইইউডি, ইনজেকশন ডিএমপিএ, ইমপ্ল্যান্ট) সম্বন্ধে জানা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় টিউবেকটমি/এনএসভি অপারেশনে রাজী আছি এবং আমার এ সিদ্ধান্ত কোন প্রকার ভয়, প্রলোভন ও শর্ত আরোপিত নয়। • অর্থাৎ অন্যান্য পদ্ধতির প্রাপ্যতা, কার্যকারিতা, সুবিধা ও অসুবিধা জানার পরেও গ্রহীতা স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণে সম্মতি দিচ্ছেন। • স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশনে রাজি হবার পেছনে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত টাকা-পয়সা, শাড়ি বা লুঙ্গির লোভ বা অন্য কোনো প্রলোভন দেখানো হয়নি এবং তাকে জোর করে বা তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা ভয়-ভীতি দেখিয়ে কেউ রাজি করায়নি। . আমি জানি যে, এটা এক ধরনের অপারেশন ও এতে ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি ও অপারেশনের পদ্ধতি সম্বন্ধে আমাকে অবহিত করা হয়েছে। খ • অর্থাৎ ছোট একটি অপারেশন হবে, সামান্য ব্যথা লাগতে পারে, সামান্য রক্তপাতও হতে পারে। ক্ষতস্থানের যত্ন না নিলে, নির্দেশ মত না চললে কাটা জায়গায় প্রদাহ হতে পারে এবং এর ফলে নানা ধরনের অসুবিধা দেখা দিতে পারে।।। গ. আমি জানি যে, এটা একটা স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং অপারেশনের পর ভবিষ্যতে আমার সন্তান হবে না, তবে আমার যৌন ক্ষমতা অথবা যৌন প্রবৃত্তি আগের মত থাকবে। • অর্থাৎ এই অপারেশন শুধুমাত্র সন্তান জন্য দেয়ার ক্ষমতা রহিত করে কিন্তু তার স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন ব্যাহত করে না। • একবার স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন করালে সন্তান জন্যদানের ক্ষমতা পুনর্বহাল করার ব্যবস্থা থাকলেও তা জটিল, ব্যয়বহুল ও দুষ্প্রাপ্য ব্যাপার এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা সফল না হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘ. এই অপারেশনে আমার স্বামীর/স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি রয়েছে এবং আমার স্বামীর/স্ত্রীর ইতোপূর্বে এনএসভি/ টিউবেকটমি অপারেশন হয় নাই। • সেবাকেন্দ্রে এসে অপারেশন (টিউবেকটমি/এনএসডি) করানোর ব্যাপারে গ্রহীতার স্বামী বা স্ত্রীর সম্মতি রয়েছে। • অনেক সময় দেখা যায় স্ত্রী টিউবেকটমি করিয়েছেন আবার তার স্বামীকেও এনএসডি করাতে নিয়ে আসা হয়েছে-যার আদৌ কোন প্রয়োজন নেই। স্বামী বা স্ত্রী একজনের অপারেশনই পরিবার পরিকল্পনার জন্য যথেষ্ট। যদি স্বামীর একাধিক স্ত্রী থাকে তবে প্রতি জন স্ত্রী তার স্বামীর একটি দম্পতি হিসেবে গণ্য হবেন। ঙ. অপারেশনের পূর্বে যে কোন মুহূর্তে অপারেশন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমার বিরুদ্ধে কোন বিরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বলে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে। • অর্থাৎ অপারেশন করা বা না করা সম্পূর্ণই গ্রহীতার ইচ্ছাধীন। অপারেশনের পূর্বে যেকোনো সময় গ্রহীতা অপারেশন না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অপারেশন না করালেও কেউ গ্রহীতার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না। তিনি ও তার পরিবার উক্ত ক্লিনিক হতে সকল ধরনের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা পাবেন। চ. কর্মসূচি মূল্যায়নের প্রয়োজনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি/ব্যক্তি/কর্মী আমার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করতে পারেন এবং আমার বাসস্থানেও আসতে পারেন। • অর্থাৎ অপারেশনের পরেও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ হতে ফলো-আপ, সার্ভে, উপাত্ত সংগ্রহ ইত্যাদি কারণে গ্রহীতার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন এবং প্রয়োজন হলে গ্রহীতার বাড়িতেও যেতে পারবেন। মহিলা স্থায়ী পদ্ধতি টিউবেকটমি যেসব মহিলার কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক সন্তান রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নিশ্চিতভাবে আর কোন সন্তান নিতে চান না তাদের জন্য টিউবেকটমি বিশ্ব জুড়ে একটি পুরাতন, পছন্দনীয়, নিরাপদ ও কার্যকরী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয় এবং বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে এ পদ্ধতি জনপ্রিয়তা পায়। ৮০ দশকের পূর্বে বেশিমাত্রায় অবশকরণ ও ব্যথানাশক ঔষধ প্রয়োগের কারণে স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশনজনিত মৃত্যুর হার ছিল বেশি। আশির দশকের প্রথমদিক হতে অবশকরণ ও ব্যথানাশকের নতুন রেজিমেন চালু করার পর এ সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কমে গেছে। বর্তমানে টিউবেকটমি অপারেশনের পদ্ধতি উন্নত ও নিরাপদ হয়েছে। যে পদ্ধতিতে বর্তমানে টিউবেকটমি করা হয় তাতে অজ্ঞান করার বা গভীরভাবে ঘুম পাড়ানোর প্রয়োজন হয় না। তবে অপারেশনের জায়গাটুকু অবশ করে নেয়ার কারণে কোন ব্যথা লাগে না। ফলে টিউবেকটমি বর্তমানে অনেক নিরাপদ ও সহজ। টিউবেকটমি অপারেশন পদ্ধতি টিউবেকটমি অপারেশন বিভিন্ন পদ্ধতিতে করা হয়- ১ . মিনিল্যাপ টিউবেকটমি মিনিল্যাপ টিউবেকটমি খুব ছোট করে (২-৫ সে.মি.) পেট কেটে এই অপারেশন করা হয় বলে এর নাম মিনিল্যাপ টিউবেকটমি। এই পদ্ধতিতে মিনিল্যাপারোটমির মাধ্যমে পেটের ভিতরে টিউবাল হুক/আঙুল ঢুকিয়ে ডিম্বনালি উপরে তুলে আনা হয়। এরপর মডিফাইড্ পমেরয় কৌশল অবলম্বনকরে ডিম্বনালির কিছু অংশ (সর্বোচ্চ ১.০ সে.মি.) কেটে ফেলে দেয়া হয়। ফলে নালিপথের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে টিউবেকটমি করা হয়ে থাকে এবং এই পদ্ধতিতে সম্পাদিত টিউবেকটমির ব্যর্থতার হার খুবই কম। ২. ল্যাপারোস্কোপিক টিউবেকটমি ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে ডিম্বনালিতে স্প্রিং-ক্লিপ বা ফেলপ-রিং আটকে দিয়ে অথবা ইলেক্ট্রোকটারি করে ডিম্বনালি পথকে বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে ডিম্বনালিপথের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশে এই পদ্ধতিতে টিউবেকটমি করার হার খুবই কম। এই পদ্ধতির ব্যর্থতার হারও তুলনামূলকভাবে বেশি। ৩. সিজারিয়ান অপারেশনের সাথেও টিউবেকটমি অপারেশন করা হয়। ৪. পেটের অন্যান্য অপারেশনের সাথেও টিউবেকটমি অপারেশন করা হয়। টিউবেকটমি যেভাবে কাজ করে টিউবেকটমি অপারেশনে ডিম্বনালির ধারাবাহিকতা বন্ধ করে দেয়া হয় বলে ডিম্বাশয় থেকে প্রস্ফুটিত ডিম্বাণু ডিম্বনালি দিয়ে জরায়ুতে আসতে পারে না এবং শুক্রাণুও ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছাতে পারে না। ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুর মিলন না হওয়ার ফলে গর্ভসঞ্চার হয় না। কার্যকারিতা বা সফলতার হার টিউবেকটমি খুবই কার্যকরী একটি পদ্ধতি। অপারেশনের পর প্রথম বছরে গর্ভবর্তী হওয়ার সংখ্যা প্রতি ১০০০ জনে ৫ জন। ১০ বছরের মধ্যে শতকরা ২ জন মহিলা গর্ভবতী হতে পারেন। কার্যকারিতা নির্ভর করে কিভাবে ডিম্বনালিপথ অর্থাৎ টিউব বন্ধ করা হলো তার ওপর। ল্যাপারোস্কোপিক টিউবেকটমির তুলনায় মিনিল্যাপ টিউবেকটমির সফলতার হার অনেক বেশি। স্বাভাবিক প্রসবের ছয় দিনের মধ্যে এবং সিজারিয়ান অপারেশনের সাথে টিউবেকটমির গর্ভবতী হওয়ার সংখ্যা প্রতি ২০০০ জন গ্রহীতার মধ্যে মাত্র ১ জন (শতকরা ০.০৫ জন) এবং ১০ বছরের মধ্যে ১৩৩ জনে ১ জন (শতকরা ০.৭৫ জন)। টিউবেকটমির বিফলতা বা টিউবেকটমি পরবর্তী গর্ভধারণের কারণ • অপারেশনের পূর্বেই গর্ভসঞ্চার হয়ে থাকলে • ডিম্বনালির কাটা দুটি প্রান্ত আপনা আপনি জোড়া লেগে গেলে • অপারেশনের ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতার কারণে- এক বা উভয় পার্শ্বের ডিম্বনালি কাটতে না পারা অথবা ভুল করে টিউব মনে করে অন্য কোন নালি কেটে ফেলা • ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতির কারণে ল্যাপারোস্কোপিক টিউবেকটমির ক্ষেত্রে যেমন, ক্লিপ/রিং সঠিকভাবে আটকাতে না পারা/ অথবা ক্লিপ বা রিং ঢিলা (loose) হয়ে/খুলে গিয়ে নালিপথের ধারাবাহিকতা পূর্বাবস্থায় ফিরে যাওয়া ইলেক্ট্রোকটারির ক্ষেত্রে ফিস্টুলা বা অস্বাভাবিক নালিপথের সৃষ্টি হওয়া • • টিউব কাটার পূর্বে ফরসেপ দিয়ে ট্রাশ করলে ফিস্টুলা বা অস্বাভাবিক নালিপথ সৃষ্টি হয়ে টিউবেকটমি বিফল হতে পারে। বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে প্রধানত মিনিল্যাপ টিউবেকটমি করা হয়। এ কারণে পরবর্তী আলোচনাসমূহ মিনিল্যাপ টিউবেকটমির উপর করা হলো। এছাড়াও সিজারিয়ান অপারেশনের সাথে টিউবেকটমি করা হয়। মিনিল্যাপ টিউবেকটমির সুবিধা • স্থায়ী পদ্ধতি • খুবই নিরাপদ ও কার্যকরী • অপারেশনের সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকরী হয় • ৩/৪ ঘণ্টা পর বাড়ি চলে যাওয়া যায় • দীর্ঘমেয়াদি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি নেই • প্রতিদিন কোনো পদ্ধতি খাবার বা ব্যবহারের ঝামেলা নেই • যৌন ক্ষমতা ও শারীরিক শক্তি কমে না বরং পূর্বের মতই অটুট থাকে এবং সহবাসে কোন সমস্যা হয় না • ক্লিনিকে বা কর্মীর কাছে বারবার যেতে হয় না • স্বাভাবিক প্রসবের পর পরই এবং সিজারিয়ান করার সময় করা যায় এবং সেক্ষেত্রে বুকের দুধের উপর প্রভাব ফেলে না • প্রাথমিকভাবে খরচ বেশি হলেও পরবর্তী প্রজননকালে জন্মবিরতিকরণের জন্য কোনো খরচ হয় না। ফলে জনন্মবিরতিকরণ সামগ্রী ক্রয়ের ক্ষেত্রে সাশ্রয়ী ভূমিকা রাখে মিনিল্যাপ টিউবেকটমির অসুবিধা • স্থায়ী পদ্ধতি বলে আর কখনও সন্তান ধারণ করা যায় না • এটি একটি ছোট অপারেশন হলেও ঝুঁকির সম্ভাবনা আছে • অপারেশনের পর কয়েকদিন পর্যন্ত ব্যথা থাকতে পারে • প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার ও সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয়। • নগণ্য ক্ষেত্রে গর্ভবতী হতে পারে • যৌনরোগ বা এইডস্ প্রতিরোধ করে না • অপারেশন পরবর্তীকালে গ্রহীতা সন্তান চাইতে পারেন, এ ক্ষেত্রে পুনঃসংযোজন অপারেশনের প্রয়োজন হয়। এই অপারেশন খুবই জটিল এবং ব্যয়বহুল এবং সহজলভ্য নয়। এই অপারেশনে সফলতার হার অনেক কম। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রস্তুতকৃত স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক উপযুক্ততার নির্দেশিকা টিউবেকটমির কোন নিশ্চিত প্রতিনির্দেশক নেই অর্থাৎ এমন কোনো স্বাস্থ্যগত অবস্থা বা শর্ত নাই, যার জন্য স্বেচ্ছায় টিউবেবটমি গ্রহণেচ্ছুককে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা যায় বা উচিত। তবে বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থার প্রেক্ষিতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অথবা বর্তমান রোগাবস্থার উপশম না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন বিলম্বিত করে বা উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কোনো হাসপাতাল/ক্লিনিকে অপারেশন সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। D- delay (অপারেশন বিলম্বিত করা বা সাময়িক স্থগিত রাখা): নিম্নে বর্ণিত বর্তমান স্বাস্থ্যগত সমস্যার নিরসন বা রোগাবস্থা ভাল না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন স্থগিত রাখতে হবে। মহিলাদের স্থায়ী পদ্ধতি (টিউবেকটমি-Tubectomy) v স্বাস্থ্যগত/ সামাজিক অবস্থা স্বাস্থ্যগত/ ব্যাখ্যা / সাক্ষ্য-প্রমাণ/মন্তব্য অবস্থা প্রসব পরবর্তী সময়ে টিউবেকটমি সম্পাদনের যোগ্যতা • প্রসবের পর ৭ দিন < ৪২ দিন) এ সময়ে টিউবেকটমি করা হলে জরায়ু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার প্রক্রিয়া (involution process) ব্যাহত হতে পারে। • তীব্র প্রি-এক্লামসিয়া/এক্লামসিয়া • প্রসবের ২৪ ঘণ্টার পূর্বে গর্ভঝিল্লি ফেটেছিল বা পানি ভেঙ্গে ছিল • প্রসবোত্তর সংক্রমণ, প্রসবকালীন বা প্রসবোত্তর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকলে • প্রসবপূর্ব/প্রসবোত্তর অত্যধিক রক্তক্ষরণ হয়ে থাকলে • প্রসবকালে জননপথের মারাত্মক আঘাত বা ক্ষত, প্রসবকালে সার্ভিক্স বা যোনিপথ ছিড়ে গেলে বা ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে থাকলে গর্ভপাত পরবর্তী সময় • গর্ভপাত - পরবর্তী সংক্রমণ/জ্বরে আক্রান্ত • গর্ভপাত পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ • গর্ভপাতকালে সার্ভিক্স বা যোনিপথ ছিঁড়ে গেলে বা ক্ষতের সৃষ্টি হলে • হঠাৎ জরায়ুর ভিতরে তীব্র রক্তক্ষরণ হয়ে রক্তপূর্ণ জরায় গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস: দীর্ঘদিন শুয়ে থাকার নামজেন বর্তমানে ইসকেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত প্রজননতন্ত্রের সমস্যা ক) যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তস্রাব, যার কারণ জানা নাই প্রথমে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের মূল কারণ বা অন্তর্নিহিত রোগ নির্ণয় করে তার উপযুক্ত চিকিৎসা করতে হবে। চিকিৎসার পর টিউবেকটমি সম্পাদন করতে হবে। খ) ট্রিফেরোস্টিক রোগ: Beta-hCG এর মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে গ) ডিআইএ (VIA) পরীক্ষা পজিটিভ (+ve) হলে বা গুরুতর কোন সমস্যা সন্দেহ করা হলে সর্বাগ্রে প্রকৃত রোগ নির্ণয়ের ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তীতে নির্ণীত রোগাবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘ) সার্ভিক্স-এর ক্যান্সার সাধারণত ক্যান্সার এর চিকিৎসার কারণে এমনিতেই মহিলার সন্তান ধারণ ক্ষমতা লোপ পায়। ঙ) এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার চ) ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ ক) তলপেটে প্রদাহজনিত রোগ (পিআইডি): বর্তমানে পিআইডি-তে আক্রান্ত বর্তমানে কোনো সংক্রমণ নাই তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং জরায়ুর সচলতা (mobility) জানার জন্য তলপেট পরীক্ষাসহ পিভি পরীক্ষা অবশ্যই গুরুত্ব সহকারে করতে হবে। পিআইডি ও এসটিআই-এ আক্রান্তদের চিকিৎসার পর রোগের কোন লক্ষণ না থাকলে টিউবেকটমি সম্পাদন করা যায়। সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি বিদ্যমান থাকলে টিউবেকটমি করার পরেও নিয়মিতভাবে কনডম ব্যবহারের উপদেশ দিতে হবে। খ) বর্তমানে যৌনবাহিত রোগে (সারভিসাইটিস, ক্লামাইডিয়া, গণোরিয়া) আক্রান্ত অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস - চিকিৎসায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসার পর টিউবেকটমি সম্পাদন করতে হবে। - যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে উন্নততর সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতাল/ ক্লিনিকে রেফার করতে হবে। - ক্ষত শুকানোর জন্য প্রতিষেধক হিসাবে এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যগত/সামাজিক অবস্থা স্বাস্থ্যগত/ব্যাখ্যা/সাক্ষ্য-প্রমাণ/মন্তব্য অবস্থা পিত্তথলির রোগ: লক্ষণযুক্ত বা কোনো উপসর্গ বিদ্যমান জন্ডিস্ বিদ্যমান অবস্থায় টিউবেকটমি সম্পাদন করা যাবে না। ভাইরাসজনিত লিভারের প্রদাহ (viral hepatitis): বর্তমানে সক্রিয় আছে অপারেশন ও এ্যানেসথেশিয়া সংশ্লিষ্ট জটিলতা দেখা দেয়ার ঝুঁকি বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। লিভারের অন্যান্য রোগ ব্যাকটেরিয়াজনিত প্রদাহ, সিরোসিস, সাধারণ টিউমার (এ্যাডেনোমা), ক্যান্সার হেপাটোমা) জন্ডিস্ বিদ্যমান থাকা অবস্থায় টিউবেকটমি সম্পাদন করা যাবে। লৌহ-ঘাটতিজনিত রক্ত স্বল্পতা: রক্তে হিমোগ্লোবিন ২৭ গ্রাম/ ডেসি. লি. - রক্ত স্বল্পতার মূল কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা দিতে হবে। - অপারেশন-পূর্ব হিমোগ্লোবিন লেভেল এবং অপারেশনজনিত যে রক্তক্ষরণ হবে তা রক্ত স্বল্পতাসম্পন্ন মহিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম হলে রক্তের পেরিফেরাল পারফিউশন বা সঞ্চালন অপর্যাপ্ত হবে এবং এতে ক্ষত নিরাময় বিলম্বিত হবে। তলপেটে বা অপারেশন স্থানে ত্বকে সংক্রমণ বা ঘা/প্রদাহ সংক্রমণের চিকিৎসা করতে হবে এবং পুরোপুরি ভাল না হওয়া পর্যন্ত টিউবেকটমি বিলম্বিত করতে হবে। অন্যথায় অপারেশন-পরবর্তী সংক্রমণে আক্রান্ত্রের ঝুঁকি অনেক বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাপক আকারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। শ্বাসতন্ত্রের রোগ - তীব্র (acute) শ্বাসকষ্টজনিত রোগ যেমন, - তীব্র হাঁপানি (acute asthma) - তীব্র ব্রংকাইটিস (acute bronchitis) তীব্র নিউমোনিয়া (acute pneumonia) রোগ না সারা পর্যন্ত টিউবেকটমি বিলম্বিত করতে হবে। অন্যথায় এ্যানেসথেসিয়া ও অপারেশন-সংশ্লিষ্ট জটিলতার ঝুঁকি বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। অন্যান্য সাধারণ বা বিশেষ সংক্রমণ, জ্বর বা অন্ত্রের প্রদাহ (ডায়রিয়া/আমাশয়সহ) বিদ্যমান থাকলে অপারেশন পরবর্তী সংক্রমণ, পানি স্বল্পতাজনিত জটিলতা এবং এ্যানেসথেসিয়া-সংশ্লিষ্ট জটিলতার ঝুঁকি বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। পেটে বা তলপেটে অন্য কোনো অপারেশনের সাথে একই সংগে টিউবেকটমি সম্পাদন : সংক্রমিত অবস্থায় - উন্নত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বা বিশেষায়িত হাসপাতাল / ক্লিনিকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। -নিয়মিতভাবে যেসকল কেন্দ্রে স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন করা হয় সে-সকল কেন্দ্রের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় S - special (বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ) নিম্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে এমন কোনো ক্লিনিক/হাসপাতালে স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন সম্পাদন করতে হবে যেখানে অভিজ্ঞ সার্জন ও সাহায্যকারী স্টাফ এবং জেনারেল এ্যানেসথেসিয়াসহ যে কোন উদ্ভূত জরুরী অবস্থা মোকাবিলার সুবিধাদি বিদ্যমান আছে। মহিলাদের স্থায়ী পদ্ধতি (টিউবেকটমি-Tubectomy) স্বাস্থ্যগত/সামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা/সাক্ষ্য-প্রমাণ/মন্তব্য সন্তান সংখ্যা (Parity) একাধিক জীবিত সন্তান আছে: দুইজন জীবিত সন্তান আছে কিন্তু ছোট সন্তানের বয়স এক বছরের কম* -* দু'টি জীবিত সন্তান থাকলে স্বামী-স্ত্রী দুজনে বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিলেও ছোট সন্তানের বয়স প্রযোজ্য হবে না প্রসব পরবর্তী সময়ে টিউবেকটমি সম্পদানের যোগ্যতা: জরায়ু ছিঁড়ে/কেটে গেলে বা ছিদ্র হয়ে গেলে জরায়ুর রিপেয়ার ও টিউবেকটমি একই সাথে সম্পাদন করা যায়, যদি কোন বাড়তি ঝুঁকি না থাকে। গর্ভপাত পরবর্তী সময়: গর্ভপাতকালে জরায়ু ছিদ্র জরায়ুর রিপেয়ার ও টিউবেকটমি একই সাথে সম্পাদন করা যায়, যদি কোন বাড়তি ঝুঁকি না থাকে। হৃৎপিণ্ড ও রক্তসংবহনতন্ত্রের রোগ: হৃৎপিণ্ড ও রক্ত সংবহননালির রোগ ব্যাধির একাধিক ঝুঁকি বিদ্যমান (যেমন: বেশি বয়স, ধূমপান, তামাকপাতা/ জর্দা সেবন, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে উচ্চ মাত্রার চর্বি ইত্যাদি) একাধিক ঝুঁকি একই সঙ্গে বিদ্যমান থাকলে এ্যানেসথেসিয়া ও অপারেশন-সংশ্লিষ্ট জটিলতা দেখা দেয়ার ঝুঁকি বেশি মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ রক্তচাপ: সিস্টলিক ≤ ১৬০ বা ডায়াস্টলিক > ১০০ মি.মি. পারদ রক্তসংবহন মালির ব্যাধি বিদ্যমান হৃৎপিণ্ডের ভালভের রোগ: জটিলতাসহ (পালমোনারি, হাইপারটেনশন, এ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন-এর ঝুঁকি ইত্যাদি) এ্যানেসথেসিয়া এবং অপারেশনজনিত জটিলতার ঝুঁকি বিদ্যমান প্রজননতন্ত্রের সমস্যা: এন্ডোমেট্রিওসিস এইচআইভি ও এইডস - এইচআইভি/এইডস্ এর ক্ষেত্রে প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সেবাদানকারী সংক্রমিত হবার ঝুঁকি থাকবে। - এইডস-সংশ্লিষ্ট কোন রোগ বিদ্যমান থাকলে টিউবেকটমি বিলম্বিত করতে হবে। যক্ষ্মা: তলপেটে যক্ষ্মা আছে ডায়াবেটিস: জটিলতা বিদ্যমান (নেফরোপ্যাথি। রেটিনোপ্যাথি। নিউরোপ্যাথি, বক্ত সংবহননালীর অন্যান্য ব্যাধি, অথবা ২০ বছর ও তার বেশি সময় ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত)। - চিকিৎসায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসার পর টিউবেকটমি সম্পাদন করতে হবে। - যদি নিয়ন্ত্রণে না আসে তবে উন্নততর সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতাল/ ক্লিনিকে রেফার করতে হবে। - ক্ষত শুকানোর জন্য প্রতিষেধক হিসাবে এ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে। স্বাস্থ্যগত/সামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা/সাক্ষ্য-প্রমাণ/মন্তব্য থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ: হাইপার থাইরয়েডিজম চিকিৎসায় থাইরয়েডের ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে আসার পর টিউবেকটমি সম্পাদন করতে হবে। টিউবেকটমি সম্পাদনে বিবেচ্য অন্যান্য বিষয় ক. রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত সমস্যা যে সব মহিলার রক্ত জমাট বাঁধা সম্পর্কিত সমস্যা আছে তাদের অপারেশনকালে রক্তক্ষরণ সংশ্লিষ্ট জটিলতা উচ্চমাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। খ. দীর্ঘস্থায়ী (chronic) শ্বাসকষ্টজনিত রোগ • দীর্ঘস্থায়ী হাঁপানি (chronic asthma) • দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিস (chronic bronchitis) • দীর্ঘস্থায়ী এমফাইসেমা (chronic emphysema) • ফুসফুসের অন্যান্য সংক্রমণ (chronic non specific lungs infection) গ. পূর্বে অপারেশন (সিজারিয়নসহ) বা সংক্রমণের কারণে স্থির জরায়ু (fixed uterus) জরায়ু ও ডিম্ববাহী নালিকে নাড়াচাড়া বা উপরে তুলে আনার সুযোগ কমে যাওয়ার কারণে টিউবেকটমি সম্পাদন করা দুঃসাধ্য হতে পারে। এছাড়া একই কারণে জটিলতা সৃষ্টির বর্ধিত ঝুঁকিও রয়েছে। ঘ. পেটের অথবা নাভির হার্নিয়া (abdominal or umbilical hernia) সম্ভব হলে হার্নিয়া রিপেয়ার ও টিউবেকটমি একই সাথে সম্পাদন করতে হবে। পূর্বে পেটে বা তলপেটে কোন অপারেশন হয়ে থাকলে (সিজারিয়ানসহ) টিউবেকটমি অপারেশনের নিরাপদ সময় স্বাভাবিক প্রসবের পর, সিজারিয়ান অপারেশনের সময়, এমআর/গর্ভপাতের পর এবং ইন্টারভ্যাল (স্বাভাবিক মাসিক চলাকালীন) সময়ে টিউবেকটমি অপারেশন করা হয়ে থাকে। ১. ইন্টারভ্যাল মিনিল্যাপ টিউবেকটমি (Interval Minilap Tubectomy) • স্বাভাবিক মাসিক চক্রের প্রথম ৭ দিনের মধ্যে • অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য আধুনিক পদ্ধতি সঠিক উপায়ে ও নিয়মিতভাবে ব্যবহার করা অবস্থায়/যেকোন সময় • শেষ মাসিকের পর হতে স্বামীর সাথে মিলিত হয়নি এমন অবস্থায় ২. প্রসব পরবর্তী টিউবেকটমি (Post-partum Tubectomy) • স্বাভাবিক প্রসবের পর থেকে ১ বছরের মধ্যে টিউবেকটমি করলে তাকে প্রসব পরবর্তী টিউবেকটমি বলে • প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে টিউবেকটমি সম্পাদন সবচেয়ে সুবিধাজনক • প্রসবের পর ৪৮ ঘণ্টা হতে ৬ দিনের মধ্যে টিউবেকটমি করলে প্রোফাইল্যাকটিক অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে • সিজারিয়ান অপারেশনের সাথে টিউবেকটমি করা হলে সেটাও প্রসব পরবর্তী টিউবেকটমির অর্ন্তভুক্ত • বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী প্রসবের ৭ম দিন হতে ৪২ দিনের মধ্যে টিউবেকটমি করা যাবে না ৩. এমআর/গর্ভপাতের পর পেটে বা তলপেটে অন্য কোন অপারেশনের সাথে টিউবেকটমি সম্পাদন যেসব হাসপাতাল/ক্লিনিকে উপযুক্ত সুযোগ সুবিধা বিদ্যমান, সেখানে পেটে বা তলপেটের অন্য কোন পূর্ব-নির্ধারিত বা জরুরি অপারেশনের সাথে একই সঙ্গে টিউবেকটমি করা যাবে যদি মহিলার সম্মতি থাকে এবং পূর্ব হতে কাউন্সেলিং করা হয়ে থাকে। টিউবেকটমির জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং গ্রহীতার টিউবেকটমি সম্পাদনের পূর্বে যথাসম্ভব সহজ ও সাবলীলভাবে কাউন্সেলিং করা আবশ্যক। এর উদ্দেশ্য হলো গ্রহীতার অবহিত সম্মতি নিশ্চিত করা এবং গ্রহীতাকে পরিবার পরিকল্পনার সকল পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা যেমন, সুবিধা ও অসুবিধা, স্থায়ী পদ্ধতির স্থায়ীত্ব ও অপরিবর্তনীয়তা, পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, ঝুঁকি, ফলো-আপ ইত্যাদি। এতে গ্রহীতা কোন রকম ভয় বা প্রলোভন এড়িয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। টিউবেকটমি একটি স্থায়ী পদ্ধতি এবং গ্রহীতা আর সন্তান চায় না এটি পুনরায় নিশ্চিত করা আবশ্যক। গ্রহীতা বাছাইকরণ ও অপারেশন পূর্ব মূল্যায়ন টিউবেকটমি অপারেশনের পূর্বে সকল গ্রহীতাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। টিউবেকটমি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, সুস্থ মানুষের জন্য পরিবার পরিকল্পনার একটি নির্বাচিত পদ্ধতি। তাই ঝুঁকিপূর্ণ গ্রহীতাদের শনাক্ত করে সে অনুযায়ী অপারেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। টিউবেকটমি অপারেশনের পূর্বে গ্রহীতা বাছাই এবং মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হলো- • গ্রহীতা টিউবেকটমির জন্য যোগ্য কি-না তা নিরূপণ করা • গ্রহীতার এমন কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যা যা টিউবেকটমির অপারেশন প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে তা নির্ণয় করা • গ্রহীতার স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণে কোন সামাজিক বাধা আছে কি-না তা নিরূপণ করা • গ্রহীতা স্বেচ্ছায় টিউবেকটমি করতে রাজি আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া গ্রহীতার নিকট হতে তার ব্যক্তিগত তথ্য ও মেডিক্যাল ইতিহাস গ্রহণ করে এবং শারীরিক, ল্যাবরেটরি ইত্যাদি পরীক্ষা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রহীতা বাছাই ও অপারেশন পূর্ব মূল্যায়ন করতে হবে (সংশ্লিষ্ট অবহিত সম্মতিপত্রে উল্লেখিত যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে)। প্রাপ্ত তথ্যসমূহ "পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতিপত্র" ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে লিখতে হবে। তথ্যসহ এই ফরম মূল্যায়ন করে গ্রহীতার উপযুক্ততা/অনুপযুক্ততা নির্ণয় করে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। টিউবেকটমি অপারেশনের নিয়মাবলী টিউবেকটমি অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরবরাহ অপারেশন কক্ষের প্রস্তুতি • সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সরবরাহসহ টিউবেকটমি করার সকল যন্ত্রপাতির কিট এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি অপারেশন কক্ষে বিদ্যমান থাকতে হবে • গ্রহীতা অপারেশন কক্ষে প্রবেশের পূর্বে অবশ্যই কক্ষটি নিয়ম অনুযায়ী পরিষ্কার এবং প্রস্তুত করতে হবে • অপারেশন সহকারীকে মাস্ক ও ক্যাপ পরে হাত স্ক্রাব করে গাউন ও গ্লাভস পরে সঠিকভাবে প্রস্তুতকৃত ও জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি খুলে যন্ত্রপাতি টেবিলে সাজাতে হবে। • অপারেশন করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি, যন্ত্রপাতি এবং সরবরাহ যেন সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায় এমনভাবে রাখতে হবে • প্রতিটি অপারেশনের জন্য অটোক্লেভ করা যন্ত্রপাতি কিট, ড্র-শিট, স্থানীয় অবশকরণসহ সিরিঞ্জ এবং সেলাই এর সামগ্রী (ভিক্রিল/ক্যাটগাট/সিল্ক) মায়া ট্রলি বা ছোট ট্রলিতে রাখতে হবে। গ্রহীতার পেটের উপর বা দুই পায়ের মাঝে যন্ত্রপাতি/সিরিঞ্জ ইত্যাদি রাখা যাবে না • জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য অপারেশন থিয়েটারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সরঞ্জাম এবং জরুরি ঔষধ ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় হাতের কাছে অবশ্যই প্রস্তুত রাখতে হবে গ্রহীতার প্রস্তুতি • অপারেশনের স্থান (তলপেট) ভালভাবে সাবান পানি দিয়ে পরিষ্কার করার কথা বলতে হবে। তবে অপারেশনের দিন সকালে ভালভাবে গোসল করে নেয়া ভাল • অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক অথবা সার্জিক্যাল অ্যাপারেল হিসাবে ওটি গাউন বা প্রদত্ত নতুন শাড়ি পরাতে হবে • অপারেশনের ৬ ঘণ্টা পূর্ব হতে গ্রহীতাকে কোন শক্ত খাবার দেওয়া যাবে না। শুধুমাত্র অপারেশনের পূর্বে ঔষধের সাথে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু পানি খাওয়া যাবে • অপারেশন স্থানের লোম প্রয়োজনে কাঁচি দিয়ে ছোট ছোট করে ছেঁটে দিতে হবে, তবে শেভিং করার প্রয়োজন নেই। কেননা এতে চামড়ায় অনেক অদৃশ্য ক্ষতের সৃষ্টি হয়, যার ভিতর দিয়ে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে • অপারেশনের ২ ঘণ্টা পূর্বে ১টি এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মি.গ্রা. বা ২টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৫০০ মি.গ্রা. ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে • অপারেশনের ৪৫ মিনিট পূর্বে গ্রহীতাকে ২টি ৫ মি.গ্রা. ডায়াজিপাম ট্যাবলেট খাওয়াতে হবে • অপারেশন কক্ষে ঢুকানোর আগে গ্রহীতাকে অবশ্যই প্রস্রাব করে আসতে বলতে হবে • অপারেশনের আগে প্রয়োজনীয় ঔষধপত্র দেয়ার পর গ্রহীতার ভাইটাল সাইন অর্থাৎ নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ মনিটরিং শুরু করতে হবে (ডায়াজিপাম খাওয়ার পর এবং ওটিতে নেওয়ার পর বা প্রয়োজন অনুসারে আরো ঘন ঘন) অবশকরণ ও ব্যথা নিবারণ টিউবেকটমিতে স্থানীয়ভাবে অবশকরণের ও ব্যথা নিবারণের জন্য অবশকরণ ও ব্যথা নিবারণের ঔষধের মাত্রা এমন যে গ্রহীতা সম্পূর্ণ অজ্ঞান হয় না এবং প্রয়োজনের বেশি ঝিমুনি ভাবও আসে না। ফলে গ্রহীতার শ্বাসরুদ্ধ বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। এজন্য গ্রহীতাকে ভালভাবে পরামর্শ দিতে হবে ও কাউন্সেলিং করতে হবে, যাতে অপারেশনের সময় অল্প টান সিনুভব করলেও গ্রহীতা ঘাবড়িয়ে না যান এবং অপারেশনে সহযোগিতা করেন। গ্রহীতা বুঝতে পারবেন, দেখতে পারবেন ও কিছু একটা হচ্ছে তা অনুভব করতে পারবেন কিন্তু ব্যথা পাবেন না। এ জন্য অপারেশন চলাকালীন গ্রহীতার সাথে অনবরত কথা বলতে হবে। এতে গ্রহীতার অজানা আতঙ্ক বা ভয় দূর হবে, গ্রহীতা আশ্বস্ত হবেন ও সহযোগিতা করবেন। প্রাক-টিউবেকটমি অপারেশনে ব্যবহৃত ঔষধ প্রয়োগের/ খাবার নিয়মাবলী ঔষধের নাম মাত্রা প্রয়োগের সময় ও পথ বিশেষ নির্দেশ ১. সিপ্রোফ্লক্সাসিন অথবা এজিথ্রোমাইসিন ১০০০ মি. গ্রা. ৫০০ মি. গ্রা. অপারেশনের দুই ঘণ্টা আগে মুখে খাবেন। অপারেশনের দুই ঘণ্টা আগে মুখে খাবেন। তারপর প্রতিদিন ১ টি ট্যাবলেট খাবার আধাঘণ্টা পূর্বে পরবর্তী দুইদিন খাবেন। ১টি করে ট্যাবলেট ১২ ঘণ্টা পর পর পরবর্তী দুইদিন খাবেন। প্রতিদিন একটা করে ট্যাবলেট খাবার আধাঘণ্টা পূর্বে পরবর্তী দুই দিন খাবেন। ২. ডায়াজিপাম ১০ মি. গ্রা. অপারেশনের ৪৫ মিনিট পূর্বে মুখে খাবেন। ডায়াজিপাম খাওয়ানোর সময় ফরমে লিখতে হবে এবং গ্রহীতাকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শুইয়ে রাখতে হবে। ৩. ইনজেকশন ক) পেথেডিন বা পেন্টাজোসিন খ) অ্যাট্রোপিন গ) প্রোমেথাজিন ক) ২৫-৩০ মি. গ্রা. খ) ০.৪-০.৬ মি. গ্রা. গ) ১২.৫ মি. গ্রা. গ্রহীতাকে অপারেশনের জন্য টেবিলে শোয়ানোর পর ৩টি ঔষধ এক সাথে একটি ৫ মি.লি. স্টেরাইল ডিসপোজেবল সিরিঞ্জে নিয়ে ককটেল তৈরি করে শিরার মধ্যে ধীরে ধীরে দিতে হবে। অর্ধেক ইনজেকশন দেয়ার পর ১-২ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে এবং লক্ষ্য করতে হবে যে রোগীর শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনরকম অসুবিধা হচ্ছে কিনা। * যে সব গ্রহীতার ওজন ৭৫ পাউন্ড (৩৪ কেজি) বা তার চেয়ে কম, তাদের অর্ধেক ডোজ দিতে হবে। টিউবেকটমি শুরুর আগে করণীয় • গ্রহীতাকে চিৎ করে অপারেশনের টেবিলে শোয়াতে হবে • অপারেশনের স্থানের চামড়া পরিষ্কার করার পূর্বেই সার্জনকে গ্রহীতা প্রস্রাব করেছেন কিনা তা জিজ্ঞাসা করে ও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। যদি মূত্রাশয় পূর্ণ থাকে, তবে প্রস্রাব করাতে হবে বা ক্যাথেটার দিয়ে মূত্রথলি খালি করতে হবে। অন্যথায় অপারেশনের সময় মূত্রাশয়ে আঘাত লাগতে পারে অপারেশনের স্থানে প্রস্তুতি • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপের সাহায্যে জীবাণুমুক্ত তুলার বল বা গজ পভিডন আয়োডিন সলিউশনে ডুবিয়ে কমপক্ষে ৩ বার অপারেশনের স্থান পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার নিয়ম হবে অপারেশনের স্থান থেকে চক্রাকারে বাহিরের দিকে (চিত্র-১) • পরিষ্কার করার পর জীবাণুমুক্ত অ্যাবডোমিনাল বা টিউবেকটমি শিট দিয়ে অপারেশনের স্থানের চতুর্দিক ঢেকে দিতে হবে স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ ও তার প্রয়োগ • অপারেশনের স্থানটি ১% লিডোকেইন ইনজেকশন দিয়ে স্থানীয়ভাবে অবশ করতে হবে যাতে অপারেশনের সময় গ্রহীতা কোনো ব্যথা না পান • পিউবিক সিমফাইসিসের উপরের সীমানা থেকে দু'আঙ্গুল/১ ইঞ্চি বা ২-২.৫ সে.মি উপরে শরীরের মাঝ রেখা বরাবর ঠিক চামড়ার নীচে শূন্য (০) ডিগ্রি কোণে ইনজেকশনের সুঁচ ঢুকিয়ে সুচটিকে ১ ইঞ্চি বা ২-২.৫ সে.মি. পরিমাণ ডানে-বাঁয়ে, উপরে-নীচে ঘুরিয়ে ত্বকের নীচে ৫-৬ মি.লি. লিডোকেইন দিতে হবে। তারপর ৪৫ ডিগ্রি কোণে ভিতরে সূঁচ ঢুকিয়ে ৩-৪ মি.লি. লিডোকেইন রেকটাস শিথে দিতে হবে (চিত্র-২) • প্রসবোত্তর ও গর্ভপাত পরবর্তী টিউবেকটমি করতে হলে জরায়ুর উপরের অংশ (Fundus) থেকে ১ সে.মি. (বা ০.৪ ইঞ্চি) নীচে সূঁচ ঢুকিয়ে উপরোক্ত নিয়মে স্থানীয় অবশকরণের ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে (চিত্র-৩) • সর্বশেষে ৯০ ডিগ্রি কোণে সূঁচ ঢুকিয়ে ২-৩ মি.লি. লিডোকেইন পেরিটনিয়ামে দিতে হবে • লিডোকেইন ত্বকের নীচে টিস্যু, ফাসা, সাব-ফাসা ও পেরিটোনিয়ামে অনুপ্রবেশ করানো হয়। অনুপ্রবেশের ২/৩ মিনিট পর অপারেশন শুরু করতে হবে। টিউব এবং জরায়ুর উপরেও লিডোকেইন ছড়িয়ে দিতে হয় মিনিল্যাপ টিউবেকটমি অপারেশনের জন্য ১% লিডোকেইন (এপিনেফ্রিন ছাড়া) ৫ মি.গ্রা./কেজি অথবা ২ মি. গ্রা./পাউন্ড ব্যবহার করা হয়। এপিনেফ্রিন বা অ্যাাড্রিনালি ছাড়া লিডোকেইনের কার্যকারিতা শুরু হতে ৩-৪ মিনিট সময় লাগে এবং অবশকরণ ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বজায় থাকে। অবশকরণের কার্যকারিতা নির্ভর করে কোন স্তরে স্থানে এটা প্রয়োগ করা হয়েছে তার উপর। লিডোকেইন সাধারণত চামড়া অপেক্ষা মাংসপেশিতে ভাল শোষিত (absorption) হয় এবং চামড়ার নিচের টিস্যুতে আম কম শোষিত হয়। একই পরিমাণে পেরিটোনিয়াম দ্বারা শোষিত হয়। অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগ পদ্ধতি মিনিল্যাপ অপারেশনে দুই পদ্ধতিতে স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগ করা হয়। ফ্যান আকৃতির বা ডায়মন্ড আকৃতি পদ্ধতি। দু'টি পদ্ধতিই গ্রহণযোগ্য। সার্জনের সুবিধা বা প্রশিক্ষণের উপর নির্ভর করে যে কোন পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। জীবাণুমুক্ত উপায়ে ১% লিডোকেইন (এপিনেফ্রিন ছাড়া) ১৫-২০ মি. লি., ২টি ১০ মি. লি. সিরিঞ্জ নিতে হবে। তবে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গ্রহীতার অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগে তার কোনো অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন এর ইতিহাস আছে কিনা জানতে হবে।। ফ্যান আকৃতি পদ্ধতিতে স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগ গ্রহীতাকে বলতে হবে যে তার চামড়া অবশ করার জন্য এক ধরনের। ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে এবং শুধু সুঁচ ঢোকানোর জন্য ব্যথা পাবে। অপারেশনের জন্য নির্দেশিত কাটার স্থানের এক প্রান্ত দিয়ে চামড়ার ভিতরে সম্পূর্ণ সুঁচ ঢুকাতে হবে। সুঁচ সম্পূর্ণ ঢোকানোর পর ঔষধ প্রয়োগের পূর্বে আন্তে পিস্টন পেছনে করে টেনে রক্ত আসছে কিনা দেখে নিশ্চিত হতে হবে যে ঔষধ শিরায় প্রবেশ করেনি। সূঁচ বের করার আগে। যতটুকু জায়গা কাটা হবে তাতে ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। পরের ধাপগুলো চামড়ার সাথে ৩০ ডিগ্রি, ৬০ ডিগ্রি এবং ৯০ ডিগ্রি কোণে ঢুকালে ফ্যান আকৃতি তৈরি হবে। পেটের পেরিটোনিয়াম পর্যন্ত সকল স্তর অবশ হয়েছে নিশ্চিত করতে হবে। (চিত্র: ৬) এরপর ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করে টুথ ডিসেকটিং ফরসেপ এর সাহায্যে চিমটি দিয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হবে। যদি অবশকরণ ভালো না হয় তাহলে আরও ঔষধ প্রয়োগ করতে হবে। সিরিঞ্জের অবশিষ্ট লিডোকেইন পেরিটোনিয়াম, ডিম্বনালি ও মেসোসালফিংস-এর উপর প্রয়োজনে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য রাখতে হবে। ডায়মণ্ড আকৃতি পদ্ধতি গ্রহীতাকে বলতে হবে ব্যথা কমানোর জন্য তাকে একটি ইনজেকশন দেয়া হচ্ছে। প্রথমে একটু ব্যথা পাবে এবং ঔষধ শরীরে প্রবেশের সময় জ্বালাভাব অনুভব করতে পারে। ইনসিশনের জায়গায় মাঝখানে চামড়ার টিস্যুতে সুচটিকে শূন্য ডিগ্রি কোণে ১.৫ ইঞ্চি ঢুকাতে হবে। পিস্টন ধীরে ধীরে পেছনে টেনে নিশ্চিত করতে হতে হবে যে ঔষধ শিরায় প্রবেশ করেনি। ১-১.৫ মি.লি. ১% লিডোকেইন (এপিনেফ্রিন ছাড়া) দেয়ার সময় ধীরে ধীরে সূঁচ বের করতে হবে। ইনসিশনের জায়গা থেকে ডানে, বামে, উপরে এবং নিচে একই নিয়মে চামড়ায় ঔষধ দিতে হবে যা ডায়মন্ড আকৃতি নির্দেশ করে। চামড়ার ভিতর ৫-৬ মি.লি. ঔষধ দেয়া হয়। চারদিকে ৪৫ ডিগ্রি কোণে সুঁচ ঢুকিয়ে ৩-৪ মি.লি. ঔষধ সবশেষে রেকটাস শিথে দিতে হবে। সবসময় নিশ্চিত হতে হবে সুঁচ শিরায় প্রবেশ করেনি। এরপর ইনশিসনের জায়গায় ৯০ ডিগ্রি কোণে সুঁচ ঢুকিয়ে ২-৩ মি.লি. লিডোকেইন পেরিটোনিয়ামে প্রয়োগ করতে হবে। ভালভাবে অবশের জন্য ১২-১৫ মি.লি. ১% লিডোকেইন প্রয়োজন হয়। কার্যকারিতার জন্য কমপক্ষে ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। টুথ ডিসেকটিং ফরসেপ এর মাথা দিয়ে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে হয়। প্রয়োজনে পেরিটোনিয়াম, ডিম্বনালি ও মেসোসালফিংস-এ দেয়ার জন্য সিরিঞ্জের অবশিষ্ট ঔষধ ব্যবহার করা হয়। ইনসিশন ও পেটের ভিতরে প্রবেশ ইন্টারভ্যাল পদ্ধতি • স্থানীয় অবশকরণের ইনজেকশন দেয়ার পর ৩-৪ মিনিট অপেক্ষা করে চামড়ায় ইনসিশন দিতে হবে। ইনসিশন শুরু করার আগে ফরসেপ দিয়ে চামড়ায় চিমটি কেটে দেখে নিতে হবে গ্রহীতা ব্যথা পান কিনা। অর্থাৎ অবশকরণ ইনজেকশনের কাজ শুরু হয়েছে কিনা • সিমফাইসিস পিউবিসের উপরের সীমানা থেকে ১ ইঞ্চি বা ২-২.৫ সে.মি. (দু'আঙ্গুল) উপরে আড়াআড়িভাবে চামড়া কাটতে হবে। সাধারণত ১-১.৫ ইঞ্চি বা ২.৫-৩.৫ সে.মি.-এর বেশি কাটার প্রয়োজন হয় না • চামড়া কাটার পরে রিট্রাক্টরের সাহায্যে চামড়ার নীচের চর্বি ও সাব-কিউটেনিয়াস টিস্যুগুলো উপরে-নিচে সরিয়ে দিতে হবে যাতে চকচকে রেকটাস শিথ দেখা যায়। এক্ষেত্রে ২টি রিট্রাক্টর ব্যবহার করা উত্তম। শুধুমাত্র একটি রিট্রাক্টর ব্যবহার করলে রিট্রাক্টর দিয়ে নিচে টানলে পেরিটনিয়াম কাটার সময় মূত্রথলি কেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। রেকটাস শিথের ইনসিশনের স্থান উপরে বা নিচে সরে যেতে পারে। সেলাই না করা পর্যন্ত আর্টারি ফরসেপ দিয়ে রেকটাস শিথের উপরের এবং নিচের অংশ ধরে রাখতে হবে। রেকটাস শিখের নিচে রেকটাসের দুইদিকে অ্যাবডোমিনিস মাংসপেশি থাকে। রেকটাস শিথে থেকে এই মাংসপেশিকে সাবধানে আলাদা করতে হবে। কারণ এখানে ইনফেরিয়র এপিগ্যাস্ট্রিক আর্টারিতে আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে • এরপর মাঝ বরাবর রেকটাস মাংসপেশিকে আঙুল দিয়ে বা বিপি হ্যান্ডেলের গোড়া দিয়ে দুই পাশে লম্বালম্বিভাবে ফাঁক করতে হবে। রেকটাস অ্যাবডোমিনিস মাংসপেশির ফাঁক দিয়ে সাদা ঝিল্লির মত পেরিটোনিয়াম দেখা যাবে • রেকটাস মাংসপেশীর ফাঁকের মধ্য দিয়ে আর্টারি ফরসেপের সাহায্যে পেরিটোনিয়ামকে আলতোভাবে ধরে টেনে উপরে উঠাতে হবে এবং নিশ্চিত হতে হবে যে আর্টারি ফরসেপে পেরিটোনিয়াম ছাড়া অন্য কিছু ধরা পড়েনি। প্রয়োজনে আরও ১-২ মি.লি. লিডোকেইন পেরিটোনিয়ামে দিতে হতে পারে • পেরিটোনিয়ামকে বাইরে টেনে তুলে আনার পর নিশ্চিত হতে হবে যে, পেরিটোনিয়ামের সাথে অস্ত্র বা মূত্রথলি ধরা পড়েনি। এটি নিশ্চিত হবার পর ছুরির সবচেয়ে প্রশস্ত অংশ দিয়ে পেরিটোনিয়ামের মধ্যে একটা ছিদ্র করতে হবে। পেটের ভিতরে সাধারণত কোনো চাপ থাকে না। পেরিটোনিয়ামে ছিদ্র করা মাত্রই বাইরে থেকে বাতাস পেটের মধ্যে ঢুকে যায়। এর ফলে পেরিটোনিয়াম ফুলে আরও উপরে উঠে আসে • পেরিটোনিয়ামের ছিদ্রটিকে আড়াআড়িভাবে আরও বড় করতে হবে যাতে ১টি বা ২টি আঙুল ছিদ্রের ভিতর দিয়ে পেটের ভিতরে ঢুকানো সম্ভব হয়। সিরিঞ্জের সুঁচ খুলে নিয়ে ২-৩ মি.লি. লিডোকেইন ডিম্বনালির দুই দিকের এলাকায় ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিতে হবে। পেরিটোনিয়ামের কাটা অংশ প্রয়োজন অনুযায়ী একটি বা তার বেশি আর্টারি ফরসেপের সাহায্যে ধরে রাখতে হবে প্রসব পরবর্তী মিনিল্যাপ পদ্ধতি • প্রসব পরবর্তী সময়ে জরায়ুর আকার বড় থাকে এবং সাধারণত নাভি বরাবর থাকে। তখন উপরের অংশ (ফান্ডাস) থেকে ২-২.৫ সেমি বা ১ ইঞ্চি নিচে ইনশিসন দিতে হবে এবং আনুমানিক ১.৫-৩ সে.মি. লম্বা পরিমাণ চামড়া আড়াআড়িভাবে শুধুমাত্র এপিডারমিস পর্যন্ত কাটতে হবে • কেলি ফরসেপ বা আর্মি নেভি রিট্রাক্টর দিয়ে ব্লান্টভাবে চামড়ার নিচের চর্বি ব্যবচ্ছেদ করতে হবে। খুব নরম এবং সঠিকভাবে করতে হবে যাতে টিস্যু আঘাত না পায় বা কোন রক্তক্ষরণ না হয়। কোন রক্তনালি দিয়ে রক্তক্ষরণ হলে প্রয়োজনে তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে • চামড়ার নিচের চর্বি ব্যবচ্ছেদ করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত নীচের রেকটাস শিথ দেখা না যায় এবং রিট্রাক্টর দিয়ে অনাবৃত করতে হবে। প্রসব পরবর্তী মহিলাদের নাভির চারিদিকে পেটের দেয়াল খুবই পাতলা থাকে। সুতরাং ব্যবচ্ছেদ করার সময় খুবই সাবধানে করতে হবে যাতে নিচের অঙ্গসমূহে কোন আঘাত না লাগে। • অপারেশন টেবিলকে পায়ের দিকে একটু উঁচু করে উঠিয়ে (২০০ বা তার কম) এলিস ফরসেপ দিয়ে রেকটাসকে ইনসিশনের মাঝ বরাবর স্থানে ধরতে হবে এবং ধীরে ধীরে আড়াআড়িভাবে কাঁচি দিয়ে কাটতে হবে। এই কাটা অংশ দিয়ে ডানে এবং বামে দুই দিকে চামড়া কাটা পর্যন্ত একটু একটু করে কাটা বাড়াতে হবে। রেকটাস শিথ এমনভাবে কেটে বাড়াতে হবে যেন তা চামড়ার কাটা অংশের চেয়ে বেশি হয় রেকটাস শিথের বিভিন্ন ধরনের বিন্যাসের কারণে নাভির নিচে রেকটাস শিথের মধ্যে কোন রেকটাস মাংসপেশি থাকে না। ফলে প্রসব পরবর্তী গ্রহীতাদের রেকটাস শিথ একটা স্তরেই থাকে ও নিচে পেরিটোনিয়াম থাকে। সুতরাং এখানে স্তরে স্তরে কাটার প্রয়োজন নাই। • রেকটাস শিথ কাটার পর পরই পেরিটোনিয়াম দেখা যাবে: যদি না দেখা যায় তবে তা শনাক্ত করতে হবে। পেরিটোনিয়াম শনাক্ত করে ফরসেপ দিয়ে দুই দিকে ধরে একটু উপরে তুলতে হবে। নিচের অঙ্গসমূহে আঘাত ঠেকানোর জন্য কোন দাঁতযুক্ত (Tooth forcep) যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। পেরিটোনিয়াম উপরে তুলে আনার সময় নিচের অঙ্গসমূহে যেন আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। তর্জনী এবং বৃদ্ধাঙ্গুল দিয়ে পেরিটোনিয়াম ধরে অনুভব করতে হবে যে ইনটেস্টাইন, মূত্রথলি ও ওমেন্টাম এর ভেতরে নেই। যখন নিশ্চিত হওয়া যাবে যে, ওগুলো পেরিটোনিয়ামের সাথে ধরা হয়নি, তখন কাঁচি দিয়ে পেরিটোনিয়ামে ছোট একটি ছিদ্র করতে হবে পেরিটোনিয়ামের সাথে ইনটেস্টাইন ধরা এড়ানোর জন্য গ্রহীতাকে জোরে শ্বাস নিতে বলতে হবে। পেরিটোনিয়াম কাটার আগে এর ভাঁজে ভাল করে দেখতে হবে বা অনুভব করতে হবে যে পেটের অন্যান্য অঙ্গসমূহ এর সাথে ধরা নেই। যখনই পেটের ভিতর প্রবেশ নিশ্চিত হবে তখন অপারেশন সহকারীকে আস্তে আস্তে পেটের দুই পাশে রিট্রাক্টর ঢুকিয়ে জরায়ু ও ডিম্বনালিকে অনাবৃত করতে হবে। এখান থেকেই টিউব কাটা ও বাঁধার আগ পর্যন্ত অপারেশন সহকারী অবশ্যই সার্জনের প্রয়োজন অনুযায়ী রিট্রাক্টর দিয়ে কাটা জায়গা খোলা রাখবে টিউব উপরে তুলে আনা ইন্টারভ্যাল পদ্ধতি • ফেলোপিয়ান টিউব তোলার পূর্বে অপারেশন টেবিলকে ট্রেনডেলবার্গ (পায়ের দিক উঁচু) করে নিলে অন্ত্রনালিগুলো উপরের দিকে সরে যায়। ফলে টিউব শনাক্তকরণ ও উপরে তুলতে সুবিধা হয় • পেরিটোনিয়ামের ছিদ্র দিয়ে তর্জনী অথবা তর্জনী এবং মধ্যমা তলপেটের মধ্যে ঢুকিয়ে সেখানে যেসব অঙ্গ আছে, সেসব অঙ্গসমূহ ভাল করে অনুভব ও চিহ্নিত করতে হবে। যদি জরায়ুর ফান্ডাস পিছন দিকে হেলানো (Retroverted) থাকে, তাহলে জরায়ুর ফান্ডাসের পিছনের দেয়ালে আঙ্গুল দিয়ে সামনের দিকে (Anteverted) ফিরিয়ে আনতে হবে • জরায়ুর ফান্ডাসের পিছনের দেয়ালে আঙ্গুল দিয়ে ডানে বা বাঁয়ে টিউব খুঁজতে হয়। টিউব আঙ্গুলে অনুভব হলে আঙ্গুলকে হকের মতো বানিয়ে টিউবের মাঝখানে ধরে বের করে আনতে হবে। টিউব ইনসিশনের কাছাকাছি দেখামাত্র ব্যাবকক ফরসেপ দিয়ে ধরে হুক করে রাখতে হবে। একইভাবে অন্যপাশের টিউবকে বের করে এনে ধরতে হবে • অনেক সময় শুধুমাত্র তর্জনী দিয়ে টিউব বের করে আনতে অসুবিধা হয়। সেক্ষেত্রে তর্জনী এবং মধ্যমা এ দুটি আঙ্গুল ভিতরে ঢুকাতে হবে এবং টিউবের দু'পাশে দুটি আঙ্গুল রেখে টিউবকে চেপে ধরে বের করে আনতে হয় প্রসব পরবর্তী মিনিল্যাপ পদ্ধতি প্রসব-পরবর্তী মিনিল্যাপ পদ্ধতিতে ফেলোপিয়ান টিউব বের করার ক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা হল প্রসবের পর চামড়া খুব ঢিলে থাকে এবং সহজে নাড়নো যায়। রিট্রাক্টর একপাশে টানার পাশাপাশি পেটের দেয়ালে বিপরীত দিকে চাপ দিয়ে কাটা অংশে এনে সহজেই টিউব ধরা যায়। • গ্রহীতাকে জোরে শ্বাস নিতে বলতে হবে এবং রিট্রাক্টর দিয়ে ইনটেস্টাইনকে আস্তে করে সরিয়ে দিয়ে টিউব দেখতে হবে • পেটের একপাশ থেকে নরমভাবে জরায়ুকে চাপ দিয়ে করনু (Cornu) নাভির দিকে আনতে হবে যাতে টিউব কাটা স্থানে চলে আসে। একই সময় অপারেশন সহকারী রিট্রাক্টর করনুর দিকে আনলে টিউব দেখা যাবে এবং সহজে ধরা যাবে • যখনই টিউব দেখা যাবে তখনই সাবধানে ব্যাবকক ফরসেপ দিয়ে ধরতে হবে • যদি টিউব না দেখা যায়, ব্যাবকক/প্লেইন ডিসেকটিং ফরসেপ দিয়ে কাটা অংশে নিয়ে আসতে হবে। টিউবেকটমি অপারেশনে টিউবাল ছক ও ইউটেরাইন এলিভেটরের ব্যবহার ফেলোপিয়ান টিউব তোলার জন্য আঙ্গুলের পরিবর্তে টিউবাল হুক ও ইউটেরাইন এলিভেটর ব্যবহার করা হয়। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি। ইউটেরাইন এলিভেটর যোনিপথ দিয়ে জরায়ুর ভিতরে প্রবেশ করিয়ে জরায়ুকে উপরে তুলে ডানে বা বায়ে ঘোরানো যায়। এর ফলে টিউবকে ইনসিশনের নিকটে আনা যায়। ফলে টিউবটি সহজে চেনা যায় এবং টিউবাল হুক দিয়ে সহজে ধরা যায়। এই পদ্ধতির অপারেশনে ছোট ইনসিশনের প্রয়োজন হয়, গ্রহীতা কম ব্যথা অনুভব করে, জটিলতা কম হয় এবং সাশ্রয়ী। টিউব শনাক্তকরণ ও নিশ্চিতকরণ • যে পদ্ধতিতেই অপারেশন করা হোক না কেন, এটা নিশ্চিত হতে হবে যে, শুধু টিউবগুলোকেই উপরে উঠানো হয়েছে। টিউবের মত রাউন্ড লিগামেন্ট অনেক সময় ভুলবশত বেরিয়ে আসে। টিউব এবং রাউন্ড লিগামেন্টের মধ্যে পার্থক্য ধরা সহজ। টিউবের শেষ অংশটুকু (Fimbria) হাতের আঙুলের মতো ছড়ানো থাকে। প্রত্যেক টিউবের শেষ অংশটুকু দেখে তারপর টিউব বাঁধা ও কাটা উচিত টিউব বাঁধা ও কাটা • মডিফাইড পমেরয় পদ্ধতিতে টিউব বাঁধা ও কাটা হয়। টিউব তুলে এনে টিউবের অ্যাম্পুলা ও ইসথমাস-এর সংযোগ স্থলে (Ampulary-isthmic junction) ভিক্রিল থ্রেড/১-০ ক্রমিক ক্যাটগাট দিয়ে এমনভাবে বাঁধতে হবে যাতে এই অংশে ১.৫ সে.মি. টিউবের লুপ থাকে। টিউব বাঁধার জন্য প্রথমে মেসোসালফিংস-এর রক্তনালি নেই এমন স্থানে প্রবেশ করিয়ে প্রথম নটটি জরায়ুর দিকে দিতে হবে যাতে এটি স্থিতিশীল হয় এবং তারপর টিউবের দুই পাশ একত্রে ৩টি নট দিতে হবে। টিউব বাঁধার স্থান থেকে উপরের অংশের ১.০ সে.মি. এর কম পরিমাণ লুপের অংশ কেটে ফেলে দিতে হবে। এতে ডিম্বনালি পথের ধারাবাহিকতা বন্ধ হয়ে যাবে। ডিম্বনালি বাঁধা ও কাটার আগে অবশ্যই নিশ্চিত হবে যে এটা ফেলোপিয়ান টিউব • টিউব ক্রাশ করা যাবে না। কারণ সেক্ষেত্রে টিস্যুর পচন হতে পারে। ফলে ফিস্টুলা হয়ে নতুন নালিপথের সৃষ্টি হতে পারে এবং এতে ব্যর্থতার হার বৃদ্ধি পাবে • ডিম্বনালি কাটা অংশ দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে কি না এটা নিশ্চিত হয়ে ডিম্বনালিকে পূর্বের অবস্থানে ছেড়ে দিতে হবে এবং রক্তপাত নেই নিশ্চিত হওয়ার পর ক্যাটগাট কাটতে হবে • একই নিয়মে দ্বিতীয় টিউবটিকেও তুলতে হবে এবং বাঁধতে এবং কাটতে হবে অপারেশনের স্থান বস্তু করা • ক্ষত বন্ধ করার পূর্বে কোথাও কোন রক্তপাতের উৎস আছে কিনা সে বিষয়ে খুবই সতর্ক হতে হবে • পেরিটোনিয়াম বন্ধ করা বাধ্যতামূলক নয়। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, পেরিটোনিয়াম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনা-আপনি জোড়া লেগে যায় • ডিক্রিল থ্রেড বা ১-০ ক্যাটগার্ট দিয়ে রেকটাস শিথকে ধারাবাহিকভাবে সেলাই দিয়ে বন্ধ করতে হবে। • ভিগ্রিল থ্রেড বা সিদ্ধ বা ১-০ ক্রমিক ক্যাটগাট দিয়ে আলাদা আলাদা চামড়া কাটার স্থান বন্ধ করতে হবে অপারেশনের স্থান ড্রেসিং করা • সেলাই দেওয়ার পর রক্তপাতের উৎস আছে কিনা পরীক্ষার পর কাটা স্থান পরিষ্কার করে ড্রেসিং করতে হবে • ড্রেসিং করার জন্য ১০ সে.মি. x ১০ সে.মি. সাইজের স্টেরাইল ড্রেসিং মেট্রিক্স (ইলাস্ট্রোমেরিক ড্রেসিং) ব্যবস্থা করা যায়। এই ড্রেসিং মেট্রিক্স ব্যবহার করলে কোনো জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং গজের প্রয়োজন হয় না এবং ভিতরে পানি ঢুকতে পারে না। ফলে গ্রহীতা নিয়মিতভাবে গোসল করতে পারবেন। যদি ড্রেসিং মেট্রিক্স সরবরাহ না থাকে সেক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে ঢেকে অ্যাডহেসিভ টেপ (Elastopore) দিয়ে আটকে দিয়েও ড্রেসিং করা যাবে অপারেশন শেষ করা • গ্রহীতার অপারেশন ভালোভাবে শেষ হয়েছে তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে ও আশ্বস্ত করতে হবে • অপারেশন শেষ করার সাথে সাথেই ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে বা ধুয়ে ফেলতে হবে • দুই হাতের গ্লাভস খুলে বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলে দিতে হবে • হাত ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে অপারেশনের সকল তথ্য ফরমে লেখা হয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে এবং লিপিবদ্ধ না হয়ে থাকলে লেখার ব্যবস্থা নিতে হবে • অপারেশন পরবর্তী ব্যবস্থাপত্র ফরমে লিখে দিতে হবে এবং কোনো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে • গ্রহীতার ভাইটাল সাইন (নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ) পরীক্ষা করতে হবে • ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে এবং অপারেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর দিয়েছে কি না পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং স্বাক্ষর না করে থাকলে স্বাক্ষর করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে টিউবেকটমি গ্রহীতার মনিটরিং অপারেশন পূর্ববর্তী মনিটরিং ডায়াজিপাম খাওয়ার পর হতে অপারেশন শুরুর পূর্ব পর্যন্ত এই সময়ের মধ্যে গ্রহীতার ভাইটাল সাইন পর্যবেক্ষণ করে "পরিবার পরিকল্পনা স্থায়ী পদ্ধতি, গ্রহণেচতুর পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতিপত্র" ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে লিখতে হবে। অপারেশন চলাকালীন মনিটরিং • অপারেশন চলাকালীন ভাইটাল সাইন পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং মনিটরিং ছকে লিখতে হবে • অপারেশনের সময় গ্রহীতা সজাগ থাকেন। কাজেই গ্রহীতার সাথে কথা বলা মনিটরিং-এর একটি প্রধান অংশ। এ সময়ে গ্রহীতা মানসিক চাপে থাকেন। গ্রহীতার সাথে কথা বললে এবং তাকে আশ্বস্ত করলে গ্রহীতার ভয় ও দুশ্চিন্তা দূর হবে এবং গ্রহীতাও অপারেশনে সহযোগিতা করবেন। এছাড়া গ্রহী তা কেমন আছে তাও ভালভাবে বোঝা যাবে। অপারেশন পরবর্তী মনিটরিং অপারেশনের শেষে গ্রহীতাকে অপারেশন পরবর্তী পরিচর্যা কক্ষে শোয়ানোর পর ১ ঘণ্টা ও ৩ ঘণ্টা পর বা প্রয়োজন অনুযায়ী আরো ঘন ঘন গ্রহীতার ভাইটাল সাইনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং রেকর্ড করতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত গ্রহীতা আগের অবস্থায় ফিরে না আসে এবং অবশকরণ অবস্থা সম্পূর্ণ কেটে না যায়। কোনো প্রকারের জটিলতা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসককে জানাতে হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত মনিটরিং-এর তথ্য লিপিবদ্ধ করার জন্য অতিরিক্ত শীট ব্যবহার করতে হবে। অপারেশন পরবর্তী যত্ন • একজন সাহায্যকারীর সহায়তায় (আয়া, মহিলা মাঠকর্মী) গ্রহীতাকে অপারেশন কক্ষ থেকে যত্ন সহকারে অপারেশন পরবর্তী পরিচর্যা কক্ষ আনতে হবে এবং গ্রহীতা যেন বিশ্রাম নিতে পারেন সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে • আবহাওয়া অনুযায়ী গ্রহীতাকে এমনভাবে রাখতে হবে যেন গ্রহীতা আরাম বোধ করেন। যেমন-শীতকালে কম্বল বা গরম কাপড়ের ব্যবস্থা করা, গরমের দিনে ফ্যান বা হাত পাখার ব্যবস্থা করা • ইনজেকশন পেথেডিন দিলে বমি বমি ভাব হয়। যতক্ষণ এই বমি বমি ভাব না যায়, ততক্ষণ গ্রহীতাকে কোন পানীয় দেয়া উচিত নয় • বমি বমি ভাব না থাকলে গ্রহীতাকে তরল বা নরম খাবার দিতে হবে • অপারেশনের পর গ্রহীতাকে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে, যেমন- ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল এবং বমির জন্য প্রোমেথাজিন বড়ি * গ্রহীতা যতক্ষণ ছাড়া না পায় ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহীতার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। যেসব বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে তা হলো: - ভাইটাল সাইন - যোনিপথে অস্বাভাবিক স্রাব - অপারেশন স্থান ভিজা বা রক্তপাত - অবশকরণের অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা - কোন প্রকার ব্যথা - পেট ফেঁপে ওঠা (Abdominal Distention) • যে কোন অস্বাভাবিক অবস্থার জন্য একজন চিকিৎসককে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে • গ্রহীতার ঝিমুনিভাব কেটে গেলেই তাকে হাঁটতে উৎসাহ দিতে হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে অপারেশনের ৩-৪ ঘণ্টা পর গ্রহীতা বাড়ি চলে যেতে পারেন গ্রহীতাকে সেবাকেন্দ্র হতে ছেড়ে দেয়া গ্রহীতা কখন বাড়ি যেতে পারবেন তা নির্ভর করবে অপারেশনকারী চিকিৎসক বা কর্তব্যরত চিকিৎসকের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনটি সাধারণ পরীক্ষার মাধ্যমে গ্রহীতার মধ্যে অবশকরণ ঔষধের প্রতিক্রিয়া আছে কি নেই তা বোঝা যায়। একজন গ্রহীতা যখন ঠিকমত নিম্নের তিনটি কাজ করতে পারবেন তখনই তাকে বাড়ি যেতে দেয়া উচিৎ। পরীক্ষাগুলো হলো- • অন্যের সাহায্য ছাড়াই চোখ বন্ধ করে দাঁড়াতে পারছেন। • অন্যের সাহায্য ছাড়াই হাঁটতে পারছেন এবং নিজে নিজের কাপড় পরতে পারছেন • স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন • এছাড়াও যে বিষয়গুলো দেখা হয় অপারেশনের স্থান শুকনা আছে এবং যোনিপথ হতে রক্ত বের হচ্ছে না - গ্রহীতা একা টয়লেটে যেতে পারছেন/প্রস্রাব হয়েছে - বাড়িতে যাওয়ার জন্য গ্রহীতার সাথে একজন সঙ্গী আছেন। গ্রহীতাকে সেবাকেন্দ্র হতে ছেড়ে দেয়ার সময়ের কাউন্সেলিং • প্রথম ২ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে। • তিন সপ্তাহ কোনো ভারি কাজ করা যাবে না। হালকা কাজ তাড়াতাড়ি শুরু করা যাবে। তিন সপ্তাহ পর্যন্ত পেটে যেন চাপ না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে • নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মি.গ্রা. প্রতিদিন ১টি করে ট্যাবলেট আহারের আধাঘণ্টা পূর্বে পর পর দুই দিন খেতে হবে অথবা সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৫০০ মি.গ্রা. দিনে দুইবার পর পর দুইদিন খেতে হবে ৫০০ মি.গ্রা. প্রতিদিন তিনবার ৫ • ব্যথার জন্য আইবুপ্রোফেন ৪০০ মি.গ্রা বড়ি প্রতিদিন ২ বার ভরা পেটে ৫ দিন অথবা প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিন ভরা পেটে খেতে হবে। অন্যান্য ঔষধ নিয়মিত খেতে হবে • ইলাস্ট্রোমেরিক ড্রেসিং থাকলে গোসলে কোনো অসুবিধা নেই তবে ড্রেসিং-এর স্থান ঘষামাজা করা যাবে না স্বাচ্ছন্দ্যের উপর নির্ভর করে • সাধারণত অপারেশনের ১৫দিন পর থেকে সহবাস করা ভাল। কিন্তু তা গ্রহীতার • সেলাই না কাটা পর্যন্ত- - অপারেশন স্থানে যাতে হাত, পানি, বাচ্চার প্রস্রাব না লাগে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে - স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন। দুধ, মিষ্টি এবং টকসহ অন্য কোনো খাবারে খাওয়াতে কোনো নিষেধ নেই • ৭-১০ দিন পর সেলাই কাটার জন্য সেবা কেন্দ্রে আসতে বলতে হবে • ক্ষতস্থানে সামান্য ব্যথা হতে পারে ও ইলাস্ট্রোমেরিক ড্রেসিং ব্যবহার করলে ২/৩ দিন পর ড্রেসিং-এর নিচে ক্ষতের ওপর পুঁজের মতো কিছু জমা হতে দেখা যায়, যা স্বাভাবিক। এর জন্য দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। • কোনো জটিলতা দেখা দিলে সেবাকেন্দ্রে আসতে হবে কার্ড বিতরণ টিউবেকটমি অপারেশনের পর নির্ধারিত কার্ডটি যথাযথভাবে পূরণ করে গ্রহীতাকে সরবরাহ করতে হবে এবং বিষয়সমূহ ভালোভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে। কার্ডটি সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে ফলো-আপের সময় সাথে আনার জন্য বলতে হবে। যে সমস্ত কারণে পরিবার কল্যাণ কর্মীর সাথে বা নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে • এক সপ্তাহের মধ্যে জ্বর (৩৮ ডিগ্রি সে. বা ১০০.৪ ডিগ্রি ফা.-এর বেশি) • অপারেশনের স্থানে প্রচণ্ড ব্যথা হলে • অপারেশনের স্থান দিয়ে পুঁজ বা রক্ত পড়লে • অপারেশনের স্থান ফুলে গেলে • তলপেটে খুব ব্যথা হলে • মুখ খুলতে বা হা করতে অসুবিধা হলে অথবা চোয়াল লেগে গেলে ফলো-আপ ভিজিট • মিনিল্যাপ টিউবেকটমি অপারেশনের ৭-১০ দিন পর সেলাই কাটার জন্য সেবাকেন্দ্রে আসতে বলতে হবে • প্রয়োজন হলে বাড়তি ফলো-আপ ভিজিটে আসতে হবে পুরুষ স্থায়ী পদ্ধতি ভ্যাসেকটমি অন্যান্য অনেক দেশের মত বাংলাদেশেও বিগত ৬০ দশকের শেষ দিক হতে ভ্যাসেকটমি জন্মবিরতিকরণের স্থায়ী পদ্ধতি হিসাবে জাতীয় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হয়। ১৯৭৪ সালে চীনের ডাঃ লি শাং কিয়াং এনএসডি (No Scalpel Vasectomy) পদ্ধতি এবং এর প্রয়োজনীয় যন্ত্র দুটি উদ্ভাবন করেন। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশে এনএসভি অপারেশন চালু হয়। ২০০১ সাল হতে স্থায়ী পদ্ধতি কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে এনএসভি পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে নতুনভাবে যুক্ত হয়। বর্তমানে এনএসভি পদ্ধতিতে ভ্যাসেকটমি করার ফলে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভ্যাসেকটমির অপারেশন দুইভাবে করা হয় ১. ইনসিশনাল বা সনাতন পদ্ধতি (Incisional or Conventional technique): এই পদ্ধতিতে সার্জিক্যাল ব্লেডের সাহায্যে অণ্ডথলির দুই পাশে ২টি বা মাঝরেখা বরাবর (median raphe) একটি ইনসিশন দিয়ে শুক্রবাহী নালি বের করে এনে কিছু অংশ বেঁধে কেটে ফেলে দেয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। . এমএসভি (No Scalpel Vasectomy) বা ছুরিবিহীন ভ্যাসেকটমি ২ এই পদ্ধতিতে ছুরি বা সার্জিক্যাল ব্রেডের প্রয়োজন হয় না। সার্জিক্যাল ব্লেডের পরিবর্তে বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত সরু ও ধারালো ফরসেপের সাহায্যে অন্ডথলির মাঝরেখা বরাবর মাত্র একটি ছিদ্র করে উভয় পাশের শুক্রবাহী নালি বের করে এনে বেঁধে কেটে দেওয়া হয়। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য শুক্রবাহী নালির এক পাশ ফাসার ভিতর এবং অন্য পাশ ফাসার বাইরে রাখা হয়। ফলে কোনো সেলাই লাগে না এবং রক্তপাতও হয় না। এনএসভি যেভাবে কাজ করে শুক্রাণু পুরুষের অণ্ডকোষে তৈরি হয় এবং শুক্রবাহী নালি দিয়ে তা বীর্যথলিতে আসে ও জমা থাকে। বীর্যপাতের সময় শুক্রাণু বীর্যের সাথে বের হয়ে আসে। এই পদ্ধতিতে শুক্রবাহী নালির কিছু অংশ বেঁধে কেটে ফেলে দেওয়া হয়। এনএসভি পদ্ধতিতে ফ্যাসাল ইন্টারপজিশন করে শুক্রবাহী নালির এক প্রান্ত শিথের ভিতর এবং অন্য প্রান্ত শিথের বাহিরে রাখা হয়। এর ফলে অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু শুক্রবাহী নালি দিয়ে বীর্যথলিতে আসতে পারে না। ফলে বীর্যপাতের সময় শুধু বীর্য বের হয়, তাতে কোন শুক্রাণু থাকে না। স্ত্রীর ডিম্বাণুর সাথে শুক্রাণুর মিলন হয় না বলে গর্ভসঞ্চার হতে পারে না। কার্যকারিতা বা সফলতার হার ফ্যাসাল ইন্টারপজিশন করা হলে পরিবার পরিকল্পনার সকল পদ্ধতির মধ্যে ভ্যাসেকটমি সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ পদ্ধতি। অপারেশনের পর প্রথম বছরে শতকরা ০.১৫ জন অর্থাৎ প্রতি ৭০০ জন ভ্যাসেকটমি গ্রহীতার মধ্যে ১ জনের স্ত্রী গর্ভবতী হতে পারে। ভ্যাসেকটমি অপারেশনের পর তিন মাস পর্যন্ত অন্য কোনো কার্যকর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে প্রতি ১০০০ জন ভ্যাসেকটমি গ্রহীতার মধ্যে ১ জনের স্ত্রী গর্ভবতী হতে পারে (শতকরা ০.০১ জন)। ফ্যাসাল ইন্টারপজিশন না করা হলে ব্যর্থতার হার অনেক বেশি হতে পারে। এনএসভি বিফলতা বা এনএসভি গ্রহণের পর স্ত্রীর গর্ভধারণের কারণ • স্ত্রী পূর্বেই গর্ভবতী হয়ে থাকলে • অপারেশন পরবর্তী ৩ মাস পর্যন্ত পরিবার পরিকল্পনার অন্য কোনো কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার না করে স্ত্রীর সাথে সহবাস করে থাকলে • শুক্রবাহী নালির কেটে দেওয়া প্রান্ত দু'টি আপনাআপনি পুনঃসংযোজন বা জোড়া লেগে গেলে • ত্রুটিপূর্ণ অপারেশনের কারণে • ফ্যাসাল ইন্টারপজিশন না করা হলে বা সঠিকভাবে না করা হলে এনএসভি-র সুবিধা গ্রহীতার ক্ষেত্রে • স্থায়ী পদ্ধতি • অত্যন্ত নিরাপদ এবং কার্যকরী • এনএসভি পদ্ধতিতে চামড়া কাটা লাগে না। ফলে সেলাই করা প্রয়োজন হয় না। খুবই অল্প সময় লাগে (৫-৭ মিনিট) • অল্প সময়েই ক্ষত সেরে ওঠে • দীর্ঘমেয়াদি কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই • যৌন ও শারীরিক শক্তি কমে না এবং সহবাসের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয় না • পুরুষ হরমোন তৈরি বিঘ্নিত হয় না • অপারেশন পরবর্তী তেমন বিশ্রামের প্রয়োজন হয় না অসুবিধা • এ পদ্ধতি একবার গ্রহণ করলে আর সন্তান হবে না, তাই পদ্ধতি গ্রহণের পূর্বে চিন্তু ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন • পরবর্তীকালে গ্রহীতা সন্তান চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে পুনঃসংযোজন অপারেশনের প্রয়োজন হয়। এই অপারেশন খুবই জটিল, ব্যয়বহুল ও সহজপ্রাপ্য নয়। এই অপারেশনের সফলতার হার অনেক কম • খুব ছোট হলেও এটি একটি অপারেশন এবং কম হলেও কিছুটা ঝুঁকি আছে • সঙ্গে সঙ্গে কার্যকরী হয় না। কার্যকরী হতে কমপক্ষে ৩ মাস সময় লাগে। অপারেশনের পরবর্তী ৩ মাস গ্রহীতাকে কনডম ব্যবহার করতে হয় বা স্ত্রীকে অন্য কোন কার্যকর পদ্ধতি ব্যবহার করতে হয় • অপারেশনের জন্য সেবাকেন্দ্রে আসতে হয় • প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার ও সাহায্যকারীর প্রয়োজন হয় • যৌনরোগ ও এইডস্ প্রতিরোধ করে না বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে প্রস্তুতকৃত স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক উপযুক্ততা/অনুপযুক্ততার নির্দেশিকা ভ্যাসেকটমির কোনো নিশ্চিত প্রতিনির্দেশক নেই অর্থাৎ এমন কোনো স্বাস্থ্যগত অবস্থা বা শর্ত নেই, যার জন্য স্বেচ্ছায় ভ্যাসেকটমি গ্রহণেচ্ছুকে স্থায়ীভাবে বিরত রাখা যায় বা উচিত। তবে বিশেষ কিছু স্বাস্থ্যগত অবস্থার প্রেক্ষিতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে অথবা বর্তমান রোগাবস্থার উপশম না হওয়া পর্যন্ত অপারেশন বিলম্বিত করে বা উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন কোনো হাসপাতাল/ ক্লিনিকে রেফার করে অপারেশন সম্পাদন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়। D - delay (অপারেশন বিলম্বিত করা বা সাময়িক স্থগিত রাখা) নিম্নে বর্ণিত বর্তমান স্বাস্থ্যগত সমস্যার নিরসন বা রোগাবস্থা ভাল না হওয়া পর্যন্ত স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন স্থগিত রাখতে হবে। পুরুষদের স্থায়ী পদ্ধতি-ভ্যাসেকটমি স্বাস্থ্যগত/সামাজিক অবস্থা স্বাস্থ্যগত/ব্যাখ্যা/সাক্ষ্য-প্রমাণ/মন্তব্য অবস্থা স্থানীয় সংক্রমণ • অন্ডথলির ত্বকে সংক্রমণ বা প্রদাহ/ঘা থাকলে • বর্তমানে যৌনবাহিত সংক্রমণ থাকলে • বেলানাইটিস • এপিডিডাইমিটিস বা অন্ডকোষে প্রদাহ সংক্রমণের চিকিৎসা করতে হবে এবং পুরোপুরি ভাল না হওয়া পর্যন্ত ভ্যাসেকটমি বিলম্বিত করতে হবে। অন্যথায় অপারেশন-পরবর্তী সংক্রমণে আক্রান্তের ঝুঁকি অনেক বেশিমাত্রায় বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যাপক আকারে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যান্য সাধারণ বা বিশেষ সংক্রমণ, জ্বর, বা অন্ত্রের প্রদাহ (ডায়রিয়া/আমাশয়সহ) বিদ্যমান থাকলে অপারেশন পরবর্তী সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে। ফাইলেরিয়া গোদরোগ অন্ডথলি গোদরোগে আক্রান্ত হলে শুক্রকীটবাহী নালি বা অন্ডকোষকে হাত দিয়ে অনুভব করা অসম্ভব হতে পারে। S - special (বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ) নিম্নে বর্ণিত ক্ষেত্রে এমন কোনো ক্লিনিক/হাসপাতালে স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন সম্পাদন করতে হবে যেখানে অভিজ্ঞ সার্জন ও সাহায্যকারী স্টাফ এবং জেনারেল এ্যানেসথেসিয়াসহ যে কোন উদ্ভূত জরুরী অবস্থা মোকাবিলার সুবিধাদি বিদ্যমান আছে। পুরুষদের স্থায়ী পদ্ধতি-ভ্যাসেকটমি স্বাস্থ্যগত/সামাজিক অবস্থা ব্যাখ্যা/সাক্ষ্য-প্রমাণ/মন্তব্য ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য এবং প্রজনন ইতিহাস • সন্তান সংখ্যা: দুইজন জীবিত সন্তান আছে কিন্তু ছোট সন্তানের বয়স এক বছরের কম দুটি জীবিত সন্তান থাকলে স্বামী-স্ত্রী দুজনে বুঝে-শুনে সিদ্ধান্ত নিলেও ছোট সন্তানের বয়স প্রযোজ্য হবে না। রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত সমস্যা (রক্ত জমাট বাঁধতে দেরি হয়) যাদের রক্ত জমাট বাঁধা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে তাদের অপারেশনের পর হেমাটোমা হবার সম্ভাবনা বেশি এবং অধিক মাত্রায় সংক্রমণে আক্রান্তের ঝুঁকিও রয়েছে। এইচআইভি ও এইডস্ এইচআইভি/এইডস্ এর ক্ষেত্রে প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সেবাদানকারী সংক্রমিত হবার ঝুঁকি থাকবে। এইডস-সংশ্লিষ্ট কোন রোগ বিদ্যমান থাকলে এনএসভি বিলম্বিত করতে হবে। বড় ভেরিকোসিল শুক্রনালি (ভাস) চিহ্নিত করা কঠিন বা অসম্ভব হতে পারে। ভেরিকোসিল রিপেয়ার ও ভ্যাসেকটমি একইসাথে সম্পাদন করলে জটিলতার ঝুঁকি হ্রাস পাবে। বড় হাইড্রোসিল ভাস চিহ্নিত করা কঠিন বা অসম্ভব হতে পারে। হাইড্রোসিল রিপেয়ার ও ভ্যাসেকটমি একইসাথে সম্পাদন করলে জটিলতার ঝুঁকি কমে। গুপ্ত অন্ডকোষ (cryptorchidism) যদি ২টি অন্ডকোষই অন্ডথলিতে না থাকে কিন্তু প্রজনন ক্ষমতা আছে এমন ক্ষেত্রে শুক্রনালি নির্ণয় করতে ব্যাপক পর্যায়ে অপারেশন করতে হবে এবং এর শ্রেণী হবে S। যদি ১টি অন্ডকোষ অন্ডথলিতে থাকে এবং প্রজনন ক্ষমতা রয়েছে, সেক্ষেত্রে রুটিন অনুযায়ী স্বাভাবিক স্থানে ভ্যাসেকটমি করতে হবে। পরবর্তীতে স্পারমোগ্রাম করতে হবে। এরপরেও যদি দেখা যায় বীর্যে পূর্বের মত শুক্রকীট রয়েছে তাহলে অন্য শুক্রনালিটির অবস্থান বের করার জন্য আরও ব্যাপক পর্যায়ে অপারেশন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এর শ্রেণী বা ক্যাটাগরি হবে S কুঁচকিতে হানিয়া হার্নিয়ার অপারেশন ও. ভাসেকটমি একসাথে করা যেতে পারে। এনএসভি এর জন্য কাউন্সেলিং গ্রহীতা এনএসভি সম্পাদনের পূর্বে যথাসম্ভব সহজ ও সাবলীলভাবে কাউন্সেলিং করা অবশ্য করণীয়। এর উদ্দেশ্য হলো গ্রহীতার অবহিত সম্মতি নিশ্চিত করা এবং গ্রহীতাকে জন্মবিরতিকরণের সব পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য যেমন- সুবিধা ও অসুবিধা, স্থায়ী পদ্ধতির স্থায়িত্ব ও অপরিবর্তনীয়তা, পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা, ঝুঁকি, খোজাকরণের সাথে পার্থক্য, ফলো-আপ ইত্যাদি বিষয়ে তথ্য প্রদান করা। এতে গ্রহীতা কোন রকম ভয় বা প্রলোভন এড়িয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। এনএসডি একটি স্থায়ী পদ্ধতি এবং গ্রহীতা আর সন্তান চায় না এটি পুনরায় নিশ্চিত হতে হবে। গ্রহীতা বাছাইকরণ এবং অপারেশন পূর্ব মূল্যায়ন এনএসভি অপারেশনের পূর্বে সকল গ্রহীতাকে অবশ্যই মূল্যায়ন করতে হবে। এনএসভি কোন রোগের চিকিৎসা নয়, সুস্থ মানুষের জন্য পরিবার পরিকল্পনার একটি নির্বাচিত পদ্ধতি যা অপারেশনের মাধ্যমে সম্পাদন করা হয়। কাজেই ঝুঁকিপূর্ণ গ্রহীতাদের শনাক্ত করে সে অনুযায়ী অপারেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এনএসভি অপারেশনের পূর্বে গ্রহীতা বাছাই এবং মূল্যায়নের উদ্দেশ্য হলো- • গ্রহীতা এনএসভি এর জন্য যোগ্য কিনা তা নিরূপণ করা • গ্রহীতার এমন কোন স্বাস্থ্যগত সমস্যা আছে কিনা যা এনএসভি এর অপারেশন প্রক্রিয়াকে ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে তা নির্ণয় করা • গ্রহীতার স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণে কোন সামাজিক বাধা আছে কিনা তা নিরূপণ করা • গ্রহীতা স্বেচ্ছায় এনএসভি করতে রাজি আছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া • গ্রহীতার নিকট হতে তার ব্যক্তিগত তথ্য ও মেডিকেল ইতিহাস গ্রহণ করে এবং শারীরিক, ল্যাবরেটরি ইত্যাদি পরীক্ষা করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গ্রহীতা বাছাই ও অপারেশন পূর্ব মূল্যায়ন করতে হবে। প্রাপ্ত তথ্যসমূহ পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণোচ্চুর পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতিপত্র ফরমের নির্দিষ্ট স্থানে লিখতে হবে। এই ফরম মূল্যায়ন করে গ্রহীতার উপযুক্ততা/অনুপযুক্ততা নির্ণয় করে এনএসভি অপারেশনের জন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে এনএসভি গ্রহীতার যেসব মেডিকেল ইতিহাস নিতে হবে তা উল্লেল্লখ করা হলো • রক্তক্ষরণজনিত রোগ (Bleeding disorder) • পূর্বে অণ্ডথলি বা ইংগুইনাল সার্জারির (অপারেশনের) ইতিহাস • বর্তমানে বা অতীতে যৌনবাহিত সংক্রমণ, প্রজননতন্ত্র ও মুত্রনালির সংক্রমণ • প্রজননতন্ত্রের অস্বাভাবিকতা • ঔষধ গ্রহণের ইতিহাস • সামাজিক ও প্রজনন ইতিহাস - বিবাহিত কি না - জীবিত সন্তান সংখ্যা - ছোট সন্তানের বয়স - স্ত্রীর সংখ্যা - প্রযোজ্য ক্ষেত্রে স্ত্রীর বয়স ও মাসিক অবসানের তথ্য • স্ত্রীর মেনোপজ হয়েছে কিনা • স্ত্রীর টিউবেকটমি করা হয়েছে কিনা শারীরিক পরীক্ষা অপারেশন চিকিৎসকই শারীরিক পরীক্ষা করবেন। গ্রহীতার শারীরিক পরীক্ষার পূর্বে তাকে বুঝিয়ে বলতে হবে কেন পরীক্ষা করা হবে এবং কী পরীক্ষা করা হবে। দুইভাবে শারীরিক পরীক্ষা করা হয়- সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা • তাপমাত্রা • রক্তস্বল্পতা • হৎপিণ্ড-এর শব্দ, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ • ফুসফুস-এর শব্দ ও শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি যৌনাঙ্গ পরীক্ষা পুরুষাঙ্গ পরীক্ষা পুরুষাঙ্গের সামনে এবং পিছনে পর্যবেক্ষণ করে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কিনা তা খেয়াল করতে হবে। মূত্রনালির মুখও পরীক্ষা করতে হবে। সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা-ত্বকে ক্ষত বা সংক্রমণ, নিঃসরণ, পুঁজ, লালচে ভাব বা চুলকানির দাগ ইত্যাদি। অণ্ডথলি পরীক্ষা অণ্ডথলির সামনে এবং পিছনে পর্যবেক্ষণ করে কোনো অস্বাভাবিকতা আছে কিনা তা খেয়াল করতে হবে। চামড়ার রঙের পরিবর্তন, আকার, আকৃতি ঠিক আছে কিনা লক্ষ্য রাখতে হবে। সম্ভাব্য অস্বাভাবিকতা ত্বকে ক্ষত বা সংক্রমণ, ফুসকুঁড়ি, আকারে ছোট অণ্ডথলি, অণ্ডথলির অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যেমন: ইংগুইনাল হারনিয়া, ট্রাংগুলেটেড হারনিয়া, হাইড্রোসিল, ভেরিকোসিল, গোদরোগ, ক্যান্সার ইত্যাদি। অণ্ডকোষ ও এপিডিডাইমিস পরীক্ষা গ্লাভস পরে বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং প্রথম দুই আঙ্গুল (তর্জনী ও মধ্যমা) দিয়ে অণ্ডকোষ এবং এপিডিডাইমিস পরীক্ষা করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, অণ্ডকোষে যাতে চাপ না লাগে। হাত দিয়ে অন্ডকোষ এবং এপিডিডাইমিসের আকার, আকৃতি, নমনীয়তা, কোন চাকা বা স্পর্শকাতরতা আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। শুক্রবাহী নালি পরীক্ষা অর্থেলির সামনে বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং অন্য আঙ্গুল রেখে শুক্রবাহী নালি পরীক্ষা করতে হবে। কোন গুটি, ফোলা বা চাকা, মাঝখানে ফাঁকা ইত্যাদি আছে কিনা তা লক্ষ্য করতে হবে। - ব্যথাযুক্ত নডিউল অণ্ডকোষের ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। - শুক্রবাহী নালির কিছু অংশ ফাঁকা এবং দু'মাথায় ছোট গুটির মতো কোনো কিছু অনুভব করা-পূর্বেই এনএসভি করা হয়েছে নির্দেশ করে। ল্যাবরেটরি পরীক্ষা প্রস্রাব পরীক্ষা ইউরিস্টিক্স ব্যবহার করে প্রস্রাবে সুগার এবং অ্যালবুমিন আছে কিনা নির্ণয় করতে হবে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এনএসভি অপারেশনের নিয়মাবলী অপারেশনের পূর্বপ্রস্তুতি • স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণেচ্ছুর পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতির ফরম অনুসারে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল দেখে গ্রহীতার স্বাস্থ্যগত উপযুক্ততা যাচাই করতে হবে • অবহিত সম্মতি পত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে • ভাস অপারেশনের উপযুক্ত আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে এনএসভি অপারেশনের পূর্বে গ্রহীতার প্রস্তুতি • অপারেশন কক্ষে প্রবেশের পূর্বে অণ্ডথলি ও এর পার্শ্ববর্তী স্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে • অপারেশনের স্থানের লোম প্রয়োজনে কাঁচি দিয়ে ছোট করে ছেটে দিতে হবে। শেভিং করলে চামড়ায় অনেক অদৃশ্যমান ক্ষতের সৃষ্টি হয় যার ভিতর দিয়ে জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে • অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক অথবা সার্জিক্যাল অ্যাপারেল হিসাবে প্রদত্ত নতুন লুঙ্গি পরাতে হবে এনএসভি অপারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরবরাহ (পরিশিষ্ট ১ ও ৩) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি • রিং ফরসেপ/ভাস হোল্ডিং ফরসেপ • ভাস ডিসেক্টিং ফরসেপ • ছোট সোজা কাঁচি • স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ ১. রিং ফরসেপ/ ভাস হোল্ডিং ফরসেপ যন্ত্রটি চামড়ার উপর দিয়ে সরাসরি ভাস ধরার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং অগ্রভাগ ভোঁতা, গোলাকৃতি এবং নীচে ফাঁক থাকার কারণে চামড়ার উপর দিয়ে ভাস ধরলেও চামড়ার কোন ক্ষতি হয় না। রিং এর ব্যাসের উপর ভিত্তি করে তিন ধরনের রিং ফরসেপ পাওয়া যায়-৩ মি.মি./৩.৫ মি.মি./৪ মি.মি.। পুরুষের অণ্ডথলির চামড়ার পুরুত্বের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন ব্যাসের রিং ফরসেপ ব্যবহার করা হয়। ২. ভাস ডিসেক্টিং ফরসেপ এই যন্ত্রটির অগ্রভাগ খুবই সুঁচালো এবং এর লম্বা বাহুর সাথে অগ্রভাগ ৪৫° কোণ তৈরি করে। এই যন্ত্রটি চামড়া ছিদ্র করা এবং ভাসকে উপরে তুলে আনার জন্য ব্যবহার করা হয়। প্রয়োজনবোধে এটি আর্টারি ফরসেপ হিসাবেও ব্যবহার করা যায়। অপারেশনের স্থানের প্রস্তুতি • গ্রহীতাকে চিৎ করে অপারেশনের টেবিলে শোয়াতে হবে • অণ্ডথলি এবং এর আশপাশের চামড়া স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপের সাহায্যে জীবাণুমুক্ত তুলার বল বা গঞ্জ পভিডন আয়োডিন সলিউশনে ডুবিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার নিয়ম হবে অপারেশনের স্থানে ভেতর থেকে বাইরের দিকে • পরিষ্কার করার পর জীবাণুমুক্ত এনএসভি শিট বিছিয়ে ঢেকে দিতে হবে। ভ্যাসেকটমি শিটের ছিদ্র দিয়ে অন্ডথলিকে বের করে শিটের উপর আনতে হবে এনএসভি অপারেশনের ধাপসমূহ ভাস আলাদা ও চিহ্নিতকরণ: • উভয় পার্শ্বের ভাস সতর্কতার সাথে স্পর্শ করতে হবে। কারণ অন্ডকোষের এ অংশে ব্যথা বা অস্বস্তির সৃষ্টি হলে ক্রিমাস্টার মাসেলে খিচুনি হয়ে অভকোশ সংকুচিত হয়ে যায়, এর ফলে অপারেশন কঠিন হয়ে পড়ে • তিন আঙ্গুল পদ্ধতিতে (অণ্ডথলির পিছনে মধ্যমা এবং সামনে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী রেখে) ভাসকে অণ্ডথলির চামড়ার নিচে সনাক্ত করতে হবে • সার্জন ডান হাতে অপারেশন করলে অপারেশন টেবিলের বাম পাশে এবং বাম হাতে অপারেশন করলে অপারেশন টেবিল ডান পাশে দাঁড়াতে হবে • প্রথমে বাম হাতের মধ্যমা অণ্ডথলির নিচে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিকে অণ্ডথলির ওপরে মধ্যরেখা বরাবর মাঝামঝি স্থানে ও তর্জনীকে লিঙ্গের কাছাকাছি বৃদ্ধাঙ্গুলির উপরে এমনভাবে রাখতে হবে যাতে এই তিন আঙ্গুলের মধ্যে ভাসকে আলাদা করে ধরে রাখা যায়। প্রথমে নিচের মধ্যমার সাহায্যে ভাসকে চিহ্নিত করে তা গড়িয়ে মধ্যরেখা বরাবর বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর নিচে এনে তিন আঙ্গুলের সাহায্যে ভাসকে আটকাতে হবে • ভাসকে এমনভাবে আটকাতে হবে যাতে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীর মাঝখানে মধ্যরেখা বরাবর কিছু ফাঁক থাকে (নিচের চিত্র ১০ -২৫) যেখানে স্থানীয় অবশকরণের ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে এবং ভাসকে বের করে আনার জন্য ছিদ্র করার প্রয়োজনীয় জায়গা থাকবে। উল্লেখ্য তিনটি আঙ্গুলই যেন ভাসের সাথে আড়াআড়িভাবে ৯০ ডিগ্রি কোণে থাকে। মধ্যমা দিয়ে ভাসকে উপরের দিকে ঠেলে এবং একই সঙ্গে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে নিচের দিকে এমনভাবে চাপ দিতে হবে যাতে অণ্ডথলির চামড়া ভাস-এর উপর টান টান হয়ে থাকে। স্থানীয় অবশকরণের ঔষধ প্রয়োগ এবং ভাসকে বের করে আনার ছিদ্র না করা পর্যন্ত ভাসকে ধরে রাখতে হবে। স্থানীয় অবশকারক প্রয়োগ • একটি অপারেশনের জন্য ৫-৬ মি.লি. অ্যাড্রিনালিন ছাড়া ১% লিডোকেইন প্রয়োজন। ডান হাত দিয়ে প্রথমে মধ্যরেখার উপরে অপারেশন স্থানে ০.৫ মি.লি. ১% লিডোকেইন ঠিক চামড়ার নিচে ইনজেকশন দিয়ে চামড়ায় ১-১.৫ সে.মি. ব্যাস পরিমাণ জায়গা ফুলিয়ে একটি ছোট চাকা বা হুইল বানাতে হবে। • তারপর সূঁচটিকে ভাসের পাশ ঘেঁষে সমান্তরালভাবে এক্সটারনাল স্পার্মাটিক ফাসাল শিখ-এর ভিতরে ইংগুইনাল রিং-এর দিকে কমপক্ষে ১.৫ ইঞ্চি পরিমাণ ঢুকাতে হবে এবং পেরিভ্যাসাল ব্লকের জন্য পিস্টন টেনে পরীক্ষা করে ২.৫-৩ মি.লি. ১% লিডোকেইন ইনজেকশন একই স্থানে বোলাস আকারে দিতে হবে। ইনজেকশন দেয়ার সময় সূচকে স্থির রাখতে হবে। বিশেষ তথ্য যদি নিল সঠিক জায়গা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং এক্সটারনাল স্পামাটিক ফাসার ভিতরে অবশকারক ঔষুধ প্রয়োগ করা হয়, তখন ইনজেকশন পুশ করতে কোন রকম বাধা অনুভব করা যায় না। এনএসভি করার সবচেয়ে সুবিধাজনক স্থান হলো অণ্ডথলির মধ্যরেখার উপরের ১/৩ অংশ এবং নিচের ২/৩ অংশের সংযোগ স্থল। • সিরিঞ্জের সূচ বের না করে অন্যদিকের ভাসকে একই পদ্ধতিতে একই স্থানে ধরে আনতে হবে এবং পূর্বের জায়গা দিয়েই ভাসের সমান্তরালে সমপরিমাণ লিডোকেইন ইনজেকশন দিয়ে পেরিভ্যাসাল ব্লক করতে হবে। • অতঃপর সূঁচটিকে বের করে এক টুকরো গজের সাহায্যে তর্জনী ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে হুইলটাকে একটু চেপে ধরে রাখতে হবে যাতে অবশকরণ ঔষধ ছড়িয়ে পড়ে ফোলাটা কমে যায়। তবে চামড়ায় ম্যাসাজ করা যাবে না। ক্লায়েন্ট মনিটরিং সার্জন বা তার সহায়তাকারী গ্রহীতাকে মনিটর করবেন। গ্রহীতার সাথে আলোচনা, প্রক্রিয়ার সংক্ষিপ্ত বর্ণনার পাশাপাশি কোন অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া (যেমন- ভ্যাসোভ্যাগাল এ্যাটাক) হয়েছে কিনা তা নির্ণয়ের জন্য ক্লায়েন্টকে কেমন লাগছে তা জিজ্ঞেস করতে হবে। অপারেশনের পদ্ধতি • স্থানীয়ভাবে অবশকরণের কার্যকারিতা শুরু হওয়ার জন্য ২-৩ মিনিট অপেক্ষা করার পর অপারেশন শুরু করতে হবে। • তিন আঙ্গুল পদ্ধতিতে প্রথমে ডান দিকের ভাসকে বা সার্জনের সুবিধা অনুযায়ী যে কোনো দিকের ভাসকে পূর্ব নির্ধারিত স্থানে চামড়ার হুইলের নীচে আনতে হবে। মধ্যমা দিয়ে ভাসকে উপরের দিকে ঠেলে বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনী দিয়ে নিচের দিকে এমনভাবে চাপ দিতে হবে যাতে মধ্যরেখা বরাবর অণ্ডথলির চামড়া ভাসের উপরে টান টান হয়ে থাকে। • এই অবস্থায় রিং ফরসেপ ভাসের উপর ৯০° কোণে চামড়ার উপর স্থাপন করে এর গোল মাথার ভিতর ভাসকে আটকাতে হবে। এজন্য মধ্যমা দিয়ে উপরের দিকে ভাসকে ঠেলে দিতে হবে। • অতপর রিং ফরসেপের হাতলকে নীচু করে গোল মাথাটাকে একটু উঁচু করে তর্জনী দিয়ে ভাসের চামড়াকে রিং-এর সামনে নীচের দিকে চেপে ধরতে হবে যাতে চামড়া যতটা সম্ভব পাতলা ও টান টান হয়ে যায়। • অতপর ডিসেকটিং ফরসেপের তীক্ষ্ণ সরু ভিতরের দিকের মাথা রিং ফরসেপের গোল মাথার মধ্যে ধরে রাখা অংশের বাইরের সর্বোচ্চ জায়গায় (Highest prominence) ৪৫° কোণে স্থাপন করে অণ্ডথলির চামড়া ছিদ্র করতে হবে। চামড়া এমনভাবে ছিদ্র করতে হবে যাতে ডিসেকটিং ফরসেপের সরু মাথা সাবকিউটেনিয়াস টিস্যু ও ফাসা ভেদ করে ভাসের উপরিভাগ স্পর্শ করে। সতর্কতা ১. নিশ্চিত হতে হবে যে, ভাসের সামনের দেয়াল ছিদ্র হয়, তা না হলে ভাসের উপরের অবিচ্ছিন্ন ফাসার কারণে ছিদ্রপথে ভাস অণ্ডথলির বাইরে আনা অসম্ভব হবে। ২. ছিদ্র বেশি গভীর হলে ভাস কেটে যেতে পারে বা কোন ধমনী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে রক্তপাত হতে পারে। ৩. নিশ্চিত হতে হবে যে রিং ফরসেপে ধরা ভাসের ঠিক উপরের অংশে ছিদ্র করা হয়েছে; যদি রিং ফরসেপে ধরা অন্য টিস্যু ছিদ্র করা হয়ে থাকে তাহলে পাশের এসব টিস্যু সরানো কঠিন হবে। • এরপর ডিসেক্টিং ফরসেপটি বের করে এনে এর দুটো মাথাই একত্র করে চামড়ার ঐ ছিদ্র পথে ঢুকিয়ে ধীরে ধীরে মাথা দুটি খুলে এমনভাবে ফাঁক করতে হবে যাতে একই সঙ্গে উপর থেকে চামড়াসহ টিস্যুর স্তরগুলো আলাদা হয়ে যায় এবং ছিদ্রটি হতে হবে কমপক্ষে ভাসের ব্যাসের দ্বিগুণ। এতে ভাসটি উন্মুক্ত হয়ে যাবে এবং ছিদ্রপথে সরাসরি দেখা যাবে। ভাসকে ওপরে উঠানো • ডিসেকটিং ফরসেপের অগ্রভাগ নিচের দিকে ৪৫° কোণ করে এর বাইরের লিপ দিয়ে ভাসকে হুক করে অন্যান্য টিস্যুর স্তর থেকে আলাদা করে নিতে হবে এবং ডিসেকটিং ফরসেপ ঘড়ির কাটার উল্টো দিকে ১৮০° ঘুরিয়ে ভাসকে ছিদ্রপথের কাছাকাছি এনে ধরে রাখতে হবে। • ডিসেকটিং ফরসেপ দিয়ে ভাসকে ধরার পর রিং ফরসেপ খুলে ফেলতে হবে। রিং ফরসেপ খোলার ফলে ভাসকে ছিদ্রপথে ওপরে তোলা যাবে। • পুনরায় রিং ফরসেপ দিয়ে ভাসকে পাশ থেকে আংশিকভাবে ধরতে হবে এবং ডিসেকটিং ফরসেপ খুলে নিতে হবে। • রিং ফরসেপের সাহায্যে ভাসকে চামড়ার ছিদ্র পথ দিয়ে উপরে তুলে আনতে হবে। ভাসের নিকটবর্তী চতুর্দিকের টিস্যুগুলোকে আলাদাকরণ • ভাসের ভাঁজ হয়ে থাকা ভিতরের দিকে সর্বোচ্চ অংশে ডিসেকটিং ফরসেফের এক মাথা দিয়ে ভাসের সঙ্গে লাগানো শিথসমূহের মাঝে ভাসের গা ঘেঁষে একটি ছিদ্র করতে হবে। ছিদ্র করার সময় ডিসেকটিং ফরসেপের বাঁকানো মাথা উপরের দিকে থাকবে। • এরপর ডিসেকটিং ফরসেপের দুটো মাথাই বন্ধ অবস্থায় আগের ছিদ্র দিয়ে আবার ঢুকিয়ে ফরসেপের মাথা ফাঁক করে পার্শ্ববর্তী টিস্যুগুলোকে ধীরে ধীরে নীচের দিকে সরিয়ে দিতে হবে। লম্বালম্বিভাবে ভাসের কমপক্ষে ১ সে.মি. পরিমাণ অংশের চতুর্দিকের টিস্যু মুক্ত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে রক্তনালিগুলি যাতে ছিঁড়ে না যায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। রক্তক্ষরণ হলে রক্তনালি ধরে বেঁধে দিতে হবে। ভাস বাধা এবং কাটা • আমাদের দেশে ভাস বাঁধা ও কাটার জন্য ৩-০ সিল্ক সুতা ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি গ্রহীতার জন্য ৮ ইঞ্চি লম্বা ৬ (ছয়) টুকরা সিল্ক ব্যবহার করা হয়। • ডিসেকটিং ফরসেপ দিয়ে ভাসের পার্শ্ববর্তী টিস্যুকে নীচের দিকে সরানোর পর একটি সিল্ক সুতার সাহায্যে সেমিনাল ভ্যাসিকেল প্রান্তে আগে বাঁধতে হবে এবং সুতার একটি অংশকে ছোট করে কেটে অন্য অংশটি রেখে দিতে হবে। • এরপর ভাসের এপিডিডাইমাল প্রান্ত বাঁধতে হবে এবং দুইটি সুতাই রেখে দিতে হবে। এমনভাবে দুই প্রান্ত বাঁধতে হবে যাতে দু'টি বাঁধনের মাঝখানে ব্যবধান প্রায় ১.৫ সে.মি. হয়। ভাসের বাঁধা অংশের ১ সে.মি. পরিমাণ অংশ কেটে বাদ দিতে হবে। তারপরে দুই পাশের সুতা ধরে সাবধানতার সাথে দুই পাশ থেকে হালকাভাবে টানতে হবে যেন কাটা ভাসের দুই প্রান্তের মাঝখানে ফাঁক কিছুটা বৃদ্ধি করা যায়। এখন এপিডিডাইমাল প্রান্তের সুতা কেটে দিতে হবে। • এরপর ধীরে ধীরে অণ্ডথলিকে নীচের দিকে টেনে ভাসের কাটা অংশ দুটো স্পার্মাটিক কর্ডের মধ্যে ফিরিয়ে নিতে হবে। ভাসের সেমিনাল প্রান্তে বেঁধে রাখা সুতাকে আস্তে করে টানতে হবে যেন ভাসের সেমিনাল প্রান্ত চামড়ার ছিদ্রের কাছে আসে এবং তা বাইরে থেকে দেখা যায়। ডিসেক্টিং ফরসেপের অগ্রভাগ দিয়ে স্পার্মাটিক কর্ডের ফাসাকে ধরে রেখে ভাসের প্রান্তকে বাইরে আনতে হবে। ভাসের ডিস্টাল প্রান্তের চার পাশের ফাসাকে এমনভাবে বাঁধতে হবে যাতে এপিডিডাইমাল প্রান্ত ফাসার ভিতর এবং সেমিনাল ভেসিকুলার প্রান্ত ফাসার বাইরে অবস্থান করে। এটাকে "ফাসাল ইন্টারপজিশন” বলে। এতে ভাসের আপনা আপনি পুনঃসংযোজনের সম্ভাবনা থাকবে না। • একই নিয়ম অবলম্বন করে অপর পাশের ভাস বাঁধা, কাটা এবং ফাসাল ইন্টারপজিশন করতে হবে। • এনএসভি পদ্ধতিতে চামড়ায় কোনো সেলাই এর প্রয়োজন হয় না। ভাসের নালিপথ বন্ধ করার অন্য পদ্ধতি ভাসের নালিপথ বন্ধ করার অন্য একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি হচ্ছে ইলেক্ট্রোথারমাল কটারি যা বর্তমানে পৃথিবীর অনেক দেশেই প্রচলিত আছে। এই পদ্ধতিতে ভাসের নালিপথে কটারি ডিভাইস ঢুকানো হয় এবং ভাসের নালিপথের মিউকোসা পুড়িয়ে ফেলে একটি স্কার তৈরি করা হয়। ফলে নালিপথ বন্ধ হয়ে যায়। কটারির মাধ্যমে ভাসের মাংশপেশির অন্যান্য স্তর অক্ষত রেখে নালিপথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়। অপারেশনের স্থানের ড্রেসিং • অপারেশনের পর পর রক্তপাতের উৎস আছে কিনা পরীক্ষা করে কাটা স্থান পরিষ্কার করে ড্রেসিং করতে হবে। • বর্তমানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃক ভ্যাসেকটমির জন্য ১০ সে.মি. x ৫ সে.মি. সাইজের স্টেরাইল ইলাসট্রোমেরিক ড্রেসিং ম্যাট্রিক্স সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ড্রেসিং ম্যাট্রিক্স ব্যবহার করলে কোনো জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং গজের ও অ্যাডহেসিভ ব্যান্ডেজের প্রয়োজন হয় না এবং ভিতরে কোন পানিও ঢুকতে পারে না। ফলে গ্রহীতা নিয়মিতভাবে গোসল করতে পারবে। যদি ইলাসট্রোমেরিক ড্রেসিং ম্যাট্রিক্স সরবরাহ না থাকে সেক্ষেত্রে জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে ঢেকে অ্যাডহেসিভ টেপ দিয়ে আটকিয়ে দিয়েও ড্রেসিং করা যাবে। ড্রেসিং করার সময় সতর্ক থাকতে হবে যেন বেশি চেপে বা আটসাট হয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ না হয়ে যায় বা অণ্ডকোষে চাপ না পড়ে। এনএসভি এর অপারেশন করার সময়ে সাবধানতা ভ্যাসেকটমি অপারেশনের সময় সাধারণত যে সকল সাবধানতা গ্রহণ করতে হয় তা- • ফাসাল ইন্টারপজিশনের সময় এক্সটার্নাল স্পার্মাটিক ফাসার পরিবর্তে ক্রিমাস্টার মাসল যেন বাঁধা না পড়ে। • বাঁধা ভাস কাটার সময় সিটের খুব কাছাকাছি না হয় আবার খুব দূরেও না হয়। • ভাসকে বেঁধে রাখা সিল্ককে টানার সময় খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে যাতে ভাসের বাঁধন খুলে না যায়। • রক্তপাত হচ্ছে কি না পরীক্ষা করার পর ভাস বাঁধার সুতা কেটে দিতে হবে। • ভাসের স্টাম্প চামড়ার নিচে না থেকে স্পার্মাটিক কর্ডের ভিতরে ফিরে গিয়েছে কিনা এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে ভ্যাসো-কিউটেনিয়াস ফিস্টুলা হতে না পারে। • রক্তপাত থাকলে ক্ষতস্থানে গজ দিয়ে কিছুক্ষণ চেপে রাখতে হবে যাতে রক্তপাত বন্ধ হয়। • ভাসকে বাঁধার সময় যাতে সিল্ক ভাসের গায়ে বসে যায়, কিন্তু খুব শক্ত করে বাঁধার ফলে ভাস কেটে না যায় বা ঢিলে করে বাঁধার ফলে সুতা ধরে ভাসকে টানার সময় খুলে না যায়। অপারেশন শেষ করার ধাপসমূহ • গ্রহীতার অপারেশন ভালোভাবে শেষ হয়েছে তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলতে হবে ও আশ্বস্ত করতে হবে • ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ডুবিয়ে রাখতে হবে বা ধুয়ে ফেলতে হবে • দুই হাতের গ্লাভস খুলে বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলে দিতে হবে। • হাত ভাল করে ধুয়ে পরিষ্কার হয়ে অপারেশনের সকল তথ্য ফরমে লেখা হয়েছে কি না তা যাচাই করতে হবে এবং লিপিবদ্ধ না হয়ে থাকলে লেখার ব্যবস্থা নিতে হবে • অপারেশন পরবর্তী ব্যবস্থাপত্র ফরমে লিখে দিতে হবে এবং কোনো বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে • গ্রহীতার ভাইটাল সাইন (নাড়ির গতি, শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্তচাপ) পরীক্ষা করতে হবে • ফরমের নির্দিষ্ট ক্রমিক/স্থানে নিজের নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে এবং অপারেশনের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্যরা ফরমের সংশ্লিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর দিয়েছে কি না পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং স্বাক্ষর না করে থাকলে স্বাক্ষর করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অপারেশন পরবর্তী নির্দেশাবলী ও ফলো-আপ • এনএসভি করার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের প্রজননক্ষমতা নষ্ট হয় না। শুক্রবাহী নালি ও বীর্যথলিতে ইতিমধ্যে জমে থাকা শুক্রাণু নিঃশেষ করার জন্য ৩ মাস পর্যন্ত সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে বা স্ত্রীকে অন্য কোন জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে • গ্রহীতাকে ৩৬ টি কনডম সরবরাহ করতে হবে এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হবে তা দেখিয়ে ও বুঝিয়ে দিতে হবে • অপারেশনের পর গ্রহীতাকে ৩০ মিনিট বিশ্রামের উপদেশ দিতে হবে • সম্ভব হলে ৪ ঘণ্টার মধ্যে অণ্ডথলিতে ঠাণ্ডা সেঁক দিতে হবে • সম্ভব হলে গ্রহীতাকে ২ দিন বিশ্রাম নিতে বলতে হবে • অপারেশনের পর ২-৩ দিন কোন ভারী কাজ না করতে ও সাইকেল বা রিকশা চালাতে না করতে হবে • ২-৩ দিন পর্যন্ত আঁটসাট আন্ডারওয়্যার ব্যবহার করতে হবে • অপারেশনের স্থান ২-৩ দিন শুকনা রাখতে বলতে হবে। • অপারেশনের ২-৩ দিন সহবাস করা যাবে না • ব্যথার জন্য দৈনিক তিন বার ভরা পেটে ১-২ টি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খেতে হবে • অ্যান্টিবায়োটিক: এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মি.গ্রা. অপারেশনের দুই ঘণ্টা পূর্বে একটি ট্যাবলেট মুখে খাবে। তারপর প্রতিদিন ১টি ট্যাবলেট খাবার আধাঘণ্টা আগে পরবর্তী দুইদিন খাবে (মোট ৩ টি ট্যাবলেট)। অথবা সিপ্রোফ্লাক্সাসিন ৫০০ মি. গ্রা. অপারেশনের ২ ঘণ্টা আগে ২ টি ট্যাবলেট খাবে। এবং তারপর ১২ ঘণ্টা পর পর পরবর্তী দুই দিন খাবে (মোট ৬ টি ট্যাবলেট) • ৭ দিন পর ফলো-আপের জন্য কেন্দ্রে আসতে বলতে হবে। • কোন সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটবর্তী কেন্দ্রে বা কর্মীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে স্থায়ী পদ্ধতি অপারেশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতা এবং ব্যবস্থাপনা টিউবেকটমি ও এনএসভি অপারেশনের সময়ে এবং অপারেশন পরবর্তী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতাসমূহ এবং ব্যবস্থাপনা নিম্নে বর্ণনা করা হল: ১. স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগজনিত জটিলতা স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ অপর্যাপ্ত পরিমাণে দেয়া হলে গ্রহীতা ব্যথা বোধ করতে পারেন। সংবেদনশীল টিস্যুতে পরিমাণ মত স্থানীয় অবশকরণ না দেয়া হলেও ব্যথা হতে পারে এবং জরায়ু, অণ্ডকোষ বা খাদ্যনালি ইত্যাদি নাড়াচাড়ার সময় ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। কারণসমূহ- • অপর্যাপ্ত স্থানীয় অবশকরণ প্রয়োগ • সংবেদনশীল টিস্যু যেমন- চামড়া, পেরিটোনিয়াম, ভাসের চারপাশে নির্ধারিত পরিমাণ স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগ না করা • স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগের পর কম পক্ষে ২-৩ মিনিট অপেক্ষা না করে অপারেশন শুরু করা • অপারেশন করতে দীর্ঘসময় লাগা লক্ষণসমূহ- • ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া যেমন: মূর্ছা যাওয়া, রক্তচাপ ও নাড়ির গতি কমে যাওয়া • ব্যথা অনুভব করা • নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া • চোখের মনি বড় হয়ে যাওয়া • কপালে ঘাম দেখা দেয়া। ব্যবস্থাপনা- • অপারেশন সম্পূর্ণ করার জন্য অতিরিক্ত স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ সংবেদনশীল টিস্যুতে প্রয়োগ ২. স্থানীয় অবশকরণ ঔষধ প্রয়োগ পরবর্তী জটিলতা ক. সাধারণ জটিলতা- • ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, অস্থিরভাব, চিন্তাগ্রস্ত বা বমি বমি ভাব ইত্যাদি মৃদু জটিলতা দেখা দিলে সাধারণত কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। শুধু গ্রহীতাকে আশ্বস্ত করতে হয় খ. মারাত্মক জটিলতা • খিচুনি: যদি খিচুনি দেখা যায়, তাহলে শিরায় ৫ মি.গ্রা. ডায়াজিপাম ইনজেকশন দিতে হবে (প্রয়োজনে এ ঔষধ পুনঃপ্রয়োগ করা যায়) • আরও মারাত্মক অবস্থার জন্য মাসল রিলাকজেন্ট-এর প্রয়োজন হতে পারে এবং সাথে সাথে রিসাসিটেটরের মাধ্যমে প্রয়োজনে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে গ. শ্বাস-প্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া • শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা সংক্রান্ত যথাযথ ব্যবস্থাপনা নীচের ৫নং ক্রমিকে বর্ণনা করা হয়েছে ঘ. হৃৎদপিণ্ডের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া • হৃৎপিণ্ড ও রক্ত চলাচল সংক্রান্ত যথাযথা ব্যবস্থাপনা নিচের ৬নং ক্রমিকে বর্ণনা করা হয়েছে ঙ. গ্রহীতার মারাত্মক অ্যানাফাইল্যাকটিক রিঅ্যাকশন দেখা দিতে পারে লক্ষণসমূহ- • শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে আসতে পারে • শরীরের বিভিন্ন জায়গা ফুলে যেতে পারে • রক্তচাপ কমে গিয়ে শকের চিহ্ন/লক্ষণ দেখা দিতে পারে। ব্যবস্থাপনা- • অ্যাডরিনালিন (১:১০০০) এক অ্যাম্পুল (১ মি.লি.) শিরায় দিতে হবে • হাইড্রোকরটিসন ইনজেকশন বেশি মাত্রায় (২০০-৫০০ মি.গ্রাম) দিতে অথবা ডেক্সামেথাসন ইনজেকশন ১ অ্যাম্পুল শিরায় দিতে হবে • গ্রহীতার পায়ের দিকটা একটু উপরে তুলে দিতে হবে (পায়ের দিকের ঘাটের পায়ার নিচে ইট/কাঠের ব্লক দিয়ে। • এ ছাড়া অন্যান্য লক্ষণ ও চিহ্ন অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা করতে হবে। ৩. ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া কারণসমূহ- • জরায়ু জরায়ুমুখ, অণ্ডকোষ বা অন্ত্রনালি নাড়াচাড়ার জন্য • ব্যথা, আঘাত • দুশ্চিন্তা • অপর্যাপ্ত পরিমাণে স্থানীয় অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ লক্ষণসমূহ • মূর্ছা যাওয়া • রক্তচাপ কমে যাওয়া • নাড়ির গতি কমে যাওয়া • বমি বমি ভাব • ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া • ঘাম হওয়া ব্যবস্থাপনা • জরায়ু, জরায়ুমুখ, অণ্ডকোষ বা অন্ত্রনালির নাড়াচাড়া বন্ধ করলেই ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া কমতে থাকবে • গ্রহীতা শোয়া অবস্থায় না থাকলে তাকে শুইয়ে পায়ের দিকটা উপরে তুলে দিতে হবে • এ্যট্রোপিন ইনজেকশন ০.৪-০.৬ মিলিগ্রাম শিরায় দিতে হবে • অপর্যাপ্ত লোকাল অ্যানেসথেসিয়া সংশ্লিষ্ট হলে আরো অতিরিক্ত প্রয়োগ করতে হবে ৪. নারকোটিক বা সিডেটিভ ঔষধের মাত্রাধিক্যের কারণে জটিলতাসমূহ সাধারণত লোকাল অ্যানেসথেসিয়া পর্যাপ্ত না হলেই অতিরিক্ত নারকোটিক বা সিডেটিভ ঔষধ প্রয়োগ করা হয় লক্ষণসমূহ • রক্তের চাপ কমে যাওয়া • নাড়ির গতি কমে যাওয়া • শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর বা লম্বা হওয়া • শরীরের তাপ কমে যাওয়া এবং ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া • গ্রহীতার কাছ থেকে জিজ্ঞাসার বা অনুভূতির কোনো জবাব না পাওয়া ব্যবস্থাপনা • নারকোটিক বা সিডেটিভ ঔষধের মাত্রাধিক্য হলে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থাপনাই হচ্ছে প্রধান। এটি হচ্ছে CPR-step-A। শ্বাসনালি সম্পূর্ণ বন্ধ হলে ৪ মিনিটের মধ্যে হৃৎপিণ্ডের কাজ বন্ধ হয়ে যায় এবং অক্সিজেনের চরম ঘাটতির ফলে ৩-৫ মিনিটের মধ্যে মস্তিষ্কের অপরিবর্তনীয় ক্ষতি হয়। • শ্বাসনালির ব্যবস্থাপনার পরবর্তী পদক্ষেপ হচ্ছে শ্বাসপ্রশ্বাস চালু রাখা CPR-step-B • নারকোটিক বা সিডেটিভের রিভার্সাল বা অ্যান্টিডট প্রয়োগ করতে হবে • গ্রহীতাকে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে হবে ৫. শ্বাস-প্রশ্বাসের জটিলতা ক. শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধা কারণ • জিহ্বা: সাধারণত জিহ্বা পিছনের দিকে উল্টে গিয়ে শ্বাসনালিতে বাধার সৃষ্টি করতে পারে • ফ্যারিংস: মিউকাস, বমি, পান এমনকি নকল দাঁত খুলে ফ্যারিংসে আটকে গিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে বাধার সৃষ্টি হতে পারে • ল্যারিংস: কখনও কখনও ল্যারিংসে সংকোচন বা স্পাজম হয়ে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে গলার মধ্যে কোন শব্দ হয় না। আবার কখনও কখনও ল্যারিংস এর সংকোচন অসম্পূর্ণ হতে পারে। এক্ষেত্রে গলার মধ্যে শব্দ হবে। • ট্র্যাকিয়া বা ব্রংকাই। ফরেন বড়ি বা বাইরে থেকে কোন কিছু গিয়ে এসব জায়গায় আটকে যেতে পারে • শ্বাসনালির নীচের অংশে সংকোচন বা ব্রংকোম্পাজম: পরিপাকতন্ত্রের এসিড বা ভুক্ত দ্রব্য, সুপারী প্রভৃতি শ্বাসনালির নীচের অংশে ঢুকে যেতে পারে। এ কারণেও শ্বাসনালি এ অংশে সংকোচন দেখা দিতে পারে। ব্যবস্থাপনা • শ্বাসনালিতে যদি কোন বাধা থাকে, তাহলে সেই বাধাকে সরিয়ে ফেলতে হবে • গ্রহীতাকে অক্সিজেন দিতে হবে • খুব বিরল ক্ষেত্রে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রয়োজন হতে পারে খ. অপ্রতুল শ্বাস-প্রশ্বাস বা কষ্ট কারণ • শ্বাসনালির বাতাস চলাচলে বাধা এবং খুব বেশি পরিমাণে ঘুমের ঔষুধ দিলে এ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে • ডিফিউশনে ত্রুটি - যদি নিউমোনিয়া, নিউমোথোরাক্স রোগ থাকে তাহলেও এ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে • পারফিউশনে ত্রুটি- রক্তশূন্যতা, অতিরিক্ত রক্তপাত বা হৎদপিন্ডের কাজে বিঘ্ন ঘটলে শ্বাস-প্রশ্বাসের অপ্রতুলতা দেখা দিতে পারে ব্যবস্থাপনা • কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস বা সাহায্যকৃত শ্বাস-প্রশ্বাস (Assisted breath) প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে • অক্সিজেন দিতে হবে • কারণসমূহের চিকিৎসা করতে হবে। যেমন, যদি পেথিডিন দেওয়ার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয় বা ঘুমের ভাব বেশি হয়, তাহলে ন্যালোক্সন ইনজেকশন দিতে হবে ৬. হৃদযন্ত্র ও রক্ত চলাচল সংক্রান্ত জটিলতা ক. নাড়ির গতি • বেড়ে যেতে পারে, নাড়ির গতি মিনিটে ১০০ এর উপর • কমে যেতে পারে, নাড়ির গতি মিনিটে ৬০ এর নীচে খ. রক্তচাপ • বেড়ে যেতে পারে, ১৪০/৯০ মি.মি. মার্কারির উপরে • কমে যেতে পারে, ৯০/৬০ মি.মি. মার্কারির নীচে গ. হৃৎস্পন্দন (Heart beat) • অ্যারিদমিয়া হতে পারে • হৃৎপিণ্ড থর থর করে কাঁপতে পারে (Palpitation) • রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শক্, রক্তপাত অথবা এমবোলিজম হয়ে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে ব্যবস্থাপনা • শিরার মধ্যে দিয়ে আই.ভি. ফ্লুইড, রক্ত, রক্তের বিকল্প কোন তরল পদার্থ দিতে হবে • হাইড্রোকরটিসন ইনজেকশন দিতে হবে • গ্রহীতার পায়ের দিকটা উপরে তুলে দিতে হবে। • অক্সিজেন দিতে হবে। • ফ্রিব্রিলেশন থাকলে ক্যালসিয়াম গুকোনেট ইনজেকশন দিতে হবে ঘ. হৃৎযন্ত্র বন্ধ (Cardiac arrest) হয়ে যেতে পারে হৃদযন্ত্র বন্ধের কয়েকটি লক্ষণ • গ্রহীতা মলিন এবং নীল হয়ে যাবে (Cyanosis) বিশেষ করে নাকের ডগা, আঙ্গুলের মাথা, ঠোঁট ইত্যাদি • বড় বড় ধমনী যেমন ক্যারোটিড ধমনীতে কোন পালস পাওয়া যাবে না • হৃৎপিণ্ডের কোন শব্দ পাওয়া যাবে না • চোখের মণি দ্রুত প্রসারিত হয়ে যাবে (Dilated pupil) • শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে • সক্রিয় রক্তপাত (Active Bleeding) হবে না ব্যবস্থাপনা • সিপিআর প্রয়োগ করতে হবে ৭. অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ: সাধারণত অপারেশন কক্ষেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কারণ • কোন কারণে রক্তনালি কেটে গেলে এবং সময়মত ও সঠিক পদ্ধতিতে বন্ধ না করলে • রক্ত জমাটবাধা সংক্রান্ত সমস্যা থাকলে • তাড়াহুড়া করে অপারেশন করলে লক্ষণ • নাড়ির গতি বেড়ে যাওয়া • রক্তচাপ কমে যাওয়া • প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া বা না হওয়া • ক্ষত-স্থানের ব্যান্ডেজ রক্তে ভিজে যাওয়া • পেটের ভিতরে বা অণ্ডথলিতে রক্ত জমে ফুলে যাওয়া • রক্তপাতের পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে অবস্থার অবনতি হওয়া ব্যবস্থাপনা • প্রাথমিকভাবে নরমাল স্যালাইন দিতে হবে। • রক্তপাত বেশি হলে রক্ত সঞ্চালন করতে হবে • রক্তপাতের উৎস চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে রিপেয়ারের ব্যবস্থা নিতে হবে • প্রয়োজনে অন্যত্র রেফার করতে হবে ৮. পরিপাকতন্ত্র সম্পর্কিত জটিলতা বমি কারণ- • পাকস্থলী যদি পূর্ণ থাকে • যদি রক্তে অক্সিজেন কম থাকে • পরিপাকতন্ত্রে স্টিমুলেশন • এয়ারওয়ে টিউব অথবা ফরেন বড়ি দ্বারা জিহ্বায় বা গলায় ইরিটেশন হলে ব্যবস্থাপনা- • গ্রহীতাকে এক পাশে কাত করে শুইয়ে দিয়ে সাকশন এবং অক্সিজেন দিতে হবে • অ্যান্টিবায়োটিক, হাইড্রোকরটিসন ইনজেকশন, ফিজিওথেরাপি প্রভৃতি দিতে হবে ৯. অপারেশনের পরবর্তী অস্থিরতা (Post-operative restlessness) কারণ • ব্যথা • মূত্রাশয় বা অস্ত্র পরিপূর্ণ হয়ে ফুলে যাওয়া • গ্রহীতার অবস্থানগত কোন ত্রুটি থাকা • ব্যান্ডেজ বাঁধার জন্য ব্যথা থাকা • শ্বাস-প্রশ্বাসের অপ্রতুলতা • রক্তপাতজনিত কারণে শক ব্যবস্থাপনা কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা করতে হবে ১০. সংজ্ঞাহীনতা দূরীকরণ (নারকোটিক রিভার্সেল) ন্যালোরান পেথিডিন এর সুনির্দিষ্ট অ্যান্টিডট। পেথিডিন বা অন্যান্য নারকোটিক ইনজেকশন দেয়ার ফলে কখনো কখনো উদ্ধৃত শ্বাস-প্রশ্বাসের বিঘ্ন ঘটলে ন্যালোঝুন ইনজেকশন প্রয়োগে তা দূর করা সম্ভব হয়। ন্যালোক্সন ইনজেকশন সচরাচর ব্যবহার মাত্রা ০.৪ মি.গ্রা.। এ ঔষধ শিরায় দিতে হয়। এর কাজ দ্রুত শুরু হয়। কিন্তু বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। এ ঔষধ দেয়ার পর গ্রহীতাকে প্রতি মুহূর্তে মনিটর করতে হয়। কারণ, গ্রহীতা কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার ঝিমিয়ে পড়তে পারে। যদি আবার ঝিমিয়ে পড়ে, তাহলে পুনরায় ন্যানোক্সন দিতে হবে। এ ঔষধ কোন বিষক্রিয়া নেই বলে বার বার প্রয়োগ করা যায়। তবে ৪-৫ অ্যাম্পুল ন্যালোক্সন দেয়ার পরও অবস্থার উন্নতি না হলে অন্য কারণের (যেমন ডায়াজিপামের ওভার ডোজ) চিকিৎসা দিতে হবে। শুধুমাত্র টিউবেকটমি সম্পর্কিত জটিলতা ও ব্যবস্থাপনা ১. অন্ত্রে বা মূত্রাশয়ে আঘাত লাগা বা কেটে যাওয়া কোনো কারণে যদি অস্ত্রে বা মূত্রাশয়ে আঘাত লেগে কেটে যায় বা ছিদ্র হয়ে যায় তাহলে জরুরি ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে রিপেয়ার করতে হবে। যদি তাৎক্ষণিকভাবে রিপেয়ার না করা হয় তবে পরবর্তীতে জটিলতা দেখা দিবে এবং এতে গ্রহীতার মৃত্যুও হতে পারে। মনে রাখতে হবে টিউবেকটমি কোনো রোগের চিকিৎসা নয় এবং যে কোনো অপারেশনেই ঝুঁকি আছে বা অপারেশনের যে কোনো মুহূর্তে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। কাজেই সার্জনের আবশ্যিক কর্তব্য হল কোনো রকম ভয়-ভীতি না করে এবং আঘাতকে আড়াল না করে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ভূত জটিলতার ব্যবস্থা করা। এ লক্ষ্যে অ্যাট্রমাটিক ক্যাটপাট দিয়ে কমপক্ষে দুই স্তরে (এক স্তরে all muscular coats & mucous layer এবং দ্বিতীয় স্তরে sero-muscular coat) সেলাই (repair) করতে হবে। মূত্রাশয় সেলাইয়ের পর অবশ্যই ফলিস ক্যাথেটার ৭-১৪ দিন ঢুকিয়ে রাখতে হবে। ফলিস ক্যাথেটার ঢুকিয়ে রাখলে মূত্রাশয়ে প্রস্রাব জমতে পারবে না, ফলে ক্ষত নিরাময় দ্রুত হবে। অস্ত্র সেলাই করার (repair) পর রোগীর বাওয়েল সাউন্ড (Bowel sound) না আসা পর্যন্ত তাকে মুখে খেতে দেয়া যাবে না এবং আই. ভি. স্যালাইন চালিয়ে যেতে হবে ও রাইলস্ টিউব লাগিয়ে সাকশন দিতে হবে। রোগীকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। রোগী সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে/হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করতে হবে। প্রয়োজনে উন্নত সুযোগ-দ্বিধা সম্পন্ন কোন হাসপাতালে দ্রুত রেফার করেও চিকিৎসা করা যেতে পারে। রেফার করতে হলে অবশ্যই প্রাথমিক চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা প্রদান করে তারপর রেফার করতে হবে। কোন অবস্থাতেই গাফিলতি বা দেরি করা বাঞ্ছনীয় নয়। ২. একদিকের বা উভয়দিকের টিউব বাঁধতে ও কাটতে না পারা সাধারণত অ্যাডহেশন বা ফিক্সড জরায়ুর কারণে এক বা উভয়দিকের টিউব অনেক ক্ষেত্রে উপরে উঠানো, বাঁধা ও কাটা সম্ভব হয় না। যদি কোন কারণে এক বা উভয় দিকের টিউব বাঁধতে ও কাটতে পারা না যায় সে-ক্ষেত্রে কেন্দ্রে অন্য কোন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার থাকলে তার সাহায্য নেয়া এবং না থাকলে টিউবেকটমির অপারেশন স্থগিত রেখে ক্ষতস্থান যথাযথভাবে বন্ধকরে দিতে হবে। বিষয়টি গ্রহীতা ও তার স্বামী এবং গ্রহীতার সঙ্গে আগত আত্মীয় এবং মাঠ কর্মীকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে। টিউব কাটতে না পারার কারণ এবং কোন দিকের টিউব কাটা যায়নি তার বিবরণ 'স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহেণেচ্ছুর পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতিপত্র' ফরমে ও কার্ডে লিপিবদ্ধ করতে হবে। গ্রহীতাকে অনা কোন পদ্ধতি অথবা স্বামীকে এনএসভি গ্রহণের পরামর্শ দিতে হবে এবং পদ্ধতি প্রদান করতে হবে। ৩. অপারেশনের স্থান সংক্রমণ ক্ষতস্থানে মারাত্মক প্রদাহ বা সংক্রমণ খুবই কম হয়। কিন্তু কখনও কখনও হতেও পারে। সংক্রমণ বা প্রদাহ হলে- • কমপক্ষে ৭দিন অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে • পুঁজ হলে বের করে দিতে হবে • নিয়মিতভাবে ক্ষত ড্রেসিং করতে হবে শুধুমাত্র এনএসভি সম্পর্কিত জটিলতা ও ব্যবস্থাপনা ক. অপারেশন চলাকালীন সময়ের জটিলতা অণ্ডকোষের রক্তনালির রক্তপাত কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ ভাস থেকে ফাসাকে আলাদা করার সময় রক্তনালিতে আঘাত লাগা ভাসের চারিদিকের ফাসাতে রক্তপাত লক্ষ্য করা রক্তপাত বন্ধ করা ১. রক্তনালি বেঁধে দেয়ার মাধ্যমে বা ২. ইলেক্ট্রোকটারি করার মাধ্যমে সতর্কতার সাথে ভাস থেকে ফাসাকে আলাদা করা খ. অপারেশন পরবর্তী জটিলতা ১. রক্তপাত কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • ভাস কাটার পূর্বে ভাসের রক্তবাহী নালিকে আলাদা করতে ব্যর্থ হওয়া • রক্তনালির রক্তপাত বন্ধ না করে ক্ষত বন্ধ করা • ক্ষতস্থান দিয়ে রক্তপাত হওয়া • অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া • ছোট রক্তনালির রক্তপাতের ক্ষেত্রে রক্তনালিতে গজ দিয়ে কিছুক্ষণ চাপ দিয়ে ধরে রাখা • বড় রক্তনালির ক্ষেত্রে রক্তনালিকে বেঁধে দেয়া বা কটারি করা • অপারেশন সতর্কতা। সহকারে করা ২. রক্ত জমে অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া (Haematoma) কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • অসতর্কতার সাথে অপারেশন করা • রক্তনালির রক্তপাত বন্ধ না করে ক্ষত বন্ধ করা • অপারেশন পরবর্তীতে অতিরিক্ত ওজন বা ভার বহন করা • ভ্যাসেকটমি করার পর আটসাট আন্ডারওয়্যার ব্যবহার না করা • ভ্যাসেকটমি করার পর ঘন্টা বিশ্রাম না নেয়া ভ্যাসেকটমি করার পর ২৪ • অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া • অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া • প্রয়োজনে রক্তনালিকে বেঁধে দেয়া বা ইলেক্ট্রোকটারি করা • অপেক্ষা করা যাতে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায় • বিশেষ ক্ষেত্রে কেটে জমা রক্ত বের করে। ফেলা • অপারেশন সতর্কতা সহকারে করা • অস্ত্রোপচার পরবর্তী নির্দেশনাবলী ঠিকমত দেয়া এবং গ্রহীতা বুঝতে পেরেছে কিনা তা জানা ৩. অপারেশন স্থানে অথবা অণ্ডথলিতে সংক্রমণ কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • সংক্রমণ প্রতিরোধের সঠিক ব্যবস্থা না নেয়া • হেমাটোমার যথাযথ চিকিৎসা না করা • ক্ষতের যথাযথ যত্ন না নেয়া • ফুলে যাওয়া অথবা ব্যথা হওয়া • জ্বর • পুজ • বাইরের সংক্রমণের ক্ষেত্রে ক্ষত পরিষ্কার করা • অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া • ভিতরের টিস্যুর সংক্রমণের ক্ষেত্রে ক্ষতের যত্ন নেয়া • পুঁজ হলে তা বাহির করে দেয়া • অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পরেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ না হলে উচ্চতর চিকিৎসা কেন্দ্রে রেফার করতে হবে। • সংক্রমণ প্রতিরোধে সঠিক ব্যবস্থা নেয়া • রক্তপাতের স্থান চিহ্নিত করা •অপারেশনের পর ক্ষত শুকনা রাখা ৪. স্পার্ম গ্রানুলোমা কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • ভাসকে বন্ধ করার কারণে এপিডিডাইমিস প্রান্তে শুক্রাণুর জমাট বাঁধা • এপিডিডাইমিসের শেষ প্রান্তে ভাসে ব্যথা • হাতে ছোট চাকা অনুভব হওয়া • ব্যথা না হলে কিছু না করা • ব্যথা হলে ননস্টেরয়ডাল ব্যথানাশক ঔষধ দেয়া • সবসময় ব্যথা হলে চাকা কেটে ফেলা। অণ্ডকোষের দিকে ১/৪ ইঞ্চি পরিমাণ ভাস বন্ধ করে দেয়া • গ্রানুলোমাকে কাটা যাবে না • বিরল ক্ষেত্রে ব্যথার জন্য এপিডিডাইমিস কেটে ফেলতে হবে • এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি ৫. অণ্ডকোষে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • স্নায়ুর উত্তেজনা • শুক্রাণু জমে এপিডিডাইমিস ফুলে যাওয়া • স্পার্ম আনুলোমা তৈরি হওয়া • একদিকের অথবা উভয় দিকের অণ্ডকোষে দীর্ঘদিন ব্যথা • ফোলা থাকতে পারে • সহবাসে ব্যথা অথবা পরিশ্রমের ফলে ব্যথা • কাউন্সেলিং করা। ব্যথা নিজে নিজেই ভাল হয়ে যেতে পারে • ননস্টেরয়ডাল ব্যথানাশক দেয়া • জানা যায়নি ৬. এপিডিডাইমিসে সংক্রমণ কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • সংক্রমণ প্রতিরোধের যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়া • যৌনবাহিত রোগ সংক্রমণ • এপিডিডাইমিসে আঘাত/জখম • শুক্রাণু জমে এপিডিডাইমিসে চাপ তৈরি করা • জ্বর (সংক্রমণজনিত) • অণ্ডথলিতে ব্যথা • অণ্ডথলি ফোলা • বিশ্রাম • আঁটসাঁট আন্ডার ওয়্যার ব্যবহার করা বা অণ্ডথলিকে উঁচু করে রাখার জন্য ব্যবস্থা করা • অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া • ননস্টেরয়ডাল ব্যথানাশক দেয়া • বরফ দিয়ে সেঁক দেয়া • সংক্রমণ প্রতিরোধের সঠিক ব্যবস্থা নেয়া • যৌনবাহিত রোগ সংক্রমণ এর ঝুঁকি নিরূপণ করা ৭. ভ্যাসেকটমি গ্রহীতার স্ত্রীর গর্ভাবস্থা কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • ভ্যাসেকটমি করার পূর্বে গ্রহীতার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়া • অপারেশনের পর প্রথম তিন মাস পদ্ধতি ছাড়া যৌনমিলন বা অনিয়মিত পদ্ধতি ব্যবহার (অরক্ষিত যৌনমিলন) • অপারেশনের সময় ভ্যাস চিনতে না পারা বা অন্য টিস্যু কাটা • ভ্যাসেকটমি অপারেশনের ব্যর্থতা • অন্য কোন পুরুষের সাথে গ্রহীতার স্ত্রীর সহবাস করা • ভ্যাসেকটমি অপারেশনের পর গ্রহীতার স্ত্রীর গর্ভবতী হওয়া • গর্ভাবস্থার সম্ভাব্য কারণসমূহ নির্ণয় করা • গর্ভের তারিখ গণনা করা • অপারেশনের পর প্রথম ৩ মাস পর্যন্ত অন্য পদ্ধতি ব্যবহারের ইতিহাস জান • বীর্য পরীক্ষা করা • গ্রহীতার স্ত্রী অন্য কারো সাথে সহবাস করেছে কিনা গোপনীয়তা রক্ষা করে তা জানা • পুনরায় কাউন্সেলিং করা • স্ত্রীকে গর্ভজনিত সেবা দেয়া • অপারেশনের পর প্রথম ৩ কনডম বা স্ত্রীকে অন্য কোন পদ্ধতি ব্যবহার নিশ্চিত করা। মাস সহবাসের সময় • অপারেশনের পূর্বে অন্য পদ্ধতি ব্যবহার না করে থাকলে স্ত্রী গর্ভবতী আগে থেকেই হতে পারে তা বলা • ফাসাল ইন্টারপজিশনসহ সঠিক পদ্ধতিতে ভ্যাসেকটমি করা ৮. ভ্যাসেকটমির ব্যর্থতা কারণ লক্ষণসমূহ ব্যবস্থাপনা প্রতিরোধ • ত্রুটিপূর্ণ শল্য পদ্ধতি: ভ্যাসেকটমি করার সময় সঠিকভাবে ভাস বন্ধ না করা • ভাসের কাটা প্রান্ত দুটি আপনা- আপনি জোড়া লেগে যাওয়া • আপনা আপনি নতুন পথ তৈরি হওয়া যা দিয়ে শুক্রাণু চলাচল করতে পারে • বীর্য পরীক্ষায় শুক্রাণুর উপস্থিতি • ভ্যাসেকটমি কি কি কারণে ব্যর্থ হতে পারে তা গ্রহীতাকে ব্যাখ্যা করা • পুনরায় ভ্যাসেকটমি করার জন্য কাউন্সেলিং করা • সঠিক পদ্ধতিতে ভ্যাসেকটমি করা • ফ্যাসাল ইন্টারপজিশন করা স্থায়ী পদ্ধতি সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর প্রশ্ন-১. খোজা করা বা খাসি করা এবং ভ্যাসেকটমি করা কি একই কথা? খোজা করা বা খাসি করা হলো অণ্ডকোষ কেটে ফেলে দেয়া। কিন্তু ভ্যাসেকটমিতে অণ্ডকোষ কেটে ফেলা হয় না এবং পুরুষ হরমোন আগের মত তৈরি করে থাকে, ফলে পুরুষ হরমোন শরীরে ঠিক থাকে। এতে পুরুষালিভাব ঠিক থাকে এবং যৌন ক্ষমতা নষ্ট হয় না। সহবাসে কোনো সমস্যা হয় না এবং বীর্যপাতও আগের মতই হয়। বরং স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় যৌন ক্ষমতা ও তৃপ্তি বৃদ্ধি পেতে পারে। ভ্যাসেকটমি করালে শুধুমাত্র সন্তান জন্মদান করা যায় না। কারণ বীর্যে শুক্রাণু থাকে না। প্রশ্ন- ২. ভ্যাসেকটমি অপারেশন করলে বীর্যপাত কি আগের মত হয়? হ্যাঁ, বীর্যপাত আগের মতই হয়, বীর্যে শুধু শুক্রাণু থাকে না, তাই সন্তান হয় না। শুক্রাণু ও কিছু জলীয় পদার্থ নিয়ে বীর্য তৈরি হয়। শুক্রাণু তৈরি হয় অণ্ডকোষে। জলীয় পদার্থ তৈরি হয় বীর্যখলি থেকে ৭০%, প্রোস্টেট গ্রন্থি থেকে ২৫% ও অন্তকোষে থেকে ৫%, খুবই অল্প পরিমাণ বালবো ইউরেথ্রাল গ্রন্থি থেকে। ভ্যাসেকটমি অপারেশনের পর বীর্যের পরিমাণ মাত্র ৫% কমে গেলেও ভ্যাসেকটমি করা কোন পুরুষ বুঝতে পারেন না এবং এতে যৌন আনন্দের কোন হেরফের হয় না। প্রশ্ন-৩, ভ্যাসেকটমি বা টিউবেকটমি করলে কি যৌন ক্ষমতা বা সহবাসের ক্ষমতা ঠিক থাকে? ভ্যাসেকটমি করলে যৌন ক্ষমতা বা যৌন মিলনের ক্ষমতা কমে না, স্বাভাবিক থাকে। পুরুষের অণ্ডকোষ থেকে পুরুষদের হরমোন ও মহিলাদের ডিম্বাশয় থেকে মহিলাদের হরমোন তৈরি হয়। ভ্যাসেকটমি এবং টিউবেকটমি অপারেশনে অণ্ডকোষ বা ডিম্বাশয়ে কিছু করা হয় না বলে পুরুষদের পুরুষালিভাব এবং মহিলাদের মেয়েলিভাব আগের মতই ঠিক থাকে। এই সকল অপারেশনে অণ্ডকোষ ও ডিম্বাশয় স্বাভাবিক থাকে এবং স্বাভাবিকভাবেই হরমোন তৈরি করে, ফলে যৌন জীবনে কোনো প্রভাব পড়ে না প্রশ্ন-৪. ভ্যাসেকটমি বা টিউবেকটমি করলে শারীরিক ক্ষমতা অর্থাৎ পরিশ্রম করার ক্ষমতা কমে যায়, ভারী কাজ করা যায় না, এটা কি ঠিক? শরীরের শক্তি নির্ভর করে প্রতিদিনের খাদ্যের উপর। সঠিক ভাবে খাওয়া-দাওয়া করলে স্বাস্থ্য ভাল থাকবে এবং শক্তিও পাওয়া যাবে। শরীরে কোনো রোগ না থাকলে এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকলে আমরা শক্তি পেয়ে থাকি। ভ্যাসেকটমি বা টিউবেকটমি করালে শরীরের পরিশ্রম করার ক্ষমতা কমে না; ভারী কাজ করতেও কোন অসুবিধা হয় না। টিউবেকটমি অপারেশনে খুবই সামান্য পেট কাটা হয়, (১-১.৫ ইঞ্চি), তাই ভারী কাজ করতে কোনো। অসুবিধা হয় না। তবে ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত ভারী কাজ করা থেকে বিরত থাকা উচিৎ। পুরুষেরাও ভ্যাসেকটমি অপারেশন করালে ভারী কাজ আগের মতই করতে পারেন। ভারী কাজ করার সঙ্গে এই অপারেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। শ্নে-৫. টিউবেকটমি অপারেশন করলে তলপেটে চাকা হয়, ব্যথা করে, এর কারণ কী? টিউবেকটমি অপারেশন করলে তলপেটে চাকা হয় না কিংবা ব্যথা করে না। এই ধরনের অসুখের সঙ্গে টিউবেকটমির কোনো সম্পর্ক নাই। টিউবেকটমি না করালেও অনেকের তলপেটে ব্যথা ও চাকা হতে পারে। যদি তলপেটে ঢাকা হয় বা ব্যথা করে তাহলে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা করতে হবে। প্রশ্ন-৬, টিউবেকটমি বা ভ্যাসেকটমি অপারেশনের পর অনেকের বাচ্চা মারা যায়, এর কারণ কী? এটা একটা কুসংস্কার, বাচ্চা মারা যায় কোন দুর্ঘটনায় বা অসুখে। কিছু কাকতালীয় ঘটনার কারণে এরকম মনে করা হয়ে থাকে, এর সঙ্গে টিউবেকটমির বা ভ্যাসেকটমির কোনো সম্পর্ক নেই। উন্নত বিশ্বে টিউবেকটমি ও ভ্যাসেকটমি সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি। প্রশ্ন-৭. টিউবেকটমি বা লাইগেশন অপারেশনের পর কোমরে ব্যথা করে, এর কারণ কী? কোমর ব্যথার সঙ্গে লাইগেশন বা টিউবেকটমি অপারেশনের কোনো সম্পর্ক নেই। অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে কোমর ব্যথা করে, বয়স বেশি হলেও কোমর ব্যথা হতে পারে। যদি অতিরিক্ত ব্যথা করে তাহলে ডাক্তার দেখাতে হবে। প্রশ্ন-৮. একজন পুরুষের কী ভ্যাসেকটমি করা উচিত, না কী একজন মহিলার টিউবেকটমি করা উচিত? প্রত্যেক দম্পতি তাদের নিজেদের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি কোনটি সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। যারা আর সন্তান চান না তাদের জন্য দুটি পদ্ধতিই কার্যকরী, নিরাপদ ও স্থায়ী পদ্ধতি। ভ্যাসেকটমি করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও নিরাপদ। যদি দুটি পদ্ধতিই দম্পতির জন্য গ্রহণযোগ্য হয় তবে স্বামীর ভ্যাসেকটমি বেছে নিলে স্বামী পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে তার অংশ গ্রহণে গর্ববোধ করতে পারেন প্রশ্ন-৯, টিউবেকটমি বা ভ্যাসেকটমি অপারেশন করার পর কেউ যদি সম্মান চান তাহলে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় কি? পুনঃসংযোজন অপারেশন করে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় তবে এই অপারেশন খুব জটিল, ব্যয়বহুল এবং সবসময় কার্যকর ও সহজ প্রাপ্য হয় না। টিউবেকটমি বা ভ্যাসেকটমি অপারেশন করার পর কোনো কারণে সকল সন্তান মারা গেলে এবং সন্তান হওয়ার বয়স থাকলে এই অপারেশন করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) এর সাথে যোগাযোগ করে 'পুনঃসংযোজন অপারেশন' করানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এই অপারেশনে সফলতার হার খুব কম; যত দেরিতে এই অপারেশন হবে সাফল্যের হার ততই কমে যাবে প্রশ্ন-১০ ভ্যাসেকটমি ঠিকভাবে কাজ করছে তা কি পরীক্ষা করা সম্ভব? হ্যাঁ, অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে বীর্যরস পরীক্ষা করে তার মধ্যে শুক্রাণু আছে কি না দেখা যায়। যদি শুক্রাণু পাওয়া। না যায় তবে বুঝতে হবে ভ্যাসেকটমি সঠিকভাবে কাজ করছে। স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের পর পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বা পুনঃসংযোজন অপারেশন (Recanalization operation) করা টিউবেকটমি বা ভ্যাসেকটমি অপরেশনের পর প্রয়োজনে পুনঃসংযোজন অপারেশনের মাধ্যমে পুনরায় সন্তান ধারণ ক্ষমতা ফিরিয়ে আনা যায়। পুনঃসংযোজন অপারেশনের সফলতার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যত দেরিতে এই অপারেশন করা হবে সাফল্যের হার ততই কমে যাবে। কাজেই স্থায়ী পদ্ধতির "স্থায়িত্ব ও অপরিবর্তনীয়তা" সম্পর্কে গুরুত্ব আরোপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ বিশেষ প্রয়োজন। বাংলাদেশে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণের পর কোনো কারণে গ্রহীতার সকল সন্তান মারা গেলে, বিশেষ কারণে পুনঃবিবাহ হলে এবং সন্তান জন্মদানের বয়স থাকলে গ্রহীতা সন্তান নিতে ইচ্ছুক হলে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারি খরচে পুনঃসংযোজন অপারেশন করার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে কয়েকটি হাসপাতালে মাইট্রোসার্জারির মাধ্যমে মহিলাদের ডিম্বনালি এবং পুরুষদের শুক্রবাহী নালি পুনঃসংযোজন করার ব্যবস্থা রয়েছে। পুনঃসংযোজন অপারেশনে ইচ্ছুক গ্রহীতাগণ মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) বা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে পুনঃসংযোজন অপারেশনের আবেদন করবেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গ্রহীতার বর্তমান পূর্ণ বিবরণীসহ (গ্রহীতার টিউবেকটমি/ভ্যাসেকটমি সম্পাদনের তারিখ ও স্থান, বর্তমান বয়স, যোগাযোগের ঠিকানা, সন্তান মারা যাওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যয়নপত্র, সজ্জন জন্মদানের বয়স আছে কি না, অপারেশন করার জন্য স্বাস্থ্যগতভাবে উপযুক্ত কি না ইত্যাদি) আবেদনপত্রটি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারি কর্মসূচির লাইন ডাইরেক্টর বরাবর প্রেরণ করবেন। ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারি কর্মসূচি ইউনিট হতে সংশ্লিষ্ট পুনঃসংযোজন অপারেশন কেন্দ্রের সার্জনের সাথে যোগাযোগ করে অপারেশনের কেন্দ্র ও তারিখ নির্ধারণ করবেন। কেন্দ্র ও তারিখ নির্ধারণের পর সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা ও কর্মকর্তাকে সে বিষয়ে জানিয়ে দেয়া হবে। সে অনুসারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা গ্রহীতাকে নির্ধারিত কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে পুনঃসংযোজন অপারেশন করাবেন। পুনঃসংযোজন অপারেশনের যাবতীয় ব্যয় (গ্রহীতা ও তার একজন সঙ্গীর যাতায়াত ও থাকা-খাবার খরচ, সার্জন ও সার্জন-সহকারী ফি, শুটি ফি, ঔষধ ও এমএসআর ট্রয় ইত্যাদি খাতে) সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ঘোনার মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি), ডিডিও হিসাবে তার পদনামে বরাদ্দকৃত ইমপেস্ট-তহবিল হতে বহন করবেন এবং গহীতা ও তার একজন সঙ্গীর যাতায়াত ও থাকা-খাবার খরচ বাবদ ব্যয় নির্বাহের জন্য কিছু অগ্রীম টাকা হগ্রহীতাকে প্রদানের ব্যবস্থা নিবেন। মেডিকেল অফিসার (এমসিএই-এফপি)/পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পুনঃসংযোজন অপারেশন কেন্দ্রের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখবেন এবং অপারেশনের ব্যয় তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধের ব্যবস্থা নিবেন। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ/ব্যবহারজনিত জটিলতার চিকিৎসার আর্থিক ব্যবস্থাপনা • স্থায়ী পদ্ধতিসহ পরিবার পরিকল্পনা যে কোন পদ্ধতি ব্যবহারজনিত যে কোন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতার চিকিৎসা বাবদ যাবতীয় বায় সরকারি তহবিল হতে বহন করা হয়। • সংশ্লিষ্ট উপজেলার মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ভিডিও হিসাবে তার পদনামে বরাদ্দকৃত ইমপ্রেস্ট-ফান্ড বা স্থায়ী অগ্রিম তহবিল হতে জটিলতার চিকিৎসা বাবদ খরচ পরিশোধ করবেন। • সেবা গ্রহীতার দ্রুত চিকিৎসা এবং জীবন রক্ষার্থে তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে কোন সীমাবদ্ধতা নেই। প্রকৃত প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করা যাবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন/মঞ্জুরী গ্রহণ করতে হবে। তবে যাবতীয় ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক নিয়ম-নীতি প্রতিপালন করতে হবে। • পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা জটিলতার চিকিৎসা স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বা প্রয়োজনে অন্য কোন সরকারি/বেসরকারি হাসপাতালে সরকারি খরচে করা যাবে। তবে সরকারী স্বাস্থ্য কেন্দ্র বা হাসপাতালকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। • জটিল রোগীর দেখাশোনা ও সেবা শুশ্রূষা করার জন্য রোগীর সাথে হাসপাতালে থাকবেন এমন একজন ব্যক্তির বা নিকটতম আত্মীয়ের থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত ব্যয়ও সরকারি তহবিল হতে পরিশোধ করা যাবে। স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণোত্তর কোন জটিলতার কারণে মৃত্যু হলে করণীয় টিউবেকটমি বা ভ্যাসেকটমি অপারেশনের যেকোনো জটিলতার জন্য অপারেশনের ৪২ দিনের মধ্যে গ্রহীতা মৃত্যুবরণ করলে এই মৃত্যুকে স্থায়ী পদ্ধতিজনিত মৃত্যু বলে গণ্য করা হয়। মৃত/মৃতার দাফন-কাফন ও সংস্কারের জন্য পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সরকারি তহবিল হতে তাৎক্ষণিকভাবে ১৫০০০/- (পনের হাজার) টাকা প্রদান করার নিয়ম রয়েছে। উপজেলা/থানার মেডিক্যাল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) এর পদনামে বরাদ্দকৃত ইমপ্রেস্ট ফান্ড বা স্থায়ী অগ্রিম তহবিল হতে এই খরচ বহন করা হয়। মৃত/মৃতার স্বামী/স্ত্রী অথবা আইনগত উত্তরাধিকারীদের কাছে এই অর্থ প্রদান করা হয়। মৃত্যুর কারণও অনুসন্ধান করা হয়ে থাকে যাতে ভবিষ্যতে এসব মৃত্যু রোধ করা যায়। অনুরূপভাবে আইইউডি ইমপ্ল্যান্ট ও ইনজেকটেবল গ্রহণজনিত জটিলতার মৃত্যুর জন্যও ১৫০০০/-(পনের হাজার) টাকা প্রদান করা হয়ে থাকে। টিউবেকটমি দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী টিউবেকটমি গ্রহীতার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিশ্চিত করবেন কাউন্সেলিং • গ্রহীতার বয়স জিজ্ঞাসা করুন এবং যাচাই করুন। • দুইজন জীবিত সন্তান আছে, ছোট সন্তানের বয়স ১ বছরের নীচে নয়। • দুইজন জীবিত সন্তান আছে, ছোট সন্তানের বয়স ১ বছরের নীচে, সেক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রী দুইজনের কাছ থেকে সম্মতি নিতে হবে। • ২য় সিজারিয়ানের সময় দম্পতির সম্মতি নিয়ে টিউবেকটমি করা যাবে। • স্বামীর সফল এনএসভি করা আছে কিনা জিজ্ঞাসা করুন। * গ্রহীতাকে অবহিত করুন যে টিউবেকটমি একটি স্থায়ী পদ্ধতি এবং খুব কম ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যর্থ হতে পারে। অন্যান্য অস্থায়ী পদ্ধতি সম্পর্কেও অবহিত করুন। • গ্রহীতাকে টিউবেকটমির পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করুন। * গ্রহীতাকে এই পদ্ধতির সুবিধা, অসুবিধা এবং জটিলতা সম্পর্কে অবহিত করুন। • গ্রহীতাকে প্রশ্ন করার জন্য সুযোগ দিন এবং পদ্ধতি সংক্রান্ত তার সকল সংশয় দূর করুন। * গ্রহীতার কাছ থেকে অবশ্যই লিখিত অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিপসই) গ্রহণ করতে হবে। গ্রহীতাকে সম্মতি পত্র পড়তে দিতে হবে। গ্রহীতা পড়তে না পারলে তাকে গড়ে ওে শারীরিক পরীক্ষা • রক্তশূন্যতা, জন্ডিসের লক্ষণ আছে কিনা লক্ষ্য করুন। রক্তচাপ পরিমাপ করুন। * কোন স্থানীয় সংক্রমণ আছে কিনা লক্ষ্য করুন • হার্ট ও ফুসফুস পরীক্ষা করুন। তলপেটের পরীক্ষা • আরটিআই/এসটিআই আছে কিনা পরীক্ষা করুন। অপারেশনের পূর্ব প্রস্তুতি • অপারেশনের ২ঘন্টা পূর্বে গ্রহীতাকে ট্যাবলেট সিপ্রোফ্লক্সাসিন ৫০০ মি.গ্রা. ২টা অথবা এজিথ্রোমাইসিন ৫০০ মি.গ্রা. ১টি মুখে খেতে দিন। অপারেশনের ৪৫ মিনিট পূর্বে গ্রহীতাকে ২টি ৫ মি.গ্রা. ডায়াজিপাম ট্যাবলেট খেতে দিন • অপারেশন কক্ষে ঢুকানোর আগে গ্রহীতাকে অবশ্যই প্রস্রাব করে আসতে বলুন • গ্রহীতাকে অপারেশন টেবিলে শুতে সাহায্য করুন এবং অবহিত সম্মতি পত্র পরীক্ষা করুন। • মাস্ক এবং ক্যাপ পরিধান করুন। সার্জিক্যাল হ্যান্ড স্ক্রাব করুন। সার্জিক্যাল গ্লাভস ও গাউন পরিধান করুন। প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি ও ঔষধ প্রস্তুত আছে কিনা পরীক্ষা করুন। • অপারেশনের স্থান অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার করুন। * প্রাক-টিউবেকটমি অপারেশনে ব্যবহৃত ঔষধ ও প্রয়োগের নিয়মাবলী: ১. ইনজেকশন পেন্টাক্রোসিন ৩০ মি.গ্রা/ ইনজেকশন পেথেডিন ২৫ মি.গ্রা ২. ইনজেকশন প্রোমেথাজিন ১২.৫ মিগ্রা ৩. ইনজেকশন এট্রোপিন ০.৬ মি.গ্রা * হাহীতাকে অপারেশনের জন্য টেবিলে শোয়ানোর পর ৩টি ঔষধ একসাথে ১টি ৫মি.লি. স্টেরাইল ডিসপোজেবল সিরিঞ্জে নিয়ে ককটেল তৈরী করে শিরার মধ্যে ধীরে ধীরে দিতে হবে। অপারেশন পদ্ধতি • অপারেশনের স্থানটি জীবাণুমুক্ত ট্র্যাপার দিয়ে আলাদা করুন।। • অপারেশনের স্থানটি ১% লিডোকেন ইনজেকশন দিয়ে অবশ করতে হবে। ১% লিডোকেন ১৫-২০ মিলিলিটার পর্যন্ত ব্যবহার করুন। • পিউবিক সিমফাইসিস (pubic symphysis) এর দু'আঙুল উপরে শরীরের মাঝ রেখার কাছে ঠিক চামড়ার নিচে ইনজেকশনের সূঁচ ঢুকিয়ে দিয়ে সুচটাকে ডানে-বাঁয়ে, উপরে নিচে ঘুরিয়ে ৫ মিলিলিটার ইনজেকশন দিন। তারপর ৪৫০ করে ভিতরে ঢুকিয়ে ৪-৫ মিলিলিটার লিডোকেন রেকটাস শিথে দিন। এর পর সুচকে আরো একটু ঢুকিয়ে ২-৪ মিলিলিটার লিডোকেন পেরিটানিয়ামে (peritoneum) দিন। • ২-৩ মিনিট অপেক্ষার পর টুথ ডিসেকটিং ফরসেপ এর সাহায্যে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা করুন। • এরপর অপারেশনের জায়গায় আড়াআড়িভাবে (transverse incision) চামড়া কাটুন। সাধারণত: ১-১.৫ ইঞ্চির বেশি কাটার প্রয়োজন হয় না। • চামড়া কাটার পরে চামড়ার নিচের চর্বিগুলো উপরে নীচে সরিয়ে দিন যাতে চকচকে রেকটাস শিথ দেখা যায়। • রেকটাস শীথ আড়াআড়ি ভাবে কাটুন। ২. টি আর্টারি ফরসেপ দিয়ে রেকটাস শীঘের উপরে এবং নীচে ধরুন। রেকটাস এবডোমিনিস মাংসপেশি (rectus abdominis muscle) থেকে শীথকে সাবধানে আলাদা করুন। এরপর মিডলাইনে রেকটাস • • muscle আলাদা (split) করুন। রিট্রাকটর ঢুকান। এভাবে আলাদা করে সব কিছুকে পাশে সরিয়ে রাখার পর পেরিটোনিয়াম দেখা যাবে। পেরিটোনিয়ামকে বাইরে টেনে তুলে এনে চুরির সবচেয়ে প্রশস্ত অংশ দিয়ে পেরিটোনিয়ামকে দাম্বালম্বিভাবে কাটুন। • পেরিটোনিয়াল ক্যাভিটিতে রিট্রাক্টার চুকান এবং জরায়ুর ফান্ডাসকে সামনের দিকে আনুন। • জরায়ুকে এক পাশে সরিয়ে আঙুলের মাধ্যমে ফেলোপিয়ান টিউবকে উপরে তুলুন (সাহায্যকারীর দিকের টিউব) এবং ব্যাবকল্প ফরসেপের সাহায্যে টিউবকে ধরুন। মডিফাইড পমেরয় (Modified Pomeroy) পদ্ধতিতে টিউব বাঁধুন ও কাটুন। রক্তক্ষরণ বন্ধ হওয়া নিশ্চিত করুন * একই ভাবে অন্য পাশের টিউবটি বাঁধুন ও কাটুন। অপারেশনের স্থান বন্ধ করা • ক্ষত বন্ধ করার পূর্বে কোথাও কোন রক্তপাতের উৎস আছে কিনা সে বিষয়ে খুবই সতর্ক হতে হবে। • পেরিটোনিয়াম বন্ধ করা বাধ্যতামূলক না। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, পেরিটোনিয়াম ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনা-আপনি জোড়া লেগে যায়। • ভিতিল গ্রেড বা ১-০ ক্যাটখাট দিয়ে ব্রেকটাস শিক্ষকে ধারাবাহিকভাবে সেলাই দিয়ে বন্ধ করতে হবে। • ভিচিল থ্রেড বা সিদ্ধ বা ১-২০ ক্রনিক আটঘাট দিয়ে আলাদা আলাদা চামড়া কাটার ছাল বন্ধ করতে হবে। • জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে ড্রেসিং করুন। অপারেশন শেষ করা অপারেশন শেষ করা • ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলুন বা ডুবিয়ে রাখুন • দুই হাতের গ্লাভস খুলে বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলুন • হাত ভালো করে ধুয়ে অপারেশনের সকল তথ্য ফরমে লিপিবদ্ধ করুন এবং নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করুন অপারেশন পরবর্তী যত্ন • অপারেশনের পরে গ্রহীতার ভাইটাল সাইন (Pulse, BP) মনিটরিং করুন। সম্মতিপত্রে গ্রহীতার অপারেশন পরবর্তী ভাইটাল সাইনগুলো রেকর্ড করুন। • অপারেশনের ৪ ঘন্টা পর রোগীকে হালকা খাবার খেতে দিন। • যখন গ্রহীতার ভাইটাল সাইনগুলো ঠিক থাকবে তখন তাকে discharge করুন। গ্রহীতা ডিসচার্জ • সঠিক ঔষধ সরবরাহ নিশ্চিত করুন। গ্রহীতাকে ৭ দিন পর ফলো-আপে আসতে বলুন। * গ্রহীতাকে অপারেশন পরবর্তী ক্ষতের যত্ন এবং বিপদচিহ্ন সম্পর্কে বলুন। • ২ সপ্তাহের জন্য সহবাস এবং ৩ সপ্তাহ ভারী কাজ থেকে বিরত থাকতে বলুন। ১ সপ্তাহ ব্যান্ডেজ রাখতে এবং ব্যান্ডেজ না ভেজাতে বলুন * গাইডলাইন অনুসারে অপারেশন পরবর্তীতে antibiotic দিন • যদি কোন জটিলতা দেখা দেয় তবে কি করতে হবে তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলুন • গ্রহীতাকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দিন এনএসডি (NSV) দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী এনএসভি গ্রহীতার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ নিশ্চিত করবেন কাউন্সেলিং • দুইজন জীবিত সন্তান আছে ছোট সন্তানের বয়স ১ বছরের নীচে নয়। • দুইজন জীবিত সন্তান আছে ছোট সন্তানের বয়স ১ বছরের নীচে সেক্ষেত্রে স্বামী এবং স্ত্রী দুইজনের কাছ থেকে সম্মতি নিন। • গ্রহীতাকে NSV-এর পদ্ধতি এবং জটিলতা সম্পর্কে অবহিত করুন। • গ্রহীতাকে অবহিত করুন যে NSV একটি স্থায়ী পদ্ধতি এবং অন্যান্য অস্থায়ী পদ্ধতি সম্পর্কেও অবহিত করুন • জিজ্ঞাস্য করুন স্ত্রীর টিউবেকটমি করা হয়েছে কিনা • গ্রহীতার কাছ থেকে অবশ্যই অবহিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর (বা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টিপসই) গ্রহণ করতে হবে। গ্রহীতাকে সম্মতি পত্র পড়তে দিতে হবে। গ্রহীতা পড়তে না পারলে তাকে পড়ে শোনাতে হবে। শারীরিক পরীক্ষা • রক্তশূন্যতা পরীক্ষা করুন (হিমোগ্লোবিন ৪৫% -এর কম)/রক্তচাপ/নাড়ীর গতি/জন্ডিস • কুচকি (ইংগুইনাল) ও অন্তথলির পরীক্ষা করুন • স্থানীয় সংক্রমণ বা অন্ডকোষ ফোলা বা ব্যথা বা কোন চাকা আছে কিনা পরীক্ষা করুন। • হাইড্রোসিল অথবা ভেরিকসিল বা ইংগুইনাল হার্নিয়া আছে কিনা পরীক্ষা করুন • Vas deference হাত দিয়ে পরীক্ষা করুন অপারেশনের পূর্বে প্রস্তুতি • অপারেশনের ২ঘণ্টা পূর্বে গ্রহীতাকে Ciprofloxacin 500 mg ২টা Tab মুখে খেতে দিন। • অপারেশনের জায়গায় গ্রহীতাকে ভালভাবে সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার করতে বলুন। • অপারেশনের জায়গা শেভ করা থেকে বিরত থাকুন অপারেশন পদ্ধতি • Surgical Hand Scrub করুন এবং Surgical গ্লাভস পরুন। • অপারেশনের জায়গা জীবানণুমুক্ত করুন (চামড়া swab করা) • Penis কে উপড়ে পেটের দিকে ঘড়ির কাটার ১২ মত করে জীবাণুমুক্ত শীট দিয়ে ঢেকে ক্লিপ দিয়ে আটকিয়ে দিন। • তিন আঙুলের সাহায্যে উভয় দিকের ভাসকে চিহ্নিতকরণ, আলাদাকরণ এবং চামড়ার ঠিক নীচে স্থির করতে হবে। তারপর ৫-৬ মি.লি. ১% লিডোকেইন ইনজেকশন অন্ডথলির মধ্যরেখা (median raphe) এর উপরের ১/৩ অংশ এবং নীচের ২/৩ অংশের সংযোগস্থলে দিয়ে জায়গাটি অবশ করুন। • রিং ফরসেপ দিয়ে অবশের স্থানে ডান দিকের ভাসকে আটকাতে হবে এবং রিং ফরসেপের হাতলকে নীচু করে ভাসকে উপরের দিকে উঠান। • ডিসেক্টিং ফরসেপের তীক্ষ্ম সবু ভিতরের দিকের মাথা দিয়ে চামড়াকে ছিদ্র করুন। এমনভাবে ছিদ্র করুন যাতে ডিসেক্টিং ফরসেপ এর সরু মাথা সাবকিউটিনিয়াস টিস্যু (subcutaneous tissue) ও ফাসা ভেদ করে ভাসের উপরিভাগ স্পর্শ করে। • ফরসেপটি বের করে এনে এর দুটো মাথাই একত্র করে ঐ ছিদ্রপথে আবার ঢুকিয়ে ছিদ্রটিকে বড় করতে হবে এবং সাবকিউটিনিয়াস টিস্যু ও ফাসাকে ভাস থেকে সরান। • ডিসেক্টিং ফরসেপের অগ্রভাগ নীচের দিকে ৪৫ ডিগ্রি মুখ করে এর বাইরের লিপ দিয়ে ভাসকে হুক করে অন্যান্য টিস্যবস্তু থেকে আলাদা করে নিতে হবে এবং ডিসেক্টিং ফরসেপ ঘড়ির কাটার উল্টোদিকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে ভাসকে ছিদ্র পথের কাছাকাছি এনে স্থির রাখুন। • ভাষকে ছিদ্রপথ দিয়ে বের করে আনতে হবে এবং রিং ফরসেপ দিয়ে আংশিকভাবে ধরুন। • ভাসকে ফরসেপ দিয়ে আলতোভাবে চেপে ক্র্যাশ (crush) করতে হবে তারপর সুতা দিয়ে ভাসের দুই প্রান্ত বাঁধতে হবে। ভাসের বাঁধা অংশের মাঝের ১ সেন্টিমিটার পরিমাণ অংশ কেটে বাদ দিন। • রক্তপাত হচ্ছে না নিশ্চিত হয়ে ভাসকে তার নির্দিষ্ট স্থানে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং ফিরিয়ে দেয়ার পূর্বে facial interposition করুন। • অপর দিকের ভাসের জন্য একই পদ্ধতি অবলম্বন করুন। • অন্ডথলি পরীক্ষা করে দেখতে হবে এবং ছিদ্র অংশটি ১ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। • জীবানুমুক্ত ড্রেসিং গজ দিয়ে ক্ষতস্থান ঢেকে এ্যাডহেসিভ টেপ (adhesive tape) দিয়ে আটকিয়ে দিন। • ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সাবান পানিতে ধুয়ে ফেলুন বা ডুবিয়ে রাখুন • দুই হাতের গ্লাভস খুলে বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলুন • হাত ভালো করে ধুয়ে অপারেশনের সকল তথ্য ফরমে লিপিবদ্ধ করুন এবং নির্দিষ্ট স্থানে স্বাক্ষর করুন অপারেশন পরবর্তী গ্রহীতার সেবা • রিকোভারী এরিয়াতে (recovery area) গ্রহীতার ভাইটাল সাইন দেখুন। • গাইডলাইন অনুসারে অপারেশন পরবর্তীতে antibiotic দিন। * সম্মতিপত্রে গৃহীতার অপারেশন পরবর্তী ভাইটাল সাইনগুলো রেকর্ড করুন। * যখন গ্রহীতার ভাইটাল সাইনগুলো ঠিক থাকবে তখন তাকে discharge করুন। প্রহীতাকে ডিসচার্জ • সঠিক ঔষধ ও কনডম সরবরাহ নিশ্চিত করুন এবং কনডম কিভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হয় তা দেখিয়ে দিন • ৩ মাস পর্যন্ত সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করতে বা স্ত্রীকে অন্যকোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে উপদেশ দিন • ফলো-আপের তারিখ সম্বন্ধে বলুন • কখন ড্রেসিং খুলতে হবে তা তাকে অবহিত করুন • যদি কোন জটিলতা দেখা দেয় তবে কি করতে হবে তা গ্রহীতাকে বুঝিয়ে বলুন। • গ্রহীতাকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ দিন। পরিশিষ্ট – ১ পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতির সেবাদান কেন্দ্রে/ক্লিনিকে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সরঞ্জামাদি সার্জিক্যাল অ্যাপারেল ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদির তালিকা (প্রারম্ভিক সরবরাহ এবং পরে প্রয়োজন মত প্রতিস্থাপন ও সরবরাহ করতে হবে) (ক) প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা নং দ্রব্যাদির নাম ন্যূনতম সরবরাহের পরিমান ১ ওটি টেবিল ১টি ২ ওটি লাইট ১টি ৩ ইনস্ট্রমেন্ট ট্রলি (Instrument trolley) ১টি ৪ অটোক্লেভ ১টি ৫ স্টেরিলাইজার ড্রাম ৫টি ৬ অটোক্লেভ টেস্ট টেপ (৫০ মি.X ২ সে. মি.) ১টি ৭ কেরোসিনের চার-বার্নার প্রেসার স্টোভ বা গ্যাস বার্নার স্টোভ ২টি ৮ কেরোসিন স্টোভ ২টি ৯ টিউকেটমি কিট: (প্রতিটি কিটে নিম্নোক্ত যন্ত্রপাতি রয়েছে) ১. বি পি হ্যান্ডেল ২. নিডল হোল্ডার ৩. ব্যাবকক টিস্যু ফরসেপ ৪. লম্বা সোজা আর্টারি ফরসেপ (মধ্যম আকারের) ৫. কার্ভড মসকিউটো আর্টারি ফরসেপ ৬. এলিস টিস্যু ফরসেপ ৭. পে ইন ডিসেকটিং ফরসেপ ৮. টথড ডিসেকটিং ফরসেপ ৯. মায়ো সিজার ১০. স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ ১১. রিট্রাক্টর ১০ সেট ১টি ১টি ২টি ২টি ৪টি ২টি ১টি ১টি ১টি ১টি ১ জোড়া ১০ এনএসভি কিট: (প্রতিটি কিটে নিম্নোক্ত যন্ত্রপাতি রয়েছে) ১. রিং ফরসেপ ২. ভাস ডিসেক্টিং ফরসেপ ৩. ছোট সার্জিক্যাল সিজার ৬ সেট ১টি ১টি ১টি ১১ গজ বা ব্যান্ডেজ কাটার বাঁকা বড় কাঁচি ২টি ১২ কাপড় কাটার কাঁচি ২টি ১৩ বিপি মেশিন ৩টি ১৪ স্টেথোস্কোপ ৩টি ১৫ বড়দের ওজন মাপার যন্ত্র ১টি ১৬ অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন রাখার কাপ (গালিপট) ৫টি ১৭ কিডনি ট্রে ৪টি ১৮ পিভি পরীক্ষার যন্ত্রপাতি (কাসকোস বাই ভাল্ব ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম, কিডনি ট্রে, সলিউশন তৈরির কাপ) ৩ সেট ১৯ লিফটারসহ লিফটার জার ২টি ২০ ঢাকনাসহ ড্রেসিং জার ২টি ২১ স্যালাইন স্ট্যান্ড ২টি ২২ ট্যালকুইস্ট বুক ১টি ২৩ আয়রন কট নিম্নোক্ত দ্রব্যাদি স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করতে হবে ২-৫টি ২৪ টেস্ট টিউব ১২টি ২৫ তিন ব্যাটারির বা রিচার্জার টর্চ লাইট ২টি ২৬ বিশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সরবরাহ (প্লাস্টিকের বালতি, ইউটিলিটি গ্লাভস্) ইত্যাদি প্রয়োজনমত ২৭ থার্মোমিটার ৩টি ১ ক্লায়েন্ট গাউন ২০সেট ২ সার্জন/অ্যাসিস্ট্যান্ট গাউন ২০সেট ৩ টিউবেকটমি শিট ২০টি ৪ ভ্যাসেকটমি শিট ২০টি ৫ ট্রলি শিট ২০টি ৬ ড্র-শিট ২০টি ৭ ক্যাপ ২০টি ৮ মাস্ক ২০টি ৯ গ্লাভস্ কভার ২০টি ১০ বেড শিট ২০টি ১১ কম্বল ২০টি ১২ ম্যাট্রেস ১০সেট ১৩ কভারসহ বালিশ, মশারি, পর্দা, ম্যাকেনটোস, OT স্যান্ডেল ইত্যাদি ২-৫সেট যে কোন প্রয়োজনীয় সরবরাহ স্থানীয়ভাবে ক্রয় করে সমন্বয়ের মাধ্যমে অর্থ বরাদ্দের সুযোগ রয়েছে পরিশিষ্ট – ২ ১০০টি টিউবেকটমি অপারেশন করার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ, এমএসআর ও অন্যান্য দ্রব্যাদির তালিকা ক্রমিক নং দ্রব্যের নাম একক ১০০ অপারেশন সম্পাদনের জন্য ঔষধ ১ ইনজেকশন এ্যাট্রোপিন সালফেট (০.৬ মি.গ্রা./মি.লি.) অ্যাম্পুল ১১০ ২ ইনজেকশন প্রোমেথাজিন (১২.৫ মি.গ্রা. প্রতি মি.লি.) অ্যাম্পুল ১১০ ৩ (ক) ইনজেকশন পেথিডিন (২৫ মি.গ্রা. প্রতি মি.লি.) অথবা (খ) ইনজেকশন পেন্টাজোসিন (৩০ মি.গ্রা./মি.লি.) অ্যাম্পুল ১১০ ৪ ইনজেকশন জাইলোকেইন (১%, ৫০ মি.লি.) ভায়াল ৫০ ৫ ট্যাবলেট সিপ্রোফ্লক্সাসিন/ ট্যাবলেট এজিথ্রোমাইসিন (অ্যান্টিবায়োটিক ৩ দিনের ডোজ) ট্যাবলেট ৬৬০/৩৩০ ৬ ট্যাবলেট ডায়াজিপাম (৫ মি.গ্রা. প্রতি ট্যাবলেট) ট্যাবলেট ২২০ ৭ ট্যাবলেট প্যারাসিটামল (৫০০ মি.গ্রা. প্রতি ট্যাবলেট) ট্যাবলেট ১১৫০ ৮ ট্যাবলেট আয়রন। ফলিক এসিড ট্যাবলেট ২২০০ সার্জিক্যাল দ্রব্যাদি ৯ শোষণ তুলা (১০০ গ্রাম রোল ৩২ ১০ সার্জিক্যাল গজ (প্রতি থানে ২০গজ) থান ৬ ১১ ক্রমিক ক্যাটগাট/পিজিএ (১-০) পিস ১১০ ১২ পভিডন আয়োডিন সলিউশন (১০০ মি.লি.) বোতল ৩০ ১৩ সার্জিক্যাল গ্লাভস্ (সাইজ ৬.৫) জোড়া ২৩০ ১৪ সার্জিক্যাল গ্লাভস্ (৭.৫) জোড়া ১১৫ ১৫ ডিসপোজেবল স্টেরাইল সিরিঞ্জ (১০ সি.সি.) পিস ২২০ ১৬ ডিসপোজেবল স্টেরাইল সিরিঞ্জ (০৫ সি.সি.) পিস ১১০ ১৭ সার্জিক্যাল ব্লেড (স্টেরাইল, সাইজ-১০) পিস ১১০ ১৮ ইউরিস্টিক জিপি-২ (গ্লুকোজ ও অ্যালবুমিন পরীক্ষার জন্য) পিস ১১০ ১৯ স্টেরাইল ডিসপোজেবল ল্যানসেট পিস ১১০ ২০ ইলাস্ট্রোমেরিক ড্রেসিং ম্যাট্রিক্স (ডিওডার্ম), সাইজ ১০ সে.মি. × ১০ সে. মি.) পিস ১১০ ২১ ট্যালকুইস্ট বুক বই ০১ ২২ কাটিং কার্ডড নিডিল পিস ১০ ২৩ কাটিং স্ট্রেইট নিডিল পিস ১০ ২৪ কার্ভড রাউন্ড বডি নিডিল পিস ১০ ২৫ ব্ল‍্যাক ব্লেইডেড সিল্কথ্রেড (১-০) পিস ১১০ ২৬ শাড়ি পিস ১০০ পরিশিষ্ট – ৪ পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতির সেবাদান কেন্দ্রে/ক্লিনিকে জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের তালিকা (প্রারম্ভিক সরবরাহ এবং পরে প্রয়োজন মত প্রতিস্থাপন ও সরবরাহ করতে হবে।) নং দ্রব্যাদির নাম ন্যূনতম সরবরাহের পরিমাণ জরুরি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম (যা বহুদিন পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়) ১ অক্সিজেন থেরাপি ইউনিট (ক) অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার (খ) সিলিন্ডার রাখার স্ট্যান্ড বা ট্রলি (গ) থেরাপি সেট: প্রেসার মিটার ফ্লো মিটার এবং কন্ট্রোল ভাল্ব সিলিন্ডারের চাবি (অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাথে গোল চাবি লাগানো থাকতে পারে) টিউবসহ ফেইস মাস্ক প্যাচযুক্ত পানির বোতল ১সেট ২টি ২টি ২ এয়ারওয়ে টিউব ১ সেট (৩টি বিভিন্ন সাইজের) ৩ পকেট মাস্ক ১টি ৪ সাকশন মেশিন (ইলেকট্রিক/ম্যানুয়াল) (যদি সাকশন মেশিন না থাকে তাহলে একটি এম,আর, সিরিঞ্জ ও ক্যাথেটার রাখতে হবে।) ১টি ৫ ম্যানুয়াল রিসাসিটেটর বা আম্বু ব্যাগ ১টি ৬ জরুরি আলোর ব্যবস্থা (৩ ব্যাটারির বা রিচার্জার ইলেকট্রিক টর্চ লাইট) ১টি ৭ ল্যাপারেটমি সেট (ভেনিসেকশন কিট, ভেইন-ফ্লোসহ) ১টি ট্রে-তে সবসময় প্রস্তুত অবস্থায় সাজানো রাখতে হবে জরুরি এমএসআর ও সরঞ্জাম যা একবার ব্যবহার করলেই প্রতিস্থাপন করতে হবে ১ অ্যাট্রোমাটিক ক্যাটগাট ('o') ৫টি ২ রাইলস্ টিউব ২টি ৩ ফলিস ক্যাথেটার ২টি ৪ রাবার ক্যাথেটার ১টি পরিশিষ্ট – ৫ পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতির সেবাদান কেন্দ্রে/ক্লিনিকে জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় জরুরি ঔষধের তালিকা জরুরি ঔষধপত্র বহুখোপ বিশিষ্ট একটি নির্দিষ্ট কাঠের বাক্সে রাখতে হবে। যাতে প্রয়োজনীয় মুহূর্তে সহজেই হাতের কাছে পাওয়া যায়। প্রত্যেক খোপে ঔষধের নাম, সংখ্যা ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ লিখে রাখতে হবে। জরুরি প্রয়োজনে কোনো ঔষধ ব্যবহার করা হলে ঐ দিনই স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে পূরণ করে পরবর্তী অপারেশনের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে। যে কোনো জরুরি ঔষধ মেয়াদ উত্তীর্ণের কাছাকাছি চলে আসলে এবং ব্যবহারের কোনো সম্ভাবনা না থাকলে অন্যত্র ব্যবহারের ব্যবস্থা করতে হবে (যেমন- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা হাসপাতাল ইত্যাদি)। নং দ্রব্যাদির নাম ন্যূনতম সরবরাহের পরিমাণ ১ ন্যালোক্সন ইনজেকশন (০.৪ মিলিগ্রাম/মি.লি.) ২ অ্যাম্পুল ২ এপিনেফ্রিন (এডরিনালিন ১:১০০০ দ্রবন) ১মি.গ্রা./মি.লি. ইনজেকশন ২ অ্যাম্পুল ৩ হাইড্রোকরটিসন ইনজেকশন (১০০ মিলিগ্রাম) ২ অ্যাম্পুল ৪ প্রোমেথাজিন ইনজেকশন (২৫ মিলিগ্রাম/মি.লি.) ২ অ্যাম্পুল ৫ ৫% ডেক্সট্রোজ ইন নরমাল স্যালাইন (৫০০মি.লি. ব্যাগ) ২ ব্যাগ ৬ নরমাল স্যালাইন (৫০০ মি.লি. ব্যাগ) ২ ব্যাগ ৭ হার্টম্যান সলিউশন (৫০০ মি.লি. ব্যাগ ২ ব্যাগ ৮ ২৫% গ্লুকোজ সলিউশন (৫০/১০০/২০০ মি.লি. বোতল/ব্যাগ) ২ বোতল/ব্যাগ ৯ সালবিউটামল ইনহেলার (২.৫ মি.গ্রা) ১টি ১০ এফিড্রিন ইনজেকশন (৩ মি.গ্রা./মি.লি.) ২ অ্যাম্পুল ১১ ডায়াজিপাম ইনজেকশন (১০ মিলিগ্রাম/মি.লি.) ২ অ্যাম্পুল ১২ ১০% ক্যালসিয়াম গ্লুকোনেট ইনজেকশন (১০ মি.লি./অ্যাম্পুল) ২ অ্যাম্পুল ১৩ ৭.৫% সোডিয়াম-বাই কার্বনেট ইনজেকশন (২৫ মি.লি./অ্যাম্পুল) ২ অ্যাম্পুল ১৪ অ্যামাইনোফাইলিন ইনজেকশন (২৫০ মিলিগ্রাম/১০ মি.লি.) ২ অ্যাম্পুল ১৫ এ্যাট্রোপিন ইনজেকশন (০.৬ মিলিগ্রাম/মি.লি.) ৫ অ্যাম্পুল ১৬ আইভি ক্যানোলা (সাইজ ১৮/২০/২২) প্রতিটি ২ টি করে ১৭ আইভি ইনফিউশন সেট ২ সেট ১৮ স্টেরাইল ডিসপোজেবল সিরিঞ্জ, ৩/৫/১০/৫০ মি.লি. সাইজের প্রতিটি ২ টি করে বিশেষ নির্দেশনা জরুরি ঔষধের মধ্যে শুধুমাত্র ন্যালোক্সন ইনজেকশন কেন্দ্রীয়ভাবে সরবরাহ করা হবে। অন্যান্য জরুরি ঔষধ স্থানীয়ভাবে ক্রয় ও সংগ্রহ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রতি বছরই ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারি প্রোগ্রাম হতে উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রয়োজনে জরুরি ঔষধপত্রের বিকল্প (Substitute) ঔষধ ব্যবহার করা যাবে। স্থায়ী পদ্ধতির সেবার মান যত উন্নত হবে, জরুরি ঔষধের ব্যবহার তত কম হবে। এর ফলে সংগ্রহ ও মজুদকৃত জরুরি ঔষধ মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মেয়াদ উত্তীর্ণের জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। তবে মেয়াদ উত্তীর্ণের কাছাকাছি এসে গেলে স্থানীয়ভাবে অন্য কোন কার্যক্রমে (বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগে) ব্যবহারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। উল্লেখ্য, টিউবেকটমি বা ভ্যাসেকটমি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়, এটি পরিবার পরিকল্পনার একটি পদ্ধতি যা সম্পাদনে সার্জিক্যাল পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। যেহেতু সার্জিক্যাল পদ্ধতি, কাজেই যেকোনো মুহূর্তে জরুরি পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। কাজেই জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করার সকল ব্যবস্থা সবসময় থাকতে হবে। জরুরি ঔষধ ও এমএসআর যত কম ব্যবহার হবে ততই মনে করতে হবে যে জটিলতা কম হচ্ছে এবং গুণগত মানসম্পন্ন সেবা দেয়া হচ্ছে। প্রযোজনীয় কয়েকটি জরুরি ঔষধের মাত্রা ও ব্যবহার বিধি ঔষধ নির্দেশনা (Indications) প্রয়োগ/ব্যবহার বিধি অ্যাড্রিনালিন/এপিনেফরিন • তীব্র অ্যাজমা • নিম্ন রক্তচাপ • ঔষধের তীব্র প্রতিক্রিয়া (Anaphylaxis) • হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত স্পন্দন (Arrythmias) - ভেন্ট্রিকলের ফিব্রিলেশন - নাড়িহীন ভেন্ট্রিকেলের অতিরিক্ত স্পন্দন (Pulseless venticular tachycardia) - স্পন্দনহীনতা (Asystole) - নাড়িবিহীন বৈদ্যুতিক ক্রিয়া (Pulseless electrical activity) • তীব্র অ্যাজমা এবং অবশকরণের ঔষধের তীব্র প্রতিক্রিয়া: ০.৩-০.৫ মিলিগ্রাম ■ (১৪ ১০০০ দ্রবণের ০.৩-০.৫ মিলিলিটার) ত্বকের নীচে প্রয়োজনে ১০-২০ মিনিট পরপর। • নিম্ন রক্তচাপ ২-১৬ মাইক্রোগ্রাম শিরায়: তারপর ০.০৫-০.৩ মাইক্রোগ্রাম/কেজি/ মিনিট (৫০০ মিলিলিটার সাথে ৪ মিলিগ্রাম মিশিয়ে: ১ মিলিলিটার-৮ মাইক্রোগ্রাম) • হৃৎপিণ্ডের অনিয়মিত স্পন্দন (Arrythmias):১ মিলিগ্রাম শিরায় বোলাস (Bolus) মাত্রা (১ঃ১০০০ দ্রবণের ১০ মিলিলিটার) এবং তারপর প্রতি ৩-৫ মিনিট পরপর ২০ মিলিলিটার স্যালাইন ফ্লাশ (যদি ১:১০০০ দ্রবণ হয় তাহলে ১ মিলিলিটার অ্যাডরিনালিন ১০ মিলিলিটার নরমাল স্যালাইনের সাথে মিশাতে হবে) অ্যাট্রপিন (Atropine) • ভ্যাসোভ্যাগাল প্রতিক্রিয়া (Vasovaga reaction) • স্পন্দনহীনতা (Asystole) • নাড়িবিহীন বৈদ্যুতিক ক্রিয়া • ভ্যাসোভ্যাগাল রিঅ্যাকশানঃ ০.৪-০৬ মিলিগ্রাম শিরায় • স্পন্দনহীনতা ও নাড়িবিহীন বৈদ্যুতিক ক্রিয়া: প্রথমে ১ মিলিগ্রাম শিরায় বোলাস ডোজ হিসাবে এবং তার পর প্রয়োজনে প্রতি ৩-৫ মিনিট পরপর সর্বোচ্চ ০.০৪ মিলিগ্রাম/কেজি পর্যন্ত ডায়াজিপাম (Diazepam) • খিঁচুনি (Convulsion) ৫-১০ মিলিগ্রাম (০.২ মিলিগ্রাম/কেজি) শিরায় প্রতি মিনিটে ৫ মিলিগ্রাম করে। প্রয়োজনে নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রতি ১০-১৫ মিনিট পর পর সর্বোচ্চ ৩০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে। ২-৪ ঘণ্টা পর পুনঃপ্রয়োগ করা যায় তবে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে মাত্রাধিক্য (Overdose) না হয়। সিরিঞ্জের সাহায্যে ১০-২০ মিলিগ্রাম দিতে হবে। নোট: যদি শিরায় দেয়া না যায় তবে পায়ু পথে হাইড্রোকরটিসন (Hydrocortisone) • প্রচণ্ড শক • অ্যানাফাইলেক্সিস ২০০ মিলিগ্রাম শিরায়। প্রয়োজনে ৪-৬ ঘন্টায় পুনঃপ্রয়োগ করতে হবে। ন্যালোজন (Naloxone) • পেথিডিন/পেন্টাজসিনজনিত সঙ্গাহীনতা • শ্বাস-প্রশ্বাসের চাপ ও গতি কম • নারকোটিক ডিপ্রেশন ২ মিলিগ্রাম শিরায়, মাংসপেশিতে, চামড়ার নীচে বা জিহ্বার নিচে প্রতি ২-৩ মিনিট পর পর সর্বমোট ১০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত। ১০ মিলিগ্রাম প্রয়োগের পরও অবস্থার উন্নতি না হলে নারকোটিক ওভারডোজ হওয়ার সম্ভাবনা কম (ডায়াজিপাম ওভারডোজ হতে পারে) সতর্কতা: রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (Close monitoring) রাখতে হবে। কারণ নারকোটিকের ক্রিয়াকাল ন্যালোক্সনের ক্রিয়াকালের চেয়ে বেশি হতে পারে। কাজেই ন্যালোক্সন পুনঃপ্রয়োগ করার প্রয়োজন হতে পারে প্রোমেথাজিন (Promethazine) অ্যালার্জি ২৫ মিলিগ্রাম ১ মিনিট ধরে শিরায় বা গভীর মাংসপেশিতে। ২৫% গ্লুকোজ সলিউশন হাইপোগ্লাইসিমিয়া (Hypoglyacemia) যখন রক্তে সুগার লেভেল ৩ mmol/litre কম হবে তখন রোগীকে আইডি দিতে হবে অথবা মুখে। খাওয়াতে হবে একটি অপারেশন থিয়েটারের জন্য জরুরি যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির ব্যবহারবিধি এবং যত্ন জরুরি যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে হবে বিধায় সঠিকভাবে ব্যবহার ও যত্ন নেয়ার প্রয়োজন ওটির জরুরি সরঞ্জাম • অক্সিজেন থেরাপি ইউনিট- ১ সেট • এয়ারওয়ে টিউব-১ সেট (৩টি বিভিন্ন সাইজের) • সাকশন মেশিন (ইলেক্ট্রিক/ম্যানুয়াল)- ১টি (যদি সাকশন মেশিন না থাকে তাহলে একটি এম.আর.সিরিঞ্জ ও ক্যাথেটার রাখতে হবে।) • ম্যানুয়াল রিসাসসিটেটর বা অ্যাম্বুব্যাগ-১টি • জরুরি আলোর ব্যবস্থা (৩ ব্যাটারির বা রিচার্জেবল টর্চ লাইট- ১টি ও রিচার্জেবল ইলেকট্রিক লাইট-১টি) • ল্যাপারোটমি সেটসহ ট্রে-১টি উপরোক্ত সরঞ্জামসমূহ অত্যন্ত মূল্যবান এবং বেশিরভাগই বাইরে থেকে আমদানি করতে হয়। এ সমস্ত সরঞ্জামের সঠিক যত্ন নিলে এবং ব্যবহারবিধি মেনে চললে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। উপরোক্ত সরঞ্জামগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে কি না নিশ্চিত হবার পরই শুধু স্থায়ী পদ্ধতির অপারেশন শুরু করা উচিত। নীচে প্রতিটি সরঞ্জামের ব্যবহারবিধি, সঠিকভাবে যত্ন নেয়ার পদ্ধতি বর্ণনা করা হল। ১. অক্সিজেন ইউনিট: একটি অক্সিজেন ইউনিটের অংশসমূহ হচ্ছে ক. অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার খ. সিলিন্ডার রাখার স্ট্যান্ড বা ট্রলি গ. থেরাপি সেট: - প্রেসার মিটার ফ্লো মিটার এবং কন্ট্রোল ভাই সিলিন্ডারের চাবি (অক্সিজেন সিলিন্ডারে সাথে গোল চাবি লাগানো থাকতে পারে) - কানেকটিং টিউবসহ ফেইস মাস্ক - প্যাঁচযুক্ত পানির বোতল ব্যবহার বিধি অক্সিজেন ইউনিট যাতে সঠিকভাবে কাজ করে এজন্য এর বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। সঠিক ব্যবহার বিধি নিম্নে দেয়া হলঃ- • ফ্লো-মিটার শক্ত করে সিলিন্ডারের সাথে লাগাতে হবে (Wrench এর সাহায্যে) • মিটারের প্যাঁচ এর জায়গায় পানি দিলে যদি বুদবুদ বের হয় তাহলে বোঝা যাবে গ্যাস লিক করছে • চাবি সব সময় একটি চেইন দিয়ে সিলিন্ডারের সাথে লাগিয়ে রাখতে হবে • সিলিন্ডারের মুখ খোলার চাবি (Opening lock) টি এমনভাবে লাগাতে হবে যাতে প্রয়োজনে যে কেউ এটা খুলতে পারে • মাস্ক এবং টিউব নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। কোন বস্তু দিয়ে টিউবের ভিতরটা বন্ধ হয়ে আছে কিনা তা লক্ষ্য রাখতে হবে। • কিছু দিন পর পর বোতলের পানি ফেলে, পরিষ্কার করে পুনরায় পানি ভরে আবার লাগিয়ে রাখতে হবে • মাস্ক খুলে তার পরিবর্তে প্রযোজনে ক্যাথেটারের সাথেও সংযোগ দেয়া যেতে পারে • অক্সিজেন সিলিন্ডার অবশ্যই আগুন থেকে দূরে রাখতে হবে • ট্রলির চাকা নিয়মিত পরিষ্কার করে তেল বা গ্রিজ লাগাতে হবে এবং রং করতে হবে • সবসময়ই একটি অতিরিক্ত অক্সিজেন ভর্তি সিলিন্ডার কেন্দ্রে রাখতে হবে ২. এয়ারওয়ে টিউব (Airway tube) এয়ারওয়ে টিউব অজ্ঞান বা গভীর ঘুমে আক্রান্ত রোগীর শ্বাসনালি খোলা রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। দু'ধরনের এয়ারওয়ে টিউব পাওয়া যায়। কালো রং-এর টিউব রাবারের তৈরি এবং সাদা রং এর স্বচ্ছ প্লাস্টিকের। টিউবগুলো শক্ত এবং চাপে বসে যায় না। ব্যবহার বিধি এবং যত্ন • এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে • প্রতিবার ব্যবহারের পর সাবান-পানি দিয়ে ধুয়ে শুকাতে হবে • আগুন এবং স্যাঁতস্যাঁতে জায়গা থেকে দূরে রাখতে হবে • প্রয়োজনের সময়ে যাতে খুঁজে পেতে অসুবিধা না হয় সেজন্য সবসময় এয়ারওয়ে টিউব রিসাসিটেটরের বাক্সে রাখা বাঞ্ছনীয় ৩. সাক্সন মেশিন (Suction Machine) সাক্সন মেশিন রস, কফ, রক্ত ইত্যদি চুষে নেয়ার জন্য ব্যবহার করা হয় (সাধারণত মুখের ভিতর, গলা, অপারেশনের জায়গা ইত্যাদি থেকে)। প্রতিটি স্থায়ী পদ্ধতির কেন্দ্রে বিদ্যুৎচালিত বা পা-চালিত সাক্শন মেশিন অবশ্যই থাকতে হবে। অনেক জায়গাতে দু'রকমের সাক্ঙ্গন মেশিনই সরবরাহ আছে। বিদ্যুৎচালিত সাশন মেশিন (Electric Suction Machine) এর অংশগুলো হচ্ছে- • মিটারসহ ভ্যাকুয়াম কম্প্রেসর মোটর • কাঁচের/প্লাস্টিকের বোতল • রাবারের টিউব • ইলেক্ট্রিকের তার, সুইচ এবং সংযোগ দেয়ার জন্য প্লাগ পিন • মেশিনটি একটি ট্রলির উপর লাগানো থাকে ব্যবহার বিধি ও যত্ন • কাঁচের বোতল হলে সাবধানে এটিকে পরিষ্কার করতে হবে। বোতলের মুখ চওড়া আকৃতির এবং এটি সাধারণত বাজারে কিনতে পাওয়া যায় না। কাজেই ভেঙ্গে গেলে পরিবর্তন করা কষ্টসাধ্য। • কম্প্রেসর (Compressor) হচ্ছে সাকশন মেশিনের প্রধান অংশ। এটিকে সুন্দর অবস্থায় রাখতে হলে নিয়মিত পরিষ্কার করে গ্রীজ লাগাতে হবে। এজন্য এক কৌটা তেলও সাধারণত সরবরাহ করা হয়ে থাকে। মটর চালু অবস্থায় কখনও এটিকে পরিষ্কার করা যাবে না (ইলেকট্রিক শক হতে পারে)। • বিদ্যুৎ চালিত সাকশন মেশিন ব্যবহারের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগের দিকে সব সময় খেয়াল রাখতে হবে। সুইচ দেয়ার পূর্বে অবশ্যই প্রধান সংযোগ দেখে নিতে হবে। • রাবার টিউব পরিষ্কার করে ডাস্টিং পাউডার লাগাতে হয় যাতে নরম, ভ্যাপসা আবহাওয়ায় এর ক্ষতি না হয়। • ট্রলির চাকায় তেল দিতে হবে যাতে চাকায় জ্যাম বা মরিচা না ধরে ম্যানুয়াল সাক্শন মেশিন (Manual Suction Machine) এর অংশগুলো হচ্ছে- • এক্সজষ্ট পাম্প (Exhaust pump) • কাঁচের বোতল • রাবার টিউব • স্ট্যান্ড ব্যবহার বিধি ও যত্ন এক্সজস্ট পাম্প পা দিয়ে এক্সজস্ট পাম্পের প্যাডেলের উপর চাপ প্রয়োগ করে ভ্যাকুয়াম (নেগেটিভ প্রেসার) তৈরি করা হয় যার ফলে তরল পদার্থ শোষিত হয়ে বোতলে জমা হয়। পাম্পটি মেটালিক সিলিন্ডারের তৈরি। এর ভিতরে বাকেট (চামড়ার পিস্টন) থাকে। বাকেট প্লাজারের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে এবং প্লাজার প্যাডেলের সাথে যুক্ত হয়ে থাকে। প্যাডালে চাপ দিলে পিস্টন ওঠা নামা করে ফলে নেগেটিভ পেসারের সৃষ্টি হয়ে সাকশনের কাজ করে। যত্ন নেয়ার জন্য যন্ত্রটি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয় এবং গরম ও ভ্যাপসা জায়গায় এই যন্ত্রটি রাখা উচিত নয়। কাঁচের বোতল সাবধানে নিয়মিত ব্যবহারের পর পরিষ্কার করে রাখতে হয় রাবার টিউব নিয়মিত পরিষ্কার করে ডাস্টিং পাউডার প্রয়োগ করতে হয় স্ট্যান্ড স্ট্যান্ডের উপর এক্সজস্ট পাম্প ও বোতল ফিট করা থাকে এবং এগুলোকে নিয়মিত পরিস্কার রাখতে হয় ৪. অ্যাম্বুব্যাগ (ম্যানুয়াল রিসাসসিটেটর) এটি হচ্ছে হস্তচালিত কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র। এগুলো বিভিন্ন প্রকারের হতে পারে। যেমন: হোপ অ্যাডাল্ট রিসাসসিটেটর/সলকো/ওহিও। রিসাসসিটেটর এবং এর অংশগুলো হচ্ছে • সেল্ফ রিফিলিং ব্যাগ • ভাল্ব (ব্যাগের ভিতর প্রশ্বাস রোধের জন্য) • ফেইস মাস্ক • কানেকটিং টিউব (অক্সিজেন সংযোগ দেয়ার জন্য) • এর সব অংশই রাবার ও পলিপ্রপাইলিনের তৈরি। কাজেই নিয়মিত পরিষ্কার এবং চক পাউডার দিয়ে ডাস্টিং করতে হয় (বাইরের অংশ) • গরম এবং আগুন থেকে দূরে রাখতে হয় • বক্স ভালোভাবে বন্ধ করে রাখতে হবে যাতে ইঁদুর বা তেলাপোকা না ঢুকতে পারে • প্রতিবার ব্যবহারের পর ফেস মাস্ক পরিষ্কার করতে হবে ৫. ইমারজেন্সি লাইট যে কোন স্থায়ী পদ্ধতি অথবা অন্য কোন অপারেশন করতে হলে ওটি লাইট ছাড়াও জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য অবশ্যই তিন ব্যাটারি টর্চ বা রিচার্জ করা যায় এরূপ ইলেক্ট্রিক চার্জার অবশ্যই থাকতে হবে ব্যবহার বিধি ও যত্ন • ব্যবহারের পর সবসময় টর্চ থেকে ব্যাটারি বের করে রাখতে হবে। • প্রতিদিন টর্চের ব্যাটারী এবং বাল্ব পরীক্ষা করে দেখতে হবে • সব সময়ই বাড়তি ব্যাটারি মজুদ রাখতে হবে ৬. ল্যাপারোটমি সেট ব্যবহার বিধি ও যত্ন • কাঁচি, ব্লেড, সুচসহ সকল যন্ত্রপাতির প্যাকেট তৈরি করে অপারেশন শুরুর পূর্বেই অটোক্লেভ করে নিতে হবে। ধারালো যন্ত্রপাতি (ব্লেড, কাঁচি, সূচ) গজ দিয়ে পেচিয়ে নিতে হবে। • পরীক্ষা করে দেখতে হবে যন্ত্রসমূহের হিঞ্জ (Hinge) এবং ক্ল্যাম্প (Clamp) সঠিকভাবে কাজ করে কিনা • প্রতিবার ব্যবহারের পর যন্ত্রপাতি যথাযথ নিয়মানুযায়ী বিশোধন ও পরিষ্কার করতে হবে পরিশিষ্ট-৭ কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর) হৃৎপিন্ড ও শ্বাসতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা পদ্ধতির দু'টি অংশ আছে। জীবন রক্ষার মৌলিক সহায়তা Basic Life Support (BLS) জীবনরক্ষার মৌলিক সহায়তা বলতে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার সে প্রক্রিয়াকেই বোঝায় যার মাধ্যমে প্রথমত সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করা হয়; যেমন, শ্বাসনালিতে বাধা, শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া ও হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত যতক্ষণ না আক্রান্ত ব্যক্তি যথেষ্ট সুস্থ হচ্ছেন বা যতক্ষণ জীবনরক্ষাকল্পে উন্নত সরঞ্জামাদি তার জন্য সংগৃহীত হচ্ছে, ততক্ষণ তাকে সঠিকভাবে সিপিআর (CPR) বা কার্ডিও পালমোনারি রিসাসসিটেশন প্রক্রিয়া প্রদান করা। জীবন রক্ষার উন্নততর সহায়তা (Advanced Cardiac Life Support-ACLS) অ্যাডভান্সড লাইফ সাপোর্ট বলতে বেসিক লাইফ সাপোর্ট এবং সেই সঙ্গে বিশেষ সরঞ্জামাদি দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা পর্যবেক্ষণ ঔষধের ব্যবহারের সাহায্যে তাকে স্থিতিশীল বা সুস্থ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা বোঝায়। জীবন রক্ষার তিনটি মৌলিক দক্ষতাই হলো কার্ডিও পালমোনারি রিসাসিটেশন (সিপিআর)। সিপিআর এর সিএবি (CAB) হলো- সি (C) সার্কুলেশন বা রক্ত-সঞ্চালন এ (A)- এয়ারওয়ে বা শ্বাসনালি বি (B) ব্রিদিং বা শ্বাস-প্রশ্বাস C- রক্ত সঞ্চালন (Circulation) শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা নির্ণয়ের সাথে সাথে নাড়ির (Pulse) অবস্থাও নির্ণয় করতে হবে। ক্যারোটিড পালস না পেলে এক্সটার্নাল কার্ডিয়াক ম্যাসাজ (External cardic massage)/Chest Compression শুরু করতে হবে। বুকে চাপ (Chest compression) দিতে হলে ডান হাত দিয়ে জিফিস্টারনাম (Xiphisternum) খুঁজে বের করে জিফয়েডের নীচু প্রান্ত থেকে উপরের দিকে তিন সেন্টিমিটার মাপতে হবে। (দু'আঙ্গুলের সমান, আঙ্গুলগুলো ছোট হলে তিন আঙ্গুল দিয়ে মাপতে হবে)। এক হাতের দু'আঙ্গুল বা তিন আঙ্গুল এর পাশে স্টারনাম এর ঠিক উপরে অন্য হাতের গোড়ালি রেখে তার উপর প্রথম হাতের গোড়ালি রাখতে হবে। ভুলে যদি জিফয়েডে ধাক্কা লাগে, তাহলে এটি বেঁকে যেতে পারে এবং তাতে যকৃতে আঘাত লাগতে পারে। স্টারনামের নিচের অংশের উপর চাপ প্রয়োগ করাই শ্রেয়। আঙ্গুলগুলোকে লেসিং পদ্ধতিতে রেখে অথবা উপরের দিকে তুলে রেখে আক্রান্ত ব্যক্তির বুক থেকে সরিয়ে রাখা যায়। আঙ্গুল দিয়ে চাপ প্রয়োগ করলে পাঁজর ভেঙ্গে যেতে পারে। অনেকে তাদের আঙ্গুলগুলো একত্রে লেনিং করে বুক থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারে, আবার কেউ কেউ তা পারে না। যে পদ্ধতি সুবিধাজনক মনে হয় সে পদ্ধতি বেছে নিতে হবে। গোড়ালির উপর না বসে-হাঁটুর উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে স্টারনামের সরাসরি উপরে কাঁধটিকে নিয়ে গিয়ে সোজা নিচের দিকে চাপ দিতে হবে। কনুই সোজা রেখে দেহের ওজন ছেড়ে দিতে হবে। প্রাপ্ত বয়স্কদের বুকে কমপক্ষে ৪ সেন্টিমিটার পর্যন্ত চাপ প্রয়োগ করতে হবে। খুব স্বাচ্ছন্দভাবে চাপ দিতে হবে। ঝাঁকুনি দেয়া যাবে না। চাপ প্রয়োগের মাঝে হাত দুটিকে আলতো করে বোগীর বুকের উপর রেখে বিশ্রাম নিতে হবে। প্রয়োজনে ইন্ট্রাকার্ডিয়াক (Intracardiac) অ্যাডরিনালিন এবং ১০ মিলিলিটার ১০% ক্যালসিয়াম গুকোনেট শিরাতে দিতে হবে। যখন একজন রক্ষাকারী (Rescuer) সিপিআর দিবে তখন প্রতি মিনিটে অন্তত ১০০টি চাপ দেবার মত গতিতে পরপর ৩০টি চাপ দিয়ে তারপর না থেমে দ্রুত পদক্ষেপে আম্বুব্যাগ দ্বারা দু'টি পূর্ণ শ্বাস দিতে হবে। যখন দু'জন রক্ষাকারী সিপিআর দিবে তখন একজন প্রতি মিনিটে ৬০টি চাপ দেয়ার মত সুষম গতিতে চাপ প্রয়োগ করে যাবে। এবারের চাপের গতি হবে আগেরটির চেয়ে মন্থর। প্রতি চক্রে ১৫টি চাপ দেওয়ারপর ২টি শ্বাস দিতে হবে। এম্বুব্যাগ না থাকলে মাউথ টু মাউথ ব্রিদিং দিতে হবে। উপরের প্রক্রিয়া চালানোর সময় সাহায্যকারী অবশ্যই ক্যারোটিড পালসের দিকে দৃষ্টি রাখবেন। যদি ক্যারোটিড পালস পাওয়া না যায়, তাহলে সিপিআর শুরু করতে হবে। A- শ্বাসনালি (Airway) বাধাপ্রাপ্ত শ্বাসনালিকে খুলে দেয়া সিপিআর-এর প্রথম মৌলিক কাজ। জিহ্বা উল্টে গিয়ে, ফরেন বডি বা রক্ত, বমি, লালা, শ্রেয়া ইত্যাদিও দ্বারা শ্বাসনালি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জিহ্বা উল্টে যাওয়ার কারণে যদি শ্বাসনালি বন্ধ হয়, তবে তা খোলার জন্য নিম্নোক্তপদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে: হেড-টিল্ট পদ্ধতি (Head tilt) সামনের দিকে চোয়াল ঠেলে দেয়া (Forward thursting of jaw) ঘুতনি টানার পদ্ধতি (Chin lift) এক টুকরো কাপড় বা গজ দিয়ে মুছে শ্বাসনালি শ্লেষ্মামুক্ত করা যায়। বুকের পিছনে ভারটিব্রাল কলামের (Vertebral column) উপরে আঘাত বা ব্লো (blow) দিয়েও শ্বাসনালি ভিতরের ফরেন বডি বের করা যায়। শ্বাসনালির বাধার দূর করার পদ্ধতি গ্রহীতাকে চিৎ করে শক্ত সমতল বিছানা বা মেঝেতে শোয়াতে হবে। গ্রহীতার মাথাটা একটু পেছনের দিকে টেনে দিতে হবে। চোয়ালটা সামনের দিকে টেনে ধরতে হবে। থুতনিটাকে উপরের দিকে টেনে ধরতে হবে। এ ব্যবস্থাপনায় জিহ্বা উল্টে গিয়ে (Fallback) শ্বাস-প্রশ্বাসের রাস্তা বন্ধ হলে তা খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মুখের মধ্যে যদি কোন লালা বা শ্লেষ্মা থেকে থাকে তাহলে তা আঙ্গুলের সাথে গজ জড়িয়ে নিয়ে মুছে ফেলা যায়। (সাকশন মেশিন বা এম. আর সিরিঞ্জ ও ক্যাথেটার দিয়ে মুখ থেকে শ্লেথা টেনে বের করে আনা যায়)। সাকশন মেশিন থাকলে তা ব্যবহার করতে হবে গ্রহীতা যদি বমি করে, তাহলে তাকে একপাশে কাত করে শোয়াতে হবে এবং সাকশন দিতে হবে। B - শ্বাস-প্রশ্বাস (Breathing) আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এজন্য তার মাথার উপর ঝুঁকে তার মুখ ও নাকের এক ইঞ্চির মধ্যে কান রেখে তার বুকের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এভাবে যদি শ্বাস-প্রশ্বাসের শব্দ কানে শোনা না যায় এবং বুকের দিকে সোজাসুজি তাকিয়ে দেখা যায় রোগী শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে না, তবে এয়ারওয়ে টিউব ঢুকিয়ে আম্বুব্যাগের সাহায্যে কৃত্রিম শ্বাস- প্রশ্বাস দিতে হয়। ব্যাগটির এক প্রান্ত অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাথে সংযুক্ত করে নিয়ে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়ানো যায়। রোগীকে শিরায় ন্যালোক্সন ইনজেকশন দিতে হবে (টিউবেকটমির ক্ষেত্রে) এবং এরপরই শিরায় সোডিয়াম বাই কার্বোনেট ইনজেকশন দিতে হবে। আম্বুব্যাগ না থাকলে প্রথমে ২টি দ্রুত পরিপূর্ণ শ্বাস (Full breath) দিতে হবে। একে বলা হয় দ্রুত পদক্ষেপ বা কুইক স্টেপ। প্রয়োজনে এ প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে। রোগীর মাথাটিকে সঠিক অবস্থায় রেখে বাতাস যাতে বের হতে না পারে এমনভাবে নাক চেপে ধরে তারপর গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ করে এবং বড় করে হাঁ করে রোগীর মুখের উপর নিজের মুখ রেখে মুখ থেকে মুখ চেপে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথমে ঘনঘন ২টি বড় শ্বাস দিতে হবে। দুই শ্বাসের মাঝখানে যেন এমন সময় না থাকে যাতে ফুসফুসের স্ফীতি হ্রাস পায়। একটি শ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি শ্বাস দিতে হবে। এতে করে ফুসফুস পরিপূর্ণভাবে প্রসারিত হবে। এ অবস্থায় দ্রুততার সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন দিতে হবে। একে মাউথ ট মাউথ ব্রিদিং (Mouth to mouth breathing) বলা হয়। এরপর প্রতি ৫ সেকেন্ড পরপর একটি করে ব্রিদিং দিতে হবে। যদি সিপিআর বিষয়ে কোন প্রশিক্ষণ না থাকে, তাহলে এ ধরণের প্রচেষ্টা নেয়া যাবে না। (বিশেষ দ্রষ্টব্য: হৃদযন্ত্রের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া দ্রুত চিহ্নিতকরণ, গ্রহীতার শ্বাস-প্রশ্বাসের ভেন্টিলেশন। ব্যবস্থা এবং হৃদযন্ত্র ম্যাসাজ করাই হলো হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রাথমিক চিকিৎসা) হৃদযন্ত্র ম্যাসাজে কাজ হচ্ছে কিনা তা কেমন করে বোঝা যাবে: গ্রহীতার রং পরিবর্তন হয়ে উন্নতির দিকে যাবে (নীলাভ ভাব কমতে থাকবে) ক্যারোটিড ধমনীর পালস হাত দিয়ে অনুভব করা যাবে চোখের মণি আলোয় সংবেদনশীল হবে (React to light) শ্বাস-প্রশ্বাস ফিরে আসবে সক্রিয় রক্তপাত হবে কোন কোন কারণে হৃদযন্ত্রের ম্যাসাজ বিফল হয় শ্বাস-প্রশ্বাস প্রয়োগ অপ্রতুল হলে হৃদযন্ত্রের ম্যাসাজ বিফল হতে পারে। হৃদযন্ত্রে এবং মস্তিষ্কে যদি খুব কম পরিমাণে অক্সিজেন বিশোধিত রক্ত ফিরে আসে তাহলে হৃদযন্ত্রের ম্যাসাজে কাজ হয় না নরম বিছানা অথবা গ্রহীতা যদি ভুল হয় তাহলে হৃদযন্ত্রের ম্যাসাজ কোন কাজ নাও হতে পারে কার্যকরী ম্যাসাজ ও অক্সিজেন সরবরাহের পর হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন স্বাভাবিক হতে পারে যদি রক্তচাপ কম থাকে, তাহলে রিদম অনুযায়ী ম্যাসাজ করেই যেতে হবে। শিরার মধ্যে স্যালাইন দিতে হবে হৃদপেশি সংকোচনের জন্য প্রয়োজনে অ্যাডরিনালিন ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে প্রয়োজনে হাইড্রোকরটিসন ইনজেকশন দেওয়া যেতে পারে হৃৎপিণ্ডের কাজ তখনও বন্ধ থাকতে পারে হৃৎপিণ্ড ঘর ঘর করে কাঁপতে থাকলে (Fibrillation)-সোডি-বাই-কার্ব ইনজেকশন দিতে হবে/ডিফিড্রিলেশন করতে হবে (যদি ডিফিব্রিলেটর থাকে) এসিস্টোল (Asystole) হলে- ১০% ক্যালসিয়াম-ক্লোরাইড ৫-১০ মি.লি./ ৭.৫% সোডি-বাই-কার্ব ৫০ মি.লি. /অ্যাডরিনালিন (১:১০০০) ০.৫-১ মি.লি. ইনজেকশন দিতে হবো বিশেষভাবে লক্ষণীয় রোগীর কতক্ষণ পর্যন্ত সাড়াশব্দ নেই তা ভেবে কখনও অপেক্ষা করা যাবে না। অবিলম্বে সিপিআর শুরু করতে হবে। কার্ডিয়াক ম্যাসাজ দিতে হলে একটি শক্ত জায়গায় রোগীকে চিৎ করে শোয়াতে হবে। = রোগীর পাশে উদ্ধারকারী ব্যক্তিকে হাঁটু গেড়ে বসতে হবে পাল্স না পেলে কার্ডিয়াক কমপ্রেশন দিতে হবে। তবে দূর্বল পালসও যদি পাওয়া যায়, তাহলে কার্ডিয়াক কমপ্রেশন দেয়া যাবে না। কমপ্রেশনের সময় ৫ সেকেন্ডের বেশি কখনও থামা যাবে না। কমপ্রেশন এমন হবে যাতে স্টারনাম ১.৫ থেকে ২ ইঞ্চির মত দেবে যায়। পূর্ণ শক্তিতে কখনও চাপ দেয়া যাবে না। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে কমপ্রেশনের তাল ও অনুপাত বজায় রাখতে হবে। কমপ্রেশন বা চাপের জন্য কোমর থেকে শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। সিপিআর দেয়ায় সময় ৪-৫ মিনিট পর পর ৫ সেকেন্ড বিরতি দিয়ে ক্যারোটিড পালস এবং শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করে দেখতে হবে। কার্ডিয়াক কমপ্রেশনের সময় ঝাঁকুনি দেয়া যাবে না। সুস্থ ব্যক্তির উপর কখনও কার্ডিয়াক ম্যাসাজ অনুশীলন করা যাবে না। কৃত্রিম মানব মূর্তির (Mannequin) উপর এই অনুশীলন করতে হয়। পরিশিষ্ট-৮ মারাত্মক জটিলতা/মৃত্যু পরবর্তী রিপোর্টি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট জটিলতা/মৃত্যু কী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের দিন হতে ৪২ দিনের মধ্যে জটিলতা বা তজ্জন্য মৃত্যু ঘটলে তাকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট জটিলতা/মৃত্যু বলে। জটিলতা/মৃত্যু সংক্রান্ত প্রাথমিক রিপোর্ট অপারেশনকারী সার্জন/সেবাদানকারী সর্বপ্রথম জেলা টেকনিক্যাল কমিটি/সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিকভাবে টেলিফোনে এবং লিখিতভাবে অবহিত করবেন। জেলা টেকনিক্যাল কমিটি এই রিপোর্ট ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাইন ডাইরেক্টর (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রোগ্রাম) কে জানাবেন। জটিলতা/মৃত্যু সংক্রান্ত তদন্ত কার্য্য জেলা টেকনিক্যাল কমিটি জটিলতা/মৃত্যু সংক্রান্ত তদন্ত জটিলতা/মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পন্ন করবেন। এ প্রতিবেদন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লাইন ডাইরেক্টর (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারী কর্মসূচী) এর নিকট প্রেরণ করবেন এবং মহাপরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মহোদয়কে অনুলিপি দেবেন। তদন্ত প্রতিবেদনে জটিলতা/মৃত্যুর কারণ, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিতকরণসহ সেবাকেন্দ্র চালু রাখা, সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে সুপারিশ থাকবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সুপারভাইজার (এফপিসিএসটি-কিউএটি) ও একক ভাবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে লাইন ডাইরেক্টর (ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রোগ্রাম) এর নিকট তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করবেন। রিপোর্ট প্রেরণের ব্যর্থতার দায়ভার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জটিলতা/মৃত্যুর সংবাদ প্রেরণ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট প্রেরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী/কর্মকর্তা দায়ভার বহন করবেন। (উল্লেখ্য বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ সময়মত জটিলতা/মৃত্যুর সংবাদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরীভূত করেন না এবং করলেও অনেক দেরিতে করেন, ফলে সময়োপযোগী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয় না)। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রোগ্রাম ৬. কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ ক্লিনিক্যাল পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কিত মারাত্মক জটিলতা/মৃত্যুর কারণ তদন্ত ফরম তারিখ.. .উপজেলা........... জেলা গ্রহীতার নাম... বয়স, পিতা/স্বামী. পেশা....... দম্পতি নং. জাতীয় আইডি নং.......... গ্রাম.. ওয়ার্ড.. ইউনিয়ন..... উপজেলা........... জেলা.. গ্রহীতার স্বামী/স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয় স্বজনের সাক্ষ্য (প্রয়োজনে আলাদা শিট সংযোজন করুন) মাঠ কর্মীর সাক্ষ্য: পরিবার কল্যাণ সহকারী:.. পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক........... ক্লিনিক কর্মীর সাক্ষ্য: পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ক্লিনিক কর্মীর সাক্ষ্য: পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা।, এসএসিএমও :...... অন্যান্য:.... পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাক্ষ্য:... মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) এর সাক্ষ্য গ্রহীতার অবহিত সম্মতিপত্র পরীক্ষা করা হয়েছে কি? (অবহিত সম্মতি পত্রের কপি সংযুক্ত করুন) ফলো-আপের কপি সংযুক্ত করুন/গ্রহীতার যাবতীয় রেকর্ডপত্র পরীক্ষা করুন। জটিলতার ব্যবস্থাপনা পত্রের কপি পরীক্ষা করা হয়েছে কি? (কপি সংযুক্ত করুন) মৃত্যু কোথায় হয়েছে.... মৃত্যু কখন হয়েছে... (হাসপাতালে মৃত্যু হয়ে থাকলে যাবতীয় ব্যবস্থাপনার নথি পত্রের কপি সংযুক্ত করুন) মন্তব্য/সুপারিশ:........ 64 of 69 স্বাক্ষর... স্বাক্ষর:.. স্বাক্ষর......... সহকারী পরিচালক (সিসি) উপ-পরিচালক (পরিবার পরিকল্পনা) সিভিল সার্জন সভাপতি সদস্য সচিব সদস্য দুটি সন্তানের বেশী নয় একটি হলে ভাল হয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রোগ্রাম ৬. কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ রেজিঃ নংঃ. পুরুষ মহিলা তারিখ:........... পরিবার পরিকল্পনার স্থায়ী পদ্ধতি (পুরুষ/মহিলা) গ্রহণেচ্ছুকের পূর্ণ বিবরণী ও অবহিত সম্মতিপত্র কেন্দ্রের নাম ও ঠিকানা: প্রেরণাকারীর নাম:... পদবীঃ... দম্পতি/জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধন নম্বর ৪............ মোবাইল ফোন নম্বর ৪.... ঠিকানাঃ গ্রাম/মহল্লা :... উপজেলা/থানা :..... ইউনিট ৪.. ওয়ার্ড ৪ জেলা ইউনিয়ন/পৌরসভা ৪.. ডাকঘর উপজেলা/থানা :.......... প্রেরণকারীর স্বাক্ষর/টিপসহিঃ বয়স ১. গ্রহণেচ্ছুকের নাম : ২. দম্পতি/জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধন নম্বরঃ ৩. মোবাইল ফোন নম্বর: ৪. মহিলার ক্ষেত্রে স্বামীর/পুরুষের ক্ষেত্রে পিতার নাম ৪ ৫. স্ত্রীর বয়স (পুরুষ স্থায়ী পদ্ধতির ক্ষেত্রে) : ৬. গ্রহণেচ্ছুকের পেশাঃ স্বামীর/স্ত্রীর পেশাঃ ইউনিয়ন: ৭. ক) স্থায়ী ঠিকানাঃ গ্রাম/মহল্লা :.......... ইউনিট: ডাকঘর, ......উপজেলা/থানা ৪ .......... জেলা :.... খ) বর্তমান ঠিকানা: গ্রাম/মহল্লা ইউনিটঃ.......... ইউনিয়নঃ.. ডাকঘর উপজেলা/থানা ৪ জেলাঃ বর্তমানে কোন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন কি না? হ্যা না (হ্যাঁ হলে পদ্ধতির নাম ৯. গর্ত সংক্রান্ত তথ্যঃ (ক) মোট কতবার গর্ভধারণ করেছেন: (খ) বর্তমানে জীবিত সন্তানের সংখ্যাঃ পুত্র কন্যা (গ) শেষ সন্তানের বয়স ৪........ ......মাস, (২টি জীবিত সন্তান থাকলে, ২য় সন্তানের বয়স কমপক্ষে ১বৎসর হলে অথবা স্বামী ও স্ত্রী স্বেচ্ছায় সম্মতি প্রদান করলে ২য় সিজারিয়ান অপারেশনের সময় স্থায়ী পদ্ধতি সেবা দেয়া যাবে)। (ঘ) কোন গর্ভপাত হয়েছে কিনাঃ হ্যাঁ হ্যাঁ হলে কতবার (ঙ) এম. আর. করা হয়েছে কিনাঃ হ্যাঁ ব হ্যা হলে কতবার শেষ গর্ভপাতের তারিখ: শেষ এম আর এর তারিখ: ১০. ইতিপূর্বে পেটে কোন অপারেশন হয়েছে কিনাঃ হ্যাঁ না হ্যাঁ হলে অপারেশনের নাম ও তারিখ: ১১. ধনুষ্টংকারের প্রতিষেধক টিটি টাকা নেয়া থাকলে টিক (√) চিহ্ন দিন: ১ম ডোজ ২য় ডোজ ৩য় ডোজ ৪র্থ ভোজ ৫ম ভোজ ১২. অবহিত সম্মতিপত্রঃ (ক) আমি অন্যান্য অস্থায়ী পদ্ধতি (খাবার বড়ি, কনডম, আইইউডি, ইনজেকটেবলস, ইমপ্ল্যান্ট) সম্বন্ধে জানা সত্ত্বেও স্বেচ্ছায় টিউবেকটমি/এনএসভি অপারেশনে রাজী আছি এবং আমার এ সিন্ধান্ত কোন প্রকার ভয়, প্রলোভন বা শর্ত আরোপিত নয়। (খ) আমি জানি যে, এটা এক ধরনের অপারেশন ও এতে ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি ও অপারেশনের পদ্ধতি সম্বতে আমাকে অবহিত করা হয়েছে। (গ) আমি জানি যে, এটা একটা স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি এবং অপারেশনের পর ভবিষ্যতে আমার সন্তান হবে না, তবে আমার যৌি ক্ষমতা অথবা যৌন প্রবৃত্তি আগের মত থাকবে। (ঘ) এই অপারেশনে আমার স্বামীর/স্ত্রীর পূর্ণ সম্মতি রয়েছে এবং আমার স্বামীর/স্ত্রীর ইতোপূর্বে এনএসভি/টিউবেকটমি অপারেশন হয় নাই। ঙ) অপারেশনের পূর্বে যে কোন মূহুর্তে অপারেশন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য আমার বিরুদ্ধে কোন বিরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বলে আমাকে নিশ্চিত করা হয়েছে। (চ) কর্মসূচী মূল্যায়নের প্রয়োজনে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি/ব্যক্তি/কর্মী আমার নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করতে পারবেন এবং আমার বাসস্থানেও আসতে পারবেন। গ্রহণেচ্ছুকের স্বাক্ষর / টিপসহি স্বাক্ষী: আমি এই গ্রহীতাকে চিনি। তিনি বর্তমানে বিবাহিত/বিবাহিতা। অপারেশনের পূর্বে গ্রহীতাকে পূর্ব পৃষ্ঠায় ১২ নং ক্রমিকে বর্ণিত অবহিত সম্মতি বিষয়ক সকল তথ্য পাঠ করে শোনানো হয়েছে এবং গ্রহীতা স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহনে স্বেচ্ছা সম্মতি প্রদান করেছেন। এই পদ্ধতি গ্রহণে তার স্বামী/স্ত্রীর সম্মতি আছে। তার স্বামী/স্ত্রী ইতোপূর্বে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করেন নাই। স্বাক্ষীর/প্রেরণকারীর নামঃ............ ..পদবীঃ.. স্বাক্ষর :....... মোবাইল নম্বর :... ঠিকানা: গ্রাম/মহল্লা............ ইউনিটঃ........... ইউনিয়ন .... ডাকঘর:......... উপজেলা/থানা:............ ..জেলা :....... সাক্ষাৎকার গ্রহণকারীর নাম ও মোবাইল নাম্বর পদবী স্বাক্ষর এফ ডব্লিউ ডি/প্যারামেডিক পূরণ করবেন ৪ ১৩. শারীরিক পরীক্ষাঃ (ক) তাপমাত্রা:.. ফাঃ/সেঃ (খ) রক্তস্বল্পতা: আছে (+/++/+++)/ নাই (গ) পা ফোলা (Oedema): আছে নাই (ঘ) জন্ডিস: আছে নাই (৩) ওজন, পাউন্ড/কেজি (ওজন ৭৫ পাউন্ড/৩৮ কেজির কম হলে ট্যাবলেট ডায়াজিপাম ও ককটেল এনালজেসিয়ার মাত্রা অর্ধেক দিতে হবে) ১৪. মাসিকের বিবরণঃ (মহিলা গ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য) ক) শেষ মাসিকের তারিখঃ... .... (খ) চক্রঃ নিয়মিত। অনিয়মিত (গ) স্থায়ীত্বকাল দিন ঘ) রক্তস্রাবের পরিমাণ: স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় (৬) মাসিকের সময় ব্যথা হয় কিনাঃ হ্যাঁ ১৫. স্পেকুলাম ও দুই হাতে পিভি পরীক্ষা: (মহিলা গ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য) স্পেকুলাম (ক) জরায়ুর মুখ (Cervical Os): স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় ( খ) স্রাব (Discharge): স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় পরীক্ষা (গ) যোনী পথের দেয়াল (Vaginal wall): স্বাভাবিক সংক্রমিত না দুই হাতে জরায়ু : (ক) আকৃতি (Shape) : স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় পিভি খ) জরায়ুর মুখ বা সারভিক্স নাড়ানোর সময় ব্যথা হয় কিনাঃ হ্যা ( পরীক্ষা (গ) আয়তন (Size) : স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় (ঘ) যোনীর চারপাশ (Fornix) : মুক্ত মুক্ত নয়। (ঙ) অবস্থান (Position): এন্টিভারটেড (চ) বর্তমানে গর্ভবর্তী কিনা? হ্যাঁ না রেট্রোভারটেড হ্যাঁ হলে, কত সপ্তাহের.. (ছ) নড়াচড়া (Mobility): নাড়ানো যায় যায় না ১৬. ল্যাবরেটরী পরীক্ষা: (ক) মত্র। সুগারঃ আছে (+/++/+++) বই এলবুমিন পেশীন) ও আছে (+/+++++ই (খ) রক্ত: হিমোগ্লোবিন বা গ্রাম/১০০ ডি.এল (হিমোগ্লোবিন ৪৫% বা ৭ গ্রাম/১০০ ডিএল-এর নীচে হলে আপাততঃ অপারেশন করা যাবে না)। এফ ডব্লিউ ডি/প্যারামেডিক এর নাম পদবী স্বাক্ষর ও তারিখ চিকিৎসক পূরণ করবেন ১৭. শারীরিক পরীক্ষা: (ক) নাড়ীর গতি: প্রতি মিনিটে (গ) হৃৎপিন্ডঃ (খ) রক্তের চাপঃ X এম এম মার্কারী (ঘ) ফুসফুস ৪ (ঙ) শারীরিক/মানসিক/অন্য কোন অস্বাভাবিকতা (যদি থাকে) ৪. ১৮. পুরুষের যৌনাঙ্গ পরীক্ষা: (পুরুষ গ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য) পুরুষাঙ্গ পরীক্ষা স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় সমস্যার ধরণ অন্ডথলি পরীক্ষা স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় সমস্যার ধরণ অন্ডকোষ ও এপিডিডাইমিস পরীক্ষা | স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় সমস্যার ধরণ.. শুক্রবাহী নালী পরীক্ষা ক) গুটি ফোলা বা চাকা : আছে নাই খ) নালীর মাঝখানে ফাঁকা: আছে। নাই ১৯. আমি নিজে গ্রহীতাকে পরীক্ষা করেছি এবং ১২ নং কলামে বর্ণিত বিষয়সমূহ অবহিত করেছি। তিনি স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের উপযুক্তঃ হ্যাঁ না যদি না হয়, তবে কারণ.. এবং গ্রহীতাকে কি উপদেশ/পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি দেয়া হল তার নাম :....... (অনুপযুক্ত গ্রহীতাকে প্রয়োজনানুসারে পঃ পঃ পদ্ধতি সম্পর্কে পরামর্শ/চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রদান করুন) অস্থোপচারকারী চিকিৎসকের নাম পদবী স্বাক্ষর . অপারেশন পূর্ববর্তী নির্দেশাবলীঃ (মহিলা গ্রহীতার জন্য প্রযোজ্য) (ক) ট্যাবলেট ডায়াজিপাম খাওয়ানোর সময়, (ক) ককটেল ইনজেকশন দেওয়ার সময়.... ২১. মনিটরিং: (ক) অপারেশন শুরুর সময়.......... (খ) অপারেশন শেষের সময়.. মনিটরিং সময় রক্তচাপ নাড়ীর গতি শ্বাস-প্রশ্বাস তাপমাত্রা বমি লোকাল এনেসথেসিয়া/অন্যান্য ঔষধ (যদি প্রয়োজন হয়) অপারেশনের পূর্বে অপারেশনের সময় অপারেশনের ১ ঘন্টা পর অপারেশনের ৩ ঘন্টা পর (প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজে মনিটরিং লিপিবদ্ধ করুন) মনিটরকারীর নাম পদবী স্বাক্ষর ২২. অপারেশনের বিবরণঃ (ক) অপারেশনের নাম (টিক চিহ্ন দিন) : মিনিল্যাপ টিউবেকটমি প্রসব প্রবর্তী এনএসভি ল্যাপারোস্কোপিক লাইগেশন এমআর/PAC পরবর্তী তারিখঃ (খ) কি পদ্ধতিতে টিউব কাটা ও বাঁধা হয়েছে:. (গ) কি পদ্ধতিতে ভ্যাস কাটা ও বাঁধা হয়েছে: ফাসাল ইন্টারপজিশন করা হয়েছে: হ্যাঁ (ঘ) কোন অস্বাভাবিক অবস্থা পাওয়া গিয়েছে কিনা: হ্যাঁ না, হ্যাঁ হলে বিস্তারিত লিখুন অপারেশন পরবর্তী নির্দেশাবলী : অপারেশনকারী চিকিৎসক স্বাক্ষর ৪.. স্বাক্ষরঃ.... সাহায্যকারী নাম ৪.... নাম ৪... পদবীঃ..... পদবীঃ, ২৩. কেন্দ্র ত্যাগের সময় গ্রহীতার শারীরিক অবস্থা: টিউবেকটমী হ্যাঁ এনএসভি হ্যাঁ নিজে নিজে দাঁড়াতে ও কাপড় পরতে পারেন কিনা? ক্ষতস্থান হতে রক্ত নির্গত হচ্ছে কিনা? একাকী টয়লেটে যেতে পারেন কিনা? অন্ডকোষ ফুলেছে কিনা? প্রস্রাব হয়েছে কিনা? ক্ষতস্থান ও যোনিপথ হতে রক্ত নির্গত হচ্ছে কিনা? কেন্দ্র ত্যাগের সময় ও তারিখ:.. চিকিৎসকের নাম পদবী স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর ২৪. কেন্দ্র ত্যাগের সময় বিভিন্ন ঔষধ ও নির্দেশাবলীঃ (ক) ট্যাবলেট প্যারাসিটামল, ভিটামিন/আয়রন অন্যান্য এনএসভি গ্রহীতার ক্ষেত্রে অপারেশনের পর ৩ মাস পর্যন্ত প্রতিবার সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করতে হবে এজন্য গ্রহীতাকে। ৩৬টি কনডম সরবরাহ করতে হবে অথবা গ্রহীতার স্ত্রীকে ৩ মাস অন্য কোন অস্থায়ী পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। ২৫. ফলো আপ ৪ সমস্যা: আছে নাই (আছে হলে বিস্তারিত লিখুন), পরীক্ষা: (ক) নাড়ীর গতি ............../ মিনিট (খ) রক্তের চাপ এমএম মার্কারী, (গ) তাপমাত্রা .... ফাঃ/সেঃ (ঘ) যোনি নিঃসৃত স্রাব। স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় (৪) রক্ত স্বল্পতাঃ আছে (+/++/+++) নাই (চ) ক্ষতস্থান। স্বাভাবিক সংক্রমিত (ছ) অন্ডথলিঃ স্বাভাবিক স্বাভাবিক নয় (জ) অন্যান্য। (যদি থাকে) উল্লেখ করুন চিকিৎসাঃ (প্রয়োজন অনুসারে) (প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজে ফলো-আপ রিপোর্ট লিপিবদ্ধ করুন। ফলো-আপ প্রদানকারীর নাম পদবী স্বাক্ষর ও তারিখ বিঃ দ্রঃ ক্লায়েন্টের রেজিষ্ট্রেশন, কাউন্সেলিং, ল্যাবরেটরী টেষ্ট, পি.ভি পরীক্ষা, মনিটরিং, অটোক্লেভিং প্রভৃতি FWV, Nurse, Lab Technician, Coun- selor বা অন্য কেউ করলেও ক্লায়েন্টের চূড়ান্ত Screening. Selection ও সার্বিক অবস্থার দায়িত্ব Operating Surgeon এবং গ্রহীতাকে Motiva- lion, Counselling, অপারেশনের দিনে সার্বিক তত্ত্বাবধান, ৪২ দিন পর্যন্ত ফলোআপ, প্রয়োজনবোধে জটিলতার ক্ষেত্রে হাসপাতালে যাওয়া ও অবস্থান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (MO (MCH-FP), UFPO, AUFPO, AFWO, FPI) উপরই নাস্ত থাকবে। এলাপনায়। সিসিএসডিপি, ডিজিএগুনি দুটি সন্তানের বেশী নয়, একটি হলে ভাল হয় A গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ক্লিনিক্যাল কন্ট্রাসেপশন সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রোগ্রাম ৬. কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ স্থায়ী পদ্ধতি পুরুষ/মহিলা গ্রহীতার ছাড়পত্র কেন্দ্রের নাম, ঠিকানা:- রেজিঃ নং- গ্রহীতার নাম: বয়স: -স্বামী/পিতার নামঃ দম্পতি/ জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন নম্বর: মোবাইল ফোন নম্বর :- গ্রহীতার ঠিকানাঃ গ্রাম/মহল্লা ইউনিট ৪-------------------ওয়ার্ড * -------- ইউনিয়ন: উপজেলা: জেলা :-- অপারেশনের নাম: টিউবেকটমি/এনএসভি অপারেশনের সময়: ইন্টারভ্যাল/প্রসব পরবর্তী অপারেশনের তারিখ ফলোআপের তারিখঃ স্থায়ী পদ্ধতি সেবা প্রদানকারী চিকিৎসকের নাম, স্বাক্ষর ও সীল নির্দেশাবলী ব্যবস্থাপত্র ১. ক্ষতস্থান ভিজাবেন না। ২. মহিলা গ্রহীতা অপারেশনের ৭ দিন পরে সেলাই কাটাতে আসবেন। ৩. পুরুষ গ্রহীতা অপারেশনের ৫ দিন পর কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন। ৪. পুরুষ গ্রহীতা প্রথম তিন মাস কনডম অথবা তার স্ত্রী অন্য কোন অস্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। যে সকল কারণে সেবাকেন্দ্রে আসতে হবেঃ মহিলা গ্রহীতার ক্ষেত্রে ১. ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হলে। ২. মাসিক বন্ধ থাকলে। ৩. চোয়াল শক্ত হয়ে গেলে বা হা করতে অসুবিধা হলে। ৪. তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা হলে। পুরুষ গ্রহীতার ক্ষেত্রে ১. ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হলে। ২. অন্ডকোষ ফুলে গেলে। স্ত্রীর মাসিক বন্ধ থাকলে। কোন অসুবিধা হলে সাথে সাথে নিকটস্থ পরিবার পরিকল্পনা কর্মী অথবা সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন। জরুরী যোগাযোগের ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারীর ফোন নম্বর ও অধ্যায়-১০ প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১০ প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সন্তান জন্ম নেয়ার পর কমপক্ষে দুই বছর বিরতি দিয়ে গর্ভধারণ করলে, মা ও সন্তান দুইজনেরই স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। কিন্তু কোনো পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ না করলে, প্রসবের চার সপ্তাহ পর, আবার গর্ভবতী হবার আশঙ্কা থাকে। এজন্য গর্ভাবস্থায়ই মহিলাদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে উৎসাহিত করা উচিত। সমীক্ষায় দেখা গেছে, বর্তমানে পৃথিবীব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ২১৭ মিলিয়ন মহিলার অপূরণীয় চাহিদা রয়েছে। অর্থাৎ এই সকল মহিলা দেরিতে সন্তান গ্রহণেচ্ছক অথবা কখনোই সন্তান নিতে চায় না। কিন্তু কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করছেন না। বাংলাদেশে প্রসব পরবর্তী প্রথম বছরে মায়েদের পরিবার পরিকল্পনার অপূরণীয় চাহিদা শতকরা ৬০ ভাগ, যা স্বাভাবিক মহিলাদের পরিবার পরিকল্পনার অপূরণীয় চাহিদার চেয়ে প্রায় ৬ গুণ বেশি। সন্তান জনন্মদানের সাথে সাথে কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য অনেক উপযোগী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি আছে। এগুলো অসময়ে ও অপরিকল্পিত গর্ভধারণ রোধে সহায়তা করে। মা ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রসব পরবর্তী সময়ে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে কাউন্সেলিং ও পদ্ধতি নেয়ার সুযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অপরিকল্পিত গর্ভধারণ রোধ করার মাধ্যমে ২০-৩৫ শতাংশ মাতৃমৃত্যু এবং ২০ শতাংশ শিশুমৃত্যু রোধ করা সম্ভব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সম্প্রতি "প্রসব পরবর্তী ও নবজাতকের যত্নের গাইডলাইন" পুনঃসংস্করণে পরিবার পরিকল্পনা কাউন্সেলিংকে প্রসব পরবর্তী যত্নের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা (PPFP) সেবার সময়কাল গর্ভফুল বের হওয়ার পর হতে ১বৎসর পর্যন্ত। প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনার সময় বিভাজন ১. গর্ভফুল বের হওয়ার পরবর্তী সময় বা Post-Placental: গর্ভফুল বের হবার পরবর্তী ১০ মিনিটের মধ্যে . তাৎক্ষণিক প্রসব পরবর্তী সময় বা Immediate Postpartum: প্রসবের ১০ মিনিট পর থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ২ ৩. নিকটবর্তী প্রসব পরবর্তী সময় বা Early Postpartum: প্রসবের ৪৮ ঘন্টার পর থেকে ৬ সপ্তাহ পর্যন্ত ৪. বর্ধিত প্রসব পরবর্তী সময় বা Extended Postpartum: প্রসবের ৬ সপ্তাহের পর থেকে ১ বছর পর্যন্ত প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনায় সেবা প্রদানকারীদের করণীয় প্রসব পূর্ববর্তী বা গর্ভকালীন সেবার সময় • প্রসব পরবর্তী সময়ে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে কাউন্সেলিং এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো গর্ভকালীন সেবার সময়। এছাড়া প্রসব শুরু হওয়ার পূর্বেও এ কাউন্সেলিং করা যেতে পারে • গর্ভবতী মাকে অবশ্যই প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিশদ তথ্য দিতে হবে এবং কোন পদ্ধতির কী কী সুবিধা তা বলতে হবে • যদি কোন মহিলা তাদের কোন সন্তান নিতে না চান তবে পুরুষ/মহিলাকে স্থায়ী পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে এবং তার স্বামীকেও কাউন্সেলিং করতে হবে • তাদের মধ্যে কেউ যদি সিজারিয়ান অপারেশন এর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে ও তাকে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করতে হবে • চারটি গর্ভকালীন পরিদর্শনের সময় গর্ভবতীকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে এবং তা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে হবে • কোন গর্ভবতী মা যদি পদ্ধতি বাছাই করে থাকে তা অবশ্যই রেকর্ড খাতায় বা গর্ভবর্তী পরিচর্যা কার্ডে লিখে রাখতে হবে, যাতে করে সন্তান জন্মদানের সাথে সাথেই প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান করা যায়। প্রসব কক্ষে • সন্তান জন্মদানের পর মাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে, সে গর্ভকালীন সেবা নেওয়ার সময় পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ পেয়েছেন কিনা এবং পদ্ধতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা। তাহলে অবশ্যই যত দ্রুত সম্ভব পদ্ধতির সেবা প্রদান করতে হবে • সেবাকেন্দ্রে যদি পছন্দ অনুযায়ী পদ্ধতি না থাকে, তবে সুবিধাজনক কেন্দ্রে রেফার করতে হবে • স্বাভাবিক প্রসব বা সিজারিয়ান অপারেশনের সময় গর্ভফুল বের হওয়ার পরপরই আইইউডি, ইমপ্ল্যান্ট ও টিউবেকটমি করা যায় প্রসব পরবর্তী সেবার সময় • প্রসব পরবর্তী সেবা গ্রহণকারী মা, পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন কিনা এবং বাড়িতে সরবরাহ আছে কিনা নিশ্চিত হতে হবে • যদি সে কোন পদ্ধতি গ্রহণ না করে থাকেন তবে অবশ্যই তাকে প্রয়োজনীয় পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে এবং সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করতে হবে শিশুর টিকাদান কেন্দ্রে • যখন প্রসব পরবর্তী সময়ে, মা শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসবে, তখন সে কোন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করেছে কিনা জানতে হবে এবং গ্রহণের জন্য সহায়তা করতে হবে সুস্থ ভাবে গর্ভধারণের জন্য একটি জন্ম থেকে পরবর্তী গর্ভধারণ পর্যন্ত ন্যূনতম দুই বছরের বিরতির প্রয়োজন। শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুর সুস্থতা ও বেঁচে থাকার হার বৃদ্ধি পায় এবং এর মাধ্যমে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নির্ভর পদ্ধতি (ল্যাম) ব্যবহারকারী গ্রহীতার সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। প্রসব পরবর্তী সময়ে ব্যবহার উপযোগী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহ বিঃদ্র: সময়ের বারের সাদা অংশের সময়ে পদ্ধতিটি শুরু/ব্যবহার করা যাবে না প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসমূহের সুবিধা • মা ও শিশুর সুস্থতায় বিশেষ অবদান রাখে • শিশু ও মায়ের মৃত্যুরোধে সহায়তা করে • অপূরণীয় চাহিদা মেটায় • অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধ করার মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভপাত থেকে মাকে নিরাপদ রাখে। • প্রসব সেবার পাশাপাশি একই সময়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণে সুযোগ সৃষ্টি করে • বারবার সেবাকেন্দ্রে যাতায়াতের খরচ ও সময় বাঁচায় এবং সহজে সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ সৃষ্টি হয় • কেন্দ্রের সেবাদান সম্পর্কিত খরচ হ্রাস করে এবং সেবাদানকারী সময় বাঁচায় প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে কাউন্সেলিং করার সবচাইতে উপযুক্ত সময় হলো প্রতিটি গর্ভকালীন সেবার সময়। এছাড়া মহিলারা প্রসব পরবর্তী এবং নবজাতকের টিকাদান সেবা নিতে এলে তাকেও এ বিষয়ে তথ্য দিতে হবে। প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা সেবায় কাউন্সেলিং • প্রসবের পর থেকে এক বছরের মধ্যে প্রায় সকল পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তবে একেকটি পদ্ধতি একেক সময়ে ব্যবহার শুরু করা যায় • অনেক পদ্ধতিই প্রসবের সাথে সাথে হাসপাতালে থাকা অবস্থায়ই দেয়া যায়, যেমন আইইউডি, ইমপ্ল্যান্ট, শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ বড়ি (আপন), মহিলাদের স্থায়ী পদ্ধতি প্রসব পরবর্তী সময়ে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের নিমিত্তে কাউন্সেলিং করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হল গর্ভকালীন চারটি সেবার সময় • • প্রসবকালীন সেবা দেবার সময়ে প্রসূতি মা, স্বামী ও তার পরিবার, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়েই বেশি মনোযোগী থাকে। যদি কোন কারণে গর্ভকালীন সময়ে কাউন্সেলিং করা না হয়ে থাকে, তাহলে প্রসব ব্যথা শুরু হওয়ার আগে ও প্রসবের পরে হাসপাতাল ত্যাগের পূর্বে মা ও তার পরিবারকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে কাউন্সেলিং করতে হবে। • স্ত্রীর প্রতি পুরুষের দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার মাধ্যমেই স্বামী-স্ত্রী একটি নিরাপদ পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারে। প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বামীকে কাউন্সেলিং-এর আওতায় আনা জরুরি। কেননা প্রসব পরবর্তী সময়ে স্বামী স্থায়ী পদ্ধতি বা কনডম ব্যবহার করতে পারেন। প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির কাউন্সেলিং এর সময় যে তথ্য দিতে হবে • প্রসবের পর গর্ভধারণ ক্ষমতা পুনরায় কখন ফিরে আসতে পারে, সে ব্যাপারে ধারণা দেওয়া • সন্তান জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো এবং বুকের দুধ নির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করা • যত তাড়াতাড়ি সম্ভব যে কোনো আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করা • সুস্থ সময়ে এবং সঠিক বিরতিতে গর্ভধারণ করার জন্য কাউন্সেলিং করা • সন্তান সংখ্যার ভিত্তিতে বিরতি দিয়ে সন্তান নেওয়া ও একেবারে সন্তান না নেয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা সুস্থ সময়ে এবং সঠিক বিরতিতে গর্ভধারণ (Healthy Timing and Spacing of Pregnancy) বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী, Healthy Timing and Spacing of Pregnancy (HTSP) is an intervention to help women and families delay or space their pregnancies to achieve the healthiest outcomes for women, newborns, infants, and children, within the context of free and informed choice, taking into account fertility intentions and desired family size অর্থাৎ একজন মহিলার, প্রসবের পর কমপক্ষে দুই বছর সন্তান ধারণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একে গর্ভধারণের জন্য সুস্থ সময় এবং সঠিক বিরতি বলা হয়। এর ফলে- • কম ওজনের বাচ্চা/সময়ের আগেই বাচ্চা হওয়ার ঝুঁকি কমে • এই বিরতি মায়ের প্রসব-অবস্থা এবং নবজাতকের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে • সন্তানের অসুস্থতার ঝুঁকি হ্রাস পায় • শিশু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ পায় ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত হয় • মা তার সন্তানকে পুরো ২ বছর বুকের দুধ খাওয়ানোর সুযোগ পায়। ফলে মায়ের গর্ভধারণের সম্ভাবনা কমে যায় পরিবার পরিকল্পনা সেবার সাথে সমন্বিত সেবাসমূহ • প্রসব পরবর্তী সেবা • নবজাতকের সেবা • টিকাদান প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনায় পুরুষের ভূমিকা আমরা জানি, প্রসব পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা কাউন্সেলিং গর্ভকালীন সময়েই শুরু হয়। গর্ভকালীন সেবার জন্য একজন মা বার বার সেবাকেন্দ্রে আসেন। বিশ্বের যেখানেই প্রসব পরবর্তী সেবা প্রদান করা হচ্ছে সেসব জায়গায় সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করেছেন যে, সম্ভাব্য সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুরুষ ও মহিলা উভয়ের পরিবার পরিকল্পনা তথা প্রজনন স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নয়ন করা প্রয়োজন। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের দায় শুধুমাত্র মহিলাদের নয়, পুরুষেরও এ জন্য অনেক করণীয় আছে। বরং পুরুষের উচিত নিজে পদ্ধতি গ্রহণ করা বা স্ত্রীকে পদ্ধতি গ্রহণে সহায়তা করা বা কোনো জটিলতা হলে ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ নেওয়া। এ জন্য পুরুষদেরকে বিশেষভাবে কাউন্সেলিং ও উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অধ্যায় - ১১ গর্ভপাত বা এমআর পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১১ গর্ভপাত বা এমআর পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা যেসব মহিলার সম্প্রতি গর্ভপাত বা এমআর হয়েছে তাদের বিশেষ পরামর্শ ও সেবার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ গর্ভপাত বা এমআর এর ২-৪ সপ্তাহের মধ্যেই তিনি আবার গর্ভবতী হয়ে পড়তে পারেন। এদের সাথে খোলামেলা কথা বলতে হবে। গর্ভপাত বা এমআর এর পর যদি কোন জটিলতা বা সংক্রমণ না থাকে তাহলে ৭ দিনের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নিরাপদে ব্যবহার করতে পারেন। এই অবস্থায় পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা করতে হবে, বার বার এমআর/ডি এন্ড সি করার ক্ষতিকর দিকগুলি বিশেষত প্রজননতন্ত্রে সংক্রমণ, সহবাসে ব্যথা, বন্ধ্যাত্ব, ইত্যাদি গ্রহীতাকে ভালভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে। মহিলার কথায় যদি মনে হয় যৌন বা অন্য কোন হয়রানির মত কোন শারীরিক বা সামাজিক সমস্যায় আছেন তাহলে তাকে সাহায্য করতে হবে; প্রয়োজনে তাকে রেফার করতে হবে। এমআর-পরবর্তী গর্ভনিরোধক কাউন্সেলিং এবং পদ্ধতি সরবরাহের গুরুত্ব এমআর এবং গর্ভপাত-পরবর্তী সেবার অংশ হিসেবে গর্ভনিরোধক কাউন্সেলিংয়ের লক্ষ্য হচ্ছে কোনো মহিলা কী কী কারণে এমআর করেন তা খুঁজে বের করা এবং ভবিষ্যতে যাতে আর গর্ভপাত করতে না হয় তার প্রতিকার করা। কোনো মহিলা যদি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করতে চান তাহলে কাউন্সেলিং তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য এবং যথোপযুক্ত পদ্ধতি পছন্দ করতে সহায়তা প্রদান করে। কোনো সফল গর্ভনিরোধক কাউন্সেলর কোনো মহিলার ব্যক্তিগত চাহিদা, প্রজনন লক্ষ্যমাত্রা ও শারীরিক অবস্থা মনে রেখেই কাজ করেন। গর্ভনিরোধ বিভিন্ন কারণে মহিলাদের স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে- • সীমিত সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে মহিলাদের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন এবং অধিক সন্তান জন্মদান পরিহার মায়ের শরীরের জন্য মঙ্গলজনক। • এক সন্তানের জন্মের পর আরেকটি সন্তান ইচ্ছামতো সময়ে নিতে পারা এবং ছোট পরিবার গঠন, শিশুর জীবন রক্ষা ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নের নিরাপদ উপায় অবলম্বনে মাকে সাহায্য করে (Upadhyay and Robey, 1999)। • মায়ের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষার সুযোগদান এবং পেশার ক্ষেত্রে উন্নয়নে স্বাধীনতা প্রদান করে। • ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভ পরিহারের মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু ও অসুস্থতা কমিয়ে আনতে এবং অনিরাপদ গর্ভপাতের ফলে মৃত্যু বা অসুস্থতার সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে মহিলাকে সাহায্য করে। সেবা প্রদানের মডেলসমূহ এমআর সেবা প্রদানের সময় গর্ভনিরোধক পদ্ধতির কাউন্সেলিং এবং সরবরাহ বিভিন্ন কেন্দ্রে বিভিন্নভাবে হতে পারে। সেবা প্রদানের মডেলের মধ্যে যা যা থাকবে তা হলো- • এমআর এবং গর্ভপাত-পরবর্তী সেবার ক্ষেত্রে সেবাকেন্দ্রে কাউন্সেলিং এবং অন্তর্বর্তীকালীন পদ্ধতির পাশাপাশি যদি স্থায়ী পদ্ধতির ব্যবস্থা থাকে তাহলে এ বিষয়ে তাকে জানানো। • এমআর সেবাকেন্দ্রে কাউন্সেলিং করা এবং পদ্ধতি সরবরাহের জন্য অন্য কেন্দ্রে রেফার করা • ক্লায়েন্টকে কাউন্সেলিং ও পদ্ধতি সরবরাহের জন্য পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক থেকে সেবাদানকারীকে এমআর এবং গর্ভপাত-পরবর্তী সেবাকেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা অথবা ক্লায়েন্টকে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। গর্ভনিরোধক কাউন্সেলিং এমআর অথবা গর্ভপাত-পরবর্তী সেবার আগে এবং পরে করতে হবে। সাধারণত সেবা প্রদানের পর পরই গর্ভনিরোধক পদ্ধতি গ্রহণ করা মহিলার জন্য সবচেয়ে উত্তম। যদি মহিলা কোনো স্থায়ী পদ্ধতি অথবা দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি নেয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন (যেমন- মহিলা বন্ধ্যাকরণ অথবা আইইউডি) তাহলে উল্লেখিত পদ্ধতিসমূহ জরায়ু ইভাকুয়েশনের পরপরই করা যায়। যদি ম্যানুয়াল অ্যাসপিরেশন (এমভিএ) দ্বারা করা হয় তাহলে পর পরই প্রদান করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে এমআর শুরু করার আগেই কাউন্সেলিং এবং সম্মতি নিয়ে নিতে হবে। এমআর বা গর্ভপাতের পর মহিলার সন্তান জন্মদানের লক্ষ্যমাত্রা কোনো মহিলার সফলতার সঙ্গে গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা অনেক সময় তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে (পরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা করা হয়েছে)। সেবাদানকারী সমব্যথিতার সঙ্গে প্রত্যেক মহিলার ব্যক্তিগত অবস্থা যাচাই করবেন এবং কী কী কারণে মহিলা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ করেছেন তা বিবেচনা করবেন। সেবাদানকারী মহিলার ওই বিষয়গুলোর সমাধান করতে সাহায্য করতে পারেন যাতে মহিলা তার ইচ্ছা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ গর্ভ বিলম্বিত অথবা প্রতিরোধ করতে পারেন। সবক্ষেত্রেই এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, সেবাদানকারী কখনোই অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ত প্রতিরোধ করতে না পারার জন্য মহিলাকে দোষারোপ করবেন না। যেসব সেবাকেন্দ্রে গর্ভনিরোধক সেবা দেয়ার ব্যবস্থা নেই সেখানে এমআর সেবা গ্রহণকারী মহিলারা নীচের বিষয়গুলো জানেন কি না তা সেবাদানকারী নিশ্চিত করবেন- • প্রসিডিউরের পর ১০ দিনের মধ্যে মহিলা আবার গর্ভবতী হতে পারেন। • আবার গর্ভধারণ না করার অথবা দেরিতে গর্ভধারণ করার নিরাপদ জন্মনিরোধক পদ্ধতি পাওয়া যায়। • কোথায় ও কীভাবে গর্ভনিরোধক সেবা এবং জরুরি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি পাওয়া যায়। • অধিকাংশ গর্ভনিরোধক পদ্ধতি এমআর বা গর্ভপাত সেবার পর পরই ব্যবহার করা যায়। জন্মনিরোধক পদ্ধতির ব্যর্থতা গর্ভনিরোধক পদ্ধতির ব্যর্থতার কারণে যে মহিলারা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভ থেকে পরিত্রাণের জন্য গর্ভ নষ্ট করেছেন তাঁদের সঙ্গে কাউন্সিলর সামনাসামনি কথা বলবেন। পদ্ধতির ব্যর্থতার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন- পদ্ধতির কার্যকারিতা ছিল না, মহিলা পদ্ধতিটি যথাযথভাবে ব্যবহার করেননি, মহিলা ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক অথবা সাংস্কৃতিক কারণে পদ্ধতিটি ছেড়ে দিয়েছেন অথবা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মহিলাকে যথোপযুক্ত বা বিশ্বস্তভাবে সেবা দিতে পারেনি। বিশ্বস্ততা, গোপনীয়তার এবং জেনে-শুনে পদ্ধতি পছন্দের অধিকার বিশেষ করে গর্ভপাত সেবাকেন্দ্রে বিশ্বস্ততা এবং গোপনীয়তা অপরিহার্য। মহিলাকে সম্পূর্ণভাবে একটি প্রাইভেট স্থানে যেখানে কেউ তাকে দেখবেন না অথবা অন্য কেউ তাঁদের কথা শুনতে পারবেন না- এমন জায়গায় কাউন্সেলিং করা আদর্শ। যদি সেবাকেন্দ্রে এমন ব্যবস্থা না থাকে তাহলে যতদূর সম্ভব একেবারে কাছাকাছি ওই রকম আদর্শ ব্যবস্থার মতো আয়োজন করতে হবে। গর্ভনিরোধক কাউন্সেলিংয়ের শুরুতে মহিলাকে সেবাদানকারী নিশ্চিত করবেন, যেসব বিষয় আলোচনা করা হবে তা এখানে গোপন থাকবে। অধিবেশন শেষে মহিলার যে যে তথ্য পাওয়া যাবে তা সেবাদানকারী পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে গোপন রাখবেন। অর্থাৎ মহিলার সম্মতি ছাড়া তিনি যে যে তথ্য দিয়েছেন তা প্রকাশ করা যাবে না এবং তার অবস্থা সম্পর্কে অন্য কারোর সামনে আলোচনা করা যাবে না। মহিলা যদি চান তাহলে তার স্বাধীনভাবে এবং জেনে-শুনে গর্ভনিরোধক পদ্ধতি পছন্দ করার অধিকার রয়েছে। এমআর এবং গর্ভপাত-পরবর্তী সেবার পূর্বশর্ত হিসেবে কোনো গর্ভনিরোধক বা বিশেষ কোনো পদ্ধতি মহিলাকে নিতেই হবে- এমন হওয়া উচিত নয়। স্বাধীনভাবে এবং জেনে-শুনে পদ্ধতি পছন্দ করার অর্থ হচ্ছে যে, মহিলা জোর-জবরদস্তি, প্রলোভন বা চাপ ছাড়াই স্বেচ্ছায় একটি পদ্ধতি গ্রহণ করবেন। স্বামীর অংশগ্রহণ গর্ভনিরোধক কাউন্সেলিংয়ে সঙ্গী বা স্বামী উপস্থিত থাকলে কাউন্সেলিং বেশি কার্যকর হয় এবং মহিলার পদ্ধতি ব্যবহার সহজ হয়। যদি মহিলাকে গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারের অনুমতি স্বামী না দেন কিন্তু মহিলা ব্যবহার করতে চান তাহলে কাউন্সেলর এমন একটি পদ্ধতি তাকে পছন্দ করতে সাহায্য করবেন যে জন্য স্বামীর সহযোগিতা অথবা অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই। যেমন- ডিপো ইনজেকশন অথবা আইইউডি। কাউন্সিলরের অবশ্যই আলোচনা করা উচিত যে, যদি তার স্বামী তার পদ্ধতি সম্বন্ধে জানতে পারেন তাহলে তিনি সম্ভাব্য কী কী আচরণ করতে পারেন। যেমন-সহিংসতা। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে কাউন্সিলরের উচিত হবে এমন পরিস্থিতিতে মহিলা কীভাবে নিজকে রক্ষা করবেন এর সম্ভাব্য উপায় বের করতে সাহায্য করা এবং কোথায় এসবের জন্য সাহায্য পাওয়া যায় তা জানিয়ে দেয়া এমআর বা গর্ভপাত-পরবর্তী গর্ভনিরোধক সম্পর্কে তথ্য গর্ভনিরোধক সম্পর্কে তথ্য এবং সেবাদান এমআর বা গর্ভপাত-পরবর্তী সেবার অত্যাবশ্যকীয় অংশ। কারণ গর্ভনিরোধক সম্পর্কে তথ্য এবং সেবা পেলে মহিলা ভবিষ্যতে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ থেকে রক্ষা পেতে পারেন। তবে মহিলাকে গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করতেই হবে- এটা কখনোই এমআর সেবা প্রদানের পূর্বশর্ত হবে না। ইউটেরাইন ইভাকুয়েশন-পরবর্তী গর্ভনিরোধক ব্যবহারের শারীরিক সক্ষমতা কোনো মহিলাকে গর্ভনিরোধক পদ্ধতি সরবরাহের সময় প্রতিটি পদ্ধতির জন্য তার শারীরিক যোগ্যতা অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। সাধারণত গর্ভের প্রথম তিন মাসের মধ্যে এমভিএ দ্বারা এমআর সেবা প্রদানের পর সব ধরনের গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে যদি- • আরো চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে এমন কোনো মারাত্মাক জটিলতা না থাকে। • মহিলা যদি যথেষ্ট কাউন্সেলিং সেবা পান এবং জেনে-শুনে সম্মতি দেন। • কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য সেবাদানকারী সতর্কতার সঙ্গে মহিলাকে বাছাই করে থাকেন। • মহিলা বুঝতে পারবেন যে, বন্ধ্যাকরণ- যা স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত তা বাদে অন্য যে কোনো অস্থায়ী পদ্ধতির ক্ষেত্রে তিনি ভবিষ্যতে পদ্ধতি বদলাতে পারবেন। গর্ভপাত বা এমআর পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি জটিলতাবিহীন গর্ভপাত বা এমআর পরবর্তী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি কোন জটিলতা না হলে গর্ভপাত এবং এমআর এর পরপরই সকল পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করা যাবে। গর্ভপাত বা এমআর এর পর জটিলতা সৃষ্টি হলে সেক্ষেত্রে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সংক্রমণ যদি কখনো সংক্রমণ দেখা যায় তাহলে সংক্রমণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত মহিলাকে সহবাস থেকে বিরত থাকার জন্য পরামর্শ দিতে হবে। সংক্রমণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত কিছু পদ্ধতি দেয়া যাবে না। যেমন-টিউবেকটমি ও আইইউডি। সংক্রমণ থাকলে টিউবেকটমি-পরবর্তী সংক্রমণের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। সংক্রমণ ভালো হওয়ার আগে আইইউডি গ্রহণ করলে তা অবস্থার অবনতি ঘটাতে পারে। যতদিন পর্যন্ত টিউবেকটমি অথবা আইইউডি সেবা প্রদান করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত গ্রহীতা পছন্দমাফিক অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবে। যৌনাঙ্গে আঘাত যৌনাঙ্গে আঘাতের মধ্যে রয়েছে জরায়ু ছিদ্র হওয়া, জরায়ুর মুখ ছিঁড়ে যাওয়া, যোনিপথে আঘাত এবং থেঁতলে যাওয়া। এসব আঘাতের জন্য আঘাতের স্থান এবং অবস্থা ধরনের ওপর নির্ভর করে জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতির ব্যবহার বিলম্বিত হতে পারে। যেসব পদ্ধতির ওপর অস্থায়ীভাবে বিধি-নিষেধ থাকবে সেগুলো হলো টিউবেকটমি ও আইইউডি। এসব ক্ষেত্রে সেবাদানকারী অন্তর্বর্তীকালীন কোনো পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য সুপারিশ করবেন এবং তা শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে দেবেন ততদিন পর্যন্ত গ্রহীতা পছন্দমাফিক অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে মহিলাকে টিউবেকটমি করা বা আইইউডি প্রদানের পূর্বে তার রক্তক্ষরণের পরিমাণ কেমন তা যাচাই করতে হবে। যদি ল্যাবরেটরি অথবা শারীরিক পরীক্ষায় মহিলার রক্তশূন্যতা পাওয়া যায় তাহলে সেই টিউবেকটমি তখনই করা যাবে না। যতদিন পর্যন্ত টিউবেকটমি অথবা আইইউডি সেবা প্রদান করা যাবে না, ততদিন পর্যন্ত গ্রহীতা পছন্দমাফিক অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবে। ওষুধ প্রয়োগে এমআর (এমআরএম) করার পর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতির ব্যবহার কোনো মহিলা যেদিন থেকে মিফেপ্রিস্টন শুরু করবেন সেদিন থেকেই কনডম এবং সকল হরমোনাল পদ্ধতি (খাবার বড়ি, ইনজেকশন, ইমপ্ল্যান্ট) ব্যবহার করতে পারবেন। মহিলা আর গর্ভবতী নন নিশ্চিত হলেই কেবলমাত্র আইইউডি বা টিউবেকটমি সেবা প্রদান করা যাবে। যতদিন পর্যন্ত টিউবেকটমি অথবা আইইউডি সেবা প্রদান করা যাবে না ততদিন পর্যন্ত গ্রহীতা পছন্দমাফিক অন্যান্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারবে। জরুরি গর্ভনিরোধক অরক্ষিত যৌনমিলনের পর অথবা গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যর্থ হলে গর্ভধারণ রোধ করার জন্য জরুরি গর্ভনিরোধক গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। যে মহিলারা এমআর সেবা গ্রহণ করেন তাঁদের অগ্রিম জরুরি গর্ভনিরোধক সরবরাহ করলে ভবিষ্যতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভ প্রতিরোধ করা সহজ হয়। তবে গর্ভধারণ করার পর জরুরি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি গর্ভকে নষ্ট অথবা বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। গর্ভপাত বা এমআর বা এমআরএম এর পর বিভিন্ন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি শুরু করার সময় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গর্ভপাত-পরবর্তী সেবা এমআর (পরবর্তী সেবা) ওষুধ প্রয়োগে এমআর (পরবর্তী সেবা) কনডম যখন মহিলা মনে করবেন, তিনি যৌনমিলনের জন্য প্রস্তুত এমভিএ করার পর পর এমআরএম শুরু করার প্রথম দিন খাবার বড়ি সেবা নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমভিএ করার পর পর এমআরএম শুরু করার প্রথম দিন ইনজেকশন সেবা নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমভিএ করার পর পর এমআরএম শুরু করার প্রথম দিন ইমপ্ল্যান্ট সেবা নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমভিএ করার পর পর এমআরএম শুরু করার প্রথম দিন আইইউডি সেবা নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমভিএ করার পর পর যখন নিশ্চিন্ত হওয়া যাবে, মহিলা গর্ভবর্তী নন বা জরায়ু সম্পূর্ণ খালি করা হয়েছে টিউবেকটমি সেবা নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমভিএ করার পর পর এমআরএম করার পর পর প্রাকৃতিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সেবা নেয়ার পর একটা মাসিক চক্র ভালোভাবে হয়ে যাওয়ার পর এমভিএ করার পর একটা মাসিক চক্র ভালোভাবে হয়ে যাওয়ার পর এমআরএম করার পর একটা মাসিক চক্র ভালোভাবে হয়ে যাওয়ার পর জরুরি জন্মবিরতিকরণ পিল প্রয়োজন অনুসারে অরক্ষিত যৌনমিলনের ৫ দিনের মধ্যে। প্রয়োজন অনুসারে অরক্ষিত যৌনমিলনের ৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজন অনুসারে, অরক্ষিত যৌনমিলনের ৫দিনের মধ্যে বি.দ্র. যখন কোনো জটিলতা থাকবে না তখন এই ছক অনুসরণ করা যাবে মহিলা বন্ধ্যাকরণের জন্য গর্ভপাত-পরবর্তী স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা সম্পর্কিত সুপারিশসমূহ (পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ২০১৬) গর্ভপাত-পরবর্তী সেবা শ্রেণীবিন্যাস জটিলতাবিহীন A গর্ভপাত-পরবর্তী সংক্রমণ/ জ্বরে আক্রান্ত D গর্ভপাত-পরবর্তী অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ D গর্ভপাতকালে সার্ভিক্স অথবা যোনিপথ ছিঁড়ে গেলে বা ক্ষতের সৃষ্টি D গর্ভপাতকালে জরায়ু ছিদ্র S হঠাৎ জরায়ুর ভিতরে তীব্র রক্তক্ষরণ হয়ে রক্তপূর্ণ জরায়ু (Haematometra) D শ্রেণীবিন্যাসের ব্যাখ্যা- A (Accept) গ্রহণীয় = এই অবস্থায় বন্ধ্যাকরণ না করার কোনো কারণ নেই। D (Delay) দেরি করা = ক্লায়েন্টের অবস্থা যাচাই করতে হবে এবং তার অবস্থা ভালো না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ্যাকরণ করা যাবে না। এ অবস্থায় বিকল্প অস্থায়ী পদ্ধতি দিতে হবে। S (Special) বিশেষ সর্তক অবস্থা = এই অবস্থায় বিশেষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র যেখানে অভিজ্ঞ শল্য চিকিৎসক ও কর্মী থাকবেন, অজ্ঞান (General Anesthesia) করার ব্যবস্থা থাকবে এবং ব্যাকআপ চিকিৎসা সহায়তা (Back-up Support)-এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকতে হবে। এ অবস্থায় সঠিক প্রক্রিয়া এবং অ্যানেসথেসিয়া সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে। অন্যত্র রেফার করার প্রয়োজন হলে অথবা অন্য কোনো কারণে অপেক্ষা করতে হলে বিকল্প অস্থায়ী পদ্ধতি দিতে হবে। সারসংক্ষেপ • এমআর বা গর্ভপাত-পরবর্তী সেবার মহিলাকে গর্ভনিরোধক কাউন্সেলিং এবং তিনি যদি চান তাহলে তাকে একটি গর্ভনিরোধক পদ্ধতি সরবরাহ করা উচিত। • গর্ভনিরোধক সেবার জন্য বিশ্বস্ততা, গোপনীয়তা ও অবহিত সম্মতি হচ্ছে মৌলিক মানবাধিকার। • সেবাকেন্দ্রের সেবা প্রদানের ক্ষমতা এবং সেবাদানকারীর দক্ষতার ওপর নির্ভর করে গর্ভনিরোধক সেবা প্রদানের বিভিন্ন মডেল বা ধরন। • যেসব মহিলা এমআর বা গর্ভপাত-পরবর্তী সেবা গ্রহণ করেছেন তাঁদের গর্ভনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহারের ইতিহাস থাকতে পারে যার মধ্যে রয়েছে গর্ভনিরোধক পদ্ধতির ব্যর্থতা, সঠিকভাবে পদ্ধতি ব্যবহার না করা এবং পছন্দের পদ্ধতি ব্যবহার না করা অথবা পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। * গর্ভনিরোধক পদ্ধতির কাউন্সিলর সেবাদানটি কার্যকর করার জন্য মহিলার আস্থা অর্জন, তার ব্যক্তিরত প্রয়োজনীয়তা বোঝার চেষ্টা এবং এসব প্রয়োজনীয়তা পূর্ণ করতে কাউন্সেলিং সেশন পরিচালনা করবেন। • কাউন্সিলরের জরুরি গর্ভনিরোধকসহ বিভিন্ন গর্ভনিরোধ পদ্ধতি সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে এবং কোন পদ্ধতি তার জন্য উপযুক্ত সে সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে। • কাউন্সিলরের অবশ্যই যে বিষয়টি বোঝা উচিত তা হলো, মহিলাদের জীবনে একেকজনের একেক রকম পরিস্থিতি থাকতে পারে যা তাঁদের গর্ভনিরোধক পদ্ধতির চাহিদা ও ব্যবহারের ওপর প্রভাব ফেলে। ওই সমস্ত পরিস্থিতি জেনে তার সমাধানের জন্য কাউন্সিলরকে প্রস্তুত থাকতে হবে। অধ্যায় - ১২ বুকের দুধ খাওয়ানো নির্ভর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১২ বুকের দুধ খাওয়ানো নির্ভর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি বুকের দুধ খাওয়ানো নির্ভর জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি বা ল্যাকটেশনাল অ্যামেনোরিয়া মেথড বা ল্যাম (Lactational Amenorrhoea Method - LAM) একটি প্রাকৃতিক জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি। ল্যাম কীভাবে কাজ করে 'ল্যাম' হচ্ছে এমন এক জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি যেখানে বুকের দুধ খাওয়ানোর ধরনের উপর নির্ভর করে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা হয়। ডিম্বস্ফুটনে বাধা দেয়ার মাধ্যমে এটি কাজ করে। নিম্নে বিস্তারিতভাবে এ বিষয়টি বর্ণনা করা হলো- • বাচ্চা ঘন ঘন বুকের দুধ খেলে ব্রেনের হাইপোথ্যালামাস থেকে গোনাডোট্রপিন (GnRH) হরমোন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয় • গোনাডোট্রাপিন হরমোন অনিয়মিত নিঃসরণের ফলে পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (FSH) এবং লিউটিনাইজিং হরমোন (LH) দু'টি নিঃসরণও বাধাপ্রাপ্ত হয় • FSH ও। হরমোন কম নিঃসরণের ফলে ডিম্বাশয়ে ডিম পরিপক্ক হয় না, ফলে ডিম্বস্ফুটন হয় না • ডিম্বস্ফুটন না হওয়ার কারণে মাসিক হয় না ল্যাম এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর মধ্যে পার্থক্য ল্যাকটেশনাল অ্যামেনোরিয়া মেথড (ল্যাম) একটি প্রাকৃতিক জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি, যেখানে বুকের দুধ খাওয়ানোর ধরনের উপর নির্ভর করে ডিম্বস্ফুটনে বাধা দেয়ার মাধ্যমে গর্ভধারণ প্রতিরোধ করা হয়। বুকের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে বাচ্চাকে খাওয়ানোর একটি পদ্ধতি, জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি নয়। ল্যাম কারা ব্যবহার করতে পারবেন একজন স্তনদানকারী মহিলা শিশুর জন্মের পর থেকে ল্যাম পদ্ধতি শুরু করতে পারেন, যদি- • শিশুকে শুধুমাত্র বুকের দুধ পান করান (দিনে কমপক্ষে ৪ ঘণ্টা পর পর এবং রাতে ৬ ঘণ্টা পর পর) • শিশুর জন্মের পর পুনরায় মায়ের মাসিক শুরু না হয় • প্রসব পরবর্তী সময় ৬ মাসের কম অর্থাৎ শিশুর বয়স ৬ মাস পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোকে দুইভাগে ভাগ করা যায় ১. শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো-কখনও পানি, তরল এবং অন্য যে কোনো খাবার না খাওয়ানো। ২. প্রায় শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানো-মাঝে মাঝে ভিটামিন, পানি, ফলের রস বা অন্যান্য খাবার খাওয়ানো। ল্যাম-এর কার্যকারিতা ল্যাম সঠিকভাবে অনুসরণ করলে ৯৮% এর বেশি কার্যকরী। ল্যাম-এর সুবিধা • খুবই কার্যকর • অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, ফলে কোনো খরচ হয় না। • কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই • কোনো সামাজিক ও ধর্মীয় বাধা নেই প্রসব পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো আধুনিক পদ্ধতি গ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়। এজন্য একে Gateway methodও বলা হয়। ল্যাম এর অন্যান্য সুবিধাসমূহ বাচ্চার জন্য • পরোক্ষভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এবং সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে • পুষ্টির সবচেয়ে বড় উৎস • পানি, অন্যান্য খাবার ও জিনিসপত্র জীবাণুর সংস্পর্শে আসার আশঙ্কা কমায় মায়ের জন্য • মাসিক বন্ধ থাকার কারণে মায়ের শরীরে আয়রনের ঘাটতি কমায় • মা ও শিশুর মধ্যে বন্ধন দৃঢ় হয় ল্যামের সীমাবদ্ধতা • স্বল্পমেয়াদি পদ্ধতি • শুধুমাত্র প্রসব পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যায় • কার্যকারিতা কমে যায় যদি মা ও বাচ্চা দীর্ঘ সময় যাবৎ আলাদা থাকে • যৌনরোগ এবং এইচআইভি থেকে রক্ষা করে না ল্যাম ব্যবহারকারী গ্রহীতার জন্য নির্দেশনা • বাচ্চার চাহিদা অনুযায়ী দুই পাশের জন হতেই দুধ পান করাতে হবে • দিনে কমপক্ষে চার ঘণ্টা পর পর এবং রাতে কমপক্ষে দুইবার বা ছয় ঘণ্টা পর পর বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করাতে হবে • যদি বাচ্চা দিনে ৬-১০ বার দুধ না খায় বা সারা রাত ঘুমায়, তবে ল্যাম-এর কার্যকারিতা কমে যায় • যদি মা অন্য উপায়ে বুকের দুধ খাওয়ান এবং বাচ্চা কম চুষে, তবে ল্যাম-এর কার্যকারিতা কমে যায় • যদি বাচ্চা দিনে ৬-১০ বার দুধ না খায় বা সারা রাত ঘুমায়, তবে ল্যাম-এর কার্যকারিতা কমে যায় • যদি মা অন্য উপায়ে বুকের দুধ খাওয়ান এবং বাচ্চা কম চুষে, তবে ল্যাম-এর কার্যকারিতা কমে যায় • বুকের দুধের সম্পূরক হিসেবে কোনো খাবার দেয়া যাবে না পরিবার পরিকল্পনার জন্য নির্দেশাবলী • সবসময় অন্যান্য জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি প্রস্তুত রাখতে হবে, যেমন: কনডম। পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করতে হবে যদি- - মাসিক শুরু হয়ে যায় - বাচ্চা বুকের দুধ খাওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য খাবার খাওয়া শুরু করে - শিশুর বয়স ৬ মাসের বেশি হয় • ল্যাম ছেড়ে অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে যোগাযোগ করতে হবে ল্যাম এর মূল বিষয় • সঠিকভাবে ব্যবহার করলে ল্যাম ৯৮% এর বেশি কার্যকর • ল্যাম সহজলভ্য এবং জটিলতা ছাড়া ব্যবহার করা যায় • মহিলাদের আধুনিক পদ্ধতিসমূহের কাউন্সেলিং করার সময় ল্যাম সম্পর্কে বলা উচিত • সমীক্ষায় দেখা গেছে, যে সকল মহিলারা কখনও আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন না তাদের কাছে ল্যাম পছন্দনীয় • সমীক্ষায় এটাও দেখা গেছে, ল্যাম ব্যবহারকারী মহিলারা পরবর্তীতে অন্যান্য পদ্ধতি গ্রহণ করেন অধ্যায়-১৩ নিরাপদকাল নির্ভর পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১৩ নিরাপদকাল নির্ভর পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাসিক চক্রের কোন নির্দিষ্ট সময়ে গর্ভধারণ হয় এবং কোন সময়টি নিরাপদ, দম্পতিরা তা জেনে নেন। সে অনুযায়ী যে সময়ে গর্ভধারণ হবার সম্ভাবনা রয়েছে সে সময়টিতে সহবাস থেকে বিরত থাকেন অথবা কনডম বা আজল পদ্ধতি ব্যবহার করেন। যে সব মহিলার মাসিকচক্র নিয়মিত, ২৬ থেকে ৩২ দিন মেয়াদি হয়, তারা মাসিক চক্রের ৯ম থেকে ২০তম দিনগুলোতে (উর্বর দিন) সহবাস বন্ধ রাখবেন বা কনডম বা আজল পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। এ পদ্ধতির কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। অনিয়মিত মাসিক, যৌনরোগ, সন্তান প্রসবের পর ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এ পদ্ধতি অনুসরণে অসুবিধা হতে পারে। নিরাপদ কাল যৌনবাহিত রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে না। উর্বর দিনগুলো চিহ্নিতকরণ ৩টি পদ্ধতিতে উর্বর দিনগুলো চিহ্নিত করা যায়, যেমন- ১. নিরাপদকাল নির্ভর পদ্ধতি এ পদ্ধতিতে উর্বর দিনগুলো চিহ্নিত করতে হয় যা অনুসরণ করা অধিকতর সহজ ২.সারভিক্সের শ্লেষ্মা পদ্ধতি প্রতিদিন যোনিপথ দিয়ে নির্গত শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে চার্টে লিপিবদ্ধ করতে হয় যা অনুসরণ করা খুবই কঠিন ৩. তাপমাত্রা লক্ষণ পদ্ধতি প্রতিদিনের যোনিপথের শ্লেষ্মা পরীক্ষা করে এবং সকালে বিছানা ছাড়ার আগে শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে চার্টে লিপিবদ্ধ করতে হয় যা অনুসরণ করা খুবই কঠিন। নিরাপদকাল বা গর্ভধারণ সচেতনতা পদ্ধতি কীভাবে ব্যবহার করতে হবে • মাসিকের প্রথম দিনটি ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে • মাসিকের প্রথম দিনসহ এক, দুই এভাবে গুণে নবম দিন চিহ্নিত করে দাগ দিতে হবে। এরপর ৯ম দিনসহ ১২ দিন গুণে (২০তম দিন পর্যন্ত) প্রত্যেকটি তারিখ দাগ দিয়ে চিহ্নিত করতে হবে • ৯ম থেকে ২০তম চিহ্নিত দিনগুলোতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে। গর্ভধারণ প্রতিরোধে এসব দিনে কনডম বা আজল (প্রত্যাহার) পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে অথবা সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে • ৯ম থেকে ২০তম দিন ব্যতীত অন্য দিনগুলোতে গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে না। এসব দিনে সহবাস করা যাবে এবং কনডম বা আজলের প্রয়োজন হয় না • পরবর্তী মাসিক শুরু হওয়ার প্রথম দিন হতে একই নিয়মে উর্বর দিনগুলো চিহ্নিত করতে হবে নিরাপদকাল যেসব মহিলার মাসিকচক্র নিয়মিত ২৬ থেকে ৩২ দিন মেয়াদি হয় তাদের জন্য প্রযোজ্য। মাসিক চক্র নিয়মিত না হলে এ পদ্ধতির কোন কার্যকারিতা নেই। সেইসাথে উর্বর দিন ঠিকমত বুঝতে ও চিহ্নিত করতে না পারলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এতে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। অধ্যায় - ১৪ জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১৪ জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি অরক্ষিত সহবাসের পরে ব্যবহার করে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভ প্রতিরোধ করা যায়। এটি নিয়মিত পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি নয়, তবে বিভিন্ন কারণে অরক্ষিত সহবাসের ফল হিসেবে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের কারণে মায়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতিসাধন রোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আধুনিক জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি যথেষ্ট কার্যকর হওয়া সত্ত্বেও সারা পৃথিবীতে প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভসঞ্চার হয় যার অধিকাংশই গর্ভপাত করানো হয়ে থাকে। পৃথিবীতে প্রতি বছর ৪ থেকে ৬ কোটি গর্ভপাত করানো হয়। এই গর্ভপাতের প্রায় ২ কোটি করানো হয় অনিরাপদ অবস্থায়। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির ভুল ব্যবহার বা ব্যবহার না করার ফলে এসব গর্ভসঞ্চার হয়ে থাকে। জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্ত অপরিকল্পিত গর্ভধারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোধ করা সম্ভব। এছাড়াও ধর্ষণের ব্যবস্থাপনায় জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি যৌন রোগ/এইডস প্রতিহত করে না। এটি নিরাপদ ও কার্যকর এবং সর্বত্র পাওয়া যায় এবং এর ব্যবহারবিধি সহজ। যে সব পরিস্থিতিতে জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করা যায় যে সকল নারী অরক্ষিত সহবাস করেছেন কিন্তু গর্ভধারণ করতে চান না, তারা ঐ অরক্ষিত সহবাসের পর জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। নিম্নলিখিত পরিস্থিতিসমূহ অনিরাপদ যৌনমিলনের অন্তর্ভুক্ত- যৌনমিলনের সময় পরিবার পরিকল্পনার কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়নি • জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সঠিকভাবে কাজ করেনি অথবা ভুল নিয়মে পদ্ধতিটি ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন- - কনডম ফেটে যাওয়া বা স্থানচ্যুত হওয়া - পরপর ৩ দিন মিশ্র খাবার বড়ি খেতে ভুলে যাওয়া বা নতুন প্যাক শুরু করতে ৩ দিন বা তার অধিক দেরি হওয়া - মিনিপিল গ্রহণে ৩ ঘন্টার বেশি দেরি হওয়া - জন্মবিরতিকরণ ইনজেকশন গ্রহণে নির্দিষ্ট তারিখ হতে চার সপ্তাহের বেশি দেরি হওয়া -আইইউডি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে খুলে যাওয়া - অনুর্বর দিন গণনায় ভুল করে উর্বরকালীন সময়ে অরক্ষিত যৌনমিলন করা - আজল পদ্ধতি ব্যর্থ হওয়া • অনিচ্ছাকৃত যৌনমিলন বা জোরপূর্বক সহবাস, যেমন- ধর্ষণ জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতিসমূহ প্রধানত ৩টি উপায়ে জরুরি জন্মবিরতিকরণ করা যায়- ১. জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি (ইসিপি) শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ বড়ি অথবা উলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেটসমৃদ্ধ বড়িকে জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি (ইসিপি) বলা হয়। শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ বড়ি • একটিমাত্র ডোজের ক্ষেত্রে, বড়িতে ১.৫ মি.গ্রা. লেভোনরজেস্ট্রিল থাকে • দুইটি ডোজের ক্ষেত্রে, প্রতিটি বড়িতে ০.৭৫ মি.গ্রা. লেভোনরজেস্ট্রিল থাকে উলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেটসমৃদ্ধ। বড়ি • একটিমাত্র ডোজ এবং এতে ৩০ মিলিগ্রাম উলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেট থাকে ২. মিশ্র জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি দ্বারা ইউজপি পদ্ধতিতে (Yuzpe Regimen) দুইটি ডোজ এবং প্রতি ডোজে অবশ্যই ০.১-০.২ মি. গ্রা. ইথিনাইল ইস্ট্রাডিওল এবং ০.৫-০.৬ মি. গ্রা. লেভোনরজেস্ট্রিল/১.০-১.২ মি. গ্রা. নরজেস্ট্রিল থাকতে হবে। জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি কীভাবে কাজ করে • ডিম্বস্ফুটনে বাধা দেয় বা দীর্ঘায়িত করে • নিষিক্তকরণে বাধা দেয় জরায়ুর এন্ডোমেট্রিয়ামের পরিবর্তন করে নিষিক্ত ডিম্বাণুকে জরায়ুতে গ্রোথিত হতে দেয় না ৩. আইইউডি জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে আইইউডি যেভাবে কাজ করে • ডিম্বাণুকে নিষিক্তকরণে শুক্রাণুর চলাচলে বাধা প্রদান করে • কোন কারণে ডিম্বাণু নিষিক্ত হয়ে গেলে তাকে জরায়ুতে গ্রোথিত হওয়া থেকে বিরত রাখে। তবে আইইউডি গর্ভপাত ঘটায় না। আইইউডি সবচেয়ে কার্যকরী জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে বড়ির কার্যকারিতা সমীক্ষায় দেখা যায় যে, প্রজেস্টিনযুক্ত ইসিপি ৫২-৯৪ শতাংশ, উলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেট যুক্ত ইসিপি ৯৮ শতাংশ এবং মিশ্র খাবার বড়ি ৭৫ শতাংশ গর্ভধারণ রোধ করতে পারে। অরক্ষিত সহবাস এবং ইসিপির ১ম ডোজ খাওয়ার মধ্যে সময়ের ব্যবধান এবং একজন মহিলার মাসিক চক্রের কোন সময়ে অনিরাপদ যৌনমিলন হয়েছে, এই দু'টি বিষয় ইসিপি ব্যবহারের কার্যকারিতাকে প্রভাবান্বিত করে। ইসিপি অরক্ষিত সহবাসের পর যত তাড়াতাড়ি খাওয়া হবে তত বেশি কার্যকর হয়। জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে বড়ি (ইসিপি) খাওয়ার নিয়ম • ইসিপির ১ম ডোজ- অরক্ষিত সহবাসের ১২০ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই খেতে হবে এবং ২য় ডোজ- ১ম ডোজের ১২ ঘণ্টা পর খেতে হবে • সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশে একক মাত্রায় ইসিপিও পাওয়া যায় যা অরক্ষিত সহবাসের ১২০ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই খেতে হবে • মিশ্র খাবার বড়ির ক্ষেত্রে ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ১ম ডোজ অবশ্যই খেতে হবে কিন্তু ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া উত্তম ছক-১: জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে বড়ি খাওয়ার নির্দেশনা বড়ির প্রকারভেদ মিশ্র জন্মবিরতিকরণ খাবার বড়ি ইসিপি স্বল্প মাত্রার বড়ি স্বাভাবিক ও উচ্চ মাত্রার বড়ি শুধুমাত্র প্রজেস্টিনসমৃদ্ধ বড়ি উলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেট যুক্ত বড়ি ২টি বড়ি যুক্ত ১টি বড়ি যুক্ত বড়ির উপাদান প্রতি ডোজে অবশ্যই ০.১-০.২ মি. গ্রা. ইথিনাইল ইস্ট্রাডিওল এবং ০.৫-০.৬ মি. গ্রা. লেভোনরজেস্ট্রিল/১.০-১.২ মি. গ্রা. নরজেস্ট্রিল থাকতে হবে ২ টি বড়ির প্রতিটিতে ০.৭৫ মি. গ্রা. লেভোনরজেস্ট্রিল থাকে একমাত্র বড়িতে ১.৫০ মি. গ্রা. লেভোনরজেস্ট্রিল থাকে একমাত্র বড়িতে ৩০ মি. গ্রা. উলিপ্রিস্টাল অ্যাসিটেট থাকে ডোজ ১ম ডোজ: সহবাসের ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ৪ টি বড়ি পরবর্তী ডোজ: ১ম ডোজের ১২ ঘণ্টা পর ৪টি বড়ি ১ম ডোজ : সহবাসের ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ২ টি বড়ি পরবর্তী ডোজ : ১ম ভোজের ১২ ঘণ্টা পর ২টি বড়ি ১ম ডোজ : সহবাসের ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ১ টি বড়ি পরবর্তী ডোজ : ১ম ডোজের ১২ ঘণ্টা পর ১ টি বড়ি ১টি মাত্র ডোজ সহবাসের ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ১টি মাত্র ডোজ সহবাসের ১২০ ঘণ্টার মধ্যে বাজারজাতকৃত বড়ি • সুখী • নরেট-২৮ • ফেমিকন • মারভেলন • ওভস্ট্যাট গোল্ড বাংলাদেশে বাজারজাত হয় না • পস্টিনর-২ • নোরিক্স • এমকন-১ • নরপিল-১ • পিউলি • টিউলিপ • অন্যান্য যে কোন বড়ির ন্যায় ইসিপি পানি দিয়ে গিলে খেতে হবে। পাকস্থলীতে অস্বস্তি হবার সম্ভাবনা থাকার কারণে কিছু খাওয়ার পর বড়ি খাওয়া ভাল। এতে বমি বমি ভাব বা বমি হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায় • ইসিপি গ্রহণের পূর্বে একাধিকবার সহবাসের ক্ষেত্রে একজন মহিলাকে তার একটি মাসিক চক্রের মধ্যে ১ম অরক্ষিত সহবাস ঘটার পরবর্তী ১২০ ঘণ্টা গণনার মধ্যে আনতে হবে • স্বাভাবিক ও উচ্চ মাত্রার পিল বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারি বা বেসরকারিামবে পাওযা যায় না • ইসিপি অরক্ষিত সহবাসের পর যত তাড়াতাড়ি খাওয়া হবে তত বেশি কার্যকর হয় জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসাবে আইইউডি ব্যবহারের নির্দেশনা অরক্ষিত যৌনমিলনের ৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে আইইউডি পরানো যায়, যা এই পদ্ধতিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। তবে কপার আইইউডি পরানোর পূর্বে নিয়ম মতো গ্রহীতা বাছাই করে নিতে হবে এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার বা নার্স দ্বারা আইইউডি প্রয়োগ করতে হবে। তবে এও মনে রাখতে হবে এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী পদ্ধতি। জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে আইইউডিতে গ্রহণ করলেও গ্রহীতা তা দীর্ঘমেয়াদি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। ছক-২: ইসিপি ব্যবহারের পর ভবিষ্যৎ পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের পছন্দসমূহ যে পদ্ধতি শুরু করা যায় কনডম • ইসিপি সেবা গ্রহণের পর প্রতিবার যৌনমিলনে কনডম ব্যবহার করতে হবে কীভাবে শুরু করতে হবে খাবার বড়ি যারা আগে থেকেই খাবার বড়ি খাচ্ছেন এবং পরপর ৩ দিন বড়ি খেতে ভুলে গেছেন, তারা ইসিপি খাওয়ার পর- • খাবার বড়ি খাওয়া বন্ধ করে দিবেন, পরবর্তী যে কোন সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করবেন • পরবর্তী মাসিক চক্রের ১ম দিন থেকে নতুন প্যাকেটের খাবার বড়ি খাওয়া শুরু করবেন যারা কোন পদ্ধতিই ব্যবহার করতেন না, তারা ইসিপি খাওয়ার পর- • খাবার বড়ির নতুন প্যাকেট শুরু করবেন, প্রতিদিন ১টি করে অথবা পরবর্তী মাসিক না হওয়া পর্যন্ত যৌনমিলন থেকে বিরত থাকবেন অথবা পরবর্তী মাসিক শুরু না হওয়া পর্যন্ত কনডম ব্যবহার করবেন এবং • মাসিক শুরু হলে ১ম দিন থেকে খাবার বড়ির নতুন প্যাকেটের বড়ি প্রতিদিন ১টি করে খাবেন ইনজেকশন, আইইউডি ইমপ্ল্যান্ট, স্থায়ী পদ্ধতি এবং প্রাকৃতিক পদ্ধতিসমূহ • ইসিপির ২য় ডোজ সম্পন্ন করার পর প্রতিবার সহবাসের সময় কনডম ব্যবহার করবেন এবং • এ সকল পদ্ধতির যে কোন একটি পরবর্তী মাসিক শুরু হবার ১-৭ দিনের মধ্যে শুরু করবেন ইসিপি ব্যবহারের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া • বমি-বমি ভাব • বমি হওয়া • মাথাব্যথা • মাথা ঝিম ঝিম ভাব • অবসন্নতা • স্তনে ব্যথা • মাসিকের সমস্যা বমি হলে করণীয় বমি হবার সম্ভাবনা থাকলে অবশ্যই ইসিপির ১ম ডোজ আহার গ্রহণ করার ১ ঘণ্টা পূর্বে খেতে হবে। যদি ইসিপির ১ম ডোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টার মধ্যে বমি হয়ে যায়, ঐ ভোজ পুনরায় খেতে হবে এবং ২য় ডোজ খাওয়ার ১ ঘণ্টা পূর্বে একটি বমি প্রতিরোধক ঔষধ খেতে হবে। যদি ২য় ডোজ খাওয়ার পর বমি হয়, তবে ২য় ডোজ পুনরায় খাওয়ার আর কোন প্রয়োজন নাই। অনবরত বমির ক্ষেত্রে ২য় ডোজটি যোনির ভিতর ব্যবহার করা যেতে পারে। জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি ব্যবহারে সতর্কতা • জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি শুধুমাত্র জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য, এ ব্যাপারে জোর দিতে হবে • এগুলো নিয়মিত ব্যবহারের জন্য নয় • নিয়মিত জন্মবিরতিকরণ ব্যবস্থার তুলনায় এতে ব্যর্থতার সম্ভাবনাই শুধু বেশি নয় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও বেশি জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি কার্যকর না হলে জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি ব্যবহারের পরও গর্ভধারণ হতে পারে। এই অবস্থায় যে সব নারী অপরিকল্পিত গর্ভধারণকে রাখতে চান না তাদেরকে যথাযথ ব্যবস্থা দিতে হবে। যে সব নারী গর্ভ চালিয়ে যেতে চান তাদের জন্য উপদেশ হলো: • গর্ভ চালিয়ে গেলে গর্ভের উপর জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ির কোন প্রতিক্রিয়া হয় না। এই ধরণের অভিব্যক্তি তাত্ত্বিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও বস্তুনিষ্ঠ অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত • জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ির অকার্যকারিতা গর্ভের সমাপ্তি ঘটানোর নির্দেশক নয় • গর্ভের সফল পরিসমাপ্তি এমনিতেও পুরোপুরি নিশ্চিত করা যায় না জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সংক্রান্ত প্রশ্ন-উত্তর প্রশ্ন-১. মাসিকের উপর জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ির প্রভাব কী হবে? মাসিক চক্রের সাধারণত কোন পরিবর্তন হয় না, তবে কারো কারো মাসিক কয়েকদিন আগে বা পরে হতে পারে। প্রশ্ন-২. ইসিপি ব্যবহারের পর ঐ মাসিক চক্রের পরবর্তী দিনগুলোতেও কি ইসিপি গর্ভধারণ রোধ করতে পারে? না। তাই পরবর্তী দিনগুলোর জন্য কনডম ব্যবহার করতে হবে। প্রশ্ন-৩. মাসে কতবার জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি ব্যবহার করা যাবে? বুদ্ধিমান লোকদের তো একবারও ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে গ্রহীতার চাহিদা অনুয়ায়ী ব্যবস্থা দেওয়া যেতে পারে। প্রশ্ন-৪. জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি/আইইউডি কি গর্ভপাত ঘটায়? না। প্রশ্ন-৫. যেসব মায়েরা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, তারা কি জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি গ্রহণ করতে পারবেন? হ্যাঁ। প্রশ্ন-৬. নিরাপদ সময়কালে একজন নারীর কি জরুরি জনন্মবিরতিকরণ বড়ি গ্রহণ করার প্রয়োজন আছে? হ্যাঁ। কোন নারীর ক্ষেত্রে কোন দিনটি নিরাপদ তা নির্ণয় করা কঠিন। প্রশ্ন-৭. সহবাসের পূর্বে কি একজন নারী জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি ব্যবহার করতে পারবেন? কোন প্রয়োজন নেই। পরিকল্পিত সহবাসে অন্যসব নিয়মিত পদ্ধতিই উত্তম। এটি শুধুমাত্র অরক্ষিত সহবাসে পরে ব্যবহার করতে হবে। তবে সহবাসের পরে ব্যবহারে যতটুকু কার্যকর সহবাসের ঠিক পূর্বে-ব্যবহারেও তেমনই কার্যকর। প্রশ্ন-৮. একাধিক সহবাসের ক্ষেত্রে কি জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি কাজ করে? প্রথম সহবাস থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যতগুলো সহবাস হবে তাদের বিরুদ্ধে কাজ করবে বলে ধারণা করা হয়। প্রশ্ন ৯. যদি জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি গর্ভধারণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে কি গর্ভস্থ শিশুর উপর এর কোন ক্ষতিকর প্রভাব আছে? বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও বস্তুনিষ্ঠ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে গর্ভস্থ শিশুর উপর এর সাধারণত কোন ক্ষতিকর প্রভাব নেই। প্রশ্ন-১০. অরক্ষিত সহবাসের ৭২ ঘণ্টা পরে জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি ব্যবহার করলে কি এর কার্যকারিতা অক্ষুন্ন থাকে? কোন কোন গবেষণায় দেখা গেছে যে, অরক্ষিত সহবাসের ১২০ ঘণ্টার (৫ দিনের) মধ্যে ২টি জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি খেলেও কার্যকর হয়। গ্রহীতার উৎকণ্ঠা ও একটি অপরিকল্পিত গর্ভধারণের পরিণতি চিন্তা করে সেবা প্রদানকারী রোগীকে ১২০ ঘণ্টার মধ্যে ২টি বড়ি সেবনের পরামর্শ দিতে পারেন। প্রশ্ন-১১. জরুরি জ্যাবিরতিকরণ বড়ি গ্রহণ করার ২ ঘণ্টার মধ্যে যদি কোন মহিলার বমি হয়ে যায়, তখন ঐ মহিলা কী ব্যবস্থা নিবেন? বড়ি গ্রহণ করার পর থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে বমি হয়ে গেলে, আবার ঐ ডোজ খেতে হবে এবং ২য় ডোজ খাওয়ার ১ ঘণ্টা পূর্বে ১টি বমি প্রতিরোধক ঔষধ খেয়ে নিতে হবে। যৌনবাহিত ও এইচআইভি সংক্রমণ সম্বন্ধে সাবধানতা ও তথ্য প্রদান • বিশেষত যৌন হয়রানির (ধর্ষণ) ক্ষেত্রে, এ ব্যাপারে সাবধান করতে হবে। যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা ও দ্বৈত নিরাপত্তা জানিয়ে দিতে হবে। গ্রহীতাকে অবশ্যই এটা অনুধাবন করতে হবে যে, জরুরি জন্মবিরতিকরণ বড়ি সহবাসের মাধ্যমে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম নয়। অধ্যায় – ১৫ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন গ্রহীতা পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১৫ বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন গ্রহীতা পরিবার পরিকল্পনা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বর্তমানে মাতৃসেবা কার্যক্রমে প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ সেবা প্রয়োজন এমন অনেক গ্রহীতা সেবাদান কেন্দ্রে আসেন। আবার অনেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যক্তিগত কারণে সেবাকেন্দ্রে আসতে পারে না। যেমন- কিশোর কিশোরী, গর্ভপূর্ব সেবা গ্রহীতা, স্বামী স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে/বিদেশে থাকেন এমন মহিলা, প্রসূতি মা, যৌনবাহিত সংক্রমণের গ্রহীতা, প্রজননতন্ত্রের ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলা, বয়স্ক মহিলা, বন্ধ্যাত্বজনিত সমস্যায় ভুগছেন এমন মহিলা ইত্যাদি। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির চাহিদার পাশাপাশি এদের আরো অনেক ধরণের চাহিদা রয়েছে। এদের চাহিদার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এদের জন্য বিশেষ কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা দিতে হবে। ক. কিশোর-কিশোরী কিশোর কিশোরীরা বাংলাদেশের বর্ধিষ্ণু জনগোষ্ঠী এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদের নিজস্ব চাহিদা এবং শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী সেবা প্রদান আমাদের কর্তব্য এদেশের জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কিশোর-কিশোরী (বয়স ১০-১৯ বৎসর)। এদের সংখ্যা এবং অনুপাত দিন দিন বেড়েই চলেছে। এদের প্রায় শতকরা ৫০ ভাগই বিবাহিতা এবং বেশির ভাগেরই এক বা একাধিক সন্তান রয়েছে। এক তৃতীংশেরও কম কিশোর-কিশোরীদের আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এছাড়া কিশোর-কিশোরীরা তাদের বয়স এবং অনভিজ্ঞতার কারণে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করে থাকে। কিশোর-কিশোরীদের শরীরের পরিবর্তন, গর্ভধারণ, পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌন সংক্রমণ/এইচআইভি/এইডস সম্পর্কে পর্যান্ত জ্ঞান নাও থাকতে পারে। এ ব্যাপারে তাকে পরামর্শ দিতে হবে। কিশোর-কিশোরীরা না শিশু না প্রাপ্তবয়স্ক। এই সময়টা শৈশব ও যৌবনের সন্ধিকাল। তাই এই সময়কে বয়ঃসন্ধিকালও বলা হয়ে থাকে। এই সময়ে হরমোনের প্রভাবে কিশোর-কিশোরীদের কিছু শারীরিক ও মানসিক, সামাজিক পরির্বতন দেখা দেয়। যদিও সন্তানধারণ ও লালন-পালনের জন্য তাদের মানসিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি হয় না। বাংলাদেশ সরকারের আইনানুযায়ী মেয়েদের ১৮ বছরের আগে এবং ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু নির্মম সত্য, বাংলাদেশের ডেমোগ্রাফিক ও হেলথ সার্ভে অনুযায়ী শতকরা ৬৬ ভাগ মেয়েদের ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যায় এবং শতকরা ৩১ ভাগ মেয়ে ১৮ বছরের মধ্যে সন্তান প্রসব করে নতুবা গর্ভবীি হয়। তাই বাল্যবিয়ে ও অল্প বয়সে সন্তানধারণের কুফল ও পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে কিশোর-কিশোরীদের সঠিক ও পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এ বয়সের কিশোর-কিশোরীদের উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে সে কতটুকু লেখাপড়া করতে চায়, কোথায় থাকতে চায়, পেশা হিসেবে কী বেছে নিবে, কখন বিয়ে করতে চায়, কী ধরণের পাত্র/পাত্রী পছন্দ করবে, কখন এবং কয়টি সন্তান নিতে চায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে হবে। কেন কিশোর-কিশোরীরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন গ্রহীতা? • কিশোর- কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকে না, তাই তারা নিজেদের চাহিদা সম্পর্কে সচেতন নয় • কখন, কোথা থেকে বা কার কাছ থেকে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি পাওয়া যেতে পারে সে সম্পর্কে তাদের সুনির্দিষ্ট ধারণা নেই • অনেক ক্ষেত্রেই কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা থাকে না • কিশোর- কিশোরীরা সাধারণত লাজুক হয়ে থাকে, তারা সাধারণত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসে না, এলেও মন খুলে কথা বলে না বা তাদের মধ্যে কোন প্রশ্ন থাকলেও জিজ্ঞাসা করতে দ্বিধাবোধ করে। তাই সেবাপ্রদানকারীকে কাউন্সেলিং এর সময় তাদের প্রতি অধিক মনযোগী হতে হবে • কৈশোরে প্রজনন ক্ষমতা বেশি থাকে তাই অল্প বয়সে বিয়ে ও সন্তানধারণ করলে প্রজননক্ষম সময় দীর্ঘ থাকে এবং অনেক সন্তান ধারণের সম্ভাবনা থাকে কিশোর-কিশোরীদের পরামর্শ দেয়ার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে • বিবাহিত, অবিবাহিত সব কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা, পরিবার পরিকল্পনার তথ্য ও সেবা পাবার অধিকার রয়েছে • এদের জন্য গোপনীয়তা ও একান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। • গ্রহীতাকে খোলাখুলি কথা বলতে উৎসাহিত করতে হবে ও তাদের সকল সমস্যা শোনার জন্য যত্নবান হতে হবে কিশোর-কিশোরী গ্রহীতাদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা বিবাহিত কিশোর-কিশোরী কিছু কিছু পদ্ধতি নিরাপদে ব্যবহার করতে পারেন। গর্ভধারণ ও যৌন সংক্রমণ/এইচআইভি প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সরকারি কার্যক্রমে কিশোর-কিশোরী গ্রহীতাদের জন্য জন্মবিরতিকরণের খাবার বড়ি, কনডম, ইমপ্ল্যান্ট উপযুক্ত পদ্ধতি হিসাবে স্বীকৃত। ইনজেকশন ও আইইউডি কমপক্ষে একটি জীবিত সন্তান না থাকলে দেওয়া হয় না। মাসিক নিয়মিত না হলে গর্ভধারণ সচেতনতা, নিরাপদকাল, আজল ইত্যাদি পদ্ধতি নির্ভরযোগ্য নয়। গ্রহীতার জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি প্রয়োজন হতে পারে, তাই প্রত্যেকটি কিশোর-কিশোরী গ্রহীতাকে এ ব্যাপারে জানানো প্রয়োজন। দরকার মনে করলে আগে থেকে জরুরী জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি সরবরাহ করা যেতে পারে। কিশোর-কিশোরীর যৌনবাহিত/এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি ও প্রতিরোধ এইডস এবং যৌন সংক্রমণের ঝুঁকি এদেরকে ব্যাখ্যা করতে হবে এবং নিয়মিত ও সঠিকভাবে কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। নিরাপদ থাকার (দ্বৈত নিরাপত্তা) অন্যান্য উপায়গুলো আলোচনা করতে হবে; যৌনমিলনে বিরতি যেমন পূর্ণ বয়ঃপ্রাপ্তি বা প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত যৌনমিলন থেকে বিরত থাকা, কিশোর এবং কিশোরী উভয়কে ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি, খাদ্য, ব্যায়াম/ শারীরিক পরিশ্রম, বিশেষভাবে নারী ও পুরুষ প্রজননতন্ত্র সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দিতে হবে। এসব গ্রহীতার সংক্রমণ চিহ্নিত হলে উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা দিতে হবে অথবা রেফার করতে হবে। মাসিককালীন পরিচর্যা মাসিককালীন পরিচর্যার সাথে মাসিকের সমস্যা এবং প্রজননতন্ত্রের নিচের অংশে সংক্রমণ লক্ষণের একটা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পর্ক আছে। অনেক ক্ষেত্রে কিশোরীদের এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা থাকে না। সাধারণত মাসিকের প্যাড দিনে ৩ থেকে ৫ বার পরিবর্তন করা প্রয়োজন। যদি কেউ কাপড় ব্যবহার করে, তবে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুনরায় ব্যবহারের আগে ভালভাবে ধুয়ে অবশ্যই রোদে শুকিয়ে নেয়া উচিত। ব্যক্তিগত পরিচর্যা, যোনিপথের পরিবেশের সাথে সম্পর্কযুক্ত, যোনিপথের পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে ঐ জায়গায় স্বাভাবিকভাবে বসবাসকারী জীবাণু ক্ষতিকারক জীবাণুর ন্যায় কাজ করতে পারে। কিশোরী, বিবাহিত, অবিবাহিত সকল মহিলারাই সংক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য ভালভাবে মাসিককালীণ পরিচর্যা মানা উচিত। গ্রহীতাকে মাসিককালীণ পরিচর্যা সম্পর্কে সেবাদানকারীর যা বলা প্রয়োজন, তা হলো- • মাসিক একজন মহিলার জীবনে স্বাভাবিক ঘটনা • সম্ভব হলে প্যাড অথবা একবার ব্যবহার উপযোগী তুলা ব্যবহার করা • দিনে ৩-৫ বার প্যাড পরিবর্তন করা • যৌনাঙ্গ প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষ্কার করা • সম্ভব হলে উষ্ণ গরম পানিতে গোসল করা • প্রজননতন্ত্রের বাইরের অংশ, যোনিপথ, পায়ুপথের আশেপাশের জায়গা চুলকানো থেকে বিরত থাকা • মাসিকের সময় তলপেটে মোচড়ানো ব্যথা হলে অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ খাওয়া (যেমন: আইবুপ্রোফেন)। যদি সম্ভব হয় গরম কাপড়ে বা গরম পানির বোতলে সেক নেয়া এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, সেবাদানকারী যেন যুব মহিলাদের বয়স ও বৈবাহিক অবস্থার কারণে জন্মবিরতিকরণ সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ না করেন। তাঁদের এটা ভুললে চলবে না যে, অল্প বয়সে ধর্ষণ অথবা যৌন নিপীড়নের জন্যও গর্ভধারণ হতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা কাউন্সেলিং সেবাদানকারীরা কিশোরীদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিম্নের বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখবেন • যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করার জন্য প্রতিদিনের নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই সেগুলোই অনেক কিশোরীর কাছে বেশি গ্রহণীয় • এটা প্রমাণিত যে, জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াজনিত অতৃপ্তির কারণে অনেক কিশোরী এটার ব্যবহার বন্ধ করে দেয় • ব্যক্তিগত বিষয়- মাঝেমধ্যে সহবাস, যৌনকাজ, জনন্মবিরতিকরণ পদ্ধতির ব্যবহার গোপন রাখতে হয় কিশোর/কিশোরীদের সঙ্গে জন্মবিরতিকরণ সম্পর্কে আলোচনা করার সময় নিম্নের তথ্যগুলো জানাতে হবে: • দ্বৈতসুরক্ষা যা যৌনবাহিত রোগ ছড়ানো রোধ করে। এটি কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কনডমের সঙ্গে অন্য আরেকটি পদ্ধতি (পিল, ইমপ্ল্যান্ট) ব্যবহারের পরামর্শ • কিশোর-কিশোরীরা প্রায়ই তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে অসহায় থাকে এবং তাঁদের সঙ্গীদের কনডম ব্যবহারে রাজি করানোর ব্যাপারে মেয়েদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে • ECP (Emergency Contraceptive Pill) এর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা উচিত এবং প্রয়োজন হলে কাউন্সেলর অগ্রিম ECP দিতে পারেন। কিশোরী মেয়েরা অপরিকল্পিত অথবা অনিয়মিত যৌনমিলনে প্রবৃত্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ECP-এর জ্ঞান এবং প্রাপ্যতা তাকে অপরিকল্পিত গর্ভধারণ রোধে সহায়তা করতে পারে। কিশোর/কিশোরীদের ওষুধ সম্পর্কিত উপযুক্ততা সেবাদানকারীদের এটা মনে রাখা উচিত, কোনো কিশোরীকে শুধু বয়সের কারণে পদ্ধতি দিতে অসম্মতি জ্ঞাপন করা যাবে না। বয়স্ক মহিলাদের বেলায় যে যে মেডিক্যাল কারণ প্রযোজ্য এর প্রায় সবই কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোন শারীরিক সমস্যা না থাকলেও স্থায়ী পদ্ধতি কিশোর-কিশোরীদের দেয়া যায় না। কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণে মাঠকর্মীদের করণীয় দম্পতি নিবন্ধকরণের পর মাঠকর্মীদের ও দম্পতির বয়সের উপর বিশেষ লক্ষ্য রাখতে হবে এবং ১৯ বৎসর বয়সের মধ্যে যে সকল দম্পতি পাবেন বাড়ি পরিদর্শনের সময় তাদের নিম্নলিখিত বিষয়ে বিশেষ ভাবে কাউন্সেলিং করতে ও তথ্য প্রদান করতে হবে- • অল্প বয়সে সন্তানধারণ করলে শরীর, মন, পরিবার ও সমাজের উপর কী প্রভাব পরে • অল্প বয়সে সন্তানধারণ করলে মা ও শিশুস্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব • বিনামূল্যে কোথায়, কী কী ধরণের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি পাওয়া যায় তা বুঝিয়ে বলতে হবে • পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণ করলে কী কী সুবিধা হবে তা বুঝিযে বলতে হবে। • পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণ করলে কোন অসুবিধা হবে না বা ভবিষ্যতে বন্ধ্যাত্ব হবার আশংকা নাই ও চাইলে যে কোন সময়ে সন্তানধারণ করা যাবে তা বুঝিয়ে বলতে হবে কিশোর-কিশোরীদের পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সেবাপ্রদানকারীদের করণীয় • কিশোর-কিশোরীদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার করতে হবে • দীর্ঘ সময় নিয়ে কাউন্সেলিং করতে হবে • মাসিক অনিয়মিত যাদের এমন কিশোরীকে নিরাপদকাল বা আজল পদ্ধতি ব্যবহার করা নির্ভরযোগ্য নয় তা বলতে হবে • ড্রপ আউট কমাতে হলে কিশোরীকে পদ্ধতি ব্যবহারের নিয়ম ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া করণীয় কী তা বুঝিয়ে বলতে হবে যে সকল দম্পতির স্বামী/স্ত্রী বাড়ি থেকে দূরে অবস্থান করেন সে বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার বিষয়ে করণীয় বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক হেলথ্ সার্ভে ২০১৪ (BDHS-14) এর হিসাব মতে গড়ে প্রায় ১২% সক্ষম দম্পতির স্বামী তাদের স্ত্রী থেকে বিভিন্ন কারণে দূরে অবস্থান করেন। বিভাগ অনুযায়ী তাদের পরিসংখ্যান নিম্নরূপঃ বিভাগের নাম হার মন্তব্য • চট্টগ্রাম • ২৩.৭% বাড়ি থেকে দূরে অবস্থানরত ৪০-৭৭% স্বামী বছরে অন্তত একবার বাড়িতে ফিরে আসেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র ১৮-৩৪% দম্পতি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। • বরিশাল • ১৮.৯% • সিলেট • ১১.৭% • ঢাকা • ১০.৫% • খুলনা • ৯.৬% • রাজশাহী • ৭.০% • রংপুর • ৫.২% যে সকল দম্পতির স্বামী/স্ত্রী বাড়ি থেকে দূরে অবস্থান করেন তাদের জন্য করণীয় যেহেতু দম্পতিগণের স্বামী বাড়ি থেকে দূরে অবস্থান করেন, সেহেতু গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কা থাকে না। কিন্তু হঠাৎ করে যদি স্বামী তাঁর বাড়িতে ফিরে আসেন, তখনই গর্ভধারণের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। স্বামী বাড়িতে না থাকায় স্ত্রীরা পরিবার পরিকল্পনার কোন পদ্ধতি ব্যবহার করেন না এবং পদ্ধতি সংরক্ষণ করেন না (কনডম)। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরাধীন মাঠকর্মীগণ তাঁদেরকে জন্মবিরতিকরণ সামগ্রী বিতরণ করেন না। এমতাবস্থায় সঠিক দিক নির্দেশনার অভাবে সারা দেশে প্রায় ৪০ লক্ষ দম্পতি গর্ভবতী হওয়ার আশঙ্কায় আছেন। অনুসরণযোগ্য নির্দেশনা যদি গ্রহীতা কনডম ব্যবহার করতে চায় মাঠকর্মীগই স্ত্রীকে অগ্রিম কনডম সরবরাহ করবেন, যাতে প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারেন। যদি গ্রহীতা খাবার বড়ি খেতে চায় স্বামী আসার পূর্বেই স্ত্রীকে অগ্রিম খাবার বড়ি সরবরাহ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রয়োজনের সময় নিয়ম মোতাবেক খেতে পারেন। বড়ি খাওয়ার নিয়ম নিম্নরূপ- • স্ত্রী ঐ সময় মাসিকের ১-৫ দিনের মধ্যে অবস্থান করেন, তবে খাবার বড়ির উপযুক্ততা যাচাই করে যে দিন স্বামী আসেন (মাসিক চলাকালীন) ঐ দিন থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ভরা পেটে ১টি করে বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে এবং পাতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বড়ি খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে। যদি স্বামী ১ মাসের পূর্বেই চলে যান তবুও বড়ি খাওয়া বন্ধ করা যাবে না এবং পাতার ২৮টি বড়িই শেষ করতে হবে • স্ত্রী মাসিকের সময় ছাড়া মাসিকের অন্য সময় অবস্থান করেন এবং স্ত্রী যদি নিশ্চিত হন যে তিনি গর্ভবর্তী নন তবে স্বামী আসার দিন (মাসিকের দিন ব্যতীত) থেকেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ভরা পেটে ১টি করে বড়ি খাওয়া শুরু করতে হবে এবং পাতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে, তবে প্রথম ৭ দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে এবং যদি স্বামী ১ মাসের পূর্বেই চলে যান তবুও বড়ি বন্ধ করা যাবে না এবং পাতার ২৮ টি বড়িই শেষ করতে হবে অথবা স্বামী আসার ৭ দিন পূর্ব থেকে খাওয়ার বড়ি শুরু করতে পারেন এবং পাতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে, এ সময় আর কনডম ব্যবহার করতে হবে না যদি গ্রহীতা ইনজেকশন নিতে চায় • স্ত্রী ঐ সময় মাসিকের ১-৫ দিনের মধ্যে অবস্থান করেন তবে ইনজেকশন এর উপযুক্ততা যাচাই করে যে দিন স্বামী আসেন (মাসিক চলাকালীন) সে দিনই ইনজেকশন প্রয়োগ করতে পারবেন • স্ত্রী মাসিকের সময় ব্যতীত অন্য সময় যদি স্বামী আসেন (অর্থাৎ যে সময়ে মাসিক নেই), স্ত্রী যদি নিশ্চিত হন যে তিনি গর্ভবর্তী নন, উপযুক্ততা যাচাই করে ইনজেকশন নিতে পারবেন এবং পরবর্তী ৭ দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে যদি গ্রহীতা ইমপ্ল্যান্ট নিতে চায় • স্ত্রী ঐ সময় মাসিকের ১-৫ দিনের মধ্যে অবস্থান করেন তবে ইনজেকশন এর উপযুক্ততা যাচাই করে যে দিন স্বামী আসেন (মাসিক চলাকালীন) সে দিনই ইনজেকশন প্রয়োগ করতে পারবেন • স্ত্রী মাসিকের সময় ব্যতীত অন্য সময় যদি স্বামী আসেন (অর্থাৎ যে সময়ে মাসিক নেই), স্ত্রী যদি নিশ্চিত হন যে তিনি গর্ভবর্তী নন, উপযুক্ততা যাচাই করে ইনজেকশন নিতে পারবেন এবং পরবর্তী ৭ দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে যদি গ্রহীতা আইইউডি নিতে চায় • স্ত্রী ঐ সময় মাসিকের ১-৫ দিনের মধ্যে অবস্থান করেন তবে আইইউডি এর উপযুক্ততা যাচাই করে এ সময়ে আইইউডি নিতে পারবেন • স্ত্রীর মাসিকের সময় ছাড়া যদি স্বামী আসেন, তিনি গর্ভবতী নন নিশ্চিত হলে, উপযুক্ততা যাচাই করে আইইউডি নিতে পারবেন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি প্রয়োগ করার পর নিম্নবর্ণিত সময়ে কার্যকর হয় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির নাম কার্যকরিতা শুরু হয় কনডম ব্যবহারের সময় থেকে খাবার বড়ি খাবার বড়ি খাওয়া শুরুর ৭ দিন পর হতে ইনজেকশন ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের ৭ দিন পর হতে ইমপ্ল্যান্ট ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর হতে আইইউডি প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গেই টিউবেকটমি সম্পাদনের সঙ্গে সঙ্গেই এনএসভি সম্পাদনের ৩ মাস পর থেকে খ. মেনোপজ মেনোপজ একজন মহিলার জীবনের একটি স্বাভাবিক পর্যায় যা ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মাঝে ঘটে থাকে। মেনোপজের আগে মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে, স্রাবের পরিমাণ কম বেশি হতে পারে। টানা ১ বছর মাসিক বন্ধ থাকলে বুঝতে হবে মেনোপজ হয়েছে। এ সময়ের পর মহিলা আর সন্তান জন্মদানে সক্ষম থাকেন না। মেনোপজের সময় কিছু স্বল্পমেয়াদি সমস্যা দেখা দেয়, যা মহিলাদের জন্য অস্বস্তিকর ও বিরক্তিকর, যেমন অতিরিক্ত গরম বোধ হওয়া, যোনির শুষ্কতা-যার ফলে যৌনমিলন কষ্টকর হতে পারে এবং খিটখিটে মেজাজ। এ সময়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাও হতে পারে, যেমন অস্টিওপোরোসিস। মেনোপজের ফলে শরীরে যেসব পরিবর্তন আসবে তা ব্যাখ্যা করে মহিলাদের মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণে সাহায্য করতে হবে। মহিলাকে নিশ্চিন্ত করতে হবে যে, এসব পরিবর্তন স্বাভাবিক। এ সময় একজন মহিলার বিশেষ কাউন্সেলিং (Perimenopausal Counselling) প্রয়োজন। • অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে মহিলাদের উচিত ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার, যেমন দুধ, সীমজাতীয় খাবার, দই, মাছ ইত্যাদি গ্রহণ করা • নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়াম করা বা শারীরিক পরিশ্রম করা • মেনোপজ প্রক্রিয়া চলাকালে কোনো কোনো উপসর্গ (Hot flash, অস্থিরতা, ঘুম কম হওয়া ইত্যাদি) নিরাময়ে ব্যবস্থাপনার জন্য গ্রহীতাকে রেফার করতে হবে। গ. জরায়ুমুখের ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সার পূর্বাবস্থা চিহ্নিতকরণ বর্তমানে মাতৃস্বাস্থ্য সেবা কর্মসূচিতে প্রজননতন্ত্রের সেবা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে, সারাদেশে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার পূর্বাবস্থা চিহ্নিত করার কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছে। দেশব্যাপী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা সদর হাসপাতাল এবং কিছু কিছু জেলার নির্বাচিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে জরায়ুমুখ এবং স্তন ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা চিহ্নিতকরণ এবং এর ব্যবস্থাপনা/চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীর (গাইনি অবস চিকিৎসক, এমও-ক্লিনিক, নার্স এবং পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা) মাধ্যমে এ সেবা দেয়া হচ্ছে। এজন্য সকল পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে এবং ক্যান্সার পূর্বাবস্থা নির্ণয় কর্মসূচি চলমান রয়েছে। ঘ. জরায়ুমুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্ত মহিলাদের শতকরা ৩০ ভাগই হচ্ছে জরায়ুমুখের ক্যান্সার। এছাড়া দ্বিতীয় অন্যতম ক্যান্সার হচ্ছে স্তন ক্যান্সার। কিন্তু এ দু'টি প্রজননতন্ত্রের ক্যান্সার খুব সহজেই চিহ্নিত করা যায় এবং মহিলাদের ক্যান্সারজনিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। ৩০ বৎসর এবং তদুর্ধ্ব মহিলাদের নিয়মিত উপরিল্লিখিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরায়ুমুখ এবং জন পরীক্ষা করে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। জরায়ুমুখের ক্যান্সার হতে ১০-১৫ বৎসর সময় লাগে। ফলে নিয়মিত পরীক্ষা করে প্রাথমিক অবস্থা চিহ্নিত করা হলে পুরোপুরি ভাল হয়ে যায়। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যে পদ্ধতিতে জরায়ুমুখের ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা শনাক্ত করা হয় তাকে VIA (Visul Inspection of Cervix with Acetic acid) অর্থাৎ সহজ ভাষায় ভায়া পদ্ধতি বলে। এ পদ্ধতিতে জরায়ুমুখ পরীক্ষা করলে ক্যান্সার পূর্ব অবস্থা সাদা রং ধারণ করে এবং রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে। এছাড়া স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে CBE (Clinical Breast Examination) পদ্ধতি অর্থাৎ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্বাস্থ্যকর্মীরা হাত দিয়ে শুনে কোন চাকা বা অন্য কোন অসুবিধা আছে কিনা তা চিহ্নিত করেন। এছাড়া মহিলারা বাড়িতে নিজে নিজে কীভাবে স্তন পরীক্ষা করে চাকা নির্ণয় করবেন তা SBE (Self Breast Examination) পরীক্ষার মাধ্যমে শিখিয়ে দেয়া হয়। VIA পরীক্ষা করে একজন মহিলাকে VIA পজিটিভ অথবা নেগেটিভ এবং SBE পরীক্ষা করে CBE পজেটিভ নেগেটিভ চিহ্নিত করা হয়। দুটি ক্ষেত্রেই নেগেটিভ মহিলাদের ৩ বছর পরপর পরীক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে বলা হয়। তবে VIA পজিটিভ এবং CBE পজিটিভের ক্ষেত্রে নিকটবর্তী ক্লিনিকে কলপোক্ষপি ক্যান্সার পূর্বাবস্থা নিশ্চিত করা হয় এবং স্তন ক্যান্সারের পরীক্ষা করে নিশ্চিত হয় এবং চিকিৎসা প্রদান করা হয়। অল্প বয়সে বিয়ে, ঘনঘন সন্তান, নিজের অথবা স্বামীর একাধিক বিয়ে, এছাড়া যে সকল মহিলা নিরাপদ যৌনমিলন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন নন তাঁদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা থাকে। স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে পারিবারিক ইতিহাস, সন্তানকে বুকের দুধ না দেয়া, অতিরিক্ত মোটা ইত্যাদি বিষয়গুলো স্তন ক্যান্সারের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। কাজেই যে সকল মহিলাদের মাসিক বন্ধ হয়েছে এবং বয়স ৩০ বা তদুর্ধ্ব এবং যে সকল মহিলার বিবাহিত জীবন ১০ বছরের অধিক সকলকেই নিয়মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জরায়ুমুখ এবং স্তন ক্যান্সার পূর্বাবস্থা নির্ণয়ে স্বাস্থ্য সেবা নেয়া একান্ত প্রয়োজন। জরায়ুমুখের ক্যান্সারের লক্ষণ • মাসিকের রাস্তা দিয়ে অনিয়মিত রক্তক্ষরণ হওয়া • মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পাওয়ার পর পুনরায় মাসিকের রাস্তা দিয়ে রক্ত যাওয়া • মাসিকের রাস্তা দিয়ে পানির মত সাদা, ঘন অথবা ময়লা বাদামি রংয়ের গন্ধযুক্ত স্রাব যাওয়া • তলপেটে ব্যথা হওয়া জরায়ুমুখ পরীক্ষা করার প্রক্রিয়া • জরায়ুমুখ স্পেকুলাম এর সাহায্য ভালোভাবে উন্মুক্ত করতে হবে। • ৫% অ্যাসিটিক অ্যাসিড লাগিয়ে খালি চোখে জরায়ু মুখ দেখতে হবে • অস্বাভাবিক কোষগুলো অ্যাসিটিক অ্যাসিডের সংস্পর্শে সাদা হয়ে যাবে • অ্যাসিটো-হোয়াইটনেসের গাঢ়ত্ব দেখে ক্যান্সারের পূর্ববর্তী অবস্থা ধারণা করা যাবে জরায়ুরমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং জরায়ুরমুখের ক্যান্সারকে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকিসম্পন্ন HPV সংক্রমণের জটিলতা হিসেবে গণ্য করা হয়। পৃথিবীতে মহিলাদের ক্যান্সার এর মধ্যে এটি অন্যতম। প্রথমদিকে এ রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করা হলে সারভাইক্যাল ক্যান্সারের অসুস্থতা ও মৃত্যু কার্যকরভাবে হ্রাস করা সম্ভব • স্বাস্থ্যকেন্দ্রে Visual Inspection with Acetic acid (VIA) ব্যবহার করে স্ক্রিনিং করা যেতে পারে • জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং-এর জন্য Paps smear দ্বারা সাইটোলজি করা হয়। জরায়ুমুখে সংক্রমণের অন্যকোনো লক্ষণ থাকলে এ পরীক্ষায় তা দেখার সুযোগ হয় • যৌনবাহিত সংক্রমণ আক্রান্ত সকল মহিলারই জরায়ুমুখ পরীক্ষা এবং নিয়মিত VIA ও Paps smear পরীক্ষার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে • জেনিটাল ওয়ার্ট আছে এমন সকল মহিলাকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার স্ক্রিনিং-এর জন্য যথাযথ সেবাকেন্দ্রে রেফার করতে হবে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন বর্তমানে জরায়ুমুখের ক্যান্সার প্রতিরোধে HPV সংক্রমণের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়, যা শতকরা ৭০ শতাংশ জরায়ুমুখের ক্যান্সারের জন্য দায়ী HPV টাইপ ১৭ ও টাইপ ১৮-এর বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করে। ১১-১২ বছর বয়সী মেয়েদেরকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া যেতে পারে। যৌন জীবন শুরুর আগেই প্রয়োগ করা হলে ভ্যাকসিন থেকে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়। বর্তমান ভ্যাকসিনটি ৬ মাস সময়ের মধ্যে ৩ ডোজ নিতে হয়। প্রথম ডোজের ১-২ মাস পর দ্বিতীয় ডোজ এবং প্রথম ডোজের ৬ মাস পর শেষ ডোজ ভ্যাকসিন নিতে হয়। এই ভ্যাকসিন নেওয়া মহিলাদেরও ক্যান্সার সৃষ্টিকারী HPV-র জন্য নিয়মিত স্ক্রিনিং করাতে হবে। ঙ. স্তন ক্যান্সার (Breast Cancer) স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ • স্তনে চাকা • স্তনে ব্যথা • স্তনে ক্ষত বা ঘা • স্তনে বোঁটা দিয়ে পুঁজ বা রক্তাক্ত তরল নিঃসরণ স্তন ক্যান্সারের সনাক্তকরণ প্রক্রিয়া • প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এফডব্লিউভি/নার্স/ডাক্তার প্রতি তিন বছর পর পর CBE (Clinical Breast Exam) পরীক্ষা করবে এবং SBE (Self Breast Exam) পদ্ধতি শিখিয়ে দিতে হবে। • VIA করতে আসা মহিলাদের কাউন্সেলিং করতে হবে যাতে তারা VIA এবং CBE একই সাথে করে। প্রত্যেক ৩০ বৎসর এবং তার উর্ধ্বে মহিলাদের VIA এবং CBE এর সময় SBE পরীক্ষা সম্পর্ক বলতে হবে। যে সব মহিলার স্তন ক্যান্সারের পারিবারিক ইতিহাস আছে তাদের বিশেষ গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), সরকারি মেডিকেল কলেজ, MFSTC মোহাম্মদপুর ঢাকা, MCHTI আজিমপুর ঢাকা, জেলা সদর হাসপাতালে, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে এবং কিছু কিছু উপজেলা হাসপাতালে জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আছে। চ. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার কারণে দেশটি দুর্যোগ কবলিত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। সময় সময় এখানে বিভিন্ন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগ হানা দিয়ে থাকে, মানুষের জীবনহানি এবং সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে দুর্যোগের কারণে প্রতিকূল প্রভাব এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। দুর্যোগকালীন সময়ে অনেক পরিবারই ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়স্থলে আশ্রয় গ্রহণ করে। এ সময় দম্পতি বা পরিবার দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছাড়া অন্যকোন কম প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেমন পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি (খাবার বড়ি, কনডম) নিজেদের কাছে রাখার প্রয়োজন মনে করে না। এর ফলে অরক্ষিত যৌনমিলনের ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ঘটে থাকে। প্রায়ই দেখা যায়, দুর্যোগকালীন সময়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদান ব্যহত হয় বা এ সম্পর্কে সেবাকেন্দ্র, সেবা প্রদানকারী এবং সেবাগ্রহীতা কারোরই সঠিক প্রস্তুতি থাকেনা। এজন্য দুর্যোগকালীন সময়ে সেবাগ্রহীতাকে বিশেষ সেবা প্রদান করতে হবে। দুর্যাসের সংজ্ঞা হঠাৎ সংঘটিত মানবসৃষ্ট, প্রাকৃতিক সমস্যা বা রোগ বালাই, দুর্বিপাক যা মানুষ ও জীবজন্তুর প্রাণহানি ঘটায়, সহায় সম্পত্তির ক্ষতি সাধন করে, ফসল ও গাছপালা ধ্বংস করে, সামগ্রিকভাবে মানুষের জীবনে দুঃখ-দুর্দশা বয়ে নিয়ে আসে ঔপরিবেশের ক্ষতি সাধন করে, এমন অবস্থাকে দুর্যোগ বলা হয়। দুর্যোগের প্রকার ১. প্রাকৃতিক দুর্যোগ: টর্নেডো, সাইক্লোন, বন্যা, খরা, ভূমিকম্প, ভূমিধ্বস, অগ্ন্যুৎপাত, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি। ২. মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ: অগ্নিকাণ্ড, পরিবহন দুর্ঘটনা, শিল্প দুর্ঘটনা, যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, পাহাড় ধস, অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ ইত্যাদি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কী প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট দুর্বিপাক সংগঠিত হওয়ার পূর্বের প্রস্তুতি, দুর্বিপাকে সাড়া দেয়া, সামাজিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের যে ব্যবস্থাপনা, তাকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বলে। সকল পর্যায়ে, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে জরুরি অবস্থা মোকাবেলার পরিকল্পনার উপর, কার্যকর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন? • ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত কারণে যেমন-ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙ্গন, খরা, ভূমিকম্প, সুনামি, আর্সেনিক দূষণ, রাসায়নিক দূষিত বস্তু, আগুন, যে কোন দুর্ঘটনা, যা সম্পদ, প্রাণ ও পরিবেশের বিপর্যয় ও ক্ষতি করে • সহজ কথায় দুর্যোগ একটি মারাত্মক অবস্থা যা সম্পদ, অবকাঠামো ও জরুরি সেবাসমূহের মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতি, ব্যাপক প্রাণহানি, আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর আহতাবস্থা এবং গৃহহীনতাকে নির্দেশ করে • মানুষের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্যই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। কেননা মানুষ দুর্যোগকে বর্জন করতে পারে না, তার ঝুঁকি/ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করতে পারে। সার্বিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হল দুর্যোগ শুরুর পূর্বে, দুর্যোগ চলাকালীন সময়ে এবং দুর্যোগের পরে, কতগুলো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও পুনর্বাসন করা যায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করণীয় দায়িত্ব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত বিষয়ক আদেশাবলাতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মাঠ বিষয়ক পর্যায়ের অফিসসমূহের দায়িত্বাবলী বর্ণিত আছে। তন্মধ্যে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রতিবিধানযোগ্য: • প্রতি তিনমাস পর পর দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য ভাণ্ডার, ঔষধপত্র এবং লোকবল পর্যালোচনা করা এবং কোন প্রকার ঘাটতি দেখা দিলে তা পূরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা • ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রসমূহের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও ব্যবস্থা করা • পানীয় জলের উৎসগুলি পরীক্ষা করা ও দূষণরোধ নিশ্চিত করা। আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল এর পানি পান করা, রিজার্ভ পুকুর এর পানি ফুটিয়ে খাওয়া এবং বৃষ্টির পানি জলাধারে রেখে পান করার পরামর্শ প্রদান। • টিকাদান করা ও মহামারি বিস্তাররোধ প্রচারাভিযান চালানে • দুর্যোগ পর্যায়ে আঘাত ও রোগে মৃত্যুর দৈনিক প্রতিবেদন উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা এবং মৃত্যু সম্পর্কিত দলিল পত্রাদি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণের জন্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা • জলোচ্ছ্বাসের জন্য সমুদ্র উপকূল ও পরিবেশের ভারসাম্যরক্ষার্থে পরিকল্পিত উপায়ে গাছ লাগানোর জন্য জনগোষ্ঠীকে উৎসাহিত করা ও পরামর্শ প্রদান • ঘূর্ণিঝড়, সুনামি/জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে গমন এবং পশু ও সম্পদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া দুর্যোগকালীন সময়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্পর্কে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরাধীন মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের করণীয় • আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে অবস্থানরত দম্পতিদের পরিবার পরিকল্পনার সেবা সম্পর্কে বিশেষ কাউন্সেলিং করা • দম্পতির প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। যেমন, প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে অস্থায়ী (খাবার বড়ি, কনডম, ইনজেকশন) পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও জরুরি জনন্মবিরতিকরণ বড়ি (ECP) পৌঁছে দেয়া • পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সামগ্রীর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান ছ. পরিবার পরিকল্পনা সেবায় যৌনতা যৌনতা একটি দৃষ্টিভঙ্গী বা আচরণ যা নারী ও পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান। যৌনতা বলতে শুধুমাত্র যৌন আচরণ বা সহবাসকেই বুঝায় না। এটি নারী ও পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি যা পারস্পরিক সম্পর্ক যেমন: চাহিদা, প্রকাশের ভঙ্গি, সঙ্গীর সাথে আচরণ এবং সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রকে বহুভাবে প্রভাবিত করে। গ্রহীতাগণকে তাদের যৌনতা সম্পর্কে আলোচনায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে, এ ব্যাপারে তাদের নিজস্ব পরিস্থিতি ও মতকে বুঝতে হবে। সেক্স (Sex) সেক্স বলতে জৈবিক বৈশিষ্ট্যাবলিকে বুঝায় যা আমাদের শারীরিকভাবে পুরুষ ও নারী হিসাবে পৃথক করে। এটি দ্বারা যৌন সঙ্গমসহ অন্যান্য যৌনক্রিয়াকেও বুঝায়। যৌনতা (Sexuality) যৌনতা একটি অভিব্যক্তি যা দ্বারা মানুষ নিজেকে প্রকাশ করে। যৌনতা মানুষের অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনা এবং একজন পুরুষ বা নারী হিসাবে তাঁর আচরণের বহিঃপ্রকাশ। নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা, ভালবাসা ইত্যাদি। এছাড়া অন্তরঙ্গতা, শারীরিক যৌনক্রিয়ার মত সম্পর্কগুলিকেও যৌনতা বোঝায়। • যৌনতা প্রসঙ্গ অবতারণা কালে গ্রহীতাকে ব্যাখা করতে হবে, সেবাদানকারী এ ব্যাপারে সেবাগ্রহীতাকে কেন প্রশ্ন করতে চান • কাউন্সেলিং-এর সময় যা কিছুই আলোচনা তবে তা একান্তই দু'জনের মধ্যে এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে • গ্রহীতা না চাইলে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে না। • গ্রহীতাকে এইচআইভি ও যৌনরোগ নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে বলতে হবে যে, প্রতি গ্রহীতার সাথেই এ ব্যাপারে আলাপ করা হয় জেডার (Gender) সামাজিকভাবে তৈরিকৃত নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্যকে জেন্ডার বলে। কোন নির্দিষ্ট সমাজ, স্থান, কাল ও সংস্কৃতি, নারী পুরুষকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করে বা কোন নির্দিষ্ট সমাজ সংস্কৃতি নারী পুরুষকে যে উপায়ে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা ও দায়িত্ব অনুযায়ী পার্থক্য করে, সেটাই জেন্ডার বা নারী পুরুষের সামাজিক পরিচিতি। 'জেন্ডার' নারীর প্রতিশব্দ নয়, বরঞ্চ নারী পুরুষ উভয়কেই বুঝায় এবং এদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ককে নির্দেশ করে। জেন্ডার সামাজিকভাবে সৃষ্ট অর্থাৎ সমাজ পুরুষকে 'পুরুষ' হিসেবে এবং নারীকে 'নারী' হিসেবে চিহ্নিত করে এবং ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা পালন করতে শেখায়। জেন্ডার (Gender) এবং সেক্স (Sex) এর পার্থক্য সেক্স (Sex) জেন্ডার (Gender) • নারী-পুরুষের জৈবিক সংজ্ঞা • একে প্রাকৃতিক লিঙ্গ বলা যায় • শারীরিকভাবে নির্ধারিত • অপরিবর্তনীয় • পৃথিবীর সকল দেশে, সকল সমাজে, সকল সময়ে একই রকম। • নারী-পুরুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংজ্ঞা • একে সামাজিক লিঙ্গ বলা যায় • সামাজিক, সাংস্কৃতিকভাবে নির্ধারিত • পরিবর্তনীয় • দেশ, সমাজ, সময়ভেদে পরিবর্তনশীল ও ভিন্নতা রয়েছে। জেন্ডার ভূমিকা কোন নির্দিষ্ট সমাজে নারী পুরুষের মধ্যে নির্ধারিত কাজ, ভূমিকা, দায়িত্ব, আচরণ, মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিকে জেন্ডার ভূমিকা বলে। যেমন নারীকে গৃহস্থালীর কাজ ও সন্তান লালন পালনকারীর ভূমিকায় চিন্তা করা হয়। অন্যদিকে পুরুষকে উপার্জনশীল, পরিবারের কর্তা, সম্পত্তির মালিক বা তত্ত্বাবধায়ক, রাজনীতি, পেশাদারী কাজ, ধর্ম ও সামাজিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী হিসেবে দেখা হয়। জেন্ডার ভূমিকা স্থির কোন ধারণা নয়। আবার অনেক সমাজে নারীরা উপার্জন করে, প্রতিষ্ঠানের প্রধানরূপে দায়িত্ব পালন করে। স্থান, কাল ও সংস্কৃতি অনুযায়ী নারীর জন্য কিছু বৈশিষ্ট্য মানানসই হিসেবে বিবেচিত হয়। পুরুষের তুলনায় নারীকে নমনীয়, ধৈর্য্যশীল, রমণীয়, স্নেহময়, আবেগপ্রবণ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যে মানানসই ভাবা হয়। শৈশবকাল থেকে মেয়ে ও ছেলের বিচরণ ক্ষেত্র, খেলাধুলা, শিক্ষাচর্চা, মেলামেশা সবকিছুই ভিন্ন ভিন্নভাবে অগ্রসর হয়। নারীর জন্য নির্দিষ্ট গুণাবলী, ছেলেদের জন্য সম্মানজনক নয়, অন্যদিকে পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট কাজ, আচরণ, মেয়েদের জন্য কাঙ্ক্ষিত নয়। সব বিষয়ের মত যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের ভূমিকা ভিন্ন বা জেন্ডার ভূমিকা, ব্যক্তির যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে। জেন্ডার সমতা (Gender equality): সমতা সাধারনত সম অবস্থা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। নারী-পুরুষের মধ্যে সমতা, সম-অধিকার, মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিকে প্রকাশ করে। যেমন- নারী পুরুষের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত যৌথভাবে গ্রহণ করা, যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীর 'না' বলাকে শ্রদ্ধার সাথে দেখা, সহিংসতা ছাড়াই এই সকল বিষয়গুলোর সমাধান করা, নারী পুরুষ উভয়ই সন্তানের দায়িত্বপালন কাজ কর্মে যৌথভাবে 'অংশগ্রহণ করা। জ. প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ইউএনসিআরপিডি'র সংজ্ঞাঅনুযায়ী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হলেন তারা, যাদের স্থায়ী/দীর্ঘমেয়াদী (কমপক্ষে ছয় মাস) শারীরিক, মানসিক, বৃদ্ধিগত বা ইন্দ্রিয়গত অসুবিধা রয়েছে, নানা প্রতিবন্ধকতার সাথে মিলে মিশে সমাজে অন্যান্যদের সাথে সমতার ভিত্তিতে তাদের পূর্ণ ও কার্যকর অংশগ্রহণে বিঘ্ন ঘটায়"। ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তির সাথে আচরণগত এবং পারিবেশিক বাঁধা সমূহের মিথস্ক্রিয়ার ফলে প্রতিবন্ধিতার বিকাশ ঘটে। ইউএনসিআরপিডি (কনভেনশন অন দ্যা রাইট্স অফ পারসনস উইথ ডিসএবিলিটিস) ইউএনসিআরপিডি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘ কনভেনশন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় এই কনভেনশন প্রণীত হয় ২০০৬ সালে। বাংলাদেশ ২০০৭ সালে এই কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। কনভেনশনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন আর্টিকেল রয়েছে, এরমধ্যে আর্টিকেল ৬ প্রতিবন্ধী নারীদের অধিকার এবং আর্টিকেল ২৫ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য তথা বৈষম্যবিহীন মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, সম্মতি, আর্থিক সহযোগিতা ইত্যাদির সম্বন্ধীয়। প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক অবস্থা-বাংলাদেশ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে বাংলাদেশে শতকরা ১০ ভাগ ব্যক্তি প্রতিবন্ধী। সে অনুযায়ী বর্তমানে দেশের প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ সরকার ইউএনসিআরপিডির আলোকে ২০১৩ সালে 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার এবং সুরক্ষা আইন ২০১৩' প্রণয়ণ করে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রয়নালয় অধিনে নিবন্ধিত হয়ে সূবর্ণ কার্ড পেতে পারেন। বাংলাদেশ সরকারের আইন অনুযায়ী উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক প্রতিবন্ধিতা যাচাই করেন এবং নিবন্ধনের নিমিত্তে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রয়নালয়ের ফরমে স্বাক্ষর করেন। প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ক সেবা ও অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাঁধা ও করনীয় পরিবার পরিকল্পনা সেবা সকল প্রজননকক্ষম নারী পুরুষের অধিকার। এ সেবা নিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বিভিন্ন ধরনের বাঁধার সম্মুখীন হন যেমন শারীরিক বাঁধা, যোগাযোগের বাঁধা, প্রাতিষ্ঠানিক বাঁধা, আচরণগত বাঁধা এবং নিরাপত্তা- মর্যাদা সম্পর্কিত বাঁধা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র সমূহে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যথাযথ প্রবেশগম্যতার অপ্রতুলতা এবং সেবা প্রদানকারীরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের প্রশিক্ষন পরযাপ্ত নয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রচলিত ধারনা ইত্যাদি কারণেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তি পরিবার পরিকল্পনা সেবা থেকে বঞ্চিত হন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিবান্ধব স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র, প্রশিক্ষিত সেবাকর্মী, প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। চাহিদার ভিত্তিতে এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মসম্মান ও মর্যাদা রক্ষার দিকে দৃষ্টি রেখে বৈষম্যবিহীন মানসম্মত সেবা দিতে হবে। উদাহরন স্বরূপ, দৃষ্টি এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কেয়ার গিভারের সহায়তা নেয়া, হুইল চেয়ার ব্যাবহারকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সেবা কেন্দ্রের ভিতরে যেতে না পারলে তাকে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা দেয়া ইত্যাদি। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশ সরকার ১২ ধরনের প্রতিবন্ধিতাকে স্বীকৃতি দেয়। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তাদের প্রতিবন্ধকতার বিষয় খেয়াল রেখে সেবা দিতে হবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা কোন ভিন্নতা নেই। অন্য সকলের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও দীর্ঘ মেয়াদী / স্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতিসহ সকল পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি এবং যৌন ও প্রজনন সেবা নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের তাদের প্রতিবন্ধকতার বিষয় খেয়াল রেখে সেবা দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা অটিজম বা অটিজস্পেকট্রাম ডিজঅর্ডারস (autism or autism spectrum disorders); শারীরিক প্রতিবন্ধিতা (Physical disability); মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা (mental illness leading to disability); দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (visual disability); বাকপ্রতিবন্ধিতা (speech disability); বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা (intellectual disability); শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা (hearing disability); শ্রবণ-দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা (deaf-blindness); সেরিব্রাল পালসি (cerebral palsy): ডাইন সিনড্রোম (Down syndrome): বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতা (multiple disability); এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধিতা (other disability)। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা আছে এমন প্রতিবন্ধী নারীকে সেবা দিতে হলে আপনি যাযা করছেন সব কিছু তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন। পাশাপাশি তাকে যদি এক স্থান হতে অন্য স্থানে যেতে হয় সেটার কারণও তাকে বুঝিয়ে বলুন। যেমন- পাশের কক্ষে যাচ্ছি আমার স্টেথেসকোপ আনতে। আমি এফ ডব্লু ভি, মিস এক্সকে আনতে গিয়েছিলাম পরীক্ষায় সহায়তা করার জন্যে। শ্রবণশক্তির সমস্যা আছে এমন প্রতিবন্ধী নারীকে সেবা দিতে হলে শ্রবণ প্রতিবন্ধী নারীর সাথে অনুবাদক থাকে, যদিও আপনি অনুবাদকের কথা শুনছেন, তারপরও তার দিকে তাকিয়ে কথা বলার চেষ্টা করুন। শিখতে ও বুঝতে সমস্যা আছে এমন প্রতিবন্ধী নারীকে সেবা দিতে হলে আলোচনা শেষে ফিডব্যাক নিয়ে যাচাই করতে হবে যে তিনি বুঝতে পেরেছেন কিনা। এদের জন্যে সেবাদানকারীর তুলনামূলকভাবে বেশী সময় লাগতে পারে। লক্ষ্যনীয় • ছয় মাসের বেশি সময় ধরে শরীরের নিম্নাঙ্গ এবং দুই পা অসাড় এমন নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনাল পদ্ধতি (অ্যাসট্রোজেন) পরিহার করা উচিৎ। কারণ এটি রক্ত জমাট বাধতে সহায়তার করে। শরীরের নিচের অংশ অসাড় এমন প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষেত্রে আইইউডি পরিহার করা উচিত কারণ তাতে শ্রোনীদেশে ব্যাথ্যা বৃদ্ধির সম্ভবনা থাকে। শিখতে ও বুঝতে সমস্যা আছে এমন নারী অথবা পুরুষকে বন্ধ্যাকরণ করার ক্ষেত্রে সম্মতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু তারা নিজেরা সম্মতি জ্ঞাপনে পরিপূর্ণভাবে সমর্থ, সেহেতু সম্মতি পত্রে তার স্বাক্ষর/ টিপসই এর সাথে সাথে তাঁদের মা/বাবা অথবা স্বামী/স্ত্রীর স্বাক্ষর/টিপসইও নিতে হবে। (এ বিষয়ে আলাদা কোন পরিপত্র এখনও নেই।) অধ্যায়-১৬ বন্ধ্যাত্ব পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১৬ বন্ধ্যাত্ব যদি কোন দম্পতি এক বছর বা তার বেশি সময় ধরে সন্তান ধারণের চেষ্টা করে অথবা স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনযাপন করেও সন্তান ধারণ করতে ব্যর্থ হন, তবে তাকে বন্ধ্যাত্ব বলে। সাধারণভাবে বলা যায় যে, শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পুরুষের কারণে; শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নারীর কারণে; শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের উভয়ের কারণে বন্ধ্যাত্ব হয়ে থাকে। শতকরা ১০ ভাগ ক্ষেত্রে নারী বা পুরুষ কারও কোন সমস্যা পাওয়া যায় না। গর্ভধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া যা অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। যেমন- • পুরুষের সুস্থ ও স্বাভাবিক শুক্রাণু • পুরুষের বীর্য নারীর যোনিপথে প্রবেশ • নারীর সুস্থ ও স্বাভাবিক ডিম্বাণু • স্বাভাবিক ও খোলা যোনি পথ • স্বাভাবিক জরায়ু ও ডিম্বনালি যা শুক্রাণুকে ডিম্বাণুর কাছে পৌছায় • শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর কাছাকাছি আসার পর শুক্রাণু দ্বারা ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারার ক্ষমতা • নিষিক্ত ডিম্বাণু জরায়ুতে গ্রোথিত হতে পারার ক্ষমতা • ভ্রূণের যথেষ্ট গুণগত মান গর্ভকাল পূর্ণ সময় পর্যন্ত বহাল থাকার জন্য প্রয়োজন • সুস্থ ও স্বাভাবিক ভ্রূণ এবং নারীর শরীরে স্বাভাবিক হরমোনের পরিবেশ থাকা যা ভ্রূণের বৃদ্ধির জন্য অত্যাবশ্যক বন্ধ্যাত্বের কারণ পুরুষের বন্ধ্যাত্বের প্রধান কারণ শুক্রাণুর অনুপস্থিতি। বীর্যপাত স্বাভাবিক এবং বীর্য দেখতে স্বাভাবিক হলেও অনেক বীর্ষে একটিও শুক্রাণু থাকে না বা অল্প সংখ্যক শুক্রাণু তৈরি হয়। কখনও কখনও শুক্রাণুর নড়াচড়া খুব ধীর গতির হতে পারে বা শুক্রাণু বিকলাঙ্গ হতে পারে অথবা শুক্রাণুগুলো ডিম্বাণুর কাছে পৌঁছানোর আগেই মারা যেতে পারে। নপুংসকতা অর্থাৎ পুরুষাঙ্গ উত্থিত না হওয়া (Impotency) কখনও কখনও বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। কদাচিৎ ক্রোমোজম ঘটিত অসুখের কারণেও পুরুষের বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। নারীর বন্ধ্যাত্বের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ডিম্বাণু তৈরি বা ডিম্বস্ফুটন না হওয়া। অন্যান্য কারণগুলি হলো তলপেটে প্রদাহ বা এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে ডিম্বনালি বন্ধ হয়ে যাওয়া, জরায়ুর জন্মগত ত্রুটি, ক্রেমোজোমের সমস্যা ইত্যাদি। কোনো মানুষের ডায়াবেটিস বা রক্তের ক্যান্সার হলে আমরা যেমন সেই মানুষটিকে দোষী করতে পারি না, একইভাবে যিনি বন্ধ্যাত্বের শিকার তাকেও দোষ দেওয়া যায় না। বন্ধ্যাত্বের কারণ নির্ণয় কোন দম্পতি পূর্ণ এক বৎসর একসঙ্গে বসবাস করে নিয়মিতভাবে সহবাস করার পরেও গর্ভধারণ করতে না পারেন তবেই বন্ধ্যাত্বের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। প্রজননতন্ত্রের টিউমার, মাসিকের অনিয়ম, কোন দীর্ঘমেয়াদি অসুখ, স্বামী-স্ত্রীর বয়স বেশি হলে, সন্তান গ্রহণের জন্যে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। অনিরাপদ গর্ভপাত অনেক সময় বন্ধ্যাত্বের কারণ হতে পারে। চিকিৎসা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঔষধ দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী কখনও কখনও অপারেশন করা যায়। এছাড়া বীর্যের সমস্যার কারণে স্বামীর বীর্য সরাসরি স্ত্রীর জরায়ুর ভিতরে স্থাপন (IUI) করা যায়। কদাচিৎ টেস্টটিউব বেবি (IVF) নেয়ার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসা প্রাপ্তদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ দম্পতিই সফলভাবে সুস্থ শিশু পেতে পারেন। চিকিৎসক বন্ধ্যাত্ব সেবা প্রাথমিকভাবে শুরু করতে পারেন। • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা • মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল • মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার, ঢাকা • মেটারনাল এন্ড চাইল্ড হেলথ্ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, আজিমপুর, ঢাকা • জেলা সদর হাসপাতাল • মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র • মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র • উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স • বিশেষায়িত এনজিও ক্লিনিক • বিশেষায়িত বেসরকারি ক্লিনিক/হাসপাতাল/প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ সুস্থ, স্বাভাবিক ধর্মীয় জীবনযাপন করার পাশাপাশি কিছু কিছু বিষয় বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা কমাতে পারে। এগুলি সমানভাবে পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য প্রযোজ্য • ওজন অতিরিক্ত বেড়ে বা কমে গেলে নানাবিধ হরমোনজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ওজন ঠিক রাখার মাধ্যমে বন্ধ্যাত্ব প্রতিরোধ করা যায় • ধূমপান, তামাক সেবন, মদ্যপান, নেশাজনিত সামগ্রীর ব্যবহার পরিহার করা • ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। স্বামী/স্ত্রী ছাড়া অন্য কারো সাথে অধৈধ যৌন সম্পর্ক রাখা যৌনবাহিত রোগ বা প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণের ফলে স্ত্রী ও পুরুষ উভয়েরই বিভিন্ন কারণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে। সুতরাং এসব সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকা বা জরুরি চিকিৎসা করা দরকার। প্রয়োজনে দ্বৈত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসাবে কনডম ব্যবহার করতে হবে। • সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হওয়া: যা বন্ধ্যাত্বের সম্ভাবনা কমায়। সন্তান ধারণ জীবনের জন্য প্রয়োজন। তবে নিঃসন্তান হলেও নিজেদের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে চিকিৎসক, পরিবার-পরিজন, প্রতিবেশী ও সমাজের সবার সহযোগিতায় সুখী, স্বাভাবিক ও অর্থবহ জীবন যাপন করা যায়। অধ্যায় - ১৭ সংক্রমণ প্রতিরোধ পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১৭ সংক্রমণ প্রতিরোধ সংক্রমণ প্রতিরোধ হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণুসমূহের সংক্রমণ এবং বিস্তারকে প্রতিহত করে। রোগ জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে এর বিস্তার ঘটালে সংক্রমণের সৃষ্টি হয়। সংক্রামক ব্যাধি বিভিন্ন রকমের এবং বিভিন্নভাবে তা একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। তবে পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক সেবাকেন্দ্রসমূহ এবং সেখানে কর্মরত সেবাকর্মী ও আগত সেবাগ্রহীতাগণ এ সকল সংক্রামক রোগসমূহের অতিরিক্ত ঝুঁকিতে থাকেন। পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক্যাল সেবাদান কার্যক্রমে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। কারণ সেবা ব্যবস্থায়। সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকলে এ থেকে সেবাদানকারী ও সেবাগ্রহীতা উভয়ই সংক্রমিত হতে পারে। বিশেষত স্থায়ী পদ্ধতিসহ অন্যান্য পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানের সময় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জরায়ুতে সংক্রমণ হতে পারে, অন্য যে কোনো সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারে, এমন কি হেপাটাইটিস বি, সি, ডি বা এইচআইভি/এইডস এর মত মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা শুধু গ্রহীতার প্রাণহানি ঘটায় না বরং সমগ্র কর্মসূচির উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। কেন সংক্রমণ প্রতিরোধ করবেন: • অতি সূক্ষ জীবাণুর সংক্রমণ প্রতিহত করা যা পক্ষান্তরে টিটেনাস, গ্যাংগ্রীন, তলপেটের প্রদাহ (পিআইডি) ক্ষতের প্রদাহ ইত্যাদি ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা হ্রাস করতে পারে। • মারাত্মক ঘাতক ব্যাধিসমূহ যেমন এইডস, হেপাটাইটিস বি, সি, ডি প্রভৃতির হাত থেকে সেবাকর্মী, গ্রহীতা বা উভয়কে রক্ষা করতে পারে। • ক্লিনিক বর্জ্য দ্বারা সংগঠিত সংক্রমণের হাত থেকে জনগোষ্ঠী তথা পরিবেশকে রক্ষা করতে পারে। ডাক্তার নার্স, প্যারামেডিক, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, আয়া ও ক্লিনার যারা গ্রহীতাদের নিয়ে কাজ করেন এবং রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরল পদার্থের সংস্পর্শে আসে তাদের প্রত্যেকেরই বিভিন্ন রোগ জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। পক্ষান্তরে, গ্রহীতারাও সংক্রমিত হতে পারেন সেবাকর্মীর দ্বারা। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সংক্রমণ প্রতিরোধের সর্বোত্তোম পন্থা হল স্ট্যান্ডার্ড প্রিকশন এর প্রক্রিয়াগুলো মেনে চলা। সংক্রমণ রোগসমূহ কীভাবে ছড়ায় সাধারণত: ৪ ভাবে সংক্রামক রোগ সমূহের বিস্তার ঘটে: ১. স্পর্শের মাধ্যমে (Contact) ২. কোন জিনিসের মাধ্যমে (Vehicle) ৩. বাতাসের মাধ্যমে (Air borne) ৪. কীট-পতঙ্গ বা প্রাণীর মাধ্যমে (Vector) স্পর্শের মাধ্যমে (Contact) • স্পর্শের মাধ্যমে সরাসরি স্থানান্তর যেমন স্ট্যাফাইলোকক্কাস • যৌনবাহিত সংক্রমণ যেমন: এইচআইভি এবং অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ • Faecal/Oral সংক্রমণ যেমন: হেপাটাইটিস-এ • তরল ফোঁটার সঙ্গে সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে যেমন-টিবি (Tuberculosis) কোন জিনিসের মাধ্যমে (Vehicle) • খাদ্য হলো সালমোনেলা ছড়ানোর মাধ্যম • রক্ত হলো হেপাটাইটিস বি ছড়ানোর মাধ্যম • পানি হলো কলেরা রোগ ছড়ানোর মাধ্যম • ক্লিনিকাল প্রসিডিউরে ব্যবহৃত যন্ত্রগুলি এইচআইভি অথবা হেপাটাইটিস-বি ছড়ানোর মাধ্যম হতে পারে বাতাসের মাধ্যমে (Air borne) • বাতাসের মাধ্যমে প্রবাহিত অণুজীব যেমন: টিবি অথবা হাম কীট-পতঙ্গ বা প্রাণীর মাধ্যমে (Vector): • মশার মাধ্যমে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু কীভাবে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় যদি সংক্রমণের চক্রটি কোন সময়ে কোনভাবে বিঘ্ন হয়, তখন সংক্রমণ বিদ্বার প্রতিরোধ করা যায় ১. আদর্শ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ (Standard Precaution): আদর্শ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ (Standard Precaution) বলতে কিছু স্বীকৃত ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমকে বোঝায় যা গ্রহীতা এবং সেবাদানকারীর সংক্রমিত বস্তু যেমন রক্ত এবং অন্যান্য দেহরস এর সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি কমায়। স্ট্যান্ডার্ড প্রিকশন এর প্রক্রিয়াগুলো রোগ বিস্তার চক্রে বাধা দান করে এবং সেবাদানকারী ও সেবাগ্রহীতার মধ্যে সংক্রমণ বিস্তারের ঝুঁকি কমায়। এগুলো হলো: ১.১ হাত পরিষ্কারকরণ (Hand Hygiene) ১.২ ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক যন্ত্রপাতির ব্যবহার (Use of Personal Protective Equipment) ১.৩ যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ (Instrument Proccessing) ১.৪ সূচালো/ধারালো জিনিসপত্রের সঠিক ব্যবস্থাপনা (Correct Handling of Sharps) ১.৫ শ্বাসতন্ত্রের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা (Respiratory Hygiene) ১.৬ লিনেনের নিরাপদ ব্যবহার (Safe handling of Linen) ১.৭ পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা (Environmental Cleaning) ১.৮ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (Waste Management) ২. নির্বীজন কৌশল (Aseptic Technique) ৩. অ্যান্টিসেপটিক (Antiseptic) এবং ডিজইনফেকাটিন্ট (Disinfectants) এর যথাযথ ব্যবহার ৪. হেপাটাইটিস-বি টিকা: সকল ক্লিনিক্যাল টিম সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয়; যারা দুষিত ধারালো যন্ত্রপাতি এবং ক্লিনিকাল বজোর সংস্পর্শে আসে। যেমন, সেবাপ্রদানকারী এবং যারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ করে ৫. সকল স্টাফদের দুর্ঘটনা পরবর্তী প্রচিষেধকমূলক চিকিৎসার গাইড লাইন (PEP) সম্বন্ধে সচেতন হতে হবে এবং এটা কোথায় আছে তা জানতে হবে। সকল সেবা কেন্দ্রে একটি PEP প্রোটোকল থাকতে হবে ১.১ হাত পরিষ্কারকরণ (Hand Hygiene) সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে হ্যান্ড হাইজিন একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। হ্যান্ড হাইজিন এর জন্য ৬০-৮০% অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব দ্রবণ এর ব্যবহার এখন গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে বিবেচিত কারণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জীবাণু খুব দ্রুত ও কার্যকরীভাবে নিষ্ক্রিয় করা যায়। এছাড়া সাধারণ বা জীবাণুনাশক সাবান এবং প্রবাহমান পানি ব্যবহার করে হাত থেকে ধুলো, ময়লা এবং জীবাণুর হার কমানো বা পরিষ্কার করা যায়। হ্যান্ড হাইজিন এর মাধ্যমে আমরা প্রাথমিকভাবে অনেক রোগ জীবাণুর সংক্রমণ রোধ করতে পারি। সাধারণত ২ উপায়ে হ্যান্ড হাইজিন করা হয়- ক. অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব খ. সাধারণ হাত ধোয়া কেন হ্যান্ড হাইজিন প্রয়োজন? • গ্রহীতা/রোগী যাতে আপনার বা অন্য রোগী দ্বারা সংক্রমিত না হন এবং • গ্রহীতা/রোগী দ্বারা যাতে আপনি সংক্রমিত না হন বা আপনার পরিবার-পরিজন সংক্রমিত না হয় কখন হ্যান্ড হাইজিন করতে হবে? • গ্রহীতা/রোগীকে পরীক্ষা করার আগে ও পরে • গ্লাভস্ পরার আগে এবং খোলার পরে • গ্রহীতা/রোগীর রক্ত, পুঁজ বা দেহ নিঃসৃত পদার্থ পরীক্ষার সময় হাতে লাগলে অথবা ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি স্পর্শ করার পরে • খাওয়ার আগে ও পরে • টয়লেট ব্যবহারের পরে • কর্মস্থলে আসার পর এবং কর্মস্থল ত্যাগ করার পূর্বে হ্যান্ড হাইজিন এর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ • অ্যালকোহল হ্যান্ডরার দ্রবণ • সাধারণ বা জীবাণুনাশক সাবান • সাবান, প্রবাহমান পানির ধারা (ট্যাপের পানি)। প্রবাহমান পানি যদি না থাকে তবে কলযুক্ত পরিষ্কার পানির পাত্র অথবা বালতিতে সংরক্ষিত পরিষ্কার পানি ও মগ • শুধু নিজের ব্যবহারের জন্য শুকনা ও পরিষ্কার ব্যক্তিগত তোয়ালে বা রুমাল অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব হাতে দৃশ্যমান ময়লা না থাকলে অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব দ্রবণ দিয়ে হাত ঘষে জীবাণু হ্রাস সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। এজন্য ৬০-৮০% অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব দ্রবণ ব্যবহার করা হয়। ২ মি.লি. গ্লিসারিন ও ১০০ মি.লি. অ্যালকোহল (৬০%-৯০% অ্যালকোহল) মিশিয়ে এ দ্রবণ তৈরি করা যায়। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরণের অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব দ্রবণ কিনতে পাওয়া যায়। অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব এর ধাপসমূহ সময়কাল: ২০-৩০ সেকেন্ড ১,২ মুঠোভতি করে অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব দ্রবণ নিন যাতে পুরো করতল স্পশ করে ৩ দুই হাতের তালু ঘষুন ৪ ডান হাতের তালু বাম হাতের পৃষ্ঠদেশের উপর নিয়ে আঙ্গুলের ভিতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ৫ দুই হাতের তালু মিলিয়ে আঙ্গুলগুলো জড়িয়ে নিন এবং আগে-পিছে নাড়িয়ে ঘষুন ৬ আঙ্গুলে আঙ্গুল জড়িয়ে এক হাতের আঙ্গুলের পেছনভাগ দিয়ে অন্য হাতের তালু স্পর্শ করুন ৭ বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির চারদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ৮ ডান হাতের আঙ্গুলগুলো একত্রিত করে বাম হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সামনে ও পেছনে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ৯ আপনার হাতগুলো এখন নিরাপদ সাধারণ হাত ধোয়া শুধুমাত্র হাতে দৃশ্যমান ময়লা থাকলে বা অ্যালকোহল হ্যান্ডরাব দ্রবণ পাওয়া না গেলে সাধারণ বা জীবাণুনাশক সাবান এবং প্রবাহমান পানি ব্যবহার করে হাত ধুতে হবে। সাধারণ হাত ধোয়ার ধাপসমূহ সময়কাল: ৪০-৬০ সেকেন্ড ১ পানি দিয়ে দুই হাত ভেজান ২ যথেষ্ট পরিমাণে সাবান নিন যাতে পুরো হাতে লাগে ৩ দুই হাতের তালু ঘষুন ৪ ডান হাতের তালু বাম হাতের পৃষ্ঠদেশের উপর নিয়ে আঙ্গুলের ভিতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ৫ দুই হাতের তালু মিলিয়ে আঙ্গুলগুলো জড়িয়ে নিন এবং আগে-পিছে নাড়িয়ে ঘষুন ৬ আঙ্গুলে আঙ্গুল জড়িয়ে এক হাতের আঙ্গুলের পেছনভাগ দিয়ে অন্য হাতের তালু স্পর্শ করুন ৭ বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির চারদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ৮ ডান হাতের আঙ্গুলগুলো একত্রিত করে বাম হাতের তালুতে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সামনে ও পেছনে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ৯ প্রবাহমান পরিষ্কার পানির ধারায় দুই হাত ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। লক্ষ্য রাখুন যাতে হাতের আঙ্গুল নিচের দিকে থাকে এবং পানি গড়িয়ে আঙ্গুল থেকে নিচে পড়ে ১০ শুকনো ও পরিষ্কার ব্যক্তিগত তোয়ালে/কুমাল দিয়ে হাত মুছে বা বাতাসে শুকিয়ে নিন ১১ প্রবাহমান পরিষ্কার পানির ধারা বন্ধ করতে একই তোয়ালে/ঘুমাল ব্যবহার করুন ১২ আপনার হাতগুলো এখন নিরাপদ মনে রাখতে হবে • পাত্র বা গামলায় সংরক্ষিত পানিতে এমন কি ডেটল বা স্যাভলন মিশ্রিত সংরক্ষিত পানিতে হাত ডুবিয়ে হাত ধোবেন না। কারণ রোগ জীবাণু এসব অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ মিশ্রিত বন্ধ/ স্থির পানিতেও বেঁচে থাকতে বা বংশ বৃদ্ধি করতে পারে অপারেশনের জন্য হাতের প্রস্তুতি (Surgical Hand Preparation): জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে, যে কোন আপারেশনের পূর্বে জীবাণুমুক্ত গ্লাস পরার আগে সার্জিক্যাল হ্যান্ড প্রিপারেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত দুইভাবে সার্জিক্যাল হ্যান্ড প্রিপারেশন করা হয়- ১. অ্যালকোহল দ্রবণ দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাব ২. প্রবাহমান পানি ও অ্যান্টিসেপটিক দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাব অ্যালকোহল দ্রবণ দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)'র তথ্য অনুযায়ী সার্জিক্যাল হ্যান্ড প্রিপারেশন এর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি হল অ্যালকোহল দ্রবণ দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাব। বাজারে সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাবের জন্য নানা ধরনের অ্যালকোহল দ্রবণ পাওয়া যায়। দীর্ঘস্থায়ী ও কার্যকরভাবে জীবাণু ধ্বংস করতে পারে, সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাবের জন্য এরকম অ্যালকোহল দ্রবণ বেছে নিতে হবে অ্যালকোহল দ্রবণ দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাবের ধাপসমূহ প্রয়োজনীয় উপকরণ: সার্জিক্যাল হ্যান্ডক্র্যাবের জন্য অ্যালকোহল দ্রবণ অ্যালকোহল দ্রবণ দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাবের পূর্বে দুই হাত সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন হাতের আংটি, ঘড়ি, শাঁখা চুড়ি ইত্যাদি খুলে ওটি (OT) তে ব্যবহারের জন্য বিশেষ পোশাক এবং মাস্ক, ক্যাপ ও জুতা পরিধান করে নিন। ১. ডান হাতের কনুই ব্যবহার করে ডিসপেনসার থেকে ৫ মি.লি. অ্যালকোহল দ্রবণ বাম হাতের তালুতে নিন ২. ডান হাতের আঙুল বাম হাতের তালুতে রাখা অ্যালকোহল দ্রবণে ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন (৫ সেকেন্ড) ৩. ডান হাতের কনুই পর্যন্ত অ্যালকোহল দ্রবণটি ভালভাবে মেখে নিন ৪-৭. বাম হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ডান হাতের পুরো অংশে দ্রবণ ঘষতে থাকুন যাতে কনুই পর্যন্ত চামড়ার কোন অংশ বাদ না যায়। দ্রবণ বাষ্পীভূত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ঘষতে থাকুন (১০-১৫ সেকেন্ড) ৮. এবার বাম হাতের কনুই ব্যবহার করে ডিসপেনসার থেকে ৫ মি.লি. অ্যালকোহল দ্রবণ ডান হাতের তালুতে নিন ৯ . বাম হাতের আঙুল ডান হাতের তালুতে রাখা অ্যালকোহল দ্রবণে ডুবিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন (৫ সেকেন্ড) ১০. ডান হাত দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বাম হাতের পুরো অংশে দ্রবণ ঘষতে থাকুন যাতে কনুই পর্যন্ত চামড়ার কোন অংশ বাদ না যায়। দ্রবণ বাষ্পীভূত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ঘষতে থাকুন (১০-১৫সেকেন্ড)। ১১. ডান হাতের কনুই ব্যবহার করে ডিসপেনসার থেকে ৫ মি.লি. অ্যালকোহল দ্রবণ বাম হাতের তালুতে নিন। দুই হাত একসাথে কব্জি পর্যন্ত ঘষতে থাকুন। এসময় নিচের ধাপগুলো (১২-১৭) অনুসরণ করা হয়েছে নিশ্চিত করতে হবে (২০-৩০ সেকেন্ড) ১২. কবজি পর্যন্ত দুই হাতে অ্যালকোহল দ্রবণ মেখে নিয়ে দুই হাতের তালু ঘষুন ১৩. ডান হাতের তালু বাম হাতের পৃষ্ঠদেশের উপর নিয়ে আঙ্গুলের ভিতরে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ১৪. দুই হাতের তালু মিলিয়ে আঙ্গুলগুলো জড়িয়ে নিন এবং আগে-পিছে নাড়িয়ে ঘষুন ১৫. আঙ্গুলে আঙ্গুল জড়িয়ে এক হাতের আঙ্গুলের পেছনভাগ দিয়ে অন্য হাতের তালু স্পর্শ করুন ১৬. বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির চারদিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘষুন এবং উল্টোটিও করুন ১৭. হাত শুকিয়ে গেলে জীবাণুমুক্ত সার্জিক্যাল গ্লাভস্ ও গাউন পরে নিন প্রবাহমান পানি ও অ্যান্টিসেপটিক দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাব প্রবাহমান পানি ও অ্যান্টিসেপটিক (কোরহেক্সিডিন বা আয়োডোফোর) দ্বারা ৩-৫ মিনিট সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাব করেও জীবাণু সংক্রমণের হার কমিয়ে আনা যায়। প্রবাহমান পানি ও অ্যান্টিসেপটিক দ্বারা সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাব করার ধাপসমূহ প্রয়োজনীয় উপকরণ: সাবান, প্রবাহমান পানির ধারা (ট্যাপের পানি), অ্যান্টিসেপটিক (কোরহেক্সিডিন বা আয়োডোফোর) এবং জীবাণুমুক্ত শুকনো তোয়ালে বা রুমাল। ১ হাতের আংটি, ঘড়ি, শাঁখা চুড়ি ইত্যাদি খুলে ওটি (OT) তে ব্যবহারের জন্য বিশেষ পোশাক এবং মাস্ক, ক্যাপ ও জুতা পরিধান করে হাত কনুই অবধি সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন। ২ প্রত্যেকটি আঙুলের নখের নিচের অংশ ব্রাশ বা কাঠি দিয়ে পরিষ্কার করুন। উল্লেখ্য, হাতের নখ ছোট রাখা আবশ্যক। ৩ দুই হাত উপরের দিকে রেখে কনুই অবধি ভালোভাবে অ্যান্টিসেপটিক মেখে নিন। ভালভাবে এক হাতের আঙ্গুলের মাথা হতে কনুই পর্যন্ত ভালভাবে ঘষে নিন। একইভাবে আরেক হাতও পরিষ্কার করুন। ৩-৫ মিনিট ধরে দুই হাত পরিষ্কার করুন। ৪ আলাদা আলাদাভাবে দুই হাত ধুয়ে ফেলুন এবং সব সময় লক্ষ্য রাখুন হাত যেন কনুই থেকে উপরের দিকে উঠানো থাকে। ৫ একটি জীবাণুমুক্ত তোয়ালে দিয়ে নখের দিক থেকে শুরু করে কনুই পর্যন্ত মুছে নিন অথবা বাতাসে হাত শুকিয়ে নিন। হাত মোছার সময় তোয়ালের দুই পাশ দুই হাতের জন্য ব্যবহার করুন ৬ সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্র্যাবের পর দুই হাত কোমর থেকে উপরের দিকে রাখুন। জীবাণুমুক্ত গ্রাস পরার আগে কেন কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন। ১.২ ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক যন্ত্রপাতির ব্যবহার (Use of Personal Protective Equipment) প্রতিবন্ধকের ব্যবহার যেমন- গ্লাভস্, ক্যাপ, মাস্ক, প্লাস্টিকের অ্যাপ্রোন, ঢাকা জুতা, গাউন, চশমা ইত্যাদি ব্যবহার সেবাদানকারী ও গ্রহীতা উভয়কেই বিভিন্ন উপায়ে জীবাণুর সংস্পর্শ থেকে রক্ষা করে। মাস্ক সেবাদানকারীর কথা বলা, কাশি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় নাক ও মুখ থেকে যে অতি সূক্ষ্ম জীবাণু বের হয় তা থেকে গ্রহীতাকে রক্ষা করে। রক্ত অথবা দেহরস-এর সংস্পর্শ থেকে সেবাদানকারীর নাক ও মুখের ঝিল্লিকে (মিউকাস মেমব্রেন) রক্ষা করে। মনে রাখতে হবে, অবশ্যই মাড দ্বারা নাক, মুখ ঢাকা থাকতে হবে। মাস্কের এক প্রান্ত থাকবে নাকের মাঝখানে আড়াআড়িভাবে এবং অন্য প্রান্ত থাকবে গলার উপরিভাগে থুতনির নীচে ক্যাপ সেবাদানকারীর চুল এবং চামড়া থেকে অতি সূক্ষ্ম জীবাণু সেবা দেয়ার জীবাণুমুক্ত পরিবেশে ঝরে পরা থেকে রক্ষা করে। চোখ ও মুখের প্রতিরোধক রক্ত ও দেহরস-এর সংস্পর্শ থেকে সেবাদানকারীর চোখের ঝিল্লিকে (মিউকাস মেমব্রেন) রক্ষা করে। গাউন ও ম্যাকিন্টোস সেবাদানকারীর পরিহিত কাপড় ও বাহু থেকে অতি সন্ধ জীবাণু গ্রহীতার সংস্পর্শে আসা থেকে রক্ষা করে। রক্ত অথবা দেহরস-এর সংস্পর্শ থেকে সেবাদানকারীর চামড়াকে বক্ষ। করে। মনে রাখতে হবে, যে ক্ষেত্রে অনেক বেশি রক্তের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা আছে সেক্ষেত্রে গাউনের নীচে প্লাস্টিকের তৈরি ম্যাকিন্টোস পরা উচিত। অপারেশনের পূর্বে রোগীকেও পরিষ্কার গাউন ও ক্যাপ পরাতে হবে। বুট জুয়া/ সু-কতার রক্ত অথবা দেহরস-এর সংস্পর্শ থেকে সেবাদানকারীর পায়ের চামড়াকে রক্ষা করে। মনে রাখতে হবে: যে ক্ষেত্রে অনেক বেশি রক্ত, দেহরস বা নিঃসরণ এর সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনা আছে সেক্ষেত্রে প্লাস্টিকের জুতা (গামবুট) পরতে হবে। সু-কভার পানি-নিরোধী হওয়া ভাল (ডিসপোজেবল সু-কভার হলে ভালো)। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য অপসারণের কর্মীদের কাজ করার সময় গামবুট পরা উচিৎ। গ্লাভস্ পরা সংক্রমণ প্রতিরোধের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া হচ্ছে গ্লাভস্ এর যথাযথ ব্যবহার। গ্লাভস্ আপনার এবং গ্রহীতার রক্ত বা দেহ নিঃসৃত দূষিত পদার্থে অবস্থিত জীবাণুর মধ্যে একটি বাঁধার প্রাচীর তৈরি করে। সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর্মীরা সাধারণত তিন ধরনের গ্লাস ব্যবহার করেন- সার্জিক্যাল গ্লাভস্ যে কোন ধরনের অস্ত্রোপচারের সময় এই গ্লাভস্ পরা আবশ্যক। এগুলো জীবাণুমুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং একবার অথবা জীবাণুমুক্ত করে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। ইউটিলিটি গ্লাভস্ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, পরীক্ষার টেবিল অথবা মেঝের মত বড় জায়গা বিশোধন, পরিষ্কারকরণ এবং ক্লিনিকের বর্জ্য অপসারণের সময় এই গ্লাভস্ পরতে হয়। পরীক্ষা কাজে ব্যবহারের গ্লাভস্ পেলভিক পরীক্ষা, রক্ত অথবা দেহের অন্যান্য তরল পদার্থ বা টিস্যুর সংস্পর্শে আসে এমন যে কোন ধরনের নমুনা সংগ্রহের পূর্বে। এসব প্লাভস্ কম দামে পাওয়া যায় এবং শুধু একবার ব্যবহারযোগ্য। কেন গ্লাভস্ পরবেন? গ্লাভস্থ একমাত্র মাধ্যম যা সেবাদানকারী ও গ্রহীতার মধ্যে সরাসরি স্পর্শ প্রতিহত করে বিভিন্ন রোগজীবাণুর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। সার্জিক্যাল গ্লাভস্ পরার ধাপসমূহ ১. গ্লাভস্ পরার আগে হাত ভালভাবে ধুয়ে বা অ্যালকোহল ব্যবহার করে পরিষ্কার করে নিন ২. উপরের প্যাকেটটি সতর্কতার সাথে ছিড়ে ফেলুন ও স্পর্শবিহীনভাবে গ্লাভসহ ভিতরের জীবাণুমুক্ত প্যাকেটটি বের করুন ৩. জীবাণুমুক্ত প্যাকেটটি স্পর্শবিহীনভাবে পরিষ্কার শুকনা জায়গায় রাখুন। প্যাকেটটির উপরের দুই পাশের ভাঁজ খুলে ফেলুন এবং গ্লাভসগুলো উন্মোচিত করুন ৪. এক হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং তর্জনী দিয়ে গ্লাভসের ভাজ করা অংশটি ধরুন ৫. গ্লাভস্রে ভাজ করা অংশটি ধরে অপর হাতে গ্লাভস্টি একবারেই আংশিক পড়ে ফেলুন। তবে ভাজ করা অংশটি খোলা যাবে না ৬-৭. গ্লাভস্ পড়া হাতের আঙ্গুল দিয়ে দ্বিতীয় গ্লাভসৃস্টি এর ভাজ করা অংশটির ভিতরে ধরে তুলে নিন ৮-১০. গ্লাভবিহীন হাতে স্পর্শ ছাড়া একবারেই দ্বিতীয় গ্লাভস্টি সম্পূর্ণভাবে পরে ফেলতে হবে। ১১. দু'হাতে গ্লাভস্ পড়ার পর প্রয়োজনে হাতের আঙ্গুলগুলো নেড়েচেড়ে ঠিক করে নিন ১২-১৩. গ্লাভস্ পরিহিত হাতের আঙ্গুল প্রথম গ্লাভস্ পরিহিত হাতের আংশিক পরা গ্লাভস্টির ভাজ করা অংশ টেনে সম্পূর্ণভাবে পরে ফেলতে হবে। এক্ষেত্রে বাইরের কোন স্পর্শ যেনো না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে ১৪. হাতে গ্লাভস্ পরা হয়েছে এবং এখন গ্লাভস্ পরা হাত রোগীকে স্পর্শ করার জন্য প্রস্তুত ১-৩. প্রথম গ্লাভস্টি খোলার জন্য অপর হাতের আঙ্গুল দিয়ে গ্লাভস্রে কাফের কাছে ধরে উল্টিয়ে আংশিকভাবে খুলে ফেলুন। (দ্বিতীয় গ্লাভসৃস্টি খোলার আগে প্রথম গ্লাভস্টি পুরোপুরি খোলা যাবে না।) ৪. প্রথম গ্লাভসৃস্টি হাতে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় গ্লাভস্ত্রে কাফের কাছাকাছি বাইরের দিকে ধরে উল্টিয়ে আংশিকভাবে খুলে ফেলুন। ৫. সতর্কতার সাথে দুটো গ্লাভস্থ একসাথে খুলে ফেলুন। খেয়াল রাখুন যেন খালি হাতে জীবাণুযুক্ত গ্লাভসের বাইরের অংশ ছুঁতে না হয় ৬. ব্যবহৃত গ্লাভস্ বর্জ্য অপসারণের নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলুন ৭. গ্লাভস্ খোলার পর হাত পরিষ্কার করে নিন ১.৩ যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ (Instrument Processing) ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি পুনঃব্যবহারের জন্যে জীবাণুমুক্ত করার উদ্দেশ্যে যে সমস্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় তাকে সামগ্রিকভাবে যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ বলা হয়। সঠিকভাবে যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ যে কোন ক্লিনিক্যাল কাজ বা অপারেশনের পূর্বশর্ত। যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সাধারণ বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো: • যদি একক ব্যবহার হিসাবে নির্দিষ্ট করা হয়, তাহলে প্রক্রিয়াটি শেষ হওয়ার পর আইটেমটি ফেলে দিতে হবে • সরঞ্জাম প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সর্বদা প্রস্তুতকারকের নির্দেশাবলি অনুসরণ করুন • যে এমআর/এমভিএ ক্যানুলাগুলো পুনরায় ব্যবহার করা যায় সেগুলো প্রতিটি প্রক্রিয়াজাতকরণের পরে পরীক্ষা করা আবশ্যক। নোংরা, ক্ষয়প্রাপ্ত বা কাজ না হলে পুরানোটির পরিবর্তে অন্য একটি নতুন ব্যবহার করতে হবে এবং পুরানোটি নষ্ট করে ফেলতে হবে। • গ্লাভস, সূঁচ বা সিরিঞ্জ দ্বিতীয়বার ব্যবহারের জন্য প্রক্রিয়া করবেন না, কারণ এটি একক ব্যবহারযোগ্য আইটেম এবং তা ব্যবহারের পরেই ফেলে দিতে হবে। • যেই পাত্রগুলিতে জীবাণুমুক্ত সরঞ্জামাদি সংরক্ষণ করা হয় সেগুলিও পুনরায় ব্যবহারের জন্য জীবাণুমুক্ত করা উচিত • প্রতি ২৪ ঘন্টা পর পর অথবা যখনই এগুলো দূষিত হয়ে যায় পাত্রগুলোর সাথে সাথে লিফটিং ফরসেপগুলো জীবাণমুক্ত করতে হবে। যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপসমূহ ১. পরিষ্কারকরণ ২. যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা যাতে কোনটা ক্ষতিগ্রস্থ বা ভঙ্গুর না থাকে ৩. জীবাণুমুক্তকরণ অথবা উচ্চ মাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ ৪. ব্যবহার বা সংরক্ষণ। WHO যন্ত্রপাতি পরিষ্কারকরণ এর পূর্বে সংক্রমণরোধী হিসাবে ব্যবহৃত দ্রবণগুলো যেমন ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণে ভিজিয়ে রাখা বা অন্য কোনও সংক্রমণরোধক ব্যবহারে সুপারিশ করে না। কারণগুলো হলো নিম্নরূপ: • এটি যন্ত্রপাতিগুলিকে ক্ষয়/ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে • সংক্রমণরোধক রাসায়নিক দ্রব্যটি রক্ত এবং শরীরের তরল দ্বারা নিষ্ক্রিয় হতে পারে, যা মাইক্রোবিয়াল দূষণ এবং বায়োফিল্ম গঠনের একটি উৎস হতে পারে • দূষিত রাসায়নিক জিনিসপত্রের পরিবহন এবং নিমজ্জন করে রাখলে স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং অনুপযুক্ত নাড়াচাড়া করলে দুর্ঘটনামূলক ক্ষতি হতে পারে • অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের বিকাশে অবদান রাখতে পারে, জৈবপদার্থের উপস্থিতিতে পরিষ্কার করার আগে রাসায়নিক সংক্রমণমুক্তকরণ অপ্রয়োজনীয়, অকার্যকর এবং সামান্য মানের। (WHO, 2016) ধাপ-১: পরিষ্কারকরণ বা পরিষ্কার করা (Cleaning) পরিষ্কার করার মৌলিক নিয়ম • যন্ত্রাপাতি প্রক্রিয়াকরণের প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো পরিষ্কার করা, কারণ যদি যন্ত্রপাতি বা যন্ত্রপাতির অংশবিশেষ পরিষ্কার করা না হয় তবে সেগুলো জীবাণুমুক্ত করা যাবে না। জীবাণুমুক্তকরণ ও সংক্রমণমুক্তকরণ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যেতে পারে যদি যন্ত্রগুলি আগে পরিষ্কার করা হয়। এটি যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রথম ধাপ • রক্ত বা দেহরস শুষ্ক হওয়ার আগে যন্ত্রগুলি ব্যবহার করার পরে অবিলম্বে ডিটারজেন্টের দ্রবণে ভিজিয়ে রাখা উচিত • এগুলোকে বেসিনের বা সিনকের ডুবন্ত ডিটারজেন্টের পানিতে চুবিয়ে রাখতে হবে • যন্ত্রে বা সরঞ্জামে লেগে থাকা দৃশ্যমান ময়লা, জৈব বা অজৈব উপকরণ অপসারণ করতে হবে • যন্ত্র সঠিকভাবে পরিষ্কার করা না হলে বহিঃউপাদানগুলি (ময়লা, জৈব পদার্থ, ক্ষুদ্র জীবকণা, অজৈব সামগ্রী) থেকে যাবে ও সংক্রমণমুক্তকরণ ও জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি বাধাগ্রস্ত হবে • সুবিধাজনক সময়ে যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করতে হবে। যন্ত্রপাতি ডিটারজেন্ট পানি বা সাবান পানিতে কচলিয়ে ধুতে হবে এবং বহিঃউপাদানগুলি সরিয়ে ফেলার জন্য পানি ফ্লাশিং করে সম্পন্ন করা উচিত। জীবাণুমুক্তকরণ বা সংক্রমণমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার আগে যন্ত্রগুলো খুব ভালভাবে পরিষ্কার করা উচিত। বি.দ্র: পরিষ্কারকরণের জন্য ডিটারজেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পানি একা আমিষ, তেল ও গ্রিজ পুরষ্কার করতে পারে না। পানিতে ডিটারজেন্ট মিশালে তা গ্রিজ, তেল ও অন্যান্য জিনিসকে ভেঙ্গে গলিয়ে দেয় যা তলানি হিসাবে থাকে, ফলে পরিষ্কারকরণ সহজ হয়। কেন পরিষ্কার করবেন? • স্টেরিলাইজেশন বা উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণকে বেশি কার্যকরী করার জন্য। কখন পরিষ্কার করবেন? • যন্ত্রপাতি এবং গ্লাভস, সরঞ্জাম উচ্চমাত্রার সংক্রমণমুক্তকরণ বা স্টেরিলাইজেশনের আগে। যন্ত্রগুলো ভালোভাবে না খুলে পরিষ্কার করলে যা হয় - • যন্ত্র থেকে রক্ত এবং শরীরের তরল পদার্থের অবশিষ্টাংশগুলি অপসারণে ব্যর্থ হলে রক্তসংবহনকারী ভাইরাস (যেমন এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি, বা হেপাটাইটিস সি) সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। এটি ইবোলার মত অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল রোগের একটি বিশেষ ঝুঁকি • রাসায়নিক পদার্থ বা জৈব পদার্থের ময়লা থাকলে যন্ত্রগুলো জীবাণুমুক্ত বা সংক্রমণরোধী করা যায় না যেমন রাসায়নিক সংক্রমণরোধী ওষুধ বা জীবাণুমুক্তকরণের দ্রবণ ময়লা জায়গায় প্রবেশ করতে পারে না • জৈবপদার্থ কিছু সংক্রমণরোধী ওষুধকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় • পরিষ্কার যন্ত্রপাতি নির্দিষ্ট সময়ের চেয়েও বেশি টেকসই হয়। পরিষ্কারকরণের নির্দেশাবলী যা যা করতে হবে • পরিষ্কার করার সময় লম্বা ইউটিলিটি গ্ল্যাভস ও অন্যান্য ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক যন্ত্রপাতি পরে নিন। • সুই ও ধারালো যন্ত্রপাতি পরিষ্কারের সময় বিশেষভাবে হাতের যত্ন নিন এবং কাজ শেষে গ্লাভস সমূহের কাটা বা ছেঁড়া পরীক্ষা করে দেখুন। • ডিটারজেন্ট দ্রবণটি প্রস্তুতকারকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রস্তুত করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হন। সঠিক ঘনত্ব এবং তাপমাত্রা এবং প্রস্তাবিত সময়ের জন্য ব্যবহার করতে হবে। • সকল তলে পরিষ্কারকারী দ্রবণ পৌঁছানোর জন্য যন্ত্রপাতিগুলো ধোয়ার আগে সকল জোড়ার জায়াগাগুলো খুলে নিন • সাবান পানি বা ডিটারজেন্ট দ্রবণ দিয়ে ফ্ল্যাশ করে ক্যানুলা ও ছিদ্রযুক্ত সরঞ্জামগুলো পরিষ্কার করতে হবে • খাঁজ কাটা অংশগুলো পরিষ্কার করতে দাঁতযুক্ত নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন • পরিষ্কার করার সময় সরঞ্জাম বা যন্ত্রপাতি অবশ্যই পানির নিচে ডুবন্ত অবস্থায় ঘষে নিন, পানি যেন কোন অবস্থাতেই ছিটে গায়ে না লাগে সে বিষয়ে সতর্ক হোন। • এরপর যন্ত্রপাতিগুলো প্রবাহমান পানির ধারায় এমনভাবে ধুয়ে ফেলুন যাতে যন্ত্রপাতির গায়ে ডিটারজেন্ট পাউডারের গুঁড়া বা অন্য কোন ময়লা না লেগে থাকে। • পরিষ্কার করার পরে যন্ত্রগুলি পরীক্ষা করুন যেগুলি করবেন না • যন্ত্রপাতি পরিষ্কারের সময় ধাতুর ব্রাশ বা ঘর্ষণে যন্ত্রের ক্ষতি হয় এমন ব্রাশ জাতীয় উপকরণ ব্যবহার • প্রবাহমান পানির ধারাতে পরিষ্কার করা যাতে যন্ত্রাদি থেকে ছিটা পড়ে • চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতির জন্য নয় এমন ডিটারজেন্ট ব্যবহার। পরিষ্কারকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবাহমান পানিসহ সিল্ক/বেসিন, প্লাস্টিকের গামলা, ডিটারজেন্ট পাউডার, টুথ ব্রাশ, ইউটিলিটি গ্লাভস্, টেবিল/প্লাস্টিক র‍্যাক, তোয়ালে, পরিষ্কার কাপড়, ম্যাকিন্টোস, মাস্ক ইত্যাদি। পরিষ্কারকরণের ধাপসমূহ ১. ম্যাকিন্টোস ও ইউটিলিটি গ্লাভস্ পরে গামলায় পানি নিয়ে ডিটারজেন্ট মিশিয়ে গামলাটি ফেনাপূর্ণ করে নিন। ২. বিশোধিত যন্ত্রপাতিগুলো ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিপূর্ণ পাত্রে নিন। ৩. যন্ত্রপাতিগুলো ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ডুবানো অবস্থায় উপর থেকে নিচের দিকে ব্রাশ দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করুন যাতে পানি ছিটে চোখে মুখে না লাগে। সংযুক্ত যন্ত্র আলাদা করে নিন এবং খাঁজ/দাঁতের দিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখুন, যেখানে রাসায়নিক দ্রব্য জমা বা লেগে থাকতে পারে। এমআর/এমভিএ সিরিঞ্জ প্রথমে ডিটারজেন্ট দ্রবণ টেনে সিরিঞ্জটি পূর্ণ করে চাপ দিয়ে পানি গামলার বাইরে ফেলে দিন। এই প্রক্রিয়াটি পর পর তিন বার করে পরিষ্কার পনিতে ধুয়ে ফেলুন। ৪. এরপর যন্ত্রপাতিগুলো প্রবাহমান পানির ধারায় এমনভাবে ধুয়ে ফেলুন যাতে যন্ত্রপাতির গায়ে ডিটারজেন্ট পাউডারের গুঁড়া বা অন্য কোন ময়লা না লেগে থাকে। ৫. ধোয়া যন্ত্রপাতিগুলো বাতাসে প্লাস্টিকের র‍্যাকে অথবা পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে মুছে শুকিয়ে নিন। ধাপ ২: যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা (Inspection of Instruments) • জীবাণুমুক্ত বা এইচ এলডি হিসাবে প্যাকিং করার আগে প্রতিটি যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা উচিত • বক্স জয়েন্টস, খাঁজযুক্ত অংশ এবং যন্ত্রে ফাটল বা চিড় থাকলে সেগুলো পরিষ্কার হয়েছে কিনা তা সাবধানতার সাথে পরীক্ষা করা উচিত • সহজভাবে যেন কাজ করে সেজন্য কব্জাযুক্ত যন্ত্রগুলোর বিশেষভাবে বাঁক এবং দাঁত পরীক্ষা করা উচিত • মাল্টি-পার্ট বিশিষ্ট যন্ত্রগুলিকে একত্রিত করার পর চেক করা উচিত সেগুলি ঠিকভাবে কাজ করছে কিনা। • কোন ক্ষতিগ্রস্ত, অসম্পূর্ণ বা অপ্রয়োজনীয় যন্ত্র সেট থেকে সরানো এবং প্রতিস্থাপিত করা উচিত এবং সুপারভাইজারের নিকট রিপোর্ট করা উচিত • ছিদ্রযুক্ত সরঞ্জামগুলো চেক করে নিশ্চিত হতে হবে যে সেগুলো পেটেন্ট ও মজবুত এবং ভঙ্গুর বা ক্ষতিগ্রস্ত নয় ধাপ ৩: (ক) জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization) অথবা (খ) উচ্চ মাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ (High Level Disinfection) (ক) জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization): এটি একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত করা যায় (সব ব্যাকটেরিয়া এবং ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোস্পোরকে বিনষ্ট করে)। দেহের অভ্যন্তরীন টিস্যু, রক্ত, দেহ নিঃসৃত তরল বা মিউকাস ঝিল্লী স্পর্শ করতে পারে এমন সব ধরনের সরঞ্জাম/যন্ত্র ব্যবহারের আগে অবশ্যই জীবাণুমুক্তকরে নিতে হবে। কখন ও কি কি জীবাণুমুক্তকরণ করবেন। অস্ত্রোপচারে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, নমুনা সংগ্রহ ও ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বা আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি যেমন গজ, কটন, গ্লাভস্, র‍্যাপার ইত্যাদি ব্যবহারের পূর্বে জীবাণুমুক্ত করবেন। জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতিসমূহ: ১. উচ্চ চাপে বাষ্প দ্বারা (Steam Sterilization or autoclaving) ২. শুষ্ক তাপে (Dry Heat) ৩. রাসায়নিক জীবাণুমুক্তকরণ (Chemical Sterilization) অটোক্লেভ ব্যবহার করে বাষ্প দ্বারা জীবাণুমুক্তকরণ যে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি শরীরের টিস্যু বা তরলের সাথে যুক্ত করতে হয় সেগুলো জটিল আইটেম বলে মনে করা হয়। এই আইটেমগুলি ব্যবহার করার আগে তাই জীবাণুমুক্ত হওয়া উচিত কারণ কোনও ক্ষুদ্র ক্ষতিকর জীবাণু দূষণের ফলে রোগের সংক্রমণ ঘটতে পারে। এই আইটেমগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ত্রোপচার যন্ত্র, বায়োপসি ফরসেফ এবং ইমপ্লান্টেড মেডিকেল ডিভাইস। এই আইটেমগুলি তাপ-প্রতিরোধী হলে, অটোক্লেভ দ্বারা জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়াটি সুপারিশ করা হয়। কারণ এটি নির্ভরযোগ্য, দৃঢ় এবং জীবাণু ধ্বংস করার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা রয়েছে। বাষ্প দ্বারা জীবাণুমুক্তকরণ বিষাক্ত নয়, কম খরচ, দ্রুত ক্ষতিকর জীবাণু ধংস করতে পারে, এবং দ্রুত গরম হয় এবং কাপড় ভেদ করতে পারে। • বাষ্প জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়াটি ধাতুর তৈরি যন্ত্র, ড্রেসিং উপকরণ (সোয়াব/ গজ), গাউন, লিনেন কাপড় এবং অস্ত্রোপচার কালের আচ্ছাদন বা ড্রেপ জীবাণুমুক্তকরণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। • অটোক্লেভের মধ্যে স্থাপন করার আগে যন্ত্রাদি দুই স্তরের তুলো বা মসলিন সুতার পাতলা কাপড় দিয়ে জড়ানো উচিত (কিন্তু মোটা কাপড় দিয়ে পেচাবেন না) -ডাবল wrapping এর ফলে ক্ষুদ্র জীবাণুকে বাঁধা দেয় এবং জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। অটোক্লেভ (Autoclave) অটোক্লেডিং পদ্ধতি অটোক্লেভ একটি স্টিম টাইট চেম্বারযুক্ত যন্ত্র যার চেম্বারে সৃষ্ট তাপ ও চাপ বাইরে বের হতে পারে না। তাপের কারণে পানি ফুটে বাষ্পের চাপে নির্ধারিত সময় (২০-৩০ মি.) পর্যন্ত অটোক্লেভিং করলে টিটেনাসের স্পোরসহ অন্যান্য জীবাণু ধ্বংস করা সম্ভব হয়। টিটেনাস রোগের স্পোরকে ১০০° সে. তাপমাত্রায় ধ্বংস করা যায় না। কাজেই পানিতে ফুটিয়ে একে ধ্বংস করা সম্ভব নয়। ভারী ঢাকনা ও বডির সংযোগস্থলে রাবারের গ্যাসকেট থাকায় অটোক্লেভের ভেতর থেকে বাষ্প/বাতাস বের হতে পারে না (মেটাল-টু-মেটাল সিলে গ্যাসকেট থাকে না)। ঢাকনার উপর বা বড়ির পাশে একটি প্রেসার মিটার ও এক্সজস্ট সেফটি ভাল্ব (অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হলে তা বেরিয়ে যাওয়ার জন্য) থাকে। তাপের উৎস হিসাবে কেরোসিন প্রেসার স্টোভ/গ্যাসের চুলা/বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। অনেক অটোক্লেভে তাপের উৎস হিসাবে বৈদ্যুতিক হিটার যুক্ত থাকে। এই পদ্ধতিতে উচ্চ বাষ্পীয় তাপ ও চাপে যন্ত্রপাতি ও আনুষাঙ্গিক সামগ্রী জীবাণুমুক্ত করা যায়। অটোক্লেভের সাহায্যে জীবাণুমুক্ত করার ধাপসমূহ ১. যে সমস্ত যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ খোলা যায় সে সমস্ত অংশ খুলে নিন। আর্টারি ফরসেপ ও অন্যান্য ফরসেপের ক্যাচগুলো খুলে রাখুন। যন্ত্রপাতিগুলো প্যাক করে সার্জিক্যাল ড্রামে ঢুকিয়ে ড্রামের জানালা খুলে দিন। ২. বিষয়বস্তু, তারিখ, সময় এবং স্বাক্ষরসহ প্রতিটি প্যাকের বাইরে চিহ্নিত করুন ৩. ড্রামের ভিতর ও বাহির এবং প্যাকের বহির্ভাগে এবং প্যাকের ভেতর অটোক্লেভ টেপ লাগান ৪. অটোক্লেভের ভেতর নির্দিষ্ট পরিমাণ (নির্দিষ্ট দাগ পর্যন্ত) পানি ঢালুন। যদি দাগ না থাকে তাহলে ১ ইঞ্চির বেশি বা ২ ইঞ্চির কম লেভেল পর্যন্ত পানি দিন। ৫. অটোক্লেভের ঢাকনা বন্ধ করার পর বিপরীত দিকের উইংনাটগুলো একই সাথে দুই হাত দিয়ে বন্ধ করুন। বৈদ্যুতিক অটোক্লেভের ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিন। বৈদ্যুতিক অটোক্লেভ না থাকলে চুলার সাহায্যে তাপ দিন। ৬. প্রথমে বাতাস বের হওয়া স্টিম কন্ট্রোল ভাল্ব খোলা রাখুন (খাড়া অবস্থায়) এবং বাষ্প বের হবার পর থেকে ৪ মিনিট খোলা অবস্থায় রাখুন। ৭. চার মিনিট পর স্টিম কন্ট্রোল ভাল্বটি সমান্তরাল করে বন্ধ করে দিন। ১২১° সে. তাপে ও ১৫-২০ পাউন্ড/বর্গইঞ্চি চাপে মোড়ানো যন্ত্রপাতিসমূহ টাইমার সেট করে ৩০ মিনিট ও খোলা যন্ত্রপাতিসমূহ বা গ্লাভস্ ২০ মিনিট অটোক্লেভ করুন। ৮. নির্ধারিত সময় শেষ হবার পর তাপের উৎস বন্ধ করে স্টিম কন্ট্রোল ভাল্ব খাড়া করে দিয়ে বাষ্প বের করে দিন এবং প্রেসার গজ শূন্যে নেমে আসার পর দেরি না করে অটোক্লেভের ঢাকনা অল্প খুলে ভিতরের জিনিস শুকানোর জন্য ২০-৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ড্রামটি বের করে নিন। এরপর ড্রামের জানালা বন্ধ করে দিন। ব্যবহারের মেয়াদ লিখে ড্রামটি সংরক্ষণ করুন। ৯. একটি অটোক্লেভ রেজিস্টার রাখতে হবে যাতে কী কী জীবাণুমুক্ত করা হলো সেগুলোর তালিকা লিপিবদ্ধ করতে হবে: তারিখ, সময়, তাপমাত্রা/চাপ, অটোক্লেভে জীবাণুমুক্তকরণ সমাপ্তির সময়কাল এবং জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়ার শুরুর সময়। বিভিন্ন ধরনের অটোক্লেভ মেশিন এবং তাদের ব্যবহার বিধি Getinge/ SAB অটোক্লেভ মেশিন চালানোর নির্দেশাবলী: এই অটোক্লেভটি জেলা/উপজেলা/বিভিন্ন এনজিও ক্লিনিক পর্যায়ে ব্যবহার করা হয়। • প্রথমে অটোক্লেভের ভিতরের গোল প্লেট অথবা ফানেলের দাগ পর্যন্ত পানি ভর্তি করতে হবে। বৈদ্যুতিক হিটারযুক্ত অটোক্লেভ থাকলে হিটারের কয়েল অবশ্যই কমপক্ষে ১ ইঞ্চি পানির নিচে থাকতে হবে • খাঁচা ও ড্রামগুলো জানালা খুলে ভিতরে বসিয়ে লিড বন্ধ করে দিতে হবে। বৈদ্যুতিক সংযোগ দেয়া থাকলে সুইচ খুলে অন (On) করে দিতে হবে • যদি বৈদ্যুতিক সংযোগ না দেওয়া থাকে তাহলে অটোক্লেভের নিচে চার বার্নার কেরোসিনের প্রেসার স্টোভ/গ্যাসের চুলা ধরিয়ে দিতে হবে • মিটারের বাষ্পের চাপ লক্ষ্য করতে হবে। লিনেন, গজ ও মোড়ানো যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে চাপ ১৫-২০ পাউন্ড/বর্গ ইঞ্চিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত স্থির রাখতে হবে। অতঃপর সুইচ বন্ধ (Off) করে অথবা স্টোভ সরিয়ে নিয়ে তাপ দেওয়া বন্ধ করতে হবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে কখনও যেন চাপ ১৫ পাউন্ড/বর্গ ইঞ্চির কম না হয়। কোন কারণে চাপ ১৫ পাউন্ড/ বর্গ ইঞ্চির নিচে হলে পুনরায় সঠিক চাপে (১৫-২০) পাউন্ড/বর্গ ইঞ্চি নিশ্চিত করে ৩০ মিনিট তাপ দিতে হবে। খোলা যন্ত্রপাতি ও রাবারের তৈরি দ্রব্যাদির জন্য ৩০ মিনিটের স্থলে ২০ মিনিট সময় প্রয়োজন হবে • এরপর এয়ার স্টিম আউটলেটটি (এক্সজস্ট) খুলে দিতে হবে, এতে বাষ্প বের হয়ে যাবে ভিতরের বস্তুসমূহ শুকাবার জন্য নিচের বল ভাল্বটি খুলে পানি বের করে দিতে হবে এবং প্রেসার শূন্যে নেমে আসলে ভাল্বটি পুনরায় বন্ধ করে দিতে হবে। • প্রেসার শূন্যে নেমে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপর অটোক্লেভের ঢাকনা খুলতে হবে এবং ভিতরের জিনিস শুকানোর জন্য ১৫-২০ মিনিট পর ড্রাম বের করে নিতে হবে • অটোক্লেভের কাজ শেষ হয়ে গেলে অবশিষ্ট পানি ফেলে দিতে হবে। অটোক্লেভের গায়ে যাতে পানি লেগে না থাকে সেজন্য অটোক্লেভ মুছে ফেলতে হবে প্রেসার স্টিম স্টেরিলাইজার (মিনি অটোক্লেভ) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সাধারণত যে অটোক্লেভটি ব্যবহার করা হয় তার নাম হচ্ছে অল আমেরিকান প্রেসার স্টিম স্টেরিলাইজার (All American Pressure Steam Sterilizer) অথবা ফুয়েল হিটেড অটোক্লেভ (Fuel heated autoclaves)। এই অটোক্লেভ তিন সাইজের হয়: ১৯১৫X, ১৯২৫X এবং ১৯৪১০ (ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের)। প্রতিবার ব্যবহার করার আগে অটোক্লেভ পরীক্ষা করে নিতে হবে • বৈদ্যুতিক তার ও সংযোগ, প্লাগ ও মাটির সঙ্গে যোগাযোগ (Earthing) ঠিক আছে কিনা • ভেসেলে কিছু নষ্ট হয়েছে কিনা বা ঢাকনা বন্ধ করার ক্ষেত্রে কোন গোলমাল আছে কিনা • এয়ার স্টিম ইজেকটর ভাল্ব (Air steam ejector valve) ঠিকমত কাজ করছে কিনা • যাতে পড়ে না যায় সেজন্য স্ট্যান্ডের উপর একে স্থাপন করা আছে কিনা • অটোক্লেভ অবশ্যই অস্ত্রোপচার কক্ষ সংলগ্ন অটোক্লেভ কক্ষে রাখতে হবে (উভয় কক্ষে যাতায়াতের দরজা থাকতে হবে।) অটোক্লেভ ব্যবহারের আগে পরীক্ষা করে সকল যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা পূর্বের মতই দেখতে হবে। অটোক্লেভে যে যে ত্রুটি দেখা দিতে পারে (SAB এবং মিনি অটোক্লেভের জন্য প্রযোজ্য): • চেম্বারে ছিদ্র সৃষ্টি হতে পারে • হিটিং এলিমেন্ট কাজ না করতে পারে (অটোক্লেভ অপারেটরের অযত্নের ফলে সাধারণত হিটিং এলিমেন্টগুলো নষ্ট হয়) • রাবার গ্যাসকেট নষ্ট হতে পারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বা সমস্যা দেখা দিলে তার সমাধান • সবসময় পরিমিত পানি ব্যবহার করতে হবে • নষ্ট হয়ে গেলে হিটিং এলিমেন্ট (Heating element) পরিবর্তন করতে হবে • তাপের উৎস হিসেবে বিদ্যুৎ, গ্যাস বা কেরোসিন স্টোভ ব্যবহার করা যায়। গ্যাস বার্নার বা চার বার্নারের প্রেসার স্টোভগুলোই সবচেয়ে উপযোগী। • গ্যাসকেট বা মেটাল-টু-মেটাল সিল থেকে সমস্যার উদ্ভব হতে পারে। এটা আঁটসাঁট না হলে বাষ্প বেরিয়ে যেতে পারে। তাতে যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি হবে না এবং জীবাণুমুক্তকরণ যথাযথভাবে হবে না অটোক্লেভ টেপ ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনীয় তাপ ও চাপ সৃষ্টি করা গেল কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য টেপটিকে নির্দেশক হিসেবে ব্যবহার করা যায় (সঠিক অটোক্লেভিং হলে দাগগুলো গাঢ় বাদামি রং ধারণ করবে)। কোন বান্ডেল এবং ড্রাম অটোক্লেভ করা হলো তা বোঝার ক্ষেত্রেও টেপ নির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে। কখন অটোক্লেভ করা হলো তা সময় ও তারিখ টেপে লিখে রাখতে হবে। টেপে অটোক্লেভকৃত বস্তুসমূহের বিবরণও লেখা যায়, এতে ড্রাম না খুলেই ভিতরে কি আছে তা সহজে জানা যায় • অটোক্লেভ টেস্ট টেপ ব্যবহারের ও সংরক্ষণের নিয়ম: অটোক্লেভ টেপের অংশ বিশেষ (২-৩ ইঞ্চি) প্রতিটি ড্রামের ভিতরে ও বাহিরে লাগাতে হবে। অটোক্লেভের তারিখ টেপের উপরে লিখে অটোক্লেভ শেষ হওয়ার পর একটি রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হবে। লাগানোর আগে অটোক্লেভের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা বা প্যারামেডিকস স্বাক্ষরসহ তারিখ লিখবেন বিভিন্ন দ্রব্য/ উপকরণ জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি দ্রব্যের নাম তাপমাত্রা চাপ (পাউন্ড) সঠিক তাপমাত্রা ও চাপ উঠার সময় লিনেন (অ্যাবডমিন্যাল শিট, গজ, তুলা, মাস্ক, ক্যাপ, গাউন ইত্যাদি) ১২১° সে. বা ২৫০° ফা. ১৫-২০ ৩০ মিনিট মোড়ানো যন্ত্রপাতি ১২১° সে. বা ২৫০° ফা. ১৫-২০ ৩০ মিনিট রাবারের দ্রব্য (ক্যাথেটার, রাবারের টিউব, গ্লাভস্ ইত্যাদি) ১২১° সে. বা ২৫০° ফা. ১৫-২০ ২০ মিনিট খোলা যন্ত্রপাতি বা কাঁচের দ্রব্যাদি ১২১° সে. বা ২৫০° ফা. ১৫-২০ ২০ মিনিট সার্জিক্যাল ব্লেড (বিপি ব্লেড) ১২১° সে. বা ২৫০° ফা. ১৫-২০ ২০ মিনিট তরলের অটোক্লেভিং যেমন রাসায়নিক জীবাণুমুক্তকরণ কালে পানির ব্যবহার: • তরলকে যন্ত্রাদি ও লিনেন কাপড় থেকে আলাদাভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। • ভালোভাবে ছিপি দিয়ে আটকিয়ে তাপ প্রতিরোধী বোতলে তরল রেখে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। • আয়তনভেদে অটোক্লেভে তরল জীবাণুমুক্তকরণের আনুমানিক সময় নিম্নের ছকে দেওয়া হলো: তরলের পরিমাণ আনুমানিক সময় ৭৫-১০০ মি.লি. ২০ মিনিট ২৫০-৫০০ মি.লি. ২৫ মিনিট ১০০০ মি.লি ৩০ মিনিট ১৫০০ মি.লি ৩৫ মিনিট ২০০০ মি.লি ৪০ মিনিট • একবার জীবাণুমুক্ত সম্পূর্ণ হলে চাপ ধীরে ধীরে ১০-১৫ মিনিট পর্যন্ত কমান, দ্রুত রিলিজ করলে বোতল বিস্ফোরিত হতে পারে • বোতলটি অপসারণের আগে আনুমানিক ৩০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করুন তরলের তাপমাত্রা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা পর্যন্ত। আইইউডি স্টেরিলাইজার আইইউডি স্টেরিলাইজার ইপিআই স্টেরিলাইজারের একটি সংস্করণ। এটি ব্যবহার করে আইইউডি পরানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গ্লাভস, তুলা বাষ্পের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করা যায়। আইইউডি স্টেরিলাইজার ব্যবহার করে জীবাণুমুক্তকরণ আইইউডি স্টেরিলাইজার ব্যবহার করে আইইউডি পরানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, গ্লাভস্, তুলা জীবাণুমুক্ত করা যায়। এটি ব্যবহারের মূলনীতি হচ্ছে- • জোড়াযুক্ত সকল যন্ত্র জীবাণুমুক্তকরণের সময় অবশ্যই ক্যাচ খোলা অবস্থায় রাখতে হবে (যেমন: সিজার, টেনাকুলাম, ফরসেপ ইত্যাদি)। সংযুক্ত যন্ত্র খুলে দিতে হবে (যেমন- স্পেকুলাম) • গ্লাভস্ ও তুলা পাতলা কাপড় দ্বারা হাল্কাভাবে আবৃত করে রাখতে হবে যেন সহজে বাষ্প ভিতরে প্রবেশ করে এবং ভিতর হতে বাষ্প বাইরে বের হতে পারে • ভিতরের দিকে সর্বত্র বাষ্পের সংস্পর্শ নিশ্চিত করতে গালিপটগুলো স্পেকুলামের উপর উল্টানো অবস্থায় রাখতে হবে যথাযথ তাপমাত্রা ও সময় • আইইউডি স্টেরিলাইজারের মাধ্যমে জীবাণু মুক্ত করার জন্য বাষ্পের মাধ্যমে জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১২১০ সেন্টিগ্রেড অথবা ২৫০০ ফারেনহাইট তাপমাত্রায় যন্ত্রপাতি বা আনুষাঙ্গিক সরঞ্জাম ২০ মিনিটের জন্য রাখতে হয় আইইউডি স্টেরিলাইজার ব্যবহার করে যন্ত্রপাতি, তুলা জীবাণুমুক্তকরণ আইইউডি স্টেরিলাইজারের মধ্যে আইইউডি যন্ত্রপাতি সাজানোর পদ্ধতি ৩টি আইইউডি সেট একই সাথে স্টেরিলাইজারের মধ্যে রেখে জীবাণুমুক্ত করা যায় • স্টেরিলাইজারের ঢাকনার হাতলটি ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে স্টেরিলাইজারটি খুলতে হবে। ৭২০ মিলিলিটার পানি যন্ত্রের ভেতর (চার গালিপট সমান পানি) অথবা স্টেরিলাইজারটির তলার দিকে অবস্থিত বৃত্তাকার দাগ পর্যন্ত পানি পূর্ণ হবে • আইইউডি প্রয়োগের যন্ত্রপাতি রাখার জন্য ছিদ্রযুক্ত তিনটি পাত্র স্টেরিলাইজারের ভিতর রাখতে হবে • প্রতিটি ছিদ্রযুক্ত পাত্রে পরিষ্কারকৃত শুকনো এক সেট করে আইইউডি যন্ত্র নিচের নিয়মে রাখতে হবে। যন্ত্রগুলো পরবর্তীতে কাজের সময় প্রয়োজন অনুসারে ক্রমান্বয়ে সাজাতে হবে • একটি গজের টুকরার মধ্যে তুলার বলসমূহ গালিপটের মধ্যে রেখে একটি ছিদ্রযুক্ত পাত্রে উপুড় করে রাখতে হবে বারের পিছনে ছোট কম্পার্টমেন্টে থাকবে • ১টি স্পঞ্জ হোল্ডিং ফরসেপ (খোলা অবস্থায়) • ১টি টেনাকুলাম (খোলা অবস্থায়) • ১টি ইউটেরাইন সাউন্ড • ১টি সোজা আর্টারি ফরসেপ (খোলা অবস্থায়) • ১টি সিজার (খোলা অবস্থায়) বারের সম্মুখে বড় কম্পার্টমেন্টে থাকবে • ১টি মাঝারি সাইজের কাসকোস বাই-ভাল্ব ভ্যাজাইনাল স্পেকুলাম (খোলা অবস্থায়) • ১টি গালিপট তুলার বলসহ (উল্টানো অবস্থায়) জীবাণুমুক্তকরণের ধাপসমূহ প্রথমে গ্লাভস্ ও তুলার বল জীবাণুমুক্ত করে নিয়ে তারপর যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করতে হবে। গ্লাভস/তুলার বল অথবা যন্ত্রপাতি স্টেরিলাইজারের মধ্যে রাখার পর নিম্নের ধাপগুলো অনুসরণ করে স্টেরিলাইজারটি বন্ধ করতে হবে- • ঢাকনাটি স্টেরিলাইজারের উপর রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, পাত্রের গায়ে পানি বের হবার ড্রেন এবং হাতলের গায়ের জানালা একই দিকে থাকে • ঢাকনার গায়ের ত্রিকোণাকৃতি চিহ্নটি স্টেরিলাইজারের গায়ের হাতল বরাবর আনতে হবে • ঢাকনাটি স্টেরিলাইজারের উপর রেখে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরাতে হবে। ফলে উপরের ও নিচের হাতল দুটি একই সমান্তরালে অবস্থান করবে • প্রেসার ভাল্বের স্টিম রিলিজ লিভারকে খাড়া করে রাখতে হবে • স্টেরিলাইজারটি চুলার উপর রেখে চুলাটি পূর্ণমাত্রায় প্রজ্জ্বলিত করতে হবে • স্টেরিলাইজারের অভ্যন্তরে যথেষ্ট চাপ উৎপন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। বাষ্প বের হওয়ার 'হিস্ হিস্' শব্দই যন্ত্রের ভিতরে যথেষ্ট চাপ উৎপন্ন হওয়া নির্দেশ করে • স্টেরিলাইজারের অভ্যন্তরে নিচের ধাপগুলোর মাধ্যমে চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে- - চাপমান ভাল্বের নীল ধাতব অংশ শক্তভাবে আটকানো আছে কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে - নিরাপত্তামূলক ভাল্বের পিনটি যথাস্থানে আছে কিনা এবং সেটা যেন উপরের দিকে উঠানো না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে - বাষ্প শুধু চাপমান ভাল্ব দ্বারা নির্গত হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে যে, বাষ্প যেন সেফটি ভাল্ব অথবা ঢাকনার নীচ দিয়ে বের হয়ে না যায় - হিস হিস শব্দ শোনার পর স্টিম রিলিজ লিভার সমান্তরাল করে দিতে হবে এবং ২০ মিনিটের জন্য টাইমার দিতে হবে - সময় শেষে চুলার তাপ বন্ধ করে/ স্টেরিলাইজার সরিয়ে নিয়ে স্টিম রিলিজ লিভার খাড়া করে দিতে হবে - স্টেরিলাইজারটি ঠান্ডা হওয়ার জন্য ঢাকনা খোলার পূর্বে ১৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে ।আইইউডি যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্তকরণের পর করণীয় • স্টিম রিলিজ লিভারটি আড়াআড়ি করে বন্ধ করে দিতে হবে যাতে এর ভিতর দিয়ে গরম পানি বের না হতে পারে • ঢাকনাটিকে ঘড়ির কাঁটার উল্টাদিকে ঘুরিয়ে তার এক পাশে একটু ফাঁক (জানালা) তৈরি করতে হবে যেন ঢাকনাটিকে পুরোপুরি না খুলে ভিতরের অবশিষ্ট পানিটুকু ফেলে দেওয়া যায় নিম্নের পদ্ধতিতে জানালার মাধ্যমে স্টেরিলাইজার হতে পানি বাইরে ফেলতে হবে • টেবিলের পাশে মেঝেতে একটি পাত্র রাখতে হবে • স্টেরিলাইজারের উভয় হাতল একত্রে ধরতে হবে • টেবিলের উপর এক পার্শ্বে স্টেরিলাইজারটিকে কাৎ করতে হবে • জানালা দিয়ে পানি নিচে রাখা পাত্রে ফেলতে হবে পানি বাইরে ফেলার পর • পুনরায় স্টেরিলাইজারের ঢাকনা বন্ধ করে দিতে হবে, স্টেরিলাইজারটিকে ঠাণ্ডা করতে হবে এবং যন্ত্রপাতিগুলো সম্পূর্ণভাবে শুষ্ক করতে হবে • স্টেরিলাইজারটি ঠাণ্ডা হলে চাপমান যন্ত্রের হাতলটি বন্ধ করতে হবে। ভিতরের যন্ত্রপাতি শুকানোর জন্য ভাল্বটি অবশ্যই খোলা রাখতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ১৫-৩০ মিনিট সময়ের প্রয়োজন। এরপর ভাল্বটি বন্ধ করে দিতে হবে • স্টেরিলাইজারের যন্ত্রপাতিসমূহ অবশ্যই জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে। ২৪ ঘণ্টা পর যন্ত্রপাতিগুলোর জীবাণুমুক্তকরণ বজায় থাকে না বিধায় পুনর্ব্যবহারের পূর্বে অবশ্যই যন্ত্রপাতিগুলো পুনরায় জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে আইইউডি স্টেরিলাইজার ব্যবহার করে তুলা জীবাণুমুক্তকরণ আইইউডি স্টেরিলাইজার ব্যবহারের শুরুতেই এর রাবার সিল এবং বাষ্প নির্গমন ভাল্ব ভালোভাবে পরীক্ষা করে নিন। স্টেরিলাইজারের মুখ বন্ধ করার সময় ঢাকনা ও মূল পাত্রের গায়ে তীর চিহ্ন লক্ষ্য করুন। ঢাকনার বাষ্প নির্গমণ জানালাকে মূল পাত্রের অংশের সাথে মিলিয়ে স্টেরিলাইজারের হাতল ধরে ঢাকনার হাতল ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরাতে হবে। গ্লাভস্ ও তুলার বল জীবাণুমুক্ত করার জন্য পাত্রের ভিতরে ছিদ্রযুক্ত দুইটি বাটি ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি আইইউডি স্টেরিলাইজারে যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার জন্য ৩টি করে ছিদ্রযুক্ত পাত্র থাকে। প্রত্যেক পাত্রে ১ সেট করে যন্ত্র সাজাতে হবে। একই সেটের যন্ত্র একাধিক ছিদ্রযুক্ত পাত্রে ঢুকানো যাবে না। যথাযথ তাপ ও চাপ সৃষ্টি নিশ্চিত করার জন্য স্টেরিলাইজারে হিস হিস শব্দে বাষ্প বের হবার পর থেকে স্টিমটির রিলিজ বাল্ব বন্ধ করে ২০ মিনিট পর্যন্ত তাপ দিতে হবে। (খ) উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ (High Level Disinfection) উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ কী? এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে যন্ত্রপাতি/অন্যান্য সরঞ্জামাদি থেকে এন্ডোস্পোর ছাড়া অন্য জীবাণু ধংস করা যায়। কখন উচ্চমাত্রার সংক্রমণমুক্ত করবেন? জীবাণুমুক্তকরণ বা স্টেরিলাইজেশনের সুবিধা না থাকলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। ফুটানো (Boiling) ফুটানো একটি বহুল প্রচলিত উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ পদ্ধতি। ফুটানোর জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ পানি ফুটানোর জন্য ঢাকনাযুক্ত পাত্র বা স্টেরিলাইজার, ঘড়ি। ফুটিয়ে উচ্চ মাত্রায় সংক্রমণমুক্ত করার ধাপসমূহ ১. পরিষ্কার করা যন্ত্রপাতিগুলো স্টেরিলাইজারের ট্রে অথবা ঢাকনাযুক্ত ফুটানোর পাত্রে সাজিয়ে নিন। যে যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ খোলা যায় সে অংশ খুলে নিন। আর্টারি ফরসেপ ও কাঁচির ক্যাচগুলো খুলে রাখুন। ২. সাজানো ট্রে স্টেরিলাইজারে অথবা ঢাকনাযুক্ত ফুটানোর পাত্রে এমনভাবে রাখুন যাতে যন্ত্রগুলোর উপরের অংশ কমপক্ষে এক ইঞ্চি পরিমাণ পানির নিচে ডুবে থাকে। ৩. স্টেরিলাইজার অথবা ফুটানো পাত্রের ঢাকনাটি বন্ধ করুন। পানি টগবগ করে ফোটার পর থেকে সময় গণনা শুরু করুন। ৩০ মিনিট ধরে যন্ত্রপাতিগুলো ফুটিয়ে নিন। ৩০ মিনিটের মধ্যে ঢাকনা খোলা যাবে না ৪. ত্রিশ (৩০) মিনিট শেষ হলে স্টেরিলাইজার/ফুটানোর পাত্র থেকে যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত লিফটার দিয়ে সেগুলো তুলে উচ্চ মাত্রায় সংক্রমণমুক্ত ট্রেতে অথবা জীবাণুমুক্ত পাত্রে রাখুন। সংরক্ষণের পূর্বে যন্ত্রপাতিসমূহ শুকানো প্রয়োজন। ৫. শুকনো যন্ত্রপাতিগুলো জীবাণুমুক্ত পাত্রে ভালোভাবে মুখ বন্ধ করে সংরক্ষণ করুন এবং পাত্রের গায়ে যন্ত্রসমূহের ব্যবহারের মেয়াদ লিখে রাখুন। যন্ত্রপাতিগুলো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মনে রাখতে হবে • সময় গণনা শুরু করার পর নতুন করে কোন যন্ত্র ফুটানোর পাত্র বা স্টেরিলাইজারে ঢুকানো বা সেখান থেকে বের করা যাবে না, ঢাকনা খোলা কিংবা পানির পরিমাণ কম বেশি করা যাবে না • ফুটানোর পর কোন অবস্থাতেই যন্ত্রপাতি যেন ফুটানোর পাত্র বা স্টিম স্টেরিলাইজারের ট্রেতে না থাকে • যন্ত্র সংরক্ষণ পাত্রকে একই সময়ে ফুটানো প্রয়োজন • যন্ত্র সংরক্ষণের পাত্রে যন্ত্রসমূহের ব্যবহারের মেয়াদ লিখে রাখুন (উচ্চমাত্রায় জীবাণুমুক্ত করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে) রাসায়নিক পদ্ধতিতে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ (Chemical HLD) সাধারণত ২ ধররে দ্রবণ দিয়ে রাসায়নিক পদ্ধতিতে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্ত করা হয় ১।০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ২। ২% গ্লোটারালডিহাইড দ্রবণ রাসায়নিক পদ্ধতিতে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্ত করার ধাপসমূহ ১. প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুয়ায়ী রাসায়নিক দ্রবণ প্রস্তুত করুন। ২. পরিষ্কার যন্ত্রপাতিসমূহ ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। ৩. যন্ত্রপাতিসমূহ রাসায়নিক দ্রবণে ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন। ৪. ২০ মিনিট পর জীবাণুমুক্ত লিফটার দিয়ে যন্ত্রপাতিগুলো তুলে জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিন। ৫. যন্ত্রপাতিগুলো জীবাণুমুক্ত পাত্রে ভালোভাবে মুখ বন্ধ করে সংরক্ষণ করুন এবং পাত্রের গায়ে যন্ত্রসমূহের ব্যবহারের মেয়াদ লিখে রাখুন। যন্ত্রপাতিগুলো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মনে রাখতে হবে • সময় গণনা শুরু করার পর নতুন করে কোন যন্ত্র ফুটানোর পাত্র বা স্টেরিলাইজারে ঢুকানো বা সেখান থেকে বের করা যাবে না, ঢাকনা খোলা কিংবা পানির পরিমাণ কম বেশি করা যাবে না • ফুটানোর পর কোন অবস্থাতেই যন্ত্রপাতি যেন ফুটানোর পাত্র বা স্টিম স্টেরিলাইজারের ট্রেতে না থাকে • যন্ত্র সংরক্ষণ পাত্রকে একই সময়ে ফুটানো প্রয়োজন • যন্ত্র সংরক্ষণের পাত্রে যন্ত্রসমূহের ব্যবহারের মেয়াদ লিখে রাখুন (উচ্চমাত্রায় জীবাণুমুক্ত করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করতে হবে) রাসায়নিক পদ্ধতিতে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ (Chemical HLD) সাধারণত ২ ধররে দ্রবণ দিয়ে রাসায়নিক পদ্ধতিতে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্ত করা হয় ১। ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ২। ২% গ্লোটারালডিহাইড দ্রবণ রাসায়নিক পদ্ধতিতে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্ত করার ধাপসমূহ ১. প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুয়ায়ী রাসায়নিক দ্রবণ প্রস্তুত করুন। ২. পরিষ্কার যন্ত্রপাতিসমূহ ভালোভাবে শুকিয়ে নিন ৩. যন্ত্রপাতিসমূহ রাসায়নিক দ্রবণে ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন ৪. ২০ মিনিট পর জীবাণুমুক্ত লিফটার দিয়ে যন্ত্রপাতিগুলো তুলে জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিন। ৫. যন্ত্রপাতিগুলো জীবাণুমুক্ত পাত্রে ভালোভাবে মুখ বন্ধ করে সংরক্ষণ করুন এবং পাত্রের গায়ে যন্ত্রসমূহের ব্যবহারের মেয়াদ লিখে রাখুন। যন্ত্রপাতিগুলো ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে। মোড়ানো (Wrapping): অটোক্লেভ পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্তকরণের পূর্বে যন্ত্রপাতিসমূহ আদর্শ মাপের Wrapper দিয়ে Wrapping করে নিতে হবে। শুধুমাত্র সঠিক Wrapping এর মাধ্যমে যন্ত্রপাতিসমূহ Sterilization পরবর্তী সময়ে ব্যবহার উপযোগী করা এবং জীবাণুমুক্ত রাখা যায়। যন্ত্রপাতিসমূহ অটোক্লেভ পদ্ধতিতে জীবাণুমুক্ত করার পূর্বে মসলিন বা সুতির কাপড় দিয়ে মোড়াতে হবে। ক্যানভাস জাতীয় কাপড় দিয়ে যন্ত্রপাতি মোড়ালে বাষ্প যন্ত্রপাতির গায়ে লাগে না সেজন্য মোড়ানো কাপড় নির্বাচনের পূর্বে সতর্ক হতে হবে। যন্ত্রপাতি মোড়ানো হলে প্রতিটি মোড়ানো কাপড়ের ভিতরে ও বাহিরে অটোটেপ লাগাতে হবে। অটোটেপ-এর উপর সেটের নাম, অটোক্লেভ করার সময় এবং তারিখ, মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ, যিনি করবেন তাঁর সই উল্লেখ করতে হবে। মোড়ানোর ধাপসমূহ (Double Wrapping): ধাপ ১: উপরে অবস্থিত কাগজের পাতাটির কেন্দ্রে উপকরণ বা যে কোন জিনিস স্থাপন করুন যেন মোড়কে রাখা জিনিসটির প্রান্তগুলি উপরে, নীচে এবং পাশে না থাকে কিন্তু কেন্দ্রে থাকে। ধাপ ২: শীর্ষ মোড়কের নীচের অংশটি কেন্দ্রে ভাঁজ করুন এবং কোণার অগ্রভাগ ব্যাক করে ভাঁজ করুন ধাপ ৩: কেন্দ্রের বাম অংশটি ভেতরে ভাঁজ করুন এবং কোণার অগ্রভাগ ব্যাক করে ভাঁজ করুন। ধাপ ৪: কেন্দ্রের ডান অংশে ভাঁজ করুন এবং কোণার অগ্রভাগ ব্যাক করে ভাঁজ করুন। ধাপ ৫: কেন্দ্রের শীর্ষ অংশটি ভাঁজ করুন এবং কোণার অগ্রভাগ ব্যাক করে ভাঁজ করুন। ধাপ ৬: নীচের মোড়কের কেন্দ্র বরাবর নিম্নাংশ ভাঁজ করুন কোণার অগ্রভাগ ব্যাক করে ভাঁজ করুন। ধাপ ৭: কেন্দ্রের বাম অংশটি ভেতরে ভাঁজ করুন এবং কোণার অগ্রভাগ ব্যাক করে ভাঁজ করুন। ধাপ ৮: কেন্দ্রে ডান অংশে ভাঁজ করুন এবং কোণার অগ্রভাগ ব্যাক করে ভাঁজ করুন। ধাপ ৯: উপরের মোড়কের অংশটি কেন্দ্রের দিকে ভাঁজ করুন এবং কোণার অগ্রভাগ আবার গুছিয়ে নিন। ধাপ ১০: বাম অংশের দিকে কোণার অগ্রভাগ ঢুকিয়ে দিন। ধাপ ১১: যদি পাওয়া যায় অটোক্লেভ টেপ ব্যবহার করে ভাঁজটি ভালভাবে বন্ধ করুন। সংরক্ষণ (Storage) অপারেশন কাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং অন্যান্য সামগ্রী ব্যবহার অথবা যথাযথ সংরক্ষণের পূর্বে জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization) অথবা উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ (HLD) করে নেয়া উচিত। ফলে সেগুলো সংক্রমিত হতে পারবে না। সকল পরিশ্রম (যন্ত্রপাতি পরিষ্কারকরণের ধাপসমূহ) বৃথা হবে যদি সংরক্ষণ ভালো মত করা না হয়। সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত নির্দেশনা নির্ভর করে জীবাণুমুক্তকরণ অথবা উচ্চমাত্রায় জীবাণুমুক্তকরণ করা হয়েছে কি না, কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, যন্ত্রপাতি মোড়ানো (Wrapped) এবং ভিতরের জিনিস শুকনো কি না তার উপর। জীবাণুমুক্তকরণ অথবা উচ্চমাত্রায় জীবাণুমুক্তকরণ করার পর যন্ত্রপাতি যেন সংক্রমিত হয়ে না যায় তার প্রতি খুবই সতর্ক হওয়া উচিত। মাঝারি তাপমাত্রা, নিম্ন আর্দ্রতাতে, কম লোকজন চলাফেরা করে এমন জায়গায় বন্ধ করা ক্যাবিনেটে আইটেমগুলো সংরক্ষণ করুন। মনে রাখতে হবে • যে উপায়েই জীবাণুমুক্তকরণ করা হোক না কেন, কোন যন্ত্রপাতিই (লিফটার, স্ক্যালপেল, ব্লেড, কাঁচি, সেলাইয়ের সূচ ইত্যাদি) কখনোই স্যাভলন বা কোনো অ্যান্টিসেপটিক ও ডিজইনফেকটেন্ট দ্রবণে ডুবিয়ে রাখা যাবে না। সব সময়ই সেগুলো শুকনো অবস্থায় সংরক্ষণ করতে হবে। অ্যান্টিসেপটিক ও ডিজইনফেকটেন্ট দ্রবণে জীবাণু বেঁচে থাকতে এবং সংক্রমণ ছড়াতে পারে। অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ মূলত তৈরি করা হয় জীবিত ত্বক ও মিউকাস মেমব্রেনের জীবাণু ধ্বংস করার জন্য। এটা জড় পদার্থের উপর কোন কাজ করে না • যদি কোন জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ধুলা, কীটপতঙ্গ অথবা কোনো সংক্রমিত বস্তু বা ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে অথবা খোলা অবস্থায় থাকে তবে সেটা সংক্রমিত হয় বা হবে। সংক্রমিত হওয়ার এই উচ্চ আশংকার জন্য জীবাণুমুক্ত বস্তুগুলো খুব দ্রুত ব্যবহার করা উচিত অথবা সঠিকভাবে সংরক্ষিত রাখা উচিত। জীবাণুমুক্তকরণ অথবা উচ্চমাত্রায় জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়াজাত পাত্র জীবাণুমুক্ত করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবহার করা যাবে। মোড়ানো যন্ত্রপাতি যদি খোলা না হয় তাহলে ৩দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। ১.৪ সূঁচালো/ধারালো জিনিস পত্রের সঠিক ব্যবস্থাপনা (Correct Handling of Sharps) পরিত্যক্ত/ব্যবহৃত সুঁচ ও সিরিঞ্জের পুনর্ব্যবহার এইচআইভি ও হেপাটাইটিস বি সহ অনেক মারাত্মক সংক্রামক রোগের একটি প্রধান কারণ। কাজেই সকল সেবা কেন্দ্রের পরিত্যক্ত ও ব্যবহৃত সুঁই ও সিরিঞ্জ ব্যবহারের পরপরই বিশেষভাবে সংরক্ষণ এবং পরবর্তীতে ধ্বংস করে আমরা এধরনের মারাত্মক রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি। "সূঁচালো/ধারালো" শব্দটির মাধ্যমে মেডিকেল যন্ত্রপাতির দ্বারা চামড়া কেটে যাওয়া বা ছিদ্র হওয়াকে বুঝানো হয়েছে। যেমন: • একবার ব্যবহারযোগ্য সূঁচ ও সিরিঞ্জ • ক্ষতস্থান সেলাই করার সূচ • অপারেশনের ব্লেড • গ্লাস সামগ্রী যেমন: ব্যবহৃত ভায়াল ধারালো/সূঁচালো আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত উৎস হতে সংক্রমণের হার হলো: এইচআইভি ০.৩%, হেপাটাইটিস সি ১.৮% এবং হেপাটাইটিস বি ৬-৩০% (যদি রোগী ভ্যাকসিনেশন গ্রহন না করে থাকেন) (CDC 2013) সূঁচালো। ধারালো জিনিসপত্রের সঠিক ব্যবস্থাপনা • ইনজেকশন দেওয়ার সময় রোগীকে নড়াচড়া করতে নিষেধ করতে হবে যাতে সূঁচের কোন আঘাত না লাগে। • ধারালো/সূঁচালো জিনিসপত্র একজনের কাছ থেকে অন্যজনকে হস্তান্তর করার সময় Hand Free পদ্ধতি অনুসরণ করুন। যেমন:- প্রথম ব্যক্তি কোন ট্রেতে যন্ত্রপাতি রেখে দ্বিতীয় ব্যক্তিকে এগুলো তুলে নিতে বলবেন। • সিরিঞ্জ ফেলে দেওয়ার পূর্বে একই সূঁচ পুনরায় ব্যবহার করা, সূচ বাকানো, ভাঙ্গা বা সিরিঞ্জ থেকে খুলে ফেলা থেকে বিরত থাকুন। • ধারালো/সূঁচালো জিনিসপত্র ব্যবহারের পরে দ্রুত একটি প্লাস্টিক কন্টেইনারে ফেলুন। কন্টেইনারটি সূঁচ দ্বারা ছিদ্র হবে না এমন মানের হতে হবে। ধারালো/সূঁচালো কন্টেইনারগুলো অবশ্যই: • প্রতিটি কক্ষে থাকবে যেখানে ধারালো/সূঁচালো যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় • ছিদ্র হবে না এরকম প্লাস্টিক বা কার্ডবোর্ড দ্বারা তৈরি হতে হবে • সম্পূর্ণভাবে লেবেল করা থাকবে • চারভাগের তিন ভাগ পূর্ণ হয়ে গেলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা স্থানীয় সরকার নীতি অনুযায়ী নিষ্কাশন করতে হবে • একবারই ব্যবহার করা যাবে (পুনরায় ব্যবহার করা যাবে না) • ধরা এবং ফেলে দেওয়ার সময় অবশ্যই ইউটিলিটি গ্লাভস ব্যবহার করতে হবে ধারালো/সূঁচালো জিনিসের কারণে আঘাতগুলো মোকাবেলা করা • ধারালো/সূঁচালো জিনিস দিয়ে সকল কর্মীর আহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এই আঘাতগুলো সংঘটিত হয় যখন কর্মী/সেবাদানকারী দূর্ঘটনাবশত রোগীর রক্ত বা ফ্লুইড মিশ্রিত সূচের খোঁচা খায় অথবা ধারালো সরঞ্জামের দ্বারা কেটে যায়। ইনজেকশন দেওয়ার সময়, রক্ত নেওয়ার সময়, চামড়া সেলাই করার সময় এবং স্বাস্থ্য কর্মীরা নিজেদের মধ্যে সূচ ও সিরিঞ্জ হস্তান্তর করার সময় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। • যদি ধারালো সরঞ্জাম এবং সূচ ও সিরিঞ্জ লিনেনের মধ্যে ফেলে রাখা হয় তাহলেও আহত হতে পারে। • যে কর্মীরা লিনেন নাড়াচাড়া করেন, যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাত করেন এবং মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন তাদের অবশ্যই জানতে হবে কিভাবে এই রক্ত ও দেহরসের সংস্পর্শ জনিত দুর্ঘটনা থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হবে এবং দুর্ঘটনায় কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। দূর্ঘটনা পরবর্তী পদক্ষেপ • আঘাতপ্রাপ্ত স্থান ভালোভাবে সাবান এবং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। • যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানান যেমন: কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক • আঘাতের ধরন এবং এর সাথে সম্পৃক্ত সংক্রমণের ঝুঁকি মূল্যায়ন করুন • অবস্থার মূল্যায়নের উপর ভিত্তি করে দুর্ঘটনা পরবর্তী প্রতিষেধকমূলক চিকিৎসা (PEP) হিসেবে বিবেচনায় স্বল্পমেয়াদি antiretroviral চিকিৎসা দেয়ার কথা বিবেচনা করুন ভাইরাস Post-Exposure Prophylaxis (PEP) হেপাটাইটিস বি ভাইরাস • হেপাটাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা মূল্যায়নের পরে HBIG সহ PEP এবং/অথবা হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন দিতে হবে • যিনি হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছেন তার anti-HBs ফলো-আপ টেস্ট করতে হবে • শেষ ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণের ১-৪ মাস পরে anti HBs টেস্ট করতে হবে • PEP সুপারিশ করা হয় না। হেপাটাইটিস সি ভাইরাস • হেপাটাইটিস সি এর বর্তমান অবস্থা জানতে হবে এবং সম্ভব হলে ৪-৬ মাস পরে HCV ফলো-আপ টেস্ট করতে হবে • Perform HCV RNA at 4-6 weeks if earlier diagnosis of HCV desired or if source known to be HCV positive এইচআইভি • যদি প্রয়োজন মনে হয় তাহলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে PEP শুরু করতে হবে • মহিলা গর্ভবতী কি না, তা জানার জন্য সকল মহিলাকে প্রেগনেন্সি টেস্ট করার পরামর্শ দিতে হবে • ৪ সপ্তাহের জন্য PEP শুরু করুন • ফলো-আপ টেস্ট করতে হবে এবং কাউন্সেলিং প্রদান করতে হবে • ফলো-আপের সময় যেকোন অসুস্থ্যতার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলুন • দূর্ঘটনা পরবর্তী ৬মাস এইচআইভি এন্টিবডি টেস্ট করার পরামর্শ দিতে হবে (বেসলাইন, ৬সপ্তাহ, ৩ মাস, ৬ মাস) • এইচআইভি টেস্ট করতে হবে যদি অন্য কোন অসুস্থতা এন্টি-রেট্রোভাইরাল সিন্ড্রোমের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় • ফলো-আপের সময় সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য আক্রান্ত ব্যক্তিকে পূর্বসতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিন • PEP গ্রহণের ৭২ ঘন্টার মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা মূল্যায়ন করুন এবং পরবর্তী ২ সপ্তাহ ঔষধের toxicity পর্যবেক্ষণ করুন Eligibility for HIV PEP Type of Exposure HIV Status Source Unknown HIV Status Positive সূচের মাধ্যমে যেকোন আঘাত PEP দিতে হবে PEP দিতে হবে রক্ত মিশ্রিত ব্লেড দ্বারা যেকোন কাটা ছেঁড়া PEP দিতে হবে PEP দিতে হবে দূষিত রক্তমিশ্রিত কোন ধাতব পদার্থের মাধ্যমে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হলে PEP দিতে হবে PEP দিতে হবে একটু বেশি পরিমাণ রক্ত বা Splashes, মিউকাস মেমব্রেন বা ক্ষতযুক্ত চামড়ার সংস্পর্শে এলে PEP দিতে হবে PEP দিতে হবে ধর্ষণ PEP দিতে হবে PEP দিতে হবে Type of Exposure HIV Status Source Unknown HIV Status Positive হালকা আঁচড়ের PEP দিতে হবে না PEP দিতে হবে না ক্ষতিগ্রস্ত চামড়ায় রক্ত লাগলে PEP দিতে হবে না PEP দিতে হবে না রক্তমিশ্রিত ছাড়া অন্যান্য বডি ফ্লুইডের সংস্পর্শে আসলে PEP দিতে হবে না PEP দিতে হবে না ১.৫ শ্বাসতন্ত্রের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা (Respiratory Hygiene) • বায়ুবাহিত অথবা লালা ও শ্লেষ্মিক ঝিল্লিতে বিদ্যমান জীবাণুসমূহ সাধারণত হাঁচি কাশির মাধ্যমে ছড়ায়/বিস্তার লাভ করে। • সেবাপ্রদানকারী এবং সেবাগ্রহীতা উভয়কেই এই ধরণের সংক্রমণ প্রতিরোধে নিম্নোক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। • হাঁচি অথবা কাশি দেয়ার সময় নাক এবং মুখ টিস্যু দিয়ে অথবা বাহুর বাঁক দিয়ে ঢেকে নিতে হবে। • ব্যবহৃত টিস্যু সাধারণ বর্জ্য ফেলার পাত্রে ফেলতে হবে। • এরপর অ্যালকোহল রাব/সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। • সেবাদানকারী এবং রোগীদের কারো সর্দির লক্ষণ থাকলে তাদেরকে মাস্ক ব্যবহার করতে উৎসাহিত করতে হবে। ১.৬ লিনেনের নিরাপদ ব্যবহার (Safe Handling of Linen) লিনেন প্রক্রিয়াজাতকরণ • ময়লা লিনেন যত কম সম্ভব নাড়াচাড়া করতে হবে এবং ছিদ্রমুক্ত কন্টেইনারে ফেলতে হবে • ব্যবহৃত লিনেন ব্যবহার, পরিবহন ও প্রস্তুতের সময় গ্লাভস ও অন্যান্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে হবে লিনেন ধোয়া • সূচালো/ধারালো সরঞ্জাম অথবা বর্জ্য নেই এমন লিনেনগুলো আলাদা করতে হবে। • ডিটারজেন্ট এবং গরম পানি ব্যবহার করুন, সম্ভব হলে পরিষ্কার পানিতে কেচে নিতে হবে • সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য মেশিন দিয়ে ধোয়া যেতে পারে • হাত দিয়ে ধোয়ার ক্ষেত্রে বড় হাতা যুক্ত গ্লাভস, এ্যাপ্রন এবং মুখ/চোখের সুরক্ষা শিল্ড পড়তে হবে লিনেন জীবাণুমুক্তকরণ • জীবাণুমুক্তকরণের জন্য লিনেন মোড়ানোর সময় প্যাকের সাইজ ৩০ X ৩০ x ৫০ সে.মি. এর বেশি করা যাবে না • বাষ্প প্রবেশ করতে পারে এমন ভাবে পাশাপাশি লিনেনের প্যাকগুলো রাখতে হবে • গাউনগুলো জীবাণুমুক্ত করার সময় এমনভাবে ভাজ করতে হবে যাতে ভিতরের দিক বাইরে থাকে এবং যাতে করে গাউন পরার সময় বাইরের দিকে কোন স্পর্শ না লাগে ডিসপোজেবল গাউন • আউটরিচ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত রোগী এবং অপারেশনের চাপের কারণে যখন গাউন জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব না হয় তখন সার্জন এই ডিসপোজেবল গাউনগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। • ডিসপোজেবল জীবাণুমুক্ত গাউনগুলো একবারই ব্যবহার করা যাবে এবং এগুলো পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করা যাবে না ১.৭ পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা (Environmental Cleaning) সাধারণ নির্দেশিকা • সংক্রমণের ঝুঁকি অনুযায়ী এলাকা চিহ্নিত করে পরিষ্কার করা (নিম্ন এবং উচ্চ ঝুঁকি) এবং এলাকা অনুযায়ী পরিষ্কার করার রুটিন পরিবর্তন করা। নিম্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কম ঘন ঘন পরিষ্কার প্রয়োজন হতে পারে • ধুলা হলে, একটি ভিজাকাপড় ব্যবহার করে তা পরিষ্কার করুন যাতে ধুলা বাতাসে না উড়ে যায় • সবসময় উপর থেকে নীচ পর্যন্ত পরিষ্কার করুন, সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পয়েন্ট পর্যন্ত পরিষ্কার করুন এবং পরিশেষে মেঝে পরিষ্কার করে শেষ করুন। • সর্বদা ইউটিলিটি গ্লাভস পরিধান করুন • ছিটে পড়া রক্ত, ময়লা, তরল ফোঁটা অবিলম্বে সংক্রমণমুক্ত করুন এবং পরিষ্কার করুন • যন্ত্র প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং হাউজকিপিংয়ের কাজে একই দ্রবণ বা মিশ্রণ ব্যবহার করবেন না। হাউজকিপিংয়ের জন্য একটি পৃথক মিশ্রণ তৈরি করুন এবং এটি একটি স্প্রে বোতলে রাখুন। • পরিষ্কারকারী দ্রবণ ঘনঘন পরিবর্তন করুন বিশেষত: যখন দ্রবণ নোংরা দেখা যাবে • ঘর মোছার মপ এবং ব্রাশ পরিষ্কার এবং সংক্রমণমুক্ত করুন • কোথায়, কিভাবে ও কখন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করতে হবে (পরিষ্কার করা সময়সূচিসহ) এবং কীভাবে পরিষ্কার করা উচিত তা স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করুন ক্লিনিং দ্রবণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৩ ধরনের ক্লিনিং দ্রবণ ব্যবহৃত হয়: ১. সাধারণ ডিটারজেন্ট ও পানি ২. ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ৩. ডিজাইনফেক্টেন্ট ক্লিনিং দ্রবণ ১. ডিটারজেন্ট ও পানি এ দ্রবণ সাধারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহৃত হয়। ডিটারজেন্ট সাধারণ ময়লা দূর করে এবং তেল ও গ্রীজযুক্ত ময়লা সহজে পরিষ্কার করে। ২.০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ কক্ষের আসবাবপত্র মোছার কাজে এবং হাউজ কিপিং এ ব্যবহার করা হয়। ৩. ডিজইনফেক্টেন্ট ক্লিনিং দ্রবণ ডিজইনফেক্টেন্ট-ক্লিনিং দ্রবণ তৈরির ধাপসমূহ • প্রথম ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ তৈরি করতে হবে। • ক্লোরিন দ্রবণে ডিটারজেন্ট নাড়তে হবে যতক্ষণ এটি ফেনাযুক্ত না হয়। ডিজইনফেক্টেন্ট ক্লিনিং দ্রবণে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ও ডিটারজেন্ট থাকবে ডিজাইনফেক্টেন্ট দ্রুত জীবাণু ধ্বংস করে বা কমায়। ডিটারজেন্ট তৈলাক্ত জিনিসকে গলিয়ে, ভেঙ্গে সহজে পরিষ্কার করার উপযুক্ত করে তোলে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং উপকরণ • লম্বা হাতার ইউটিলিটি গ্লাভস ব্যবহার করুন • ব্যবহারের পরে বালতি সংক্রমণমুক্তকরণ করতে হবে • মোছার জন্য ভিন্ন ভিন্ন মপ রাখতে হবে: উচ্চ ঝুঁকি, কম ঝুঁকি এবং টয়লেট এলাকায় জন্য, পৃথক রঙের মপ রাখুন তাহলে সহজে শনাক্তকরণ সম্ভব হবে • টয়লেটের জন্য টয়লেট ঘষা ব্রাশ রাখতে হবে • সেঁতসেঁতে ধুলো পরিষ্কারের জন্য কাপড় সরবরাহ করুন যা ব্যবহারের পরে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হবে • সাবানের গুড়ো/ক্লিনিং দ্রবণ/ডিজাইনফেক্টেন্ট দ্রবণ (যেমন ক্লোরিন ইত্যাদি) মজুত থাকতে হবে। রক্ত বা পুঁজ বা দুষিত তরলের ফোটা • ছিটিয়ে পরা ময়লা পরে পরিষ্কারের জন্য কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা যাবে না, অবিলম্বে তা পরিষ্কার করতে হবে। • ছোট ফোঁটা: ইউটিলিটি গ্লাভস পরে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণে ভিজানো কাপড় দিয়ে মুছতে হবে। • বড় ফোঁটা: ইউটিলিটি গ্লাভস পরে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ব্যবহার করে মপ দিয়ে মুছুন, তারপর জায়গাটি ডিজইনফেক্টেন্ট-ক্লিনিং দ্রবণ দিয়ে পরিষ্কার ও শুকনা করুন। নিম্নঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ: রোগীদের অপেক্ষা কক্ষ, প্রশাসন এলাকা • ডিটারজেন্ট এবং পানির মিশ্রণ দিয়ে পরিষ্কার করুন • দৈনিক ও যখনই নোংরা মনে হবে তখনই পরিষ্কার করুন। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হলো- চিকিৎসা প্রদানের কক্ষ, রিকোভারি কক্ষ, অপারেশন পরবর্তী কক্ষ, যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা, রোগীর পরীক্ষা শয্যা, উপকরণ ট্রলি এবং টয়লেট অন্তর্ভুক্ত • ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ দিয়ে রক্ত বা শরীর থেকে পড়া তরল দ্বারা দৃশ্যত দূষিত জায়গাটি পরিষ্কার করুন • কোন কিছু দিয়ে ধুলিকণা মুছে শুকিয়ে ফেলবেন না বা পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না; কারণ এভাবে ধুলো এবং ক্ষুদ্র জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে • রোগীর পরীক্ষা শয্যা ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ব্যবহার করে পরিষ্কার করবেন এবং মিশ্রণটি প্রতিদিন পাল্টাতে হবে • যন্ত্রের ট্রলিগুলি ও রোগীর ট্রলি পরিষ্কার করার জন্য ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ব্যবহার করুন যা প্রতিদিনই পরিবর্তন করতে হবে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার জন্য প্রস্তাবিত পরিষ্কারকরণের সময়সূচি সময়সূচি এলাকা উপকরণ প্রতিদিন সকালে -টেবিল, কাউন্টার -মেঝে -ধুলো মুছে ফেলার জন্য ভিজা কাপড় -ধুলো অপসারণের জন্য ভিজা মপ ব্যবহার করুন দৈনিক এবং যখনই নোংরা দেখা যাবে টয়লেট সিঙ্ক মেঝে দেয়াল বর্জ্য রাখার পাত্রসমূহ -টয়লেট ব্রাশ ও ডিজইনফেক্টেন্ট-ক্লিনিং দ্রবণ; ময়লা ঘষার জন্য টয়লেট ব্রাশ - সংক্রমণমুক্তকরণ তরল যুক্ত হালকা ভেজা কাপড় - সাবান পানি দ্বারা হালকা ভেজানো মপ -সাবান পানি দ্বারা হালকা ভেজা কাপড় -সংক্রমণরোধক দ্রবণ দ্বারা হালকা ভেজানো কাপড় দিন শেষে প্রতিদিন -সমস্ত পৃষ্ঠ উপর থেকে নীচে, সিঙ্ক এবং দেয়াল মুছুন -মেঝে পরিষ্কার করুন -শার্প কন্টেনারগুলি ধ্বংস করুন -ক্লিনিক্যাল বর্জ্য অপসারণ -বর্জ্য পাত্র ধুয়ে রাখুন ডিজইনফেক্টেন্ট মিশ্রণে হালকা ভেজা কাপড় -সাবান পানিতে হালকা ভেজানো মপ -তিন-চতুর্থাংশ পূর্ণ হলে শার্প কন্টেইনারগুলি পুড়িয়ে ফেলুন -সংক্রমণরোধী দ্রবণ দ্বারা ধুয়ে পাত্রটি বার বার বেশি পানি দিয়ে ধুয়ে নিন একটি রোগী চিকিৎসার পর পরই অন্য রোগী আসার আগে চিকিৎসা টেবিল সরঞ্জাম এবং আগের রোগীর শয্যা -০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ দ্বারা হালকা ভেজানো কাপড় -০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ দ্বারা হালকা ভেজানো কাপড় সাপ্তাহিক -কক্ষের ছাদ -চিকিৎসা কক্ষের আলমারি সাবান পানি দ্বারা হালকা ভেজানো মপ পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতার জন্য কাপড়ের মপ- কমপক্ষে ৪টি এবং তা হলো- ক্লিনিকের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহৃত মপে বিভিন্ন রং ব্যবহার করার নির্দেশনা: লাল রং-এর মপ (সংখ্যা-১) ১. অপারেশন থিয়েটার ২. প্রসিডিওর রুম ৩. লেবার রুম ৪. পোস্ট অপারেটিভ রুম নীল রং-এর মপ (সংখ্যা-১) ১. সার্ভিস প্রোভাইডার রুম ২. প্যাথলজি ৩. সুইস এরিয়া (Sluice Area) ৪. রিকভারি রুম, ওয়ার্ড, কেবিন সবুজ রং-এর মপ (সংখ্যা-১) ১. ম্যানেজার রুম ২. কাউন্সেলর রুম ৩. ওয়েটিং এরিয়া হলুদ রং-এর মপ (সংখ্যা-১) ১. টয়লেট এরিয়া ১.৮ ক্লিনিক বর্জ্যের নিরাপদ অপসারণ (Safe Disposal of Clinic Waste) সংক্রমণমুক্তকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ক্লিনিক বর্জ্যের নিরাপদ অপসারণ। কারণ, ক্লিনিক বর্জ্য থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত ক্লিনিক বর্জ্য দুইভাবে অপসারণ করা যায় মাটিতে পুঁতে অথবা পুড়িয়ে ফেলে কেন ক্লিনিক বর্জ্যের নিরাপদ অপসারণ করবেন? • ক্লিনিকে আগত গ্রহীতা / রোগী, ক্লিনিক কর্মী এবং ক্লিনিক এলাকার শিশুসহ জনগণ রোগ জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন • অপ্রয়োজনীয় বর্জ্য থেকে সৃষ্ট যে কোন দুর্ঘটনার সম্ভাবনা দূরীভূত হতে কিংবা হ্রাস পেতে পারে কখন ক্লিনিক বর্জ্যের নিরাপদ অপসারণ করবেন? • প্রতিদিনই কাজ শুরু ও শেষ করার পর নিয়মিতভাবে করতে হবে • এরপরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে জমানো বর্জ্যসমূহ সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ধ্বংস করতে হবে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উৎপন্ন মেডিকেল বর্জ্যের প্রকারভেদ / শ্রেণিবিভাগ একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে উৎপন্ন বর্জ্যের ধরন নির্ভর করে সেবা কেন্দ্রের বিভিন্ন ইউনিট, রোগের ধরন, চিকিৎসা ব্যবস্থা, রোগীর আচরণ বা অভ্যাস, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, ইত্যাদির উপর। মেডিক্যাল বর্জ্যের বিজ্ঞানসম্মত সংগ্রহ, অভ্যন্তরীণ সংরক্ষণ, পরিবহন ও চূড়ান্ত ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করেই শ্রেণিবিভাগ করা হয়ে থাকে। এই শ্রেণিবিভাগ অন্যান্য পারিপার্শ্বিক বিষয়াবলি; যেমন- দেশের আর্থিক অবস্থা, সহজলভ্য ও উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত দক্ষ জনশক্তির উপরও নির্ভর করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শ্রেণিবিভাগ ও নীতিমালা অনুসরণে মেডিকেল বর্জ্যের প্রকৃতি ও সংজ্ঞার বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ণ রেখে বাংলাদেশের জন্য মেডিকেল বর্জ্যের শ্রেণিবিভাগকে নিম্নের ফ্লোচার্ট অনুসারে পুনর্বিন্যস্ত করা হয়েছে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ফলপ্রসূ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র কর্তৃক পালনীয় ধাপসমূহ নিম্নরূপ: ১. বর্জ্য হ্রাসকরণ (Waste Minimization) ২. বর্জ্য চিহ্নিতকরণ (Waste Identification) ৩. বর্জ্য পৃথকীকরণ (Waste Segregation) ৪. বর্জ্য সংগ্রহকরণ ও সংরক্ষণ (Waste Collection & Storage) ৫. বর্জ্য পরিবহন (Waste Transportation) ৬. বর্জ্য পরিশোধন / অপসারণ (Waste Treatment / Disposal) ৭. ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রদান (Personal safety) ৮. নথি সংরক্ষণ (Record keeping) ৯. প্রশিক্ষণ (Training) এবং তত্ত্বাবধান (Supervision) বর্জ্য হ্রাসকরণ বর্জ্য হ্রাসকরণ বলতে সাধারণত বর্জ্যের উৎপাদনের পরিমাণ কমিয়ে রাখা বুঝায়। বর্জ্য হ্রাসকরণ বর্জ্যের পরিবহনের পরিমাণ, বর্জ্য পরিশোধন, বর্জ্য অপসারণ, দায়িত্ব সর্বোপরি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার খরচ কমায়। বর্জ্য চিহ্নিতকরণ ও পৃথকীকরণ বর্জ্য শনাক্তকরণ ও পৃথকীকরণের উপর নির্ভর করে সঠিকভাবে মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। বর্জ্য পৃথকীকরণ করা না হলে তা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরবর্তী ধাপে পরিশোধন পদ্ধতি, অপসারণ ব্যয় বরাদ্দ ও সংশ্লিষ্ট মানবসম্পদের অন্তর্ভুক্তির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মেডিক্যাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় রং বিন্যাস (Color Coding) বর্জ্য শনাক্তকরণের সহজ পদ্ধতিই হলো বর্জ্য উৎপত্তির পরপরই বর্জ্য উৎপাদনকারী কর্তৃক ভিন্ন ভিন্ন রঙের পাত্রে বর্জ্য পৃথকভাবে সংরক্ষণ করা। চিহ্নিত বর্জ্য ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট রং এর পাত্রে রাখুন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বর্জ্য সংগ্রহকরণ • "কালার কোড" অনুযায়ী বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে • বর্জ্য রাখার বিন সকল সময় ঢেকে রাখতে হবে • বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ব্যাগ ব্যবহার করা হলে, ব্যাগের চার ভাগের তিন ভাগ ভরা হলেই ব্যাগের গলা ভালভাবে বাঁধতে হবে • ব্যাগটি গলার গিটের উপর ধরতে হবে। কখনই বর্জ্যের ব্যাগ ছুঁড়ে ফেলা বা মাটিতে ছেঁচড়ানো অথবা ব্যাগের তলায় ধরা যাবে না • বর্জ্য সংগ্রহের বিন/ব্যাগ-নষ্ট/চিদ্র হলে, সেটাতে বর্জ্য সংগ্রহ না করা • বর্জ্য অপসারণের পর পাত্রটি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে • যদি কোন কারণে ক্ষতিকারক বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে, সাথে সাথে ক্ষতিকারক বর্জ্য নতুন পাত্রে সংগ্রহ করতে হবে। বর্জ্য উপচিয়ে পড়ার জায়গা- (ক) বর্জ্য কম হলে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণে কাপড় ভিজিয়ে মুছে ফেলুন। (খ) পরিমাণে বেশি হলে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ দিয়ে কিছু সময় ঢেকে রেখে, কাপড় দিয়ে মুছে তারপর ডিজইনফেক্টেন্ট দ্রবণ দিয়ে আবার মুছতে হবে • সেবাকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে অথবা দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্যের উৎপত্তিস্থলে রক্ষিত পাত্র হতে বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের মেডিক্যাল বর্জ্য সংরক্ষণ ক্ষতিকারক বর্জ্য অনির্ধারিত জায়গায় জমা করা এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি সংরক্ষণ করা যাবে না। যদি উক্ত সময়ের বেশি সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় তাহলে নিশ্চিত করতে হবে যাতে উক্ত বর্জ্য মানুষ অথবা পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে। সংরক্ষণের জন্য আরও যা অনুসরণ করতে হবে- • বর্জ্য লেবেলিং ছাড়া অথবা খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ করা যাবে না • সাধারণ ও পুনর্ব্যবহার্য্য বর্জ্য অবশ্যই ক্ষতিকারক বর্জ্য হতে আলাদা জায়গায় রাখতে হবে • বর্জ্য সংরক্ষণের জায়গার সাথে ভিতরের ও বাইরের বর্জ্য পরিবহনের সংযোগ রাখতে হবে মনে রাখতে হবে • পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্যের পরিমাণ অল্প হলে, সাধারণ বর্জ্যের সাথে কালো পাত্রে রাখা যেতে পারে • ওষুধ জাতীয় বর্জ্য অল্প পরিমাণ হলে ক্ষতিকারক বর্জ্য রাখার হলুদ পাত্রে রাখা যেতে পারে এবং বেশি হলে প্রস্তুতকারী/সরবরাহকারীর নিকট ফেরত পাঠাতে হবে • তরল ওষুধ জাতীয় বর্জ্য অল্প পরিমাণ হলে তা নীল রঙের পাত্রে রাখা যেতে পারে • বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক বর্জ্য এক সাথে এক পাত্রে রাখা যাবে না। কারণ রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে • প্রতিটি বর্জ্য রাখার পাত্রে স্পষ্ট বাংলা ভাষায় রং ভেদে বর্জ্যের ধরন লিখতে হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত সাংকেতিক চিহ্ন/লেবেল ব্যবহার করতে হবে • সংক্রামক বর্জ্য উৎপত্তিস্থলেই জীবাণুমুক্ত করতে হবে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকেন্দ্রে উৎপন্ন মেডিকেল বর্জ্যের প্রকারভেদ পরিবার পরিকল্পনা সেবাকেন্দ্রের বর্জ্যসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় ১. বর্জ্য, যা ভস্মীভূত করা যায় ২. বর্জ্য, যা ভস্মীভূত করা যায় না ব্যবহারিক অর্থে পরিবার পরিকল্পনা সেবাকেন্দ্রের বর্জ্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় ১. তরল (রক্ত, মল, মূত্র ও অন্যান্য জৈব রস) ২. কঠিন বা শক্ত / অন্যান্য (যেমন-ব্যবহৃত ড্রেসিং এবং রক্ত ও জৈব পদার্থমাখা সামগ্রী) ৩. সিরিঞ্জ বা গ্লাভস্ত্রে মোড়ক, বোতল, প্লাস্টিকের পাত্র, কার্টুন ইত্যাদি পরিবার পরিকল্পনা সেবাকেন্দ্রের বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ইনসিনারেটর, গামলা, শাবল, কোদাল, ইউটিলিটি গ্লাভস্, ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ, ঢাকনাযুক্ত বর্জ্য ফেলার বালতি/পাত্র, ডিটারজেন্ট পাউডার, শক্ত জুতা (গামবুট)। ১. তরল বর্জ্য অপসারণ রক্ত, মল-মূত্র ইত্যাদি একটি প্লাস্টিকের বালতিতে সংরক্ষণ করে ল্যাট্রিন/টয়লেটে ফেলে পর্যাপ্ত পানি ঢেলে দিন। বর্জ্য সংরক্ষণের বালতি/পাত্রটি পরে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণে বিশোধিত করে নিন অর্থাৎ ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ দিয়ে ধুয়ে বা মুছে নিলেও চলবে। ২. কঠিন বর্জ্য অপসারণ: • ব্যবহৃত ড্রেসিং, গজ, তুলা ইত্যাদি একটি ঢাকনাযুক্ত নীল রঙের প্লাস্টিকের বালতিতে সংরক্ষণ করুন • দিন শেষে বর্জ্যসমূহ ইনসিনারেটরে পুড়িয়ে ফেলুন। বা পরে গর্ত করে পুতে ফেলুন। বর্জ্য সংরক্ষণের পাত্রটি বর্জ্য অপসারণের পর ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণে বিশোধিত করে নিন। • ব্যবহার শেষে অব্যবহৃত ক্লোরিন/স্যাভলন দ্রবণ খোলা ড্রেনে অথবা মাটিতে গর্ত করে ফেলবেন। বন্ধ সেফটি ট্যাংকে ফেলবেন না, ফেললে তা ক্ষতিকর গ্যাস সৃষ্টি করে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। ৩. সিরিঞ্জ বা গ্লাভসের মোড়ক, বোতল, প্লাস্টিকের পাত্র, কার্টুন ইত্যাদি এসব বর্জ্য দূষিত নয় বলে পৌরসভার ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যায়। মাটি চাপা দিয়ে বর্জ্য অপসারণ পদ্ধতি • মাটি চাপা দেয়ার জন্য স্থান নির্ধারণ করুন। • পানি দূষণ রোধে পানির উৎস থেকে ৫০ মিটার দূরে একটা স্থান নির্বাচন করুন • জায়গাটিতে ভালো নিষ্কাশন ব্যবস্থা থাকতে হবে, যা কুয়া থেকে নিম্নমুখী ও যেখানে পানি জমে থাকে না • নিশ্চিত হতে হবে যে, মাটি চাপা দেয়া জায়গাটিতে বন্যা হয় না ২. ১ হাত (১.৫ ফুট) লম্বা, ১ হাত (১.৫ ফুট) প্রন্থ এবং ২ হাত (৩ ফুট) গভীর একটা গর্ত তৈরি করুন। গর্তটি ক্লিনিকের পিছনে বা যে কোন সুবিধাজনক স্থানে হতে পারে। গর্তের নিচের অংশ পানির স্তর থেকে কমপক্ষে ৬ ফুট উপরে হতে হবে (বর্জ্য অপসারণের পদ্ধতি হিসেবে মাটি চাপা দেয়ার স্থান ভাল হবে, যেখানে পানির স্তর মাটির উপরিভাগ থেকে কমপক্ষে ১২ ফুট নিচে) • বর্জ্য গর্তে রাখার পর ভালভাবে মাটি চাপা দিন। যদি একই গর্ত বারবার ব্যবহার করা হয় তবে প্রতিবার ১৫-৩০ সেন্টিমিটার মাটি চাপা দিন। শেষবার ২৩ সেন্টিমিটার মাটি চাপা দিন • জায়গাটিকে জীবজন্তু ও শিশুদের থেকে দূরে রাখার জন্য ভালোভাবে বেড়া দিয়ে রাখুন পুড়িয়ে বা ভস্মীভূত করে বর্জ্য অপসারণ পদ্ধতি প্রতিদিন ক্লিনিকের বর্জ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে বর্জ্য পোড়ানোর পর উৎপন্ন ছাইয়ের যথাযথ অপসারণ নিশ্চিত করা পর্যন্ত ব্যবহারকারীকে সতর্ক থাকতে হবে। ইনসিনারেটর ব্যবহার করে বর্জ্য অপসারণ পদ্ধতি ইনসিনারেটর ব্যবহার করে বর্জ্য অপসারণ একটি নিরাপদ বর্জ্য অপসারণ পদ্ধতি। এ ক্ষেত্রে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করতে হবে • দিন শেষে আয়া/ ক্লিনার ইউটিলিটি গ্লাভস পরে ওটি, ডাক্তার, ল্যাবরেটরি এবং প্যারামেডিকের রুমে অবস্থিত বর্জ্য ফেলার পাত্র হতে বর্জ্যগুলি নির্দিষ্ট পাত্রে সংগ্রহ করবেন (যেমন: ব্যবহৃত তুলা, গজ, সিরিঞ্জ, সিরিঞ্জের কভার ইত্যাদি) • স্যাটেলাইট ক্লিনিক থেকে নিয়ে আসা অনুরূপ বর্জ্যগুলি একই নিয়মে সংগ্রহ করতে হবে • অতঃপর বর্জ্যগুলি পোড়ানোর উদ্দেশ্যে পাত্রসহ ইনসিনারেটরের কাছে আনতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন যে, ইনসিনারেটরটি পূর্বেই একটি সুবিধাজনক স্থানে রাখতে হবে। • যে সমস্ত বর্জ্য পোড়াতে হবে সেগুলোকে ইনসিনারেটরের ভিতরে অবস্থিত লোহার জালের উপর রাখতে হবে, অতঃপর বর্জ্যগুলোতে অগ্নিসংযোগ করতে হবে। বর্জ্যগুলো ভিজা থাকলে সামান্য কেরোসিন ঢেলে আগুন জ্বালাতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, পোড়ানোর সময় যেন উপরের ঢাকনা ও নিচে অবস্থিত ছাই অপসারণ পথের ঢাকনাটি বন্ধ থাকে • পোড়ানোর পর নিচের ঢাকনাটি খুলে একটা লম্বা শাবল বা হাতল দিয়ে ছাইসহ ধ্বংসকৃত বর্জ্যগুলো বের করে আনতে হবে। অতঃপর সেগুলোকে নিকটবর্তী নির্দিষ্ট কোন স্থানে মাটি চাপা দিতে হবে অথবা মিউনিসিপ্যালিটির ডাস্টবিনে ফেলতে হবে • বর্জ্য ধ্বংস শেষে ইউটিলিটি গ্লাভসহ হাত ধুয়ে নিতে হবে। অতঃপর ইউটিলিটি গ্লাভস্ খুলে পুনরায় হাত সাবান দিয়ে ধুতে হবে এবং ইউটিলিটি গ্লাভস্টি যথাস্থানে শুকাতে দিতে হবে • সবশেষে বর্জ্য অপসারণের পাত্র ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ দিয়ে বিশোধিত করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে মনে রাখতে হবে • বর্জ্য অপসারণ ও সংরক্ষণের পাত্র হিসাবে প্লাস্টিকের ঢাকনাযুক্ত পাত্র অথবা প্লাস্টিকের বালতি ব্যবহার করতে হবে। বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য সাধারণত আমরা নীল রঙের বালতি ব্যবহার করে থাকি • বর্জ্য অপসারণের বালতি/পাত্র নিরাপদ এবং নির্দিষ্ট একটি স্থানে রাখতে হবে • যে সমস্ত সামগ্রী বর্জ্য পরিবহন বা সংরক্ষণের সময় ব্যবহৃত হয় সে সব সামগ্রী পরীক্ষাগারের অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যায় না • বর্জ্য অপসারণের পর প্রতিবার বর্জ্য সংরক্ষণের পাত্র ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ দিয়ে বিশোধিত করে পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে • সম্ভব হলে দাহ্য ও অদাহ্য বর্জ্যসমূহ পৃথক বালতি বা পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে। • বর্জ্য অপসারণের পর ইউটিলিটি গ্লাভস্ খুলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে অপারেশন স্থানের সংক্রমণ প্রতিরোধ (Preventing Surgical Site Infection) ক্লায়েন্ট এবং পরিবেশগত যেসব বৈশিষ্ট্যের কারণে অপারেশন স্থান/সাইট সংক্রমিত হতে পারে তা নিম্নোক্ত টেবিলে উল্লেখ করা হয়েছে: ক্লায়েন্ট ফ্যাক্টরগুলো ছাড়াও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে যে বিষয়গুলো অবদান রাখে তার মধ্যে আছে স্বাস্থ্যসেবা পরিবেশে ব্যবহৃত মেডিকেল যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে নির্বীজন কৌশল ও প্রক্রিয়াজাতকরণ না করা, যার ফলে যন্ত্রপাতিসমূহ অণুজীব দ্বারা দূষিত হয়ে যেতে পারে। যদি মেডিকেল ডিভাইস এবং সরঞ্জামসমূহ একবার দূষিত হয়ে যায় তাহলে রোগী এবং কর্মীদের জন্যও এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। রোগী এবং কর্মীদেরকে সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখার জন্য মানসম্মত প্রতিরোধ ব্যবস্থা মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য সরঞ্জামসমূহ ব্যবহারের মাঝে নিরাপদ ও কার্যকর প্রক্রিয়াজাতকরণ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করতে হবে। স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে এই প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি একটি অপরিহার্য অংশ। রোগীর বৈশিষ্ট্য অপারেশনের বৈশিষ্ট্য • বয়স্ক রোগী • অপুষ্টিজনিত অবস্থা • ডায়াবেটিস • ধূমপায়ী • স্থূলতা (Obesity) • colonization with micro organism • co existing infection at remote body sit • কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তি • অপারেশনের পূর্বে হাসপাতালে ভর্তি করা • Pre operative skin preparation অপর্যাপ্ত হলে • অপারেশনের পূর্বে শেভ করানো হলে • অপারেশন টিমের হাত এবং বাহু পর্যন্ত সঠিক ভাবে অ্যান্টিসেপ্টিক ব্যবহার না করা • অপারেশন কক্ষের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকলে • অপারেশনের সাথে অসামঞ্জস্য এমন সাজ ও পোশাক পরিধান করা • যন্ত্রপাতিসমূহের সঠিক জীবাণুমুক্তকরণ না হলে • অপারেশনের সময় দীর্ঘ হলে • অপারেশন পদ্ধতি সঠিক না হলে: অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, হাইপোথারমিয়া, টিস্যু ক্ষতিগ্রন্থ হলে, hollow viscus এ প্রবেশ করলে, devitalised টিস্যু, অপারেশনের পরে সার্জিক্যাল ড্রেন ও সেলাই করার উপাদানের উপস্থিতি, dead space • অনুপযুক্ত এন্টিমাইক্রোবায়াল প্রোফাইল্যান্সিস এর ব্যবহার ২. নির্বীজন কৌশল (Aseptic Technique) নির্বীজন কৌশল হলো সংক্রমণ কমানোর জন্য কতগুলো পদক্ষেপ/ব্যবস্থা। এর মধ্যে সর্জিক্যাল হাত পরিষ্কারকরণ, গ্লাভস্ পরিধান করা, গাউন, চুলের ক্যাপ, মাস্ক এবং নির্দেশিত ক্ষেত্রে দেওয়া থাকে তাহলে চোখের সুরক্ষা করা। এক্ষেত্রে সার্জন অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করবেন, জীবাণুমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখবেন এবং প্রক্রিয়াকরণ কক্ষে ন্যূনতম লোকের প্রবেশ নিশ্চিত করবেন। রোগীকে প্রস্তুত করা • অপারেশনের আগে রোগীকে বাসা থেকে গোসল করে আসার পরামর্শ দিতে হবে • ক্ষতস্থানের চুল শেভ করাবেন না, বরং ছোট করে ছেটে দিন • যদি অপারেশনের কাটার স্থানে ময়লা থাকে তাহলে এন্টিমাইক্রোবিয়াল সাবান এবং পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে • যেকোন কাটা অথবা প্রবেশের স্থান (যোনিপথ, সার্ভিক্স এবং মিউকাস মেমব্রেনসহ) এন্টিসেপটিক দ্রবণ যেমন পভিডন আয়োডিনে ভেজানো সোয়াব দিয়ে কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে বৃত্তাকারে পরিষ্কার করতে হবে • সুতার বল অথবা গজ স্পঞ্জ এন্টিসেপটিকের মধ্যে ফেলে রাখবেন না জীবাণুমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা এবং বজায় রাখা জীবাণুমুক্ত স্থান হচ্ছে এমন একটি স্থান যা কিনা এন্টিসেপটিক দ্বারা পরিষ্কারকৃত প্রসিডিওরের স্থানের চারপাশে এবং প্রসিডিওরের জন্য দরকারী জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য জিনিস রাখার স্ট্যান্ডের উপর জীবাণুমুক্ত তোয়ালে বা সার্জিক্যাল ড্র্যাপ বিছিয়ে প্রস্তুত করা হয়। • জীবাণুমুক্ত স্থানে শুধুমাত্র স্টেরাইল বস্তু এবং জীবাণুমুক্ত পোশাক পরা ব্যক্তিরা প্রবেশাধিকার পাবেন • যথাযথভাবে গাউন ও গ্লাভস পরা সেবাদানকারীর জন্য তার বুক থেকে জীবাণুমুক্ত ক্ষেত্রের লেভেল পর্যন্ত এলাকা জীবাণুমুক্ত ক্ষেত্র হিসাবে বিবেচিত হবে। রোগীর ঢাকনা দেওয়া অংশের নিচেরটুকু জীবাণুমুক্ত নয় হিসাবে বিবেচিত হবে। • শুধুমাত্র জীবাণুমুক্ত আইটেমগুলোই ক্ষতিকারক ক্ষুদ্র অনুজীব মুক্ত। • সার্জিক্যাল কর্মকান্ড পরিচালনা করার জন্য দরজা বা জানালার পাশের স্থানকে জীবাণুমুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না কারণ এ স্থানসমূহ বাতাসের মাধ্যমে দূষিত হতে পারে। • সেবাপ্রদানের পূর্বমুহূর্ত ছাড়া জীবাণুমুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করার প্রয়োজন নেই • জীবাণুমুক্ত স্থানে শুধুমাত্র জীবাণুমুক্ত জিনিসপত্রই রাখুন। অপারেশনের কাঁটার স্থান থেকে কমপক্ষে ১৮ ইঞ্চি পর্যন্ত এই জীবাণুমুক্ত ক্ষেত্র বিস্তৃত হবে। জীবাণুমুক্ত জিনিসগুলো খোলা, সাজানো বা হস্তান্তরের সময় সংক্রামিত করা যাবে না। • সম্ভাব্য দূষণ এড়ানোর জন্য স্টেরাইল জায়গা ছাড়া স্টেরাইল আইটেম খোলা থেকে বিরত থাকতে হবে • যদি একবার স্টেরাইল আইটেম নন-স্টেরাইল আইটেম/ব্যক্তি/ময়লার সংস্পর্শে আসে তাহলে এই আইটেমটি আর স্টেরাইল হিসেবে বিবেচিত হবে না • রোগীর ঢেকে রাখা অংশের নিচের দিকে থাকা সকল জিনিস নন-স্টেরাইল হিসেবে বিবেচিত হবে • সেবাদানকারীর জীবাণুমুক্ত স্থান চিহ্নিত ও সংরক্ষণ করতে হবে • যদি একটি জীবাণুমুক্ত আবরণ ভেজা বা কাটা হয় তাহলে এটি দূষিত বিবেচনা করতে হবে • আপনার শরীর কোথায় আছে সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন এবং সর্বদা স্টেরাইল এলাকায় থাকার চেষ্টা করুন • যদি কোন বস্তু জীবাণুমুক্ত কি না সে বিষয়ে সন্দেহ হয় তাহলে এটি দূষিত হিসেবে মূল্যায়ন করুন • যদি আপনার গ্লাভস্ দূষিত হয়ে যায় তাহলে আপনি যে কাজই করতে থাকুন না কেন তা বন্ধ করে দিন এবং স্টেরাইল স্থান থেকে বের হয়ে যান। • অপারেশনের সময় ছিদ্র হয়ে যাওয়া গ্লাভস্ তৎক্ষণাৎ পরিবর্তন করে নিন এবং অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে হাত ধুয়ে নিন • যদি গ্লাভস্ ছাড়া অবস্থায় আপনার হাতে রক্ত বা অন্য বস্তু লেগে যায় তাহলে সার্জিক্যাল হ্যান্ডস্ক্রাব করুন এবং নতুন গ্লাভস ও গাউন পরিধান করুন। দূষিত উপাদানসমূহ এড়িয়ে চলা • তুলার বল, কটন উল অথবা গজ স্পঞ্জ এন্টিসেপটিক মিশ্রনে কখনও ভিজিয়ে রাখা যাবে না • ফরসেপ ডুবানো হলে অথবা আইটেম তোলার জন্য কন্টেইনারে আঙ্গুল ডুবানো হলে দ্রবণটি এবং আইটেমগুলো দূষিত হতে পারে • এন্টিসেপটিকের মূল কন্টেইনারে কখনো তুলা বা গজ ডুবাবেন না। বরং প্রয়োজনীয় এন্টিসেপটিক ছোট একটি পাত্রে নিয়ে তুলা/গজ ভিজাতে হবে। প্রত্যেক রোগীর ব্যবহারের জন্য নেওয়া এন্টিসেপটিক থেকে অবশিষ্ট এন্টিসেপটিক থাকলে তা ফেলে দিতে হবে অথবা এন্টিসেপটিক কন্টেইনার থেকে সরাসরি তুলায় বা গজের মধ্যে এন্টিসেপটিক ঢালতে হবে, এক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে যেন কন্টেইনারের মুখে তুলা বা গজের স্পর্শ না লাগে "স্পর্শ ছাড়া/নো টাচ" পদ্ধতি চালু করা • 'স্পর্শ ছাড়া/নো টাচ' মানে হলো জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে এমন জিনিস অথবা স্থান জীবাণুমুক্ত করা হয়নি এমন জিনিস দিয়ে স্পর্শ না করা। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে সার্জিক্যাল রাব বা স্ক্রাব করার আগে জীবাণুমুক্ত প্যাক খোলা অথবা জীবাণুমুক্ত স্থানে নন-স্টেরাইল সরঞ্জাম রাখা। IV ফ্লুইড মাল্টিডোজ ভায়ালস এবং প্রোফাইলেকটিক এন্টিবায়োটিক এর যথার্থ ব্যবহার • আইভি ফ্লুইড এবং লাইন একবার ব্যবহারযোগ্য আইটেম • আইভি সূঁচ অবশ্যই দূষিত ধারালো জিনিস হিসেবে নষ্ট করতে হবে • আইভি টিউবিং এবং ব্যাগ ক্লিনিক্যাল বর্জ্য হিসেবে ডিসপোজড করতে হবে। মাল্টি ডোজ ভায়ালস • ভায়াল ব্যবহারের পূর্বে ছিদ্র এবং ভাঙ্গা আছে কি না পরীক্ষা করে দেখুন কারণ এগুলো দূষণের কারণ হতে পারে। মাল্টি ডোজ ভায়ালের জীবাণুমুক্ততা নিয়ে সন্দেহ হলে বা প্রশ্নবিদ্ধ হলে তা নষ্ট করে ফেলতে হবে • মাল্টি ডোজ ভায়াল খোলা বা ব্যবহারের ২৮ দিনের মধ্যে অথবা উৎপাদকের নিয়মানুযায়ী বাতিল করতে হবে এবং খোলার পরপরই নিয়মানুযায়ী লেবেল করতে হবে • যদি খোলা না হয় তাহলে উৎপাদকের মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ অনুযায়ী বাতিল করে দিতে হবে • ঘোলা লিকুইড ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন কারণ এটি দূষিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, যদি না সেই ভায়ালে ইনজেকশনের জন্য সাসপেনশন থাকে • সূঁচ ঢুকানোর আগে অ্যালকোহল মিশ্রিত তুলা দিয়ে ভায়ালের উপরিভাগ ভালোভাবে মুছে নিতে হবে এবং বাতাসে শুকিয়ে নিতে হবে, যদি ইনভেসিভ প্রসিডিওর হয় তাহলে নির্বীজন কৌশল অনুসরণ করুন • প্রতিবার ডোজের ক্ষেত্রে নতুন সূঁচ এবং সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন • প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুযায়ী মাল্টি ডোজ ভায়াল সংরক্ষণ করতে হবে প্রোফাইলেক্টিক এন্টিবায়োটিক • অপারেশনের আগে, চলাকালীন বা পরবর্তী প্রফাইল্যাক্সিস হিসাবে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য প্রসিডিওর গাইডলাইন অনুসরণ করুন। অ্যান্টিসেপটিক (Antiseptic) এবং ডিজইনফেকটেন্ট (Disinfectants) ত্বক এবং শ্লেষ্মা ঝিল্লি (মিউকাস মেসব্রেন) এর কোন ক্ষতি ব্যতীত যে রাসায়নিক দ্রবণের মাধ্যমে রোগ জীবাণুর বিস্তার কমানো যায় তাকেই অ্যান্টিসেপটিক (Antiseptic) বলে। অ্যান্টিসেপটিক কখনই জড় পদার্থের ক্ষেত্রে ব্যবহার উপযোগী নয়। যেমন: যন্ত্রপাতি বা স্থান এর ক্ষেত্রে অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহারের জন্য ডিসইনফেকটেন্ট এর মত সমপরিমাণ ক্ষমতাসম্পন্ন নয়। কখনই যন্ত্রপাতি বা অন্যান্য সামগ্রী ডিজইনফেক্ট করার জন্য অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করবেন না। কখন অ্যান্টিসেপটিক ব্যবহার করা যাবে: • চামড়া/ত্বক প্রস্তুতকরণ, যোনিপথ ও জরায়ু মুখে ব্যবহার (যে কোন ক্লিনিক্যাল প্রসিডিওরের পূর্বে) • সার্জিক্যাল স্ক্রাব এর সময়। • যেকোন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির পূর্বে হাত ধোয়ার কাজে যেমন: ইনভেসিভ প্রসিডিওর। অ্যান্টিসেপ্টিকের ব্যবহার অপারেশনের ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য অ্যান্টিসেপ্টিকের যথাযথ ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যবস্থায় বর্তমানে যে সকল অ্যাান্টিসেপ্টিক ব্যবহার অনুমোদিত, তা হল- • আয়োডোফোর (যেমন: পভিডন আয়োডিন/বিটাডিন) • ক্লোরহেক্সিডিন সেট্রিমাইড (স্যাভলন) • > ৬০% অ্যালকোহল/স্পিরিট অপারেশনের ক্ষেত্রে চামড়া প্রস্তুতের জন্য জীবাণুমুক্ত তুলার বল বা গজ জীবাণুমুক্ত যন্ত্র দিয়ে ধরে অ্যান্টিসেপ্টিক দ্রবণে ডুবিয়ে দিয়ে চক্রাকারে চামড়া ঘষে মুছতে হবে এবং কেন্দ্র থেকে বাইরের দিকে তা আনতে হবে। যোনিপথ এবং জরায়ুর মুখে অ্যান্টিসেপটিক হিসাবে এ্যালকোহল ব্যবহার করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে বিটাডিন/আয়োডোফোর বা যথাযথভাবে প্রস্তুত স্যাভলন দ্রবণ ব্যবহার করা যাবে। অ্যান্টিসেপ্টিক • একটি শীতল অন্ধকার এলাকায় সংরক্ষণ করুন। • একটি ধারক বোতল থেকে একটি ছোট পাত্রে প্রয়োজনমত ঢেলে নিতে হয়। • ছোট বোতলে ঢেলে নেওয়া অংশ ব্যবহারের পর থেকে গেলে বা অতিরিক্ত হলে তা ফেলে দিতে হবে। • অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণে গজ কাপড় বা তুলা ভিজিয়ে রাখা যাবে না। মনে রাখতে হবে কখনও স্যাভলন দ্রবণে তুলা, গজ, লিফটার, থার্মোমিটার ভিজিয়ে রাখা যাবে না। ৫% স্যাভলন দ্রবণ প্রস্তুত প্রণালী এবং ব্যবহার ক্লোরহেক্সিডিন-সেট্রিমাইড (স্যাভলন) সলিউশন দ্বারা জীবাণু সংক্রমণের মাত্রা কমানো যায়। সাধারণত শরীরের চামড়া বা ত্বকের জীবাণুর মাত্রা কমানোর জন্যই এই অ্যান্টিসেপটিক সলিউশন ব্যবহার করা হয়। এর দ্বারা চামড়া বা ত্বকের জীবাণুর মাত্রা কমানো গেলেও ব্যাকটেরিয়ার স্পোর ধ্বংস করা সম্ভব হয় না। ৫% স্যাভলন দ্রবণ তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ১. স্যাভলন সলিউশন (৪০%) বা (১০০%) ২. বিশুদ্ধ পানি (ফুটানো ঠাণ্ডা পানি) ৩. স্যাভলন পরিমাপের পাত্র ৪. স্যাভলন দ্রবণ রাখার জন্য ঢাকনাযুক্ত বোতল ৫% স্যাভলন দ্রবণ প্রস্তুতপ্রণালী ক. ৪০% ঘনত্বের স্যাভলনের ক্ষেত্রে: স্যাভলন পরিমাপের পাত্রে ১ ভাগ স্যাভলন -এর সাথে ৭ ভাগ বিশুদ্ধ পানি মিশিয়ে ৮ ভাগ তরলীকৃত ৫% স্যাভলন দ্রবণ তৈরি করতে হবে অথবা খ. ১০০% ঘনত্বের স্যাভলনের ক্ষেত্রে: স্যাভলন পরিমাপের পাত্রে ১ ভাগ স্যাভলন-এর সাথে ১৯ ভাগ বিশুদ্ধ পানি মিশিয়ে ২০ ভাগ তরলীকৃত ৫% স্যাভলন দ্রবণ তৈরি করতে হবে। এই হিসেবে প্রতিদিনের জন্য প্রয়োজানীয় স্যাভলন দ্রবণ দিনের শুরুতে তৈরি করে ঢাকনাযুক্ত বোতলে রাখতে হবে এবং দিনের শেষে দ্রবণ ফেলে দিতে হবে। দ্রবণ খোলা অবস্থায় রাখলে অথবা তৈরির ৬-৮ ঘণ্টা পর ব্যবহার করলে তাতে জীবাণু সংক্রমণের সমূহ আশঙ্কা থাকে। ৫% স্যাভলন দ্রবণের ব্যবহার • অপারেশন বা ইনজেকশন দেয়ার পূর্বে চামড়া পরিষ্কার করার জন্য। • আইইউডি প্রয়োগের পূর্বে যোনিপথের মিউকাস মেমব্রেন এবং জরায়ুর মুখ পরিষ্কার করার জন্য • সার্জিক্যাল স্ক্রাবিং-এর সময় অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ডিজইনফেকটেন্ট জড় পদার্থের উপর থেকে ক্ষুদ্র জীবাণু ধ্বংসের জন্য ডিজইনফেকটেন্ট ব্যবহৃত হয় (যেমন যন্ত্রপাতি ও কর্ম এলাকার দূষণরোধ করার জন্য) ডিজইনফেকটেন্ট ব্যবহার (ক্লোরিন) • সেবা কেন্দ্রে সাধারণত তিন ধরনের ডিজইনফেকটেন্ট ব্যবহার করা হয়: - কম মাত্রার: গৃহস্থালির কাজ এবং মেঝে পরিষ্কারের জন্য ০.৫% ক্লোরিন - মাঝারি মাত্রার: ভায়ালের উপর অংশ, কিছু যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করার জন্য ৭০% অ্যালকোহল - উচ্চ-মাত্রার: ২০ মিনিট যাবৎ ০.৫% ক্লোরিন/গুটারালডিহাইডের মিশ্রনে বস্তু গুলোকে সিক্ত করে রাখতে হবে এইচএলডি-এর জন্য এবং সমস্ত জীবাণু মেরে ফেলার জন্য ১০ ঘন্টার জন্য সিক্ত রাখতে হবে। • ডিজইনফেকটেন্ট দ্রবণটি সব সময় আবৃত রাখা উচিত যাতে এটি উড়ে না যায় এবং ঘনত্বের ও শক্তির পরিবর্তন না ঘটে। • ডিজইনফেকটেন্ট দ্রবণ যেমন ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ ২৪ ঘন্টা পরে ফেলে দিতে হবে। • যখন ক্লোরিন সংক্রমণরোধী হিসাবে ব্যবহার করা হবে তখন দ্রবন/মিশ্রণটি তৈরির সময় ০.৫% ক্লোরিন নিম্নে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী হতে হবে: লিকুইড রিচ লিকুইড রিচের ঘনত্ব × ২-১ = নির্দিষ্ট পানির পরিমাণ। উদাহরণস্বরূপ, ৩.৫% ঘনত্বের ক্লোরিন থেকে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ বা মিশ্রণ তৈরির সূত্র হল: (৩.৫x২)-১ = ৭-১= ৬ ভাগ পানি প্রয়োজন ১ ভাগ লিকুইড ব্লিচের জন্য ব্রিচিং পাউডার প্রতি লিটার পানির জন্য ব্লিচিং পাউডারের গ্রাম = (০.৫/ব্লিচিং পাউডারের সক্রিয় ক্লোরিনের %) x ১০০০ উদাহরণস্বরূপ, ৩৩% সক্রিয় ক্লোরিন বা ব্লিচিং পাউডার থেকে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ তৈরি করতে, ১ লিটার পানি দ্রবীভূত হওয়ার জন্য ব্লিচিং গুঁড়োর গ্রাম পরিমাণ হবে নিম্নরূপ: (০.৫/৩৩%) x ১০০০ = (.০১৫) × ১০০০ = ১৫ গ্রাম কিন্তু বাজারে প্রাপ্ত ব্লিচিং পাউডারে ঘনত্ব নিয়ে সংশয় থাকার কারণে প্রতি লিটার পানিতে ২০গ্রাম ব্লিচিং পাউডার মিশাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পানিতে ব্লিচিং পাউডার মিশালে ক্লোরিন দ্রবণ সাদা দেখায়। ব্লিচিং পাউডার থেকে ক্লোরিন দ্রবণ তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ লাল রং এর ঢাকনাযুক্ত প্লাস্টিক বালতি-ক্লোরিন দ্রবণ রাখার জন্য, সবুজ রং এর ঢাকনাযুক্ত প্লাস্টিক বালতি-পরিষ্কার পানি রাখার জন্য, চশমা, মাস্ক, ক্যাপ, ম্যাকিন্টোস/প্লাস্টিকের পরিধান, ইউটিলিটি গ্লাভস্, পানি পরিমাপক পাত্র/প্লাস্টিকের মগ, ব্লিচিং পাউডার, ব্লিচিং পাউডার রাখার জন্য ঢাকনাযুক্ত রঙিন পাত্র, ব্লিচিং পাউডার পরিমাপক কাপ, প্লাস্টিক ছাঁকনি (তলদেশে ছিদ্রযুক্ত), কাঠের নাড়ন কাঠি, প্লাস্টিকের অথবা মেলামাইনের লম্বা হাতলযুক্ত চামচ, টাইমার/ঘড়ি। ক্লোরিন দ্রবণ এক লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ তৈরি করা হয়। সাধারণত ১০ লিটার পানিতে ২০০ গ্রাম বা ৫ লিটার পানিতে ১০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার মিশিয়েই একটি ক্লিনিকের জন্য প্রয়োজনীয় ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ তৈরি করা যায় ক্লোরিন দ্রবণ প্রস্তুত প্রণালী কাজের শুরুতে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ তৈরি করতে হবে। নিজের নিরাপত্তার জন্য ইউটিলিটি গ্লাভস্, চশমা, মাছ, ক্যাপ ও ম্যাকিন্টোস পরে নিন। লাল ঢাকনাযুক্ত বালতিতে ১০ লি. পানি নিয়ে এতে ২০০ গ্রাম ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে নাড়ন কাঠি দিয়ে নেড়ে ০.৫% ক্লোরিন দ্রবণ তৈরি করুন এবং প্লাস্টিক ছাঁকনি বালতিতে ডুবিয়ে বালতি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে দিন সংক্রমণ প্রতিরোধের দক্ষতা চেকলিস্ট সেবা প্রদানকারী সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত বিষয়াদি নিশ্চিত করবেন সাধারণ জ্ঞান • সংক্রমণ প্রতিরোধে পূর্ব সতর্কতামূলক পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত বলুন। • দূর্ঘটনা পরবর্তী প্রতিষেধকমূলক চিকিৎসা নীতিমালা (PEP) সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করুন এবং কোথায় হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন পাওয়া যায় এবং কোথায় এইচআইভি পরীক্ষা করা যায় এবং এর চিকিৎসা দেওয়া হয় সে সম্পর্কে বলুন। পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা • গ্রহীতাদের সেবা গ্রহণের পরিবেশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার তালিকা সঠিকভাবে মেনে চলুন • রোগ-জীবাণু নির্বীজন করার জন্য দুই রোগীর সেবাদানের মধ্যবর্তী সময়ে প্রসিডিওর/এক্সামিনেশন টেবিল ০.৫% ক্লোরিন দ্বারা মুছতে হবে • রক্ত অথবা বডি ফ্লুইড লেগেছে এমন স্থানগুলো দৈনিক বা যখন ময়লা হয় তখনই পরিষ্কার করুন। • পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার সময় ইউটিলিটি গ্লাভস ও অ্যাপ্রন (প্রয়োজনে) পরিধান করুন। হাতের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা • প্রত্যেক সেবাগ্রহীতাকে পরীক্ষা করা বা সেবাদানের পূর্বে ও পরবর্তী সময়ে হাত পরিষ্কার করুন (হাত ধোয়া বা অ্যালকোহল রাব দিয়ে হাত ঘষা) • অপারেশন/কাটাছেড়ার কাজের পূর্বে ও পরে সার্জিক্যাল স্ক্রাব বা সার্জিক্যাল হ্যান্ড রাব ব্যবহার করুন ব্যক্তিগত সুরক্ষার জন্য যন্ত্রপাতির ব্যবহার (PPE) • গ্রহীতার চিকিৎসা সেবা প্রদানের সময়, রক্ত, বডি ফ্লুইড মিশ্রিত কোন জিনিস অথবা পরীক্ষার জন্য নেওয়া কোন নমুনা ধরার সময় এক্সামিনেশন গ্লাভস্ এবং যথাযথ যন্ত্রপাতি (PPE) ব্যবহার করুন • অপারেশন বা কাঁটা-ছেড়ার (TL, NSV) সময় রোগ-জীবাণুমুক্ত গাউন ব্যবহার করুন যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ: পরিষ্কারকরণ (Cleaning) • যন্ত্রপাতিসমূহ পরিষ্কার করার সময় অ্যাপ্রন এবং ইউটিলিটি গ্লাভস পরিধান করুন। • যন্ত্রপাতিসমূহ পরিষ্কারের পূর্বে ডিটারজেন্ট মিশ্রিত পানিতে ডুবিয়ে রাখুন • যন্ত্রপাতিসমূহ পরিষ্কার করার জন্য একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সিংক ও প্রবাহমান পানি ব্যবহার করুন • সকল যন্ত্রপাতিসমূহ খোলা অবস্থায় পরিষ্কার করুন যাতে রক্ত ও অন্যান্য ময়লা সম্পূর্ণভাবে পরিষ্কার করা যায় • অবশিষ্ট ময়লা দূর করার জন্য পানিতে হালকাভাবে ঘষা দিন • যন্ত্রপাতিসমূহ শুকানোর জন্য বাতাস অথবা পরিষ্কার কাপড়/তোয়ালে ব্যবহার করুন • যন্ত্রপাতিসমূহ কোন ক্ষতি হয়েছে কি না তা পরীক্ষা করুন এবং ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রপাতিসমূহ ও ক্যানুলাগুলো ফেলে দিন যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ: উচ্চ চাপে বাষ্পদ্বারা জীবাণুমুক্তকরণ (অটোক্লেড) • যন্ত্রপাতিসমূহ মোড়ক দিয়ে দুইবার মুড়িয়ে তাতে প্রক্রিয়াজাতকরণের তারিখ, প্রাথমিক দলের সদস্যের স্বাক্ষর এবং মোড়কের উপরে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ লিখে রাখুন • প্রতিটি প্যাকে অটোক্লেভ নির্দেশক টেপ ব্যবহার করুন • অটোক্লেভে সরঞ্জামসমূহ এমনভাবে সাজিয়ে রাখুন যাতে চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস ঢুকতে পারে • অটোক্লেভ ড্রামগুলো সঠিকভাবে লেবেলিং করুন এবং ড্রামের ঢাকনার বাইরে এবং ভেতরে অটোক্লেভ টেপ লাগান (তারিখ, সময় ও স্বাক্ষরসহ) • অটোক্লেভে স্টেরিলাইজেশন/বিশুদ্ধ করার জন্য নির্দেশনা অনুসরণ করুন • অটোক্লেভ রেজিস্টারে অটোক্লেভ সাইকেলের ডকুমেন্ট করুন যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ: রাসায়নিক এইচএলডি (HL.D) • জীবাণুমুক্তকরণ রাসায়নিক প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা মোতাবেক রাসায়নিক ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধক ব্যবহার করে যন্ত্রপাতিসমূহ রাসায়নিক HLD দিয়ে জীবাণুমুক্তকরণের কাজ সম্পন্ন করুন এবং সঠিকভাবে লেবেল করে সংরক্ষণ করুন এবং ঢাকনার উপরে মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ করুন। • যন্ত্রপাতি পরিষ্কার করুন এবং নিশ্চিত করুন যে সরঞ্জামসমূহ সম্পূর্ণ পরিষ্কার এবং শুকনো • যন্ত্রপাতিসমূহ রাসায়নিক সলিউশনে ২০ মিনিট ডুবিয়ে রাখুন • জীবাণুমুক্ত পিকআপ দিয়ে আইটেমগুলো অপসারণ করুন, জীবাণুমুক্ত পানি দিয়ে হালকাভাবে ধুয়ে ফেলুন (প্রতিটি যন্ত্র তিনবার ফুটানোর মাধ্যমে উচ্চমাত্রায় সংক্রমণমুক্তকরণ • পরিষ্কার করা যন্ত্রপাতি স্টীম স্টেরিলাইজারের ট্রে অথবা ঢাকনাযুক্ত ফুটানোর পাত্রে সাজিয়ে নিন। যে যন্ত্রপাতির বিভিন্ন অংশ খোলা যায় সে সমস্ত অংশ খুলে নিন। আর্টারি ফরসেপ ও কাঁচির ক্যাচগুলো খুলে রাখুন। • সাজানো ট্রে স্টীম স্টেরিলাইজারে অথবা যন্ত্রপাতি ঢাকনাযুক্ত ফুটানোর পাত্রে এমনভাবে রাখুন যাতে যন্ত্রগুলো কমপক্ষে এক ইঞ্চি পরিমাণ পানির নীচে ডুবে থাকে। • স্টেরিলাইজার অথবা ফুটানোর পাত্রের ঢাকনাটি বন্ধ করে ৩০ মিনিট ধরে যন্ত্রপাতি ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটতে শুরু করার পর থেকে সময় গণনা শুরু করুন। • ৩০ মিনিট পূর্ণ হলে স্টিীম স্টেরিলাইজার/ফুটানোর পাত্র থেকে যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত লিফটার দিয়ে তুলে বাতাসে শুকিয়ে নিন। • ক্যানুলার (এমআর) ক্ষেত্রে পানি ফোটার পর পরিষ্কার লিফটার দিয়ে ক্যানুলা স্টেরিলাইজারে দিয়ে ২০ মিনিট সময় গণনা করা হয়। • ২০ মিনিট পূর্ণ হলে স্টীম স্টেরিলাইজার/ফুটানোর পাত্র থেকে ক্যানুলা জীবাণুমুক্ত লিফটার দিয়ে তুলে বাতাসে শুকিয়ে নিন। • শুকানো যন্ত্রপাতি/ক্যানুলা জীবাণুমুক্ত লিফটার দিয়ে জীবাণুমুক্ত পাত্রে ভালভাবে মুখ বন্ধ করে সংরক্ষণ করুন। • যন্ত্রপাতি এবং ক্যানুলা (MR) আলাদাভাবে HLD করতে হবে। ফুটানো শুরু করার পর নতুন করে কোন যন্ত্র ফুটানোর পাত্র বা স্টেরিলাইজারে ঢোকানো বা সেখান থেকে বের করা যাবে না। • জীবাণুমুক্ত পাত্রের উপর ফুটানোর তারিখ ও সময় লিখে রাখুন। যন্ত্রপাতি প্রক্রিয়াজাতকরণ: সংরক্ষণ • আইটেমগুলো তাৎক্ষণিকভাবেই ব্যবহার করা যেতে পারে অথবা কন্টেইনারে সংরক্ষণ করুন। • প্যাকেট কিভাবে খোলা হয় এবং একবার খোলা হলে তা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবহার অথবা পুনরায় প্রক্রিয়াজাতকরণ করুন। ধারালো/সূঁচালো জিনিস সঠিকভাবে ব্যবহার • ধারালো বা সূঁচালো দূষিত জিনিসপত্র ব্যবহারের পর তাৎক্ষনিকভাবে ফেলে দেওয়ার জন্য পরিষ্কার এবং ছিদ্রহীন একটি কন্টেইনার ব্যবহার করুন • ব্যবহারের পর সূঁচগুলোকে রি-ক্যাপ করা বা বাঁকানো যাবে না • ধারালো/সূঁচালো বর্জ্য ভর্তি কন্টেইনারটি তিন চতুর্থাংশ ভরে গেলে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করুন স্বাসতন্ত্রের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা • কাশি এবং হাঁচি দেওয়ার সময় নাক, মুখ ঢাকার জন্য টিস্যু বা হাত ব্যবহার করুন এবং টিস্যু ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন এবং তাৎক্ষণিকভাবে অ্যালকোহল রাব দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন লিনেন প্রক্রিয়াজাতকরা • লিনেন ব্যবস্থাপনা, পরিবহন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ইউটিলিটি গ্লাভস এবং অন্যান্য সুরক্ষা পোশাক পরিধান করুন। নির্বীজন কৌশল • সার্জিক্যাল স্ক্রাব ব্যবহারের পরে হাত কনুই এর উচ্চতায় ধরে রাখুন • সার্জিক্যাল স্ক্রাব ব্যবহারের পরে হাত শুকানোর জন্য জীবাণুমুক্ত তোয়ালে ব্যবহার করুন • স্টেরাইল বা জীবাণুমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জীবাণুমুক্ত পোশাক পরিধান করুন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার সময় হাত দিয়ে ছোঁয়া যাবে না নীতি অবলম্বন করুন • স্টেরাইল গ্লাভসগুলো পরিধান এবং খোলার সময় 'no touch technique' পদ্ধতি অনুসরন করুন • অপারেশন প্রক্রিয়ায় ৩০ মিনিটের অধিক সময়ের প্রয়োজন হলে অথবা অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা বডি ফ্লুইড বের হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ডাবল গ্লাভস পরিধান করুন। যেমন: যোনিপথে ডেলিভারের সময় • মাল্টি ডোজ ভায়ালস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করুন, Content-এর গুণগত মান পরীক্ষা, সলিউশন বের করার সময়/উত্তোলনের সময় নতুন সূঁচ ও সিরিঞ্জ ব্যবহার, ব্যবহারের পূর্বে এন্টিসেপটিক দিয়ে মোছা, ২৮ দিনের মধ্যে ভায়ালস ব্যবহার /ফেলে দিন। • লেবেলে উল্লেখিত মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের মধ্যেই পরিষ্কারের কাজে ০.৫% ক্লোরিন ব্যবহার করুন। • কিভাবে ০.৫% ক্লোরিন প্রস্তুত করা হয় তা বর্ণনা করুন • কিভাবে রক্তের দাগ/রক্তপাত কিভাবে পরিষ্কার করতে হয় তা বর্ণনা করুন বর্জ্য অপসারণ • ক্লিনিকাল বর্জ্য ও সাধারণ বর্জ্য নিষ্কাশনের পূর্বেই আলাদাভাবে সংরক্ষণ করুন • ভ্রূণ জাতীয় বর্জ্যগুলো ক্লিনিকাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নির্দেশনা/স্থানীয় গাইডলাইন অনুযায়ী নিষ্কাশন/অপসারণ করুন। প্রতিটা কাজ শেষ করা পর্যন্ত সেবাদানকারীকে উল্লেখিত সবগুলো দক্ষতা অর্জন করতে হবে। অধ্যায় - ১৮ যৌনবাহিত সংক্রমণ পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১৮ যৌনবাহিত সংক্রমণ পরিবার পরিকল্পনা সেবা শুধুমাত্র অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধই করে না, গ্রহীতাকে যৌন সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা প্রদান করে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষা, যেমন দুই হাত দিয়ে তলপেটের পরীক্ষা ও স্পেকুলাম দিয়ে পরীক্ষা এবং যৌনাঙ্গের পরীক্ষা সম্পাদনের সময় আগে নির্ণীত হয়নি। বা এখনও উপসর্গ প্রকাশিত হয়নি,। এ, এমন যৌন সংক্রমণ নিরূপিত হতে পারে। ফলে গ্রহীতা ও তার সঙ্গীসহ চিকিৎসার সুযোগ সৃষ্টি হয়: পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণের জন্য কেন্দ্রে না আসলে হয়তো বা রোগ নির্ণয় করা বা চিকিৎসা করাই সম্ভব হত না। পরিবার পরিকল্পনা সেবায় কনডম এবং আইইউডি যৌনবাহিত সংক্রমণের সাথে বিশেষভাবে সম্পর্কিত। সঠিক এবং নিয়মিত কনডম ব্যবহার গর্ভধারণ প্রতিরোধের পাশাপাশি যৌনবাহিত সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দেয় (দ্বৈত সুরক্ষা)। আইইউডি প্রযোগে যৌনরোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু, যেমন- N.gonorrhoeae, Ctrachomatis এবং যৌনবাহিত সংক্রমণ ঘটায় দিও এমন অন্যান্য জীবাণু উর্ধ্বমুখী সংক্রমণকে প্রভাবিত করতে পারে। যৌনবাহিত রোগের জীবাণু- অভ্যন্তরীণ যৌন অঙ্গসমূহকে সংক্রমিত করলে তলপেটে প্রদাহ (PID), বন্ধ্যাত্ব ও জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের মতো জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এ সকল জটিলতা প্রতিরোধের কার্যকর উপায় হল, অভ্যন্তরীণ যৌন অঙ্গসমূহকে সংক্রমণমুক্ত রাখা। এজন্য যা করতে হবে- • যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা (কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করা ও সরবরাহ করা এবং ফ্লোচার্ট অনুসরণে উপসর্গসমূহের ব্যবস্থাপনা) • নিরাপদ আইইউডি প্রয়োগ • সেবাদানকালে সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেয়া পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি এবং যৌনবাহিত/এইচআইভি সংক্রমণ যৌন সক্রিয় মহিলাদের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি পছন্দ করার সময় পদ্ধতি এবং যৌনবাহিত/এইচআইভি সংক্রমণের সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় আনতে হবে। কেননা পছন্দ করা পদ্ধতি যৌন সংক্রমণের ঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে, আবার যৌন সংক্রমণের উপলব্ধিও পদ্ধতি পছন্দকে প্রভাবিত করতে পারে যৌনবাহিত/এইচআইভি সংক্রমণের সাথে পদ্ধতি বাছাইকরণের সম্পর্ক এই ম্যানুয়ালের "পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারে/প্রদানে বিবেচ্য স্বাস্থ্যগত ও সামাজিক উপযুক্ততার নির্দেশিকা" অধ্যায় ২০-তে উল্লেখ করা হয়েছে। যৌনবাহিত সংক্রমণ ব্যবস্থাপনা যৌনবাহিত সংক্রমণ রোগীর সার্বিক ব্যবস্থাপনার উপাদানসমূহ • সঠিক রোগ নির্ণয় (সিনড্রমিক অ্যাপ্রোচ এবং/অথবা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সাহায্য) করা • দ্রুত এবং কার্যকর চিকিৎসা প্রদান করা • এইচআইভি পরীক্ষা এবং কাউন্সেলিং করা এবং এ জন্য রেফার করা • কাউন্সেলিং এবং স্বাস্থ্য শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি হ্রাস করা বা ঝুঁকিমুক্ত রাখা • কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং কনডম সরবরাহ করা • যৌনসঙ্গীকে অবহিত করা ও তার চিকিৎসা নিশ্চিত করা রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা • সিনড্রমিক রোগ ব্যবস্থাপনা নির্ভর করে প্রধানত সিনড্রম (রোগের উপসর্গ ও সহজে নিরূপণযোগ্য লক্ষণের সমষ্টি) শনাক্ত করা ও তার চিকিৎসা প্রদানের ওপর। প্রত্যেকটি সিনড্রমের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ঐ সিনড্রমের জন্য সচরাচর যে সকল জীবাণু দায়ী সেগুলিকে উদ্দিষ্ট করে ব্যবস্থাপনা প্রদান করা হয়। • অধিকাংশ যৌনবাহিত সংক্রমণের উপসর্গ হল- মূত্রনালির নিঃসরণ, যৌনাঙ্গে ক্ষত, যোনিপথে নিঃসরণ এবং তলপেটে ব্যথা, কুচকিতে লসিকাগ্রন্থি ফোলা, অণ্ডকোষে ব্যাথা ও ফোলা। এসকল উপসর্গ নিয়ে যখন কোন রোগী আসেন, নির্দিষ্ট সিনড্রমের ফ্লোচার্ট অনুসরণ করে ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা নির্ধারণ করতে হবে। • যদিও এটা জানা প্রয়োজন যে, সিনড্রমিক ব্যবস্থাপনা উপসর্গবিহীন এবং সাব-ক্লিনিক্যাল সংক্রমণকে বিবেচনায় আনতে পারে না। মহিলাদের সারভিক্সে সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত কোন উপসর্গ থাকে না। সুতরাং সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ পুরুষ, মহিলা বা তার যৌনসঙ্গীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সংক্রমণ যাচাই করে দেখতে হবে • ল্যাবরেটরি সুবিধা থাকলে যথার্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা একজন চিকিৎসা কর্মীকে কারণভিত্তিক রোগ নির্ণয়ে সাহায্য করে। এরকম অবস্থায় যেসব গ্রহীতা সেবা কেন্দ্রে আসবেন, তাদেরকে সিফিলিস-এর পরীক্ষা করা যেতে পারে • যৌনবাহিত সংক্রমণের যথাযথ চিকিৎসা গ্রহীতাকে ঐ রোগের জটিলতা এবং খারাপ পরিণতি প্রতিরোধ করে থাকে। সম্ভব হলে মুখে একমাত্রা ঔষধের চিকিৎসা দিতে হবে, যা ঔষধের সঠিক ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করবে। অনেক ডোজের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীকে জানাতে হবে যে, পূর্ণ কোর্সের চিকিৎসা না নিলে চিকিৎসা কার্যকর হবে না ঝুঁকি হ্রাসের জন্য স্বাস্থ্যশিক্ষা এবং কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করা ও সরবরাহ করা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোন যৌনবাহিত সংক্রমণের রোগী আসলে প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিরূপণ এবং নিরাপদ যৌন আচরণে অভ্যন্ত করতে স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রদান ও কাউন্সেলিং করতে হবে। এটা যৌনবাহিত সংক্রমণের বিস্তার হ্রাস বা প্রতিরোধ করবে। একমাত্র ল্যাটেক্স কনডমই যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ, যা এর সঠিক ব্যবহারের উপর অনেকাংশে নির্ভর করে। কনডমের সঠিক ব্যবহারের জন্য কনডম অধ্যায় দেখুন। কাউন্সেলিং, সঙ্গীকে অবহিতকরণ, চিকিৎসা ও ফলো-আপ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে বিরত থাকা, যৌনবাহিত সংক্রমণের আশংকা এবং নিরাপদ যৌন আচরণে অভ্যস্ত করার লক্ষ্যে প্রত্যেক রোগীকে আলাদা আলাদাভাবে কাউন্সেলিং করতে হবে। প্রয়োজনে রোগীকে কাউন্সেলিং-এর জন্য যথাযথ কেন্দ্রে রেফার করতে হবে। যৌনসঙ্গীকে সম্ভাব্য ঝুঁকির ব্যাপারে অবহিত করে, স্বাস্থ্যগত অবস্থা মূল্যায়ন, রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও কাউন্সেলিং সেশনে অংশগ্রহণের জন্য রোগীকে উৎসাহিত করতে হবে। যৌনবাহিত সংক্রমণের সমন্বিত ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ক্লিনিক্যাল ফলো-আপ। এটা প্রদত্ত চিকিৎসার যথাযথ বাস্তবায়ন, কার্যকারিতা নিরূপণ, সঙ্গীর ব্যবস্থাপনা, পুনঃসংক্রমণ কিনা তা নির্ণয় এবং নিরাপদ যৌন আচরণে গুরুত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। সিনড্রমিক ব্যবস্থাপনা ১. যৌনবাহিত সংক্রমণ নির্ণয়ে ইতিহাস গ্রহণ • যৌনাঙ্গ বা এতদসংলগ্ন অঙ্গসমূহে কোন সমস্যা নিয়ে কোন রোগী আসলে ইতিহাস গ্রহণের সময় এর মাত্রা নির্ণয় করতে হবে। ইতিহাস গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়সমূহ নিশ্চিত করতে হবে • একান্ততা ও গোপনীয়তার নিশ্চয়তা দিতে হবে • ভদ্র, বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে, যা বিশ্বাস স্থাপন ও আস্থা অর্জনে রোগীকে উৎসাহিত করবে • দ্বিমুখী আলোচনার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে খোলা প্রশ্ন (Open-ended) করতে হবে। যেমন: আপনার মেলামেশার সময় কী কী সমস্যা হয়? • কোন কোন সময় বন্ধ প্রশ্ন (Close-ended) করা যেতে পারে, যেমন- আপনার কি মেলামেশার সময় ব্যথা হয়? • ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর জন্য ঘুরিয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে যেমন- 'আপনি কি কারও সাথে সেক্স করেছেন?' এর বদলে 'কত আগে আপনি কারও সাথে সেক্স করেছেন? • সঠিক রোগ নিরূপণের জন্য অনেক সময় নানা ধরনের প্রশ্ন করতে হতে পারে • রোগী ইতিহাস প্রদানের সময় কোন রকম অসংলগ্নতা বা বার বার পরিবর্তিত তথ্য দিলেও বিরক্তি প্রকাশ করা যাবে না ১.১ বিদ্যমান উপসর্গ বা লক্ষণের ইতিহাস গ্রহণ বিদ্যমান উপসর্গসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত ইতিহাস নিতে হবে। একই সাথে থাকতে পারে এমন অন্যান্য উপসর্গ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে হবে। উপসর্গসমূহ নিম্নরূপ: মহিলা পুরুষ প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন প্রস্রাব যোনিপথে নিঃসরণ মূত্রনালির নিঃসরণ যৌনাঙ্গে ক্ষত যৌনাঙ্গে ক্ষত যৌনাঙ্গে অস্বাভাবিক চাকা যৌনাঙ্গে অস্বাভাবিক চাকা তলপেটে ব্যথা অণ্ডথলিতে তীব্র ব্যথা ও ফোলা কুঁচকিতে লসিকাগ্রন্থি ফোলা কুঁচকিতে লসিকাগ্রন্থি ফোলা ভালভায় চুলকানি মলদ্বারে ব্যথা সহবাসে ব্যথা পায়ুপথে নিঃসরণ মলদ্বারে ব্যথা পায়ুপথে নিঃসরণ ১.২ চিকিৎসা, গর্ভসংক্রান্ত ও মাসিকের ইতিহাস রোগীর বর্তমান ও অতীত অসুস্থতা, চিকিৎসা, ঔষধে অ্যালার্জির ইতিহাস নিতে হবে এবং লিপিবদ্ধ করতে হবে। মাসিকের ইতিহাস গর্ভসংক্রান্ত চিকিৎসার ইতিহাস শেষ মাসিকের তারিখ গর্ভসংখ্যা ও ফলাফল অন্যান্য অসুস্থতা নিয়মিত বা অনিয়মিত মাসিক কীভাবে ডেলিভারি হয়েছে চিকিৎসা/ঔষধ গ্রহণ মাসিকের সময় ব্যথা পদ্ধতি ব্যবহার ঔষধে অ্যালার্জি অতিরিক্ত রক্তস্রাব সহবাসের পর রক্তপাত ১.৩ যৌনবাহিত সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ কোন রোগীকে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও কাউন্সেলিং-এর সময় অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ আছে কিনা তা নিরূপণ করতে হবে। কাউন্সেলিং-এর সময় গোপনীয়তার ব্যাপারে রোগীকে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। ঝুঁকি নিরূপণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ সম্পর্কে জানতে হবে- • স্বামী/স্ত্রী বা যৌন সঙ্গীর যৌনবাহিত রোগ • পূর্বে যৌন সংক্রমণের ইতিহাস • একের অধিক যৌন সঙ্গী • যৌনকর্মী (পুরুষ ও মহিলা) ১.৪ যৌনতার ইতিহাস গ্রহণ কোন যৌন সংক্রমণের রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যার ব্যবস্থাপনার আগে তার যৌনতার ইতিহাস অবশ্যই নিতে হবে। সকল ধরনের যৌন সংক্রমণ ও যৌন সমস্যা বিষয়ক রোগীদের নিম্নলিখিত বিষয়ে প্রশ্ন করা যেতে পারে- • সঙ্গীর সেক্স (পুরুষ/মহিলা) • সংসর্গের ধরণ (মুখে, যোনিপথে বা পায়ুপথে) • কনডমের ব্যবহার, সঙ্গী যে ধরণেরই হোক না কেন • সঙ্গীর সাথে সম্পর্ক (স্বামী-স্ত্রী বা অন্য সঙ্গী) • সঙ্গীর সমস্যা বা উপসর্গ • সর্বশেষ যৌন সহবাসের তারিখ • বিগত ৩ মাসে যৌনসঙ্গীর সংখ্যা ২. ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা শুধুমাত্র ইতিহাস গ্রহণের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ভুল হবার সম্ভাবনা দূর করে সঠিক রোগ নির্ণয়ে স্বাস্থ্য সেবাপ্রদানকারীদেরকে সাহায্য করে। এজন্য রোগীকে তার যৌনাঙ্গ পরীক্ষার বিষয়টি জানাতে হবে এবং সম্মতি নিতে হবে। পরীক্ষার সময় গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে। মহিলা রোগীকে পরীক্ষা করার সময় অবশ্যই একজন মহিলা সহকারী উপস্থিত রাখতে হবে, বিশেষ করে সেবাদানকারী যদি পুরুষ হন। • মহিলা রোগীর যৌনাঙ্গ পরীক্ষার সময় যোনিপথ/তলপেটে দুইহাত দিয়ে ও স্পেকুলাম দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। পায়ুপথে যৌন সহবাসে অভ্যন্ত পুরুষ ও মহিলাদের মলদ্বার পরীক্ষা করতে হবে। • যৌনাঙ্গ পরীক্ষা ছাড়াও প্রয়োজনীয় সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা করতে হবে ৩. ল্যাবরেটরি পরীক্ষা ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সুবিধা থাকলে উপযুক্ত পরীক্ষা করে সম্ভাব্য রোগ নির্ণয়কে নিশ্চিত করতে হবে। উল্লেখ্য, যৌনবাহিত সংক্রমণের সিনড্রমিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সাধারণত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার সুযোগ নেই ধরে নেয়া হয়। তবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা সম্পূর্ণ করা বা পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়ার কারণে চিকিৎসায় বিলম্ব বা বন্ধ করা যাবে না। ৪. সঠিক রোগ নির্ণয় ইতিহাস, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা (যদি সুযোগ থাকে) এর উপর ভিত্তি করে নিম্নে বর্ণিত কাজসমূহ করতে হবে- • উপযুক্ত ফ্লোচার্ট ব্যবহার করে রোগীর ব্যবস্থাপনা দিতে হবে। • মহিলাদের তলপেটে ব্যথা ও পুরুষদের অণ্ডথলির ব্যথার রোগ নির্ণয়ে সন্দেহ হলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন • নিশ্চিত হতে হবে যে, কোন ধরণের জরুরি শল্য চিকিৎসার বিষয়ে এসব ব্যবস্থাপনা দেয়া হচ্ছে না • অনিশ্চিত হলে আগে ভাগেই ফলো-আপ করতে হবে ৫. দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা উপযুক্ত ফ্লোচার্ট বা গাইডলাইন অনুসরণে রোগীর চিকিৎসা দিতে হবে। বেশিরভাগ সময়ে নিরাময়ের চিকিৎসা দিতে হবে। শুধুমাত্র ভাইরাসজনিত যৌনবাহিত সংক্রমণের ক্ষেত্রে সম্ভব হলে সান্তনামূলক চিকিৎসা দিতে হবে। রোগীকে ঔষধ প্রেসক্রিপশনের সময় নিম্নোক্ত বিষয়সমূহ বলতে হবে- • কমপ্লায়েন্স (Compliance) ব্যবস্থাপত্র অনুসারে চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব রোগীকে জানাতে হবে। কয়েক ডোজ ঔষধ খাবার পর ভালো বোধ করলেও চিকিৎসার কোর্স পূর্ণ করতে হবে। সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগীকে আগেই জানাতে হবে, না হলে কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলেই রোগী চিকিৎসা গ্রহণ বন্ধ করে দিতে পারে। অসহনীয় কোন অবস্থার সৃষ্টি হলে রোগীকে সেবাদানকারীর সাথে যোগাযোগের জন্য উপদেশ দিতে হবে • কাউন্সেলিং রোগীকে যেসব বিষয় কাউন্সেলিং করতে হবে; বর্তমান যৌনবাহিত সংক্রমণ, কীভাবে সংক্রমিত হয়েছে, ব্যাকটেরিয়াজনিত যৌন সংক্রমণ নিরাময়যোগ্য, ভাইরাসজনিত যৌনবাহিত সংক্রমণ পুনরায় হতে পারে, সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণ না করার ফল ইত্যাদি। ঠিকমত চিকিৎসা গ্রহণে ব্যর্থতা নাকি পুনঃসংক্রমণ তা নির্ধারণে পুনঃমূল্যায়ন করতে হবে। এসব কোনটাই না হলে ল্যাবরেটরি সাপোর্ট আছে এমন কোন উচ্চতর সেবাকেন্দ্রে রোগীকে রেফার করতে হবে। এজন্য বারবার কাউন্সেলিং সেশনের প্রয়োজন হতে পারে। • কনডম ব্যবহার ঝুঁকি হ্রাসের জন্য কনডম ব্যবহারের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। কনডম সরবরাহ করা সহ সঠিক ভাবে ব্যবহার পদ্ধতি শেখাতে হবে। কনডম সম্পর্কে কোন সংবেদনশীলতা থাকলে তা দূর করতে হবে, বিশেষভাবে রোগী যদি নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করেন তার সবসময়ই কনডম ব্যবহার করা উচিত। • যৌনসঙ্গী নির্ণয় ও তার চিকিৎসা যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি সম্পর্কে এবং একই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে উভয়েই ছড়াতে পারে তা সেবাগ্রহীতার কাছে ব্যাখ্যা করতে হবে। নিরাপদ যৌন অভ্যাস ও যৌন কাজে বিরত থাকার মাধ্যমে এসব ঝুঁকি হ্রাসের উপায় সেবাগ্রহীতাকে জানাতে হবে - সঙ্গী অথবা স্বামী/স্ত্রীকে যৌন সংক্রমণের অবস্থা নির্ণয় সম্পর্কে জানানো গোপনীয়তা রক্ষা - রোগ প্রতিরোধে তার দায়িত্ব উপলদ্ধি করতে সাহায্য করা - যৌনবাহিত সংক্রমণের সার্বিক ব্যবস্থাপনার একটি অংশ হল যথাযথ চিকিৎসা ও ফলো-আপ উপসর্গসমূহ যদি খারাপের দিকে যায় বা ব্যবস্থাপত্রের চিকিৎসা শেষ করার পরও উপসর্গ থেকে যায় তাহলে রোগীকে আবার আসার জন্য উপদেশ দিতে হবে দ্বৈত সুরক্ষা (Dual protection) দ্বৈত সুরক্ষা বলতে এমন পদ্ধতির ব্যবহার বুঝায় যা একই সঙ্গে যৌনবাহিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয় এবং গর্ভধারণ প্রতিরোধ করে। দ্বৈত সুরক্ষার ৫টি উপায় ১. অন্য একটি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সাথে কনডম ব্যবহার করা ২. নিয়মিত এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে কনডম পরিবার পরিকল্পনার একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। এটিই একমাত্র পদ্ধতি যা একই সাথে যৌনবাহিত সংক্রমণ/এইচআইভি/এইডস প্রতিরোধ করে ৩. আপনি এবং আপনার সঙ্গী যদি সংক্রমণমুক্ত এবং পরস্পর বিশ্বস্ত থাকেন, তাহলে যে কোন পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে ৪. কিছু কিছু যৌন ঘনিষ্ঠতা রয়েছে যেগুলো যৌন সংক্রমণ বা এইচআইভি বিস্তার না করেও তৃপ্তিদায়ক হতে পারে। সর্বোত্তম নিরাপত্তার উপায় হচ্ছে সঙ্গীর বীর্য বা যৌনরসের সংস্পর্শে না আসা ৫. যৌনক্রিয়া বিলম্বিত করা বা এ থেকে বিরত থাকা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমেও দ্বৈত সুরক্ষা লাভ করা যায় যৌনবাহিত সংক্রমণের সিনড্রমিক ব্যবস্থাপনা পুরুষের মূত্রনালির নিঃসরণ/জ্বালাপোড়া কারণ ১. প্রধান জীবাণুসমূহ: Neisseria gonorrhoeae, Chlamydia trachomatis ২. অন্যান্য কারণ: Trichomonas vaginalis, Mycoplasma genitalium সংক্রমণ উপসর্গ/লক্ষণ মূত্রনালির নিঃসরণ এবং/বা প্রস্রাবের সময় ব্যথা/জ্বালা-পোড়া গনোরিয়া Ceftriaxone, ২৫০ মি. গ্রা. মাংসে ইনজেকশন - একক মাত্রা অথবা Cefixime, ৪০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে একক মাত্রা ক্লামাইডিয়া Azithromycin, ১ গ্রাম মুখে খাবে, একক মাত্রা অথবা Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ দুইবার ৭ দিন ফ্লোচার্ট-১: সাধারণ জনগোষ্ঠীর পুরুষদের জন্য ইউরেথ্রাল ডিসচার্জ সিন্ড্রোমের প্রবাহ - চিত্র রোগী সূত্রনালির নিঃসরণের এবং/বা প্রস্রাবে কষ্ট হওয়ার সমস্যা নিয়ে এসেছেন (পানিশূন্যতার কারণে নয়) ইতিহাস দিন ও নিঃসরণ দেখার জন্য পরীক্ষা করুন এবং মূত্রনালি চেপে দেখুন ঝুঁকি যাচাই যেকোন একটি হ্যাঁ-বোধক কিনা? নিশ্চিত ইউরেথ্রাল ডিসচার্জ কনডম ছাড়া গত ৪ সপ্তাহের মধ্যে যৌনকর্মীর সাথে পায়ু বা যোনিপথে যৌনমিলন * গত ৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া পায়ুপথে পুরষাঙ্গ প্রবেশ বা গ্রহণ করে যৌনমিলন। হ্যাঁ STI চিকিৎসা ১ 4CS & HIV পরামর্শদান 2Cs & HIV পরামর্শদান (Counseling & condoms) ৭/১০ দিন পর ফলো আপ যদি উপসর্গ/লক্ষন চলে না যায় তাহলে ইতিহাস নিয়ে দেখুন পুনরায় সংক্রমণ হায়েছে কিনা বা চিকিৎসা সম্পূর্ণ করেছে কিনা ना STI চিকিৎসা ১ পুনঃ প্রদান 4Cs এবং HIV পরামর্শদান STI চিকিৎসা ২ প্রদান 4Cs এবং HIV পরামর্শদান ৭/১০ দিন পর ফলো আপ উন্নতি হয়েছে 2Cs এবং HIV পরামর্শদান না রেফার করুন STI চিকিৎসা ১। Inj. Ceftriaxone 250 mg মাংসপেশীতে একক মাত্রা Tab. Cefixime 400 mg মুখে একক মাত্রা + Tab. Azithromycin 1 gm মুখে একক মাত্রা STI চিকিৎন ২। Tab. Metronidazole 2gm মুখে একক মাত্রা অথবা Tab. Metronidazole 500 mg মুখে দিনে দুইবার করে ৭ দিন পার্টনারের চিকিৎসা। (রোগ নির্ণয় হবার ৬০ দিনের মধ্যে অরক্ষিত যৌন মিলন করেছে এমন সকল পার্টনার। পার্টনারের জন্য একই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। পরামর্শ। রোস্ট এবং তার পার্টনারকে পরবর্তী ৭ দিন অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে হবে। চিকিৎসা Trichomonas vaginalis সংক্রমণ Metronidazole 500 মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ৭ দিন অথবা Tinidazole, 500 মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ৫ দিন Mycoplasma genitalium সংক্রমণ Azithromoicin 500 মি. গ্রা. মুখে এক মাত্রা এবং ২৫০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ১ বার ৪-৬ দিন ফ্লোচার্ট-২: ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পুরুষের ইউরেথ্রাল ডিসচার্জ সিন্ড্রোমের ব্যবস্থাপনা রোগী মুত্রনালির নিঃসরণের বা প্রস্রাবে কষ্ট হওয়ার সমস্যা নিয়ে এসেছেন (পানি শূন্যতার কারণে নয়) ইতিহাস নিন, পরীক্ষা করুন এবং মুত্রনালি চেপে দেখুন এবং প্রয়োজন হলে প্রোক্টোস্কোপি করুন যে কোন একটি হ্যাঁ-বোধক কি না? নিশ্চিত ইউরেথ্রাল ডিসচার্জ গত চার সপ্তাহে যৌনকর্মীর সাথে যোনিপথে বা পায়ুপথে অরক্ষিত যৌনমিলন হ্যাঁ STI চিকিৎসা ১ 4Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন 2Cs & HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন ↓ ৭-১০ দিন পর ফলো-আপের জন্য আসতে হ্যাঁ উন্নতি হয়েছে 2Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন না যদি লক্ষণ/উপসর্গ চলে না যায়, তাহলে ইতিহাস থেকে নিশ্চিত করুন যে পুনঃসংক্রমণ হয়েছে কি না বা সম্পূর্ণ ঔষধ খেয়েছে কিনা? হ্যাঁ STI চিকিৎসা ১ পুনরায় দিন 4Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন না STI চিকিৎসা ২ 4Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন। ৭-১০ দিন ফলোআপের জন্য আসতে বলুন হ্যাঁ উন্নতি হচ্ছে না 2Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন ↑ ৭-১০ দিন ফলো আপের জন্য আসতে বলুন উন্নতি হচ্ছে না হ্যাঁ 2Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন রেফার করুন রেফার করুন পার্টনারের চিকিৎসা: (রোগ নির্ণয় হবার ৬০ দিনের মধ্যে অরক্ষিত যৌনমিলন করেছে এমন সকল পার্টনার) পার্টনারের জন্য একই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হবে। পরামর্শ: রোগী এবং তার পার্টনারকে পরবর্তী ৭ দিন অরক্ষিত যৌনসম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে হবে। 8 STI চিকিৎসা ১: Inj. Ceftriaxone 250 mg মাংস পেশীতে একক মাত্রা অথবা Tab. Cefixime 400 mg মুখে একক মাত্রা + Tab. Azithromycin 1 gm মুখে একক মাত্রা STI চিকিৎসা ২। Tab. Metronidazole 2 gim মুখে একক মাত্রা অথবা Tab. Metronidazole 500 mg মুখে দিনে দুইবার করে ৭ দিন যৌনাঙ্গে ক্ষত সাধারণত হারপিস, সিফিলিস ও শ্যাংক্রয়েড-এর ফলে যৌনাঙ্গে ক্ষত হয়ে থাকে। কোন কোন সময় একসাথে একাধিক সংক্রমণ থাকতে পারে। এ অবস্থায় ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় সম্ভব হয় না। (ক) যৌনাঙ্গে হারপিস সংক্রমণ কারণ: Herpes simplex virus-type 1 & type 2 দ্বারা সংক্রমণ উপসর্গ/লক্ষণ এ অবস্থায় যৌনাঙ্গে অনেকগুলি ব্যথাযুক্ত Vesicle বা ক্ষত দেখা যায়। এর কোন নিরাময় নেই, উপসর্গসমূহ কমানোর জন্য লক্ষণ প্রকাশের পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা শুরু করতে হয়, যা নতুন করে ক্ষত সৃষ্টির সংখ্যা কমায়, ক্ষতের স্থায়িত্ব কমিয়ে দ্রুত সারতে সাহায্য করে, যা পুনঃসংক্রমণের হার ও তীব্রতাকে প্রভাবিত করতে পারে না। চিকিৎসা First clinical episode Acyclovir, ৪০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৩ বার -৭ দিন অথবা Acyclovir, ২০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৫ বার -৭ দিন অথবা Valaciclovir, ১ গ্রাম মুখে খাবে, রোজ ২ বার-৭ দিন অথবা Famciclovir, ২৫০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৩ বার-৭ দিন মারাত্মক অসুস্থতার ক্ষেত্রে Acyclovir, ৫-১০ মি. গ্রা./কেজি শিরায়-৮ ঘন্টা পরপর ৫-৭ দিন অথবা ক্লিনিক্যাল অবস্থার নিরাময় না হওয়া পর্যন্ত Recurrent Episode Acyclovir, ৪০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৩ বার -৭ দিন অথবা Acyclovir, ২০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৫ বার -৫ দিন অথবা Valaciclovir, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার -৫ দিন অথবা Famciclovir, ১২৫ মি. গ্রা. মুখে রোজ ২ বার-৫ দিন Recurrent episode suppress করার জন্য Acyclovir, ৪০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ১ বছর অথবা Valaciclovir, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ১ বার ১ বছর অথবা Famciclovir, ২৫০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ১ বছর বিভিন্ন পর্যায়ে উপসর্গ/লক্ষণ সহ সিফিলিসের প্রকারভেদ ১. জন্মগত (Congenital) - মা থেকে শিশুতে জরায়ুর মধ্যে থাকা অবস্থাতেই সংক্রমিত হয়। ২. অর্জিত (Acquired) (i) Early syphilis - Primary syphilis জীবাণু সংক্রমণের বা গ্রোথিত হওয়ার স্থানে বা ক্ষত বা শ্যাংকার দেখা দেয় Secondary syphilis:Skin rash, condylomata lata, mucocutaneous lesion & generalized lymphadenopathy Early latent syphilis: সংক্রমণ পরবর্তী উপসর্গবিহীন অবস্থা- দুই বছর পূর্ব পর্যন্ত (ii) Late syphilis - Late latent syphilis - Gummatous - Neurological Cardiovascular সংক্রমণের ২ বছর পর থেকে এসব পর্যায় শুরু হয়। Primary, secondary ও early latent সিফিলিস পেনিসিলিনে অ্যালার্জি নেই Benzathine Benzyl Penicillin G 2.4 milllion IU, মাংসে ইনজেকশন - একক মাত্রা অথবা Procaine Benzyl Penicillin 1.2 million IU, মাংসে ইনজেকশন রোজ ১ বার পর পর ১০ দিন অথবা Azithromycin, ২ গ্রাম মুখে খাবে, একক মাত্রা পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে (গর্ভবতী নয়) Azithromycin, ২ গ্রাম মুখে খাবে, একক মাত্রা অথবা Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ১৪ দিন Late latent সিফিলিস পেনিসিলিনে অ্যালার্জি নেই Benzathine Benzyl Penicillin 2.4 milllion IU, মাংসে ইনজেকশন ১ সপ্তাহ পর পর ৩ ডোজ অথবা Procaine Benzyl Penicillin 1.2 million IU, মাংসে ইনজেকশন রোজ ১ বার পর পর ২১ দিন পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে (গর্ভবতী নয়) Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ৩০ দিন অথবা Tetracycline, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার - ৩০ দিন পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে গর্ভবতী মহিলাদের সিফিলিসের চিকিৎসা Azithromycin, ২ গ্রাম মুখে খাবে, একক মাত্রা অথবা Erythromycin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার ১৪ দিন সিফিলিসের প্রাথমিক পর্যায়সমূহ বেশি সংক্রামক এবং চিকিৎসায় অপেক্ষাকৃত ভাল ফল পাওয়া যায়। সিফিলিসের সব পর্যায়েই গর্ভবতী মহিলাদের পেনিসিলিন দিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে (পেনিসিলিনে অ্যালার্জি থাকলে আলাদা রেজিমেন অনুসরণ করতে হবে)। গর্ভকালে সিফিলিস গর্ভবতী মহিলাদের সিফিলিসের চিকিৎসা সব সময় নিবিড়ভাবে ফলো- আপ/পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পুনঃ পুনঃ সংক্রমণ হলে বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন। এক্ষেত্রে যৌন সঙ্গীর চিকিৎসাও করতে হবে। পেনিসিলিনে অ্যালার্জি না থাকলে উপরোক্ত মাত্রায় পেনিসিলিন ইনজেকশন এর সাহায্যে চিকিৎসা করতে হবে। Azithromycin দিয়ে চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, পুনরায় ল্যাব পরীক্ষা এবং শারীরিক পরীক্ষা করে দেখতে হবে চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছে কিনা। (গ) শ্যাংক্রয়েড কারণ Haemophilus ducreyi দ্বারা সংক্রমণ যৌনাঙ্গে ব্যথাযুক্ত ক্ষত এবং/বা কুঁচকির লসিকাগ্রন্থির অস্বাভাবিকতা চিকিৎসা Azithromycin, ১ গ্রাম মুখে খাবে, একক মাত্রা অথবা শ্যাংক্রয়েড Ceftriaxone, ২৫০ মি. গ্রা. মাংসে ইনজেকশন - একক মাত্রা অথবা Ciprofloxacin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ৩ দিন অথবা Erythromycin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার ৭ দিন শ্যাংক্রয়েড: ভালভা শ্যাংক্রয়েড: পেনিস (ঘ) Granuloma inguinale (Donovanosis) কারণ Klebsiella granulomatis দ্বারা সংক্রমণ যৌনাঙ্গে ব্যথাযুক্ত ও ক্রমবর্ধমান ক্ষত দেখা দেয়, কিন্তু লসিকাগ্রন্থিতে কোন অস্বাভাবিকতা দেখা যায় না। চিকিৎসা ডানাজানোসিস Lamphogramaloma Foncream- ইংয়ইনাল সিনড্রোম। এফ্রক সাইন Azithromycin, প্রথম দিনে ১ গ্রাম মুখে একবার, পরদিন থেকে ৫০০ মি. গ্রা. দিনে একবার ৭ দিন অথবা অথবা Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ১৪ দিন Erythromycin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার ১৪ দিন অথবা Tetracycline, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার ১৪ দিন অথবা Trimethoprim 80 মি. গ্রা. + Sulfamethoxazole ৪০০ মি. গ্রা. ২ বড়ি মুখে খাবে রোজ ২ বার ৭ দিন সবগুলো ক্ষতের উপরে সম্পূর্ণরূপে এপিথেলিয়াম তৈরি না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। Granuloma inguinale (Donovanosis) (5) Lymphogranuloma venereum কারণ Chlamydia trachomatis দ্বারা সংক্রমণ যে কোন এক পাশের কুঁচকির লসিকা গ্রন্থির ব্যথাযুক্ত অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। কখনও কখনও যৌনাঙ্গে ক্ষত বা সংক্রমণের স্থানে papule দেখা যায়, যা নিজে নিজেই এক সময় সেরে যায়। চিকিৎসা Lymphogranuloma venereum Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার- ২১ দিন অথবা Erythromycin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার- ২১ দিন অথবা Tetracycline, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার ২১ দিন ফ্লোচার্ট-৩: RPR পরীক্ষা ছাড়া যৌনাঙ্গে ক্ষতের ব্যবস্থাপনা রোগী যৌনাঙ্গে ক্ষত/ব্যথা নিয়ে এসেছেন ইতিহাস নিন, এবং পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন যে এটা স্ক্যাবিস নয় যৌনাঙ্গে ক্ষত আছে? না আশ্বস্ত করুন এবং 2Cs এবং HIV পরামর্শ দিন হ্যাঁ Blisters/vesicles আছে? এবং/বা অতীতে ব্যথা যুক্ত blisters এর ইতিহাস? এবং/বা বার বার একাধিক ক্ষত? ▼ হ্যাঁ Syphilis ১ এবং Chancroid এর চিকিৎসা দিন 4. Cs এবং HIV পরামর্শ দিন ৭-১০ দিন পর ফলোআপ ▼ হারপিস এর ব্যবস্থাপনা নিন 4 Cs এবং HIV পরামর্শ দিন ক্ষত সেরে যাচ্ছে? না ৭-১০ দিন পর ফলোআপ হ্যাঁ না হারপিস এর ব্যবস্থাপনা নিন 4 Cs এবং HIV পরামর্শ দিন ক্ষত সেরে যাচ্ছে? ৭-১০ দিন পর ফলোআপ ক্ষত সেরে যাচ্ছে? হ্যাঁ ক্ষত সেরে না যাওয়া পর্যন্ত ফলো-আপ করতে থাকুন, এবং এরপর ৬ মাস পর ফলোআপ করুন। না রেফার করুন হ্যাঁ না ক্ষত সেরে না যাওয়া পর্যন্ত ফলো আপ করতে থাকুন, এবং এরপর ৬ মাস পর ফলোআপ করুন। রেফার করুন পার্টনারের চিকিৎসা: Symptomatic partner (s): গ্রহীতার মতই চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রদান Asymptomatic partner (s): সিফিলিস এর জন্য প্রযোজ্য- গ্রহীতার মতই চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রদান অন্যান্য কেসের ক্ষেত্রে- ক্লিনিক্যালি মূল্যায়ন বা পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে সেরোলজি/ডায়াগনষ্টিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো। সিফিলিস চিকিৎসা ১: Injection Benzathine Penicillin G, 2.4 million units একক ডোজ গভীর মাংসে শ্যাংক্রয়েড চিকিৎসা: Tab.Azithromycin ১ গ্রা: মুখে এক মাত্রা হারপিস চিকিৎসা: Tab.Acyclovir, ৪০০ মি.গ্রা: দিনে ৩বার ১০ দিন দ্রষ্টব্যঃ সম্ভব হলে সব সিফিলিস রোগীর RPR পরীক্ষা করে ফলো আপ করা উচিৎ যোনিপথে নিঃসরণ কারণ ভ্যাজাইনাইটিস ও সারভিসাইটিস এর কারণে সাধারণত যোনিপথে নিঃসরণ হয়। ১. প্রধান জীবাণুসমূহ Trichomonas vaginalis (TV), Gardnerella vaginalis, Mycoplasma (Bacterial vaginosis- BV), Candida albicans (ক্যানাডিডিয়াসিস) ২. অন্যান্য কারণ Neisseria gonorrhoeae(NG)/Chlamydia trachomatis (CT) চিকিৎসা NG ও CT এর সংক্রমণজনিত সারভিসাইটিস Cefixime ৪০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, একক মাত্রা অথবা Ceftriaxone, ২৫০ মি গ্রা. মাংসে ইনজেকশন - একক মাত্রা এবং Doxycycline*, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার-৭ দিন অথবা Azithromycin, ১ গ্রাম, মুখে খাবে, একক মাত্রা অথবা Erythromycin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার ৭ দিন BV ও TV এর সংক্রমণজনিত ভ্যাজানাইটিস Metronidazole**, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ৭ দিন অথবা Tinidazole, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ৫ দিন ক্যানাডিডিয়াসিস Miconazole অথবা Clotrimazole ২০০ মি. গ্রা. vaginal pessaries যোনিপথে প্রতিদিন - ৩ দিন Clotrimazole অথবা ৫০০ মি. গ্রা. vaginal pessaries. যোনিপথে- একক মাত্রা Nystatin vaginal pessaries 100,000 IU যোনিপথে প্রতিদিন - ১৪ দিন অথবা Fluconazole, ১৫০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, একক মাত্রা যৌনসঙ্গীর চিকিৎসা যোনিপথে স্রাবের রোগীর যৌনসঙ্গীকে জানাতে হবে এবং তার চিকিৎসা করতে হবে। উভয়ের চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যৌনকাজ থেকে বিরত থাকতে বলতে হবে। * গর্ভাবস্থায় Doxycycline নিষিদ্ধ ** Metronidazole দিয়ে চিকিৎসাকালে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে (চিকিৎসা শেষ করার পর ন্যূনতম ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত) ফিজিওলজিক্যাল নিঃসরণ সুস্থ মহিলাদেরও কমবেশি পরিমাণে যোনিপথে স্বচ্ছ এবং সাদা নিঃসরণ দেখা যায়। মাসিকের আগে ও পরে এ নিঃসরণ সাধারণত বৃদ্ধি পায় এবং মাসিকের মাঝামাঝি সময়ে এর জলীয় অংশ বেড়ে যায়। গর্ভকালে, খাবার বড়ি খেলে এবং আইইইডি পরা থাকলেও এর পরিমাণ বেড়ে যায়। ফ্লোচাট-৪: সাধারণ মহিলা জনগোষ্ঠীর যোনিপথে নিঃসরণের ব্যবস্থাপনা (স্পেকুলাম পরীক্ষা ছাড়া) রোগীর সমস্যা: যোনিপথে নিঃসরণ, ভালভায় চুলকানি বা জ্বালাপোড়া নিয়ে এসেছেন। ঝুঁকি নিরূপণ: • মহিলার স্বামীর যদি যৌনরোগ থাকে বা একাধিক যৌনসঙ্গী থাকে ■ মহিলার স্বামী ছাড়া অন্য যৌনসঙ্গী থাকে ইতিহাস নিন, ঝুঁকি নিরূপণ করুন • পরীক্ষা করুন • স্বাভাবিক নিঃসরণ থেকে আলাদা করুন স্বাভাবিক নিঃসরণ কিন্তু ঝুঁকি নিরূপণ পজিটিভ। ►STI চিকিৎসা ১ & 4Cs অস্বাভাবিক নিঃসরণ বা ভালভায় লালচে? যৌনাঙ্গে অন্য কোন সমস্যা? হ্যা • স্বাস্থ্য শিক্ষা দিন ও কাউন্সেলিং করুন • কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করুন ও কনডম সরবরাহ করুন। হ্যাঁ না না হ্যাঁ উপযুক্ত ফ্লোচার্ট ব্যবহার করুন এবং/বা সঠিক চিকিৎসা দিন তলপেটে টনটনে ব্যথা? না তলপেটে ব্যথার ব্যবস্থাপনা ফ্লোচার্ট ব্যবহার করুন STI চিকিৎসা ২ ভালভা ফোলা ও লালচে/দইয়ের মত নিগ্রসরণ বিদ্যমান? না STI চিকিৎসা ৩ না স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং কাউন্সেলিং করুন, কনডম ব্যবহারে উৎসাহিত করুন এবং কনডম সরবরাহ করুন। পার্টনারের চিকিৎসা: (সমস্যা চিহ্নিত হবার পর ৬০ দিনের মধ্যে যারা অরক্ষিত যৌনমিলন করেছে তাদের সকলের জন্য।) গনোরিয়া এবং ক্লামাইডিয়া: ইনজেকশন Ceftriaxone 250 মি.গ্রা. একক মাত্রা অথবা Cefixime 400 মি.গ্রা.. মুখে খাওয়ার জন্য-একক মাত্রা Bacterial Vaginosis & Vaginal Candidiasis: চিকিৎসার প্রয়োজন নেই Trichomoniasis: যৌনবাহিত সংক্রমণ চিকিৎসায় ২ গ্রাম Metronidazole মুখে খাওয়া এক বার বা ৫০০ মি.গ্রা. ৭ দিন দুই বার করে। পরামর্শ: সে এবং তার পার্টনারের চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা উপসর্গ ভালো না হওয়া পর্যন্ত ৭ দিন অরক্ষিত যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে বলুন। STI চিকিৎসা ১ Inj. Ceftriaxone 250 mg IM একক মাত্রা OR Cefixime 400 mg মুখে একক মাত্রা+ Tab. Azithromycin 1. gm মুখে একক মাত্রা STI চিকিৎসা ২ Metronidazole 2g মুখে একক মাত্রা বা 500 mg দিনে দুইবার ৭ দিন STI চিকিৎসা ৩ Cap Fluconazole 150mg মুখে একক মাত্রা ফ্লোচার্ট-৫: সাধারণ মহিলা জনগোষ্ঠীর যোনিপথে নিঃসরণের ব্যবস্থাপনা (স্পেকুলাম পরীক্ষা দিয়ে) রোগী যোনিপথে নিঃসরণ নিয়ে এসেছেন ইতিহাস নিন এবং পরীক্ষা করুন ▼ ঝুঁকি নিরূপণ পজিটিভ? • বাইম্যানুয়াল পরীক্ষার সময় Cervical motion tenderness হ্যাঁ না ▼ (CMT) থাকা এবং • জরায়ুর মুখ থেকে নিঃসরণ • জরায়ুর মুখ ভঙ্গুর • যৌন সংক্রমণে আক্রান্ত এমন পার্টনারের সাথে শেষ ৪ সপ্তাহের মধ্যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ছাড়া যৌন মিলন হয়েছে নিঃসরণ • অত্যাধিক নিঃসরণ • পানির মত স্বচ্ছ • ধূসর সাদা বর্ণের বাজে গন্ধ যুক্ত দইয়ের মতো নিঃসরণ ▼ • ফেনার মত STI চিকিৎসা। 4Cs & HIV কাউন্সেলিং দিন STI চিকিৎসা ৩ STI চিকিৎসা 2 4Cs & HIV কাউন্সেলিং দিন ৭-১০ দিন পর ফলোআপ করুন ৭-১০ দিন পর ফলোআপ করুন যদি লক্ষণ/উপসর্গ বিদ্যমান থাকে ইতিহাস নিয়ে পুনঃসংক্রমণ হয়েছে কিনা বা পূর্বের চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা হয়নি তা নিশ্চিত করুন? হ্যাঁ পুনরায় STI চিকিৎসা ১ দিন হ্যাঁ যদি লক্ষণ/উপসর্গ বিদ্যমান থাকে ইতিহাস নিয়ে পুনঃসংক্রমণ হয়েছে কিনা বা পূর্বের চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা হয়নি তা নিশ্চিত করুন? না না রেফার করুন রেফার করুন পার্টনারের চিকিৎসা: (সমস্যা চিহ্নিত হবার পর ৬০ দিনের মধ্যে যারা অরক্ষিত যৌনমিলন করেছে তাদের সকলের জন্য।) গনোরিয়া এবং ক্লামাইডিয়া: ইনজেকশন Ceftriaxone 250 মি.গ্রা. একক মাত্রা অথবা Cefixime 400 মি.গ্রা.. মুখে খাওয়ার জন্য-একক মাত্রা Bacterial Vaginosis & Vaginal Candidiasis: চিকিৎসার প্রয়োজন নেই ২ গ্রাম Metronidazole মুখে খাওয়া এক বার বা ৫০০ মি.গ্রা. ৭ দিন দুই Trichomoniasis: যৌনবাহিত সংক্রমণ চিকিৎসায় বার করে। পরামর্শ: সে এবং তার পার্টনারের চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা উপসর্গ ভাল না হওয়া পর্যন্ত ৭ দিন অরক্ষিত যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে বলুন। STI চিকিৎসা ব্যবস্থা ১ Inj. Ceftriaxone 250 mg IM একক মাত্রা OR Cefixime 400 mg মুখে একক মাত্রা + Tab. Azithromycin 1 gm মুখে একক মাত্রা STI চিকিৎসা ব্যবস্থা ২ Metronidazole 2g মুখে একক মাত্রা বা 500 mg দিনে দুইবার ৭ দিন STI চিকিৎসা ব্যবস্থা ৩ Tab/Cap Fluconazole 150mg মুখে একক মাত্রা ফ্লোচাট-৬: ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর যোনিপথে নিঃসরণের ব্যবস্থাপনা (স্পেকুলাম পরীক্ষা দিয়ে) যৌনকর্মী সেবাদান কেন্দ্রে এসেছেন ইতিহাস নিন এবং পরীক্ষা করুন (বাহ্যিক, বাইম্যানুয়াল এবং স্পেকুলাম) ▼ নিম্নোক্ত যে কোন একটি হ্যাঁ-বোধক হয়? হ্যাঁ না ▼ • গত ৩ মাস সেবাদান কেন্দ্রে আসেননি। • শতভাগ কনডম ব্যবহার করেননি বা শেষ ৪ সপ্তাহে কনডম ব্যবহার করেননি • হাতহাস থেকে বা পরীক্ষা থেকে অস্বাভাবিক যোনিস্রাবের সমস্যা ধরা পড়া • বাই ম্যানুয়াল পরীক্ষার সময় সার্ভিকাল মোশন টেন্ডারনেস থাকা • জরায়ুমুখ থেকে দৃশ্যমান পুঁজ বের হওয়া • জরায়ু মুখ ভঙ্গুর STI চিকিৎসা ১ এবং ২ 4Cs এবং HIV ঝুঁকির পরামর্শ দধির মত যোনিপথে স্রাব বের হওয়া (চুলকানি সহ অথবা ছাড়া) ▼ 2Cs এবং HIV পরামর্শ ৭ দিন পর ফলো আপ ▼ STI চিকিৎসা ৩ যদি লক্ষণ/উপসর্গ বিদ্যমান থাকে ইতিহাস নিয়ে পুনঃসংক্রমণ হয়েছে কিনা বা পূর্বের চিকিৎসা সম্পূর্ণ করা হয়নি তা নিশ্চিত করুন? ▼ হ্যাঁ পুনরায় STI চিকিৎসা ১ এবং ২ দিন ফলোআপ ৭-১০ দিন পর। না রেফার করুন না উন্নতি হয়েছে হ্যাঁ 2Cs এবং HIV পরামর্শ পার্টনারের চিকিৎসা: (সমস্যা চিহ্নিত হবার পর ৬০ দিনের মধ্যে যারা অরক্ষিত যৌনমিলন করেছে তাদের সকলের জন্য।) গনোরিয়া এবং ক্লামাইডিয়া: ইনজেকশন Ceftriaxone 250 মি.গ্রা. একক মাত্রা অথবা Cefixime 400 মি.গ্রা..মুখে খাওয়ার জন্য-একক মাত্রা Bacterial Vaginosis & Vaginal Candidiasis: চিকিৎসার প্রয়োজন নেই Trichomoniasis: যৌনবাহিত সংক্রমণ চিকিৎসায় ২ গ্রাম Metronidazole মুখে খাওয়া এক বার বা ৫০০ মি.গ্রা. ৭ দিন দুই বার করে। পরামর্শ: সে এবং তার পার্টনারের চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত বা উপসর্গ ভাল না হওয়া পর্যন্ত ৭ দিন অরক্ষিত যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে বলুন। STI চিকিৎসা ১ Injection Ceftriaxone 250 মি.গ্রা. একক মাত্রা বা Tab. Cefixime 400 মি. গ্রা. মুখে খাওয়ার একক মাত্রা + Tab.Azithromycin ১.গ্রা. মুখে একক মাত্রা STI চিকিৎসা ২ Tab. Metronidazole ২গ্রা. মুখে একক মাত্রা বা Metronidazole 500 মি.গ্রা. মুখে প্রতিদিন দুইবার করে ৭ দিন STI চিকিৎসা ৩ Cap/Tab.Fluconazole 150 মি.গ্রা. মুখে একক মাত্রা তলপেটে প্রদাহ তলপেটে প্রদাহ বা PID (Pelvic Inflammatory Disease) বলতে মহিলাদের প্রজননতন্ত্রের ভিতরের অংশে সংক্রমণকে বুঝায়। যেমন: এন্ডোমেট্রিওসিস, স্যালপিনজাইটিস, উফোরাইটিস এবং তলপেটে পেরিটোনিয়ামে প্রদাহ (Peritonitis)। কারণ N. gonorrhoeae, C. trichomatis, এবং অবায়বীয় (Anaerobic) ব্যাকটেরিয়া সার্ভিক্স থেকে উপরে উঠে সংক্রমণ ঘটালে তলপেটের প্রদাহ হতে পারে। এ কারণে তলপেটের প্রদাহ এর ব্যবস্থাপনায় এসব ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণের চিকিৎসা করতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে Gram-negative rod এবং M. hominis- দ্বারা সংক্রমণের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। উপসর্গ / লক্ষণ পেটে ব্যথা, সহবাসে ব্যথা, যোনিপথে নিঃসরণ, অতিরিক্ত মাসিক স্রাব, প্রস্রাবে জ্বালা-পোড়া মাসিকের সময় ব্যথা, জ্বর এবং কোনো কোনো সময় বমি বমি ভাব। তলপেটের প্রদাহের ফলে বন্ধ্যাত্ব এবং জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের মত জটিলতাও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসা গনোরিয়া Ceftriaxone, ২৫০ মি. গ্রা. ইনজেকশন মাংসে একক মাত্রা অথবা Cefixime, ৪০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, একক মাত্রা ক্ল্যামাইডিয়া Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ১৪ দিন অথবা Erythromycin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার ১৪ দিন অবায়বীয় জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ Metronidazole, ৫০০ মি. গ্রা. রোজ ২ বার ১৪ দিন ফ্লোচার্ট-৬ : তলপেটে প্রদাহের ব্যবস্থাপনা (LAP) রোগীর তলপেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে এসেছেন ইতিহাস নিন এবং পরীক্ষা করুন PID এর চিকিৎসা ব্যবস্থা: Inj. Ceftriaxone 250 mg মাংসপেশিতে এক মাত্রা + Cap. Doxycycline 100 mg মুখে দিনে দুইবার করে ১৪ দিন + Tab. Metronidazole 500 mg মুখে দিনে দুইবার করে ১৪ দিন নিচের কোন একটি লক্ষণ আছে কি না? • মাসিক বাদ পড়েছে বা সম্ভাব্য তারিখ অতিক্রান্ত হয়েছে। • সম্প্রতি প্রসব বা গর্ভপাত হয়েছে। • Abdominal guarding • Rebound tenderness • যোনিপথে অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ সারভিক্স নাড়াচাড়ার সময় ব্যথা এবং/বা তলপেটে টনটনে ব্যথা সাথে যোনিপথে নিঃসরণ অথবা জরায়ু মুখ থেকে নিঃসরণ হ্যাঁ FSWs: Enhanced Syndromic ব্যবস্থাপনার ফ্লোচার্ট এর নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীকে চিকিৎসা দিতে হবে। না অন্যকোন অসুবিধা? সাধারণ জনগোষ্ঠী: রোগীকে VDS ফ্লোচার্ট অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে, কাউন্সেলিং এবং কনডম ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিতে হবে/উৎসাহিত করতে হবে। না হ্যাঁ না জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে সার্জারি বা Gynaecology assessment এর জন্য রেফার করুন। PID চিকিৎসা দিন 4Cs & HIV পরামর্শ দিন যথাযথ ব্যবস্থা নিন তিন দিন পর ফলোআপ করুন অবস্থার উন্নতি হয়েছে? না স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পরামর্শের জন্য রেফার করুন হ্যাঁ চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বলুন ১৪ দিন পর ফলো-আপ করুন 4Cs & HIV পরামর্শ দিন জরুরী ভিত্তিতে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে যখন: • ঠিক রোগ নির্নয় করতে না পারা। • সার্জিক্যাল ইমারজেন্সি যেমন appendicitis বা জরায়ুর বাইরে গর্ভ ধারণ এমন সন্দেহ থাকলে • তলপেটে ফোঁড়া আছে সন্দেহ করলে। • গুরুতর অসুস্থতায় বহির্বিভাগে চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্ভব না হলে। • রোগী গর্ভবতী হলে • রোগী বহির্বিভাগের দেওয়া চিকিৎসা অনুসরণ করতে সমর্থ না হলে। • বহির্বিভাগের চিকিৎসায় রোগীর উন্নতি না হলে। পার্টনারের চিকিৎসা ব্যবস্থা: রোগীর লক্ষণ দেখা যাওয়ার পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে পার্টনারের সাথে যৌনসম্পর্ক হয়ে থাকলে পার্টনারের মূল্যায়ন ও পরীক্ষা করে Chlamydia এবং gonorrhoea চিকিৎসা দিতে হবে। চিকিৎসা: Inj. Ceftriaxone 250 mg একক ডোজ মাংসপেশিতে অথবা Cefixime 400 mg মুখে এক মাত্রা + Azithromycin 1 gm মুখে এক মাত্রা পরামর্শ: লক্ষণগুলো সেরে না যাওয়া পর্যন্ত বা চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অরক্ষিত যৌনসম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে বলুন। অণ্ডথলি ফুলে যাওয়া কারণ ১ । প্রধান জীবাণুসমূহ: N. gonorrhoeae ও C. trichomatis ২। অন্যান্য কারণ: যক্ষ্মা, ফাইলেরিয়া এবং Escherichia coli, Klebsiella spp. Pseudomonas aeruginosa দ্বারা সংক্রমণ উপসর্গ ও লক্ষণ এপিডিডাইমিসে প্রদাহের (Epididymitis)-এর ফলে সাধারণত এক দিকের অণ্ডকোষে তীব্র ব্যথা শুরু হয়ে ফুলে উঠে। প্রায়শই এর সাথে এপিডিডাইমিস এবং ভাস ডিফারেন্সে টনটনে ব্যথা হয়। কোনো কোনো সময়-এর উপরের অণ্ডথলির চামড়া লালচে হয়ে যায় এবং ফুলে উঠে। পাশের অণ্ডকোষটিতে প্রদাহ হয়ে Epididymo-orchitis হতে পারে। এসব অবস্থার দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা না করালে অণ্ডকোষের টিস্যুতে Fibrous scar এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে বন্ধ্যাত্ব হতে পারে। অণ্ডথলিতে হঠাৎ ব্যথা ও ফুলে উঠলে অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে যাওয়া (Testicular torsion) সন্দেহ করতে হবে। এটা Surgical emergency এবং এর জন্য দ্রুত হাসপাতালে রেফার করতে হবে। অণ্ডথলি ফুলে ওঠা সংক্রমণজনিত না হলে কারণ হিসেবে আঘাত বা টিউমারকে বিবেচনায় আনা গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লোচার্ট-৭ : অণ্ডথলি ফুলে যাওয়ার ব্যবস্থাপনা (SSS) রোগীর সমস্যা অণ্ডকোষ ফোলা বা ব্যথা A ইতিহাস নিন এবং পরীক্ষা করুন না আশ্বস্ত করা ব্যথানাশক ঔষধ দেওয়া Scrotal elevation & support 2Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন ফুলে যাওয়া বা ব্যথা নিশ্চিত হ্যাঁ অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে গেছে বা উপরে উঠে গেছে অথবা আঘাতের ইতিহাস আছে? না STI চিকিৎসা ১ 4Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন হ্যাঁ সার্জারিতে রেফার করুন ৭ দিন পর ফলো আপের জন্য আসতে বলুন উন্নতি হয়েছে হ্যাঁ 2Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন না রেফার করুন পার্টনারের চিকিৎসা ব্যবস্থা (সবার জন্য, রোগ নির্ণয় হবার ৬০ দিনের মধ্যে অরক্ষিত যৌনমিলন হলে) Gonorrhea & Chlamydia: Inj. Ceftriaxone 250 mg মাংসপেশিতে একক ডোজ প্রয়োগ করতে হবে অথবা, Cefixime 400 mg মুখে এক মাত্রা + Azithromycin 1 gm মুখে খাওয়ার একক ডোজ পরামর্শ: রোগী এবং তার পার্টনারকে পরবর্তী ৭ দিন অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে হবে,। STI চিকিৎসা ১ Inj. Ceftriaxone 250 mg মাংসপেশিতে একক ডোজ প্রয়োগ করতে হবে + Tab. Azithromycin 1 gm মুখে একমাত্রা চিকিৎসা গনোরিয়া Ceftriaxone, ২৫০ মি. গ্রা. ইনজেকশন মাংসে একক মাত্রা ক্ল্যামাইডিয়া Tab. Azithromycin 1 gm মুখে একমাত্রা অথবা Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ১৪ দিন অবায়বীয় জীবাণু দ্বারা সংক্রমণ অণ্ডকোষে প্রদাহ ও জ্বর না কমা পর্যন্ত পূর্ণ বিশ্রাম, ব্যথা ও জ্বরের ঔষধ এবং অণ্ডথলির সাপোর্ট কুঁচকিতে ফোলা ১। প্রধান কারণ: Lymphogranuloma Venereum (LGV), শ্যাংক্রয়েড ২। যৌনবাহিত সংক্রমণ নয় এমন অন্যান্য কারণ: - পা / নিম্নাঙ্গে সংক্রমণ এবং - যক্ষ্মার কারণে লসিকাগ্রন্থির অস্বাভাবিকতা উপসর্গ/লক্ষণ কুঁচকির লসিকাগ্রন্থি ব্যথা হয়ে ফুলে Flactuant হয়ে যাওয়া। শ্যাংক্রয়েড-এর সাথে হলে ক্ষত দেখা যায়। কোনো কোনো সময় Bubo ফেটে সাইনাস তৈরি হয়ে সেখান থেকে নিঃসরণ হতে পারে। স্ফীত লসিকাগ্রন্থিতে প্রচণ্ড/তীব্র (Acute) প্রদাহ না হলে একে Bubo বলা যাবে না। চিকিৎসা শ্যাংক্রয়েড Azithromycin, ১ গ্রা. মুখে খাবে, একক মাত্রা অথবা Ciprofloxacin, ৫০০ মি. গ্রা. খাবে, রোজ ২ বার-৩ দিন LGV Doxycycline, ১০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ২ বার ২১ দিন অথবা Erythromycin, ৫০০ মি. গ্রা. মুখে খাবে, রোজ ৪ বার- ২১ দিন • কোনো কোনো ক্ষেত্রে চিকিৎসার জন্য ১৪ দিনের বেশি সময় লাগতে পারে • ইনসিশন, ড্রেন দেওয়া বা গ্রন্থি কেটে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা উচিত না • কোনো সন্দেহ হলে বা আরোগ্য লাভ না হলে Diagonostic biopsy করার জন্য রেফার করতে হবে ফ্লোচার্ট-৮ : কুঁচকি ফুলে যাওয়ার ব্যবস্থাপনা (IBS) রোগী কুঁচকিতে ফোলা/ব্যথার অভিযোগ নিয়ে এসেছেন ইতিহাস নিন এবং পরীক্ষা করুন Inguinal/femoral bubo (s) বর্তমানে আছে? না না যৌনাঙ্গে অন্যকোন সমস্যা? 2Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন হ্যাঁ হ্যাঁ উপযুক্ত ফ্লোচার্ট ব্যবহার করুন ক্ষত আছে? না Chancroid এবং LGV চিকিৎসা দিন লসিকাগ্রন্থি fluctuant হলে, সুস্থ্য চামড়ার মধ্য দিয়ে aspirate করুন 4Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন হ্যাঁ যৌনাঙ্গ ক্ষতের ফ্লোচার্ট ব্যবহার করুন ৭ দিন পর পুনরায় দেখুন উন্নতি হয়েছে হ্যাঁ চিকিৎসা সেবা চলবে না রেফার করুন পার্টনারের চিকিৎসা ব্যবস্থা: (রোগ নির্ণয় হবার ৬০ দিনের মধ্যে অরক্ষিত যৌনমিলন করেছে এমন সকল পার্টনার)। পার্টনারের চিকিৎসা ব্যবস্থা একই হবে। গর্ভাবস্থায় এবং দুগ্ধদানকারী মাকে Doxycycline দেওয়া যাবে না। Erythromycin 500 mg করে ৬ ঘন্টা পর পর ২১ দিন খেতে হবে। পরামর্শ: রোগী এবং তার পার্টনারকে পরবর্তী ৭ দিন অরক্ষিত যৌনসম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং চিকিৎসা সম্পূর্ণ করতে হবে। Chancroid চিকিৎসা ব্যবস্থা Tab.Azithromycin: 1 gm মুখে একক মাত্রা LGV চিকিৎসা ব্যবস্থা Cap. Doxycycline: 100 mg মুখে প্রতিদিন দুই বার করে ২১ দিন। নবজাতকের কনজাংটিভাইটিস কারণ ১। প্রধান জীবাণুসমূহ: N. gonorrhoeae ও C. trachomatis উপসর্গ ও লক্ষণ জন্মের ৪ সপ্তাহের মধ্যে নবজাতকের পুঁজযুক্ত কনজাংটিভাইটিস (চোখের পাতা ফুলে যাওয়া, এবং/ বা নিঃসরণ হতে থাকা) বা Ophthalmia neonatorum হতে পারে। চিকিৎসায় দেরী হলে - N. gonorrhoeae সংক্রমণের ফলে অন্ধত্ব এবং C. trichomatis সংক্রমণের ফলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা গনোরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিস Inj. Ceftriaxone, ৫০ মি. গ্রা./ কেজি (সর্বোচ্চ মোট ১৫০ মি. গ্রা.) মাংসে একক মাত্রা অথবা Inj. Kanamycin, ২৫ মি. গ্রা./ কেজি (সর্বোচ্চ মোট ৭৫ মি. গ্রা.) মাংসে একক মাত্রা অথবা Inj. Spectinomycin, ২৫ মি. গ্রা./ কেজি (সর্বোচ্চ মোট ৭৫ মি. গ্রা.) মাংসে একক মাত্রা ক্ল্যামাইডিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিস Azithromycin Suspension 30 mg/kg মুখে দিনে একবার করে তিন দিন • পার্থক্য করতে না পারলে একসাথে সম্ভাব্য সকল জীবাণু সংক্রমণের চিকিৎসা দিতে হবে। • চোখ থেকে নিঃসরণ দেখা গেলে, ফোটানো ঠাণ্ডা করা পানি বা বিশুদ্ধ স্যালাইন দিয়ে পরিষ্কার নরম cotton bud ভিজিয়ে বাচ্চার চোখে ভিতর থেকে বাইরের দিকে মুছবেন। • বাচ্চার মাকে গনোরিয়া ও ক্ল‍্যামাইডিয়ার চিকিৎসা করতে হবে। তার জন্য যৌনসঙ্গীর সংক্রমণের অবস্থা যাচাই এবং চিকিৎসা করতে হবে ফ্লোচার্ট-৯ : নবজাতকের চোখে সংক্রমণ ব্যবস্থাপনা নবজাতকের চোখে সংক্রমণ এবং ডিসচার্জ ইতিহাস নিন এবং চোখ পরীক্ষা করুন ▼ এক চোখ বা দুই চোখে পুঁজ যুক্ত নিঃসরণ এবং ফুলে চোখ বন্ধ হয়ে যাওয়া হ্যাঁ নবজাতকের চিকিৎসা: Inj. Ceftriaxone 50 mg/kg (সর্বোচ্চ ১৫০ মি.গ্রা.) মাংসপেশিতে একবার + Azithromycin Suspension 30 mg/kg মুখে দিনে একবার করে তিন দিন ৩দিন পর পুনরায় আসতে বলুন। না মা কে আশ্বস্ত করুন এবং 2Cs এবং HIV সম্পর্কে পরামর্শ দিন পিতা-মাতার চিকিৎসা: • Inj. Ceftriaxone 250 mg মাংসপেশিতে একবার, অথবা Cefixime 400 mg মুখে এক মাত্রা, + • Tab. Azithromycin 1 gm মুখে এক মাত্রা, • পুনরায় আশ্বস্ত করা • 4Cs • ৩ দিন পর পুনরায় আসতে বলুন। রোগীর উন্নতি হয়েছে? না রেফার করুন হ্যাঁ • চিকিৎসা সম্পূর্ণ করুন • পিতা-মাতাকে আশ্বস্ত করুন জেনিটাল ওয়ার্ট কারণ Human papilloma virus (HPV) এর বিভিন্ন জেনোটাইপ দ্বারা সংক্রমণের ফলে এসব অবস্থার সৃষ্টি হয়। উপসর্গ ও লক্ষণ যৌনাঙ্গে ও মলদ্বারে ওয়ার্ট এক বা একাধিক গ্রোথ হিসেবে দেখা যায়। নরম ও নন-কেরাটিনাইজড ওয়ার্ট, এতে কোনো লোম থাকে না। কেরাটিনাইজড ওয়ার্ট শুষ্ক ত্বকে দেখা যায়। এতে কোনো ব্যথা থাকে না বা এর ফলে তেমন কোনো জটিলতা দেখা যায় না। শুধুমাত্র প্রসবকালে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আক্রান্ত অংশ ফুলকপির মতো দেখা যায়। গর্ভকালে এগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেতে বা ছড়িয়ে পড়তে পারে। ব্যবস্থাপনার জন্য যৌনসঙ্গীকে পরীক্ষা এবং চিকিৎসা দিতে হবে। ছড়ানো প্রতিরোধ করার জন্য কনডম ব্যবহার করতে হবে। মা থেকে নবজাতকের শরীরে ছড়াতে পারে। চিকিৎসা জেনিটাল ওয়ার্ট রাসায়নিক ব্যবহার Podophyllin 25% Podophyllotoxin 0.5% Trichloroacetic acid (TCA) - 80-90% Imiquimod 5% ভৌত উপায় (সাধারণত প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে এসব চিকিৎসার সুযোগ থাকে না) Cryotheraphy Electrosurgery Surgical removal HPV-এর বিরুদ্ধে কার্যকর তেমন কোনো ঔষধ নাই। কোনো চিকিৎসাই সন্তোষজনক নয়। আক্রান্ত স্থানে ঔষধ ব্যবহারের মাধ্যমে এই রোগ দূর করা গেলেও পুনরায় হবার আশঙ্কা থাকে। চিকিৎসা শুরুর আগে রোগীকে এ বিষয় জানানো প্রয়োজন। অধ্যায় – ১৯ মানসম্পন্ন সেবা পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ১৯ মানসম্পন্ন সেবা মানসম্পন্ন সেবা (Quality of Care) স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার ক্ষেত্রে সেবাদানকারীদের চাহিদা সঠিক সময়ে, সঠিক উপায়ে এবং নিরাপদভাবে সম্পাদনই হচ্ছে মানসম্পন্ন সেবা। স্থান, কাল, পাত্র, অবস্থান এবং পরিস্থিতি ভেদে কোয়ালিটি বা মানের সংজ্ঞা ভিন্ন হয়ে থাকে। মান উন্নয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকেন্দ্র ও সেবাদানকারী কারো নিকটই নিম্নমানের কাজ কাম্য নয়। কোন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন না হলে তা আবার করতে হয় এবং এর জন্য অতিরিক্ত সময়, শ্রম ও অর্থ অপচয় হয়। এছাড়াও সেবার মান খারাপ হলে গ্রহীতা জটিলতায় ভোগেন এবং অন্যরাও সেই সেবা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন। তাই সেবাদানকারী এবং সেবাদানকেন্দ্র থেকে মানসম্পন্ন সেবা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। মানসম্পন্ন সেবা প্রদান প্রক্রিয়া মানসম্পন্ন সেবাদান একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সেবাদানকারী এবং নিয়মিত সহযোগিতামূলক তত্ত্বাবধানের ব্যবস্থা। সহযোগিতামূলক তত্ত্বাবধায়ক (Facilitative Supervisor) সমস্যা চিহ্নিতকরণ ও সমাধানে এবং মান নিরূপণের ক্ষেত্রে গ্রহীতার অধিকার ও সেবাদানকারীর চাহিদা উভয়ের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করেন। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ কর্ম পরিকল্পনা ও অগ্রাধিকার প্রদান কার্য সম্পাদন ফলো-আপ ও মূল্যায়ন সেবার মৌলিক উপাদানসমূহ (Fundamentals of care) প্রত্যেক সেবাকেন্দ্রের লক্ষ্য, মানসম্মত সেবা প্রদান করা। একটি কেন্দ্রের মানসম্মত সেবাপ্রদান, বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করে। এ সকল প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়, যা সেবার মৌলিক উপাদান হিসেবে বিবেচিত। তিনটি ভাগ হলো- ১. অবহিত পছন্দ এবং স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা ২. ক্লিনিক্যাল সেবাদানের প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ৩. ধারাবাহিক মান উন্নয়ন এবং তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া সেবার মৌলিক উপাদনসমূহকে সংক্ষেপে বলা যায়-পছন্দ, নিরাপত্তা এবং মানের নিশ্চয়তা। সেবার মৌলিক উপাদানসমূহ-পছন্দ, নিরাপত্তা এবং মানের নিশ্চয়তা-এ তিনটি হল মূল চাবিকাঠি। অবহিত পছন্দ এবং স্বেচ্ছা সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করা এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে একজন ব্যক্তি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা সেবার ক্ষেত্রে জেনে, বুঝে, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে, বিকল্প ব্যবস্থাকে বিবেচনা করে স্বেচ্ছায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রজনন স্বাস্থ্য সেবায় অবহিত পছন্দ ও স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে, অবশ্যই প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সব ধরণের সেবা পাওয়ার ও জানার সুযোগ থাকতে হবে। গ্রহীতা ও সেবাদানকারীর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক, যথাযথ কাউন্সেলিং এবং রেফার করার মাধ্যমে একজন সেবাদানকারী গ্রহীতাকে স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে সাহায্য করতে পারেন। ক্লিনিক্যাল সেবাদানের প্রক্রিয়া এবং পদ্ধতির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা, গ্রহীতা এবং সেবাদানকারী উভয়ের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ক্লিনিক্যাল পদ্ধতির প্রক্রিয়া তখনই নিরাপদ হয়, যখন একজন দক্ষ সেবাদানকারী আধুনিক, মানসম্মত এবং গাইডলাইন বা প্রটোকল অনুযায়ী সেবা প্রদান করেন। ধারাবাহিক মান উন্নয়ন এবং তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিতকরণ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যার জন্য প্রয়োজন সঠিক ব্যবস্থাপনা, মানের নিশ্চয়তা এবং তত্ত্বাবধান প্রক্রিয়া। মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিতকরণ প্রক্রিয়া কার্যকর করার জন্য সেবাকেন্দ্রের সেবাদানকারী, ব্যবস্থাপক, তত্ত্বাবধায়ক সকলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সমাজ এবং গ্রহীতাও এ ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত। সেবার মৌলিক উপাদানসমূহ কেন গুরুত্বপূর্ণ সেবার মৌলিক উপাদানসমূহ হল উচ্চ মানসম্পন্ন পরিবার পরিকল্পনা এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার ভিত্তি। সুতরাং সেবার প্রত্যেকটি স্তরে এর প্রতিফলন থাকা উচিত। মৌলিক উপাদানসমূহের প্রতি সার্বক্ষণিক মনোযোগ দেয়া হলে মানসম্মত সেবা ধরে রাখা যায়। পরিবার পরিকল্পনা সেবার উন্নয়নের চাবিকাঠি হল সেবার মৌলিক উপাদানসমূহ। সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, উচ্চ মানসম্পন্ন সেবা গ্রহীতার সন্তুষ্টি আনতে সাহায্য করে এবং তার ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার বেড়ে যায় এবং পদ্ধতি ধরে রাখার হার বৃদ্ধি পায়। এতে সেবাদানকারীর কাজের সন্তুষ্টিও বেড়ে যায়। সেবা গ্রহীতা পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি দীর্ঘদিন ব্যবহার করে যদি এটি তাদের পছন্দ অনুযায়ী হয় ও প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হয়। সেবার মৌলিক উপাদানসমূহ গ্রহীতার আধকার ও সেবাদানকারীর চাহিদার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই উপাদানসমূহ গ্রহীতার কেন্দ্রভিত্তিক সেবাকে নিশ্চিত করে এবং সেবাদানকারীর জন্য একটি সুষ্ঠ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। সেবার মৌলিক উপাদানসমূহে গ্রহীতা ও সেবাদানকারী উভয়ের বিষয়ই প্রতিফলিত হয়। মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তিনটি উপাদনই অত্যাবশ্যকীয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, সেবাদানকারী যদি যথাযথভাবে গ্রহীতাকে পরিবার পরিকল্পনা কাউন্সেলিং করে কিন্তু সংক্রমণ প্রতিরোধের সঠিক নিয়ম না মানেন, তাহলে সেবার মৌলিক দিকসমূহ পূর্ণ হয় না এবং সেবার মান ক্ষুন্ন হয়। ক্লিনিক্যাল সেবার অপরিহার্য মান (Essential Clinical Quality) ক্লিনিক্যাল সেবার অপরিহার্য মান এমন একটি কাঠামো যা কতিপয় প্রক্রিয়া, পন্থা এবং কার্যপ্রণালীর মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের নির্দেশনা দেয় বিভিন্ন পরিকল্পনা ও কর্মসূচিতে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য এবং অন্যান্যদের সাথে অংশীদারিত্ব প্রক্রিয়া সুদৃঢ় করার জন্য যাতে ক্লিনিক্যাল সেবার গুণমান নিশ্চিত হয়। এই কাঠামোতে তিনটি উপাদান রয়েছে। ১. ক্লিনিক্যাল নির্দেশনা ও মান ২. ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ ৩. ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ ও কোচিং ক্লিনিক্যাল সেবার অপরিহার্য মান কতগুলো ধারাবাহিক ও অনবরত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। কোন নির্দিষ্ট সেবার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ণ করে আন্তর্জাতিক মান ও নির্দেশনা অনুসারে ক্লিনিক্যাল প্রশিক্ষণ, পর্যবেক্ষণ, কোচিং এবং পুনঃ পুনঃ ফলো-আপের মাধ্যমে সেবাদানকারীকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হয়। দক্ষ সেবাদানকারী সেবাদানকেন্দ্রে মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে ক্লিনিক্যাল পর্যবেক্ষণ ও কোচিং এর দ্বারা সেবার পরিমাপণ, অবহিত পছন্দ ও স্বেচ্ছা সিদ্ধান্ত নিশ্চতকরণ, সক্রিয় অবকাঠামো, সরঞ্জামাদি ও যন্ত্রপাতির সরবরাহ ইত্যাদি পর্যালোচনা করে কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করা হয় এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। কাঠামোর সবগুলো পর্যায়ের বার বার আবর্তনের মাধ্যমে কার্যকরী ও টেকসই মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিত হয়। ক্লিনিক্যাল সেবার অপরিহার্য মান, ধারাবাহিক মান উন্নয়ন প্রক্রিয়ারই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গ্রহীতার অধিকার ও সেবাদানকারীর চাহিদা সেবাকেন্দ্রে গ্রহীতার যেমন মানসম্পন্ন সেবা পাওয়ার অধিকার আছে, সেবাদানকারীরও সেবা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা ও সহায়তা পাওয়ার অধিকার আছে। মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের জন্য অবশ্যই গ্রহীতার অধিকারসমূহ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সেবাদানকারীর চাহিদাসমূহ পূরণ করাও অত্যাবশ্যক। সেবাদানকারী তাহার নিকট সরবরাহকৃত অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি ও ঔষধপত্র দিয়ে গ্রাহককে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন সেবা প্রদানে বাধ্য। গ্রহীতার অধিকার সেবাদানকারীর চাহিদা • সঠিক তথ্য জানা • মানসম্পন্ন সেবা পাওয়া • গ্রহীতার অবহিত পছন্দ • নিরাপদ সেবা পাওয়া • গোপনীয়তা ও একান্ততা ■ মর্যাদা লাভ ও মতামত দান ■ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ • সেবার ধারাবাহিকতা • প্রাপ্ত সেবা সম্পর্কিত রেকর্ডের কপি পাওয়া • কোন কারণে অধিকার রক্ষিত না হলে কর্তৃপক্ষকে জানানো ও প্রতিকার পাওয়া • সহায়তামূলক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনা • তথ্য, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন • সরবরাহ, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো • উপযোগী পরিবেশে সেবাপ্রদান • সুরক্ষা পাওয়া গ্রহীতাদের অধিকার ১. সঠিক তথ্য জানা গ্রহীতাদের সঠিক, উপযুক্ত, বোধগম্য ও স্বচ্ছ তথ্য পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এজন্য সেবাকেন্দ্রের প্রতিটি স্থানে সেবা বিষয়ক শিক্ষা সহায়ক উপাদানসমূহ থাকা প্রয়োজন। ২. মানসম্পন্ন সেবা পাওয়া মানসম্পন্ন সেবা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন দক্ষ কর্মী, সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্পর্কে দৃষ্টি রাখা এবং যথার্থ ও কার্যকর চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা। এই অধিকারের মধ্যে আরো অন্তর্ভুক্ত আছে সঠিকভাবে সেবাপ্রদানের নীতিমালা ব্যবহার বা প্রয়োগ, সেবাকেন্দ্রে সেবার গুণগতমান বজায় রাখার পদ্ধতিসমূহ, কাউন্সেলিং, গ্রহীতাদের জন্য নির্দেশাবলী এবং যে কোন চিকিৎসা প্রক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া/জটিলতা ও তার ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকা। ৩. গ্রহীতার অবহিত পছন্দ প্রত্যেক গ্রহীতার চিকিৎসা ও পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য জেনে পদ্ধতি বেছে নেয়ার বা অবহিত সম্মতি প্রদানের অধিকার রয়েছে। অবহিত সম্মতি হচ্ছে গ্রহীতার স্বেচ্ছা ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত যা সেবাপ্রদানকারী কর্তৃক প্রদেয় পর্যাপ্ত তথ্য, প্রয়োজন, উপযোগিতা, উপলব্ধি ইত্যাদি বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে। সেবাপ্রদানকারীর দায়িত্ব হচ্ছে সেবাগ্রহীতা যাতে একটি অবহিত সিদ্ধান্তে আসতে পারে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করা। ৪. নিরাপদ সেবা পাওয়া প্রতিটি সেবা কেন্দ্রে জরুরি প্রয়োজনে গ্রহীতাকে তাৎক্ষণিক সেবা প্রদানের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। প্রয়োজনে উচ্চতর কেন্দ্রে রেফার করার ব্যবস্থা থাকতে হবে। ৫. গোপনীয়তা ও একান্ততা সেবাপ্রাপ্তির সকল ক্ষেত্র যেমন- কাউন্সেলিং, শারীরিক পরীক্ষার সময় এবং সংরক্ষিত বিবরণীতে লেখা সকল ব্যক্তিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে গোপনীয়তা ও একান্ততা বজায় রাখার অধিকার গ্রহীতার রয়েছে। ৬ . মর্যাদা লাভ ও মতামত দান সকল গ্রহীতাকে সম্মান ও সুবিবেচনার সাথে সেবা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, সেবাপ্রদানকারীর কাছে সকল সেবাগ্রহীতার মর্যাদাই সমান। গ্রহীতাকে তার নিজস্ব মতামত প্রকাশ করতে অনুপ্রেরণা যোগাতে হবে। স্বাচ্ছন্দ্য বোধ ৭. গ্রহীতা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে সেবা গ্রহণ করতে পারে সেই পরিবেশ নিশ্চত করা প্রয়োজন। ৮. সেবার ধারাবাহিকতা সেবাগ্রহীতার ধারাবাহিকভাবে সেবা ও চিকিৎসা সামগ্রী, ফলো-আপ ও উচ্চপর্যায়ের সেবাকেন্দ্রে প্রেরণ এবং সেবা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ৯. প্রাপ্ত সেবা সম্পর্কিত রেকর্ডের কপি পাওয়া সেবাগ্রহীতার প্রয়োজনে সেবাকেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত সেবার রেকর্ডের কপি পাবার সুযোগ থাকা বাঞ্ছনীয়। ১০. কোন কারণে অধিকার রক্ষিত না হলে কর্তৃপক্ষকে জানানো ও প্রতিকার পাওয়া সেবাগ্রহীতার সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত অধিকারসমূহ রক্ষিত না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং প্রতিকারের সুযোগ থাকতে হবে। সেবাদানকারীর চাহিদা ১. সহায়তামূলক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনা সহায়তামূলক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবার পরিকল্পনা, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়ন করা সম্ভব। সেবাদানকারী ভালভাবে কাজ করেন যদি কাজের পরিবেশ সহায়তামূলক হয়, যেখানে সুপারভাইজার ও ম্যানেজাররা সেবার মান উন্নয়নকে উৎসাহিত করেন এবং কর্মীকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেন। এ ধরনের সহায়তামূলক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনা সেবাদানকারীকে তার কাজ ভালোভাবে করতে সাহায্য করে এবং কাজের মান উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রহীতাদের চাহিদা মাফিক উন্নত সেবা প্রদানে দক্ষ করে তোলে। নিয়মিত ফিডব্যাক পেলে সেবাদানকারীরা ভাল কাজ করার জন্য উৎসাহিত হন। ২. তথ্য, প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন মানসম্মত সেবা প্রদানের জন্য একটি কেন্দ্রের সেবাদানকারীদের আরও যে সকল চাহিদা রয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কাজের জন্য যথাযথ জ্ঞান ও দক্ষতা। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়ায় হতে হবে। আর এই জ্ঞান ও দক্ষতার জন্য প্রয়োজন হচ্ছে তথ্য, প্রশিক্ষণ ও ক্রমাগত মান উন্নয়ন। অন্যদিকে সেবাদানকারীদেরও সর্বোত্তম প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য সেবা দেয়ার জন্য ইতিবাচক মনোভাব থাকতে হবে। ৩. সরবরাহ, যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো সেবা সঠিকভাবে দিতে গেলে সেবাদানকারীদের প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য ও যথেষ্ট পরিমাণ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির সরবরাহ এবং সন্তোষজনক অবকাঠামো। এর মাধ্যমে সেবাদানকারীদের কর্মস্থলে সেবা প্রদানের নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করা যায়। কর্মীদের কর্তব্যরত অবস্থায় আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং সরবরাহের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ৪. উপযোগী পরিবেশে সেবা প্রদান সেবা সঠিকভাবে দিতে গেলে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদুৎ, জ্বালানি ও পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৫. সুরক্ষা পাওয়া কর্মরত অবস্থায় সেবা প্রদান করতে যেয়ে সেবাপ্রদানকারীরা বিভিন্নভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। সেক্ষেত্রে তারা সেবা প্রদানের সময় কিভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবে তার প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ বা জ্ঞান প্রদান করতে হবে এবং পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সুরক্ষার জন্য যথাযথ সরঞ্জাম প্রদান করতে হবে। সাথে সাথে সেবা প্রদানকালীন সময়ে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দূর্ঘটনা ঘটলে সেবা প্রদানকারীকে আইনগত সুরক্ষাও প্রদান করতে হবে। অধ্যায় - ২০ সেবার মান উন্নয়নে মনিটরিং পরিবার পরিকল্পনা ম্যানুয়াল অধ্যায় - ২০ সেবার মান উন্নয়নে মনিটরিং সেবার মান উন্নয়নে মনিটরিং (Monitoring to Improve Services) সূচনা • প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যত কম সংখ্যক রোগীই আসুক না কেন অথবা সেবার মান যতই উন্নত হোক না কেন, নিয়মিত মনিটর করা জরুরি। যিনি সেবা নেবেন এবং যিনি সেবা দেবেন-উভয়েই মানসম্পন্ন সেবা গ্রহণ ও প্রদানের ব্যাপারে সন্তুষ্ট থাকবেন এবং এটা নিশ্চিত করার জন্যই মনিটরিং। মনিটরিং কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ • মনিটরিংয়ের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার উন্নত ও দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করা এবং গুণগত মান উন্নয়নের জন্য ফিডব্যাক দেয়া যায়। নিয়মিত মনিটরিং এর মাধ্যমে যে ফল পাওয়া যাবে ওই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ক্লায়েন্টদের উচ্চ মানসম্পন্ন সেবাদান নিশ্চিত করা যাবে এবং তা সেবাদানকারীদের জন্যও সহায়ক হবে। মনিটরিংয়ের মাধ্যমে যা করা হয় • সেবা ব্যবস্থাপনার উন্নত ও দুর্বল দিকগুলো যাচাই। • সেবা ব্যবস্থাপনার যেসব এলাকায় উন্নয়ন প্রয়োজন তা করার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা করা। • যে যে পরিবর্তনগুলো প্রত্যাশিত ছিল ওই এলাকায় সেটি হয়েছে কিনা তা পুনরায় যাচাই করা। মনিটরিং কখনোই খুব ব্যয়বহুল, ঝামেলাপূর্ণ এবং জটিল হওয়া উচিত নয়। খুব জটিল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু না করে খুব সহজ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। মনিটরিং এর জন্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করার জন্য বিদ্যমান তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য যে নিয়মিত পদ্ধতি রয়েছে এর সামান্য পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করে ব্যবহার করা যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, লগ বুক, সেবাদান সংক্রান্ত উপাত্ত (Service Statistics) ও ক্লায়েন্ট রেজিস্টার। খুব স্বল্প প্রচেষ্টা এবং সহজ উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবাদানকারী ও ব্যবস্থাপকরা একটি নির্দিষ্ট ব্যবধানে (Periodic) অনুসন্ধান করে সেবার কিছু দিক যেমন- ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টি যাচাই করতে পারেন। কেননা এ বিষয়টি সচরাচর কোনো উপাত্তের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। মনিটরিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেখানে এবং যখন কোথাও কোনো সেবা দেয়া হয় সেখানে মনিটরিং একটি চলমান প্রক্রিয়া হওয়া উচিত। 'পর্যায়ক্রমিক ফল' বা কিছু সময়ের ব্যবধানে (Time Series) প্রাপ্ত তথ্য দীর্ঘসময়ের ব্যবধানে সেবা ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন আসে তা বুঝতে সাহায্য করে। পর্যায়ক্রমিক সংগৃহীত তথ্য সেবাদানকারী এবং ব্যবস্থাপকদের পরিবর্তনের ধারা ও সমস্যাসমূহ চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেবা ব্যবস্থায় কিছু প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন এবং পরে ওই সমন্বয় কাঙ্ক্ষিত ফল এনেছে কি না তা পরীক্ষা করতে পারেন। মনিটরিং ব্যবস্থা তখনই সবচেয়ে ভালোভাবে কাজ করে যখন এটি দীর্ঘমেয়াদি হয়, সঙ্গে সঙ্গে ফল অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয় এবং আধুনিক ও উন্নত পরিকল্পনা করা হয়। এখানে উল্লেখ্য, উন্নয়ন পরিকল্পনা হতে হবে খুবই সুনির্দিষ্ট। সেখানে কখন, কোথায়, কেমন করে এবং কার দ্বারা সুপারিশকৃত পদক্ষেপগুলো সম্পাদন করা হবে এর বিস্তারিত বিবরণ থাকবে। কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার মূল চাবিকাঠি মনিটরিং সবচেয়ে কার্যকর হবে যখন- এটিকে নিয়মিত কাজের সঙ্গে সংযোজিত করা হবে • কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থাপনা হচ্ছে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ব্যবস্থাকে নিয়মিত কাজের সঙ্গে সংযোজিত করা। যখন মনিটরিং ব্যবস্থায় অনেক ধাপ সংযোজিত হয় তখন সেটি খুবই সময় সাপেক্ষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে দেখা দেয়। এ জন্য মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্যে বিশেষ উপাত্ত সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন Tools তৈরি না করে উপাত্ত সংগ্রহের যেসব ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে যেমন, লগ বুক এবং সেবাদান সংক্রান্ত উপাত্ত (Service Statistics) থেকেই তা সংগ্রহ করা যেতে পারে। সাধারণ সূচকের ব্যবহার • অনেক সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো অনেক উপাত্ত অথবা এমন উপাত্ত সংগ্রহ করে যা খুব জটিল প্রকৃতির। স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের এমন কোনো তথ্য সংগ্রহ করা উচিত নয় যা কখনোই ব্যবহার করা হবে না অথবা যা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কখনোই বিশ্লেষণ করা যাবে না। সহজ সুচিন্তিত সূচক নির্বাচন করতে হবে যার ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করলে সেবাকেন্দ্র সম্পর্কে বা সেবা ব্যবস্থা সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যাবে। অংশগ্রহণমূলক এবং খোলামেলা আলোচনা • যখন মনিটরিং প্রক্রিয়ায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সব সেবাদানকারীকে প্রকৃত অর্থেই সম্পৃক্ত করা হয় তখন যে ফল বেরিয়ে আসবে তা সবাই নিজের অর্জন মনে করবেন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। নৈতিকতার সঙ্গে মনিটরিং করা • মনিটরিংয়ের সব প্রচেষ্টাই সেবা গ্রহীতা ও সেবাদানকারী- দু'জনের জন্যই সম্মানজনক হতে হবে। সব সময়ই গ্রহীতাদের বিশ্বস্ততা ও গোপনীয়তাকে সম্মান দেখাতে হবে। গ্রহীতারা যেন মনে না করেন, তাঁদের জোর করে মনিটরিং প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। যখনই কোনো গ্রহীতার সাক্ষাৎকার নেয়া হবে অথবা সেবাদানকারী ও সেবা গ্রহীতার মধ্যকার আলোচনা পর্যবেক্ষণ করা হবে তখনই সবকিছু জানিয়ে তাঁদের সম্মতি নিতে হবে। তিরস্কারের জন্য মনিটর না করা • কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা এমন হতে হবে যা সমালোচনামূলক বা তিরস্কারবাচক নয়। মনিটরিং ব্যবস্থা তখনই খুব কার্যকর হবে যখন সেবাদানকারী দলের সদস্যরা নিজেদের মনিটর করবেন এবং সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত দলের সদস্যদের মধ্যে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ও পুরস্কার প্রদানের জন্য ব্যবহার করবেন। মনিটরিং পরিকল্পনায় যা চিহ্নিত করতে হবে- • কারা মনিটরিং দলের সদস্য। • সেবা ব্যবস্থাপনার কোন্ কোন্ দিকগুলো মনিটর করা হবে তা নির্ধারণ করা। • পারফরম্যান্স বা সম্পাদিত কার্যাবলির মানদণ্ড নির্বাচন করা। • তথ্যের উৎস যেমন-সেবার উপাত্ত সম্বলিত লগ বুক (Log Books with Service Statistics) এবং ক্লায়েন্ট রেকর্ড। • তথ্য সংগ্রহ করার পদ্ধতি যেমন-ইন্টারভিউ, ফোকাস গ্রুপ, পর্যবেক্ষণ ও রেকর্ড পর্যালোচনা। • তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের জন্য চেকলিস্ট বা সম্মতিপত্র নমুনা তৈরি করা। • স্টাফদের সঙ্গে ফলাফল নিয়ে আলোচনা করা এবং সেবা ব্যবস্থায় তা সমন্বয় করা। • মনিটরিং প্রক্রিয়ার জন্য সময় নির্ধারণ করা, কী কী ধরনের কার্যাবলি সম্পাদিত হবে তা এবং এ প্রক্রিয়া সম্পাদন করার জন্য দায়িত্বশীল ব্যক্তি কে হবেন তা নির্ধারণ করা। কার্যকর মনিটরিংয়ের ৪টি ধাপ মনিটরিংয়ের মূল চারটি ধাপ হলো- (ক) পরিকল্পনা প্রণয়ন : গুণগত ও মানসম্পন্ন সেবার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি এবং মানদণ্ডের সূচক নির্বাচন, মনিটরিং প্রক্রিয়ার জন্য কর্মী ও ব্যবস্থাপকদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা। (খ) তথ্য সংগ্রহ করা : সেবা সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা। (গ) বিশ্লেষণ করা : বর্তমানে প্রদত্ত সেবাসমূহের গুণগতমান ও ফল, মানদণ্ডের নিরিখে তুলনা করা এবং দীর্ঘসময়ের ব্যবধানে সেবা ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন সাধিত হয়েছে তা বিশ্লেষণ করা। (ঘ) কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন: মনিটরিং প্রক্রিয়ার ফলে যেসব সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে তা নিরসনের জন্য উন্নত পরিকল্পনা করা। সেবার মান উন্নয়ন (Performance Improvment or PI) প্রক্রিয়া ধাপ-১ • এক বা দু'জনকে কর্মসম্পাদন উন্নয়ন (PI) প্রক্রিয়ার নেতা নির্বাচন করতে হবে • প্রতিটি কেন্দ্রে ৪-৫ জন সদস্য নিয়ে কর্মসম্পাদন উন্নয়ন প্রক্রিয়ার জন্য দল গঠন করতে হবে। নির্বাচিত প্রত্যেককে সরাসরি পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হতে হবে • কর্মসম্পাদন উন্নয়ন দলের নেতা দলের অন্য সদস্যদের কাছে ফলাফল উন্নয়নের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করবেন • পরিবার পরিকল্পনা সেবা সম্পাদন উন্নয়নের জন্য প্রস্তুতকৃত চেকলিস্ট নিয়ে আলোচনা করবেন • পরিবার পরিকল্পনা রেফারেন্স ম্যানুয়াল সহজলভ্য হতে হবে ধাপ-২ • পরিবার পরিকল্পনা সেবার মানোন্নয়নের জন্য প্রস্তুতকৃত চেকলিস্ট ব্যবহার করে কর্মসম্পাদন উন্নয়ন দলের কারা (Performance Improvement) সেবা ব্যবস্থা যাচাই করবেন তা নির্ধারণ করা ধাপ-৩ • যাচাই করার পর চেকলিস্ট অনুযায়ী সেবা ব্যবস্থায় কোথায় ফাঁক বা ত্রুটি রয়েছে তা ঠিক করার জন্য পুরো দল একসঙ্গে বসবেন • কী কী বিষয় পাওয়া গেল তা বিস্তারিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করবেন • কোন বিষয়গুলোকে বেশি প্রাধান্য দেয়া উচিত তা নির্ধারণ করবেন ধাপ-৪ • দলগতভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন • উন্নয়ন দল পরিকল্পনা ফরম অনুযায়ী কাজ করবেন এবং তা যথাযথভাবে পূরণ করবেন। এছাড়া: কারণ সম্পর্কে আলোচনা করবেন এবং এর সমাধান খুঁজে বের করবেন • যদি কোনো বিষয় বা ইস্যুতে যথাযথ সমাধান খুঁজে না পাওয়া যায় তাহলে সেগুলো অন্য একটি ছোট দল গঠন করে তাঁদের সমাধান খুঁজে বের করার জন্য দায়িত্ব দিতে হবে • পুন: সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে একজনকে দায়িত্ব দিতে হবে • যেসব বিষয় চিহ্নিত হয়েছিল সেগুলোর সম্পূর্ণ সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মিটিংয়ের ধারাবাহিকতা চলতে থাকবে। এরপর কর্মসম্পাদন ও কর্মপরিকল্পনা শেষ হবে ধাপ-৫ • সব বিষয়ে সমাধান খুঁজে পেতে সময়ের প্রয়োজন। প্রতিটি বিষয়ের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মনিটরিং কো-অর্ডিনেটরকে তা জানাতে হবে সারসংক্ষেপ • গ্রহীতারা গুণগত মানসম্পন্ন সেবা পাচ্ছেন কি না এবং সেবাদানকারীরা তাঁদের উচ্চ গুণগত মানসম্পন্ন সেবা প্রদানের জন্য যে সম্পদ বা উপকরণের প্রয়োজন তা যথেষ্ট কি না তা নিশ্চিত করার জন্য মনিটরিং অথবা নিয়মিত সেবা ব্যবস্থা সম্পর্কে অবহিত হওয়া খুবই প্রয়োজনীয় • মনিটরিং একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়াটি তখনই খুব ভালোভাবে কাজ করে যখন এটি একই ধারাবাহিকতায় চলতে থাকে এবং যখন এ প্রক্রিয়ায় একই উপাত্ত সংগ্রহ ফরম নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পারফরম্যান্স বা ফলাফল উন্নীতকরণের জন্য ব্যবহার করা হয় • স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গেই মনিটরিং সংযুক্ত হওয়া উচিত এবং সূচক হতে হবে সহজ, খোলামেলা আলোচনার ভিত্তিতে ও নৈতিকতার সঙ্গে সম্পাদিত • মনিটরিং প্রক্রিয়া কখনোই জটিল অথবা তিরষ্কার করার জন্য হওয়া উচিত নয় • মনিটরিংয়ের চারটি ধাপ রয়েছে-পরিকল্পনা, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও কর্মপরিকল্পনা করা বি.দ্র: সেবা প্রদানকারীদের দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য মনিটরিং চেকলিস্টসমূহ পরিশিষ্ট-২ এ দেখুন ============================================= here is the FAQ ====================================== মাসিক নিয়মিত করণ বা MR 1. আমি গর্ভবতী কিন্তু এখন বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না কি করবো? Probing Question: আপনি কত দিনের গর্ভবতী? Senario 1: যদি ৬-৯ সপ্তাহের গর্ভবতী হয়। ANS: আমাদের একটি পদ্ধতি রয়েছে মাসিক নিয়মিত করণ পদ্ধতি বা এম আর । এই পদ্ধতিতে ঔষধ এর মাধ্যমে মাসিক নিয়মিত করা হয়। সাধারণত ৬-৯ সপ্তাহের গর্ভবতী হলে প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক বা ডাক্তার এর সাহায্যে এই পদ্ধতিতে মাসিক নিয়মিত করা হয়। এর জন্য আপনাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। Senario 2: যদি ১০-১২ সপ্তাহের গর্ভবতী হয়। ANS: আমাদের একটি পদ্ধতি রয়েছে মাসিক নিয়মিত করণ পদ্ধতি বা এম আর । এই পদ্ধতিতে ম্যানুয়াল ভ্যাকুয়াম এসপিরেশন এর মাধ্যমে মাসিক নিয়মিত করা হয়। সাধারণত ১০-১২ সপ্তাহের গর্ভবতী হলে প্রশিক্ষিত ডাক্তার এর সাহায্যে এই পদ্ধতিতে মাসিক নিয়মিত করা হয়। এর জন্য আপনাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। ((এজেন্ট এর জন্য তবে মনে রাখতে হবে যদি কোনো মহিলা প্রথম বার গর্ভবতী হয় আর বাচ্চা না রাখতে চায় সে ক্ষেত্রে তাকে সরাসরি "এম আর" এর কথা না বলে বাচ্চা রাখার ব্যাপারে কাউন্সিলিং করতে হবে। তবে ২০ বছরের কম আর অবিবাহিত মহিলাদের কাউন্সিলিং করা যাবে না।))) 2. আমি ঔষধ এর মাধ্যমে এম আর করিয়েছি এখন রক্ত বন্ধ হচ্ছে না কি করবো? Probing Question: আপনি কি ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খেয়েছেন না নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে এনে খেয়েছেন? Senario 1: যদি নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে ঔষধ কিনে এনে যেয়ে থাকে তবে। ANS: এটা আসলে ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া কখনোই খাওয়া উচিদ না। যেহেতু আপনি ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া খেয়েছেন এবং এখন আপনার সমস্যা হচ্ছে তাই আপনি একটু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর কাছে চেক-আপ করবেন। Senario 2: যদি ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ যেয়ে থাকেন। Probing Question: কবে এম আর করিয়াছেন? রক্তের সাথে কি দলা বা চাকা যাচ্ছে কি না? রক্তের পরিমান কি প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত কমে আসছে কি না? Senario 1: যদি সব কিছু স্বাভাবিক থাকে। ANS: সাধারণত এম আর করলে ১০-১৪ দিন পর্যন্ত রক্তপাত হয়ে থাকে এটা একটি স্বাভাবিক বেপার। এই রক্তপাত এর পরিমান প্রথম দিনের তুলনায় আস্তে আস্তে কমে আসে এবং এক সময় বন্ধ হয়ে যায়। তবে এম আর করানোর ১৪ দিন পর অবশই একবার স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়া ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে। Senario 2: যদি: রক্তের সাথে দলা বা চাকা যায় ANS: আপনি আর দেরি না করে এক্ষনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়া ডাক্তার এর পরামর্শ নিন। 3. আমি ঔষধ এর মাধ্যমে এম আর করেছি এখন ৬-৭ দিন হয়েছে আমার প্রচুর পরিমান রক্ত যাচ্ছে এটা কমছে না বা বন্ধ হচ্ছে নাকি করবো? Probing Question: কবে এম আর করিয়াছেন? রক্তের সাথে কি দলা বা চাকা যাচ্ছে কি না? রক্তের পরিমান কি প্রথম দিন থেকে এখন পর্যন্ত কমে আসছে কি না? যদি রক্তের পরিমান আগের মতোই থাকে অথবা রক্তের সাথে চাকা বা দলা যায়। ANS: আপনি আর দেরি না করে এক্ষনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়া ডাক্তার এর পরামর্শ নিবেন। (যদি রক্তের পরিমান প্রথম দিন এর তুলনায় না কমে আর একই রকম রক্তপাত হয়ে থাকে))) 4. MR করলে কি ভবিষ্যতে বাচ্চা নিতে কি কোনো সমস্যা হবে বা বাচ্চা না হওয়ার সম্ভাবনা কি আছে? ANS: প্রশিক্ষিত ডাক্তার এর দ্বারা MR করালে ভবিষ্যতে বাচ্চা নিতে কোনো সমস্যা হবে না বা বাচ্চা না হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবে বারে বারে MR করালে সমস্যা হতে পারে। 5. এম আর করানোর পর কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে? ANS: যদি রক্তের পরিমান প্রথম দিন এর তুলনায় না কমে আর একই রকম রক্তপাত হয়ে থাকে যদি রক্তের সাথে চাকা বা দলা যায় (MR করার ৪-৫ দিন পর), যদি ব্লিডিং এত বেশি হয় যে অনেক অতিরিক্ত মনে হচ্ছে যে সে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, অথবা ঘন্টায় ঘন্টায় PAD পরিবর্তন করা লাগছে অথবা এমন ব্লিডিং হচ্ছে যে PAD পরার পরও পোশাক ভিজে যাচ্ছে, যদি MR করার ৫-৭ দিন পর তলপেট অসহনীয় ব্যথা শুরু হয়, যদি MR করার পর জ্বর হয়, যদি প্রসাবে জ্বালা-পোড়া শুরু হয়। এই সব ক্ষেত্রে রোগীকে আর দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়া ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে। 6. এম আর করলে কত দিন পর মাসিক হয়? ANS: সাধারণত এমআর মাসিকের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না, তবে কোনো কোনো সময় পরবর্তী মাসিক হতে একটু সময় লাগতে পারে। 7. MR এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা কোনো সমস্যা আছে কি? ANS: MR করলে স্বাভাবিক ভাবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে যেমন: MR করলে স্বাভাবিক মাসিকের চেয়ে একটু বেশি রক্তপাত হতে পারে। ✓ তলপেটে মোচড় দিয়ে ব্যথা হতে পারে। মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে। 8. MR করার কত দিন পর সহবাস করা যাবে? ANS: ঔষুধের মাদ্ধমে MR করার ক্ষেত্রে যদি রোগীর শারীরিক অবস্থা ভালো থাকে এবং রক্ত যাওয়া বন্ধ হয়ে থাকে তবে MR করার ১৪ দিন বা ২ সপ্তাহ পর থেকে সহবাস করা যাবে। আর ভ্যাকুয়াম এসপিরেশন এর মাধ্যমে MR করালে ১ মাস পর সহবাস করতে হবে। 9 . MR করার কত দিন পর আবার সন্তান নেয়া যাবে? Ans: MR এর পর সাধারনত ১২-১৪ দিনের মধ্যে গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে। সেক্ষেত্রে ১৪ দিন পর সহবাস করলে অবশ্যই পদ্ধতি ব্যাবহার করতে হবে। তবে MR এর ব্রীডিং শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী এক মাসিক চক্র চলে যাবার পর সন্তান নেয়ার চেষ্টা করা ঠিক হবে। 10. ঔষধ বা MM-KIT খাওয়ার কতক্ষন পর ব্রিডিং শুরু হয়? ANS: ১ম ডোজ খাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ব্রিডিং শুরু হয়ে যায়। 11. যার ঔষুধ খাওয়ার পর একবারও ব্লিডিং হয়ইনি বা কোনো প্রোডাক্ট বের হয়নি তাদের কি করণীয়? Probing Question: ঔষুধ খাওয়ার পর বমি হয়েছিল কি? কখন ঔষধ খেয়েছিলেন? ANS: সাধারণত ১ম ডোজ খাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ব্লিডিং শুরু হয়ে যায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে সময়টা একটু বেশি লাগতে পারে। তারা সর্বোচ্চ ৪৮ ঘন্টা/২দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখবে, এর মধ্যে ব্রিডিং শুরু না হলে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবে। যদি ঔষধ বা MM-KIT খাওয়ার পর বমি হয়ে থাকে তবে ডাক্তার এর পরামর্শ নিয়ে আবার ঔষধ খেতে হবে। 12. MR করানোর পর কি কি খাবার খাওয়ানো উচিত? ANS: MR করানোর পর সাধারণত সব খাবার খেতে পারবে তবে পানি, খাবার সেলাইনে, ও ডাবের পানি বেশি করে পান করবে এবং আইরন যুক্ত খাবার যেমন কচু শাক, বেদানা, কাঁচা কলা ইত্যাদি বেশি করে খাবে। 13. এম আর এর ঔষধ বা MM-KIT খাওয়ার নিয়ম কি? ANS: ১ম ডোজ প্রথম দিন ডাক্তার এর কাছে গিয়ে ১টি ট্যাবলেট পানির সাথে গিলে যাবে। ২য় ডোজ: ১ম ডোজ খাওয়ার ২৪ ঘন্টা পর ২য় ডোজ খেতে হবে এতে ৪টা ট্যাবলেট থাকবে যার ২টা ডান গালে ও ২টা বাম গালে অথবা জিহব্ব্যর নিচে রেখে দিতে হবে এবং এই ৪টি ট্যাবলেট সম্পূর্ণ গোলেযেতে ৩০ মিনিট সময় লাগবে। এই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ((((এটা শুধু এজেন্ট এর জানার জন্য }})}} 14. এম আর সেবা কোথায় কোথায় পাওয়া যায়? ANS: ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যান কেন্দ্র(UN&FAC) মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র (MICWC) উপজেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা বিভাগ। জেলা সদর হাসপাতাল এর গাইনি বিভাগ মেডিকেল কলেজ হাসপাজলের গাহীন বিভাগ আর এইচস্টেপ, বাপসা এবং মৌরী স্টোপস এর ক্লিনিক সমূহ 'অনিয়মিত মাসিক এর কল * আমার ১/২ মাস যাবৎ মাসিক হচ্ছে না কি করবো? Probing Question: ১/আপনি কি বিবাহিত? ২/ বয়স কত? ৩/ আপনি কি নিয়মিত স্বামীর সাথে সহবাস করছেন? ৪/ কোনো পদ্ধতি ব্যাবহার করছেন কি না? ৫/ প্রেগন্যান্সি চেক করিয়েছেন? ৬/ এর আগে কি আপনার মাসিক নিয়মিত ছিল? Senerio 1: স্বামীর সাথে সহবাস করে এবং গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন মহিলার ক্ষেত্রে: Ans: আপনি দয়াকরে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে প্রেগন্যান্সি চেক করবেন। যদি আপনি প্রেগন্যান্ট না হন তবে মাসিক কেন হচ্ছে না এই বিষয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবেন। Senerio 2: অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে অথবা যদি স্বামীর সাথে সহবাস না করে এবং গর্ভবতী হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে এমন মহিলার ক্ষেত্রে: Ans: কখনো কখনো মাসিক ৩মাসের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। আপনি দয়াকরে এই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, যদি এর মধ্যে মাসিক না হয় তবে আপনি নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে এই বিষয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবেন। আমার ৯/১০/১১/১২/১৩/১৪ দিন যাবৎ মাসিক হচ্ছে এখনো বন্ধ হচ্ছে না কি করণীয়? Probing Question: আপনার মাসিক কি আগে নিয়মিত ছিল? আপনি কি কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করছেন? আপনার ব্রিডিং এর পরিমান প্রথম দিনের তুলনায় কমে আসছে না একই রকম রয়েছে? আপনার দৈনিক কয়টা প্যাড চেঞ্জ করা লাগছে? Senerio 1: যদি অল্প বা ফোটা ফোটা রক্ত যায়। আপনি আর ১/২ দিন অপেক্ষা করে দেখুন ব্লিডিং বন্ধ হচ্ছে কি না, যদি ব্রিডিং বন্ধ না হয় তবে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবেন। Senerio 2: যদি প্রথম দিনের মতো অনেক ব্লিডিং হয় বা প্যাড চেঞ্জ করা লাগে। আপনি আর দেরি না করে যত শিগ্রই সম্ভব ডাক্তার এর পরামর্শ নিবেন। কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ ১২/১৪ বছর বয়সে মেদের প্রথম মাসিক শুরু হলে এর পরবর্তী সময়ে মাসিক কিছুটা অনিয়মিত হতে পারে। এটা সময়ের সাথে আস্তে আস্তে নিয়মিত হয়ে যায়। তবে মাসিক ৩মাসের বেশি বন্ধ থাকলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে। সন্তান প্রসবের পর প্রথম মাসিক শুরু হলে এর পরবর্তী সময়ে মাসিক কিছু দিন অনিয়মিত হতে পারে। তবে অবশ্যই আগে প্রেগন্যান্সি চেক করতে হবে। যদি ৩মাসের বেশি সময় মাসিক বন্ধ থাকে তবে এটা শারীরিক কোনো জটিলতা বা অসুস্থতার কারণে হতে পারে। এই ক্ষেত্রে যত শিগ্রই সন্তম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে। যদি কোনো জন্ম বিরতিকরণ পদ্ধতি নেয়া হয় তবে পদ্ধতি ব্যবহারের শুরুর দিকে মাসিক বন্ধ থাকতে পারে। যেমন: খাবার বড়ি ইনজেকশন ইমপ্লান্ট ১। আই ইউ ডি কি? -আই ইউ ডি হল জরায়ু তে স্বাপন উপযোগী একটি দীর্ঘ মেয়াদী অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যা কপার টি নামে পরিচিত। সঠিক নিয়মে ব্যাবহার করলে এটি অত্যন্ত কার্যকর। এর মেয়াদ ১০ বছর চাইবে আগেও খুলে ফেলতে পারেন। এটি একটি নন হরমনাল পদ্ধতি। ২।এটি কখন নিতে হয়? -আই ইউ ডি নিতে হলে অবশ্যই একটি জীবিত সন্তান থাকতে হবে। গর্ভবর্তী না হলে এটা যে কোন সময়ে নেয়া যায়। ৩। আই ইউ ডির কার্যকারিতা কখন থেকে শুরু হয়? আই ইউ ডি নেয়ার সাথে সাথেই কার্যকারিতা শুরু হয়ে যায়। ৪। বাচ্চা হওয়ার পর কখন আই ইউ ডি নেয়া যায়? প্রসবের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিতে হবে তা না হলে প্রসবের। সাপ্তাহ পরে। ৫। আই ইউ ডির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি? সামান্য মোচড়ানো ব্যাথা, সামান্য রক্ত স্রাব মাসিকের মধ্যবর্তী সময় স্নক্রठान। ৬। আই ইউ ডি ব্যাবহারে যদি মৃতা বের হয়ে যায় অথবা ভিতরে ঢুকে যায় কি করনীয়? সরাসরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। প্রজেস্টিন সমৃদ্ধ খাবার বতি/আপন: 1. আপন খাবার বড়ি খাবার নিয়ম কি? আপন খাবার বড়ি বাচ্চা হওয়ার পর পর (৯ ঘন্টার মধ্যে) খাওয়া শুরু করতে হয়। এক পাত্রায় ২৮ সাদা বড়ি যাকে ও প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় একটি করে বড়ি খেতে হবে। সন্তান হওয়ার পর ৬ মাস পর্যন্ত 2. আপন বাড়ির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মাসিক বন্ধ থাকা, বমি বমি ভাব, মামা ধরা বা ব্যথা করা, ফোটা ফোটা রক্ত যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, স্তন ভারি ভারী বোধ ইত্যাদি। আপন: আপনি কি যক্ষা বা মৃগী রোগ এর ঔষধ ব্যবহার করছেন? আপনার স্তনে কি শত্রু ঢাকা আছে? (যদি কাস্টমার বলে যে তার স্তনে শক্ত ঢাকা অরছে তবে ওই কল ডাক্তার এর কাছে ট্রান্সফার করতে হবে, আর না বললে এজেন্ট নিজেই সার্ভিস দিবে) 4. বড়ি যেতে ভুলে গেলে কি করণীয়? Scenario 1- যদি নির্দিষ্ট সময়ের ৩ঘন্টার মধ্যে মনে পরে তবে মনে পড়ার সাথে সাথে ভুলে যাওয়া বড়ি টি খাবে এবং পাতার বাতি বড়ি গুলো সময় মতো খাবে। Scenario 2- যদি এঘন্টার বেশি ও২৪ ঘণ্টার কম সময় পর্যন্ত বড়ি খেতে ভুলে যায় তবে মনে পড়ার সাথে সাথে ভুলে যাওর বড় টি খাবে এবং ঐদিনের বাড়িটি যথা সময়ে খাবে এবং আগামী ২দিন সহবাসে কনডম ব্যবচার করবে। Scenario 3- যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পর্যন্ত বাঁড় যেতে ভুলে যায় তবে নতুন পাতা থেকে বড়ি খাওয়া শুরু করবে এবং আগামী দুদিন সহবাসে কনডম ব্যবহার করতে হবে। ৪. আপন বড়ি কখন থেকে কাজ করা শুরু করে? - খাবার বড়ি খাওয়ার ৭দিন পর থেকে কাজ করা শুরু করে। 6. কিছু বেসরকারি প্রজেস্টিন সমৃদ্ধ খাবার বাড়ির নাম? = পপ-ডি, ব্রেডিকন, মিনিকন, লেসিনা, নজেসট্রাল, রোট্রেল। 7. আপন বড়ি খাওায়া অবস্থায় মাসিক কি হবে? -না, আপন বড়ি খাওয়া অবস্থায় মাসিক বন্ধ থাকবে। 1.ECP কখন যেতে হয়? অরক্ষিত সহবাসের ১২০ ঘন্টার মধ্যে ECP খেতে হয়। 2.KCP খাওয়ার পর যদি বমি হয় কি করণীয়? probing Question: ECP খাওয়ার কতক্ষন পর বমি হয়েছে? ANS : যদি ECP খাওয়ার ২ঘন্টার মধ্যে বমি হয় তাহলে পুনরায় নতুন করে ECP ডোজ নিতে হবে। আর যদি ECP খাওয়ার ২ঘন্টার পরে বমি হয় তাহলে আর নতুন করে ECF ডোজ নিতে হবে না। 3. ইসিপি এর প্যাকেটের গায়ে লিবা আছে বুকের দুধ পান করানো অবস্থায় ইসিপি খাওয়ানো এখন আমি ইসিপি যাওয়াবো নাকি যাওয়াবো না? সমাধান- বুকের দুধ পান করানো অবস্থায় অরক্ষিত সহবাস করলে মাকে অবশ্যই ১২০ ঘন্টার মধ্যে চটে খেতে হবে। কারণ ECP ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে অন্যকাস্থিত গর্ভধারণ রোধ করা সম্বভ নয়। তবে যদি এসে খাওয়ার পর বুকের দুধে কোনো অক্রতমা ঘটে জবে সেটার জন্য অক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আর যেহেতু ECP খাওয়ানোর পর বুকের মুখের ভারতম্য ঘটতে পারে, সেক্ষেত্রে ইসিপি খাওয়ার ব্যাগে বাচ্চাকে ব্লাক্তর দুধ আইয়ে নিতে হবে এবং BCP যাওয়ার পরবর্তী ৪ ঘন্টার মধ্যে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো যাবে না। (ড. সালেয়) 4. ECP গাওয়ার পর সহবাস করলে কি এটা কাজ করবে? (ECP-3) না, ECP সবসময় সহবাসের পর ৭২ থেকে ১২০ ফটার মধ্যে খেতে হয়। 5. ২ ডোজ এর ECP খাওয়ার নিয়ম কি? -১ম ডোজ যাওয়ার ১২ ঘন্টা পর ২য় ভোজ খেতে হবে। ৫ দিন বা ১২০ ঘন্টার মধ্যে "সিঙ্গেল ভোজ": SX, পিউলি, টিউলিপ, ইউলিকন। ৩ দিন বা ৭২ ঘন্টার মধ্যে "সিঙ্গেল ভোজ"; ই-প্লান মাক্স, ইসি-লিল, এমকন- ১ (১.৫ এম জি), আই-পিস ডিস, নরশিল (১.এ এম জি), সৌফ্রি। 6. কিন্তু ECP এর নাম ও ডোজ এর পরিমান: ৩ দিন বা ৭২ ঘন্টার মধ্যে "ডাবল ডোজ"; নোরিখ, ই-প্লান, এমকন-২ (০.৭৫ এমজি), আই- শিল্প, নরপিস (০.৭৫ এম জি), প্রোসিনর-২, রেনাট্রল, ৭. ২/৩/৪/৫ মাসের বাচ্চা আছে বুকের দুধ পান করে, আমি পদ্ধতি ছাড়া সহবাস করেছি এখন আমি কি ECP খেতে পারবো? -যেহেতু আপনার অরক্ষিত সহবাস হয়ে গেছে সুতরাং এখন একটি ECP খেয়ে নিন তবে মনে রাখতে হবে এটা বার বার খাওয়া যাবে না। তাই আপনি সিগ্রই একটা পদ্ধিতি নিয়ে নিবেন। ৪. এক মাসিক সাইকেল এ কতবার ECP খাওয়া যাবে? = এক মাসিক সাইকেল এ সর্বোচ্চ ২বার ECP খেতে পারবে। এর পরেও যদি ECP খেতে চায় তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। 9. ECP এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি? - বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা করা, স্তনে ব্যথা, মাসিক অনিয়মিত। 10. যদি কেউ গর্ভবতী হয় এবং তারপর ECP খায় এতে গর্ভের বাচ্চার কোনো সমস্যা হবে কি? (ECP-9) - গর্ভবতী হয়ে যাওয়ার পর ECP খেলে এটা গর্ভের বাচ্চার উপর কোনো প্রভাব ফেলবে না। ইনজেকশন 1. ইনজেকশন কি? = ইনজেকশন হলো ৩মাস মেয়াদের একটি অস্থায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি। ইনজেকশন নিতে হলে কমপক্ষে ১টি জীবিত সন্তান থাকতে হবে। 2. সরকারি ইনজেকশন এর নাম কি? স্বস্তি। 3. ইনজেকশন এর চেক লিস্ট কি? আপনার কি উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ রোগ বা পূর্বে স্ট্রোক হয়ে ছিল? আপনার স্তনে কি শক্ত ঢাকা আছে? (যদি কাস্টমার বলে যে তার স্তনে শক্ত চাকা আছে তবে ওই কল ডাক্তার এর কাছে ট্রান্সফার করতে হবে, আর না বললে এজেন্ট নিজেই সার্ভিস দিবে) 4. বাচ্চা হওয়ার কত দিন পর ইনজেকশন নেয়া যাবে? -৬সপ্তাহ পর ইনজেকশন নেয়া যাবে। 5. ইনজেকশন ছেড়ে দেয়ার কতদিন পর গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসবে? -ইনজেকশন ছেড়ে দেয়ার পর গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসতে ৬-১২ মাস সময় লাগতে পারে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে এর বেশি সময় লাগতে পারে। 6. ইনজেকশন এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি? =মাসিক বন্ধ থাকা বা অনিয়মিত হওয়া, মাথা ধরা, ওজন বৃদ্ধি, ফোটা ফোটা রক্ত যাওয়া, অতিরিক্ত রক্তস্রাব। 7. উইন্ডো পিরিয়ড কি? -ইনজেকশন এর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৪দিন এবং পরের ২৮দিন এই সময়টাকে উইন্ডো পিরিয়ড বলে। ৪. ইনজেকশন এর মেয়াদ শেষ হতে আরো ১০ দিন বাকি আছে এখন আমি দেশের বাহিরে যাবো এখন কি আমি ইনজেকশন এর পরের ডোজ টা নিতে পারবো? -হ্যা নেয়া যাবে, ইনজেকশন এর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৪দিন আগে পর্যন্ত পরবর্তী ডোজ টি অগ্রিম নেয়া যাবে। 9. ইনজেকশন নেয়ার কতক্ষন পর থেকে এর কার্যকারিতা শুরু হয়? ইনজেকশন নেয়ার ৭দিন পর থেকে এর কার্যকারিতা শুরু হয়। 10. কিছু বেসরকারি ইনজেকশন এর নাম? -মিডোজেন, মিড্রজেস্ট, প্রোভেরা। 11. ইনজেকশন কি বুকের দুধে কোনো তারতম্য ঘটায় কি? =না ইনজেকশন বুকের দুধে কোনো তারতম্য ঘটায় না। 12. ইনজেকশন নিলে কি মাসিক বন্ধ থাকবে? -ইনজেকশন নিলে মাসিক বন্ধ থাকে না তবে কারো কারো ক্ষেত্রে বন্ধ থাকতে পারে? 13. ইনজেকশন নিলে কি ওজন বৃদ্ধি পায়? = একটানা অনেক দিন ইনজেকশন ব্যবহারে ওজন কিছুটা বাড়তে পারে। ইমপ্ল্যান্ট ১। ইমপ্ল্যান্ট কি? -ইমপ্ল্যান্ট হল ছোট দিয়াশলাইর কাঠির মত যা প্লাস্টিক বা সিলিকন রাবারের তৈরি। এটি মেয়েদের বাম হাতের বাহুতে চামড়ার নিচে স্থাপন করা হয়। এটি ৩ থেকে ৫ বছর মেয়াদী অস্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি যা সুই প্রয়োগের মাধ্যমে স্থাপন করা হয়। ইমপ্ল্যান্ট প্রতিস্থাপন ব্যাথাবিহীন ও কোন রক্তপাত হবেনা। চাইলে এটি যে কোন সময়ে অপসারন করা যায়।ইমপ্ল্যান্ট খোলার সাথে সাথে গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে। ২। ইমপ্ল্যান্ট কোন হরমোন সমৃদ্ধ? -ইমপ্ল্যান্ট প্রজেস্টিন হরমন সমৃদ্ধ। ৩। ইমপ্ল্যান্টের কি কি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে? ইমপ্ল্যান্টের তেমন কোন জটিল পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।তবে কারো কারো ক্ষেত্রে কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমনঃ অনিয়মিত মাসিক দুই মাসিকের মাঝে মাঝে ফোঁটা ফোঁটা রক্ত যাওয়া বমি বমি ভাব দীর্ঘ সময় ধরে মাসিক বন্ধ থাকা মাসিক বন্ধ থাকা পেট ও মাথা ব্যাথা বা ঝিম ঝিম করা ওজন পরিবর্তন স্তন ব্যাথা ৪। ইমপ্ল্যান্ট নেয়ার কতক্ষণ পরে কাজ করে? -ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর থেকে কার্যকারিতা শুরু হয়। ৫। ইমপ্ল্যান্ট এর সেবা কোথায় পাওয়া যায়? • ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র ■ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স • মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র • জেলা সদর হাসপাতাল ৬।১/২ বছরের জন্য কি ইমপ্ল্যান্ট নেয়া যাবে? -ইমপ্ল্যান্টের মেয়াদ ৩-৫ বছর। তবে ১-২ বছর ব্যাবহার করার পর চাইলে ইমপ্ল্যান্ট খুলে ফেলা যায়। ৭ এটার জন্য কি কোন অপারেশন করতে হয়? = না, কোন প্রকার কাঁটা ছেঁড়া ছাড়াই সুই প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাথাবিহীন ও রক্তপাত ছাড়াই ইমপ্ল্যান্ট প্রয়োগ করা যায়। ৮। বাচ্চা প্রসবের কতদিন পর ইমপ্ল্যান্ট নেয়া যায়? = প্রসবের পর পর ইমপ্ল্যান্ট নেয়া যায়। ৯। ইমপ্ল্যান্ট কি বুকের দুধে কোন তারতম্য ঘটায়? -না, ইমপ্ল্যান্টের কারনে বুকের দুধের কোন তারতম্য ঘটেনা। ১০। ইমপ্ল্যান্টের স্থানে ক্ষত হলে কি হবে? সরাসরি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। = ১১। কারো যদি ডায়াবেটিস থাকে শে কি ইমপ্ল্যান্ট নিতে পারবে? -যদি ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকে তাহলে গ্রহীতা ইমপ্ল্যান্ট নিতে পারবে। ১২। ইমপ্ল্যান্ট খোলার কতদিন পরে গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে? -ইমপ্ল্যান্ট খোলার সাথে সাথে গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে। ১৩। ইমপ্ল্যান্ট এর কি বাহুর ভিতরে ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে? -এটা খুবই নমনীয় তাই এটা ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ১৪।ইমপ্ল্যান্ট ব্যাবহারের পর মাসিক না হলে আমি কিভাবে বুঝবো যে আমার মাসিক কেন হচ্ছেনা? -এটা বুঝার একমাত্র উপায় হল প্রথমে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে চেক করে নেয়া। যদি আপনি গর্ভবতী না হন তাহলে বুঝতে হবে আপনার ইমপ্ল্যান্ট এর কারনে অথবা অন্য কোন শারীরিক জটিলতার কারনে মাসিক বন্ধ আছে। ১. কনডম কি? = কনডম হল পুরুষদের জন্য অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি। এটি "দ্বৈত সুরক্ষাও” দিয়ে থাকে অর্থাৎ সঠিক নিয়মে ব্যাবহার করলে জন্মনিয়ন্ত্রনের পাশাপাশি এইচ আই ভি/এইডস ও অন্যান্য যৌন রোগ থেকে রক্ষা করে। QNS: সরকারি কনডমের নাম নিরাপদ কনডম ANS: নিরাপদ কনডম ৩। সরকারি কনডমের মূল্য কত? =২ টাকায় ২০টি ৪। কনডম কেন ফেটে যায়? = ভালোভাবে না পড়লে, মেয়াদ উরতিরন কনডম ব্যাবহার করলে। করোনা ভাইরাস/ কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন মহামারি নিয়ন্ত্রণে আনার অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়েই গণ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও করোনা টীকা দেয়া শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে ২৭ শে জানুয়ারি কুরমিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ সেবিকা রুনু ভেরনিকা কস্তা প্রথম করোনা ভ্যাকসিন গ্রহন করেন। বাংলাদেশে কোন টীকা দেয়া হচ্ছে? বাংলাদেশে যে টিকা দেওয়া হচ্ছে, তা যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড- অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি ভ্যাকসিন কোভিশিল্ড। তবে টিকাটি বাণিজ্যিকভাবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদন করার অনুমতি পেয়েছে। সেরাম ইনস্টিটিউট বিশ্বের বৃহত্তম টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। টীকাটি দুটি ডোজে দেয়া হয়। প্রথম ডোজের ৮ সপ্তাহ/২ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজের টীকা দেয়া হয়। টিকার জন্য নিবন্ধন করতে হবে এবং টীকা দেয়ার জন্য নিবন্ধিত গ্রহিতাকে হলে কার্ড দেয়া হয়। করোনার টিকা দেওয়ার পর যথেষ্ট রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠতে খানিকটা সময় লাগতে পারে। তাই টিকা দেওয়ার পরও করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত। বিজ্ঞানীরা বলছেন, টিকা দেওয়ার পরও মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বা সংক্রমিত হতে পারে, তবে আক্রান্ত হলেও গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে। কোভিড-১৯ টীকা প্রদান সহায়িকা/গাইডলাইন ১।কোভিড-১৯ টাকা কাদের দেয়া হবে? টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে ১৭টি ক্যাটাগরির নাগরিকদের নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথমে তাদের টিকা নেয়ার পরে অন্যরা টিকা নেয়ার সুযোগ পাবেন।। এই ১৭টি ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে: সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মী, বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্যকর্মী, প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত সকল সরকারি- বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা, সম্মুখ সারির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য, রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম-কর্মী, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, সৎকারকাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি, নৌ-রেল-বিমানবন্দরে কর্মরত ব্যক্তি, ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জেলা-উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারি কার্যালয়ে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক। • পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও কর্মচারী( FWV/FWA). প্যারামেডিক (SACMO), সেবিকা, ধাত্রি চিকিৎসক • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাদের কম তারা টীকা দানে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। যেমন- ডায়াবেটিক রগি, প্রেশারের রোগী, লিভারে আক্রান্ত রোগী, কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত রোগী। ২। কাদের টীকা দেয়া যাবেনা? • রেজিস্ট্রেশনকৃত/লাইন লিস্টিং-এর অর্ন্তভুক্ত তালিকার উদ্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তিকে কোভিড টিকা দেয়া যাবে না। ১৮ বছরের নীচে, গর্ভবতী মা এবং দুগ্ধদানকারী মা, অসুস্থ ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ব্যক্তি। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে অনুরোধ করতে হবে। ব্যক্তির ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিকা দেয়া যাবে না। । গর্ভবতী মা কি কোভিড-১৯ টিকা পাবেন? ৩ - গর্ভবর্তী মহিলাদের আপাতত কোডিড-১৯ টিকা প্রদান করা হবে না। ৪। বুকের দুধ পান করাচ্ছেন এমন মা কি কোডিড-১৯ টীকা নিতে পারবেন? • যে মায়েরা বুকের দুধ পান করাচ্ছেন তারা আপাতাত টীকা নিতে পারবেন না। ৫। যারা পরিবার পরিকল্পনার কোন পদ্ধতিতে আছেন তারা কি কোভিড-১৯ এর টীকা নিতে পারবেন? • জি, অগ্রাধিকার অনুযায়ী নিতে পারবেন। ৬। টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি কি আছে? অন্য সকল ঔষধ কিংবা টিকার মতো এই টিকারও কিছু পার্শ্ব- প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো খুবই মৃদু হয়ে থাকে যেমন- টিকার স্থানে বাধা, ফোলা, লালচে ভাব, মাংশপেশী ও অস্থিসন্ধিতে বাধা, দুর্বলতা, বমি বমি ভাব, আজ্বর, ক্লান্তি ইত্যাদি। ক্লিনিকাল ট্রায়াল হতে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এখনও পর্যন্ত মারাত্মক কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়নি। তবে আপনার যে কোন সমস্যা হলে অবশ্যই দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহন করুন। গর্ভকালীন সেবা ও জটিলতা 1. গর্ভকালীন চেক-আপ কয়টি ও কখন কখন? ANS: গর্ভকালীন চেক-আপ ৪টি: প্রথম চেক-আপ ৪ মাসের মধ্যে যত দ্রুত সম্ভব, দ্বিতীয় চেক-আপ ৬ বা ৭ মাসে, তৃতীয় চেক-আপ ৮ মাসে, চুতুর্থ চেক-আপ ৯ মাসে। 2. গর্ভবতী মায়ের কি কি খাবার খাওয়া উচিৎ? ANS: ১/ শক্তিদায়ক খাবার: ভাত, রুটি, আলু, মিষ্টি আলু, নারিকেল, তেল ও চিনি। ২/ শরীর বর্ধক খাবার: দুধ, ডিম, মাছ, মাংস, সিম, সিমের বিচ্চি,। ৩/ রোগ প্রতিরোধকারী খাবার শাকসবজি, পুঁইশাক, কচুশাক, কাঁচাকলা, ঢেঁড়শ, পাকা কলা, আম, পেয়ারা, ((((((স্বাভাবিক এর চেয়ে এক মুঠো বেশি খাবে ও পর্যাপ্ত পানি পান করবে)))))) 3. গর্ভবতী মায়ের কি কি খাবার খাওয়া উচিৎ নয়? ANS: পেঁপে ও আনারস না খাওয়াই ভালো। কারণ কারো কারো ক্ষেত্রে এগুলো খেলে গর্ভপাত ঘটাতে পারে। 4. গর্ভকালীন বিপদ চিহ্ন গুলো কি কি? ANS: গর্ভকালীন ৫টি বিপদ চিহ্ন রয়েছে: ১/ রক্তস্রাব, ২/ভীষণ জ্বর,৩/ মাথা ব্যথা ও চোখে ঝাপসা দেখা, ৪/খিঁচুনি, ৫/বিলম্বিত প্রসব। ((((((মনে রাখতে হবে গর্ভকালীন সময় যোনিপথে সামান্য পরিমান রক্ত বের হওয়া বিপদজনক, এই ক্ষেত্রে সাথে সাথে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যেতে হবে))))) 5. পায়ে পানি জমা বা পা ফুলে যাওয়ায় কি করণীয়? Probing Question: কত দিনের সমস্যা? কত দিনের গর্ভবতী? ANS: চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই, এমন হতেই পারে, রেস্টে থাকবে, পা বালিশের উপর দিয়ে ঘুমাবে, অতিরিক্ত লবণ ভাতের সাথে খাবে না। অবশ্যই রেস্টে থাকবে। 6. উপর পেটে ব্যাথা, গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা, বুক জ্বালা পোড়া করলে কি করণীয়? Probing Question: আগে থেকেই কি এই সমস্যা নাকি গর্ভবতী হওয়ার পর এই সমস্যা? কতদিনের গর্ভবতী? কোন ওষুধ খান কিনা? বেশি সমস্যা তৈরি করছে কি? ANS: স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবে। 7. পা ও তলপেট ব্যাথা কি করবে? Probing Question: পেট ব্যথার সাথে আপনার ব্লিডিং বা পানি ভাঙে কি না? কতদিনের গর্ভবতী? Senario 1: ৬মাস বা এর বেশি গর্ভবতী হলে: ANS: তলপেট ব্যথা: গর্ভবস্থায় ৬ মাস পর তলপেট ব্যথা হওয়া একটি স্বাভাবিক বিষয়, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। তবে ৬মাসের আগে যদি তলপেটে ব্যথা হয় সেই ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তার এর সাথেযোগাযোগ করতে হয়। পা ব্যথা: পা ব্যথা মূলত ক্যালসিয়ামের অভাবে হয়। তাই শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া, রাতে পা ঢেকে শোয়া এবং ডাক্তার এর পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট গ্রহণ করলে এই সমস্যা কমাতে পারে। Senario 2: ৬মাস বা এর কম সময় গর্ভবতী হলে: ANS: স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবে। ৪. গর্ভবতী মায়ের কি কি পরামর্শ রয়েছে? ANA: গর্ভবতী মায়ের জন্য পরামর্শ: গর্ভবতী মায়ের বিশ্রাম (রাতে ৮ ঘণ্টা দিনে ২ ঘণ্টা) গর্ভবতী মায়ের খাদ্য (যা খাবে পরিমানের চেয়ে একমুঠো বা একচামুচ বেশি খাবে) পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা (যোনিপথ ও গোপনাঙ্গ পরিষ্কার করবে এবং পরিষ্কার কাপড় পরবে। গর্ভকালীন ব্যায়াম--(বাসার হালকা কাজ করবে ও একটু হাঁটাচলা করা) পরিবারের সহযোগিতা--(পরিবারের সদস্যরা তাকে মানসিক ভাবে সহযোগিতা করবে। নিয়মিত গর্ভাবস্থার চেক-আপ।--- (৪টি চেক আপা) এই বিষয় গুলো যেন খেয়াল রাখা হয় তার পরামর্শ দিবেন। 9. গর্ভবস্থায় কোন কোন কাজ করা যাবে না? সেগুলো হলো: *গর্ভবতী মাকে কখনোই কোনো ঔষধ ডাক্তার এর পরামর্শ ছাড়া দেয়া যাবে না। • গর্ভবস্থায় পেটে মালিশ করা যাবে না। *গর্ভবস্থায় বেল্ট বাধা বা টাইট পোশাক পড়া যাবে না। •ভারী কাজ করা যাবে না। *প্রথম ৩মাস ও শেষের ৩মাস দীর্ঘ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। *প্রথম ৩ মাস ও শেষের ৩ মাস সহবাস না করা উত্তম। ((যে মহিলার আগের বাচ্চা নষ্ট হয়েছে তাদের দীর্ঘ ভ্রমণ এবং স্বামী সহবাস একেবারে না করাই উত্তম))) 10. পেটে বাচ্চা নড়ছে না কি করণীয়? Probing Question: আপনার কত মাস চলছে? কতক্ষন থেকে এই সমস্যা হচ্ছে ?আর বাচ্চা কি একদম নড়ছে না? পেট শক্ত হয়ে গেছে কি না? ANS: সাধারণত ৫ মাস বয়স থেকে বাচ্চা পেটের ভেতর নরা চড়া শুরু করে। আর দৈনিক ১০ থেকে ১২ বার নরা চড়া করাটা স্বাভাবিক। আপনি কিছুক্ষন বামকাত হয়ে শুয়ে দেখুন বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিক হচ্ছে কি না। যদি এতেও বাচ্চার নড়াচড়া স্বাভাবিক না হয় তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন। (বি দ্রঃ যদি পেট শক্ত হয়ে থাকে তবে দেরি না করে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করবে)) 11. গর্ভকালীন সেবা কোথায় করা হয়? ANS: ইউনিয়ন স্বাস্থ ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, জেলা সদর হাসপাতাল | 12. কোস্টকাঠিন্য (Constipation) সমস্যা হলে করণীয়? Probing Question: কতদিনের সমস্যা? কতদিনের গর্ভবতী? ANS: যদি গর্ভবতী হওয়ার পর কোস্টকাঠিন্য সমস্যা শুরু হয় তবে ফলমূল খাবে, ইউসুফগুলের ভূষি খাবে রাতে, শাকসবজি খাবে। আর যদি কোস্টকাঠিন্য সমস্যা আগেথেকেই থাকে তবে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবে। 13. কোমরে ব্যথা (Backache) কি করণীয়? Probing Question: আপনি কতদিনের গর্ভবতী? কতদিন ধরে ব্যাথা? ANS: যদি ব্যাথা সহ্যসীমার বাহিরে চলে যায় তাহলে ডক্তার এর পরামর্শ নিবে। তবে প্রথম তিনমাস এই ব্যাথা স্বাভাবিক, তলপেট একটু ভারী মনে হওয়ার কারনে কোমরে ব্যাথা করতে পারে। ((((বি দ্রঃ প্রথম ৩ মাস ভারী কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি কোমর ব্যথা হয় তবে পুরোপুরি বেড-রেস্ট এ থাকতে হবে)) 14. মাসিকের রাস্তায় ব্যাথা কি করণীয়? Probing Question: আপনি কতদিনের গর্ভবতী? ব্যাথা কম নাকি বেশি? ANS: যদি ব্যাথা সহ্যসীমার বাহিরে চলে যায় তাহলে ডক্তার এর পরামর্শ নিবে। তবে প্রথম তিনমাস এই ব্যাথা স্বাভাবিক। 15. গর্ভকালীন কয়টি টিকা নিতে হয়? ANS: গর্ভকালে ২টা টিটি টিকা নিতে হয়। প্রথম টিকা গর্ভকালীন ৫ম মাসে ও দ্বিতীয় টিকা গর্ভকালীন ৬ষ্ঠ মাসে নিতে হয়। আপনি যদি কোনো টিকা না দিয়া থাকেন তবে ৫ম ও ৬ষ্ঠ মাসে দুটো প্রথম ও দ্বিতীয় টিকা দিতে পারেন। অথবা ৭ম মাসেও টিকা দেয়া যায়। Senario 1: আমি কি ৮ম মাসে ১ম টিকা দিতে পারবো? ANS: গর্ভকালীন অবস্থায় প্রথম ৪ মাস এবং ৮ম ও ৯ম মাস কোনো টিকা দেয়া যায় না। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে বাচ্চা হওয়ার পর টিকা দিতে হবে। Senario 2: আমি যদি আগে ৩টি টিকা দিয়া থাকি তবে গর্ভবস্থায় ৪থ টিকা টি দিতে পারবো? ANS: জি পারবেন, তবে যদি ৫ম ৬ষ্ঠ ও ৭ম মাসের মধ্যে হয় তবেই টিকা দিতে পারবেন। তা না হলে বাচ্চা হওয়ার ৪২ দিন পর পরের ডোস টি দেয়া ভালো। 16. গর্ভবস্থায় মাথাব্যথা, জ্বর, পানিভাঙা, কাশি হলে কি করণীয়? ANS: স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর পরামর্শ নিবে। 17. পেটের বাচ্চা ছেলে না মেয়ে কত দিন পর বুঝা যায়? ANS:১৮-২২ সপ্তাহের মধ্যে বুঝা যায়। 18. বাচ্চার ডেলিভারি ডেট পার হয়ে গেলে বা ডেলিভারি ডেট এর আগে কল করলে কি করণীয়? Probing Question: ডেলিভারি ডেট কবে ছিল? পানি ভাঙসে কি না? রক্ত বের হচ্ছে কি? বাচ্চা নরা-চরা স্বাভাবি কি না? Senario 1: ডেলিভারি ডেট পার হয়ে গেলে: ANS: আপনি যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করবেন। আর যদি পারেন একজন ব্লাড ডোনার/ রক্ত দাতা আগে থেকে জোগাড় করে রাখবেন। ((((((অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেলিভারি ডেট পার হয়ে গেলে সিজার এর মাদ্ধমে বাচ্চার ডেলিভারি করতে হয়, তাই তখন রক্তর প্রয়োজন পরে)))))) Senario 2: ডেলিভারি ডেট এর আগে কল করলে: ANS: আপনি দয়া করে ডেলিভারি ডেট এর সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করুন এবং এর মধ্যে পানি ভাঙসে কি না, রক্ত বের হচ্ছে কি না, বাচ্চা নরা-চরা স্বাভাবি কি না, এই বিষয় গুলো খেয়াল রাখবেন। আর যদি এর কোনো একটা সমস্যা দেখা দেয় তবে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। 19. গর্ভবস্থায় যদি পাতলা পায়খানা হয় কি করণীয়: Probing Question: কবে থেকে হচ্ছে? দিনে কত বার হচ্ছে? প্রসাবের রং হলুদ বা প্রসাব কম হয় কি না? পায়খানার সাথে কি রক্ত যাচ্ছে? পাতলা পায়খানা সাথে জ্বর আছে কি? Senario 1: যেদিন পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে সেদিন কল করলে: ANS: আপনি সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করে দেখুন কমছে কি না, সেই সাথে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, প্রত্যেক বার পায়খানার পর খাবার সেলাইন খেতে হবে, এবং পারলে ডাবের পানি পান করবে। বি দ্রঃ তবে যদি পাতলা পায়খানার সাথে রক্ত বের হয় বা জ্বর থাকে তবে অপেক্ষা না করে সাথে সাথেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। Senario 2: যদি পাতলা পায়খানা শুরু হওয়ার ১দিন বা ২দিন পর কল করে: ANS: আপনি আর অপেক্ষা না করে যত সিগ্রই সম্ভব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। এর পাশাপাশি যা করতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, প্রত্যেক বার পায়খানার পর খাবার সেলাইন খেতে হবে, এবং পারলে ডাবের পানি পান করবে। বি দ্রঃ পাতলা পায়খানার সময় যদি প্রসবের রং হলুদ হয় বা প্রসাব কম হয় তার মানে গর্ভবর্তী মহিলার শরীরে পানির স্বল্পতা দেখা দিয়েছে তাই তাকে প্রচুর পানি পান করতে হবে)) ((((((ভবিষ্যতে এটা আরো আপডেট হতে পারে )))))) Created by Ferdous (QA) গর্ভবর্তী/স্তন্যদানকারী নারীদের কোডিড-১৯ টীকা প্রদান সক্রান্ত দিক নির্দেশনা প্রসঙ্গেঃ সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও কোভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সকলের ন্যায় গর্ভবতী মা ও স্তন্যদানকারী নারিদের মধ্যেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক হারে বেড়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার টিীকা বিষয়ক জাতীয় কমিটির পরামর্শ অনুযায়ী গর্ভবর্তী মা ও স্তনাদানকারী নারীদের কোভিড টীকা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রধন করেছেন। এমতাবস্থায় উক্ত জনগোষ্ঠীকে কোভিড-১৯ টাকা প্রদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই পালনীয় কিছু নির্দেশনা পালনের জন্য বলা হয়েছে। • গর্ভবর্তী নারীদের কোডিড-১৯ টীকা প্রদানের পূর্বে করনীয়ঃ • সাধারন নির্দেশাবলীঃ ১।গর্ভবর্তী নারীগণকে সুরক্ষা ওয়েব পোর্টাল/অ্যাপস এর মাদ্যমে রেজিস্ট্রেশান সম্পন্ন করে গর্ভবর্তী নারীকে টীকা প্রদান করতে হবে। ২। টীকা প্রদানের পূর্বে টীকাকেন্দ্রের বেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা কাউন্সেলিং সম্পন্ন করে গর্ভবর্তী নারীকে টীকা প্রদান করতে হবে। শর্তাবলীঃ ১।গর্ভবতী নারী টীকা গ্রহনের দিন অসুস্থা থাকলে তাকে কোভিড-১৯ টিীকা প্রদান করা যাবেলা ২। অনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত হলে গর্ভবতী নারীকে কোভিড-১৯ টীকা প্রদান করা যাবেনা। ৩।কোন গর্ভবর্তী নারির ভ্যাকসিন এলারজির পূর্ব ইতিহাস থাকলে তাকে কোভিড-১৯ টাকা প্রদান করা যাবে না। ৪।কোন গর্ভবতী নারী যদি কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিনের ১ম ডোজ গ্রহনের পর এইএফআই কেস হিসেবে শনাক্ত হন তবে তাকে ২য় ডোজ প্রদান করা যাবেনা। ৫।সম্মতিপত্রে নিকাগ্রহীতা ভাইবাল্য অভিভাবক ও কাউন্সেলিং চিকিৎসকের স্বাক্ষর ব্যাতিত টীকা প্রদান করা যাবেনা। কোভিড-১৯ টীকা গ্রহণে ইচ্ছুক গর্ভবতী নারীকে অবশ্যই টীকা গ্রহনের আগে নিম্নোক্ত তথ্যাদি একজন রেজিস্টার্ড চিকিৎসক দ্বারা বারবার অবহিত করতে হবে। • প্রার্ভবর্তী নারীদেরকে গরভাবস্থায় কোচিংড-১১৯সামাতের স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিতকরন। ✓ নির্ধারিত সময়য়ের আগেই সন্তান জন্মদান অপরিনত নবংঙ্কাতক। এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়! নবজাতকের স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। ব্যাঙ্ক গর্ভবতী ৩৫ বছরের উপরে যাদের বয়স, উচ্চ বিএমআই সম্পন্ন (যারা ভারী শরীরের অধিকারী, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত নারী গরভাবস্থায় বিশেষ করে ১ম ও ২য় ট্রাইমেস্টার। কারোনায় আক্রান্ত হলে মারাত্মক রূপ নিতে পারে। এক্ষেত্রে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ✓ সাধারন নারীদের তুলনায় গর্ভবতী মায়েরা করোনায় আক্রান্ত হলে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা অনেক বেশি। * গর্ভবতী নারীকে কোভিড-১৯ টিকার সুফল সম্পর্কে অবহিতকরণঃ • সেলিড-১৯ টিকা গ্রহন করলে করোনায় আক্রান্ত হওয়া ও এর ফলে সৃষ্ট জটিলতার ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কুম। • গর্ভাবস্থায় কোজিড-১২০টিতে বহন করলে করোনার কারনে সৃষ্ট ঝাকিসমূহের সম্ভাবনা কম। * গর্ভাবস্থায় কোভিড-১৯ টিকা গ্রহনের ক্ষতিকর প্রভাবঃ • সার্ভবতী নারীদের প্রসিদ্ধ তিকা গ্রহনের বাংল ক্ষতি সম্পর্কে তথ্য অপ্রতুল। • অন্য যে কোন টিকার ন্যায় কোভিড-১৯ টিকার ঢাকা পরবর্তী বিরুপ প্রতিক্রিল্যা। এই এফআই। হতে পারে যা অন্য নারাদের মতো সর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে •সীরথিয়াটীন্দ্রলার সম্পর্কিত কোন তথ্য নেই। তবে মনে রাখতে হবে উপরোক্ত নির্দেশনা মানার পরেই সম্মতিপত্রে গর্ভবতী নারী ও রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের স্বাক্ষর গ্রহন পর্বক টীকা প্রদান করতে হবে। > অন্যদানকারী নারীদের কোভিড-১৯ টিকা প্রদানের পর্বে করনিয়ঃ স্তন্যদানকারী নারীদের কোভিও-১১৯ টিকা প্রদান করার বিশেষ কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এক্ষেত্রে অন্যান্য সবার মতই বিদ্যমান টিয়ায়াটে ছেলে কারে চটীকা প্রদ বারবেও হবে। উপরোক্ত নিরদেশনাবলি গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের টীকাদান কর্মসূচী ইপিআই।, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশ অনুযায়ী তৈরি। "নিম্ন সুমি" যাবার বড়ি খাওয়ার চেকলিস্টঃ পায়ের শিরা বা বগ ফোলা কিনা? পা ফোলা আছে কিনা? - প্রেশারের ওষুধ থান কিনা? (যদি প্রেশারের ওষুধ খাওয়ার পরে প্রেশার কন্ট্রোলে থাকে (১৩০/৮০) তাহলে খাবার বড়ি খেতে পারবে ভিক্ত কন্ট্রোলে না থাকলে যাবার বড়ি খাবেনা।) লিভাবের। অভিস জনিত সমস্যা আছে কিনা? ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে কিনা? > স্ট্রোকের ক্ষেত্রে প্রশ্ন করতে হবে শরীবের কোন পাশ অবশ হয়ে গিয়েদে কিনা? যজ্ঞা বা মৃগী রোগের সমস্যা আছে কিনা? হার্টের সমস্যা আছে কিনা? হাটের ওষুধ যাচ্ছেন কিনা? হার্টের কোন অপারেশন হয়েছে কিনা? মাইগ্রেনের সমস্যা আছে কিনা? লক্ষণ-মাইগ্রেন থাকলে তীর মাখা ব্যাথা হবে সাথে বমি বমি ভাব হবে না বমিও হতে পারে।) যারা বাচ্চাকে শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াচ্ছে তারা মিত্র খাবার বড়ি খাবেনা (৬মাস পর্যন্ত) আপনার স্তনে কি পড় ঢাকা আমে কিনা? (৪নে শক্ত ঢাকা থাকলে কস চিকিৎসকের কামে ট্রান্সফার করতে হবে) "উপবোজ সমস্যার একটি থাকলেও গ্রহীতা খাবার বড়ি সেবন করতে পারবেন না।" (পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া) গায়ে ব্যাথা (ছুড়ি দিয়ে আঘাত করছে এমন ধরনের তীর ব্যাখা) মাপর খাবার বড়ি খাওয়ার চেকলিস্ট। আপনি কি যদ্মা বা মৃগী রোগের ওষুধ সেবন করছেন। আপনার ছলে কি শক্ত ঢাকা আছে কিনা? (শুনে শক্ত ঢাকা থাকলে কল চিকিৎসকের কাছে ট্রান্সফার করতে হবে। ইনজেকশন নেয়ার চেকলিস্ট: • প্রেশারের ওষুধ খাচ্ছে কিনা? (প্রেশারের ওষুধ খেলে ইনজেকশন নিতে পারবেনা।) পায়ের শিরা বা রগ ফোলা কিনা? পা ফোলা আছে কিনা? • জন্ডিস বা লিভাবের সমস্যা আছে কিনা? • যোনিপথ দিয়ে রক্ত যায় কিনা? • স্কুল শরীরের অধিকারি কিনা? আপনার স্তনে কি শক্ত চাকা আছে কিনা? (স্তনে শক্ত চাকা থাকলে কল চিকিৎসকের কাছে ট্রান্সফার করতে হবে) "উপরোক্ত সমস্যার একটি থাকলেও গ্রহীতা ইনজেকশন নিতে পারবেনা।" টিটি টিকা এর Update টিটি টিকা নেয়ার নিয়ম কি? • ১ম ডোজ এর ২৮ দিন পর ২য় ডোজ, ২য় ডোজ এর ৬ মাস পর ৩য় ডোজ, ৩য় ডোজ এর ১বছর পর ৪র্থ ডোজ, • ৪থ ডোজ এর ১বছর পর ৫ম ডোজ, Scenario 1- টিটি টিকা পুরো লাইফ সাইকেল এ ৫ টি ডোজই দিবে। (অবশ্যই কার্ড থাকা লাগবে) Scenario 2- পূর্বে যদি ৫ টি ডোজ সবগুলো দেওয়া থাকলে গর্ভকালে আর কোনো টিকা দেওয়া লাগবে না। Scenario 3- পূর্বে যদি ২ টি ডোজ দেওয়া থাকে গর্ভকালীন সময়ে কয়টা দিবে? যদি কার্ড থাকে সেক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ৩য় ডোজ দিবে। যদি কার্ড না থাকে তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তার এর কাছ থেকে জেনে নিতে হবে কয়টা নিবে। প্রসব পরবর্তী সেবা ১। বাচ্চা হবার কত দিন পর সহবাস করা যাবে? সমাধান বাচ্চা হবার ৪২ দিন পর থেকে সহবাস করা যাবে। তবে প্রসবের পর থেকে পরবর্তী ৪২ দিন পর্যন্ত সহবাস না করা উত্তম হবে, কেননা এ সময়ে মায়ের জরায়ুতে ইনফেকশান হবার ঝুঁকি থাকে। ২। বাচ্চা হবার কত দিন পর গর্ভধারণ ক্ষমতা ফায়ার আসে? সমাধান- ২১ দিন পর গর্ভধারণ ক্ষমতা ফিরে আসে। তাই যদি কেউ ২১ দিন পর সহবাস করে তবে তাকে অবশ্যই যে কোনো একটি পদ্ধতি বাবহার করতে হবে। আমার প্রসাবে জ্বালাপোড়া হচ্ছে কি করণীয়? Probing Question: কবে থেকে প্রসাবে জ্বালাপোড়া শুরু হয়েছে? জ্বালাপোড়ার সথে কি চুলকোনি আছে? প্রসাবে দুর্ঘন্ধ হয় কি না? জ্বর ও পেটে ব্যথা রয়েছে কি না? Senerio 1: যদি জ্বর ও পেটে ব্যথা না থাকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। প্রচুর পরিমানে পানি পান করবে, ফলের জুস্, ডাবের পানি অথবা চাইলে খাবার স্যালাইন খেতে পারে। এভাবে ২/৩ দিন অপেক্ষা করে দেখবে যদি এতেও প্রসাবে জ্বালাপোড়া না কমে তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। Senerio 2: যদি জ্বর ও পেটে ব্যথা থাকে: * যদি জ্বর এর পাশা পাশি তার হাচ্চি, কাশি, শ্বাসকষ্ট অথবা ডায়রিয়া থাকে তবে এগুলো করোনার লক্ষণ তাই তাকে ১৬২৬৩ নম্বর এ কল করতে বলবো। * যদি জ্বর এর পাশা পাশি তার হাদি, কাশি, শ্বাসকষ্ট অথবা ডায়রিয়া না থাকে তবে তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে বলবো। সেই সাথে প্রচুর পরিমানে পানি পান করবে, ফলের জুস, ডাবের পানি অথবা চাইলে খাবার স্যালাইন খেতে পারে এবং যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। বিভিন্ন প্রকের বেসরকারি খাবার বড়ির নাম ও ডোজের সংখ্যা: পদ্ধতি ডোজের সংখ্যা বেসরকারি বড়ির নাম মিশ্র খাবার বড়ি / সুখী • ২৮ টি নরডেট ২৮, মিনি ২৮, ফেমিকন, ফেমিপিল, রোজেন ২৮, এলাইসা, ২৮- জেসটপ ২৮, লেডিফার, লিভোনাইল ২৮, লিভোপিল, লেটা ২৮, নরজেস্ট, ওভরেস্ট, নরেট ২৮, কনরিনা- আর, • ২১ টি মাইপিল, মারভেলন, নোভেলন, রেগুমেন, ডেসলন, মাইক্রলন, ডাইনোজেস্ট প্লাস, গায়ান ৩৫, কেপটিভা। • ২২ টি ওভস্ট্যাট গোল্ড, ওভাকন গোল্ড, লিওস্টেট গোল্ড, ল্যনেস। • ২৪ টি নভেলন লাইট। শুধু প্রজিস্ট্রিন সমৃদ্ধ খাবার বড়ি / আপন • ২৮ টি পপ-ডি, ব্রেডিকন, মিনিকন, লেসিনা, নজেসট্রাল, রেনাট্রেল। ECP ১২০ ঘণ্টার সিঙ্গেল ডোেজ/১ টি ডোজ পিউলি, টিউলিপ, ইউলিকন, 5XI ৭২ ঘণ্টার সিঙ্গেল ডোজ/১টি ডোজ এমকন-১ (১.৫ এম জি), আই-পিল, ডিস, নরপিল (১.৫ এম জি), সেটফ্রি ই-প্লান মাক্স, ইসি-পিল,। ৭২ ঘণ্টার সিঙ্গেল ডোজ/১টি ডোজ নোরিস্ক, এমকন-২ (০.৭৫ এম জি), আই-পিল, নরপিল (০.৭৫ এম জি), প্রোস্টিনর-২, রেনাট্রিল, ই-প্লান,। বিঃ দ্রঃ "নরমেন্স" কোনো জন্ম বিরতিকরণ খাবার বড়ি না, সাধারণত মেয়েদের মাসিক অনিয়মিত হলে ডাক্তার এই ঔষধ টা দিয়ে থাকে তাদের মাসিক নিয়মিত করার জন্য। মিশ্র বা সুখী খাবার বড়ি: 1. মিশ্র ও সুখী খাবার বড়ি খাওয়ার নিয়ম: সুখী বা ২৮টি বড়ির নিয়ম: খাবার বড়ি খাবার সবচেয়ে ভালো সময় মাসিকের ১ম দিন থেকে। প্রত্যেকদিন একটি নির্দিষ্ট সময় একটি করে বড়ি খাবে ২৮ দিন পর্যন্ত এবং পাতা শেষ হয়ে গেলে পরের দিন থেকে আবার নতুন পাতা শুরু করতে হবে। যদি মাসিকের ১ম দিন বাদে অন্য যেকোনো দিন থেকে বড়ি খাওয়া সুরু করে তবে বড়ি খাওয়ার পাশাপাশি আগামী ৭ দিন কনডম ব্যবহার করতে হবে অথবা ৭দিন সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। ২১টি বড়ির নিয়ম: খাবার বড়ি খাবার সবচেয়ে ভালো সময় মাসিকের ১ম দিন থেকে। প্রত্যেকদিন একটি নির্দিষ্ট সময় একটি করে বড়ি খাবে ২১ দিন পর্যন্ত। ২১টি বড়ি শেষ হয়ে গেলে মাসিকের জন্য অপেক্ষা করবে এবং যে দিন মাসিক শুরু হবে সে দিন থেকে আবার নতুন পাতা শুরু করতে হবে। ((((২১ টি বড়ি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৭দিন পর্যন্ত মাসিকের জন্য অপেক্ষা করতে হবে যদি এর মধ্যে মাসিক না হয় তবে ৭দিন পর থেকে নতুন পাতা শুরু করতে হবে)))) 2. চেক লিস্ট, মিশ্র খাবার বড়ি / সুখী: আপনার কি উচ্চ রক্তচাপ, জন্ডিস, মাইগ্রেন অথবা ডায়বেটিক এর সমস্যা আছে? আপনার কি হৃদ রোগ বা পূর্বে স্ট্রোক হয়ে ছিল? আপনি কি যক্ষা বা মৃগী রোগ এর ঔষধ ব্যবহার করছেন? আপনার স্তনে কি শক্ত চাকা আছে? (যদি কাস্টমার বলে যে তার স্তনে শক্ত চাকা আছে তবে ওই কল ডাক্তার এর কাছে ট্রান্সফার করতে হবে, আর না বললে এজেন্ট নিজেই সার্ভিস দিবে) (( যদি কোনো মহিলার বয়স ৩৫ বা তার বেশি হয় এবং তিনি জর্দা বা ধূমপান করে থাকেন তবে তিনি খাবার বড়ি নিতে পারবে না))((ডায়বেটিক কন্ট্রোলে থাকলে বড়ি নিতে পারবে)) ((৪০ বা তার বেশি বয়সের কোনো মহিলা খাবার বড়ি বা অন্য কোনো হরমোনাল মেথড নিতে পারবে না, যদি তারা একান্তই নিতে চায় তবে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে শারীরিক চেক আপ এর পর নিতে হবে)) 3. খাবার বাড়ির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা বন্ধ থাকা, বমি বমি ভাব, মাথা ধরা বা ব্যথা করা, ২মাসিকের মাঝে ফোটা ফোটা রক্ত যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, স্তন ভারী ভারী বোধ ইত্যাদি। 4. কিছু মিশ্র খাবার বাড়ির নাম: ২৮ টি বড়ি- নরডেট ২৮, মিনি ২৮, ফেমিকন, ফেমিপিল, রোজেন ২৮, এলাইসা, ২৮- জেসটপ ২৮, লেডিফার, লিভোনাইল ২৮, লিভোপিল, লেটা ২৮, নরজেস্ট, ওভরেস্ট, নরেট ২৮, কনরিনা- আর, ২১ টি বড়ি- মাইপিল, মারভেলন, নোভেলন, রেগুমেন, ডেসলন, মাইক্রলন, ডাইনোজেস্ট প্লাস, গায়ান ৩৫. কেপটিভা। ২২ টি বড়ি- ওভস্ট্যাট গোল্ড, ওভাকন গোল্ড, লিওস্টেট গোল্ড, পানেস। ২৪ টি বড়ি নভেলন লাইট 5. খাবার বড়ি খেতে ভুলে গেলে কি করণীয়? ১/২দিন বড়ি খেতে ভুলে গেলে যা করণীয়: মনে পড়ার সাথে সাথে একটি বড়ি খাবে ও ৩দিন বড়ি খেতে ভুলে গেলে যা করণীয়: ঐদিনের বাড়িটি নির্দিষ্টসময় খাবে এবং পাতার বাকি বড়ি গুলো প্রতিদিন সময় মতো খাবে। মাসিকের ১ম ও ২য় সপ্তাহে ৩দিন বড়ি খেতে ভুলে গেলে মনে পড়ার সাথে সাথে একটি বড়ি খাবে ও ঐদিনের বাড়িটি নির্দিষ্টসময় খাবে। পাতার বাকি সাদা এবং খয়েরি বড়ি গুলো নিয়মিত শেষ করবে। পরবর্তী ৭দিন কনডম ব্যবহার করবে অথবা সহবাস থেকে বিরত থাকবে। ((((বিঃদ্রঃ মাসিকের ৩য় সপ্তাহে ৩দিন বড়ি খেতে ভুলে যায় তবে মনে পড়ার সাথে সাথে একটি বড়ি খাবে ও ঐদিনের বাড়িটি নির্দিষ্টসময় খাবে। পাতার অবশিষ্ট শুধু মাত্র সাদা বড়ি গুলো নিয়মিত শেষ করবে কিন্তু খয়েরি বড়ি খাবে না এবং সাদা বড়ি শেষে নতুন পাতা শুরু করবে। পরবর্তী ৭দিন কনডম ব্যবহার করবে অথবা সহবাস থেকে বিরত থাকবে।)))) 6. খাবার বড়ি কখন থেকে কাজ করা শুরু করে? = খাবার বড়ি খাওয়ার ৭দিন পর থেকে কাজ করা শুরু করে। 7. যদি স্বামী বিদেশে থাকে বা অন্য জেলায় থাকে এবং মাঝে মধ্যে স্ত্রীর কাছে যায় ও সহবাস করে তাদের জন্য কনডম ছাড়া আর কি পদ্ধতি নিতে পারবে? Probing question: কত দিন পর পর স্বামী স্ত্রীর কাছে যায় (সহবাস করে)? ANS: যদি মাঝে মধ্যে অর্থাৎ ৩/৪ মাস অথবা ৫/৬ মাস পর স্ত্রীর কাছে যায়: সে ক্ষেত্রে স্বামী বাড়িতে আসার ৭ দিন আগে থেকে স্ত্রী নতুন একটি পাতা থেকে বড়ি খাওয়া শুরু করবে এবং অবশ্যই ঐ পাতার সকল বড়ি গুলো শেষ করতে হবে। আর ঐ পাতা শেষ হয়ে গেলে বড়ি খাওয়া বন্ধ রাখতে হবে। আবার পরবর্তী সময় যখন স্বামী আসবে তখন ঠিক একই নিয়মে বড়ি খাওয়া শুরু করবে ও ছেড়ে দিবে। ((তবে স্বামী যদি প্রতি মাসে বা ঘন ঘন স্ত্রীর কাছে যায় সেই খেলে কাজ করবে না,সে ক্ষেত্রে স্ত্রীকে এক নাগাড়ে বড়ি খেয়েই ক্ষেত্রে এই নিয়মে বড়ি যেতে হবে)) শিশু ও নবজাতক এর সেবা 1. কত দিন পর্যন্ত একটি শিশুকে নবজাতক হিসেবে গণ্য করা হয়? N-1 = শুন্য থেকে ২৮ দিন পর্যন্ত। 2. নবজাতক এর বিপদ চিহ্ন গুলো কি কি? N-2 সমাধান: নবজাতক এর ৬টি বিপদ চিহ্ন রয়েছে: ১/ দ্রুত নিঃশ্বাস নেয়া বা বুকের খাঁচা দেবে যাওয়া। ২/মায়ের বুকের দুধ টানতে না পারা বা চুষতে না পারা। ৩/ জ্বর বা শরীর ঠান্ডা হওয়া। ৪/নেতিয়ে পড়া। ৫/খিঁচুনি ৬/নাভি পাকা। 3. নবজাতক এর চেক-আপ কয়টি ও কখন যেতে হয়? N-3 সমাধান: নবজাতক এর চেক-আপ ৪টি: ১/ প্রথম চেক-আপ প্রসবের ২৪ ঘন্টার মধ্যে। ২/ দ্বিতীয় চেক-আপ প্রসবের ৩দিনের মধ্যে। ৩/ তৃতীয় চেক-আপ প্রসবের ৭-১৪ দিনের মধ্যে। ৪/ চতুর্থ চেক-আপ প্রসবের ৪২ দিনের মধ্যে। 4. নবজাতকের টিকা গুলো কি কি? N-4 টিকার নাম (রোগ) ডোজের সংখ্যা টিকা দেয়ার সময় যক্ষ্মা ১টি জন্মের পর/পেন্টা ১ এর সাথে ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টঙ্কার, হেপাটাইটিস বি (জন্ডিস), হিমোফাইলাস, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (পেন্টাভ্যালেন্ট ৩টি ৬সপ্তাহে, ১০ সপ্তাহে ও ১৪ সপ্তাহে নিউমোনিয়া ৩টি ৬সপ্তাহে, ১০ সপ্তাহে ও ১৪ সপ্তাহে পোলিও (পোলিও মাইলাইটিস) ৪টি জন্মের পর পর, ৬সপ্তাহে, ১০ সপ্তাহে ও ১৪ সপ্তাহে হাম ২টি ৯মাস পূর্ণ হলে ও ১৫ মাস পূর্ণ হলে রুবেলা ১টি ৯মাস পূর্ণ হলে বিঃ দ্রঃ সাধারণত অনেক সময় টিকা নেয়ার পর বাচ্চার জ্বর চলে আসে এবং ৩ দিন পর্যন্ত এই জ্বর থাকে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার এতে ভয়ের কিছু নাই। তবে যদি অনেক বেশি জ্বর আসে বা ৩দিনের বেশি জ্বর থাকে তবে ডাক্তার এর পরামর্শ নিতে হবে। 5. আমার বাচ্চা বুকের দুধ পাচ্ছে না কি করণীয়/? সমাধান: Probing Question: সমস্যা কার হচ্ছে, বাচ্চা বুকের দুধ টানতে পারছে না নাকি মায়ের বুকের দুধ তৈরি হচ্ছে না বা আসছে না? বাচ্চার বয়স কত? Senerio 1: যদি বাচ্চা বুকের দুধ টানতে না পারে: বাচ্চা বুকের দুধ টানতে না পারা একটা বিপদ চিহ্ন তাই যত দ্রুত সম্ভব বাচ্চাকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। Senerio 2: যদি মায়ের সমস্যা থাকে তবে; ১/বাচ্চাকে ঘন ঘন (১ঘন্টা পর পর) বুকের দুধ পান করানোর চেষ্টা করবেন। ২/ প্রত্যেকবার দুধ পান করানো আগে মাকে ১গ্লাস পানি পান করে নিতে হবে। ৩/মা ও বাচ্চার এটাচমেন্ট ঠিক রাখতে হবে এবং দুধ খাওয়ানোর সময় নিপলের খয়েরী অংশের বেশিরভাগ বাচ্চার মুখে পুরে রাখতে হবে। ৪/ দুধের প্রবাহ বাড়ানোর জন্য মা তার স্তনে "C" আকৃতিতে হালকা চাপ দিবে। ৫ ৬/ এভাবে ৪/৫ দিন দেখুন এরপরও যদি অবস্থার উন্নতি না হয় তবে স্বাস্থ কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। / লাউ, কুমড়া, কালোজিরা, সিং মাছ, মাগুর মাছ ইত্যাদি বেশি বেশি খাবে বুকের দুধের পরিমান বাড়াতে। 6. বাচ্চা ২/৩ দিন যাবৎ পায়খানা করছে না কি করণীয়? N-6 Senerio 1: ০-৬ পর্যন্ত বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে: Probing Question: বাচ্চার বয়স কত? দিনে কতবার প্রসাব করে? বাচ্চা শুধু বুকের দুধ খাচ্ছে নাকি কোঁটার দুধ ও খাচ্ছে কি না? পেটে মোচড়ানো ব্যাথা আছে কি না? অতিরিক্ত কান্নাকাটি করছে কি না? সমাধানঃ যে সকল বাচ্চা শুধু মাত্র বুকের দুধ পান করে তাদের ক্ষেত্রে ৩-৫ দিন পায়খানা না হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে যদি ৫ দিনের বেশি হয় এবং পায়খানা না করার পাশাপাশি পেটে মোচড়ানো ব্যাথা ও অতিরিক্ত কান্নাকাটি করে তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। Senerio 2: ৬ মাসের অধিক বয়সের বাচ্চার ক্ষেত্রে Probing Question: বাচ্চার বয়স কত? দিনে কতবার প্রসাব করে? বাচ্চা শুধু বুকের দুধ খাচ্ছে নাকি কৌটার দুধ ও খাচ্ছে কি না? পেটে মোচড়ানো ব্যাথা আছে কি না? অতিরিক্ত কান্নাকাটি করছে কি না? সমাধান: যদি বুকের দুধের পাশাপাশি কোটার দুধ খায় তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিদিনই পায়খানা করবে। আর যদি ৩দিনের বেশি পায়খানা না করে এবং পেটে মোচড়ানো ব্যাথা হয় তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 7. বাচ্চার ২/৩ দিন যাবৎ পাতলা পায়খানা হচ্ছে কি করণীয়? Probing Question: বাচ্চারকে বয়স কত? ২৪ ঘন্টায় কতবার পায়খানা করে? প্রসাবের রং হলুদ হচ্ছে কি না? বাচ্চা নেতিয়ে পড়ছে কি না? বাচ্চার চোখ দেবে যাচ্ছে কি না? পায়খানার সাথে রক্ত বা বিজল যায় কি না? বাচ্চা পর্যাপ্ত পরিমান বুকের দুধ পাচ্ছে কি না? সমাধান: Senerio 1:০৬ পর্যন্ত বয়সের শিশুর ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম মনে রাখতে হবে যদি বাচ্চা দৈনিক ৫ বারের বেশি পাতলা পায়খানা করে বা পানি শুন্যতার লক্ষণ যেমন: প্রসাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়া, বাচ্চা নেতিয়ে পড়া বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, বাচ্চার চোখ দেবে যাওয়া, পায়খানার সাথে রক্ত বা বিজল যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। যদি পানি শুন্যতার লক্ষণ না থাকে তবে বাচ্চাকে বেশি বেশি করে বুকের দুধ পান করতে হবে। যদি বুকের দুধ পর্যাপ্ত পরিমানে না পায় শুধুমাত্র সেই ক্ষেত্রে প্রত্যেকবার পায়খানার পর ৫০ মিলি লিটার খাবার স্যালাইন চামুচ দিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে। তবে খাবার স্যালাইন তৈরি করার আগে পানি ভালো করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে এবং আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে একটা স্যালাইন এর প্যাকেট গুলিয়ে সেখান থেকে ৫০ মিলি লিটার স্যালাইন নিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে ও অবশিষ্ট স্যালাইন গুলো ফেলে দিতে হবে কারণ অবশিষ্ট স্যালাইন গুলো পরবর্তীতে বাচ্চা পাতলাপায়খানা করলে তাকে খাওয়ানো যাবে না। প্রত্যেকবার বাচ্চার পাতলা পায়খানা হলে একই নিয়মে নতুন করে স্যালাইন তৈরি করে বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে। এভাবে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখবে এতে যদি পাতলা পায়খানা না কমে তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিবে। তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনো দিন যদি বাচ্চা ৬/৭ বার পাতলা পায়খানা করে তবে সেই দিনই দেরি না করে সাথে সাথে বাচ্চাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। Senerio 2: ৬ মাসের অধিক বয়সের বাচ্চার ক্ষেত্রে: সর্বপ্রথম মনে রাখতে হবে যদি বাচ্চা দৈনিক ৫ বারের বেশি পাতলা পায়খানা করে বা পানি শুন্যতার লক্ষণ যেমন: প্রসাবের রং হলুদ, বাচ্চা নেতিয়ে পড়া বা দুর্বল হয়ে যাওয়া, বাচ্চার চোখ দেবে যাওয়া, পায়খানার সাথে রক্ত বা বিজল যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সমাধান: যদি পানি শুন্যতার লক্ষণ না থাকে তবে বাচ্চাকে বেশি বেশি করে বুকের দুধ পান করতে হবে। কৌটার দুধ খাওয়ালে সেটা বন্ধ রাখতে হবে। প্রত্যেকবার পায়খানার পর ৫০ মিলি লিটার খাবার স্যালাইন চামুচ দিয়ে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে। তবে খাবার স্যালাইন তৈরি করার আগে পানি ভালো করে ফুটিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে এবং আধা লিটার বিশুদ্ধ পানিতে একটা স্যালাইন এর প্যাকেট গুলিয়ে সেখান থেকে ৫০ মিলি লিটার স্যালাইন নিয়ে বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে ও অবশিষ্ট স্যালাইন গুলো ফেলে দিতে হবে কারণ অবশিষ্ট স্যালাইন গুলো পরবর্তীতে বাচ্চা পাতলাপায়খানা করলে তাকে খাওয়ানো যাবে না। প্রত্যেকবার বাচ্চার পাতলা পায়খানা হলে একই নিয়মে নতুন করে স্যালাইন তৈরি করে বাচ্চাকে খাওয়াতে হবে।। এভাবে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেখবে এতে যদি পাতলা পায়খানা না কমে তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিবে। তবে মনে রাখতে হবে, যে কোনো দিন যদি বাচ্চা ৬/৭ বার পাতলা পায়খানা করে তবে সেই দিনই দেরি না করে সাথে সাথে বাচ্চাকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। ৪. বাচ্চার ঠান্ডা লেগেছে কি করণীয়? Probing Question: বাচ্চার বয়স কত? বাচ্চার কাশি বা জ্বর আছে কি না? শ্বাসকষ্ট হয় কি না? বাচ্চা ঘন ঘন শ্বাস নিচ্ছে কি? বুকের পাঁজর দেবে যায় কি না? সমাধান: উপরের এই লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। আর যদি এই লক্ষণ না থাকে তবে বাচ্চাকে বেশি বেশি করে বুকের দুধ পান করাতে হবে, হালকা কুসুম গরম পানি দিয়া গোসল করাতে হবে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করা যাবে না, বাচ্চাকে ভালোভাবে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে, গোসলের পর সরিষার তেল বা অলিভ ওয়েল দিয়ে মালিশ করতে হবে। 9. বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানোর পরপরই বমি করে দেয় এটা কেন হয়? * সাধারণত বাচ্চাকে শোয়ানো অবস্থায় বুকের দুধ পান করলে বাচ্চা বমি করে দেয়। তাই কখনোই বাচ্চাকে শুইয়ে বুকের দুধ পান করানো যাবে না। * বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করানোর পর তার ঢেঁকুর তোলাতে হবে এর জন্য মা তার বাচ্চাকে কাঁধে নিয়ে বাচ্চার পিঠে আস্তে আস্তে চাপ বা মালিশের মতো করতে পারে। 10. বাচ্চার বয়স ৭ মাস কিন্তু সে বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতে চায় না কি করণীয়? সমাধান: ৬ মাস পর থেকে বাচ্চার শারীরিক বৃদ্ধির জন্য তাকে বুকের দুধের পাশাপাশি অবশ্যই বাড়তি খাবার দিতে হবে এর বিকল্প নাই। কিন্তু যদি শিশু বাড়তি খাবার খেতে না চায় তবে তাকে সময় নিয়ে ধৈর্য্য সহকারে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে। 11. বাচ্চার বয়স ৩ মাস এখন তাকে কি বুকের দুধ ছাড়া বাহিরের দুধ খাওয়ানো যাবে? সমাধান: বাচ্চার ৬ মাস বয়স পর্যন্ত তাকে বুকের দুধ ছাড়া অন্য কিছুই খাওয়ানো যাবে না। যদি একান্তই খাওয়াতে হয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াতে হবে। 12. বাচ্চার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় লাল লাল দানা/ সাদা সাদা দানা দেখা দিয়েছে কি করণীয়? সমাধান: এই ক্ষেত্রে বাচ্চাকে অবশ্যই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 1.3. বাচ্চাকে টিকা দেয়ার পর তার জ্বর আসছে কি করণীয়? সমাধান: বাচ্চাকে টিকা দেয়ার পর যদি জ্বর আসে এটা স্বাভাবিক ব্যাপার এতে ভয় পাওয়ার কিছু নাই। সাধারণত ২/৩ দিন বাচ্চার শরীরে এই জ্বর থাকতে পারে। এই সময় ভেজা কাপড় দিয়ে বাচ্চার শরীর মুছে দেয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে যদি ৩ দিনের বেশি এই জ্বর থাকে তবে তৎক্ষণাৎ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 14. বাচ্চাকে যদি কোনো টিকা সময় মতো দেয়া না হয় এবং পরে সেই টিকা দেয়া হয় তবে কি কোনো সমস্যা হবে? আর কতদিন দেরি করে এই টিকা দিলে কোনো সমস্যা হবে না? N-14 সমাধান: বাচ্চার বয়স কত? কোন টিকা দেয়া হয়নি? সাধারণত বাচ্চাদের প্রত্যেকটি টিকা সময়মতো দেয়া ভালো তবে যদি কোনো কারণে সময়মতো সেই টিকা না দেয়া হয় তবে যত দ্রুত সম্ভব সেই টিকা দেয়া ভালো। আর কত দিন দেরি করো কোনো টিকা দেয়া যাবে এই ব্যাপারে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। ভালো হয় আপনি যত দ্রুত সম্ভব টিকা দিয়ে নিবেন। আর যদি একান্তই এখন টিকা দিতে না পারেন সেই ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন। 15. বাচ্চার কত সপ্তাহে কয়টি টিকা দেয়া লাগবে তার লিস্ট: বাচ্চার বয়স / সময় টিকার নাম জন্মের পর পর যক্ষা ৬ সপ্তাহ/ দেড় মাস পেন্টাভ্যালেন্ট, নিউমোনিয়া, পোলিও ১০ সপ্তাহ/আড়াই মাস পেন্টাভ্যালেন্ট, নিউমোনিয়া, পোলিও ১৪ সপ্তাহ / সাড়ে তিন মাস পেন্টাভ্যালেন্ট, নিউমোনিয়া, পোলিও ৯ মাস পূর্ণ হলে রুবেলা হাম ১৫ মাস পূর্ণ হলে রুবেলা 16. বাচ্চার টিকা দেয়ার পর টিকার স্থানে লাল হয়ে যাওয়া, শক্ত দানা হওয়া, দাগ হয়ে যাওয়া, ক্ষত বা পুঁজ দেখা দিলে কি করণীয়? Probing Question: বাচ্চার বয়স কত? কোন টিকা দিয়াছেন? ANS: টিকার স্থানে কোনো প্রকার ঔষধ বা তেল দেয়া যাবে না, টিকার স্থান খোলা রাখতে হব। কিছু দিন পর নিজে থেকেই ক্ষত স্থান শুকিয়ে যাবে। তবে বাচ্চাকে বেশি বেশি বুকের দুধ পান করতে হবে। (বিঃ দ্রঃ শুধু মাত্র হাম ও রুবেলা টিকা দেয়ার পর যদি এই সমস্যা দেখা যায় তবে একই তথ্য দিতে হবে এবং বুকের দুধের পাশাপাশি তরল জাতীয় খাবার বেশি বেশি খেতে পরামর্শ দিবো।) 17. ৬ মাস পর শিশুকে কি কি বাড়তি খাবার দিতে হবে? সমাধান: বাড়িতে তৈরি চটকানো খাবার দিতে হবে। এছাড়াও শিশুকে প্রতিদিন মাছ, মাংস, মুরগির কলিজা, ঘন ডাল, শাক, হলুদ সবজি ও ফল, তেলে ভাজা খাবার ও দুধ দিয়ে তৈরী খাবার দেয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এই সময় শিশুকে বাহিরে থেকে কেনা কোনো ধরণের মুখরোচক খাবার না দেয়াই উত্তম। ৬ মাসের উপরে অর্থাৎ ১ থেকে ৫ বছরের বাচ্চারা বমি করলে কি করনীয়: Scenario 1: দিনে ৫/৬ বারের বেশি বমি করছে এমনঃ Probing Question: বাচ্চার বয়স কত? দিনে কতবার বমি করছে? ৫/৬ বারের বেশি বমি করছে কিনা? বমির পরিমান কি রকম? সমাধানঃ ৫/৬ বারের বেশি বমি হলে ও তা পরিমানে বেশি হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলে যাবে। Scenario 2: যা খাবার খাচ্ছে তাই বমির সাথে বের হচ্ছে এরকম হলেঃ Probing Question: বাচ্চার বয়স কত? দিনে কতবার বমি করছে? বমির পরিমান কি রকম? সমাধানঃ যদি বাচ্চার বয়স এক বছরের নিচে হয়ঃ + সাধারণত বাচ্চাকে শোয়ানো অবস্থায় বুকের দুধ পান করালে বাচ্চা বমি করে দেয়। তাই বাচ্চাকে কখনই শুইয়ে বুকের দুধ পান করানো যাবেনা। * বাচ্চাকে বুকের দুধ পান করানোর পরে ঢেঁকুর তোলাতে হবে এর জন্য মা তার বাচ্চাকে কাঁধে নিয়ে বাচ্চার পিঠে আস্তে আস্তে চাপ বা মালিশের মতো করতে পারে। যদি বাচ্চার বয়স এক বছরের উপরে হয়- ৫ বারের কম বমি হলে যতবার বমি হবে ততবার বাচ্চাকে স্যালাইন খাওয়াতে হবে। প্রত্যেকবার বমির পরে ২০০ এম এল স্যালাইন খাওয়াতে হবে। স্যালাইন ফিডারেও খাওয়ানো যাবে। বাচ্চা যদি বুকের দুধ খায় সেক্ষেত্রে বেশি করে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। যদি বুকের দুধ না পেয়ে থাকে স্যালাইন বেশি করে খাওয়াতে হবে। Scenario 3: সবুজ রঙের বমি হলেঃ Probing Question: বাচ্চার বয়স কত? সমাধানঃ এ ক্ষেত্রে যেকোনো বয়সের বাচ্চা হলেই দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলে যেতে হবে। ((বিঃদ্রঃ স্যালাইন খাওয়ার পরেও যদি বমি একবার ও না কমে সেক্ষেত্রে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলে যেতে হবে)) ((যদি বমি কমানোর ওষুধ চায় সেক্ষেত্রে ১৬২৬৩ তে কল ট্রান্সফার করতে হবে।)) তালিকাঃ ইনজেকশন সেবা পাওয়া যায়ঃ কনডম, খাবার বড়ি ও জন্মনিয়ন্ত্রক ■ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (এম সি এইচ এফপি ইউনিট) ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (জেলা পর্যায়) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মডেল ক্লিনিক স্যাটেলাইট ক্লিনিক কমিউনিটি ক্লিনিক MFSTC MCHTI সেবাদান কারি কর্মকর্তা/ কর্মচারী: ■ মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি) সহকারী সার্জন মেডিকেল অফিসার ক্লিনিক স্যাকমো: (SACMO) পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা পরিবার কল্যান সহকারী সিএইচসিপি পরিবার কল্যান সহকারী আই ইউ ডি ও ইমপ্ল্যান্ট সেবা পাওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র/আর ডি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (জেলা পর্যায়) • মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মডেল ক্লিনিক MFSTC MCHTI • বেসরকারি সংস্থার ক্লিনিক সেবাদান কারি কর্মকর্তা/ কর্মচারী: • মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি) সহকারী সার্জন মেডিকেল অফিসার পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা বেসরকারি সংস্থার প্যারামেডিক স্থায়ী পদ্ধতি (টিউবেকটমি ও ভ্যাসেকটমি) সেবা পাওয়া যায়ঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র (জেলা পর্যায়) মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) বেসরকারি সংস্থার ক্লিনিক সেবাদান কারি কর্মকর্তা/ কর্মচারীঃ মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি) সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা বেসরকারি সংস্থার প্যারামেডিক প্রসবকালীন (গর্ভবর্তী মায়ের) সেবা পাওয়া যায়ঃ গর্ভবতীর বাডি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র/আর ডি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মডেল ক্লিনিক মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) কমিউনিটি ক্লিনিক বেসরকারি সংস্থার ক্লিনিক সেবাদান কারি কর্মকর্তা/ কর্মচারীঃ মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক)/ মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি)/সহকারী সার্জন পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা প্রসব বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পরিবার কল্যান সহকারী (সিএসবিএ) ✓ বেসরকারি সংস্থার প্যারামেডিক নরমাল ডেলিভারি হয় যেখানেঃ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র প্রসব পরবর্তী সেবা (গর্ভ তোর সেবা) সাধারানত প্রসবের ৪২ দিন পর্যন্ত গর্ভ তোর (প্রসব পরবর্তী) সেবা দেয়া হয়। ■ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (এমসি এইচ এফসি ইউনিট) ■ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র/আর ডি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ■ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মডেল ক্লিনিক মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) □ মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) ■ বেসরকারি সংস্থার ক্লিনিক সেবাদান কারি কর্মকর্তা/কর্মচারীঃ মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি) মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক)/সহকারী সার্জন ✓ সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (মহিলা) পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা ✓ পরিবার কল্যান সহকারী নবজাতকের স্বাস্থ্য সেব্য পাওয়া যায়ঃ এ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স (এম সি এইচ/এফপি ইউনিট) ■ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র/আর ডি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র কমিউনিটি ক্লিনিক • মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) □ মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) মেডিকেল কলেজ ■ হাসপাতালের মডেল ক্লিনিক টিকাদান (ইসি আই) এর সেব্য সেবাদান কারি কর্মকর্তা/কর্মচারীঃ মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি) সহকারী সার্জন মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) SACMO (স্যাকমো) পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা পাওয়া যায়ঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র কমিউনিটি ক্লিনিক মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) বেসরকারি সংস্থার ক্লিনিক সেবাদান কারি কর্মকর্তা/কর্মচারীঃ CHCP পরিবার কল্যান সহকারী স্বাস্থ্য সহকারী ✓ টিকাদান কর্মী ✓ বেসরকারি সংস্থার কর্মী মাসিক নিয়মিতকরন (এম আর) এর সেবা পাওয়া যায়ঃ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) ■ বেসরকারি সংস্থার ক্লিনিক সেবাদান কারি কর্মকর্তা/ কর্মচারীঃ মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) ✓ মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক)/সহকারী সার্জন সহকারী সার্জন/মেডিকেল অফিসার পরিবার কল্যান পরিদর্শীকা বেসরকারি সংস্থার প্যারামেডিক কৈশোর কালীন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া যায়ঃ পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র স্যাটেলাইট ক্লিনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মডেল ক্লিনিক মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) ■ সেবা গ্রহীতার বাডি ■ বেসরকারি সংস্থার ক্লিনিক সেবাদান কারি কর্মকর্তা/ কর্মচারীঃ ✓ মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ-এফপি) মেডিকেল অফিসার ক্লিনিক মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) সাকমো (SACMO) পরিবার কল্যণ সহকারী জরায় মুখ ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা ও প্রাথমিক পর্যায়ের সেবা পাওয়া যায়ঃ ■ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মডেল ক্লিনিক ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ■ মোহাম্মদপুর ফার্টিলিটি সার্ভিসেস অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (MFSTC) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) সেবাদান কারি কর্মকর্তা/ কর্মচারীঃ ■মেডিকেল অফিসার (এমসিএইচ- এফপি) ■ সহকারী সার্জন ■ মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পুষ্টি বিষয়ক সেবা দেয়া হয় যেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রেঃ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র ■ কমিউনিটি ক্লিনিক ■ স্যাটেলাইট ক্লিনিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ব্যাপারে "কাস্টমার কমপ্লেইন" এর কলে কি কমিউনিকেশন করতে হবে। Probing Question: • কোন সেবার জন্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রের গিয়েছিলেন? • কি কমপ্লেইন করতে চাচ্ছেন? (যেমন, কোনো সেবার জন্য টাকা দাবি করেছে?, খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে?) • কোন জেলা? • কোন থানা? • কোন ইউনিয়ন? • সেবা কেন্দ্রের নাম কি? Agent: স্যার / ম্যাডাম আমি আপনার কমপ্লেইনটি আমার উর্ধতন কতৃকক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি এবং আশা করছি তারা অতি সিগ্রই এই বিষয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবে। QNS: গতকাল রাতে আমি যৌন মিলনের সময়ে প্রটেকশন নিতে ভুলে গিয়েছি, এখন কি করতে পারি ? ANS: গতকাল রাতে যৌন মিলনের সময়ে প্রটেকশন নিতে ভুলে গিয়েছেন, তাহলে আপনি এখন ECP (Emergency Contraceptive Pill) খেতে পারেন। ECP হলো যৌন মিলনের পর গর্ভধারণ রোধ করার জন্য ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি। ECP খেতে হলে যৌন মিলনের পর ১২০ ঘন্টার মধ্যে খেতে হবে। ECP খেতে হলে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন: 1. আপনার নিকটতম স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে ECP পেয়ে নিন বা ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 2. ECP খেতে হলে যৌন মিলনের পর ১২০ ঘন্টার মধ্যে খেতে হবে। ECP খেতে হলে যৌন মিলনের পর ৭২ ঘন্টার মধ্যে খেতে হবে। 3. ECP খেতে হলে যৌন মিলনের পর ৭২ ঘন্টার মধ্যে খেতে হবে। ECP খেতে হলে যৌন মিলনের পর ১২০ ঘন্টার মধ্যে খেতে হবে। QNS: Condom kenar taka nai, ekhon sex kora ki safe hobe ? ANS: কোনো জন্ম বিরতিকরণ পদ্ধতি না থাকলে, কনডম ব্যবহার ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে অরক্ষিত সহবাসের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়। তাই কনডম ছাড়া অরক্ষিত সহবাস করলে গর্ভবতী হওয়ার ঝুঁকি থাকে। QNS: একজন নববিবাহিত দম্পতি হিসাবে কি পদ্বতি পরিবার পরিকল্পনা ব্যবহার করতে পারি? ANS: একজন নববিবাহিত দম্পতির জন্য, পরিবার পরিকল্পনার জন্য যে সকল পদ্ধতি উপলব্ধ, তাতে রয়েছে: 1. স্বল্পমেয়াদী পদ্ধতি (Short-term methods): - কন্ডম (Condom) - খাবার বড়ি (Oral Pills) - ইনজেকশন (Injections) , ECP pill QNS: Would you please provide Kazibakai union and PS-Dashar, Maddripur, FWC address, contract person mobile or email? ANS: কাজিবাকাই ইউনিয়ন, পিএস-ডাসার, মাদ্দ্রিপুর, এফডব্লিউসি এর ঠিকানা এবং চুক্তি ব্যক্তির মোবাইল বা ইমেইল নম্বর: * ঠিকানা: কাজিবাকাই ইউনিয়ন, মাদ্দ্রিপুর, ফরিদপুর * চুক্তি ব্যক্তি: মোঃ মমিনুল ইসলাম * মোবাইল নম্বর: ০১৭২২-২৪৪৯২৫ * ইমেইল: maminnul.islam@fwcbd.org QNS: একজন নববিবাহিত দম্পতি হিসাবে কি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি ? ANS: একজন নববিবাহিত দম্পতির জন্য পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার আগে, তাদেরকে অবশ্যই তাদের স্বাস্থ্য, বয়স, পরিবার, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা, তাদের যৌন জীবনের ইতিহাস, তাদের পরিবারের মধ্যে কোনও জন্মের সাথে সম্পর্কিত সমস্যা ইত্যাদি বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া উচিত। তাদেরকে তাদের পছন্দ অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি বেছে নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করা উচিত, তবে তাদেরকে সকল পদ্ধতির সুবিধা-অসুবিধা, ঝুঁকি, কার্যকারিতা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ইত্যাদি সম্পর্কে জানাতে হবে। QNS: গতকাল রাতে আমি যৌন মিলনের সময়ে প্রটেকশন নিতে ভুলে গিয়েছি, এখন কি করতে পারি ? ANS: গতকাল রাতে অরক্ষিত যৌনমিলনের পর আপনি জরুরি জন্মবিরতিকরণ পদ্ধতি হিসেবে 'ইসিপি' (ইমেরজেন্সি কনট্রাসেপ্টিভ পিল) ব্যবহার করতে পারেন। 'ইসিপি' অরক্ষিত যৌনমিলনের ৫ দিনের মধ্যে নিশ্চিতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা এই পদ্ধতিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা। QNS: আমার ১ টি সন্তান আছে, ৩ মাস বয়স। এখন আমি পরিবার পরিকল্পনার কি পদ্ধতি গ্রহণ করবো ? ANS: আপনার ১টি সন্তান আছে, ৩ মাস বয়স। পরিবার পরিকল্পনার জন্য, আপনি যে পদ্ধতি গ্রহণ করবেন, তার চাহিদা, স্বাস্থ্য, এবং ব্যক্তিগত অবস্থা বিবেচনা করা উচিত। আপনি পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকে যেতে পারেন, যেখানে বিশেষজ্ঞরা আপনার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করতে সাহায্য করবেন। আপনি কনডম, খাবার বড়ি, ইনজেকশন, আইইউডি, ইমপ্ল্যান্ট, টিউবেকটমি, বা এনএসভি মতো বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। আপনার পরিবার পরিকল্পনার লক্ষ্য কি, তা নির্ধারণ করার পর, আপনি এবং আপনার সঙ্গী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। QNS: আমাকে পরিবার পরিকল্পনার পদ্ধতি নিয়ে বলুন | এমন পধতি যাতে আমার বাচ্চার বুকের দুধ পেতে কন সমস্যা না হয়। ANS: পরিবার পরিকল্পনার জন্য, আপনি যে পদ্ধতি গ্রহণ করবেন, তার চাহিদা, স্বাস্থ্য, এবং ব্যক্তিগত অবস্থা বিবেচনা করা উচিত। আপনি পরিবার পরিকল্পনা ক্লিনিকে যেতে পারেন, যেখানে বিশেষজ্ঞরা আপনার জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি নির্বাচন করতে সাহায্য করবেন। আপনি কনডম, খাবার বড়ি, ইনজেকশন, আইইউডি, ইমপ্ল্যান্ট, টিউবেকটমি, বা এনএসভি মতো বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন। আপনার পরিবার পরিকল্পনার লক্ষ্য কি, তা নির্ধারণ করার পর, আপনি এবং আপনার সঙ্গী কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। QNS: আমি প্রেগন্যান্ট কিন্তু বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না এখন কি করব ? ANS: আপনি যদি গর্ভবতী হন এবং বাচ্চা নিতে না চান, তবে আপনার গর্ভাবস্থার কত সপ্তাহ চলছে তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনি ৬-৯ সপ্তাহের গর্ভবতী হন, তাহলে আপনি মাসিক নিয়মিত করণ পদ্ধতি (এম আর) ব্যবহার করতে পারেন, যা ঔষধের মাধ্যমে করা হয়। এর জন্য আপনাকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। যদি আপনি ১০-১২ সপ্তাহের গর্ভবতী হন, তাহলে ম্যানুয়াল ভ্যাকুয়াম এসপিরেশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর জন্যও আপনাকে প্রশিক্ষিত ডাক্তার বা প্যারামেডিকের সাহায্য নিতে হবে। আপনার পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ নিতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করা উচিত। QNS: আমার একটা বাচ্চা আছে, আমি ৫ বছর আর কোন বাচ্চা নিতে চাই না, তাইলে কি পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারি ? ANS: যদি আপনি ৫ বছর আর কোনো বাচ্চা নিতে না চান, তাহলে আপনি স্থায়ী পদ্ধতি হিসেবে আইইউডি (IUD),ইমপ্ল্যান্ট (Implant),টিউবেকটমি (Tubectomy) বা পুরুষদের জন্য এনএসভি (NSV) বিবেচনা করতে পারেন। এছাড়া, আপনি অস্থায়ী পদ্ধতিগুলোর মধ্যে কন্ডম, খাবার বড়ি,ইনজেকশন, আইইউডি বা ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করতে পারেন।আপনার স্বাস্থ্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি বেছে নেওয়ার জন্য পরিবারের পরিকল্পনা ক্লিনিকে গিয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করা ভালো। তারা আপনাকে সঠিক পরামর্শ দিতে পারবেন। যদি আরও কিছু জানতে চান, তাহলে জানাবেন!